Author: bangladiganta

  • অর্থ উপদেষ্টার কাছে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার

    অর্থ উপদেষ্টার কাছে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, বলেছেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের মুখে আমাদের মোকাবিলার জন্য অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার দরকার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে মাত্র এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে গিয়ে আমাদের খুবই কষ্টে পড়তে হয়। এই অপ্রতুলতার কারণে বারবার আমাদের জানবের টাকা খরচ করতে হয়।

    আজ ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যৌথ ও আয়োজন করে তিন দিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অপ্রতুল অর্থের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অচিরেই বড় পরিমাণ অর্থের জোগান দরকার বলে জানান তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের দেশে দুটি ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। তিনি বলেন, এগুলোর মোকাবিলায় পাঁচটি মূল পক্ষের সমন্বয় জরুরি: বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, সংস্থাগুলো, অর্থ সংগ্রহকারী এবং জনগণ।

    বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষরা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকেন। মূলত, যদি আমাদের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টা নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকে, তা হবে না। আগুন লাগলে আগে মানুষ নিজে এগিয়ে আসে, তারপরকি ফায়ার সার্ভিস। এই বাস্তবতা আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। এই প্রক্রিয়ায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের বিশ্লেষণ ও জ্ঞানদানের উপরও জোর দিতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব কারণেও তৈরি হয় অনেক দুর্যোগ। এ জন্য প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের কূটনীতি চলতে আছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে তাঁদের সচেতনতা ও তথ্যপ্রেরণায় ভূমিকা বাড়াতে হবে। জাপানের ছাত্ররা যে যার বয়স থেকেই কয়শ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতন, আমাদেরও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একইভাবে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান জরুরি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সমস্যা। এর কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিশেষ অতিথির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী উল্লেখ করেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য আমাদের সচ্ছতা ও উন্নত পরিকল্পনা দরকার। তিনি বলেন, কেসগুলো তুলে ধরতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে দ্রুত অর্থ আদান-প্রদান সম্ভব হয়।

    আরেক বিশেষ অতিথি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য পরিস্থিতি বোঝাতে জলবায়ু পরিবর্তনও গুরুতর সমস্যা। সিলেটে পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু হারসহ নানা সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ঘটছে। তবে, এই সব গল্প বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে আমাদের আরও বেশি সচেতনতা ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাহলে আমরা অর্থের জন্য উপযুক্ত কেস তুলতে পারব।

    এই তিন দিনের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব ও এর মোকাবিলা বিষয়ক রিপোর্টিং দক্ষতা অর্জনে কাজ করবেন।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন রেকর্ডে পৌঁছিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা দেয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম কাল থেকে কার্যকর হবে।

    প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্যও বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতে, ফলে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২৭๑৮ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা করা হয়। এটি তখন দেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দামের রেকর্ড ছিল।

  • স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনও বৃদ্ধি পেলো

    স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনও বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বাজারে ক্রমাগত চতুর্থ দিনের মতো স্বর্ণের মূল্য বেড়েই চলছে। মঙ্গলবার ভরিত স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে আরও ৩ হাজার ১৩৭ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে, এই হারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।

    বাজুসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় এবং জানানো হয়েছে যে, নতুন দাম আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতিভরি দাম এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মানে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকায়।

    এর আগে, গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরি প্রতি ১ হাজার ২৬০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকায়। যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ দামের স্বর্ণ।

    সাথে সাথেই, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায়। এগুলো কার্যকর হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর।

    এর আগে, সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবারও স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা তখন দেশের সর্বোচ্চ দাম ছিল।

    এভাবে, চলতি বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৬ বার এবং কমেছে মাত্র ১৬ বার।

    বেজোড় খবর হলো, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রোপা বিক্রি হয় ২ হাজার ৮১১ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।

  • খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

    খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

    বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে এই ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও ব্যাপক হারে বাড়ছে। এর পিছনে অন্যতম কারণ হলো অনেক শিল্প উদ্যোক্তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এবং কারখানা বন্ধের ফলস্বরূপ ঋণের টাকা ফেরত দিতে না পারা।

    অতীতে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তবে গত ১৫ বছর পর, অর্থবছরের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, মার্চ থেকে জুন, এই তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এই পরিমাণ বেড়েছে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, যা এখন রেকর্ড ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফর্নসিক অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র পরিস্কার হচ্ছে। এ ছাড়াও, ঋণ খেলাপির নিয়মে পরিবর্তন বারংবার হওয়াও এর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টর গত দশক ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যাংক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে এবং কিছু খেলাপি ঋণ আদালতের নির্দেশে আনক্লাসিফায়েড দেখানো হতো। তবে এখন আমরা সেই সব ঋণের ব্যাপারে স্পষ্ট ভাবনা নিয়ে তাদেরকে ক্লাসিফাই করে ডিএফ (ডিফার্ড অ্যান্ড অ্যারিয়ারেজড) দেখাচ্ছি।

    অধিকাংশ খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র দেখাতে ফরেনসিক অডিটের রিপোর্ট সহায়তা করছে। কিছু ক্ষেত্রে, এ অডিটে জানা গেছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সব খেলাপি ঋণকে ক্লাসিফাই করে চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে জুন মাসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়। ব্যাংকুলোর এই ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও অশ্লীল প্রভাবের কারণে ঋণ বিতরণে অস্বচ্ছতা ও দলিলের গাফিলতি এখনো বড় সমস্যা। কিছু ঋণ অতিরিক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে মূল পরিমাণের দ্বিগুণ বা তিনগুণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ঋণ আদায় বা পরিশোধ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আর্থিক স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য তত্পরতা প্রয়োজন, যাতে আমাদের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল থাকে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও শাস্তি

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও শাস্তি

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এর মধ্যে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য চারজন ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানকে যথাক্রমে অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি ডেটা অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও জরিমানা করা হয়। বুধবারের ৯৭২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এক্ষেত্রে শেয়ার কারসাজির জন্য আরোপ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ওই কোম্পানির সঙ্গে জড়িত এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকার জরিমানা ও পাঁচ বছর অর্থাৎ চাকরি ও সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে, কোম্পানিটির অন্য এক ব্যক্তিকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই কারসাজির জন্য তারা ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দায়ী।

    এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবির) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারের একজন পরিচিত ব্যক্তির, মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • নুর ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    নুর ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আলটিমেটাম দেন। ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করতে চাই—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা রাজপথে কঠোর কর্মসূচিতে নামবো। কী ধরনের আন্দোলন হবে, তা সময়ক্রমে স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং সরকারও বুঝবে তার জন্য সফলতা অপেক্ষা করছে।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার নূরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে, যার কার্যকাল নির্ধারিত হয়েছে ৩০ কার্যদিবস। কিন্তু এই সময়সীমা প্রতারণামূলক। যদিও ঘটনাস্থলে সেনা ও পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নূরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে—তাইও, এ সবের পরও এ পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নূরকে হাসপাতালে থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও, নতুন শারীরিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফারুক হাসান বলেন, ‘গতকাল রাতে হঠাৎ করে নূরের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার নাকের হাড় ভাঙা হয়েছে, ম্যান্ডিবল বা চোয়ালের অংশে ডিসপ্লেসমেন্ট হয়েছে, ফলে ডান পাশের চোয়াল আংশিক অবসাদগ্রস্ত। বর্তমানে তিনি সলিড খাবার খেতে পারছেন না এবং ডাক্তাররা তাকে শুধু লিকুইড খাবার খেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া লিভারে আঘাতজনিত জটিলতা দেখা দিয়েছে, তাই তাকে আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

    গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ডা. মোহাম্মদ ইউনূস প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত নূরের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার গড়িমসি করছে এবং একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাম বলছে, যা সরকারের সদিচ্ছার অভাব নির্দেশ করে।’

    তাদের অভিযোগ, ‘সরকারের এই টালবাহানা মর্যাদার সাথে প্রতারণামূলক। ফলে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারও যখন এটার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে নুরের চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাব। সরকারের দয়া বা দাক্ষিণ্য বিষয় নয়, আমরা নিজ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা করব।’

  • নির্বাচন না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়: সালাহ উদ্দিন

    নির্বাচন না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়: সালাহ উদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যদি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে এটি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টাও সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি তাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের পাশাপাশি ৭ জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ তারা চান না।

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৭ জুলাইয়ের সনদ হবে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দলিল। এটি যেন প্রশ্নের বাইরে থাকে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে, এই বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করে সনদ চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয় নিষ্পত্তি হোক। আমরা জোর দিয়ে বলছি, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। এর জন্য কোনো শর্ত দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি চলমান থাকবে সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম। এগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং নির্বাচনের মাধ্যমেই আমাদের রাজনৈতিক অধিকার পূরণ হবে।

    সালাহ উদ্দিন আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে ৭ জুলাইয়ের সনদ তৈরি হয়েছে, তবে এটি এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। কিছু সংশোধনী প্রয়োজন, যেগুলো তিনি মূলত জানাবেন। কিছু বিষয় প্রাথমিকভাবে আলোচনার বাইরে ছিল, সেগুলোও তিনি কমিশনের নজরে আনবেন এবং খসড়া সংশোধন করবেন। বিএনপি পক্ষ থেকে সনদে স্বাক্ষর করতে দুজনের নামও দেওয়া হয়েছে। তারা প্রস্তুত, সই করার জন্য।

    তিনি বলেন, ‘সনদের সঙ্গে একটি অঙ্গীকারনামায়ও সইয়ের কথা রয়েছে, তবে সেটি কি সনদের অংশ হবে বা হবে না, এ বিষয়ে আমাদের কিছু ধারণা আছে। এই ব্যাপারে আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলের সম্মতিপ্রাপ্ত বিষয়গুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত ও বাস্তবায়িত হবে। বিভিন্ন দলের প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন এবং সাংবিধানিক উপায়ে তা বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে, তিনি জানান, কোনও অপ্রয়োজনীয় বা অদূরপ্রসারী সংবিধান সংশোধনে তারা সম্মত নয় এবং অপ্রয়োজনীয় আইনি পরিবর্তনগুলো এড়ানোই তার লক্ষ্য। আইনানুগ পরামর্শের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তিনি নজর দিয়েছেন।

    ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল­াহসহ অন্যান্য দলের নেতারা।

  • জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না: হেফাজত আমির

    জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না: হেফাজত আমির

    হেফাজত ইসলামের আমির এবং প্রবীণ ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, যদি কখনও আওয়ামী লীগ সরকারে আসে, তবে ইসলাম পন্থী দেওবন্দী কওমী মাদ্রাসা ও আধ্যাত্মিক সুন্নি ধারার (আলীয়া ও সুন্নিয়াত) মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে থাকবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জামায়াত ও কওমী ধারার দুশমন হয়ে উঠবে এ সরকার। এই পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, যদি কোনোভাবে ফেরাউনের জাতি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা এই ধারা ও মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্বকে একেবারে বিলীন করে দেবে। আমি কসম করে বলছি, আপনি নিজেই দেখবেন এই সত্যতা। আল্লাহপাক আমাদের সবকে হেফাজত করুন। বাবুনগরী গত বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর মাসে, হাটহাজারী ডাকবাংলো মাঠে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির তার স্মরণসভার আনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে অন্য আলেম ওলামা, শায়খ ও মুরুব্বিরা বক্তব্য রাখেন, যেমন মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা হারুন ইজহারের মতো নেতৃবৃন্দ। সূত্র: শীর্ষ নিউজ অনলাইন।

  • জামায়াতে ইসলামীর ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা

    জামায়াতে ইসলামীর ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা

    জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা গণদাবি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা দেয়া হয় সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই দাবিগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা আমাদের পাঁচ দফা গণদাবি জনসম্মুখে উপস্থাপন করছি। দাবিগুলো হলো: প্রথমত, জাতির স্বার্থে জুলাই মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন) সম্পর্কিত পদ্ধতি চালু করা জরুরী। তৃতীয়ত, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া, অর্থাৎ একটা সত্যিকারের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা, দুর্নীতি ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিচার যেন দৃশ্যমান হয়। পঞ্চমত, স্বৈরাচারী শক্তির দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তারা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই পিয়ার পদ্ধতি বা প্রোপোরশনাল নির্বাচনের পক্ষে। এ কারণেই, জনগণের দাবি পূরণে কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করেন তারা। এই পরিস্থিতিতে, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য একজোট হয়ে গণআন্দোলন চালানো ছাড়া উপায় নেই বলে সমর্থন দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব নেএনসিপির

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব নেএনসিপির

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আলোচনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে, যার একটি হলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো। এগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। তবে, রাষ্ট্র কাঠামোর বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা সংবিধানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে এবং বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কতটা টেকসই হবে, এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে।রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান উপদেষ্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস।আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হাইকোর্টে সংবিধানে সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং বেশ কিছু সংশোধনী বাতিলও হয়েছে। এর ফলে, আমরা বুঝতে পারছি কীভাবে সংবিধানের মূল পরিবর্তনগুলো টেকসই ও কার্যকর করা যায়, সেটা নির্ধারণে সবাইকে একসাথে ভাবতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও নতুন লিখিত ধারা, উপধারা ও অনুচ্ছেদসমূহের মধ্যে দিয়ে যে সংশোধনী ও সংস্কার প্রস্তাবগুলো আমরা সম্মত হয়েছি, সেগুলো সুদৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব। এজন্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ সম্মতিতে পৌঁছাতে হবে।আখতার হোসেন আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তিনি বলেন, কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন জানাবেন যে, কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই প্রসেসটি সবার কাছে প্রশ্নাতীত করে তোলা যায় এবং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করা সম্ভব।