আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফর হবে যশোর জেলায় তাঁর প্রথম সরকারি সফর, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের প্রথম পদক্ষেপ। বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং খনিজ সম্পদ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেল থেকে। সোমবার রাতে তিনি his ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমে এ খবর দেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘সুসংবাদ! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। (সম্ভাব্য তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং)।’ সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খননের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সফরে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে অন্যতম হল যাবতীয় খনন কাজ যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন। উল্লেখ্য, ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে এই খালের খনন কাজের शुरुआत করেছিলেন, যা এখন ‘উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প’ বা ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এই খাল ভরাট হয়ে পড়েছিল, তবে পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্র ও পানি প্রশাসনে নতুন প্রাণ ফিরে আসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
Author: bangladiganta
-

স্বর্ণের দাম কিছুটা কমল, রুপার দামও হ্রাস
দেশের বাজারে টানা চার দফা মূল্যবৃদ্ধির পর স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকায়। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের মতে, এই দাম কমানো হয়েছে দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমানোর ফলে। এর ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা, যা আগের তুলনায় কম। এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও হ্রাস পেয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন মূল্য ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।
এর আগে, ১ এপ্রিল বাজুস স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের ভরি দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা বেঁধেছিল, যা সেদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল। তখন ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, ফলে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি মূল্য ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।
এটি হল এই বছর স্বর্ণের মূল্যের প্রথম পরিবর্তন নয়; এ বছর বেশ কয়েক দফায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে, মোট ৫২ বার। এর মধ্যে দাম ৩০ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২২ বার। ২০২৩ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, মূল্য কমানোর সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামেও হ্রাস ঘটেছে। এবার ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকায়। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার মূল্য ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।
-

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মোট গড় আয় বর্তমানে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি, সরকার আগামী এক দশকে দেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর একটি বিশাল লক্ষ্য মেনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটিকে অর্থনৈতিক মহাশক্তিতে রূপান্তর করার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামের সভাপতিত্বে এ অধিবেশনে আলোচনা হয়।
-

সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে ১০টি এস আলমের
২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্র“পের মালিকানাধীন। সোমবার সংসদে ওই তালিকা উত্থাপন হলেও ঋণের মোট পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্র“পের, সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্র“পের দু’টি এবং বিএনপি’র সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন সিটিসেলও রয়েছে। অর্থমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমানে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমপিদের থাকা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আদালতের নির্দেশনায় ৩৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা এখনো খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়নি। সংসদে বিএনপি’র হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান এবং শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নামও প্রকাশ করেন। এর মধ্যে প্রথম চারটিসহ মোট পাঁচটি এস আলমের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস, সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, চেমন ইস্পাত, এস আলম ট্রেডিং, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস, ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। অন্যদিকে, তালিকায় রয়েছে সালমান এফ রহমানের দুটি প্রতিষ্ঠান এবং সিকদার গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো’র দুইটি হলো বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি ও বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস। সিকদার গ্র“পের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট, জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট, ও সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি। এছাড়া মধ্যমে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল), কর্ণফুলি ফুডস, ও রংধনু বিল্ডার্স। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ত্রৈমাসিক আলোচনা, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঋণ রেকভারি জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আইনগত পদক্ষেপ, লিগ্যাল টিমের সশক্তিকরণ, এবং_target অনুযায়ী খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। এছাড়া, ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বিভিন্ন নীতিমালা হালনাগাদ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশে এখনো মোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা নিবৃত্ত করতে কাজ চলছে।
-

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী
চলমান অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট জিডিপির বৃদ্ধির হার আবার কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে জিডিপির বৃদ্ধি হার ছিল ৩.০৩ শতাংশ, যা এর আগে জুন-সেপ্টেম্বরে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এ তিনের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি এই প্রান্তিকে হওয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে গেছে।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে দেশের জ্বালানির সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগে ব্যাহত হচ্ছে, যা পুরো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে, যেখানে বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৮২ শতাংশ, যা এখন অনেক কমে গেছে। কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে উন্নতি হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরে ধীর হয়ে পড়ে।
অর্থনীতির মূল ভিত্তি শিল্প খাতে বেশি হলেও, এই খাতের প্রবৃদ্ধির কমতির কারণে মোট জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, কিন্তু পরে আবার কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবেশের কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরতি ধাক্কা খাচ্ছে, যা সামগ্রিক হলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।
-

