Category: অর্থনীতি

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি: আইএমএফের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি: আইএমএফের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর উদ্যোগের ফলস্বরূপ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবলম্বন করা বিভিন্ন প্রক্রিয়া দেশের বিনিময় হার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তারা নিয়মিত পর্যালোচনা করবে।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক টমাস হেলব্লিং বলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। চলমান বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতির মধ্যে বাংলাদেশের এই সাফল্য উল্লেখযোগ্য।”

    তিনি আরও জানান, আইএমএফের একটি প্রতিনিধির দল এই মাসে বাংলাদেশে অবস্থান করবে। সফরকালে তারা পাঁচ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চলমান ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা করবেন।

    আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা এক বছরের মধ্যে ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

    রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহের বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি, খরচের তুলনায় কম থাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজার থেকে ডলার কেনা হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

    ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়। ওই সময় থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর পরে ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে।

    সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত টাকা মূল্য প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে অর্থবছরে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের বাড়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।

  • সোনার দাম কমলো নতুন দাম ঘোষণা

    সোনার দাম কমলো নতুন দাম ঘোষণা

    দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম কমেল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ভরিতে এক হাজার ৩৯ টাকা কমে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকা। এটি আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। এর ফলে সোনা বিক্রির সময় যুক্ত হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ। তবে গহনার ডিজাইন, মান ও মজুরি পরিস্থিতির উপর এ দাম ভিন্ন হতে পারে।

    প্রথমে গত ২২ অক্টোবর বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করে ভরিতে ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করেছিল। তখন ভরিতে দাম ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির দামের ভরি ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকা। এই দামটি ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর মোট ৬৮ বার দেশের সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ৪৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ২০ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মোট ৬২ বার, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার, আর কমানো হয়েছে ২৭ বার।

  • অক্টোবরের ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ২ বিলিয়ন ডলার

    অক্টোবরের ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ২ বিলিয়ন ডলার

    চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মোট ২০৩ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় মূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৫০ টাকায় হিসাব করে)। এই তথ্য উঠে এসেছে রোববার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে পাঠানো এই রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সরকারের হুন্ডি প্রতিরোধের উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলেই এখন এটি অব্যাহত রয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে প্রায় ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে একটি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, পাঠিয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে পাঠানো হয়েছে মোট ১৪৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, এবং দেশের বাইরে অবস্থিত বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে মোট ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

    অপর দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গোটা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে, আইএমএফের হিসাব অনুসারে, রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    গত মাসে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মোট ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা।

    চালমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭.৫৮ বিলিয়ন), যা দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক। এই পরিমাণ রেমিট্যান্সের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯২,৫৫০ কোটি টাকা, আর এটি আগে থেকেও ১৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৫৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

  • আবার কমলো স্বর্ণের দাম, প্রতিভরিতে ৩৬৭৪ টাকা কমল দাম

    আবার কমলো স্বর্ণের দাম, প্রতিভরিতে ৩৬৭৪ টাকা কমল দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন বাজারে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম আবারো কমে গেছে। বিশেষ করে পাকা বা তেজাবী স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন দামের এই ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

    নতুন নির্ধারিত দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা, যা আগের তুলনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কম। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩৪৯৯ টাকা হ্রাস পেয়ে, নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ঘরোয়া বাজারের মান অনুযায়ী এক ভরি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা, যা আগের চেয়ে ২৯৯৮ টাকা কম। একইভাবে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামের সমন্বয়েও ২৫৫৫ টাকা কমে এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই বৈঠকের পরে, কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের ব্যাপারে জানানো হয়।

    শিল্পের মানদণ্ড অনুযায়ী, উচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম এখন ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ১২৪ টাকা কম। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৭ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগের থেকে ১১৬৭ টাকা কম। ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, যা ৯৯১ টাকা কম। আর সনাতনী পদ্ধতির রূপার দাম কমে ৭৫৮ টাকা, যার ফলে এখন এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্দ ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিলের সিদ্ধান্ত

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্দ ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিলের সিদ্ধান্ত

    বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখন থেকে মন্দ শ্রেণির খেলাপি ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি, ঋণ অবলোপনের পূর্বে কমপক্ষে ৩০ কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা বিষয়টি আগে থেকেই অবগত থাকতে পারেন।

    সম্প্রতি ১৮ ফেব্রুয়ারির পূর্বের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। পূর্বে, টানা দুই বছর ধরে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ গুলোর অবলোপন করা যেত। তবে এখন থেকে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এবং ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই, মন্দ ও ক্ষতিজনক অবস্থায় থাকা ঋণগুলো অবলোপন করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য সুপরিকল্পিতভাবে পুরোনো ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণ অবলোপনের আগে কমপক্ষে ৩০ কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। কারণ, ঋণ অবলোপনের পরও ডাকাতের দায়মুক্তি হবে না; অর্থাৎ, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

    অবলোপন সংক্রান্ত অন্যান্য ধারাগুলিও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত ঋণগ্রহীতার নামে বা তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ ব্যাংক নিজ বিবেচনায় অলোপন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে, মৃত ব্যক্তির পরবর্তী উত্তরসূরি কি অর্থাৎ উপার্জনক্ষম উত্তরসূরি থাকছেন কি না, সেটি கருத்தে রাখতে হবে। এছাড়া, ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ অবলোপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নগদ প্রণোদনা পেতে পারেন। প্রয়োজনে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে এই নীতিমালা তৈরি করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কোনো ঋণ অবলোপনের আগে ব্যাংককে অবশ্যই বন্ধকীকৃত সম্পত্তি বিক্রির সমস্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে, ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩’-এর আওতায় মামলা যোগ্য না হলে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে বা মৃত ব্যক্তির নামে থাকা ঋণের কোনো অঙ্কের ক্ষেত্রে মামলা ছাড়াই ঋণ অবলোপন করা যাবে। অবলোপনের পূর্বে, দেড় লাখ টাকার বেশি সুদ বাদ দিয়ে শ্বাসে থাকা অর্থের সমপরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ঋণ অবলোপনের সুযোগ নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, বলেছেন, আগের তুলনায় ব্যাংকখাতে ডলার সংকট কমে এসেছে এবং রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, মন্দ ঋণের অবলোপনে শিথিলতা আনা ব্যাংক খাতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে এবং তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি: আইএমএফের প্রশংসা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি: আইএমএফের প্রশংসা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়াতে যে সকল প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে, তা দেশের বিনিময় হার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা তারা মনোযোগ দিয়ে পর্যালোচনা করবে।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক টমাস হেলব্লিং সাংবাদিকদের বলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধির পরিকল্পনা আইএমএফের समर्थन পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। চলমান বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতির মধ্যেও বাংলাদেশ এই লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, আইএমএফের একটি দল এই মাসেই বাংলাদেশে আসবে। সফরকালে তারা পাঁচ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চলমান ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা করবে।

    আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এসেছে ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার—এটি বেশিই বৃদ্ধি।

    রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের উন্নতি, ব্যয়ের তুলনামূলক কম থাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজার থেকে ডলার কেনাকাটা।

    2021 সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে যে, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে বর্তমানে পর্যন্ত টাকার মান প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমান অর্থবছরে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ডলার কিনেছে।

  • সোনার দাম ফের কমলো দেশের বাজারে

    সোনার দাম ফের কমলো দেশের বাজারে

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একতরফাভাবে ভরিতে এক হাজার ৩৯ টাকা করে মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। এই নির্ধারিত দাম আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম হবে ২ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য ক্যারেটের দামও কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭০ হাজার ১৪৩ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে বরি (প্রতিটি ভরি) সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৯৬ টাকায়।

    বাজুসের দাবি, এই দাম নির্ধারণের সময় বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ব্যাপারে মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    এর আগে, ২২ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা। সেই সময়ের অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকা। এই দাম ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।

    অতীতে, এই বছর মোট ৬৮ বার সোনার বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, এবং মাত্র ২০ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম পরিবর্তন হয়েছে, যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৭ বার দাম কমানো হয়েছিল।

  • অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসী আয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসী আয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশি দেশের জন্য পাঠিয়েছেন মোট ২০৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিমাণের অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার জোগাড়ে ১২২.৫০ টাকাই ধরে নেওয়া হয়েছে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো প্রবাসী আয়ের ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগ, যেমন হুন্ডি প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি এই সাফল্যের মূল কারণ বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, এর মধ্যে একটি ব্যাংক (কৃষি ব্যাংক) পাঠিয়েছে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো পাঠিয়েছে ১১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

    এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২২ অক্টোবর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ মাত্রা ছিল ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    গত মাসে (সেপ্টেম্বর), প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশ পাঠিয়েছেন ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২,৭৫৭ কোটি টাকা।

    অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অংক। এই পরিমাণ পূর্বের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

  • আবার কমলো স্বর্ণের দাম, প্রতি ভরি ৩৬৭৪ টাকা হ্রাস

    আবার কমলো স্বর্ণের দাম, প্রতি ভরি ৩৬৭৪ টাকা হ্রাস

    দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আবার কমানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা স্বর্ণের দাম হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম কমে হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। একই সময়ে রূপার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নিশ্চিত করেছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দামের এখন রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কেটেছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ফলে নতুন দাম হলো ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে ২ হাজার ৯৯৮ টাকা, ফলে এখন এটি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকায়। একইসঙ্গে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম কমেছে ২ হাজার ৫৫৫ টাকা, এখন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪১ টাকা।

    এর আগে, সোমবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং আলোচনা শেষে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    অন্যদিকে, ভালো মানের ২২ ক্যারেট রূপার জন্য নির্ধারিত দাম কমে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, যা আগে ছিল বেশি। ২১ ক্যারেট রূপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৪৭ টাকা। ১৮ ক্যারেট রূপার দাম এখন ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, যা আগের থেকে কম। আর সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম কমে হয়েছে ২ হাজার ৬০১ টাকা, যা আগে ছিল বেশি।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের মন্দ ঋণের অবলোপনে সময়সীমা শিথিল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মন্দ ঋণের অবলোপনে সময়সীমা শিথিল

    বাংলাদেশ ব্যাংক মন্দ খাতের খেলাপি ঋণগুলো অবলোপনে নতুন নির্দেশনা জারি করে সময়সীমা শिथিল করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ অবলোপনের প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে এবং এটি তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও বাস্তবভিত্তিক করে তুলবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্দ বা ক্ষতিগ্রস্ত মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো অবলোপন করার জন্য এখন অতীতের মতো দুই বছরের পরিবর্তে আরও নমনীয় শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা ভবিষ্যতেও আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ, এমন ঋণগুলোও অবলোপন করা যাবে। একই সঙ্গে, অবলোপনের আগে কমপক্ষে ৩০ কর্মদিবস আগে ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে ঋণগ্রহীতারা তাদের দায়মুক্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে, ঋণ অবলোপনের পরও, যদি পুরো অর্থ পরিশোধ না করেন, তবে তিনি এখনও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত থাকবেন।

    নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নামে বা তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ ব্যাংকের বিবেচনায় অবলোপন করতে পারবে, তবে মৃত ব্যক্তির উত্তরসূরি উপার্জনক্ষম কিনা তা অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, অবলোপনকৃত ঋণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন হলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া যাবে।

    বিমান ব্যাংক বলছে, ঋণ অবলোপনের আগে সম্পত্তি বিক্রি করার সমস্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং আইনি পদক্ষেপও নিতে হবে। তবে, কিছু ঋণের ক্ষেত্রে—যেমন পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা মৃত ব্যক্তির নামে থাকা ঋণ—মামলার প্রয়োজন নেই। অবলোপনের আগে, ঋণের স্থিতি থেকে সুদ বাদ দিয়ে মূল অর্থের সমপরিমাণ প্রভিশনও সংরক্ষণ করতে হবে।

    এছাড়া, নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সুযোগ নেই।

    একশীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ডলার সংকট কমে যাওয়ায় রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ছে এবং তারা মন্দ ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনায় তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এতে ব্যাংক খাতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুসংহত হবে।