Category: অর্থনীতি

  • একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় লাফ

    একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় লাফ

    বাংলাদেশে একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়েছে যে, দেশের বাজারে প্রতি ভরির সোনার মূল্য সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, উচ্চমানের সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

    বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। সংগঠনটির মতে, বিশ্ববাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্যও বেড়েছে।

    বিশ্ববাজারের ধাপগুনে স্বর্ণ ও রুপার দামের পরিবর্তন অনুযায়ী জানা যায়, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন ৪ হাজার ৪৪৫ ডলার। এই দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরির স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। অন্য কেরেটের স্বর্ণের দাম হলো— ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্যদিকে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য পূর্বের তুলনায় বাড়ে ৫ হাজার ৯২৫ টাকায়। তদ্ব্যতীত, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য হয় ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা যোগসাজশে এলপিজির (সংকোচে লিপিজি) দাম বাড়িয়েছেন। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

    উপদেষ্টা বলেন, কিছু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির জন্য সুযোগ নিচ্ছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেট্রোবাংলার মূল্য সূচক অনুযায়ী বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) ৫৩ টাকার পরিবর্তে আরো বেশি দামে বিক্রি করছে। এ অবস্থায় তারা দামের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই কারসাজি বন্ধ করতে উদ্যোগ করবেন।

    তিনি আরও জানান, গতকাল অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি উঠে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই সরকার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এই অপ্রয়োজনীয় দামের অস্বাভাবিকতা বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    এ বিষয়ে তিনি বললেন, মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে এই কারসাজির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়ে আনছে সরকার। নতুন এই হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০.৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার হবে ৮.৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেও মুনাফার হার হ্রাসের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হচ্ছে। বিনিয়োগের পরিমাণ যত কম, ততই বেশি মুনাফার হার পাবেন বিনিয়োগকারীরা; আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার কিছুটা কমে যাবে। বিনিয়োগের সীমা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সীমার নিচে বা সমান পরিমাণ বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি হবে, আর এর বেশি হলে কমে যাবে।

    নতুন মুনাফার হার অনুযায়ী, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে চলতি নিয়মে ৫ বছরের মেয়াদ শেষে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ; এখন তা কমিয়ে ১০.৫৪ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, সেটাও কমে ১০.৪১ শতাংশ হয়েছে।

    পেনশনধারী ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, ৫ বছর পর বিনিয়োগের মুনাফা ছিল ১১.৯৮ শতাংশ; এখন তা ১০.৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে, যাদের ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের জন্য মুনাফার হার এখন ১০.৪১ শতাংশ।

    বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ৫ বছরের মেয়াদের জন্যও মুনাফার হার কমানো হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে এই হার ছিল ১১.৮৩ শতাংশ, এখন তা ১০.৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি, এই বিনিয়োগের জন্য আগের হার ছিল ১১.৮০ শতাংশ, এখন তা ১০.৪১ শতাংশে উন্নীত।

    তথাপि, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে আগের তুলনায় মুনাফার হার কমে গেছে। ওই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার আগে ১১.৮২ শতাংশ ছিল, এখন তা ১০.৪৮ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, আগে হার ছিল ১১.৭৭ শতাংশ, এখন কমে ১০.৪৩ শতাংশ হয়েছে।

    এছাড়াও, ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু করা সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য, ইস্যুকালীন মেয়াদে তখনকার মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন হার ওই তারিখের হারই কার্যকর থাকবে। তবে, ছয় মাস পর পর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারিত হবে।

  • টানা আট দফা বৃদ্ধির পরে সোনার দাম কমলো

    টানা আট দফা বৃদ্ধির পরে সোনার দাম কমলো

    দেশের বাজারে দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পর বাংলাদেশ সরকার সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার জন্য ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন এই দাম কার্যকর হবে আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামে দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম নিচের মতো নির্ধারিত হয়েছে: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ উন্নান ১৯৫৬ ৫৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    অতিরিক্তভাবে, বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারি ধার্য ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ২৮ ডিসেম্বর বাজুস সোনার দাম আবারো সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়িয়েছে ৬৪ বার, কমিয়েছে ২৮ বার। চলতি বছর ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে ও ২৭ বার কমেছে।

    বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, দাম কমেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের দাম: ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ বার দাম কমানো। গত বছর শুধুমাত্র ৩ বার রুপার দাম সমন্বয় হয়।

  • বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৪৫৮ টাকা

    বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছরের শুরুর দিন দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম কমেছে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা, যার ফলে নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এই দাম পরিবর্তনটি দেশের জুয়েলার্স ও স্বর্ণবাজারে নতুন মূল্য হিসেবে কার্যকর হবে আজ থেকেই।

    অতীতে, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে সোনার বর্তমান দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ওই কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।

    নতুন নির্ধারিত দামে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের ভরির দাম হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই দামেব সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে এই মজুরির পার্থক্য থাকতে পারে।

    উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর, দেশের স্বর্ণ বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা মূল্য হ্রাস করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। অন্য শাখায়, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    বর্তমানে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বাড়ানো হয়েছে, আবার ২৯ বার কমানো হয়েছে।

