Author: bangladiganta

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু

    ঢালিউডের সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাভেদ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গোপনে চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের এপ্রিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কয়েকদিন ধরে বাড়িতেই ডাক্তার ও দুই নার্স এসে তার পরিচর্যা করছিলেন। সকালে নার্সরা এসে দেখতে পান তাঁর সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে। প্রথমে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসেছেন এবং সেখানে তার বদলানো পরিচয়-মুখে গড়ে ওঠে।

    নাটকীয় ক্যারিয়ারের শুরু হয় নৃত্যপরিচালনা দিয়ে। নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৪ সালের উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। তবে তার ভাগ্যের ঘূর্ণি বদলে যায় ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে; এই ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে খ্যাতি দেন।

    পরবর্তীতে একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ নামে এক আলাদা স্থান করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীকে। জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। জীবদ্দশায় তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদ মানেই ছিল ঝড়গ্রস্থ নাচ আর কঠোর একশন—এক ধরনের আকর্ষণীয় মিশ্রণ। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক যুগের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ দিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী।

    জাভেদের অসংখ্য ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তা্ন’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে ঢালিউড শিল্পী সমাজ ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি পর্দায় যা দিয়েছেন—উৎসবমুখর নাচ, আবেগঘন অভিনয় ও অনবদ্য উপস্থিতি—সেগুলো দীর্ঘদিন স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেই।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, ওরফে কেআরকে-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। পুলিশের ধারণা মোতাবেক ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও আরও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চলছে।

    অভিনেতা পুলিশকে জানান, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য তিনি বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ এলাকার দিকে গুলি ছোড়েন। তিনি বলেন, বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে একটি যৌন হেনস্তার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারবিষয়ক অভিযোগ উঠেছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কটাক্ষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এখন ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ক্রিকেট মহলে নতুন এক নাটক চলছে — বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর এবার ফের বিশ্বকাপে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা উঠেছে। ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তাদের জায়গায় যোগাযোগ করে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    প্রতিবেদনে আইসিসির এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিও আছে, যেখানে বলা হয়েছে পাকিস্তান না খেললে বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে রাখা হতে পারে এবং অনুষঙ্গ হিসেবে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হবে। সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হলে আয়োজনে জটিলতা কমে যাবে—এটিই মূলত বিসিবার অনুরোধ ছিল।

    এর আগেই, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে রেখে নতুন সূচি প্রকাশ করে। একই দিন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মোহসিন নাকভি দাবি করেন যে আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে। নাকভির কথায়, বাংলাদেশ চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হোক, কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি—আর ঠিক এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের বাইরে পড়ে।

    বাংলাদেশ বাদ পড়ার দিনেই নাকভি বলেছেন, সরকার নির্দেশ দিলে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে। এরপরের দিনগুলোতে পাকিস্তানি মিডিয়ায় নানা খবর আসে: কেউ বলছে তারা শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটি বয়কট করতে পারে, আবার কেউ বলছে পুরো টুর্নামেন্টই বর্জনের কথা ভাবা হচ্ছে। নাকভি পরে সাংবাদিকদের দেখাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি বৈঠকের ছবি পোস্ট করে জানান যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সব সম্ভাব্য বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে। পিসিবি শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে—সম্ভবত শুক্রবার বা আগামী সোমবার।

    আইসিসির নিয়ম অনুসারে, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে তাদের কাছাকাছি অবস্থান করা দেশের প্রতি সুযোগের অফার যায়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে এবং বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, তাই পাকিস্তান সরে গেলে বাংলাদেশের নাম উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি। আগে বাংলাদেশ নিজে নাম প্রত্যাহার করলে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

    সব মিলিয়ে, যদি পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে আবারও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার পথে আইসিসির সিদ্ধান্তে নির্ভর করতে হবে। এমন হলে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে—যা আয়োজকদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে।

  • আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশের সরকার খেলোয়াড়দের ভারত যাওয়া নিষেধ করায় জাতীয় দল এবারের বিশ্বকাপে খেলছে না। দলের অনুপস্থিতির প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের উপরও — মাঠ থেকে সরাসরি কভার করার সুযোগ তারা পাচ্ছেন না।

    আইসিসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকরা এক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তারা ভারত ও শ্রীলঙ্কা গিয়ে মাঠ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের কভারেজ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার আইসিসির কাছ থেকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে, এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের কোনো এক্রিডিটেশন দেওয়া হবে না।

    আইসিসির ব্যাখ্যা ছিল যে, বাংলাদেশ দল এইবার খেলায় অংশ নিচ্ছে না; সেই কারণেই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মাঠে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলত বাংলাদেশের সংবাদকর্মীরা স্টেডিয়ামভিত্তিক কভারেজ থেকে বাদ পড়লেন।

    ঘটনার আগে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বলেছেন, ভারত শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও নিরাপদ নয়। এই মন্তব্যগুলি সরকারি সিদ্ধান্ত ও সাংবাদিকদের এক্রিডিটেশন বাতিলের প্রেক্ষাপটকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।

    সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেবল মাঠে উপস্থিত থাকছে না, সংবাদ পরিবেশনের শিপথ থেকেও তারা দূরে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশি ভক্ত ও মিডিয়ার জন্য এটি বড় ধাক্কা, যাকে দ্রুতই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার দাবি উঠছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বর্ণযুগের খ্যাতনামা অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে চিকিৎসা শেষে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মৃত্যুকালে বয়স ছিলেন ৮২ বছর।

    মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছিল, পরে বাড়িতেও চিকিৎসা চলছিল। আজ দুই নার্স এসে জানান, শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁর গায়ের তাপ অনুভূত হচ্ছিল না। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে যান, পরে জীবনের ছন্দ তাঁকে টেনে আনে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। অভিনেতার আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস।

    তিনি ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষিক্ত হন। কিন্তু রোল বদলে দেন ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’—এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনেত্রী শাবানা অভিনয় করেছিলেন এবং পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    নৃত্যশৈলী ও নাচের দক্ষতাকে কেন্দ্র করে ইলিয়াস জাভেদ দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন। পরবর্তী সময়ে একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে ৭০ ও ৮০-এর দশকের দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ ছাপ রেখে যান। নৃত্য পরিচালনা থেকে তার চলচ্চিত্রভরা ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে এবং পরে তিনি নায়ক হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। জীবনে তিনি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘদিন নানা শারীরিক জটিলতা ও ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।

    জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রজন্মের স্মৃতি হারালো। শিল্পী পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।

  • ওশিওয়ারায় গুলির ঘটনায় গ্রেফতার বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান

    ওশিওয়ারায় গুলির ঘটনায় গ্রেফতার বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় এক আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও সমালোচক কামাল আর খান, যিনি কেআরকে নামে বেশি পরিচিত,কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাকে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওশিওয়ারার ওই আবাসিক এলাকায় চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহের ভিত্তিতে কেআরকে-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনেতা স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন যে কাউকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তার ছিল না। তার কথায়, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করতে বাড়ির সামনে থাকা ম্যানগ্রোভ বনের দিকে গুলি করেছিলেন। বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনে গিয়ে লাগে—এটাই তার ব্যাখ্যা।

    পুলিশ জানিয়েছে তারা ঘটনার পুরোপরি পরিবেশনা যাচাই করছে এবং সিসিটিভি, শোনা-পরিচিতদের বয়ান ও অন্যান্য প্রমাণাদি পরীক্ষা করে তদন্ত চালাচ্ছে। ঘটনার ফলে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন ও নিরাপত্তা নিয়ে সংঘর্ষাজনিত প্রশ্ন তুলেছেন।

    কামাল আর খান বলিউডে একটি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি এক যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষ এবং উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে।

    ঘটনার তদন্ত চলছে; পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণসমূহের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কি অভিযোগে মামলা করা হবে তা আদালতে তার হাজতির সময় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

  • আবু সাঈদ হত্যার ট্রাইব্যুনালের রায় যেকোনো দিন

    আবু সাঈদ হত্যার ট্রাইব্যুনালের রায় যেকোনো দিন

    চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রসিকিউশনের এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এই মামলার রায় ঘোষণা করার জন্য ট্রাইব্যুনাল এখন প্রস্তুত, এবং তা যেকোনো দিন ঘোষণা হতে পারে।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিরের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপর সদস্য হিসেবে ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার চলমান ছিল। যুক্তিতর্কের শেষ বক্তব্যের পর এখন রায় দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা যেকোনো সময়ে ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার সকালেই বিচার কার্যালয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামসহ আরও কিছু আইনজীবী। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ছিলেন অ্যাটর্নি আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসান ও অন্যরা।

