Category: অর্থনীতি

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার কারণে বেসরকারি খরচে সামান্য বৃদ্ধি দেখা সম্ভব, যার ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়ে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের প্রকাশ ঘটে। এ সময় একই অনুষ্ঠানে এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট আপডেট নামক অন্য একটি প্রতিবেদনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

    বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি ও তার দলের অন্য সদস্যরা এই প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। চিফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া, আমদানির স্বাভাবিক হওয়ার ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য সামান্য ঘাটতির দিকে যেতে পারে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতির সঙ্গে রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধির ফলে জিডিপি অনুপাতের রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।

    প্রতিবেদনটি মুদ্রাস্ফীতির উন্নতি বিষয়ে নির্দেশ করে, যেখানে পরবর্তী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাসমান থাকলেও, ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৮.৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩.৮% থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭.৬% এ নেমে এসেছে। এই পরিবর্তনে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং খাদ্য সরবরাহের পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    নিম্ন আয়ের মানুষজনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির হার এখনো মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান কিছুটা কমে এসেছে। তবে দারিদ্র্যের হার বেড়ে চলেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্য হার ২১.২% এ পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০.৫%। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণও কমে গেছে, যেখানে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ হার ৬০.৯% থেকে কমে ৫৮.৯% হয়ে গেছে, মূলত নারীর অংশগ্রহণের হ্রাসের কারণে। এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে ছিলেন, যার মধ্যে ২.৪ মিলিয়ন নারী। মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯.১ লাখে দাঁড়িয়েছে, ফলে শ্রমশক্তি অনুপাত ২ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৬.৭% হয়েছে।

    অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনও গভীর উদ্বেগের কারণ। খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে মূলধন-ঝুঁকি-ভারিত সম্পদের অনুপাত এখন ৬.৩%। সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনাগত ক্ষমতা এবং আইনগত কাঠামো সুদৃঢ় করতে কাজ করছে। তাছাড়া, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জরুরি তরল্য সহায়তা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে।

    অন্য দিকে, ২০২৫ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪% এ দাঁড়াবে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.২%। এই হ্রাসের মূল কারণ হলো দুর্বল বিনিয়োগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায় পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়ের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া, পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগের অবনমন। এডিপি বা পাবলিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের বাস্তবায়নেও ধীরগতি লক্ষণীয়।

    প্রতিবেদনে কর-রাজস্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়, যেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য এক প্রতিবন্ধকতা।

  • সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে

    সেপ্টেম্বরে দেশের মোট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮.৩৬ শতাংশ, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। এই মাসে দেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই ধরনের পণ্যের দামে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দেশব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দ্বারা প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এর অর্থ হল, যদি একটি পণ্য গত বছর ১০০ টাকায় কিনতেন, তবে এই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। সাধারণ কথা বললে, মূল্যবৃদ্ধির এই হার অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে। যদি মানুষের আয় একই রকম থাকে বা তার হারে কমে যায়, তবে তারা ধীরে ধীরে কষ্টে পড়ছেন। গত অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, তবে এ বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেটি ৬.৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা সেট করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। তবে, সত্যিকার অর্থে এই লক্ষ্য অর্জন এখনো বেশ কঠিন, কারণ মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যপর্যন্ত নামেনি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৭.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৭.৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ৮.৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.৯ শতাংশ। সরকারি নানা পদক্ষেপের পরও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। ভারতে এই হার ২.০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১.৫ শতাংশ, নেপালে ১.৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২.২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪.৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩.৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হচ্ছে। এই মাসে গ্রামাঞ্চলে গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৪৭ শতাংশ হওয়ার পাশাপাশি শহরে তা ৮.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এডিবি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিলেও বলেছে, এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার। তবে, সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। তবুও, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতির সমস্যা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে, ভারতের ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কঠোর মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং উৎপাদনশীল নীতির বাস্তবায়ন হলে দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত

    দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি হ্রাস অব্যাহত

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হেরফের দেখা গেছে। এ সময় রপ্তানি আয় প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে। এই ধারা তৃতীয় মাসেও অব্যাহত থাকায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ৫ শতাংশ। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি কমেছে ১৭ কোটি ডলার से বেশি। ফলে, সেপ্টেম্বরে রপ্তানি মোট দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার থেকে কিছুটা কম।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তৈরি পোশাকের রপ্তানি এই মাসে প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে। মূলত পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়াতে মোট রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। পোশাকের রপ্তানি এ মাসে পৌঁছেছে ২৮৪ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩০১ কোটি ডলার।