    এছাড়াও, এই প্রথমবারের মতো দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হলো। ধοι ভরিতে ৫২৫ টাকা মূল্য হ্রাস করে ভরির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিতে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এটি দেশের বাজারে প্রথম রুপা দামের সমন্বয়। গত বছর, দেশের স্বর্ণ বাজারে ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১০ বার এবং কমানো হয়েছিল ৩ বার।

  • ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে দেশের বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। দেশের হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকার হিসাব অনুযায়ী)। এই হিসেবে এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্যসমৃদ্ধ হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তুলনায় দেখতে গেলে, আগের অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা প্রায় ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার, যা এই সময়ের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল এভাবে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর থেকে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল নতুন রেকর্ড—এটি মোট ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। সেই অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পরিবর্তন বাতিল, আগের হারই বহাল থাকবে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পরিবর্তন বাতিল, আগের হারই বহাল থাকবে

    সরকার সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের হারগুলোকে পুনরুদ্ধার করেছে। এতে রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এর মাধ্যমে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে মুনাফা দেওয়া হচ্ছিল, আগামী ছয় মাসও সেই একই হার বজায় থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার প্রথমে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, কিন্তু সমালোচনার দীর্ঘ সুরে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তারা আগের হারগুলোকে কার্যকর রাখে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যারা মূলত সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই হার গুরুত্বপূর্ণ।

    জানা যায়, রোববার অফিস খুলার পর উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং নতুন করে আগের হারগুলোকে কার্যকর করতে অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কীমে পুরোনো হারগুলি বহাল রাখা হয়েছে। এসব স্কীমে নির্ধারিত সর্বোচ্চ বিনিয়োগ amount হলো ৫০ লাখ টাকা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা কম মুনাফা দেওয়া হয়, তবে মূলত সবকিছুরই হার আগের মতোই থাকবে।

    বিশেষ করে পরিবার সঞ্চয়পত্রে, যেখানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচবছর মেয়াদ পূর্ণ হলে Mুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ, এবার সেটি পুনরায় ১০.৪৪ শতাংশে নামায়। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে ১০.৪১ শতাংশে ফিরে এসেছে। এর ফলে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই স্থায়ী থাকবে।

    এছাড়াও, গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে সঞ্চয়পত্রের হার ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে। ৫ বছর ও ২ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সর্বশেষ নিলামের ভিত্তিতে গড়ে উঠা সুদ হার এই হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও সম্প্রতি হ্রাস পায়। প্রাথমিকভাবে এই হার পরিবর্তনের ঘোষণা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের জন্য বলেছিল সরকার।

    প্রধানভাবে, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তারা বিপদের সময় এই সঞ্চয় ভাঙেন, আবার নিজেদের মাসিক খরচ মেটানোর জন্য এই থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি বাহ্যত ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকায়, এসব বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষজনের জন্য এই হারের অবনমন উপকারী নয় বলে মতামত রয়েছে।

  • টানা ৮ দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমলো

    টানা ৮ দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমলো

    বিশ্ব বাজারের প্রভাব এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সোনার দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বলেছে, টানা আট দফা মূল্য বৃদ্ধির পরে এবার তারা সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    মাননীয় বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে এ পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়, এবং আগামী মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত চাহিদা কিছুটা স্বাভাবিকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। খবরসূত্র জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে, যা বিশ্বের পরিস্থিতির প্রতিফলন।

    নতুন দামে দেশের বাজারে ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হবে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির বা পুরানো ধরনের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোনার বিক্রয়ের সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা এবং মান অনুযায়ী এই মজুরিতে তারতম্য হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২৮ ডিসেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা করে ছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। এছাড়াও, তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

    এখন পর্যন্ত চলতি বছরে মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২ বার; দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

    অপরদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম স্থির রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ধরা হয় ৫ হাজার ৮৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির টাকা ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ বার কমানো। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ বার।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    চলতি বছর বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোতে বেশ কিছু পরিমাণ ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফেরাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডলার কিনতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে রোববার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলার বিক্রির রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বর মাসে তারা মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন।
    আরেকদিকে, ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রবাসী আয় প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    অর্থাৎ, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চলতি অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১,৫২১ কোটি ডলার যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৩১২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়ছে।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
    অন্যদিকে, গত নভেম্বর মাসে দেশত্যাগী প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার রাখা হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, এ হার আবারও কমানো হয়েছে গত জুলাই মাসেও।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার বেশি থাকছে, অর্থাৎ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বা তার কম বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার বেশি হবে। আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে।

    বিশেষ করে, এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে। এই সঞ্চয়পত্রে, পূর্বে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মেয়াদকাল শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। আবার, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন থেকে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে পরিবর্তিত হয়েছে।

    পাঁচ বছরের মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হারে পরিবর্তন এসেছে। এখানে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ; আগে ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর, বেশি বিনিয়োগের জন্য, মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন সেটা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

    আরো জানিয়ে গেলে, তিন মাসের ভেতরে মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে, মুনাফার হার কমে এসেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে, মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আগে ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এখন তা পড়ে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে।

    আগামী ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ক্ষেত্রে, সেই সময়ে নির্ধারিত মুনাফার হারই কার্যকর থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন তারিখের মুনাফার হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে আবারো মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।