Author: bangladiganta

  • মেসির ভারতের সফর এবং কলকাতা অনুষ্ঠানের বিবরণ প্রকাশ

    মেসির ভারতের সফর এবং কলকাতা অনুষ্ঠানের বিবরণ প্রকাশ

    ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির এক অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পেছনের কারণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর জেরায় তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও অবাঞ্ছিত স্পর্শে তিনি খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ত্যাগ করেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবল কিংবদন্তী।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু দত্ত বলেন, “মেসি পিঠে হাত দেওয়া বা জড়িয়ে ধরা পুরোপুরি অপছন্দ করেন।” তিনি আরো জানান, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিদেশি নিরাপত্তাকর্মীরা আয়োজকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

    দত্তের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শকদের সংযত ও শান্ত থাকার জন্য মাইকিং করা হলেও কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, “যেভাবে মেসিকে ঘিরে ধরা হয়েছিল, সেটি তার জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল।” পরিস্থিতি এতটাই বিঘ্নিত হয় যে, মেসি নিজেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

    অনুষ্ঠানের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে মেসির কাছাকাছি দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি বলছে, ছবি তোলার সময় অরূপ বিশ্বাস মেসির কোমরে হাতে রাখেন। এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি, পরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পায়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দত্তের দাবি, প্রথমে মাত্র ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সেই সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে পুরো অনুষ্ঠান পরিকল্পনাবহির্ভূত হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।

    দত্ত আরও দাবি করেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তির মাঠে পৌঁছানোর পর পুরো পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অব্যবস্থাপনায় পড়ে যায়, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ এখন যাচাই করছে, পাসের সংখ্যাবর্ধনের জন্য মূল কারণ কি ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।

    সাক্ষাতকারে দত্ত আরও জানান, মেসির ভারত সফরের জন্য তাকে মোট ৮৯ কোটির টাকাপয়সা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি ভারত সরকার কর হিসেবে ১১ কোটি টাকা levied করে। সব মিলিয়ে এই সফরে ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা, যার প্রায় ৩০ শতাংশ আসে স্পনসরদের কাছ থেকে, এবং বাকি ৩০ শতাংশ আসে টিকিট বিক্রির থেকে।

    এসআইটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দত্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটির বেশি টাকা জব্দ হয়েছে। শুক্রবার তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ বেশ কিছু আর্থিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। দত্তের দাবি, তার অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ এসেছে টিকিট বিক্রি, স্পনসরদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা এবং আয়োজকৃত মেসি ইভেন্টের অন্যান্য সামগ্রী থেকে। তবে তদন্তকারীরা এই দাবি যাচাইয়ে কাজ করছেন।

    উল্লেখ্য, সল্টলেক স্টেডিয়ামের ওই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার দর্শক উচ্চমূল্যের টিকিট কিনেছিলেন। তবে, দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে মাঠের ভেতর থেকে মেসিকে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি, যার ফলে অনেক দর্শক মনে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে কিছু অংশ স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়।

    এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে, যেখানে রয়েছেন পীযূষ পাণ্ডে, জাভেদ শামিম, সুপ্রতিম সরকার ও মুরলিধর। ভাঙচুরের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অনুমতি লঙ্ঘন ও আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা—সব বিষয়ই এখন এই দলের তদন্তের আওতায়।

  • সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মারিয়া সোল, স্থগিত হলো বিয়ের অনুষ্ঠান

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মারিয়া সোল, স্থগিত হলো বিয়ের অনুষ্ঠান

    যুক্তরাষ্ট্রে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন লিওনেল মেসির বোন মারিয়া সোল মেসি। দুর্ঘটনার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আগামী মাসে নির্ধারিত ছিল যে বিয়ের অনুষ্ঠান, সেটি আপাতত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন পরিবার।

    খবর অনুযায়ী, মায়ামিতে গাড়ির চালানোর সময় মারিয়া সোলের উপর গাড়ি চাপা পড়ে। এতে তার মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। চিকিৎসকদের সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।

    আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক অ্যাঞ্জেল দে ব্রিতো বলেন, লিওনেল মেসির মা সেলিয়া কুচিত্তিনি মারিয়া সোলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় মারিয়া সোলের মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সাথে তার গোড়ালি ও কবজির হাড়েও ফাটল ধরা পড়েছে।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় মারিয়া সোল অজ্ঞান হয়ে যান এবং একটি দেয়ালে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তার শরীরে দগ্ধের কিছু চিহ্নও রয়েছে, যা চিকিৎসায় কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তিনি আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন।

    আগামী ৩ জানুয়ারি রোজারিও শহরেই তার বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মেসি পরিবারের সদস্যরা ও লিওনেল মেসিও। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তার জন্য বিয়ের অনুষ্ঠান থামিয়ে রাখা হবে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    মারিয়া সোল পেশাগত জীবনে একজন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। তার নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে এবং মাঝে মাঝে তিনি ভাই লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে সম্পৃক্ত থাকেন। ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত গণমাধ্যমের আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন তিনি।

    দুর্ঘটনার পর মেসি পরিবার থেকে ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মারিয়া সোলের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • মদ্যপ অবস্থায় পথ হারিয়ে ফেলেছেন ইংলিশ ক্রিকেটার, ভিডিও ভাইরাল

    মদ্যপ অবস্থায় পথ হারিয়ে ফেলেছেন ইংলিশ ক্রিকেটার, ভিডিও ভাইরাল

    মাত্র ১১ দিনে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ সিরিজে হেরেছে প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ইংলিশ ক্রিকেটার বেন ডাকেটের একটি ভিডিও, যা ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে দেখা যায়, অতিরিক্ত মদ্যপান করে হারিয়ে ফেলেছেন তার পথ। ভিডিওটির সত্যতা এখন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) যাচাই করছে।

    মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক ভিডিও সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। এই ভিডিও আগে ঘটে স্থানীয় তৃতীয় টেস্টের আগে। এতে দেখা যায়, ডাকেট মদ্যপ অবস্থায় একদল মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি কোথায় আছেন। যখন তাকেAsked about his location, he responds that he doesn’t know. এ সময় একজন তাকে কৌতুক করে বলেন, ‘নেটে যাওয়ার জন্য তোমাকে একটা উবার ডেকে দিই, নাকি? সেটা হয়তো ভালো হবে।’ ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার কিছু ঘন্টা পরে বোর্ডের পক্ষ থেকে Ian Watmore, ইসিবির শরীরবৃত্তীয় বিষয়সম্পর্কিত উপদেষ্টা, বলেছিলেন যে, সানশাইন কোস্ট রিসোর্টের সফরটি নিয়ে তদন্ত করা হবে।

    সফরের সময় চার দিন ব্যাহত হয়। এই সফরটি ইসিবি কেউ ছুটি হিসেবে গণ্য করেনি। এক বছর আগে দলটির প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এই পরিকল্পনা করেছিলেন মূলত খেলোয়াড়দের সতেজ করতে। তখন কোনো অনুশীলনসূচিও ছিল না।

    অন্যদিকে, পরবর্তী টেস্টে অ্যাডিলেডে ভালো পারফরম্যান্স করেও ইংল্যান্ড হেরেছে ৮২ রানে। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১ দিনেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    মেলবোর্নে শুরু হতে যাওয়া চতুর্থ টেস্টের আগে রব কি বলেন, এই সফরটি তিনি গভীরভাবে তদন্ত করবেন। তবে তার বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা ‘অসাধারণ আচরণ’ করেছে।

    অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বেন ডাকেট, যে ইংল্যান্ডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়, কিন্তু অ্যাশেজে এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তিনি এখন পর্যন্ত ৩ টেস্টে মোট ৯৭ রান করেছেন, গড় ১৬.১৬, এবং সর্বোচ্চ ২৯ রান।

  • ইসরায়েল ও হামাসের তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি, বিশ্বনেতাদের প্রশংসা

    ইসরায়েল ও হামাসের তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি, বিশ্বনেতাদের প্রশংসা

    ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রোববার থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে, এবং বিশ্বনেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রancsের রাষ্ট্রপ্রধানরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পদক্ষেপ গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার পথ প্রশস্ত করবে।

    হামাসের নেতা বাসাম নাইমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি ধাপের মোট সময়কাল হবে ৪২ দিন।

