Author: bangladiganta

  • কাতারের থেকে মুসলিম ঐক্যের ডাক, পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন

    কাতারের থেকে মুসলিম ঐক্যের ডাক, পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন

    ফিলিস্তিনসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ঐক্যের ডাক দিয়েছে কাতার। এই আহ্বানে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান, যা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। পাশাপাশি, পাকিস্তান বিশ্ব পরিবেশে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছে এবং সব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হুঁশিয়ারি জারি করেছে।

    শুক্রবার এক প্রতিবেদনে আরব নিউজ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ বলেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশ্যে কাতার যে ইসরায়েলি হামলার সম্মুখীন হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে বড় এক প্রতিবন্ধকতা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ধরনের হামলা শান্তি প্রচেষ্টায় বিঘ্ন তৈরি করছে এবং ভেতরকার নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

    আসিম ইফতিখার আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমস্ত পক্ষের উচিত শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমে মতানৈক্য সমাধান করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান এই অবৈধ ও উসকানিমূলক ইসরায়েলি আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে, যা সার্বভৌম কাতারের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।

    প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি হামলা একটি সাধারণ আবাসিক এলাকায় চালানো হয়েছে, যা অসংখ্য নিরপরাধ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ ধরণের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ধ্বংসের জন্য নেপথ্যে কাজ করছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়ছে, তা স্পষ্ট।

    এ সময় পাকিস্তান কাতারের সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্মতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।

    আসিম ইফতিখার সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লংঘন, যা এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। গাজায় নির্মম সামরিক অভিযান, সিরিয়া, লেবানন, ইরান ও ইয়েমেনে বারবার সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা— এই সবই জাতিসংঘের সংজ্ঞায় উল্লেখিত নিয়মে লঙ্ঘন।

    তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব নম্বর ৩৩১৪ অনুযায়ী, এই ধরনের আগ্রাসন ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, আইনি শাসনকে দুর্বল করছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।

    এর আগে, দোহার রাষ্ট্রপতি শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এই বৈঠকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিকার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীও কাতারকে পুরোপুরি সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন, এবং প্রয়োজন হলে সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।

    অন্যদিকে, দোহায় এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি বিমান হামনার কঠোর নিন্দা জানানো হলেও, সরাসরি এই হামলার নাম উল্লেখ না করায় পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেন, এই ধরণের কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এক বিপজ্জনক সংকেত, এর মাধ্যমে সার্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়ছে এবং জাতিসংঘের দুর্বল প্রতিক্রিয়া উসকে দিচ্ছে।

  • ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড

    ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড

    অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে আদালত ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের মধ্যে তিনি সহ সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানসহ আরও সাতজন ব্যক্তিও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করে, যেখানে পাঁচ বিচারপতি মধ্যে চারজন এই সিদ্ধান্তে সম্মত হন, তবে একজন তাঁকে খালাসের পক্ষে মতামত দেন।

    ২০২২ সালে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রসহ পাঁচটি অভিযোগে বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এই সিদ্ধান্তের ফলে বলা হচ্ছে, ৭০ বছর বয়সী বলসোনারোকে বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এদিকে, বলসোনারোর সঙ্গে অন্য সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানেরাও এ মামলার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে নিজের দোষ স্বীকার না করেই বলসোনারো দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার।

    জাইর বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যা লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশের শাসনক্ষমতা।

  • নেপালের সংসদ ভেঙে দেওয়া হলো, নির্বাচন আগামী মার্চের মধ্যে

    নেপালের সংসদ ভেঙে দেওয়া হলো, নির্বাচন আগামী মার্চের মধ্যে

    নেপালের রাজনৈতিক প্রবাহিত ঘটনায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান সুশীলা কার্কির সুপারিশে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখরেল বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ ভাঙার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ হলো ৫ মার্চ, ২০২৬।

    সুশীলা কার্কি, দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে, শপথ গ্রহণ করেন গত রাতে। এর আগে, তিনি ন্যায়বিচারের জন্য কঠোর সংগ্রাম করেছিলেন ও দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় গড়ে উঠেছেন। নতুন এই সরকার গঠিত হয়েছে একটি ছোট মন্ত্রিসভার মাধ্যমে, যার মেয়াদ থাকবে ছয় মাস। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।

    শপথ নেওয়ার পরে, তিনি একজন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন, কারণ তিনি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে, দেশটির পরিস্থিতি ছিল অস্থিতিশীল। সীমাহীন দুর্নীতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন ও এর জেরে সৃষ্ট অস্থিরতা নানা রকম চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। গত সপ্তাহে এ আন্দোলন আরও জোরালো হলে একে কেন্দ্র করে এক তরুণ বিক্ষোভের দিকে আগাতে দেখা গেছে, যার মাঝে গুলি চালিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন। এর প্রতিবাদে, গত মঙ্গলবার কেপি শর্মা অলি প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ও গা ঢাকা দেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে অনেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা আক্রান্ত হন।

    সুশীলার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল, যখন তিনি নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। তার বিচারপতিকালীন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, যা গ্রামীণ জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।

    পূর্বের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ভারত তাঁর জন্য অনেক সহায়তা করেছে। তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এই পুরো ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে, নেপাল নতুন দিশা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ইসরায়েলি সাবেক সেনা প্রধানের দাবি, গাজার ১০ শতাংশ মানুষ আহত বা নিহত

    ইসরায়েলি সাবেক সেনা প্রধানের দাবি, গাজার ১০ শতাংশ মানুষ আহত বা নিহত

    আগ্রাসী ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকা। ইসরায়েলি সাবেক সেনাপ্রধান হের্জি হালেভি স্বীকার করেছেন, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ—প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ এই হামলার ফলে আহত বা নিহত হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে মহামারীতে আক্রান্ত রাজ্যটির পরিস্থিতি তুলে ধরে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকে। তখন প্রধান সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন হালেভি। তবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে দ_Mskন্দ শুরু হলে তিনি মার্চে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি অবসর নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় নিজের মতামত প্রকাশ করছেন।

    গত সপ্তাহে দক্ষিণ ইসরায়েলে এক কমিউনিটি মিটিংয়ে হালেভি বলেন, গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ১০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় দুই লাখ মানুষ—হতাহত হয়েছে বা নিহত হয়েছে। এই তথ্যের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাবের সঙ্গে অতীতের তথ্যের সঙ্গে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ।

    অথচ, দখলদার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সংখ্যা অস্বীকার করে আসছে, বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই হিসাবের সত্যতা স্বীকার করেছে। এরপরও, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭১৮ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৯ জন।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে থাকায়, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংস্থা। গতকাল শুক্রবারও ইসরায়েলি সেনারা গাজায় আরও ৪০ জনকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের তালিকা প্রকাশ করলেও, জঙ্গি ও সাধারণ নাগরিকদের আলাদা করে বিবরণ দেয় না। তবে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, নিহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই সাধারণ মানুষ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির ইয়ত্তা বলতে উপকরণ ও টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুদূরপ্রসারী ভাবনা ও উদ্যোগের প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে।

  • নেপালের মতো এবার পশ্চিমবঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের ডাক

    নেপালের মতো এবার পশ্চিমবঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের ডাক

    নেপালের সঙ্গে তুলনা এনে পশ্চিমবঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য অর্জুন সিং। এই খবরটি শুক্রবার ভারতের দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে অচল করে দিয়েছে, যেখানে কিছুদিন আগে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে মন্ত্রী-এমপির বাসভবন ও সরকারি ভবনগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রী either দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বা গোপনে রয়েছেন। একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানে বর্তমান বিক্ষোভের মাধ্যমে জনজনের অধিকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ডাক দিয়েছেন অর্জুন সিং। তিনি বলেছেন, নেপালের যুবসমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভূতপূর্ব সাহস দেখিয়েছে, সেই দৃঢ়তা তাদেরকে বাংলার তরুণরাও দেখানো উচিত। তার এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। অনেকের অভিযোগ, অর্জুন সিং উসকানিমূলক কথা বলে রাজ্যে হিংসা ছড়াতে চাইছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখされています।

  • পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে ডাক, না মানালে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

    পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে ডাক, না মানালে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

    শুক্রবার নগরীর নিউমার্কেট চত্বরে এক সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পঞ্চম দফা নির্বাচনে পিআর (প্রতিনিধি ভোটিং) সিস্টেমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পিআর সিস্টেমের মাধ্যমে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, কালো টাকা বা পেশি শক্তির ব্যবহার চলবে না। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন দেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    শায়খে চরমোনাই স্পষ্ট করে বলেছেন, আমাদের দাবি যদি মেনে নেন, তবে পিআর সিস্টেমে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাব। সরকারের কাছে এই Holtপদ্ধতি চালুর জন্য অনুরোধ জানাব। না মানা হলে জনগণের গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের রায় আদায় করব। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন জোটের স্বার্থ দেখানো হলেও বাস্তবে ভোটের পরিবর্তন হয়; কারো জন্মগত বা স্থায়ী ভোট নেই। ভোটাররা সবসময় দেখবে কার আনজর নিরাপত্তা, শান্তি, সম্পদ ও জানমালের নিরাপত্তা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিশাল ভোটের শক্তি রাখে। তবে ভোট কৃষকের, শ্রমিকের, সাধারণ মানুষের অধিকার। তাই ভোট কারা পাবে, তা নির্ভর করবে কার কাছে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রয়েছে। একজন ভোটার তার জান, মাল, ইজ্জত ও পরিবারের নিরাপত্তা দেখিয়ে ভোট দিবে—অন্য কিছু নয়। ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেমের অবস্থা শেষ, এখন প্রযুক্তির যুগ। মাননীয় আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ধরে নানা জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে মানুষের মন থেকে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

    মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন চাঁদাবাজি, গুণ্ডামি ও ধর্ষকদের কখনোই ভোট দেবে না। তারা জানে, কোন জ্ঞানী বা সচেতন ভোটার নিজের জীবন বা সম্মান বিপন্ন করতে চান না। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অসাধু শক্তি ভোটারদের বিভ্রান্ত করে আর যারা অন্যায়-অবিচার করছে, তারা অপরাধের জাঁতাকলে আটকে আছে। অথচ সবাই জানে, এখন জুলুম-অত্যাচার আর অস্ত্রের ব্যবহার কমে গেছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন চায়।

    তিনি মন্তব্য করেন, খোলনায় এক সময় গুণ্ডা-খুনির আধিক্য থাকলেও এখন অশান্তি কমে গেছে। গুণ্ডামি ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। মানুষ অস্ত্র প্রতিপত্তি ছাড়াই জীবন চালিয়ে যেতে পারছে। এখন আসন্ন নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, যেখানে জনস্বার্থে ভোট দেবে সাধারণ মানুষ। দেশের টাকা চুরি, লুটপাট বা মাদক ব্যবসাও বন্ধ হবে। কোনো অন্যায় বা অবিচার চলবে না। যুবসমাজ নিরাপদে থাকবে, মাদক নির্মূল হবে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার বন্ধ হবে। শতভাগ সৎচেষ্টা চালানো হবে। মা-বোনদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় নিরলস পরিশ্রম হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের প্রকৃত ভোটাররা তাদের জীবন-মাল, সম্মান ও নিরাপত্তা দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

    শায়খে চরমোনাই আরও বলেন, নানা ধরণের ধোকাবাজি ও চক্রান্ত রয়েছে। যারা নৌকা মার্কায় নির্বাচন করে, তারা নিজে এই মার্কার কার্যকর করতে পারে না। লাঙ্গল বা ধানের শীষের মাধ্যমে যারা নির্বাচন করে, তারা নিজেদের কাজে লাগাতে পারে না। অথচ হাতপাখা মার্কা সব শ্রেণির ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়, কারণ যারা ভোট দেয় তারা এটা সহজে চালাতে পারে। এই মার্কায় ভোট দিলে দেশের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, সব মার্কা শেষ, এখন হলো হাতপাখা—শান্তির প্রতীক। মাননীয় গণতন্ত্রের এই পথে সবাই একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

    অতীতের রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আশা করেন, এই আন্দোলন দেশের সত্যিকার পরিবর্তন আনবে। খুলনা মহানগরীর সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারি মুফতী ইমরান হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন আরও অনেক নেতৃবৃন্দ, যেমন মুজিবুর রহমান শামীম, আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, এড. জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, মাওঃ শরীফ সাইদুর রহমান, হাফেজ শহিদুল ইসলাম, শেখ হাসান ওবায়দুল করিম, মাওঃ আবু সাঈদ, আবু গালিব, শোয়াইব আহমেদ, মুফতি আরিফ বিলাহ, মাওঃ দীন ইসলাম, মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, মাওঃ ইলিয়াস হোসেন, মাওঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির।

  • মারধরের মামলায় হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্ত কারাগারে

    মারধরের মামলায় হিন্দু ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্ত কারাগারে

    খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সমীর কুমার সাহা মারধরের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টী সত্যানন্দ দত্তকে আদালত জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয় এবং তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার বিস্তারিত জানানো হয়েছে, ১৬ আগস্ট শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ী মোড়ের শ্রীশ্রী কালী মন্দিরের প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আলোচনা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। এ অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্তসহ প্রায় ২০-৩০ জন ব্যক্তি অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়, যাতে সমীর কুমার সাহার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার সময়, সমীর কুমার সাহা রক্ষা করতে গেলে তার পাশে থাকা মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় সাহাও মারধরের শিকার হন।

    ঘটনার দিনই আহত সমীর কুমার সাহা সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২২, ১৬-০৮-২৫)। মামলায় সত্যানন্দ দত্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে পুলিশ সত্যানন্দ দত্তকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলেও, বৃহস্পতিবার তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • অস্ত্রসহ হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান রাজু গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো

    অস্ত্রসহ হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান রাজু গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো

    পাইকগাছা উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু (৪৫) সম্প্রতি নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও একটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন। ইসলামপুরের এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ থাকলেও, পুলিশের নজরদারির অভ্যন্তরে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে।

  • বাংলাদেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্ত ঐতিহ্য

    বাংলাদেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্ত ঐতিহ্য

    খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগর লবি বলেছেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষজন যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এই দেশের আবহমান কাল ধরে হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-প্রথা ও উৎসব পালন করে আসছে। সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আগামী দুর্গা পূজা শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির জন্য। পাশাপাশি, আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিটি মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু অপশক্তি যেন কোনভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে নির্বাচনকে ব্যাহত করতে না পারে। সবাইকে এ বিষয়ের বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন ব্যক্তি-স্বার্থ নেই; আমি শুধুমাত্র ফুলতলা-ডুমুরিয়া এলাকার মানুষের সেবেছে এসেছি। যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই এলাকার জন্য একটি দর্শনীয় মসজিদ ও একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেবো। এই বিষয়গুলো আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র আয়োজনে সরকারি মহিলা কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের ফুলতলা উপজেলা আহ্বায়ক অনুপম মিত্র। উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, জেলা বিএনপি নেতা ইমরান ওয়াহিদ, মহানগর বিএনপি’র সদস্য আশরাফুল আলম নান্নু, সহ-সভাপতি এসএ রহমান বাবুল, এম বদরুল আলম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল হোসেনসহ অনেকে। ভাষণ দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌতম কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মনির হাসান টিটো, অভিকোজুজ্জামান মোল্যা নান্না, এনামুল হোসেন পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও প্রফুল­ কুমার চক্রবর্তী। পরে তিনি রাত সাড়ে ৮টায় ফুলতলা বাজার গামছা চান্ডিনায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

  • আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার

    বিএনপি কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। একটি দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘুষি মারছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বিপৎসংকেত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ রক্তের বিনিময়ে সংগ্রাম করে নতুন সরকারের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছে এবং একটি নতুন দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, দশমী দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি নির্ধারণে পুরোহিত ও পঞ্জিকার মতামতই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। অন্য কারো হস্তক্ষেপ এখানে গ্রহণযোগ্য নয়, যেমন ঈদ-উৎসবের নামাজ চাঁদ দেখেই নির্ধারিত হয়। তিনি দুর্দান্ত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শেষ আবেগে তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য নজির স্থাপনের আহ্বান জানান।

    এছাড়া, শুক্রবার বিকেল ৪টায় দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী এ কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। হেলাল উল্লেখ করেন, বিএনপির সঙ্গে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দেয় না- এই ধারণা ভুল। বিএনপি হবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র। আগামী নির্বাচনে গাজীরহাটের মানুষই এই ধারণাকে প্রমাণ করে দেবে।

    এরপর তিনি স্থানীয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে পানের জল ও পানীয় জলের সংকটের বিষয়েও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি রামপ্রসাদ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খাঁন জুলফিকার আলী জুলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল ও দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. সাইফুর রহমান মিন্টু। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা বিল্লাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি বাবু সুবোধ কুমার বিশ্বাস, ছাত্র-যুব মতুয়া মহাসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সিকদার প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মুকিত মীর ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা গাজী।