    যদিও একক মাসের হিসাবে এই হ্রাস ঘটলেও, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো, প্রথম মাসে রপ্তানি বেড়ে যায় ২৫ শতাংশ, তবে দ্বিতীয় মাসে এটি কমে যায় প্রায় ৩ শতাংশের কাছে।

  • সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি

    সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি দুই লাখের কাছাকাছি

    বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার আবারও আকাশচুম্বি দামে পৌঁছেছে। সব থেকে গুণগত মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এবার ২,১৯২ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই দামে বিক্রি হলে এটি হবে দেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম তার ইতিহাসে। এর আগে, গত শুক্রবার এই দাম ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয়, যা রোববার থেকে কার্যকর হবে। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বৃদ্ধি ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা। এছাড়া, অন্যান্য মান অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ૮৮ হাজার ৯১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অতঃপর, এর আগে এই দামে ছিল ২২ ক্যারেট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার মূল্য ওই একই geblieben, যার মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো পর্যন্ত রুপার দাম রয়েছে ২২ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • সোনার দাম রেকর্ডের নতুন উচ্চতায়, ভরি ২ লাখ টাকার ওপরে

    সোনার দাম রেকর্ডের নতুন উচ্চতায়, ভরি ২ লাখ টাকার ওপরে

    দেশের স্বর্ণ বাজারে এক দিনের ব্যবধানে আবারও জোরদার ফেরার খবর জানিয়ে এগিয়ে এসেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ টাকা, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। এ ঘোষণার ফলে দেশের স্বর্ণ বাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি মূল্য ২ লাখ ৭২৬ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম, যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে শনিবার (অক্টোবর ৪) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ১৯৩ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা। স্বর্ণের এই দাম নির্ধারণের সময় সরকার থেকে ভ্যাট হিসেবে ৫ শতাংশ এবং বাজুসের ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার আলাদা হতে পারে। এই পরিস্থিতি আগে জানানো হয়েছিল, যখন গত শনিবার স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাজুস। তখন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা। অন্য দিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • আশঙ্কাজনক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস: ২০২৫ সালে ৪%, ২০২৬ সালে ৫% হতে পারে

    আশঙ্কাজনক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস: ২০২৫ সালে ৪%, ২০২৬ সালে ৫% হতে পারে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪ ভাগে পৌঁছাবে। এরপর ২০২৬ সালের অর্থবছর শেষে এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশে দাঁড়াবে। এবারে দেশের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও আসন্ন বছরগুলোতে উন্নতির সামান্য প্রত্যাশা বহন করছে।

    এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, বন্যা, শিল্প শ্রমিকের বিরোধিতা এবং ক্রমাগত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের অর্থনীতির গতিকে কিছুটা ঠেকিয়ে রেখেছে। তবে, পোশাক রপ্তানি এখনো স্থিতিশীল থাকলেও প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতি চলমান।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তারা জানায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি স্থায়ী করতে হলে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও বাস্তবে দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। উচ্চমানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

    আরও জানানো হয়, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, বাজার তথ্যের অপ্রতুলতা, সরবরাহ শৃঙ্খলার সমস্যা এবং টাকা মুদ্রার দুর্বলতা থেকে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ অর্থবছরে এই হার ৯.৭৭ শতাংশ ছিল, যা ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়ে হতে পারে ১০ শতাংশ।

    অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সামান্য জিডিপি উদ্বৃত্তের আশা করা হলেও, এই প্রবণতা কিছুটা অস্থির। ২০২৫ সালে, সামান্য ০.০৩ শতাংশের অর্থবাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত বছরের ১.৫ শতাংশের ঘাটতির তুলনায় কিছুটা উন্নত। এতে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসছে এবং শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এর জন্য ধন্যবাদ।

  • টানা দুই মাস রপ্তানি কমে যাচ্ছে

    টানা দুই মাস রপ্তানি কমে যাচ্ছে

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসেই পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হেরফের দেখা গেছে। এ সময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি করেছিল প্রায় ৩ শতাংশের মতো, তবে তৃতীয় মাসেও একই ধারা বজায় থাকছে। এবার সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ আরও কিছুটা কমেছে, যার ফলে রপ্তানি এখন প্রায় ৫ শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৭ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩৬৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের সমান সময়ে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার থেকে বেশি।

