Author: bangladiganta

  • গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা: জাতিসংঘের তদন্তের দাবি

    গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা: জাতিসংঘের তদন্তের দাবি

    ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালে হামাসের সাথে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনের মতে গুরুতর পাঁচ ধরনের গণহত্যার মধ্যে চারটি কার্যকর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা, গোষ্ঠীটির ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং জন্ম রোধের জন্য অপপ্রয়াস।

    জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি নেতাদের বিবৃতি এবং সেনাদের আচরণ গণহত্যার মনোভাব বোঝাতে সক্ষম। স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, গাজায় গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এর দায় পুরোপুরি ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত দুই বছরে এই পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিরা ধ্বংস করা।

    অভিযোগের বিপরীতে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে বিকৃত ও মিথ্যা বলার অভিযোগ এনে, কমিশনকে বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে। তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই তদন্ত সংস্থা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং জাতিসংঘের অধীনস্থ। তারা গাজা সীমান্তে ইসরাইলের হামলার সময়কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রণয়নে কাজ করেছে।

    এদিকে, এই রিপোর্টের প্রকাশের সময়ের সাথে মিলিয়ে গাজায় নতুন করে স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, দুইটি ডিভিশনের হাজারো সেনা অংশ নিয়েছে এই অভিযানে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইসরাইল গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চল বিধ্বস্ত ও জ্বলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় ভবিষ্যতেও এই সংঘর্ষের ভয়াবহতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়ছেন ইসরায়েলি হামলার কবলে

    হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়ছেন ইসরায়েলি হামলার কবলে

    অবস্থার অবনতি হওয়ায় গাজা শহর থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পার করছেন ইসরায়েলি সামরিক হামলার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে। গত দুই বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিযান, যেখানে শহরের ওপর ব্যাপক আকাশ ও স্থল থেকে হামলা চালানো হয়। শহরের মানুষ আতঙ্কে জীবন রক্ষা করার জন্য পালিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন যে তারা আর কখনও ফিরে যেতে পারবেন কিনা জানেন না। জাতিসংঘের মহাসচিব এই হামলার গভীরতাকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন।

    সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, গাজা জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠে আসছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মন্তব্য করেছেন যে, শহরটি এখন অগ্নিগর্ভ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শহর থেকে কালো ধোঁয়া দৃশ্যমান, এবং উপকূলীয় আল-রাশিদ সড়ক দিয়ে আসবাবপত্র বোঝাই ভ্যান, গাধার গাড়ি ও পায়ে হেঁটে বহু মানুষ দক্ষিণ দিকে ছুটে চলেছেন জীবন বাঁচানোর জন্য।

    প্রাথমিকভাবে অনেক নাগরিক শহরে থেকে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তবে ব্যাপক ও প্রাণঘাতী বোমা হামলার কারণে তারা স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছেন। মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা গাজা শহরে অন্তত ৯১ জনকে হত্যা করেছে। তারা জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারীদের বহনকারী একটি যান লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়।

    এদিন শহরের অন্তত ১৭টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়, যার মধ্যে পূর্বাঞ্চলের তুফফাহ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আইবাকি মসজিদও রয়েছে, যা এক বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বোমাবর্ষণের পাশাপাশি, শহরের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে বিস্ফোরক বোঝাই রোবটের সাহায্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড মনিটর জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৫টি বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার করছে, যার প্রত্যেকটি একসঙ্গে ২০টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস করতে সক্ষম।

    সূত্র: আল-জাজিরা

  • নেপালি প্রধানমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন ও দুর্নীতির তদন্তের প্রত্যাশা

    নেপালি প্রধানমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন ও দুর্নীতির তদন্তের প্রত্যাশা

    নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি বিবিসিকে জানান, তিনি ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান এবং এই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তার লক্ষ্য হলো দ্রুত ভোটের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে একটি ১০-১১ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দুর্নীতির বিস্তারিত তদন্তের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তদন্তের জন্য তিনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবেন, যাতে এক মাসের মধ্যে বা দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যত দ্রুত সম্ভব দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করে জাতিকে শান্তি ও স্থिरতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

    অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, জেন জি-র আন্দোলনের সময় সম্পত্তি ও প্রাণহানির ঘটনাগুলোর প্রতীয়মান তদন্তের জন্য সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবে। তাদের পরিকল্পনা হলো, এই তদন্তকে এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা, যাতে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

    মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি নেওয়া হলেও তিনি মত প্রকাশ করেন যে, রাজনীতি থেকে স্বতন্ত্র ও অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই এই দায়িত্বShould পালন করতে পারেন। তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য অপব্যবহার এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনি কিছু বিশ্বস্ত সহযোগীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করছেন এবং মাঠ পর্যায়ে চেক করে দেখছেন। পরবর্তীতে সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, নির্বাচনের মতো একটি গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠানের জন্য সকল কাজ আইন ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে, যাতে সুষ্ঠু ও নির্ভুল সরকার গঠন সম্ভব হয়।

