Category: অর্থনীতি

  • চূড়ান্ত হলো একীভূত হতে যাওয়া ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের নাম

    চূড়ান্ত হলো একীভূত হতে যাওয়া ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের নাম

    বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকদের নাম চূড়ান্ত করেছে। এসব ব্যাংকের প্রশাসকদের দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই পরিচালক, যাঁরা ইউনিয়ন ব্যাংকের এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পাভবেন। এছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামি ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকবেন তিনজন নির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার তাদের নাম চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নির্বাচিত প্রশাসকদের মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ শওকত উল আলমকে। অন্যদিকে, মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদার পাচ্ছেন সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের প্রশাসন, আর মোঃ সালাহ উদ্দীন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের। পাশাপাশি, মোহাম্মদ আবুল হাসেম ও মকসুদুল আলমের দায়িত্ব দেয়া হবে ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের জন্য। বিতর্ক এড়ানোর জন্য আইনী জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সভার পরবর্তী সময়ে আগামী মাসের প্রথম দিকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ব্যাংকগুলোর ঋণের বেশির ভাগই খেলাপি হয়ে থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় দেশের এই পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে একীভূত করার।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক বিশেষ সভায় এই একীভূতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর প্রশাসন কেন্দ্র করে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। এটি দেশীয় ব্যাংক খাতের জন্য একটি বড় স্থিতিশীলতার ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস: এই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশিয়ার উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস: এই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশের আশেপাশে থাকবে, তবে পরবর্তী অর্থবছর মাধ্যমে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাবে। তাদের განცხადებით, এই প্রবৃদ্ধির ধীর গতি মূলত চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর কারণে হয়েছে। পাশাপাশি, বারবার বন্যা, শিল্প শ্রমিকদের বিরোধ এবং উচ্চ মহামারীজনিত মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশীয় চাহিদা কমে যাওয়ার ফলেও এই প্রভাব পড়েছে।

    এডিবির নতুন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও), যা গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে, এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সুন্দরভাবে উন্নত হতে পারে।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের মূল বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনো দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে। উচ্চমানের অর্থনৈতিক সম্পাদনাকে অর্জন করতে হলে এইসব চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কঠোর মনোভাব নেয়া অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালের অর্থবছরের জন্য কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি বহাল থাকছে, যেমন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি, যা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করবে।

    এডিবি আরও জানিয়েছে, বাজারে প্রতিযোগিতা কম, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, সরবরাহ শৃঙ্খলার অসুবিধা এবং মুদ্রার দুর্বলতার কারণে ২০২৪ অর্থবছরে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে, চলতি হিসাবের উদ্বৃত্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা ২০২৪ অর্থবছরের জিডিপির ১.৫ শতাংশ ঘাটতির তুলনায় সামান্য বেশি। এই পরিস্থিতি মূলত শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সংকুচিত বাণিজ্য ঘাটতির ওপর নির্ভরশীল।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের বাইরে থেকে পাচার হওয়া টাকা মোটের উপর একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে তিনি এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, টাকা পাচারকারীরা অনেক বুদ্ধি করে এই অর্থ আনার পরিকল্পনা করে থাকেন, ফলে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এখন কিছু অগ্রগতি হয়েছে, অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশার কথা হলো, হয়তো ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কিছু অর্থ দেশে ফেরত আসতে পারে। বাকি অর্থের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া কোনো সরকারই এড়িয়ে যেতে পারবে না। তাকে উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেভাবে বলছেন—টাকা দিয়ে দিন সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে, যদি এই ব্যবস্থা না মানে, তাহলে তার লিগ্যাল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে এই লিগ্যাল প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ থেকে ১২টি বড় অংকের অর্থ ফেরত আনা নিয়ে সরকার হাই অগ্রাধিকার দিয়েছে। আর যেসব অ্যান্টি-আনফ্রডেস্ট কেসের মধ্যে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন সরকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, সরকার অবশ্যই এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে কারণ এতে অর্থ ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রসেস চালু রাখা বাধ্যতামূলক। যদি এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, তাহলে অর্থ ফেরত আসবে না। তাই এই পদ্ধতিগুলো চালু রাখতে হবে—এটাই আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন।