২০২৪ সালে লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে
২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সংগ্রামপূর্ণ বছর ছিল। অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে একাধিক ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে কিছু ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও, বেশিরভাগ ব্যাংকের আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। এর ফলস্বরূপ, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় ব্যাপক হারে কমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বছর সিএসআর ব্যয়ে লক্ষ্য করা গেছে নাটকীয় পতন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) দেশের ৬১টি ব্যাংক মাত্র ৩৫২ কোটি ৯ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়, এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ফলে, দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর এই খাতে ব্যয় ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয়ে ছিল মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যাংকগুলো ব্যয় করেছিল মোট ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আর ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। পরবর্তী দু বছরে মোট সিএসআর ব্যয় কমেছে বেশি than ৫০ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ে এই কমতির অন্যতম কারণ হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন ও সরকারের পরিবর্তনের প্রভাব। জুন-জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং খাতে বেশ বড় ধরনের চাপ পড়ে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট এবং অর্থ পাচারের ঘটনা প্রকাশ পেতে শুরু করে, যা প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি উন্মোচনে সহায়তা করে। এর ফলে, ব্যাংকগুলোর প্রকৃত লোকসান ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে, বেশ কটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর জের ধরে সরকার বিভিন্ন ব্যাংক একীভূত করার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়ে থাকে।
ব্যাংকারদের অভিমত, রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও সিএসআর ব্যয় কমার প্রত interconnected এর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো, আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে ব্যাংকগুলো অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় বা অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় করতো। তবে ২০২৪ সালে, আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর এই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলো অধিকতর বিবেচনা করে সিএসআর ব্যয় পরিচালনা করছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে এই অর্থ সামাজিক দায়িত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়, যা সমাজের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার নির্দিষ্ট একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে।
তবে, বাস্তবে দেখা গেছে, এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় ছিল প্রায় ২৮.৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হলেও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ব্যয় মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
এছাড়া, এই বছর লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
বিশেষ করে জানানো হয়েছে, ছয়টি ব্যাংক এমন রয়েছেন, যারা মুনাফা অর্জন না করেও তাদের সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
-

গণভোট ইস্যুতে সরকারের হুঁশিয়ারি: ১১ দলীয় ঐক্যের কঠোর সংকেত
গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের মনোভাবের প্রবাহে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাজধানীর সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ঐক্যের নেতারা এক মিছিল-পূর্ব সমাবেশে একসঙ্গে বক্তব্য দেন। সেখানে তারা স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায়কে অমান্য করে মানবাধিকার ও ভোটাধিকার পরিপন্থী পদক্ষেপ নিচ্ছে, এবং এ ধরনের ফ্যাসিবাদী মনোভাব বন্ধ করতে হবে। নেতারা জানান, যদি এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে এবং সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটতে প্রস্তুত বিএনপি ও সংশ্লিষ্টরা।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’ এবং অন্যান্য দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের গণভোটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।
এই বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীনের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা লাইন বাড়িয়ে বক্তব্য রাখেন ও সরকারের চরম দমননীতি ও গণভোটের রায়ের মানসিকতা নিয়ে কঠোর criticism করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করছে। তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব সমাধানে না গেলে কঠোর কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সকলের দাবি, জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধানে সতর্ক সংস্কার আনতে হবে।
-

