Category: অর্থনীতি

  • দেশে-বিদেশে ৬৬,১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশে-বিদেশে ৬৬,১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশে মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বিদেশে প্রায় ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিসহ মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করে। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নতুন নীতি প্রণয়ন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-র কিছু ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধন করা হবে। এছাড়াও, আটটি অগ্রাধিকার কেসের জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে এই কেসগুলোর মধ্যে ১০৪টি মামলা দাখিল করা হয়েছে, ১৪টি মামলার চার্জশিট জমা হয়েছে এবং চারটি মামলায় আদালত রায় দিয়েছেন। এছাড়াও, দেশের সম্পদ হিসেবে ৫৫,৬৩৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশের ১০,৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কেসের জন্য ২১টি এমএলএআর (মউলচুয়াল ল সফট) অনুরোধ অন্যান্য দেশের কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, এমএলএআর পাঠানো এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি) কর্তৃক আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে চতুর্থ মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থানের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সভাতে অংশ নেন ব্যাংক, সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএফআইইউ, ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • সোনার দাম আরও আকাশছোঁয়া, দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

    সোনার দাম আরও আকাশছোঁয়া, দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড

    দেশের বাজারে তৃতীয় দফায় আরও বৃদ্ধি পেলো সোনার দাম। ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা করে যোগ করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ক্যারেটের সোনার। এখন একটি ভরি (প্রায় ১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগামী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে এই নতুন দাম।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা দেশি সোনা কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ সামারিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হয়েছে।

    এর আগে, ১৫ ডিসেম্বর দফায় দফায় দেশের সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ১ হাজার ৪৭০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা।

    নতুন দাম অনুযায়ী, এখন দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এর পাশাপাশি অন্য ক্যারেটের দামের মধ্যে দেখা যাবে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়। এছাড়া আরও অন্যান্য ক্যারেটের দাম এরকম: ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।

  • রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খাদ্য নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের বাজারে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে সরকার বড় ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-আচরণ এবং চাহিদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের হার ৪০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খেজুরের আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিকে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জারি হয় এবং এটি আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এছাড়াও, বাজেটে আলাদা করে অগ্রিম আয়কের বিধিমালা সংশোধন করে, যেসব ফল বা খেজুরের মতো আদর্শ খাদ্য আমদানিতে আগের ১০ শতাংশের অগ্রিম আয়করণ ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে, গত বছর যেখানে অগ্রিম আয়করে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা এই বছরও বহাল রাখা হয়েছে।

    এনবিআর বলছে, এই শুল্ক ও অগ্রিম আয়করে ছাড়ের ফলে রমজানে খেজুরের আমদানিতে বাড়তি সেবা পাওয়া যাবে, যার ফলে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে তারা আশা করছে।

    বিশেষ করে, রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ হিসেবে খেজুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভোক্তাদের পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার সম্ভাবনা জানুয়ারি থেকে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমার সম্ভাবনা জানুয়ারি থেকে

    অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মূল প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অনুমোদন পেলে আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে। সূত্র জানান, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে একুশে শতকের কাছাকাছি শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কমানোর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাংকাররা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর দাবি জানিয়েছেন। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অল্প পরিমাণে বিনিয়োগে উচ্চতর মুনাফা এবং বৃহৎ বিনিয়োগে কম মুনাফা নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, ৭৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে বেশি মুনাফা দেওয়া হবে, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার কম থাকবে। গত ৩০ জুন সরকারের দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে গড়ে একটু কম মুনাফা ঘোষণা করা হয়েছিল। ছয় মাস পরে আবার সেই হার পুনরায় নির্ধারণের কথা জানানো হয়। এই ছয় মাসের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি করা হবে। জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এই হার গত ১ জুলাইয়ের আগে ১২ শতাংশের বেশি ছিল। অন্যদিকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে অনুরূপ বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে যথাক্রমে ১১.৮৩ ও ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে হার ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাবেও একই হার চালু রয়েছে। তবে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার পরিবর্তন আসছে না। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকায় বড় অঙ্কের অর্থ সরকারি খাতে চলে যায়। হার কিছুটা কমলেও সেই অর্থ ব্যাংকিং খাতে প্রবাহিত হবে, যা ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে, যা গত অর্থবছরে ঋণাত্মক ছিল। জানা গেছে, অক্টোবরের শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।

  • দেশের এবং বিদেশে মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশের এবং বিদেশে মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থের উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশে মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিসহ মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভার পরে, যা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের জন্য নীতিমালা ও কার্যক্রম একত্রীকরণ ও উন্নত করা। সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় দেশের বাহিরে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার কাজে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর কিছু ধারা আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংক থেকে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংক থেকে

    চলতি ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছ। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে দেশের বাইরে থেকে আগত ডলারশব্দে উদ্বৃত্তের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সমাধানে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার (গতকাল) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৪ কোটি ডলার সংগ্রহ করে।

    মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে। এখনও পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ডলার সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন বা ২.৮০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানা যায়, চলমান ডিসেম্বর মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে দেশে প্রায় ১২৯ কোটি ডলার প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এ বছর প্রবাসী আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অপরদিকে, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই অর্থবছরে মোট ১৪৩৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১২২৩ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে দেশের প্রবাসী আয় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং খাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবাহ বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করছে।

    এছাড়াও, সম্প্রতি সমাপ্ত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশি প্রবাসীরা প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

  • ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আবার কমবে, নতুন পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন

    ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আবার কমবে, নতুন পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন

    অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব এখন অর্থ ঋণ উপদেষ্টার অনুমোদনের অপেক্ষায়, যা পাবার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন হার কার্যকর হতে শুরু করবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করবে।

    আন্তর্জাতিক এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। বর্তমান সময়ে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখনো কেউ এই প্রস্তাবটি তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে চেহেASHINGTONনি ব্যাংকাররা কিছুটা হারের কমানোর পক্ষে। সরকার সঠিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেবে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফা কিছুটা বেশি এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম হবে। যেমন, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা এর কম বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করা হবে, আর বেশি বিনিয়োগ করতে হলে হার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    এদিকে, গত ৩০ জুন সরকারই অপ্রতিহতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ ও তার পরিবর্তন শুরু করে। সে সময় গড়ে মুনাফা কিছুটা কমিয়ে ঘোষণা করা হয়। এরপর ছয় মাসের জন্য তার হার পুনরায় নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল, যা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে।

    আইআরডির সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান বলেন, এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, অর্থ বিভাগের সুপারিশ এলে পরিপত্র জারি করা হবে।

    জনপ্রিয় পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের বর্তমান হার, যেখানে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরে ১১.৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এর আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্র, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের হিসাবেও একই হার বহাল থাকছে।

    অন্যদিকে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং সাধারণ ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

    বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের সংগঠনের নেতা আবদুল হাই সরকার উল্লেখ করেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ হারের কারণে বৃহৎ বিনিয়োগমূল্য এই টাকা সরকারি খাতে প্রবাহিত হয়। হার কমলে সরকারী অর্থব্যয় ও ব্যাংকিং খাতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা ঋণ প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার মোট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করেছে। বছরের শুরুতে এই সংখ্যা ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্রে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার মতো।

  • দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভাঙল সোনার দাম

    দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড ভাঙল সোনার দাম

    দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফায় সোনার দাম বৃ agricultural ধ হয়েছে। ভরি প্রতি ১,০৫০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ক্যারেটের সোনার জন্য, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। নতুন দাম কার্যকর হবে আগামী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে।

    বাজুস বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কিছুটা কমে গেছে। এই প্রভাব বিবেচনা করে তারা নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এর আগে, ১৫ ডিসেম্বর দেশের বাজারে দ্বিতীয় দফায় সোনার দামে পরিবর্তন আনা হয়। তখন ১,৪৭০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টা টাকা।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এখন দাঁড়াবে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য দাম পড়ছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির (পুরোনো ধাঁচের) সোনার প্রতি ভরি দাম রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা।

    যদিও সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার প্রতি ভরি বিক্রির দাম ২ হাজার ৭৯৯ টাকা।

  • রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বড় ধরনের এমানদারি করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আবেগ ও চাহিদাকে সম্মান জানিয়ে খেজুরের আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিকে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা থাকবে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

    এছাড়াও, বাজেটে উল্লেখ করা হয়, আমদানি অ্যান্ড অগ্রিম করের বিধিমালা সংশোধন করে, খেজুরসহ অন্যান্য ফলের আমদানি ক্ষেত্রে অগ্রিম করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত বছর যে ৫০ শতাংশ অগ্রিম করের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে।

    এনবিআর বলছে, এই শুল্ক ও করের ছাড়ের ফলে রমজানে খেজুরের আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হবে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর ফলে খুচরা বাজারে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

    রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে খেজুরের চাহিদা অনেক বাড়ে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভোক্তাদের উপকারের পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে

    চলতি ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ (গতকাল, সোমবার) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৪ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে।