Category: অর্থনীতি

  • ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি ব্যাপক কর্মচারী ছাঁটাই ঘোষণা করেছে। শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০ জন কর্মীকে সরাসরি চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া এ কর্মীরা এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তবে তারা বর্তমানে কোনও দায়িত্বে থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানাতো, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকে অখাদ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি সিভি দেখে বেশ সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল নিবাস এই অঞ্চল।

    একজন সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “এস আলম গ্রুপের সময়ে অযোগ্য লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়েছিল। এখন আমরা সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায় অনুসারে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে আহ্বান জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশগ্রহণ করেন। বাকি ৪, সুপ্রিমাম ৪,৯৭১ জনকে পরদিন থেকেই ওএসডি ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও গণপ্রতিবেদনে বিরোধিতা করার জন্যও ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    ওএসডি হওয়া ওই কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সে নির্দেশ উপেক্ষা করে আলাদা যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা আয়োজন করে, যা বেআইনি। তারা এখন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “এ ধরনের ছাঁটাই সাধারণত দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভিএবাই নেওয়া হয়, তবে কর্মীদের মান যাচাইয়ের এই পদ্ধতি নতুন।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ বা কর্মীদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। তবে এটি অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালার মধ্যে থাকতে হবে।”

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা ব্যাংকটির জন্য গভীর আর্থিক সংকটের কারণ হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণাধীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে এস আলমের প্রভাব দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

  • চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নতির প্রত্যাশা

    চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নতির প্রত্যাশা

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে, আগামী ২০২৬ সালের শেষে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদিও পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তারপরও দেশের অর্থনীতির ধীর গতির মূল কারণ হচ্ছে চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন। পাশাপাশি বারবার বন্যা, শ্রমশক্তির বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে গেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনটিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    এডিবি বলছে, ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও পুরোপুরি পরিলক্ষিত হয়নি এবং ব্যাংকিং খাতের কিছু দুর্বলতা বিদ্যমান। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অটুট অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। ২০২৬ সালের অর্থবছর নিয়ে কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়ে গেছে, যেমন বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও নীতি পরিস্থিতির অস্থিরতা। তাই সমন্বিত বৈঠকি অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

    এছাড়াও, এডিবি জানিয়েছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, বাজারের তথ্যের অপ্রতুলতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা ও মুদ্রার দুর্বলতায় ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫) দেশের মোট জিডিপির সংক্ষিপ্ততম সামান্য উদ্বৃত্ত থাকবে, যা ২০২৪ অর্থবছরের ১.৫ শতাংশ ঘাটতির চেয়ে বেশি। এটি দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৃহৎ বাণিজ্য ঘাটতির সংকোচনের ফল।

  • ইসলামী ব্যাংকের আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকের আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকে। শাসক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসঙ্গে আরও ২০০ কর্মীকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই ছাঁটাইয়ের কার্যক্রম চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি কর্মীর চাকরি হারিয়েছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার মতে, এই ধরনের নজিরবিহীন ছাঁটাই হলো এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কী শুধুমাত্র দক্ষতা যাচাই ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এই অভিযান শুরু করার মূল কারণ বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছেন। ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪১৪ জন কর্মী, যার মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকিরা—প্রায় ৫০ জন—তাদের কর্মক্ষমতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্ব ছাড়া সংযুক্ত) হিসেবে বা অন্য কাজে স্থগিত রাখা হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক সূত্রের দাবি, চাকরি বাতিল করা কর্মীদের মধ্যে কেবল অযোগ্যতার কারণেই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের মধ্যে অংশগ্রহণে বাধা ও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়ম শুরু হয়। ওই সময় হঠাৎ করে অনেককে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি সিভি দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশিরভাগই ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দাদের। বর্তমানে দেখা গেছে, এর ফলে ব্যাংকের কর্মীদের অর্ধেকের বেশি এখন প্রায়ই এই অঞ্চলের বাসিন্দা।

    ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং দক্ষতা যাচাই ও নিয়মের মধ্যে আনা। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা এবং দুর্বল কর্মীদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের বাইরে থেকে পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এখনো কত টাকা ফেরত আসবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকরা জানতে চান, কি পরিমাণ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব, উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যারা টাকা পাচার করে, তারা অত্যন্ত চালাক। কিভাবে এটা আনা যায়, সে বিষয়ে তারা নানা বুদ্ধি খুঁজে বের করে। টাকা ফেরত আনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশাপ্রকাশ করেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিছু অর্থ ফিরে আসতে পারে। বাকি অর্থের জন্য সরকারি প্রস্তুতি চলছে।

    তিনি বলেন, এই ধরনের ফরমালিটির কোনো সরকার এড়াতে পারে না। আমি বলেছিলাম—টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে—এমন দাবি করা হয়, তাহলে অবশ্যই দিতে হবে। কারণ, এ অর্থ লিগাল ওয়েতে যাওয়া জরুরি। ইতিমধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১১-১২টি বিষয় বেশ হাইপ্রোফাইল মনে হচ্ছে, যেখানে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ২০০ কোটি টাকার বেশি জরিমানা বা অভিযোগ রয়েছে।

