Category: অর্থনীতি

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমাল সরকার

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমাল সরকার

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার পুনরায় কমানো হলো। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার সেটি হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মুনাফার হার নির্ধারিত হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে গত জুলাই মাসেও এই হারগুলো কমানো হয়েছিল।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    নতুন নির্দেশনায় দেখা গেছে, বিনিয়োগের অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে। কম বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পাবেন, যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম হলে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে। অন্যদিকে, এই সীমার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে যাবে।

    বিশেষ করে, পরিবার সঞ্চয়পত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় সঞ্চয়পত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আগে যেখানে ৫ বছর মেয়াদে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, এখন তা হ্রাস পেয়ে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার পূর্বের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। যেখানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের পরে ৫ বছর পর মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আর, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার পরিবর্তিত হয়নি; পূর্বের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

    এছাড়া বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাতেও মুনাফার হার কমানো হয়েছে। যেখানে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগ হলে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একইভাবে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

    সর্বশেষ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মুনাফা কমে যাবে। যেখানে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ, এখন সেটি ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে হার পরিবর্তিত হয়ে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    সবশেষে জানানো হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৫-এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য এই নতুন হার প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুনের পরিবর্তে পুনর্বিনিয়োগের তারিখে নির্ধারিত হারই কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি, পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নতুন হার পুনর্নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করে), যা নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর আগে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই অর্থবছরে রেমিট্যান্সে অনেক বৃদ্ধি হয়েছে, যা প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বা ৩১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে মোট ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং চ্যানেল উন্নত করার ফলেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরায় ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের রেকর্ড বৃদ্ধি দেখা গেছে। ওই অর্থবছরের শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • সোনার দামে রেকর্ড পরিমানে বৃদ্ধির হালচাল

    সোনার দামে রেকর্ড পরিমানে বৃদ্ধির হালচাল

    দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সবচেয়ে মূল্যবান মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা, যার ফলে এই দামের সর্বমোট value এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এই নতুন দাম দেশের বাজারে আগে কখনো দেখা যায়নি। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রোববার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    শনিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরে, কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

    আগে গত ২৪ ডিসেম্বর সবচেয়ে মূল্যবান মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছিল।

    আশাকর্মে, এই সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধির ফলে, ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম একবারে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এই চার দিনের মধ্যে দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে, সোনার বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, যা আগে থেকে ১ হাজার ৫১৭ টাকা বেড়ে গেছে। ১৮ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি ১ হাজার ২৮৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনা প্রতি ভরি ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর, প্রথমে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দাম পৌঁছায় ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায়। একই দিন, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকায় পৌঁছায়। ১৮ ক্যারেটের সোনা ৩ হাজার ৪৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ টাকায় বিক্রি হয়, আর সনাতন পদ্ধতির সোনা ২ হাজার ৯১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকায় বিক্রি হয়। এই দাম কার্যকর হয় এবং আজ শনিবার পর্যন্ত এই দামে সোনা বাজারে বিক্রি হয়েছে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটা সুসংবাদ। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার এ প্রবাহের ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা না হয়। রোববার, তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এ ক্রয়ে ডলারের বিপরীতে এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই মাসে, ডিসেম্বরের প্রথম থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। এখন পর্যন্ত চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট ডলার কিনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৫৬০ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই মাসে ১ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর এ সময় প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছরজুড়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ। এই সময়ের মধ্যে, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে, দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। এর মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডির প্রতিরোধ, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নতির কারণে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সুস্থির রাখতে সাহায্য করছে। সর্বশেষ, নভেম্বর মাসে, প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের জন্য মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। এই সব তথ্য দিয়ে বোঝা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী ও স্থিতিশীল থাকায় অর্থনীতিতে স্বস্তির পরিবেশ বজায় রয়েছে।

  • পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আর নেই

    পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আর নেই

    পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শামশাদ আখতার। তিনি দুই দফা তত্ত¡াবধায়ক সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। শনিবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং পুঁজিবাজারের মূল ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, এরপর ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ত্যাগের প্রশংসা করে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সততা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলে গেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি পাকিস্তানের এক বিশিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন ইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেছেন। হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া এবং করাচি ও ইসলামাবাদে শিক্ষাজীবন заверш করা শামশাদ আখতার পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স এবং যুক্তরাজ্যের পেইসলি কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুতে দেশের স্টক মার্কেট ও অর্থনীতি গভীর শোকাহত।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেল

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত মুনাফার হার আবারও হ্রাস পেয়েছে। নতুন নির্দেশনায় জানা গেছে, এবার সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, এবং সর্বনিম্ন হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে গত জুলাই মাসে ও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা অপ্রতিহতভাবে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনায় উপরন্তু বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে। কম বিনিয়োগে (৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা কম) মুনাফার হার বেশি থাকছে, আর বেশি বিনিয়োগে হার কমে আসছে।