    গত ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তিতর্কের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২৫ জানুয়ারি শেষ হয়। এই তিন দিনের মধ্যে মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করা হয়। সাথে ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের CCTV ফুটেজ, যা juli ২০২৪ সালে আবু সাঈদ হত্যার সময় ধারণ করা হয়। এই ভিডিওগুলো থেকে আসামিরা কোথায় ছিলেন এবং তাদের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে শনাক্ত করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, মামলায় ৩০ আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের বেকসুর খালাসের জন্য যুক্তি উপস্থাপন করেন।

    আজ সকালেই কারাগার থেকে ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরা হলেন– এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তবে, আরও ২৪ জন পলাতক রয়েছেন, যার মধ্যে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ রয়েছেন।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় ২০২২ সালের আগস্টে। এর আগে, ৬ আগস্ট, মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। পলাতক আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয় ২৪ জুন, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, তাকে আবারও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে এবং হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শান্তিনগর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য যাওয়ার পথে তাকে এই হামলার শিকার হতে হয়। খবর অনুযায়ী, তিনি সকার থেকে শান্তিনগরের মাঝখানে তার নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এর সময় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে গেলে কিছু দুর্বৃত্ত তাকে ডিমের আঘাতে আঘাত করে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে তিনি তৎক্ষণাৎ ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমি আজ আমার ওপর ডিম ছোড়া হয়েছে, হামলারও চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের জন্য এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। হারানোর ভয়ে এইসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাতিল করুন। মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সন্ত্রাস বন্ধ করুন। হাবিবুল্লাহ কলেজ মাঠে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলাচ্ছে—এ বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোটের দিন ১২ তারিখে সবাই যেন একত্রিত হয়ে গণজোয়ার সৃষ্টি করে দেশের জন্য নতুন সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সব সন্ত্রাস ও গুন্ডামি রুখে দেবো। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব, সন্ত্রাস বন্ধ করুন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করুন। দুপুর ২টায় ডিম ছোড়ার প্রতিবাদে ফকিরাপুলে দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং বিকেল চারটায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী।

  • রংপুর-১ থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল

    রংপুর-১ থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল

    রংপুর-১ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে আজিমপুর উচ্চ আদালত তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে, ফলে তিনি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

    মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এই আপিল বেঙ্গে এই আদেশ দেন। শুনানিতে মঞ্জুম আলীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

    এ সময় বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রংপুর-১ আসনের (গঙ্গাচড়া ও রসিকের ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড) প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। আপিল বিভাগ এই আদেশকে বহাল রেখেছে।

    উল্লেখ্য, ১৭ জানুয়ারি এই আসনে মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছিল। এরপর নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

    জানা যায়, নির্বাচনের আশেপাশে ব্যাপক আলোচনা ও অভিযোগের মধ্যে, দ্বৈত নাগরিকত্বের উল্লেখ থাকা নিয়ে মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাইয়ে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল করেন। এরপর তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।

    শুনানির সময় প্রথমে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেলে, পরে আবার পুনর্বিবেচনার আবেদন করে মঞ্জুম আলী। ১৭ জানুয়ারি এই আবেদন বিবেচনায় এসে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    রংপুর-১ আসনে এই অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন– বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, এনসিপির আল মামুন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আহসানুল আরেফিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আনাস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মমিনুর রহমান।

  • কারাবন্দিদের বৈষম্য ও মানবাধিকার নিশ্চিতের importance: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    কারাবন্দিদের বৈষম্য ও মানবাধিকার নিশ্চিতের importance: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কারাবন্দিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, কারাগারে বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই কাজের মাধ্যমে তারা সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরতে পারে। তিনি বলেন, কারা নিরপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে, কেননা এই দুই বিষয় পরস্পর পরিপূরক। এর জন্য প্রশিক্ষিত, মানবিক ও দায়িত্বশীল কারারক্ষীদের ভূমিকা অপরিহার্য।