    নতুন সরকার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে বাধ্য, বলেন তিনি, কারণ কেবল তখনই টাকা ফেরত আনা সম্ভব। যদি সরকার এসব প্রক্রিয়া চালু রাখে, তবে দেশের অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায়, অর্থ ফেরত আনার কিছুই হবে না।

    তিনি বলেন, এর জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সরাসরি অর্থ পাঠানোর বা অন্য কোনো সহজ পদ্ধতি এড়ানো জরুরি। বিদেশে থাকা অর্থের ব্যাপারে সাধারণত লাখ লাখ টাকা বা ডলার সরবরাহের জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা তিনি জানাতে অস্বীকৃতি জানান ও জানান, এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রশ্ন করতে।

    এ সময় তিনি জানান, এখনও কিছু অর্থ পাচার হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত রিপোর্ট আসার পরে তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে কিছু অ্যাসেট বা অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পাচারের অর্থের বিষয়ে তথ্য রয়েছে, কোন দেশে তার পাসপোর্ট বা অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেটিও দেখা হচ্ছে।

    অর্থনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি, কিছু অভিযোগ উঠেছে যে উপদেষ্টা এলাকায় বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়, কারণ প্রজেক্টগুলো অনেক পুরোনো।

    কর্তৃপক্ষ এক গবেষণায় জানিয়েছে, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটিই খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু খাদ্যঘাটতি আছে, বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের ক্ষেত্রে।

    সরকার খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভিজিএফ ও স্পেশাল ট্রেকের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। জেলেদের জন্য কয়েক দিন থেকে মাছ ধরা বন্ধ, এবং তাদের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, আমাদের লক্ষ্য হল সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, যেখানে ডিম ও অন্যান্য আমিষের যোগান বাড়ানো হবে, কারণ এগুলোর ক্রয় ক্ষমতা কিছুটা কম। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কমানোর কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    বাংলাদেশের বাজারে আবারও সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। দেশের শৈলীর মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে এখন এই মানের সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে, বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর পেছনে মূল কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দামের বৃদ্ধির প্রভাব।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছিল। তখন এক ভরি ভালো মানের সোনার মূল্য ছিল ১৯৪,৮৫৯ টাকা, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২৮ সেপ্টেম্বর সেই মূল্য কিছুটা কমে আসে। এখন আবার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দামে ২ হাজার ৪১৫ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ হাজার ৯৭১ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ হাজার ৬৮০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা, যা ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমে। সেইসঙ্গে অন্যান্য ক্যাটাগরির দামও কমে বসে।

    এছাড়া, রুপার দামের পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২০৮ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ২২৮ টাকা। তবে, এই দামগুলোর মধ্যে আশা করা যায়, ভবিষ্যতেও দাম পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকবে।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরো ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকে আরো ২০০ চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চাকরির শর্ত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একযোগে আরও ২০০ কর্মীকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অব্যাহত করেছেন। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে মোট ৪০০ জন কর্মী তাদের চাকরি হারালেন।

    এই প্রসঙ্গে এক বাংলাদেশ ব্যাংকার বলছেন, এই ধরণের উদ্যোগ বিরল ও নজিরবিহীন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি দক্ষতা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪১৪ জন কর্মী, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অপতৎপরতা থাকলেও বাকি ৫০ জনকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছেন, চাকরি বাতিলের জন্য কেবল অযোগ্যতা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিছু কর্মী।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং তাদের দক্ষতা যাচাই এবং কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা।

    অপরদিকে, জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাওয়ার পর থেকে হাজারো কর্মী সরাসরি বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ পান। অধিকাংশ নিয়োগ ঢাকার চট্টগ্রাম অঞ্চলের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে হয়েছে, ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মীই ওই অঞ্চলের।

  • অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি এখনই নির্দিষ্ট পরিমাণের কথা জানাননি। আজ, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, কি পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে? এর জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেছিলেন, যারা টাকা পাচার করে তারা এসব করতে বেশ বুদ্ধি খাটায়। এই অর্থ ঘরে তোলার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, বিভিন্ন লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলমান, যার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কিছু অর্থ আসার সম্ভবনা রয়েছে। বাকির জন্য আমরা প্রস্তুত।

    তিনি আরও বলেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া কোনো সরকারের পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি বলেছি, টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে। যদি না দেয়, তাহলে法律ীয় প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১১ থেকে ১২টি লিগ্যাল প্রক্রিয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকি সম্পত্তি বা অর্থের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে, যেখানে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রেও নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন সরকার কি এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, তারা বাধ্য থাকবেন কারণ, যদি এই প্রক্রিয়াগুলো চালু না থাকে, তাহলে অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে না। অর্থ ওঠাতে হলে এসব নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ না করলে অর্থ ফেরত আনা যাবে না।

    অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো কিছু পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ এবং রিভিউ করবে এবং কতটুকু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব, তা জানা যাবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সম্পদ বিভিন্ন দেশের অ্যাকাউন্টে被冻结 রয়েছে, যেখানে পাচারকারীদের টাকা আছে এবং বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। কাজের উপর কিছুটা সময় লাগবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, উপদেষ্টাদের এলাকায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়। তিনি পরিষ্কার করেন, এই প্রকল্পগুলো অনেক আগেই শুরু হয়েছে।

    অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, দেশে কিছু পরিবারের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। ব্রডকাস্ট রিপোর্টে বলা হয়, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কিছুটা উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও মাতাদের মধ্যে পুষ্টির অভাব। আমাদের চেষ্টা চলছে, খাদ্যসুবিধা যেমন ভিজিএফ এবং স্পেশাল ট্রাঙ্কের মাধ্যমে উপকারিতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও, তাদের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য দেয়া হচ্ছে।

    তিনি বললেন, আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা আরও উন্নত প্রয়োজন, কারণ এখন মূলত চালের উপর নির্ভরতা বেশি। অন্য খাদ্যশস্যের অ্যাক্সেস কম থাকায় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, যেখানে ডিম অন্যতম প্রয়োজনীয় আমিষ। অনেক মানুষই এই পণ্য ক্রয় করতে পারছে না। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবস্তরের মানুষের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করা।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হল নতুন দাম

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হল নতুন দাম

    দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন রেকর্ড মূল্য সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়। এই মূল্য বৃদ্ধি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মূলত, স্থানীয় বাজারে তেজাবী এর দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন, ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর আগে, এই মূল্যটাই ছিল দেশের সর্বোচ্চ সোনার দাম। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর, এই দাম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়। আবার, আজ নতুন করে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলো।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখনো সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে, এর নতুন দাম নির্ধারিত হলো ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরদিকে, ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম বেড়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকায় পৌঁছায়। সনাতন পদ্ধতির গোল্ডের দামও সংশোধন করে এক ভরি ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারে সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য কমানো হয় ১ হাজার ৮৯০ টাকা, ফলে নতুন দাম হয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিতে, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি দাম কমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৮ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের দাম কমে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৪ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫ টাকা। এই দামগুলো সোমবার পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

    তবে, সোনা যেমন দাম বাড়ছে, তেমনি রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা। আরও অন্যান্য ক্যাটাগরির রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জনকে ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জনকে ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে, যেখানে ২০০ জনকে চাকুরিচ্যুত করা হয় এবং আরও ৪৯৭১ জনকে ওএসডি (অফ সার্ভিস ডিউটি) করা হয়েছে। ওএসডি হওয়া কর্মীরা এখনো বেতন-ভাতা পেয়েছেন, তবে তারা এখন কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অন্দরমহলে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ مصادر জানিয়েছে, ২০১৭ সালে প্রভাবশালী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মূলত, বদলি নিয়োগের সময় বিজ্ঞাপন বা লিখিত পরীক্ষা না Workplace নির্মিত হয়নি। অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীই ওই অঞ্চল থেকে আসা।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, “এস আলম গ্রুপের সময় কিছু অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের সার্বিক প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এখন সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে, ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জনই অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীতে, যারা অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের দ্রুত ওএসডি করা হয়। পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনে বিভ্রান্তি ও বিরোধিতা ছড়ানোর কারণেও ২০০ কর্মীকে চাকুরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ওএসডি হওয়া কর্মীদের অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত তাদের জন্য নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ অমান্য করে আলাদা পরীক্ষা চালায়, যা বেআইনি বলে তারা মনে করছেন। তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ‘‘এটি দেশের প্রথম পরীক্ষা যেখানে ছাঁটাইয়ের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত, পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, কিন্তু কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য এই ধরনের পরীক্ষা প্রথমবারের মতো।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ ও কর্মী যাচাই তাদের এখতিয়ারের মধ্যে। তবে এ কাজগুলো অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালা অনুসারে হতে হবে।’’

    ২০১৭ সালে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে। এর ফলে ব্যাংকটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল আনয়ন করে এস আলমের প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেয়।

  • চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের কাছাকাছি হবে

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে, ২০২৬ সালে অর্থবছরের শেষে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশের অধিক হতে পারে। তবে চলমান ধীরগতির বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, যা ব্যবসাপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি দেশের পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক বিরোধ আর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছে এই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতির মানোন্নয়নের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জং বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব এখনও বাংলাদেশে দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিংখাতের দুর্বলতা গভীর থাকাটা স্বাভাবিক। অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়েছে, যেমন ট্রেড নীতিতে অনিশ্চিয়তা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থিতিস্থাপকতার অভাব। তাই সক্রিয় ও বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি; এগুলো টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এডিবি আরও বলেছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত তথ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলার ব্যর্থতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ২০২৪ অর্থবছরে এটি ৯.৭৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ১০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে, ২০২৫ সালে জিডিপির সামান্য উদ্বৃত্তের আশা করা হচ্ছে, যার প্রবৃদ্ধি হবে ০.০৩ শতাংশ, যা ২০২৪ অর্থবছরের ১.৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় বেশ ইতিবাচক। এটি উন্নতি পাচ্ছে মূলত নানা ধরনের বাণিজ্য সুবিধা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে।