Category: অর্থনীতি

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই অঙ্কে দেশের মুদ্রায় পরিণত করলে হয় প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকাসহ)। এটি এখন পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এটি ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার এই হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ পৌঁছেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা মোট ৩১ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার, আর এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা কর্মসূচি ও ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতিতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আরও স্থিতিশীল হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রেরণা ছিল যথাক্রমে: জুলাইতে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    গোটা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে। ওই অর্থবছরের শেষে দেশে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে আবারও সোনার মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। এই প্রথম দিনের ঘটনায়, বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের সর্বোচ্চ মানের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে এই ধরনের সোনার নতুন মূল্যে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দামের পরিবর্তনের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম কার্যকর হবে শুক্রবার, ২ জানুয়ারি থেকে।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এর পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার মূল্যও নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আসতে হবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত 6 শতাংশ মূল্য সংযোজন। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন, ভরিতে ২৭৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের প্রকারের মূল্য ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বাড়ানোর সংখ্যা ছিল ৬৪ বার এবং কমানোর ছিল ২৯ বার।

    এছাড়া, রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের জন্য দাম যথাক্রমে, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    এটি ছিল দেশের বাজারে প্রথম রুপার দাম সমন্বয়। গত বছর, রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনল

    চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের বা রেমিট্যান্সের মাত্রা খুবই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিপুল অর্থের প্রবাহের কারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত পরিমাণে ডলার জমা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিদেশি মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে। সম্প্রতি এই ধারাবাহিক ক্রমে রোববার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ডলার কিনতে মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অংশ নেয়। ওইদিনের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল

    সরকার সম্প্রতি আবারও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় পরিকল্পনাগুলোর মুনাফার হার হ্রাস করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য হলো, গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এছাড়াও, নতুন আদেশের ফলে বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে। কম বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পাবেন, যেখানে লভ্যাংশের হার বেশি হবে; আর বেশি বিনিয়োগে কম হারে মুনাফা দেওয়া হবে। এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এর নিচে থাকলে মুনাফা বেশি হবে এবং এর বেশি হলে কম হবে।

    বিশেষ করে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগের মতো, এ সঞ্চয়পত্রে ৫ বছরের মেয়াদ শেষে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ, যা এখন কমে ১০.৫৪ শতাংশ হয়েছে। আর, একই মেয়াদে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে এটি ছিল ১১.৮০ শতাংশ; এখন তা কমে ১০.৪১ শতাংশ।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও এই হার হ্রাস পেয়েছে। কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ বছরে মুনাফা ছিল ১১.৯৮ শতাংশ, এখন তা ১০.৫৯ শতাংশ। বেশি বিনিয়োগে হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, সেটিও এখন কমে ১০.৪১ শতাংশ।

    বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের জন্যও একই পরিবর্তন হয়েছে। কম বিনিয়োগে (৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে) মুনাফার হার এখন ১০.৪৪ শতাংশ, যেখানে আগে ছিল ১১.৮৩ শতাংশ। বেশি বিনিয়োগে হার এখন ১০.৪১ শতাংশ, আগে ছিল ১১.৮০ শতাংশ।

    অতিরিক্ত, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মুনাফার হারও কমে গেছে। কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন মুনাফা হবে ১০.৪৮ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০.৪৩ শতাংশ।

    উল্লেখ্য, ১ জুলাই ২০২৫ সালের আগে জারি হওয়া সমস্ত জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য এই হার প্রযোজ্য থাকবে। তবে পুনরায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, পুনরায় বিনিয়োগের তারিখের হার অনুযায়ী মুনাফা দেওয়া হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে পরবর্তী হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

  • টানা আট দফা বৃদ্ধির পরে সোনার দাম কমলো

    টানা আট দফা বৃদ্ধির পরে সোনার দাম কমলো

    বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘ চার মাসে টানা আট দফা সোনার দাম বৃদ্ধির পর অবশেষে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বাজুসের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর সোনার মূল্য কমে এসেছে। সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির সোনার দাম হবে: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন এবং মানের ভিন্নতা অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন আসতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগের দিন ২৮ ডিসেম্বর বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করে ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা — এটি ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ૯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল।

    বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, চতুর্থাংশ বছর (২০২৩) মধ্যে মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২, যেখানে ৩৫ বার দাম বৃদ্ধি ও ২৭ বার দাম কমানো হয়েছে।

    অন্যদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছরে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে ও ৩ বার কমেছে। বিগত বছরে এই সমন্বয় ছিল ৩ বার।

