Category: অর্থনীতি

  • অর্থ উপদেষ্টা: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা ভুল

    অর্থ উপদেষ্টা: পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা ভুল

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে পুঁজিবাজার থেকে প্রতিনিয়ত মুনাফা আসবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি সতর্ক করে বলছেন, কেউ যদি এই বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে এটি তার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাজারে মূলধনের দিক থেকে লাভের পাশাপাশি ক্ষতির ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত সচেতন থাকা এবং বুঝতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনো কখনো ক্ষতিও হতে পারে।

    সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থ উপদেষ্টা আরো জানান, বাংলাদেশে মূলধনের বাজার এখনো সম্পূর্ণভাবে বিকশিত নয়। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজারের অবস্থা তো আরও নগণ্য। ফলে বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়নে তথাকথিত ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে একমাত্র ব্যাংকের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এর ফলে ঋণখেলাপি ও তহবিলের অপব্যবহারের ঘটনা বাড়ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আসলে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে শুধুমাত্র ঋণ নেওয়া ও ভুয়া খাতে ব্যয় করা সমাধান নয়।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে এগুলোর প্রায়ই শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভজনক হওয়া সম্ভব এবং ব্যাংকের ওপর চাপও কমবে। সুতরাং, সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে যেন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখনও সিকিউরাইজেশন কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকরী হয়নি। কিন্তু মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্পের জন্য এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বিশ্বব্যাংকের ঋণে নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসত। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারের দায়বদ্ধতা।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু মূলধন ও সুকুকের বাজারই নয়, বীমা বাজারের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করতে হবে যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পান।

    সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।

  • রিজার্ভ চুরির অর্থফিলিপাইনে বাজেয়াপ্ত, সিআইডির বড় পদক্ষেপ

    রিজার্ভ চুরির অর্থফিলিপাইনে বাজেয়াপ্ত, সিআইডির বড় পদক্ষেপ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই খবর নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে ফিলিপাইনের এই ব্যাংকের জুপিটার শাখার ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এরপর এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল।

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

    বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্য আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বাজারে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, এবার ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে এবং নতুন দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (অর্থাৎ, সাধারণ বা পুরোনো ধরনের) স্বর্ণের প্রতি ভরি দরে নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও সংগঠনের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ সংযুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

    গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস, তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে, বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামও নির্ধারিত হয়েছিল, যার মধ্যে ২১ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। এই দামের সমন্বয় কার্যকর হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

    এ বছর মোট ৫৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম বেড়েছে ৪০ বার আর কমেছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৬২ বার, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছে ২৭ বার।

    এসবের পাশাপাশি, রুপার দরেও ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকায়।

  • বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম এবার ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ছাড়ালো, ইতিহাসের নতুন রেকর্ড

    বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম এবার ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা ছাড়ালো, ইতিহাসের নতুন রেকর্ড

    বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা দেশের বাজারিকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ভরতিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। মঙ্গলবার থেকে এই দাম কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে বাজুস।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে গেলেও, এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দেশীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকায়।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির জন্য সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন এবং মান অনুযায়ী মজুরির ভিন্নতা হতে পারে।

    বিশ্ববাজারে এর আগে কখনো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়নি। সম্প্রতি এক দিনে ৩৪ ডলার মূল্যবৃদ্ধির ফলে এক মাসে মোট দাম বেড়েছে প্রায় ১০.৩৫ ডলার। এক মাসে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪০০ ডলার বেড়েছে। এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারণের সময়, বিশ্ববাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর দাম কিছুটা কমে গেলে ১৮ সেপ্টেম্বর কিছুটা দাম সমন্বয় করা হয়, পরে ফের বিশ্ববাজারের দর বেড়ে ২০ সেপ্টেম্বর আবারও দাম বাড়ানো হয়। ঐ দিনে, ২২ ক্যারেট মানের ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৫৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৯ হাজার ৬২২ টাকা হয়। একই ভাবে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দর ১ হাজার ৯৭ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় দাঁড়ায়।

    সোনার অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক ও ট্যারিফ নিয়ে জটিলতার কারণে পরিস্থিতি বেড়েছে। তারা চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক করছে। এর প্রভাব ডলারে পড়ছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের গোলযোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যবাসীর ডলারের প্রতি আস্থা কমে গেছে, ফলে তারা নিরাপদ হিসেবে রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণ কিনছে। পাশাপাশি, খনিতে স্বর্ণ উত্তোলন কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসব কারণের ফলস্বরে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। এই দাম বাড়ার কারণে দেশে জুয়েলারি ব্যবসা কিছুটা মন্দার প্রবণ হয়েছে এবং দেশের স্বর্ণের বাজারের আকারও ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে।

  • গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা মার্কেট দরকার

    গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা মার্কেট দরকার

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সঞ্চয়পত্র এবং বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কেনাবেচার বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেছিলেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।

    আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনা ও উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর মন্তব্য করেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের কিছুটা লেনদেন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও, এটিকে সম্পূর্ণভাবে লেনদেনযোগ্য করে তোলা অবশ্যই প্রয়োজন। এর ফলে গ্রাহকরা সুবিধা পাবেন, পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে এবং বাজারে তারল্য ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে, তিনি বেসরকারি বন্ডগুলোকে লেনদেনযোগ্য করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, একটি সঠিক কাঠামো তৈরি হলে বন্ড মার্কেটের আকার দ্রুত দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক ও অর্থনীতি প্রকৌশলীর জন্য ইতিবাচক দিক আনবে।

    আহসান এইচ মনসুর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জন্য সরকারী ও বেসরকারি ফান্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি পেনশন, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য কাজে লাগানো সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এর জন্য একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন জরুরি, যাতে এই তহবিলগুলো ব্যবস্থাপনায় সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

    সেমিনারে গভর্নর বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির তুলনা করেন। তিনি জানাচ্ছিলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ব্যবস্থায় মূলত বন্ডের প্রাধান্য রয়েছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা মোট বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। বিপরীতে, বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামো মূলত ব্যাংকনির্ভর, যেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হলো স্টক মার্কেট, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার। এর পরে রয়েছে মানি মার্কেট (নগদ অর্থের বাজার), যার আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। এই চিত্র বাংলাদেশese ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থার বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বিমা খাত সামান্য মাত্র জিডিপির ০.৪ শতাংশ, যা খুবই অপ্রতুল।

    তিনি বলেন, অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ডের আধিক্য দেখা গেলেও, করপোরেট বন্ডের খুবই অভাব আছে। এর জন্য দায়ী তিনি বাবদান করেন, ব্যাংকঋণে সাধারণত বেশি নির্ভরতা এবং কিছু রাজনৈতিক সুবিধার কারণে এটি হয়ত সম্ভব হচ্ছে না।

    অতিরিক্ত, গভর্নর সংক্ষিপ্ত করে বলেন, সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজার খুবই ক্ষুদ্র। বর্তমানে মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বড় করার জন্য নতুন ভাবনা নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে উল্লেখ করেন, যমুনা বা পদ্মা সেতু প্রকল্পের টোল বা আয় দিয়ে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়। এই ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষক036িটাস বিভাগ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

    অনুষ্ঠানের শেষে আহসান এইচ মনসুর বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। খুব দ্রুত এই প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে প্রস্তাবিত হবে চলমান ও সুকুক উভয় ধরনের বন্ডের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

  • গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বাজারের উন্নয়নের পরামর্শ

    গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বাজারের উন্নয়নের পরামর্শ

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জন্য দেশের মূল ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের আর্থিক বাজারকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য সঞ্চয়পত্র ও বেসরকারি বন্ডের জন্য আলাদা কেনাকাটা ও বিক্রয় বাজার (সেকেন্ডারি মার্কেট) গঠন অপরিহার্য। এই বাজারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে, যা দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকেন, তবে খুব দ্রুত এই ধরনের একটি বাজার প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা অর্থবিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও উপযুক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি, যেখানে বন্ড ও সুকুক মার্কেটের সম্ভাবনার আলোচনা হয়।

    গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরগুলোতে সঞ্চয়পত্রের লেনদেনের পরিমাণ সীমিত হলেও, এটিকে পুরোপুরি ট্রেডযোগ্য ও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন এবং একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে, যার ফলে অর্থের সরবরাহ ও বণ্টনের সময় ও খরচ কমে আসবে। একই সঙ্গে, তিনি বেসরকারি বন্ডের লেনদেনও সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, সঠিক কাঠামো অনুসরণ করলে বন্ড মার্কেট দ্রুত দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক খাতে বিশাল পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

    আহসান মনসুর আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের তহবিলগুলোকে কাজে লাগানো জরুরি। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করে বলেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসবের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। তিনি যোগ করেন, এর জন্য দক্ষতাসম্পন্ন ও কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণকারী একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজন, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বিশ্লেষণে তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি মূলত বন্ড কেন্দ্রিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড বাজার রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশের সমান। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ব্যাংক নির্ভরশীল, যেখানে স্টক মার্কেটের বাজার মূল্যানุসারে প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে, নগদ অর্থের মানি মার্কেটের আকার মাত্র ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার। তিনি লক্ষ্য করে বলেন, এসব তুলনা দেখিয়ে বোঝা যায় যে, দেশের আর্থিক কাঠামো এবং বাজার উন্নয়নের জন্য আরও বিকাশের প্রয়োজন। তবে, দেশের বিমা খাতের অবস্থা খুবই খারাপ, যেখানে জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ অবদান।

    গভর্নর বলেন, চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশের বন্ড বাজার গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে মূলত সরকারি বন্ডের আধিপত্য রয়েছে, কিন্তু করপোরেট বন্ডের অবদানের দ্রুত বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড মার্কেটের দিকে আগানোর প্রস্তাব দেন। তিনি আরও বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধ না করায় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্বাসে অনেক সময় সেই সুযোগও ন্যস্ত হয়।