    পরিমাণ কত টাকা ফেরত আসবে, এই বিষয়েও প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, এটা আমি বলতে পারছি না; এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেই জিজ্ঞাসা করতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে পাচার হওয়া অর্থের বিস্তারিত পরিমাণ ও ধরনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমপ্রেসিভ রিপোর্ট দেবে। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে কিছু অর্থ অ্যাসেটের ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে ওদের বিভিন্ন দেশীয় ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ওদের পাসপোর্টের তথ্যও রয়েছে। বাকিটা কাজ শেষ হলে, আশা করা যায় দ্রুত সময়ে আরও অর্থ ফেরত আসতে পারে।

    অপরদিকে, উপদেষ্টা এলাকায় বেশি বরাদ্দের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, এসব প্রজেক্ট অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে, নতুন কিছু নয়।

    এছাড়া, বাংলাদেশ স্ট্যাটISTICS বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানানো হয়। এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত নিউট্রিশনের ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে। এই সমস্যা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা খাদ্য ঘাটতি রয়েছে, যেখানে আমাদের খাদ্য সামর্থ্য কম। এর জন্য আমিষের প্রয়োজন রয়েছে, যেমন ডিম। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে সাধারণ মানুষ তা ক্রয় করতে পারে এবং অসচেতনতা কমে। খামার কাজে ন্যূনতম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সবচেয়ে উচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) মূল্য যোগ হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে আজকের দিনে এই মানের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়।

    বাংলাদেশের স্বনামধন্য জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে। বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত পাস করে। পরে এই কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন बिगড় শ্লথভাবে বাড়তে থাকলেও, সেই সময়ে এক ভরি মানের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, যা দেশের বাজারে তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম ছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর দাম কিছুটা কমে আসে, কিন্তু আবার নতুন করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

    বর্তমানে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন এক ভরি জন্য ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ২ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

    ১৮ ক্যারেটের সোনার দামে এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা, যা আগের থেকে ১ হাজার ৯৭১ টাকা বেশি। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির বা পুরোনো সংজ্ঞায় এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা, যেখানে আগের দাম ছিল অনেক কম।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোনার দামে ফের পতন দেখা গেছে। ওই দিন সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা হয়। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৮ টাকা হয়। ১৮ ক্যারেটের জন্য এই দাম ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৪ টাকা।

    তবে, সার্বিকভাবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকরিচ্যুত ও ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে ২০০ কর্মী চাকরিচ্যুত ও ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মস্থলের নীতিমালা লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে, ৪,৯৭১ জন কর্মীকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া কর্মীরা এখন বেতন-ভাতা পেয়েছেন, তবে তারা আপাতত কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের দ্বারা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বহু কর্মী সরাসরি সোয়াইভি দিয়ে নিয়োগ লাভ করেন, যেখানে কোনও লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই ছিল পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অঞ্চল থেকে আসা।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, “এস আলম গ্রুপের সময় অযোগ্য লোকজনের নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সবাইকে যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশে ২৬ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তা ডাক পাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন। যারা উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের সবাইকেই পরের দিন থেকেই ওএসডি করে দেওয়া হয়। এছাড়াও, পরীক্ষার প্রক্রিয়া কেন্দ্রীক বিভ্রান্তি ও প্রকাশ্যে বিরোধিতা চালানোর কারণে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

    ওএসডি হওয়া কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা চালানোর আদেশ দেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ অমান্য করে আলাদা যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে, যা বেআইনি বলে তারা মনে করছেন। তারা আবারও আদালতের শরণাপন্ন হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “অনুসন্ধানী ছাঁটাইয়ের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, তবে এই ধরনের যোগ্যতা যাচাই প্রথমবারের মতো।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই নিয়োগ বা কর্মী যাচাইয়ের এখতিয়ার তাদের হলেও, অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালা মেনে সেটি করতে হবে।”

