Category: অর্থনীতি

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেছে মূল্য

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেছে মূল্য

    মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচচ্চ স্তরে পৌঁছায়, যেখানে ধারনা করা হচ্ছে এই বৈঠকে সুদের হারে কাটা হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৩,৬৯৬.০২ ডলার, যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিনের শুরুতে এই कीमत ছিল সর্বোচ্চ ৩,৬৯৭.৭০ ডলার। এই দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ২০২৬ সালে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চার হাজার ডলার(strip আউন্সে) পৌঁছানোর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দাম সংশোধন হতে পারে। ব্যবসায়ী ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

    ইউবিএসের বিশ্লেষক জিয়োভান্নি স্টাউনোভো উল্লেখ করেছেন, ডলারের দুর্বল অবস্থান স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে। তবে মূল কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, ফেডের মাঝে এই সপ্তাহে সুদের হার কমাবার প্রত্যাশা। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুসারে, ব্যবসায়ীরা বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই দিনব্যাপী এর বৈঠক শেষে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছেন। কিছু বিশ্লেষক আরও বলছেন, ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারই কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সাধারণত এই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেডের পরিচালকের প্রতি সুদের হার আরও কমানোর আহ্বান জানান।

    সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা মন্তব্য করেছেন, ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ফেডের নীতিতে এই হার কমানোর প্রবণতা চলমান থাকবে, যা স্বর্ণের বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে।

    স্টাউনোভো বলছেন, ফেডের বিবৃতির সময় বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি তারা সুদের হার কমানোর পাশাপাশি কোনও কঠোর বা সংযত ভাষা ব্যবহার করে। তবে, ট্রাম্পের হাওয়া দেখে মনে হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে স্বর্ণের মূল্য আরেক ধাপ বাড়বে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৯৭২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ও জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই জরিমানাগুলো ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য আরোপ করা হয়।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাকে চাকরি ও সিকিউরিটিজ লেনদেনসহ সব ধরনের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে, বীমা কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির দায়ে শাখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ প্রতারণামূলক কার্যক্রম চলাকালীন সময় ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনে এই কারসাজির জন্য তাদের এই জরিমানা আরোপ করা হয়।

    আলাদা এক সভায়, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগ থাকায়, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় মো: আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • স্বর্ণের দাম পতনের রেকর্ড গড়ল

    স্বর্ণের দাম পতনের রেকর্ড গড়ল

    টানা আট দফা দাম বৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ ১,৪৭০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে গেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা। এর আগে গত মাসে মোট ছয় দফা দাম বেড়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই তথ্য বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন বাজুস, এবং নতুন দাম কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে। সেই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণার দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম মানা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, অনুরূপভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ১৩৫ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদের কারণে মজুরিতে ভিন্নতা থাকতে পারে।

  • বাংলাদেশের বৈঠকিক মুদ্রা রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের বৈঠকিক মুদ্রা রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উচ্চতায় ফিরেছে এবং বর্তমানে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.০৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১.০০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। এর আগে এই রিজার্ভ ছিল ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই মান ছিল ২৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে, দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব আলাদা, যা শুধু আইএমএফকে প্রদান করা হয় এবং যা প্রকাশ্যে আসেনা। সেই হিসাবের ধারণা আরও বেশি, যা ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    একজন অর্থনীতিবিদ বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈধ পথে প্রবাসী আয় ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করে বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। সর্বশেষ ৪ সেপ্টেম্বর বহুজাতিক ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে, जबकि ২ সেপ্টেম্বর ৮ টি ব্যাংক থেকে মোট ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল।

    অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে এই পরিমাণ ছিল ২৪২.২০ কোটি ডলার বা জরিমানা ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পুরো অর্থবছর (২০২৪-২৫) প্রবাসীদের আয় মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরটির তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি।

    অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের আরও তথ্য বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ ছিল ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, এরপর ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে এটি ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও রিজার্ভ বেড়ে যায় এবং ২০২১ সালের আগস্টে ঢালাওভাবে ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলার রেকর্ড হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ডলার সংকটের কারণে এটি কমতে শুরু করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ৩২.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪-২৫ শেষে আবার ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

  • পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, পরিচালনায় বসবে প্রশাসক

    পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, পরিচালনায় বসবে প্রশাসক

    সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন সংস্থার পরিচালনায় থাকবে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক কমিটি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি বিশেষ বোর্ড সভার শেষে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। এর আগে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে ঐ সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো বন্ধুবান্ধবভাবে তাদের বোর্ড সভায় একীভূতির বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী এ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

    আরিফ হোসেন খান বলে থাকেন, এই মিশ্রণ বা মার্জার প্রক্রিয়া খুব দীর্ঘমেয়াদি এবং এর সম্পন্ন হওয়া প্রায় দুই বছর সময় নেবে। তবে এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং খুব শিগগিরই এটি ভৌগোলিক বাস্তবায়ন হবে।

    এই একীভূতকরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিটি ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম এখনো বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিমের হাতে থাকবে। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একই পদে বহাল থাকবেন।

    অতিরিক্ত জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ার আওতায় ব্যাংকের পর্ষদ বা বোর্ড বাতিল করা হবে না। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তারা ধীরে ধীরে কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসক টিম নিয়মিত তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত দলের কাছে জানিয়ে দেবে।

    এছাড়াও, মঙ্গলবারের বোর্ড সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়, পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়েও বিস্তর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার সম্ভাব্য নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এই নতুন ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাইসেন্স ইস্যু করবে।

    উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ব্যাপী শুনানি শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার পক্ষে মতামত দেয়। অন্যদিকে, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক এই পরিকল্পনায় বিরোধিতার সম্মুখীন হয়।

    প্রক্রিয়াটির অংশ হিসেবে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন সরাসরি ব্যবহার করা হবে।

  • স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে

    স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে

    মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্মেলনের আগে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণের মূল্য আরও বৃদ্ধি করতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬ দশমিক ০২ ডলারে, যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিনের শুরুতে দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলার। তবে ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম চার হাজার ডলার অতিক্রম করার আগে এক শক্তিশালী সংশোধনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, বলে ব্যবসায়ী ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। ইউবিএস বিশ্লেষক জিয়োভান্নি স্টাউনোভো বললেন, দুর্বল ডলার কিছুটা ভূমিকা রাখলেও মূল বিষয় হলো, ফেড রিজার্ভ এই সপ্তাহে সুদের হার কমাবে, এই প্রত্যাশা বাজারে জোরদার। নির্বাহী সংস্থার ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত হচ্ছেন যে, বৈঠক শেষে দুই দিনের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমতে পারে এবং ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারে কমানোরও সামান্য সম্ভবনা রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ফেডের চেয়ার পাওয়েলকে আরও বড় করে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা মন্তব্য করেন, ব্যবসায়ীরা আশা করছে যে, ফেড আগামী বছরও সুদের হার কমিয়ে যেতে থাকবে, যা স্বর্ণ ব্যবসাকে সমর্থন করবে। স্টাউনোভো বলেন, ফেডের বিবৃতি প্রকাশের সময় আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি বাজারে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সুদের হার কমানোর সঙ্গে কড়া বার্তা আনা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আগ্রহের কারণে, তিনি মনে করেন, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্গনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ব্যক্তির মধ্যে মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের জন্য ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলের জন্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই শাস্তি ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে তাদের শেয়ার কারসাজির জন্য দেওয়া হয়েছে।

    অপরদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি পদগ্রহণ, চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং পুঁজিবাজারের সব ধরনের অংশগ্রহণ থেকে ৫ বছর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বীমা কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির দায়ে শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই অভিযোগে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়েরকৃত শেয়ার লেনদেনের কারসাজির জন্য জরিমানা করা হয়।

    একই সভায় ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির বিষয়টি তদন্তের জন্য বিনিয়োগকারী সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই ঘটনায় জড়িয়ে থাকা পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেও চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত firmness করা হয়েছে।

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ডে পতন, আবার কমলো মূল্যে

    স্বর্ণের দাম রেকর্ডে পতন, আবার কমলো মূল্যে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা দর বৃদ্ধির পর অবশেষে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ টাকা মূল্যছাড়ে নির্ধারিত হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি now খুচরা মূল্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে দু’বার ও চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ছয় দফা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা দরে পৌঁছে যায়। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়, যা বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে গিয়েছে, যার কারণে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এছাড়া, রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ১৩৫ টাকা।

    বাজুসের আরএকটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬% যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে।

  • বাংলাল মার্কিন ডলার রিজার্ভ আবারও ছাড়াল ৩১ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাল মার্কিন ডলার রিজার্ভ আবারও ছাড়াল ৩১ বিলিয়ন ডলার

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব মতে এই সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব রয়েছে, যেখানে এই সংখ্যা ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই রিজার্ভের বৃদ্ধি মূলত প্রবাসী আয়, রফতানি অর্থ, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ দ্বারা পরিচালিত। দেশে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আর ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বহন করছে। আগস্টের পুরো মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। সামগ্রিকভাবে, গত বছরে প্রবাসী আয় ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দশ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে this অর্থনীতি গতিপথে এগিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে এই পরিমাণ ৩৯ বিলিয়নে পৌঁছে যায়, এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও এই সংখ্যা আরও বেড়ে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে এরপর থেকে রিজার্ভে কিছুটা কমে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

  • পাঁচ ব্যাংক একীভূত: প্রশাসক নেতৃত্বে নতুন সংস্থা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    পাঁচ ব্যাংক একীভূত: প্রশাসক নেতৃত্বে নতুন সংস্থা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    সমস্যাগ্রस्त শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল, যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভার পরে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গভার্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সভায় সবাই একমত হয়েছেন যে, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সময়সাপেক্ষ। তবে, এই কার্যক্রমের শুরু প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানান তিনি, এবং শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।

    প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে, একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল গঠন করা হবে, জানানো হয়েছে। তবে, ব্যাংকগুলোর দৈনিক কার্যাবলী চালানো হবে আগের মতোই থাকছে, অর্থাৎ বর্তমানে নিয়োজিত ব্যবস্থাপনা দলই থাকবে ব্যাংকের পরিচালনায়। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার পদে বহাল থাকবেন।

    প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয় হলো, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকের বোর্ডগুলো বাতিল হবে না, তবে ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। পরিচালনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে একটি নিয়মিত নির্দিষ্ট দল, যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। তারা সময়ে সময়ে কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে আপডেট দেবে।

    এছাড়াও, এই বোর্ড সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ডার বিষয়ক আলোচনা হয়েছে, যেন খেলাপি ঋণ আদায়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরীভাবে পরিচালিত হয়।

    সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হবে একটি ঐক্যবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামি ব্যাংক’। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন ব্যাংকের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে।

    উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এই পাঁচ ব্যাংকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় বিরোধিতা জানান।

    এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গত ৭ সেপ্টেম্বর, সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার গভীর মূলধন বরাদ্দ প্রদান করে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে অর্থায়ন করা হয়েছে।