Author: bangladiganta

  • বাঁশবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, পুলিশ কর্মকর্তা সহ নিহত দুজন

    বাঁশবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, পুলিশ কর্মকর্তা সহ নিহত দুজন

    নড়াইল-যশোর মহাসড়কে একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক ও বাসের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনার ফলে নিহত হলেন তিনজন। এর মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুজন বাসযাত্রী রয়েছেন। ঘটনাটি রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙুড়া বাজার এলাকায় ঘটে।

    সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এই দুর্ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নিক্কন আঢ্য (৩৫), যশোর শহরতলীর বসুন্দিয়া এলাকার আক্তার হোসেন, এবং যশোরের ভেকুটিয়া এলাকার আবু জাফর, যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় ঢাকা থেকে যশোরগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে বাসটি দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পিছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায় এবং ভেতরে বাঁশ ঢুকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আক্তার হোসেন। গুরুতর আহত হন আবু জাফর ও এসআই নিক্কন আঢ্য।

    আহতরা প্রথমে যশোরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আবু জাফর মারা যান। পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিক্কন আঢ্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এসআই নিক্কন আঢ্য যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নিশিকান্ত আঢ্যের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ৩৭তম ব্যাচের আউটসাইড ক্যাডেট। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রে যোগদান করেন। এর আগে তিনি র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি আদালত থেকে ফেরার পথে প্রাণ হারান।

    এসআই নিক্কনের মৃত্যুতে নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে এগিয়ে যান। পরিবারের মঞ্জুরিতে সোমবার সকালে জেলা পুলিশ লাইন্সে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, এরপর তার মরদেহ যশোরের পুকুরিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আশাকরি সেখানেই দুপুরের মধ্যে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

  • ৫ মাসের সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করলেন মা

    ৫ মাসের সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করলেন মা

    রংপুরের তারাগঞ্জে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে যেখানে পাঁচ মাসের নিজের শিশুসন্তানকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা তুলসি রানী পুতুলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে। ঘটনার খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক নিশ্চিত করেছেন।

  • শেখ মুজিবসহ হাসিনা ছিলেন সেনাবিদ্বেষী: মাহমুদুর রহমান

    শেখ মুজিবসহ হাসিনা ছিলেন সেনাবিদ্বেষী: মাহমুদুর রহমান

    ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারিবারিকভাবে সেনাবিদ্বেষী ছিলেন বলে সম্প্রতি স্বীকার করেন বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার পিতা, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, দুজনই সেনাবিরোধী মানসিকতা পোষণ করতেন। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক মামলার সাক্ষ্যদানকালে মাহমুদুর রহমান এসব কথা জানান।

    তিনি উচ্ছেদ করে বলেন, পিলখানায় দেশের সেনাবাহিনীকে নির্মমভাবে হত্যার পর শেখ হাসিনা বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন। তদ্ব্যতীত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    আজকের এই সাক্ষ্যদান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ের ঘটনার সামনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি এ মামলার ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান। এদিন, জনপ্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।

    গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মাহমুদুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ট্রাইব্যুনাল তাদের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করে দেয়।

    এর আগের দিন, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর, মামলার ১৪তম দিনে ছয়জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

  • নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ শুরু, ধাপে ধাপে পৌঁছাবে ভোটের সামগ্রী

    নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ শুরু, ধাপে ধাপে পৌঁছাবে ভোটের সামগ্রী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে নির্বাচনি সামগ্রী সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে এগিয়ে এগুলোর পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষণ করার জন্য। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচনি মালামাল সংরক্ষণ চলাকালে নির্বাচন ভবনের প্রতিটি কোণে এই দৃশ্য দেখা যায়।

    নির্বাচন কমিশনের উপসচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, লালগালা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, বড় হোসিয়ান ব্যাগ, ছোট হোসিয়ান ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদার কিছু অংশ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলছিলেন, বড় ও ছোট হোসিয়ান ব্যাগের চাহিদার সবগুলোই এখন দাখিল হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য মালামালও আসছে।

    এখন পর্যন্ত কেনাকাটা ও সরবরাহের মধ্যে রয়েছে আট ধরনের মালামাল। এর মধ্যে লালগালা ২৩ হাজার কেজি চাহিদার মধ্যে এক চতুর্থাংশই এখন পৌঁছে গেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের জন্য ৫০ লাখ লক চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। একইভাবে, ৮ লাখ ৪০ হাজার দফতরিক সিলের চাহিদার মধ্যে পাঁচ লাখের সরবরাহ শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই। মার্কিং সিলের চাহিদা ছিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার, তবে দেড় লাখ সামগ্রী সরবরাহ শুরু হয়েছে। ব্রাস সিলের চাহিদা নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার, তবে রিটেন্ডার হওয়ায় বেশ কিছু বিলম্ব হচ্ছে। গনি ব্যাগের চাহিদা ১ লাখ ১৫ হাজার, সেটিও এখন পর্যন্ত সরবরাহ শুরু হয়নি; কারণ রিটেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, বড় হোসিয়ান ব্যাগের চাহিদার সবটাই ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, যা ৭০ হাজারের বেশি। এছাড়া ছোট হোসিয়ান ব্যাগের জন্য চাহিদা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার, সেটিও সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

    অগাস্টের শুরুর দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম কেনাকাটা শেষ হবে। লোকাল পারসেজ প্রক্রিয়ায় আটটি আইটেমের মধ্যে একটির পুনরায় দরপত্র দিতে হয়েছে, তবে আমি বিশ্বাস করি সময়সীমার মধ্যে সব কিছুই শেষ হবে।

    প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথের জন্য ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন ২১ ধরনের সামগ্রী। রোজার আগে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছেন ইসি। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

  • মাদারীপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হলো হত্যা মামলার আসামিকে

    মাদারীপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হলো হত্যা মামলার আসামিকে

    মাদারীপুরের শিবচর বাজারে রাকিব মাদবর নামে একজন যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। রোববার রাত আটটার দিকে শহরের প্রধান সড়কের ইউসিবি ব্যাংকের সামনের এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে যায়। দ্রুত স্থানীয় মানুষ তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    রাকিব শিবচর উপজেলার চরশ্যামাইল এলাকার নাসির মাদবরের ছেলে। তিনি সম্প্রতি ইবনে ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। এই হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিবচর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

    শিবচর থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, রাত আটটার সময় রাকিবকে গিরিজাগামী পুলিশের সামনের সড়কে দেখা যায়। এ সময় পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে দ্রুত সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত হওয়া রাকিবকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি होয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পথে তার মৃত্যু হয়।

    ওসি আরো জানান, ঘটনাটির স taken সত্যতা নিশ্চিত করে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, এর পিছনে শত্রুতা ও পূর্বের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্তের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ৬ মে উপজেলার চরশ্যামাইল সর্দারকান্দি এলাকার কালাম সর্দারের ছেলে ইবনে সামাদকে এক দল লোক দুর্বৃত্তেয়ে কুপিয়ে আহত করে। এরপর তিনি ভর্তি ছিলেন ঢাকা মেডিকেলে। ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ইবনে সামাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে একজন ছিলেন রাকিব।

  • মানুষের জন্ম উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য: প্রধান উপদেষ্টা

    মানুষের জন্ম উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য: প্রধান উপদেষ্টা

    মানুষের জন্ম হয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য, কেবল চাকরি করার জন্য নয়—এ মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবন-২এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মানুষ কোনওভাবেই শুধু চাকরি করার জন্য জন্ম নেয়নি। বরং তার মূল লক্ষ্য হলো নিজে উদ্যোক্তা হওয়া। তাই আমাদের অবশ্যই সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে, যেন সবাই প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে অনেক রকমের উদ্যোক্তা দেখা যায়। আমরা কারও নাম বা তালিকা ধরে রাখিনি, কারণ জনগণের মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রযুক্তির ব্যবহার, যা আমাদের পৃথিবীর সঙ্গে আরও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত করে দিয়েছে। এখন প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারই অপরিহার্য।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাই প্রত্যেক মানুষ তার ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে যেখানে যেতে চায়, সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হোক। তিনিবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, পিকেএসএফ নতুন ভবনসহ নতুন যাত্রা শুরু করবে, যা দেশজুড়ে উদ্যোক্তা তৈরির পথ সুগম করবে এবং সত্যিই পরিবর্তনের সূচনা হবে।

  • ভাঙ্গায় অবরোধ অবিলম্বে তুলে না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ভাঙ্গায় অবরোধ অবিলম্বে তুলে না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ফরিদপুরে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে চলমান অবরোধের অবসান না ঘটালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব). আজ রোববার অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবিলম্বে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করতে না পারলে পুলিশের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সন্তোষজনক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান না হলে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘রাস্তাঘাট অবরোধ করে জনহরানির চেষ্টা কখনও কাম্য নয়। আন্দোলনকারীদের উচিত বিষয়টি যথাযথ চ্যানেলে নিষ্পত্তি করা। দুই ইউনিয়নের লোকজনের রাস্তাঘাট অবরোধ করে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে এই অবরোধ প্রত্যাহার না করলে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অবরোধ তুলে দেবেন।’ এই অবরোধ কার্যক্রমটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে তৃতীয় দফায় চলমান। আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গায় দুটি মহাসড়ক ও রেলপথের অন্তত ১০টি এলাকায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ চালিয়ে যান। ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনের কারণে পর্যাপ্ত যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে, গতকাল শনিবার রাতে আন্দোলনকারীদের ‘সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ’ এর প্রধান সমন্বয়ক আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিয়াকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এই আন্দোলনের মূল সূত্রপাত গত ৪ সেপ্টেম্বর, যখন নির্বাচন কমিশন আলগী ও হামিরদি ইউনিয়নগুলোকে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সঙ্গে জোড়া দেওয়ার গেজেট প্রকাশ করে। এরপর থেকে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত শনিবার বিকেলে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের জন্য সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয় সিদ্দিক মিয়া। এই আন্দোলন শুরু হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো, নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের ওপর বিভিন্ন দলের ক্ষোভ ও বিরোধিতা। আন্দোলনকারীরা সরকারি পক্ষের এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে দুর্ভোগ চলতেই থাকবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করছে।

  • গভীর রাতে ডিবির হাতে আটক ভাঙ্গার অবরোধের প্রধান সমন্বয়কারী

    গভীর রাতে ডিবির হাতে আটক ভাঙ্গার অবরোধের প্রধান সমন্বয়কারী

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়কারী, আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম. ম. সদ্দিকি মঞ্জিকে শনিবার গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে। তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এদিকে, সাধারণ মানুষের চলাচল, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মহাসড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে প্রশাসনকর্তৃক ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাত থেকেই মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালো টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি, মহাসড়কে দুটি সশস্ত্র যান (এপিসি) এবং একটি জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আলগী ও হামরিদী ইউনিয়ন এবং নগরকান্দার সংযোগের প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ কয়েক দিন ধরে মহাসড়ক অবরোধের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সদ্দিকি মঞ্জি তৃতীয় দফায় তিন দিনের জন্য সকাল-সন্ধ্যায় অবরোধের ঘোষণা দেন।

    ভাঙ্গা থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ম. ম. সদ্দিকি মঞ্জিকে গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল জানান, জন সাধারণের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোর থেকে মহাসড়কে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র‍্যাব এবং পুলিশের অন্তত একহাজার সদস্য টহল দিচ্ছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • সরকারের পরিকল্পনা: বয়স্ক কারাবন্দীদের মুক্তির উদ্যোগ

    সরকারের পরিকল্পনা: বয়স্ক কারাবন্দীদের মুক্তির উদ্যোগ

    সরকার বয়স্ক এবং দীর্ঘ সময়ের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করছে। আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেশি বা বয়স্ক কয়েদিদের ক্ষেত্রে যেন অপরাধের আকার এবং তাদের শাস্তির ব্যাপকতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। বিশেষ করে, যেখানে কারাদণ্ড দীর্ঘ বা বয়স বেশি, সেখানে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা হবে। এছাড়াও নারীদের জন্য সাজার সময় কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।

    বৈঠকে আরও জানানো হয়, ফরিদপুরের দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রতিবাদে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত এগোতে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাস্তাঘাট অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা কাম্য নয়। অভিযোগ থাকলে এ ব্যাপারে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরবার করতে হবে। যদি অবিলম্বে অবরোধ না তুলে নেওয়া হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে দেবে।

  • সাদা পাথর লুটকাণ্ডে বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন গ্রেফতার

    সাদা পাথর লুটকাণ্ডে বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন গ্রেফতার

    সিলেটে সাদা পাথর লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদস্থগিত) সাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। এটি ঘটেছে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে, যখন তাকে সিলেট নগরীর কুমারপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    র‍্যাবের সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সাদা পাথর উত্তোলন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়ায় এই লুটের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তোলপাড় শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে র‍্যাবের গোপন গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।

    শনিবার রাতে উপজেলার কুমারপাড়া এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯, সিপিএসসি ও সিলেটের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে আলোচিত ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর লুটের মূলহোতার মধ্যে একজন সাহাব উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়।

    র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও কোতোয়ালি থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাকে কোটয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।