Author: bangladiganta

  • হরমুজ খুলে দেওয়া হলো, জাহাজ চলাচল শুরু

    হরমুজ খুলে দেওয়া হলো, জাহাজ চলাচল শুরু

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খোলা হয়েছে। বুধবার, ৮ এপ্রিল, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের জাহাজ চলাচল শুরু হয়। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছে মেরিন ট্রাফিক নামের প্রতিষ্ঠান। হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ছিল গ্রিসের পতাকাবাহী, অন্যটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী।

    মেরিন ট্রাফিক তাদের এক্স+(এক্সে) মাইক্রো ব্লগে লিখেছে, “মালিকানাধিকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিসের আন্তর্জাতিক মান সময় রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে ‘এনজে আর্থ’ জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর অতিক্রম করে। অন্যদিকে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ডেটোনা বিচ’ ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে বন্দর আব্বাস থেকে রওনা হয় এবং আন্তর্জাতিক মান সময় অনুযায়ী সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে হরমুজ পার করে।

    এর আগে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটটি আবার চালু করেছে, যার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখন থেকে সেখান দিয়ে চালানো প্রত্যেক জাহাজ থেকে ইরান টোল আদায় করবে। এর সঙ্গে, ওমানও আগে ঘোষণা দিয়েছিল যে, হরমুজ দিয়ে চলা কোনো জাহাজ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে না। তবে পরে ওমান জানায়, তারা হরমুজ দিয়ে চলা জাহাজ থেকে কোনো অর্থ আদায় করবে না।

    প্রায় তিন মাস আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায়। এরপরই ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে, এই প্রণালীটি আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে বিবেচিত হত, যেখানে কোনো দেশ অর্থ আদায় করতে পারত না। এখন থেকে, ইরান এই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করবে।

    সূত্র: এএফপি

  • লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেবে ইরান

    লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেবে ইরান

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর শতাধিক বিমান হামলায় বর্তমানে রাজধানী বৈরুত ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আমরা যদি আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর হামলার পরিমাণ কমাতে না পারি, তবে এই অঞ্চলের দুষ্ট অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধের জন্য আমরা আজকের দিনটি শেষ সীমা হিসেবে নির্ধারণ করছি। যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী শুক্রবারের আলোচনা বাতিল বলে বিবেচিত হবে এবং আমরা তাতে অংশ নেব না।’ আরও এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল কাবাসের সাথে কথোপকথনে বলেছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই ঘটনা প্রতিরোধে পুরো অঞ্চল জুড়ে কঠোর সত্তা থাকা প্রয়োজন। ইসরায়েল কথায় কি মানে, তা তারা শুধুমাত্র বুলেট দিয়ে প্রতিহতই করা যাবে।’ পাশাপাশি, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে একজন অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ, এবং যদি আরও বিস্তারিত তথ্য আসে, তা অবশ্যই জানানো হবে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে আবারও বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদ মাধ্যম। ফার্স নিউজে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিল, তবে এখন এই ট্রাফিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকাকালীন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, তাদের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর কেন্দ্রস্থলের ওপর আকস্মিক আরোপ করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমরা নাঈম কাসেমের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতাকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের স্বার্থে হামলা অব্যাহত থাকবে।’ লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত হামলা ও আহতদের চিকিৎসায় কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের হামলার ফলে হাসপাতালগুলোতে আহত ও নিহতের সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে।’ লেবাননের আনুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেছেন, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলে বৈরুত আক্রমণের কথাই মনে পড়ছে। তখনো এমনসব এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে সাধারণ হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকত না। প্রধানমন্ত্রীর নওয়াফ সালাম বলেছেন, ইসরায়েল ভয়ঙ্করভাবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে টার্গেট করে সাধারণ মানুষের জীবন নাকোচ করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুদ্ধ চালাচ্ছে, মানবিক আইনকে উপেক্ষা করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে নিজের মতেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি সকল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে এই আগ্রাসন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা করে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়। এরপরই, লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে তেহরানেSupport linkে আরও আক্রমণ চালাতে প্রস্তুতি নেয়। গত ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষ শেষ হওয়ার জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধের সমস্ত রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে লেবাননে যুদ্ধস্থগিতের বন্দোবস্ত করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানান, লেবাননসহ সবক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এ চুক্তির অংশ নয়।’