    তাঁর মতে, সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজার খুবই ক্ষুদ্র। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার সম্প্রসারিত করার উপর জোর দেন, এবং পরামর্শ দেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন যমুনা বা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্পের আয়ের পথগুলোকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এর জন্য অর্থমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে একটি কার্যকরী এবং দক্ষ বিভাগ তৈরির প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

    আলোচনা শেষে, আহসান এইচ মনসুর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড বাজারের উন্নয়নের জন্য একটি বিস্তৃত গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। খুব দ্রুত এই প্রতিবেদনটি সুপারিশসহ সরকারকে উপস্থাপন করা হবে। এই সুপারিশগুলো প্রাকৃতিক ও সুকুক উভয় বন্ডের উন্নয়নে বিস্তারিত নির্দেশনা দেবে, যেন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত উন্নত ও গতিশীল হয়।

  • পুঁজিবাজারে সব সময় লাভ হওয়া উচিত ভাবনা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সব সময় লাভ হওয়া উচিত ভাবনা ভুল: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় মুনাফা আসবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, কেউ যদি এটি অবিচ্ছিন্ন আয় উৎস হিসেবে ভাবতে থাকে, তবে itu বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ বিপদ ডেকে আনতে পারে। মূলধনী বাজারে যেমন লাভের সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির ঝুঁকি ও থাকা সম্ভব। এজন্য বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনও কখনও ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব বক্তব্য রাখেন।

    ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখনও মূলধনী বাজার যথেষ্ট উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজার প্রায় অবহেলাজনক। ফলে বড় প্রকল্পের অর্থায়ন নির্ভরশীলতা ব্যাংকগুলোর উপর বাড়ছে, যা ঝুঁকি বা ঋণখেলাপি এবং তহবিলের অপব্যবহার বাড়ানোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ঝুঁকি ভাগাভাগি করতে হলে মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার এবং শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে কেবল ঋণ নিয়ে তা ভুল খাতে ব্যবহার করা কোনো সমাধান নয়। বিশেষ করে, মূলধনী বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদেরও বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকির পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে। তবে এসব বন্ড সাধারণত শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে আয়ের হার কম। যদি এসব বন্ড উৎপাদনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। তাঁর মতে, সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হওয়া উচিত, যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা আরও জোরদার হয়।

    অর্থ উপদেষ্টা আরো যোগ করেন, বাংলাদেশে এখনো সিকিউরিটাইজেশন কার্যকর হয়নি। তবে মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পে এই পদ্ধতি চালু থাকলে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এছাড়া, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারের দায়বদ্ধতা।

    সেই সঙ্গে, তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র মূলধনী ও সুকুক বাজার নয়, বীমা ক্ষেত্রের উন্নয়নেও মনোযোগ দিতে হবে। কর কাঠামো ও প্রণোদনা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • ফিলিপাইনের ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত, রিজার্ভ চুরির পরিষ্কার চিত্র

    ফিলিপাইনের ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত, রিজার্ভ চুরির পরিষ্কার চিত্র

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) কাছ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। এ ঘটনা আদালতের আদেশে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনায় এই অর্থ বর্তমানে ফিলিপাইনের আরসিবিসির জুপিটার শাখার ভুয়া হিসাব থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জোরদার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের বড় ধরনের সাইবার হামলার প্রথম নজির স্থাপিত হয়। তখন নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় প্রেরিত প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও, বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। এই অর্থ পরে বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পাচার করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত মামলা দায়ের করে এবং এ বিষয়টি তদন্তে ফিলিপাইনের আদালত শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকেকে মানি লন্ডারিংয়ের দোষে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, বড় ধরনের সাইবার ক্রাইমের সাথে আন্তর্জাতিক জড়িত একটি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলছে।

  • এক দিনের মধ্যেই স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

    এক দিনের মধ্যেই স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

    ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি প্রতিদিনের পরিবর্তনশীল বাজারের জন্য একটি বড় খবর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার রাত্রে একজন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম মূলত বেড়েছে, যা স্বর্ণের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নতুন এই দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (পূর্বের প্রথামূলক মান) স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির সময় সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি স্বর্ণের মূল্যর সঙ্গে যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির পার্থক্য হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল এবং ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এতে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল যথাক্রমে ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।

    এছাড়া, এই বছর জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৫৭ বার, যেখানে ৪০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১৭ বার দাম কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম পরিবর্তন হয়েছে, এর মধ্যে ৩৫ বার বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।

    এসবের পাশাপাশি, স্বর্ণের দাম বেড়ানোর সঙ্গে রুপার মূল্যেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার, ভাঙলো সব রেকর্ড

    স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ লাখ ৯১ হাজার, ভাঙলো সব রেকর্ড

    বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও নতুন একটি রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম নতুন দরে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রত্যেক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেকর্ড। এই নির্ধারিত দাম মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।