  • সোনার ভরির দাম দুই লাখের কাছাকাছি, সব রেকর্ড ভেঙে গেছে

    সোনার ভরির দাম দুই লাখের কাছাকাছি, সব রেকর্ড ভেঙে গেছে

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ১৯২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকায়। এটি এখন পর্যন্ত সব থেকে বেশি দাম, যা আগের রেকর্ড অর্থাৎ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায় চলে এসেছিল।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে। এই দাম বৃদ্ধি মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনা বিক্রির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নেওয়া হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা।

    এর আগে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৫ টাকা।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ জনের চাকরি হারালেন কর্মী

    ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ জনের চাকরি হারালেন কর্মী

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চাকরির নীতিমালা লঙ্ঘন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসঙ্গে আরও ২০০ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে ব্যাংকের পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে। এই ছাঁটাই বিভিন্ন দফায় চলছিল, যার ফলে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় ২০০ জনসহ মোট ৪০০ জনের চাকরি হারালেন ব্যাংকের কর্মীরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা এই বিক্ষিপ্ত ছাঁটাইকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি মূলত কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪১৪ জন কর্মী, যাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকিদের জন্য আবার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তাদেরকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত) করা হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

    ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা শুধু অযোগ্যতার জন্য নয় বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার, সহকর্মীদের অংশগ্রহণে বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও বৈধতা নিশ্চিত করা। এর পেছনে মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ও কার্যক্রমের মান উন্নত করা, যাতে ব্যাংকের ভবিষ্যত আরও সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের বাইরে পাচার হওয়া এর বড় অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে তার কাছ থেকে কতোটা অর্থ ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নিশ্চিত তথ্য দেননি। আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি অপরাধসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে, পাচার করা অর্থ কি ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব—তা কি কি পর্যায়ে এসেছে, এই প্রশ্নের উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অর্থ পাচারকারীরা এগুলোর জন্য খুবই চমৎকার পরিকল্পনা করে। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সময় লেগে যায়, তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশা করি ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিছু অংশ নদী হয়ে আসতে পারে। বাকিটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, আমরা প্রস্তুত থাকছি। তিনি বললেন, এ বিষয়টি কোনো সরকারের পক্ষে এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, টাকা যদি সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে দিতে বলা হয়, সেটার জন্য লিগ্যাল রুট অনুসরণ করতে হবে, এটাই স্বাভাবিক।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি, ১১ থেকে ১২টি ক্ষেত্রে খুবই উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। এর বাইরে অন্য শতাধিক ক্ষেত্রে যাদের মানি লন্ডারিং বা পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়েও নজরদারি চলছে।

    নতুন সরকার কি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা তারা বাধ্য হয়ে করবে। কারণ আমরা যদি বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু রাখি, তাহলে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া এগোবে। না করলে বা প্রক্রিয়াগুলো পালন না করলে, অর্থ ফেরত আসবেনা। এটি আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্র্যাকটিসের অংশ, অন্যথায় কিভাবে সম্ভব?

    অর্থ পরিমাণ নিয়ে প্রশ্নে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কত টাকা ফেরত আসবে, সেটা তিনি বলতে পারবেন না। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকেই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতে হবে।

    এদিকে, এখনো কিছু পাচার কার্যক্রম রয়ে গেছে—তা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সাময়িকভাবে আমরা দেখছি, বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু রিপোর্ট আসছে। আমরা অনুভব করছি, কিছু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অ্যাসেট ফ্রিজ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। ওখানে টাকা আছে, অ্যাকাউন্ট আছে, পাসপোর্টের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো সম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার।

    আরো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রজেক্টের বরাদ্দ ও কাজের ধারা অনেক পুরানো। এই সমস্ত উদ্যোগ চালু থাকলে, এগুলো স্থির থাকলে অর্থ ফেরত আনার সুযোগ বাড়বে।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটিরই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও পুষ্টিহীনতায় ভোগার পরিস্থিতি রয়েছে। এর উত্তরে তিনি জানান, কিছুটা পুষ্টি ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও মা-বাবাদের মধ্যে। তিনি বলেন, এর সমাধানে আমরা সব রকম চেষ্টা করছি, ভিজিএফ, স্পেশাল ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধের সময় ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    তিনি যোগ করেন, আমাদের খাদ্যপণ্য মূলত চালের উপর বেশি নির্ভরশীল,অন্য খাবারও গুরুত্বপূর্ণ। তবে, ক্রয়ক্ষমতা কম থাকায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আমিষের চাহিদা পুরণের জন্য ডিমের মতো সরবরাহ প্রয়োজন। অনেকেই তা ক্রয় করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করছি।