আসিফের সতর্কতা: ২৬-২৭ সালে আবারও সম্ভাব্য অভ্যুত্থান সংকেত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিএনপি সরকার সম্প্রতি বারবার দাবী করে আসছে যে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে এর উল্টো ছবি। ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনগুলো রক্ষা করতে না পারায় ফলশ্রুতিতে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে, যদি আগামী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জন রক্ষা না করা হয়, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারো সেই ধরনের অব্যাহত ঘটনার আশঙ্কা করছে তিনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) শহীদ নগরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের মধ্যে ভোটের রায় উপেক্ষা, সরকারী সংস্কার বিলম্বে অবহেলা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি বিএনপি সংবিধানের কথা বলে, কিন্তু তাদের কাজের মধ্যে দেখা যায় সংবিধান লঙ্ঘনের অপপ্রয়াস। রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি নিয়োগের সময়, সংবিধানের স্পষ্ট বিধান থাকলেও শাসকরা সরকারি অধ্যাদেশের দোহাই দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা রাখছে। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হয়েও অপসারণের আতঙ্কে থাকছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী।
অপর এক আলোচনায় তিনি ফোনে আড়ি-পতানোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সরকারের সময় এজেন্সিগুলোর ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি করার ক্ষমতা ছিল বলেও উল্লেখ করেন। আগের পরিমার্জনা অনুযায়ী, অন্তর্বতীকালীন সরকার বাজেয়াপ্ত ক্ষমতা অর্ধেক করে ৪টি সংস্থায় সীমাবদ্ধ করলেও বর্তমান সরকার তা তুলে দিয়ে আবারও আড়ি পাতার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, গতকাল অপ্রতিরোধ্যভাবে আমরা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী লক্ষণগুলো দেখেছি। যদি সরকার ২০২৪ সালের গণভোটের রায় মানে না, তাহলে তাদেরকে অদ্যুত সরকার হিসেবে ঘোষণা দিতে দ্বিধা করবো না। পাশাপাশি, আমাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে তারা যত সময় নিচ্ছে, আমরা তত দ্রুত তাদের অবৈধ ঘোষণা করবো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগে থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সকল অংশীজনের সাথে বসে কাজ করতে চান। তবে, গণভোট নিয়ে চলমান নাটকীয়তা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখন রাজপথে নামা আর বিকল্প নেই। এ আন্দোলন কোনোভাবেই কারো জন্য ক্ষতিকর হবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদের রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।
-

জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে ছাড়ব, সংসদ মানুক বা না মানুক
জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় আমির ও বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক, তারা গণভোটের রায় আদায় করে ছাড়বেন। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের ফল ধোয়া-তোলা হয়েছে এবং জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট হ্যাঁ এর পক্ষে গেছে। তারা এই ভোটের গুরুত্ব অনুধাবন করে, সম্মান দেখিয়ে যাবেন। তিনি আবার স্পষ্ট করে বলেন, গণভোটের রায় আমাদের অধিকার, যা আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ, তাতে সংসদ মানুক বা না মানুক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির উপর আঙুল তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে নিজ দলের ভিতরে ন্যায় ও ইনসাফের প্রচলন দরকার। যারা নিজের দলেও গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, যাদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নেই, তারা দেশে নাগরিক নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের রায় হাইজ্যাক করা হয়েছে, তাদের ভোটের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা চরম অপমানজনক। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
তিনি মন্তব্য করেন, ঘুঘু বারবার ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন পরিস্থিতি মন্দ হয় তখন জালায় বাঁধা পড়ে। দেশের জনগণের স্পষ্ট প্রত্যাশা উপেক্ষা করে এই রাজনীতি চলতে পারে না, এই লজ্জাজনক অবস্থা থেকে উত্তরণে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রায় বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জামায়াত নেতা বলেন, সংসদে ‘কেয়ারটেকার’ সরকারের জন্য উদ্যোগ নেওয়ায় ব্যর্থতা থাকায় এবার জনগণের শক্তির ওপর ভর করে রায় আদায় করতে হচ্ছে। দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সংকট দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষাখাতে জ্বালানি সংকটের কারণে যাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সংসদে থাকা প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন এবং অন্যায়কে কখনোই মেনে নেবেন না।
সভায় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন জাগপার প্রধান প্রকৌশলী রাশেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। এছাড়া বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যরা।
-

১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিন ব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে। সংস্কার বিষয়ক ঐকমত্য নির্বাচনের আগে ভেঙে পড়ছে বলে তিনি বলেন। মামুনুল হক আরো বলেছেন, বর্তমান সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে একদলীয় ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করছে। জনদুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে সরকার নানা অপকর্ম চালাচ্ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গ্রেফতার করা হচ্ছে, যা দেখে দেশের মানুষ হতবাক। তবে এই নব্য ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় ১১ দল একত্রে আন্দোলনে নামবে। তিনি জানান, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে সবার মাঝে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল সরকারি পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় এক বড় ধরনের জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার বিরোধীদলকে রাজপথের আন্দোলনে ব্যস্ত করে রাখছে। বিএনপির কর্মকাণ্ডে দেশ হতবাক ও বিস্মিত, আর তাদের জন্য গণভোটের রায়ে নোট অব ডিসেন্টের উপায়ও বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদল কথা বলতে পারছে না, আর দিল্লির আগ্রাসন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে এমন ব্যক্তিদের সরকার কালো ট্যাগ দিচ্ছে। শেষে তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