    প্রথমত, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে, পাঁচ বছরের মেয়াদে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের জন্য পূর্বে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার পূর্বের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল, এখন সেটি কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হ্রাস চলেছে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার পূর্বে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল, এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে। আর, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীর জন্য পূর্বের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারিত।

    বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের পাঁচ বছরের মেয়াদেও মুনাফার হার কমেছে। এ ক্ষেত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকত, এখন তা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আরও, বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার পূর্বে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল, তা এখন ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার কমে গেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার পূর্বের ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    উল্লেখ্য, ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য তারা চলমান মেয়াদের হিসাবেই এই হার কার্যকর থাকবে। আবার, পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে, সেই তারিখের হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে যথাযথভাবে নতুন হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

  • টানা দফা বাড়ানোর পরে সোনার দাম কমলো

    টানা দফা বাড়ানোর পরে সোনার দাম কমলো

    বাংলাদেশের বাজারে বেশ কয়েক দফা মূল্য বৃদ্ধির পর অবশেষে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা মূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা সোনার নতুন দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নতুন মূল্য অনুযায়ী ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে বাজুস এই তথ্যের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ থেকে জানা যায় যে, নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। পরিস্থিতির বিবেচনায়, এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুসারে, ২২ ক্যারেটের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনা বিক্রয়মূল্য থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন, মান ও বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব অনুযায়ী মজুরির দর কম বেশি হতে পারে।

    এর আগে, অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর বাজুস সোনার দাম আরও এক দফা সমন্বয় করে। ওইদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয় ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একদিনে সবোর্চ্চ দামের রেকর্ড। সেই সময়ে অন্য ক্যাটেগরিতে দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।

    বর্তমানে, চলতি বছরসহ মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার, কমেছে ২৮ বার। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বার বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।

    তবে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    চলতি বছর পর্যন্ত রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে। গত বছর এই দাম সমন্বয় হয়েছিল ৩ বার।

  • সোনার দামে রেকর্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো মূল্য

    সোনার দামে রেকর্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো মূল্য

    দেশের বাজারে সোনার দাম আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বেড়ে গেছে ১৫৭৪ টাকা। এর ফলে এখন এক ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, যা আগে কখনো হয়নি। এই দাম বৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দামের বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে যে, এই নতুন দাম শনিবার থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং ও প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আগের রেকর্ড দাম ভেঙে গত ২৪ ডিসেম্বর এক ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। মূলত সেই সময়ে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এর আগে, ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে, বর্তমানে মূল্য সব রেকর্ডকে হারিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, যেখানে ১ হাজার ৫১৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের সোনার মূল্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকায়, ১ হাজার ২৮৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে; এবং সনাতন পদ্ধতির বা সাধারণ মানের সোনার দাম বেড়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে ১ হাজার ১০৮ টাকা যোগ হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। এর আগে, বিভিন্ন সময়ে অন্য ক্যারেটের সোনার দামও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দর বৃদ্ধির ফলে সোনা এখন বিশ্বের রেকর্ড দামের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্যই নয়, ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট।

  • রমজানে খেজুরের আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    রমজানে খেজুরের আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমালো সরকার

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ ও চাহিদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে খেজুরের আমদানি সহজ করতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খেজুরের আমদানিতে মুল চার্জ হিসেবে এর কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে শুরু করে ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এছাড়া, গত বাজেটের আওতায় আমদানির ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে খেজুরসহ সব ফলের আমদানিতে প্রযোজ্য অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, গত বছর খেজুর ও অন্যান্য ফলের জন্য যা ৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছাড় দেয়া হয়েছিল, সেটাও চলতি বছরে বহাল থাকবে।

    নিয়মিত এই ছাড়ের ফলে রমজান মাসে খেজুরের আমদানি বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছে এনবিআর। এতে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং খুচরা বাজারে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে খেজুরের চাহিদা দ্রুত বাড়ে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তাদের পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মৃত্যু

    পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মৃত্যু

    পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শামশাদ আখতার মারা গেছেন। তিনি দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং দুই দফা তত্তবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শনিবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে।

    মৃত্যুর আগে তিনি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে তিনি দেশের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ও পুঁজিবাজারের বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন। পরে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে গঠিত তত্তবধায়ক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব শামশাদ আখতারকে দেশের অর্থনীতির একজন নীতিবান ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তার সততা, পেশাদারিতা এবং দীর্ঘকালীন পরিষেবার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, শামশাদ আখতার দেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করেছেন। অর্থমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, শামশাদ আখতার পাকিস্তানের অন্যতম অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন ইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এর আগে তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেন।

    জন্ম হায়দরাবাদে, তবে পড়াশোনা করেছেন করাচি ও ইসলামাবাদে। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স এবং যুক্তরাজ্যের পেইসলি কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। শামশাদ আখতার তার দীর্ঘ পেশাদার জীবন ও দেশসেবার জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ হবে।