    প্রথম ধাপ: আগামী রোববার থেকে ৩৩ জন জিম্মিকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে। প্রথম দিন মুক্তি পাবে তিন নারী জিম্মি। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

    দ্বিতীয় ধাপ: এই পর্যায়ে স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করবে। বিনিময়ে হামাস তাদের জীবিত পুরুষ ও সেনাদের মুক্তি দেবে।

    তৃতীয় ধাপ: এই পর্যায়ে নিহতদের মৃতদেহ বা অবশিষ্টাংশ বিনিময় করা হবে, পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা শুরু হবে।

    জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ এ চুক্তিকে ‘শান্তির দ্বার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে বলেন ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুসংবাদ’, এবং তিনি গাজায় দ্রুত মানবিক সহায়তা পাঠানোর উপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, দুই-রাষ্ট্রের সমাধানের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তির বিষয়টি পুনরায় মনে করিয়ে দিলেন।

    গত আগস্টে নিহত ইসরায়েলি-আমেরিকান জিম্মি হার্শ গোল্ডবার্গের পরিবারও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা করছে, এই চুক্তির জন্য অন্তত অন্য পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পাবে এবং নিহতদের যথাযথ সমাহিত করা সম্ভব হবে। তবে, তারা কাতার, মিশর এবং মার্কিন প্রশাসনের নজরদারির প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যেন চুক্তি মাঝপথে বাধার সম্মুখীন না হয়।

    বর্তমানে হামাসের কাছে আরও অন্তত ৯৪ জন জিম্মি বন্দি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

  • যুক্তরাজ্যে গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার

    যুক্তরাজ্যে গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার

    ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের পুলিশ গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তরুণ অধিকারকর্মীর হাতে দেখা গিয়েছিল একটি প্ল্যাকার্ড, যার ওপর লেখা ছিল, ‘আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক এবং গণহত্যার বিরোধী।’ মঙ্গলবার মধ্য লন্ডনের আসপেন ইনসিওরেন্স অফিসের সামনে ফিলিস্তিনপন্থিরা এই বিক্ষোভ চালিয়েছিলেন, যেখানে গ্রেটাও অংশ নিয়েছিলেন। লন্ডন সিটি পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যক্তিটির নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে এই বিক্ষোভের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, জুলাই মাস থেকে যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এবং এই ধরনের অর্থাৎ প্যালেস্টাইন সমর্থকদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কয়েক শ’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই।

  • ভারত سے ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক তদন্তের দাবি

    ভারত سے ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক তদন্তের দাবি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্তের জন্য ভারতের কাছ থেকে জোরালো দাবি জানিয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা পিটিআই জানা গেছে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হাদিমুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। এই বৈঠকে তাকে শহীদ হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও বিবরণী তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

    বার্তাসংস্থা প্রবীণ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হাদিকে হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগ ওঠার পর নয়াদিল্লি বাংলাদেশকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার অনুরোধ করলো। শহীদ হাদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা করা হয় এবং তার মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারত বিরোধী মিছিল ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের প্রতি নাখোশের মনোভাব বাড়ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    আরও জানা গেছে, এর আগেও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব তাঁকে ডেকে জানিয়েছিলেন, শিলিগুড়ি ও ঢাকা অঞ্চলের বাংলাদেশি কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সাথে দেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জোর দাবি জানানো হয়।

    ২৯ নভেম্বর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রণয় ভার্মাকে আবারো তলব করা হয়েছিল। এরপর ১৪ ডিসেম্বর আবারো তাঁকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ। এ সবকিছুই 보여 দেয় বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, শহীদ হাদিকে হত্যার পর ভারতের দূতাবাসের সামনে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই ঘটনার পর বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে।

  • ত্রিপুরায় মোতায়েন ভারতীয় সেনা ব্যাটালিয়ন: ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

    ত্রিপুরায় মোতায়েন ভারতীয় সেনা ব্যাটালিয়ন: ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

    বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় বিশেষ একটি সেনা ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তিনি জানান, পাকিস্তানের বা অন্য কোন বাহিনীর ষড়যন্ত্র ঠেকাতে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব সেনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের সেনাবাহিনীর অংশ ছিল এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, সেই সেনাদের একটি ব্যাটালিয়ন বর্তমানেও ত্রিপুরায় অবস্থান করছে। 