  • ইরানের আশপাশে থাকবে মার্কিন সেনারা: ট্রাম্প

    ইরানের আশপাশে থাকবে মার্কিন সেনারা: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে থাকলেও ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তির অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি তেহরান যুদ্ধবিরতি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও শক্তিশালী হামলা চালাতে প্রস্তুত। খবর রয়টার্সের।

    বুধবার ট্রাম্পের ভাষানুযায়ী, সমস্ত মার্কিন জাহাজ, বিমান এবং সেনা সদস্যরা যাতে ইরান এবং তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে থাকেন, যতক্ষণ না চুক্তির সব শর্ত সম্পূর্ণভাবে মানা হচ্ছে। তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, যদি তারা চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও বৃহৎ ও ভয়াবহ গোলাবর্ষণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু করা এখন অযৌক্তিক। ওই হামলায় শত শত মানুষের জীবন হানি হয়েছে।

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় আকারের মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে।

    অতিরিক্ত ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে এক আলোচনা বৈঠকের স্থিতি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতিের চেষ্টা করাও হবে।

  • ইরানে মার্কিন পরাজয়: রাশিয়ার মন্তব্য

    ইরানে মার্কিন পরাজয়: রাশিয়ার মন্তব্য

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও ইরানের বিরুদ্ধে একমুখী ও আগ্রাসী হামলার পন্থা ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকা এবং ‘জয়’ নিশ্চিতের আশায় প্রকাশ করা একের পর এক উসকানিমূলক হুমকি আবারও প্রতিহত হয়েছে। জাখারোভা আরো বলেন, শুরু থেকেই রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধের পক্ষে এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান আনা জরুরি বলে মনে করে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই। এর আগে, স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রেখেছেন। এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করে, যা অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি সহ এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। জবাবে, ইরান জোরালোভাবে জারি করে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন সীমাবদ্ধতাও আরোপ করে অধীনস্থ তেহরান।

  • খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্য পরিচিতি সভা

    খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্য পরিচিতি সভা

    খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্যদের পরিচয় ও স্বাগত সভা গতকাল বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মুন্না, এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন। সভার শুরুতেই তেলাওয়াত হয় কোরআন থেকে, যা শোভা বাড়ায় অনুষ্ঠানের পরিবেশকে। এরপর নতুন সদস্যদের পরিচিতি পর্ব চলতে থাকে, যেখানে তারা নিজেরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা ব্যক্ত করেন। সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বৈশাখী উৎসবের আয়োজনসহ সংগঠনের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা। এছাড়াও বক্তৃতা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদ সোহেল, কোষাধ্যক্ষ একরামুল হোসেন লিপু, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানজিম আহমেদ, নির্বাহী সদস্য সোহেল মাহমুদ, হুমায়ুন কবীর, এস এম মাহবুবুর রহমান। নতুন সদস্যরা তাদের বক্তব্য রাখেন কামাল মোস্তফা, মাসুম বিল্লাহ, জিএম রাসেল, শাহরিয়ার হোসেন মানিকসহ আরও অনেকেই। এই সভা সংগঠনের ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

  • সাতক্ষীরায় ভোজ্য তেল মজুদ রেখে মূল্য বৃদ্ধি 돼, দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

    সাতক্ষীরায় ভোজ্য তেল মজুদ রেখে মূল্য বৃদ্ধি 돼, দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা

    সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে ভোজ্য তেল মজুদ রাখার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাজারে দামের বৃদ্ধি করার অভিযোগে দুইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
    অভিযান চলাকালে তারা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে অবস্থিত মেসার্স হাজী ট্রেডার্সে ৪২১ ব্যারেল এবং মেসার্স সাধু স্টোরে ২০৪ ব্যারেল বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেলের উপস্থিতি দেখতে পান। মনে করা হচ্ছে, এই সংরক্ষণাগারে রাখা তেল বাজারে দ্রুত সরবরাহ না করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
    এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স হাজী ট্রেডার্সকে ২০ হাজার এবং মেসার্স সাধু স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি তারা দোকানগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল দ্রুত বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেন।
    র‌্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মুহাম্মদ যিয়াদ বলেন, এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল গোডাউনে জমা রেখে কৃত্রিমভাবে বাজারে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে গড়ে লিটার প্রতি পাইকারি থেকে খুচরা মূল্য পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও প্রতারক ও অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • বহু লিটার জ্বালানি ও ভোজ্য তেল জব্দ, জরিমানা আরোপ

    বহু লিটার জ্বালানি ও ভোজ্য তেল জব্দ, জরিমানা আরোপ

    মোংলা শহরে অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয় র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসন একত্রে। গোপন তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার বিকেলে মোংলা বন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযানে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়, পাশাপাশি অবৈধ মজুদকারীদের বড় অংকের জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবৈধভাবে সংরক্ষিত এ তেল দ্রুত বাজারে বিক্রি করে সংকট কেটে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে মোংলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে আসছিল। এই সংবাদের প্রমাণের জন্য জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) একটি বিশেষ দল তথ্য সংগ্রহে নিযুক্ত হয়। পরে র‌্যাব-৬ এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসিনা অরিফ। এ সময়, সিন্ডিকেট তৈরি করে রাখা ব্যবসায়ী ‘ইউছুপের তেলের গোডাউন’ থেকে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় বড় পাইকারি দোকান, মুদি বাজারের সোভা স্টোর, এবং জালাল স্টোরের কাছ থেকে আরও বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত তেলগুলোর কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না এবং ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ করার কারণও উপস্থাপন করতে পারেনি। মূলত, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে তারা এই তেল মজুদ করেছিল।

    অভিযান চলাকালে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে তেল মজুদ এবং সঠিক মূল্য তালিকা না দেখানোর অপরাধে বিভিন্ন দোকান ও গুদামের মালিকদের জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইউছুপের ‘গোডাউন’ থেকে ৫০ হাজার, জালাল স্টোর থেকে ৬০ হাজার, সোভা স্টোর থেকে ১৫ হাজার টাকা, এবং একটি মোটরজান থেকে এক হাজার টাকা সহ মোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এছাড়াও, জব্দকৃত তেলগুলো অবিলম্বে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তা বাজারে সংকট সৃষ্টি না করে।

    আন্তঃত এই অভিযান শেষে, র‌্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ী ইউছুপকে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে দিয়েছেন। তাকে গোপন নজরদারিতে রাখা হয়েছে, তার কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনের আশা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও এ ধরনের দ্রুত অভিযান চলমান থাকলে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। মোংলার সাধারণ মানুষ এবিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, তারা মনে করেন such পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বাজারের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে।

  • কয়রায় ৯৭% পরিবার জলবায়ু ঝুঁকিতে, দক্ষিণ বেদকাশী সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ

    কয়রায় ৯৭% পরিবার জলবায়ু ঝুঁকিতে, দক্ষিণ বেদকাশী সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ

    জেলার কয়রা উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাবের কারণে পুরো কমিউনিটি এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার কারণে প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে দুর্বল অবকাঠামো, লিঙ্গ বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যই অন্যতম।

    জাগ্রতা যুব সংঘ (জেজেএস), জাপানের শাপলা নীড়ের সহযোগিতা এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (সিআরএ) প্রতিবেদন থেকে এই দুর্যোগের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি উঠে এসেছে।

    গতকাল বুধবার নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত মিডিয়া সংলাপে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন এবং প্রভাষক মোঃ রিমু মিয়া।

    সংলাপে সক্রিয় ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম নূর, সংবাদকর্মী এইচএম আলাউদ্দিন, মোসাদ্দেকুর রহমান, মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, আবু হেনা মোস্তফাজামাল পপলু, শেখ আল এহসান, দিপংকর রায় ও আয়শা আক্তার জ্যোতি।

    সংলাপে গাছ লাগানো, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের উপর জোর দেওয়া হয় যেন পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। গবেষকদের মতে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল মিশ্র পদ্ধতিতে এই জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ও সদর ইউনিয়নের মোট ৩৮৩ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে জরিপ, পাশাপাশি ১২টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, কয়রার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো লবণাক্ততা (৮৪.৯%) এবং ঘূর্ণিঝড় (৭৪.৭%)। বিশেষ করে মে ও নভেম্বর মাসে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। জরিপে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ পরিবার এখনো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে এবং ৬০.৩ শতাংশের কোন উঁচু ভিত্তি নেই, যা বন্যার সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। দুর্ঘটনার সময় ৮২.৮ শতাংশ মানুষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে জরুরি সেবা পৌঁছাতে সময় লাগে।

    লিঙ্গভিত্তিক তফাৎও স্পষ্ট, যেখানে ৮৯.৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, সাইক্লোন শেল্টারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও আলাদা স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেক নারী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ায় অনিহা প্রকাশ করেন এবং হয়রানির আশঙ্কায় তারা উপেক্ষা করেন।

    আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আগে বা পরেই অনেক পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে। জরিপে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে ৭৫ শতাংশ পরিবার ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার বড় অংশ উচ্চ সুদের ঋণ।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭৫.৭ শতাংশ মানুষ ইউএডিসি (ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি) সম্পর্কে জানে না, যা দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিকল্পনাগত ঘাটতি প্রকাশ করে।

    জনপ্রিয় এই সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ বেদকাশী (৪৭.২৪) এলাকাটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে কয়রা সদর তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ (৩৮.৭৪)।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, ম্যানগ্রোভ বনায়ন, লবণমুক্ত পানির সরবরাহ, নারীবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।

    অতিরিক্ত, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম সক্রিয় করা, নিয়মিত জনসম্পৃক্তি সভা আয়োজন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকলে কয়রার মানুষ জলবায়ু সংকট আরও দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর হতে পারে। যুদ্ধকালীন তীব্রতার সাথে তাদের জন্য টেকসই ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেন এই ঝুঁকি কমানো যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব হয়।

  • নড়াইলে ৩ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

    নড়াইলে ৩ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

    নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় তিন মাস বয়সী এক শিশु কন্যা তাবাসসুমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা, আরিফা বেগের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ ওই শিশুর মা আরিফাকে আটক করেছে এবং তার জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে, উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ওলি মিয়া।

    সূত্রে জানা গেছে, তাবাসসুমের বাবা-মা উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামে থাকেন। তার বাবা কুয়েত প্রবাসী মানিক চান মোল্যা। প্রবাসী হওয়ার সুবাদে মূলত বিয়ের পর থেকেই সন্তান বাংলাদেশের বাড়িতে থাকতেন। গত কয়েকদিন আগে আরিফা তার মেয়েকে নিয়ে শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীর মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আরিফা নিজের মেয়েকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছে। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ একই সঙ্গে মা আরিফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

    নিহত শিশুর চাচা শামীম মোল্যা বলেন, ‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন করে জানিয়েছিল ওরা বাড়িতে আসবে। কিন্তু আজ ভোরে আলোকদিয়া থেকে ফোন করে জানানো হয়, আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে। আমি এসে দেখেছি, গলার দুই পাশে দাগ পড়ে আছে।’

    পুলিশের ওসি মো. ওলি মিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুর মা আরিফাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন।

  • অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

    অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে ২৭۶৯ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি, সরকার আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এটি একটি অসাধারণ অঙ্গীকার যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের একজন লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংসদ অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়।

    অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশের মানুষ গড়ে ২৭৬৯ ডলার আয় উপভোগ করছেন। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও বেশি অগ্রসর হওয়ার, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলাই সরকারের মূল পরিকল্পনা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং স্পোর্টস ইকোনমিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার কেবল কোন খাতে নির্ভর করছে না বলেও অর্থমন্ত্রী জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কর্মসংস্থান বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি ও প্রবাস আয় বাড়ানো, পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও লক্ষ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হচ্ছে।

    সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো: বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়া। এছাড়াও শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করা, শিল্পে উৎসাহ দেওয়া এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে এসএমই খাতের উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা আরও স্বয়ম্ভর হন। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজতর করার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

    এই সকল পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সম্পর্কেও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিছু উদ্যোগ এই অর্থবছরেই কার্যকর হবে। বাকিগুলোর জন্য পরিকল্পনা রয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমিক সম্পন্ন করার।

    অর্থমন্ত্রী বলছেন, এই সব সমন্বিত উদ্যোগ স্বার্থে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকবে এবং একই সাথে ২০৩৪ সালের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হবে।