শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর ব্যাপকভাবে ডলার কিনছে। প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরপর থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার ধার দিচ্ছে। রোববার, তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বিশেষভাবে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে ডলারের মূল্য ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৯২ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। অর্থবছরজুড়ে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখন পর্যন্ত মোট ডলার কেনা হয়েছে ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এ মাসে ১ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নত করার ফলেই এই রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও সচল হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী ও স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসে দেশের প্রবাসীরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে গণনা করে)।
Category: অর্থনীতি
-

টানা ৮ দফা বাড়ার পর এবার সোনার দাম কমলো
দেশের বাজারে দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। আজ (২৯ ডিসেম্বর, সোমবার) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন দাম আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গুল্ডের মূল্য কমে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) নতুন মূল্য অনুযায়ী হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য নির্ধারিত হয়েছে যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ওই তারের জন্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সোনার বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের সময় অবশ্যই সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
এর আগে, অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর, বাজুস সোনার দাম নতুন করে সমন্বয় করে ডেকেছে যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দামে ছিল। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।
এ পর্যন্ত চলতি বছরেই মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার এবং কমেছে ২৮ বার। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য হলো ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।
চলতি বছরে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে। গত বছর রুপার দাম সমন্বয় ছিল মাত্র ৩ বার।
-

১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমার সম্ভাবনা
অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যা অর্থ উপদেষ্টা অনুমোদন দিলে নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইआरডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ৯.৭২ শতাংশ। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গড়ে মুনাফার হার ০.৫ শতাংশের কাছাকাছি কমানো হতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, এখনও তার কাছে প্রস্তাবনা পৌঁছায়নি। তবে ব্যাংকাররা বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্প, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে, ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, ক্ষুদ্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি মুনাফা নিশ্চিত করা হবে, যেখানে ৭.৫ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের উপর বেশি মুনাফা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বড় অংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা উচ্চ থাকবে, আর বেশি হলে হার কমবে।
দুর্ভাগ্যবশত, গত ৩০ জুন সরকারের ఆదান ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সময় গড়ে কিছুটা কম করে ঘোষণা করা হয়, এবং মনে করা হয় যে ছয় মাস পরে নতুন হার নির্ধারণ করা হবে। সেই সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানান, মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি করা হবে।
প্রখ্যাত পরিবার সঞ্চয়পত্র বর্তমানে সবার বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে সরকারি বিনিয়োগের উপর ১১.৯৩ শতাংশ এবং বড় বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রসহ অন্য কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার একই রকম রয়েছে, যেখানে ছোট বিনিয়োগে ১১.৯৮ শতাংশ, এবং বড় বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রে হার একইভাবেই রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকের সংগঠন বিএবি-র চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার মন্তব্য করেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফার কারণে বড় অঙ্কের টাকা সরকারি খাতে চলে যায়, যা ব্যাংকিং খাতে ঋণ বৃদ্ধিতে কোনও প্রভাব ফেলে না। হার কমলে এই অর্থগুলো বেসরকারি খাতে ফিরবে, যা ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার ২৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এর predecessor অর্থবছর ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর শেষের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণের পরিমাণ এখন ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
-

সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে বেড়েছে ১৫৭৪ টাকা
দেশের বাজারে গত কয়েক দিনে সোনার দাম আবারও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫৭৪ টাকা, যা এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। এটি এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সব থেকে উচ্চমূল্য। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সোনার বাজারে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। রোববার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) থেকে নিশ্চিত করা হয়।
শনিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর সবচেয়ে মানানসই ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, যা এখন ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা করে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এর ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেকবারের মতো এবারও এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সোনার বাজারে নতুন এক উচ্চতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে, দেশের সব থেকে মানের ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। কোনোনোভাবেই এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি প্রত্যাশা করছে। অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও যথাক্রমে বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের ভরি সোনা ১ হাজার ৫১৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ হাজার ২৮৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১০৮ টাকা, এখন এর মূল্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ মানের সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায় পৌঁছিয়েছিল। সে সময় অন্যান্য ক্যারেটের দামও যথাক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে সোনার বাজারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি বাজারের অনিশ্চয়তা ও চাহিদার সাক্ষ্য বহন করে।
-

রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক ছাড় ঘোষণা সরকার
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে খেজুরের সরবরাহ নিশ্চিত ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের আওতায় বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে সরকার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় চাহিদা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কে ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং এটি আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এছাড়াও, বাজেট সংশোধনীতে খেজুরসহ অন্যান্য ফলের আমদানির জন্য প্রযোজ্য অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত বছর অগ্রিম আয়করে যে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা এ বছরেও আবার কার্যকর থাকবে।
এই শুল্ক ও আয়কর ছাড়ের ফলে রমজানের সময় খেজুরের আমদানি বাড়বে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে খুচরা বাজারে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলেও আশা ব্যক্ত করছে এনবিআর।
রমজানে ইফতারে খেজুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যা স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তার পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন বিলিয়ন ডলার কিনেছে
চলতি বছরে প্রবাসী আয়ের ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হতে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার সংগ্রহ করছে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকে এবং আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। শনিবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর এক বিশেষ অপারেশনে, তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ডলার কেনাকাটা মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ডলার এর বিনিময় মূল্য ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে একমাত্র এই মাসে তারা ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্থবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডলার কেনাকাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ডিসেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি। সদ্য সমাপ্ত এই অর্থবছরেও রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সময়ে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কিনাকাটার উদ্যোগের পেছনে সরকারের hুন্ডি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন স্বস্তিতে আছে। গত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকায় হিসাব করে)।
-

পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মারা গেছেন
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শামশাদ আখতার মারা গেছেন। তিনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। এশিয়ার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে দেশবাসীর শোক প্রকাশ করেন সকলেই।
শামশাদ আখতার, যিনি নিজে দায়িত্ব পালন করেছেন পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান হিসেবে, তিনি পাকিস্তানের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো পরিচালনা করেছেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল।
তিনি একজন পরিচিত অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও জনকল্যাণে বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, শামশাদ আখতার দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন অর্থনৈতিক নেতাদের একজন, যিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শামশাদ আখতার মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে দেশটির অর্থনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরাও শোক প্রকাশ করছেন।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিবসহ তিনি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেছেন।
শামশাদ আখতার হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পড়াশোনা করাচি ও ইসলামাবাদে সম্পন্ন হয়। তিনি পাকিস্তানে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় ও পেইসলি কলেজে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত।
-

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম হিসেবে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক تاریخی উচ্চতায় পৌঁছেছে। টানা তৃতীয় দফায় সোনার দাম বেড়ে গেছে। এবার ভরিতে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০ টাকা যোগ হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা দেশের সব চেয়ে বেশি।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ তথ্য নিশ্চিত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। নতুন এই দাম কার্যকর হবে আগামী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দর কিছুটা কমলেও, এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই উচ্চ দামের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এর আগে, ১৫ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় দফায় সোনার দর সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন বাজুস ভরি প্রতি ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দামে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক করেছিল।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দাম হাঁকে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা।
যদিও সোনার দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েই চললেও, রুপার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়।
অতিরিক্তভাবে, অন্যান্য ক্যারেটের জন্য রুপার দামগুলো হল: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।
-

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর ঘোষণা আসছে জানুয়ারি থেকে
অর্থমন্ত্রণালয় এ_month_ জানুয়ারি থেকে আবারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন পাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রস্তাব পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টার স্বীকৃতি পেলেই, নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে।
বর্তমানে, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে শোনা যাচ্ছে, গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের মতো হার কমানোর পরিকল্পনা ধরা হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রস্তাব এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে, বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাংকরাও কিছুটা কমানোর দাবী জানিয়েছেন। সরকার সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার বিভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হবে। ছোটো অঙ্কের বিনিয়োগে বেশি এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফা ধার্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে উচ্চ হারে মুনাফা দেওয়া হবে, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার কম থাকবে।
গত ৩০ জুন, সরকার তার নিয়মিত মুনাফার হার নির্ধারণ করে, যেখানে গড়ে মাধ্যমিক হারে কমানো হয়। ওই সময়ে, ছয় মাসের ব্যবধানে নতুন হার কার্যকর করা হয়, যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানান, এই মুহূর্তে মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে, এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর পর মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আবার, ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশেরও বেশি।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বড় বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের জন্য এই হার যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮৩ ও ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়াও, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়া হচ্ছে। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবেও এই একই হার বজায় রয়েছে।
তবে, কোনো পরিবর্তন হয়নি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং সাধারণ সঞ্চয় ব্যাংকের হিসাবের মুনাফার হার।
অন্যদিকে, ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফার কারণেই বড় অঙ্কের অর্থ সরকারির হাতে চলে যায়। হার কমলে, এ অর্থ ব্যাংকিং খাতে ফিরে আসবে, ফলে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সরকারি সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে বাংলাদেশ মোট ২৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করেছে। এর আগের অর্থবছর (২০২৪-২৫) এ চিত্র ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর মাস শেষে, সরকারের মোট সঞ্চয়পত্রের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।
-

সোনার দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে ১৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি। সবচেয়ে উচ্চমানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এখন এই সোনার ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। দেশের বাজারে এই দাম এত উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে যা আগে কখনো হয়নি। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে।
শনিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য ঘোষণা করেন।
এর আগে ২৪ ডিসেম্বর সবোচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যান্য ক্যারেটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই দাম আপডেট হয়েছিল।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, যা ঠিক কিছুদিন আগে ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। এর ফলে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দাম।
বিশেষ করে, ২১ ক্যারেটের সোনার এক ভরি ১ হাজার ৫১৭ টাকা বাড়িয়ে এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, এবং ১৮ ক্যারেটের এক ভরির দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে (উত্তরনবতী) সোনার জন্য এক ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১০৮ টাকা, যার ফলে এখন তার দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
গত ২৪ ডিসেম্বর, ২২ ক্যারেটের সবোচ্চ মানের সোনার ভরি দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা। এই দামে সোনা আজ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