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনার মাউন্টেন ডিভিশন, বিশেষ করে ২০তম, ৮ম, ৬ষ্ঠ ও ৪র্থ ডিভিশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা বর্তমান বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে সেনা উপস্থিতি অনেকেরই একদম স্পষ্ট নয়, কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের জন্য শারীরিক উপস্থিতির আবশ্যকতা তাদের নেই। তিনি দেন ‘অপারেশন সিন্দুর’ এর উদাহরণ হিসেবে, যেখানে এক ক্লিকে শত্রু ধ্বংস সম্ভব হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশে চলমান অস্থিতিশীলতার পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তার মতে, শেখ হাসিনাকে আন্দোলন থেকে সরাতে ব্যর্থ হলে বিভিন্ন মৌলবাদী, অপরাধী এবং চোর বাংলাদেশের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে। আরও তিনি উল্লেখ করেন, মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়াও ভারতের বিরোধী শক্তির পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত তিনি বোঝান, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ত্বে ভারতের সুরক্ষা পুরোপুরি নিশ্চিত এবং দেশের দায়িত্বশীল নেতৃত্বে দেশ নিরাপদে রয়েছে।

    এদিকে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা জটিলতা বিবেচনায় ভারত সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান ভারতীয় সেনা ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সংলগ্ন দক্ষিণ ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তারা করোনিয়া মহকুমার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। ত্রিপুরার দীর্ঘ ৮৫৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের বড় অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন রয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর.সি. তিওয়ারি ও তার দল সীমান্তের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। অফিসাররা ভারতীয় সেনা, আসাম রাইফেলস ও বিএসএফের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি দেখেন এবং প্রশংসা করেন তাদের পেশাদারিত্বের জন্য। এভাবে, ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনা প্রধান

    তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনা প্রধান

    তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মед আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ চারজন লিবিয়ান কর্মকর্তা শাহাদাতবরণ করেছেন। এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এই দুর্ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করেন এবং জানান, আঙ্কারাতে থেকে ফিরছিলেন ওই বিমানে।

    প্রথমে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় যখন এটি আঙ্কারার উদ্দেশে যাত্রা করছিল। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি আমাদের কাছে এক গভীর শোকের ঘটনা। দেশের জন্য, সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি বিশাল ক্ষতি। আমরা এমন সাহসী ব্যক্তিদের হারালাম যারা আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে দেশের সেবা করে গেছেন।’

    অন্য নিহতরা হলেন গ্রাউন্ড ফোর্সেস চিফ অফ স্টাফ আল-ফিতৌরি ঘারিবিল, মিলিটারি ম্যানুফ্যাকচারিং অথরিটির পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাউই, আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব এবং এক মিলিটারি ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে একজন তুর্কি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটির মধ্যে তিনজন ক্রু সদস্যও ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে বিমানটি বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দিলে তারা জরুরি অবতরণের জন্য আবেদন করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক ফিরে আসতে পারেননি।

    প্রেসিডেন্সির কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, মোহাম্মদ আল-হাদ্দাদসহ তার চার সহযোগী এবং তিন ক্রু নিয়ে ওই প্রাইভেট জেট বিমানটি উড়ছিল। কিছুক্ষণ পরই বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে তারা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে জানায় এবং জরুরি অবতরণের অনুরোধ করে।

    তুরস্কের আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, বিমানটি আঙ্কারার হয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির উদ্দেশে উড়ছিল এবং কেসিককাভাক গ্রামসংলগ্ন হায়মানা অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।

    তুরস্কের একজন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন, এই দুর্ঘটনার ফলে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সন্ত্রাস বা অন্য ধরনের হামলার সন্দেহ পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, এই সফরে আসা লিবিয়ার সেনা প্রধান ও তার সঙ্গীরা আঙ্কারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বৈঠক করতে যান। তারা যে প্রাইভেট জেটে করে তুরস্কে এসেছিলেন, সেটি ছিল লিবিয়ার সরকারের ভাড়া করা একটি বিমান।

  • রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে গণতন্ত্রপ্রেমীদের একত্রীকরণ জরুরি

    রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে গণতন্ত্রপ্রেমীদের একত্রীকরণ জরুরি

    আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রকামী সব মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের ভয়াবহ দমন-পীড়ন থেকে দেশ মুক্ত হলেও এখনও কিছু অসাধু মহল এই অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এই চক্রান্তের জন্য তারা বারবার নির্বাচন প্রতিহত করতে চাইছে। এতে করে দেশের গণতন্ত্রের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মঞ্জু সতর্ক করে বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো আবার পুনর্বাসিত হতে চাইছে এবং যারা তাদের পুনর্বাসন করতে আগ্রহী, তারা আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বারবার দুর্বিষহ করে তুলছে। আমাদের অবশ্যই স্পষ্ট থাকতে হবে, এই ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে গিয়ে সকল গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষকে এক ও অভিন্ন হয়ে উঠতে হবে। দল বা সংগঠনের নয়, দেশের স্বার্থে সবাইকে একসাথে এ হাঁটতে হবে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র ধুলিসাৎ হবে এবং দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

    গতকাল বুধবার খুলনা শপিং কমপ্লেক্স এবং খেলাধুলা মার্কেটের দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দর্শন করে কুশল বিনিময় করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর পরে, বাদ মাগরিব, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দের আয়োজনে দক্ষিণ টুটপাড়া খ্রিস্টান কলোনীতে এক আলোচনা সভার আয়োজন হয়। এ সময় কলোনীর সভাপতি দীলিপ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে জন হাজরা পরিচালিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, নেত্রীরা ও ব্যবসায়ীরা। সবাই মিলিতভাবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহবান বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে

    দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহবান বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে

    জামায়াতের এক সর্বভারতীয় নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য জরুরি যে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সুস্থ, ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষিত রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাবটি রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে পাস করেছে, যা সম্প্রতি জাতির কাছে “সংস্কার সংক্রান্ত সনদ” হিসেবে গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আগামী গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি জনগণের প্রতি আহবান জানান, এই মহাণ সময়ে তাদের ভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য, কারণ এর মানে হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে, নিপীড়ন, দলীয় রাজনীতি, ভিন্নমতের দমন-নিপীড়ন, বিচারপ্রক্রিয়া, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পক্ষে সমর্থন করা। একুশ শতকের আধুনিক সমাজের জন্য এই পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যেন এই গণভোটে সার্বজনীনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যায়, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার ভোর ১১টায় খুলনা-৫ আসনের Dümuria উপজেলার সরকারি শাহপুর মধুগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শাহপুর ইউনিয়ন ১, ২, ৩ ও ১২ নং ওয়ার্ডের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ এবং পরিচালনা করেন উপজেলা যুব সভাপতি বিএম আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আজম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, ওয়াকিবের প্রতিনিধি এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা। এছাড়া বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা হিন্দু শাখার সভাপতি ডাঃ হরিদাস মন্ডল, উপজেলা সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাস্টার মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, শেখ বিল্লাহ হোসেন, আরও অনেকে।

    এর আগে সকাল ৯টায় ফুলতলা উপজেলা ওয়ার্ড প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এই ভোটে “হ্যাঁ” বলাই হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গাউসুল আজম হাদী, জেলা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছাত্র অধিকার পরিষদের এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা।

    দুপুর ৩টায় ডুমুরিয়া কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের পরিচালনায় ওয়ার্ড প্রতিনিধি সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে এই গণভোট একটি বড় ধাপ। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে আসার। আরো বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মেজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, সহ অন্যরা। বক্তব্য দেন উপজেলা নায়েবে আমীর মোআল্লা সাইফুল্লাহ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ মন্ডল, ও অন্যান্য।

    সন্ধ্যায় ৭টায় ফুলতলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেকের বাড়ির আঙিনায় সহযোগী সদস্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল। এছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, খানজাহান আলী থানার আমির ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন ও হাফেজ গোলাম মোস্তফা। দু’দুটি অনুষ্ঠানে সব অংশগ্রহণকারী সকলের উদ্দেশ্যে মূল ভাবনা ছিল: এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের জন্য একটি নতুন দিন শুরু করা।