ঢালিউডের স্বর্ণযুগের খ্যাতনামা অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে চিকিৎসা শেষে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মৃত্যুকালে বয়স ছিলেন ৮২ বছর।
মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছিল, পরে বাড়িতেও চিকিৎসা চলছিল। আজ দুই নার্স এসে জানান, শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁর গায়ের তাপ অনুভূত হচ্ছিল না। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে যান, পরে জীবনের ছন্দ তাঁকে টেনে আনে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে। অভিনেতার আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস।
তিনি ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষিক্ত হন। কিন্তু রোল বদলে দেন ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’—এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনেত্রী শাবানা অভিনয় করেছিলেন এবং পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।
নৃত্যশৈলী ও নাচের দক্ষতাকে কেন্দ্র করে ইলিয়াস জাভেদ দর্শকদের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন। পরবর্তী সময়ে একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে ৭০ ও ৮০-এর দশকের দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ ছাপ রেখে যান। নৃত্য পরিচালনা থেকে তার চলচ্চিত্রভরা ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে এবং পরে তিনি নায়ক হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। জীবনে তিনি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘদিন নানা শারীরিক জটিলতা ও ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন।
জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।
ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রজন্মের স্মৃতি হারালো। শিল্পী পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
