খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্যদের পরিচয় ও স্বাগত সভা গতকাল বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মুন্না, এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন। সভার শুরুতেই তেলাওয়াত হয় কোরআন থেকে, যা শোভা বাড়ায় অনুষ্ঠানের পরিবেশকে। এরপর নতুন সদস্যদের পরিচিতি পর্ব চলতে থাকে, যেখানে তারা নিজেরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা ব্যক্ত করেন। সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বৈশাখী উৎসবের আয়োজনসহ সংগঠনের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা। এছাড়াও বক্তৃতা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদ সোহেল, কোষাধ্যক্ষ একরামুল হোসেন লিপু, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানজিম আহমেদ, নির্বাহী সদস্য সোহেল মাহমুদ, হুমায়ুন কবীর, এস এম মাহবুবুর রহমান। নতুন সদস্যরা তাদের বক্তব্য রাখেন কামাল মোস্তফা, মাসুম বিল্লাহ, জিএম রাসেল, শাহরিয়ার হোসেন মানিকসহ আরও অনেকেই। এই সভা সংগঠনের ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
Author: bangladiganta
-

সাতক্ষীরায় ভোজ্য তেল মজুদ রেখে মূল্য বৃদ্ধি 돼, দুই ব্যবসায়ীর জরিমানা
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে ভোজ্য তেল মজুদ রাখার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাজারে দামের বৃদ্ধি করার অভিযোগে দুইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে তারা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে অবস্থিত মেসার্স হাজী ট্রেডার্সে ৪২১ ব্যারেল এবং মেসার্স সাধু স্টোরে ২০৪ ব্যারেল বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেলের উপস্থিতি দেখতে পান। মনে করা হচ্ছে, এই সংরক্ষণাগারে রাখা তেল বাজারে দ্রুত সরবরাহ না করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স হাজী ট্রেডার্সকে ২০ হাজার এবং মেসার্স সাধু স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি তারা দোকানগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল দ্রুত বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেন।
র্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মুহাম্মদ যিয়াদ বলেন, এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল গোডাউনে জমা রেখে কৃত্রিমভাবে বাজারে দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে গড়ে লিটার প্রতি পাইকারি থেকে খুচরা মূল্য পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও প্রতারক ও অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। -

বহু লিটার জ্বালানি ও ভোজ্য তেল জব্দ, জরিমানা আরোপ
মোংলা শহরে অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয় র্যাব ও উপজেলা প্রশাসন একত্রে। গোপন তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার বিকেলে মোংলা বন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযানে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়, পাশাপাশি অবৈধ মজুদকারীদের বড় অংকের জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবৈধভাবে সংরক্ষিত এ তেল দ্রুত বাজারে বিক্রি করে সংকট কেটে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে মোংলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ করে আসছিল। এই সংবাদের প্রমাণের জন্য জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) একটি বিশেষ দল তথ্য সংগ্রহে নিযুক্ত হয়। পরে র্যাব-৬ এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসিনা অরিফ। এ সময়, সিন্ডিকেট তৈরি করে রাখা ব্যবসায়ী ‘ইউছুপের তেলের গোডাউন’ থেকে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় বড় পাইকারি দোকান, মুদি বাজারের সোভা স্টোর, এবং জালাল স্টোরের কাছ থেকে আরও বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত তেলগুলোর কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না এবং ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ করার কারণও উপস্থাপন করতে পারেনি। মূলত, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে তারা এই তেল মজুদ করেছিল।
অভিযান চলাকালে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে তেল মজুদ এবং সঠিক মূল্য তালিকা না দেখানোর অপরাধে বিভিন্ন দোকান ও গুদামের মালিকদের জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইউছুপের ‘গোডাউন’ থেকে ৫০ হাজার, জালাল স্টোর থেকে ৬০ হাজার, সোভা স্টোর থেকে ১৫ হাজার টাকা, এবং একটি মোটরজান থেকে এক হাজার টাকা সহ মোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এছাড়াও, জব্দকৃত তেলগুলো অবিলম্বে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তা বাজারে সংকট সৃষ্টি না করে।
আন্তঃত এই অভিযান শেষে, র্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ী ইউছুপকে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে দিয়েছেন। তাকে গোপন নজরদারিতে রাখা হয়েছে, তার কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনের আশা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও এ ধরনের দ্রুত অভিযান চলমান থাকলে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। মোংলার সাধারণ মানুষ এবিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, তারা মনে করেন such পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বাজারের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে।
-

কয়রায় ৯৭% পরিবার জলবায়ু ঝুঁকিতে, দক্ষিণ বেদকাশী সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জেলার কয়রা উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাবের কারণে পুরো কমিউনিটি এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার কারণে প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও নানা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে দুর্বল অবকাঠামো, লিঙ্গ বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যই অন্যতম।
জাগ্রতা যুব সংঘ (জেজেএস), জাপানের শাপলা নীড়ের সহযোগিতা এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (সিআরএ) প্রতিবেদন থেকে এই দুর্যোগের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি উঠে এসেছে।
গতকাল বুধবার নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত মিডিয়া সংলাপে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন এবং প্রভাষক মোঃ রিমু মিয়া।
সংলাপে সক্রিয় ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম নূর, সংবাদকর্মী এইচএম আলাউদ্দিন, মোসাদ্দেকুর রহমান, মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, আবু হেনা মোস্তফাজামাল পপলু, শেখ আল এহসান, দিপংকর রায় ও আয়শা আক্তার জ্যোতি।
সংলাপে গাছ লাগানো, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের উপর জোর দেওয়া হয় যেন পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। গবেষকদের মতে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল মিশ্র পদ্ধতিতে এই জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ও সদর ইউনিয়নের মোট ৩৮৩ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে জরিপ, পাশাপাশি ১২টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, কয়রার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো লবণাক্ততা (৮৪.৯%) এবং ঘূর্ণিঝড় (৭৪.৭%)। বিশেষ করে মে ও নভেম্বর মাসে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। জরিপে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ পরিবার এখনো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে এবং ৬০.৩ শতাংশের কোন উঁচু ভিত্তি নেই, যা বন্যার সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। দুর্ঘটনার সময় ৮২.৮ শতাংশ মানুষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে জরুরি সেবা পৌঁছাতে সময় লাগে।
লিঙ্গভিত্তিক তফাৎও স্পষ্ট, যেখানে ৮৯.৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, সাইক্লোন শেল্টারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও আলাদা স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেক নারী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ায় অনিহা প্রকাশ করেন এবং হয়রানির আশঙ্কায় তারা উপেক্ষা করেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আগে বা পরেই অনেক পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে। জরিপে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে ৭৫ শতাংশ পরিবার ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার বড় অংশ উচ্চ সুদের ঋণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭৫.৭ শতাংশ মানুষ ইউএডিসি (ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি) সম্পর্কে জানে না, যা দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিকল্পনাগত ঘাটতি প্রকাশ করে।
জনপ্রিয় এই সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ বেদকাশী (৪৭.২৪) এলাকাটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে কয়রা সদর তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ (৩৮.৭৪)।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, ম্যানগ্রোভ বনায়ন, লবণমুক্ত পানির সরবরাহ, নারীবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
অতিরিক্ত, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম সক্রিয় করা, নিয়মিত জনসম্পৃক্তি সভা আয়োজন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকলে কয়রার মানুষ জলবায়ু সংকট আরও দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর হতে পারে। যুদ্ধকালীন তীব্রতার সাথে তাদের জন্য টেকসই ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেন এই ঝুঁকি কমানো যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব হয়।
-

নড়াইলে ৩ মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় তিন মাস বয়সী এক শিশु কন্যা তাবাসসুমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা, আরিফা বেগের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ ওই শিশুর মা আরিফাকে আটক করেছে এবং তার জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে, উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ওলি মিয়া।
সূত্রে জানা গেছে, তাবাসসুমের বাবা-মা উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামে থাকেন। তার বাবা কুয়েত প্রবাসী মানিক চান মোল্যা। প্রবাসী হওয়ার সুবাদে মূলত বিয়ের পর থেকেই সন্তান বাংলাদেশের বাড়িতে থাকতেন। গত কয়েকদিন আগে আরিফা তার মেয়েকে নিয়ে শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীর মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আরিফা নিজের মেয়েকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছে। এরপর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ একই সঙ্গে মা আরিফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
নিহত শিশুর চাচা শামীম মোল্যা বলেন, ‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন করে জানিয়েছিল ওরা বাড়িতে আসবে। কিন্তু আজ ভোরে আলোকদিয়া থেকে ফোন করে জানানো হয়, আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে। আমি এসে দেখেছি, গলার দুই পাশে দাগ পড়ে আছে।’
পুলিশের ওসি মো. ওলি মিয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুর মা আরিফাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন।
-

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় পৌঁছেছে ২৭۶৯ মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি, সরকার আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এটি একটি অসাধারণ অঙ্গীকার যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের একজন লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংসদ অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশের মানুষ গড়ে ২৭৬৯ ডলার আয় উপভোগ করছেন। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও বেশি অগ্রসর হওয়ার, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলাই সরকারের মূল পরিকল্পনা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং স্পোর্টস ইকোনমিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার কেবল কোন খাতে নির্ভর করছে না বলেও অর্থমন্ত্রী জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কর্মসংস্থান বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি ও প্রবাস আয় বাড়ানো, পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও লক্ষ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো: বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়া। এছাড়াও শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করা, শিল্পে উৎসাহ দেওয়া এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে এসএমই খাতের উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে তারা আরও স্বয়ম্ভর হন। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজতর করার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।
এই সকল পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সম্পর্কেও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিছু উদ্যোগ এই অর্থবছরেই কার্যকর হবে। বাকিগুলোর জন্য পরিকল্পনা রয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমিক সম্পন্ন করার।
অর্থমন্ত্রী বলছেন, এই সব সমন্বিত উদ্যোগ স্বার্থে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকবে এবং একই সাথে ২০৩৪ সালের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হবে।
-

সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা ও এস আলমের অংশ
২০২৫ সালের শেষের দিকে দেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বলছেন, ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্র“পের মালিকানা। সংসদে আলোচনাকালে কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও তাদের ঋণের পরিমাণের কথা বলা হলেও মোট পরিমাণের কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি অর্থমন্ত্রী। শীর্ষ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে সিকদার গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গোষ্ঠীর দু’টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও, বিএনপি’র সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল)-এর নাম শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় উঠে এসেছে।
-

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট উৎপাদনের হার আবারও কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। এর আগে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ, এবং গত অর্থবছরের একই সময় এটি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই সময়ের তুলনায় চলতি প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতির গতি বেশ নিম্নমুখী। এই বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেও দেশের অর্থনীতি সংকটাপন্ন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের উপর যৌথ হামলা চালালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত অর্থায়ন সম্ভব হয়নি। এসব কারণের প্রভাবে দেশের জিডিপির বৃদ্ধির হার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিবিএসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে, যেখানে হার কেবল ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ, আর সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। এর আগে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছিল। তবে চলতি প্রান্তিকে শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার সেভাবে বাড়েনি। কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এই বৃদ্ধির ধারায় এড়িয়ে গেলে, দেশের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্প খাতের এই কম প্রবৃদ্ধি সার্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
-

সোনার দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বাড়ল
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে, চলমান মূল্য পরিস্থিতির কারণে ভরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের গোল্ডের দাম পর্যায়ক্রমে বেড়ে এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি উল্লেখযোগ্য যে, গতকাল থেকে কার্যকর এই নতুন দাম।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শেয়ারবাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এই মূল্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে দেশের স্বর্ণকার, জুয়েলার্স ও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর।
নতুন দামে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের তুলনায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেশি। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দামে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির বা ঐতিহ্যবাহী ধারণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।
এছাড়াও, রুপার দামেও যথেষ্ট বৃদ্ধি হয়েছে। বুধার সূচনালগ্নে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা, যা আগের তুলনায় ৩৫০ টাকা বেশি। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার জন্য প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।
বাজুসের এই ঘোষণা বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আপডেট হয়েছে এবং ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সরবরাহ করেছে।
-

২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের সংকোচন
২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের এক কঠিন বছর। আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি ও নানা অস্থিরতার কারণে, স্বাভাবিক মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ১৭টি ব্যাংক। এছাড়াও, অন্য ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করেনি। এর প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে, যেখানে ব্যয় অর্ধেকে নেমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরে ব্যাংকগুলো এই খাতে দুই শঙ্কা পূর্ণ সূচক দেখিয়েছে।
২০২৫ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর), দেশের ৬১টি ব্যাংক মোটক্ষেত্রে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন আকারে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই কমতির হার অনেক বেশি, যা খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় হয়েছে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আর ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছরে এই খাতে ব্যয় কমে গেছে মোট ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশের বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই সংকুচিত ব্যয়ের বড় কারণ। ২০২৪ সালের জুন-জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, একাধিক ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত খবর প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্রটি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো কঠিন চাপের মুখে পড়ে, যেখানে ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে, দুর্বল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার একাধিক ব্যাংকের সংহতকরণে উদ্যোগ নেয়।
ব্যাংকাররা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সিএসআর ব্যয়ের এই সংকোচনের পেছনে বড় একটি কারণ হচ্ছে। আগে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের চাপ থাকত, যাতে ব্যাংকগুলোকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি বা অন্য খাতে অনুদান দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই ব্যয় প্রকৃত সিএসআর এর আওতায় পড়ত না। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন ও পরে সরকার পরিবর্তনের ফলে এই চাপ অনেকটাই কমে গেলে, ব্যাংকগুলো এখন বিবেচনা করে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এই ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, যা মূল লক্ষ্য—সামাজিক দায়বদ্ধতা—কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে খরচ করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ব্যয় হতে হবে শিক্ষা খাতে, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়। বাকি ২০ শতাংশ খরচ করা যাবে অন্যান্য দিকে।
তবে বাস্তবে দেখা যায়, এই নির্দেশনা যথাযতভাবে মানা হয়নি। ২০২۵ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ে সামান্য কিছু হয়েছে, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
এছাড়াও, এই বছর লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। সকলেই বিভিন্ন শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই বছরগুলোতে।