  • বছরের প্রথম দিনে সোনার দাম ভরিতে কমলো ১৪৫৮ টাকা

    বছরের প্রথম দিনে সোনার দাম ভরিতে কমলো ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছর শুরুর দিনে দেশজুড়ে আবারও কমেছে সোনার দাম। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম কমে গেছে ১,৪৫৮ টাকা। এর ফলে এখন এই মানের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২২২,৭২৪ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বেশি মানের সোনার দাম কমার ফলে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম ২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে সোনার মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রয়মূল্য হবে ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যতে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

    গত বছর ৩১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস, যেখানে ভরি প্রতি ২,৭৪১ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের মূল্যে ২ লক্ষ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল। অন্যান্য ক্যাটাগরিতে দাম ছিল: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা। এ দাম ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    বছর ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছে।

    এদিকে, এবার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও হ্রাস করা হয়েছে। ভরি প্রতি ৫২৫ টাকা কমিয়ে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের রুপার দাম হল: ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এটি দেশের বাজারে প্রথম রূপার দাম সমন্বয়। এর আগে, গত বছর ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বাড়ানো হয় ১০ বার ও কমানো হয় ৩ বার।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে গণনা)। এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের পরিমাণ। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সে ছিলো ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সে বৃদ্ধি হয়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার। এ সময়ে মোট রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পরিমাণ ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    গত অর্থবছর, ২০২৪-২৫ সালে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওই বছর দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখতে পাওয়া গেছে, যার কারণে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডলার কিনে যাচ্ছে। রোববার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যা মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি ডিসেম্বর মাসে তারা মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। এভাবে মোট এখন পর্যন্ত এই অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩,৫৬০ মিলিয়ন বা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, এই মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন মোট ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময় দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১,৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৩১২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতিতে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও স্বস্তিতে রয়েছে।

    অন্তঃত গত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের জন্য ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই পরিমাণ অর্থের বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

  • টানা ৮ দফা বৃদ্ধির পর সোনার দাম কমল

    টানা ৮ দফা বৃদ্ধির পর সোনার দাম কমল

    বাংলাদেশের বাজারে গত কিছুদিনে টানা আট দফা সোনার দাম বাড়ার পর অবশেষে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে, দেশের অন্যতম জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দামে সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    আজ (২৯ ডিসেম্বর) সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশের তেজাবি বা পিওর গোল্ড (নাজিরা) মূল্য কমেছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দামের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির (প্রাচীন নিয়ম) ভরিতে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সোনার বিক্রয়মূল্য সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নিয়মানুযায়ী ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করে বিক্রি করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

    এর আগে, ২৮ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম আরও ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করে বাজুস, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। সেই সময় দামের ঘোষণা হয় ২৯ ডিসেম্বর থেকে। আগের দামের মধ্যে ছিল ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। ২০২৪ সালে এই সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার; এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ৩৫ বার এবং কমেছিল ২৭ বার।

    অপরদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হয় ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের জন্য রুপার দাম প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দামের সমন্বয় হয়েছে ১৩ দফায়, এর মধ্যে ১০ দফা বেড়েছে এবং ৩ দফা কমেছে। এর আগে, গত বছর রুপার দাম মাত্র ৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।

  • বছরের শুরুতেই সোনার ভরির দাম কমল ১৪৫৮ টাকা

    বছরের শুরুতেই সোনার ভরির দাম কমল ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে, এখন থেকে একটি ভরি সোনার নতুন দাম হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    এই দাম নির্ধারণের জন্য স্থানীয় বাজারে নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মূল্যসমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহিনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

    নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন প্রতিভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের মানের জন্য মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য প্রতিভরি হলো ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সোনার বিক্রির মূল্যে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনা ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

    অন্যদিকে, এর আগে ২০২২ সালের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, বাজুস দেশে সোনার দাম সমন্বয় করে ভরে ছিল। সেদিন, অবিশ্বাস্যভাবে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়—আরো ২৭৪১ টাকা কমানো হয়েছিল।

    সেবার অন্যান্য মানের জন্য দাম ছিল ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা। এই দামগুলো কার্যকর হয়েছিল ১ জানুয়ারি থেকেই।

    বাজুসের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়, আর ২৯ বার দাম কমানো হয়েছে।

    এছাড়া, সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও কমন দেখা গেছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এটি দেশের বাজারে প্রথম রুপার দাম সমন্বয়। গত বছর, দেশের বাজারে রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তিত হয়েছিল, যেখানে বাড়ানো হয় ১০ বার ও কমানো হয় ছিল মাত্র ৩ বার।