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যাংকটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালে পরিবর্তিত সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল এনে এস আলমের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে, তা ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা আসবে, তা ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় লাভের আশা করা ভুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কেউ যদি মনে করে এই বাজারের মাধ্যমে নিয়মিত স্থায়ী আয় করা সম্ভব, তবে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। দেশের মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির সম্ভাবনাও লুকানো রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে যে শেয়ার বা বন্ড কেনা মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হয়।

    সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সুকুক বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মূলধন বাজার এখনও যথাযথভাবে উন্নত হয়নি। সরকারি বন্ডের সেক্টর থাকলেও সেখানে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজার প্রায় ক্ষুদ্র। ফলে বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে تنها ব্যাংকের উপর ভরসা করা হচ্ছে। এতে ঋণখেলাপি ও তহবিল অপব্যবহার বেড়ে যায়, যা দেশের জন্য বড় ট্রাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া এবং তারপর তা ভুল খাতে ব্যাবহার করাও সমাধান নয়। তাই মূলধন বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে যে এখানে ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুকুক বাজারে বর্তমানে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে সেগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগ হওয়ায় আয়ের হার কম। যদি এই বন্ডগুলো উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। সুকুক অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে, যেন বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারেন।

    অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে এখনো সিকিউরিটাইজেশন (অর্থ সংরক্ষণ ও একীকরণ) কার্যকরভাবে কাজে লাগেনি। অথচ যদি মেট্রোরেলসহ আরও বড় বড় প্রকল্পে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়, তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ এগুলো সরকার কর্তৃক দায়বদ্ধতা।

    তিনি বলেন, শুধু মূলধন ও সুকুক বাজারের উন্নয়নই নয়, বীমা খাতের উন্নয়নেও নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে।

    সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।

  • একীভূত হতে যাচ্ছে পাঁচ ইসলামিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকরা

    একীভূত হতে যাচ্ছে পাঁচ ইসলামিক ব্যাংকের নতুন প্রশাসকরা

    বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের নতুন প্রশাসকের নাম চূড়ান্ত করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যাংকগুলোর উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকগুলোতে দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী ও পরিচালকদের মধ্যে তিনজন থাকবেন নির্বাহী পরিচালক এবং অন্যরা থাকবেন ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে। বিশেষ করে, ইউনিয়ন ব্যাংকের জন্য মো: শওকত উল আলম ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য মো: আবুল হাসেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে মো: সালাহ উদ্দীন ও মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদারকে। আরও দুজন অর্থাৎ, মুহাম্মদ বদিউল আলম দিদার ও মো: সালাহ উদ্দীন এই দায়িত্ব পাবেন। এ ছাড়া, মো: শওকত উল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একীভূত করা ব্যাংকগুলোতে সড়ক ও পরিচালন ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসক নিয়োগে যেকোনো আইনি বাধা এড়াতে আগামী মাসের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। উল্লেখ্য, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের ঋণের বেশিরভাগই খেলাপি হয়ে থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পুনঃসংগঠনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে, ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করা হবে।

  • এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড উচ্চতা

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের মূল্য। নতুন এই দাম বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। এছাড়া, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য সেটি হচ্ছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা।
    বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।
    এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সমন্বয় করে বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায়। এটি ছিল দেশের বাজারে এতদিনের সর্বোচ্চ মূল্য।
    অন্য ক্যাটেগরিতে, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি কার্যকর হয় ২৩ সেপ্টেম্বর।
    এ পর্যন্ত চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪০ বার ও কমানো হয়েছে ১৭ বার। ২০২৪ সালে মোট দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার, যেখানে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।
    এছাড়া, স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। রুপার ভরি (২২ ক্যারেট) ১৫২ টাকা বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকায়, যা এখন দেশের সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যাটেগরিতে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ২২৮ টাকা দিয়ে।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    বিশ্ব বাজারে সোনার মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায়, যা দেশের সব রেকর্ড কাটিয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার রাতের মধ্যে এই দাম ঘোষণা করা হয়, এবং এটি আগামী মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম গ্যাসে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য পড়বে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা।

    বাজুস আরও জানায়, এই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে, তবে ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে।

    বিশ্ববাজারে সোনার দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক আউন্স সোনার দাম এখন পর্যন্ত কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়ায়নি। একদিনে ৩৪ ডলার বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে এক মাসে সোনার দাম ১০.৩৫ ডলার বেড়েছে, যা মোট প্রায় ৪০০ ডলার বৃদ্ধি দেখাচ্ছে।

    অতিরিক্ত, গত সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর তা কিছুটা কমলেও, পুনরায় বাড়তে থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর, দেশের বাজারের জন্য সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। একই দিন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ টাকায় পৌঁছায়।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের স্বর্ণমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো আমেরিকার শুল্ক, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক এবং ডলার মূল্যবৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ইস্যুতে সামগ্রিক ঝামেলা থাকায়, নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেশ কিছু দেশ ডলার কিনে রিজার্ভ করছে। তাছাড়া, সরবরাহের অভাব ও খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলনে প্রতিবন্ধকতা থাকায় দাম আরও বাড়ছে। এসব কারণে বর্তমান দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা সৃষ্টি করছে এবং বাজারের আকার ছোট করে দিচ্ছে।

  • গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের আলাদা বাজার নির্মাণের পরামর্শ

    গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের আলাদা বাজার নির্মাণের পরামর্শ

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, সঞ্চয়পত্র এবং বেসরকারি বন্ডের জন্য পৃথক দ্বিতীয় বাজার বা সেকেন্ডারি মার্কেট তৈরি করতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের বাজার দ্রুত প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক সেমিনারে গভর্নর এসব কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কিছুটা হলেও বাজারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, কিন্তু এটিকে সম্পূর্ণভাবে ট্রেডযোগ্য করে তোলার প্রয়োজন। এর ফলে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন এবং একটি শক্তিশালী সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে, যা বাজারে তারল্য বাড়াবে। একইভাবে, বেসরকারি বন্ডগুলোও লেনদেনযোগ্য করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, যদি একটি সঠিক কাঠামো তৈরি হয়, তবে রাতারাতি বন্ড মার্কেট দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

    আহসান এইচ মনসুর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তহবিলের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি পেনশন ব্যবস্থা, করপোরেট পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বেনেভোলেন্ট ফান্ড—এসবকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর পেনশন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা তহবিল ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করবে।

    সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনা করে তিনি দেখিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি মূলত বন্ড নির্ভর। তার মতে, প্রায় ১৩০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বন্ড ইস্যু হয়েছে, যা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১৩০ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি ব্যাংকিং, সেখানে অন্য আন্তর্জাতিক বাজারগুলো বেশি নির্ভরশীল বন্ডে। তিনি জানান, বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের পরিমাণ প্রায় ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মানি মার্কেট বা নগদ অর্থের বাজারের আকার ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার বিপরীত চিত্র দেখায়। এর পাশাপাশি, দেশের বিমা খাতের জিডিপিতে অবদান অতি নগণ্য, মাত্র ০.৪ শতাংশ।

    গভর্নর আরও বলেন, বাংলাদেশেও যেমন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে একটি সুসংগঠিত বন্ড মার্কেট গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে সরকারি বন্ড বাজারের আধিপত্য থাকলেও, করপোরেট বন্ডের বাজার খুবই ক্ষীণ। এর পেছনে তিনি ব্যাংক ঋণে বেশি reliant হওয়া এবং ঋণ পরিশোধে অসুবিধা বা রাজনৈতিক প্রভাবের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেন।

    সুকুক বা ইসলামি বন্ডের বাজারকেও তিনি ছোট উল্লেখ করে বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি সুকুক ইস্যু হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি দ্রুত এই বাজার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার প্রস্তাব, ইয়ামুনা বা পদ্মা সেতুর মতো আয়-উৎপাদনকারী প্রকল্পের টোল বা রেভিনিউকে ‘সিকিউরিটাইজ’ করে নতুন বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিকল্প খোলা। এর জন্য একটি বিশেষ কার্যকরী বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ে গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

    শেষে, আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। শিগগিরই এই প্রতিবেদনে সুপারিশসহ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে প্রচলিত ও সুকুক ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা থাকবে।