    অতিরিক্তভাবে, জেন জি আন্দোলনের সময় গঠিত সরকারের বিরোধীতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা আসলে আন্দোলনকারী বা গঠনতান্ত্রিক দাবিদার নয়। তিনি বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের নিহতের পরে তিনি দুর্নীতি ও শাসন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান। তিনি জানান, কিছু দাবি পূরণে সম্ভব হয়নি হয়তো, তবে পরবর্তী সরকার ও সংসদ এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সবকিছু শতভাগ সফলতা দাবি না করলেও,max.us সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

  • কংগ্রেসের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আদানির বিরুদ্ধে

    কংগ্রেসের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আদানির বিরুদ্ধে

    ভারতের প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ও জনপ্রিয় শিল্পপতি গৌতম আদানি সম্পর্কে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, তারা দাবি করছে যে তার প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের মূল বিষয় revolves around বিহারের ভাগলপুরে এক হাজার ৫০ একর জমি, যেখানে প্রায় ১০ লাখ গাছ রয়েছে, সেটি মাত্র ১ টাকা বার্ষিক ইজারা বরাদ্দ করা হয়েছে আদানি গোষ্ঠীর কাছে, এবং সেই জমিতে একটি ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের নেতা পবন খেরার মতে, এভাবে বিনামূল্যে জমি, কয়লা এবং নদীর জল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, কিন্তু বিহারের সাধারণ মানুষকে তার জন্য ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। পবন খেরা আরও মন্তব্য করেন, এটাই বিজেপির ডাবলি “ডাবল” লুটের প্রমাণ, কারণ এর যানবাহন, মহারাষ্ট্রের ধারাভি প্রকল্প, ছত্তিশগড়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের আগে আদানিদের জন্য অবকাঠামো ও প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন বিহারের নির্বাচনের আগে সেই সুযোগে ভাগলপুরেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য কৃষকদের জমি ন্যায্য মূল্য না দিয়ে জোরপূর্বক অধিগ্রহণ করা হয়েছে, এবং ভোটের আগে তাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানের সময়। উল্লেখ্য, সোমবার ভাগলপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন, যার মধ্যে আদানি গোষ্ঠীর এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্যতম। একই দিনে, আদানি এন্টারপ্রাইজ উত্তরাখণ্ডের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত ৪ হাজার কোটি টাকার রোপওয়ে প্রকল্পের বরাদ্দও পেয়েছে। তবে, কংগ্রেসের এই অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বা বিহার রাজ্য সরকার এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

  • দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে

    দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ঐতিহাসিক মুঘল আমলের লালকেল্লার দেয়াল কালো হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক গবেষণা উঠে এসেছে যা আশঙ্কাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে ঢাকার এই প্রাচীন স্থাপনা তার লালের রঙ হারিয়ে কালো হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন বায়ু দূষণের ধুলিকণা এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য এই অবস্থা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় জানা গেছে, লালকেল্লার লাল বেলেপাথরের দেয়ালে বাতাসের দূষক কণার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া কালো আস্তরণ ধীরে ধীরে জমছে, যার পুরুত্ব ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই কালো স্তর ঐতিহাসিক নকশা ও সূক্ষ্ম খোদাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত লালকেল্লা নিয়ে করা প্রথম ও পর্যাপ্ত গবেষণা। বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দূষণের কারণে দেয়ালের সুক্ষ্ম স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ফোস্কা, খোসা ওঠার মতো ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মূলত বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও দূষক পদার্থ এই কালো আস্তরণের প্রধান উৎস, যা ধীরে ধীরে পুরু হয়ে যায়। তাই দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ সংস্কার বা সুরক্ষা উপাদান প্রয়োগ করে এই কালো আস্তরণ রোধ বা কমানো সম্ভব বলে পরামর্শ দিয়েছে গবেষকরা। উন্নত বিজ্ঞান ও সচেতনতায় যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার বর্তমান রূপ বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • বিএনপি সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করেনা: মন্টু

    বিএনপি সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করেনা: মন্টু

    খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো: মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, বিএনপি কখনোই সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সব নাগরিকই জন্মসূত্রে বাংলাদেশেরই নাগরিক, যা আমাদের জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছেন। বিএনপি উদার ও গণতান্ত্রিক আদর্শে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকায়, বিশ্বাস করে যে দেশের উদার চেতনা এবং সকল সম্প্রদায়ের মিলিত শক্তিই জাতি গঠনের মূল স্তম্ভ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গোৎসবের নির্বিঘ্ন আয়োজন ও সফলতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান বিষয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বললেন।

    মনিরুজ্জামান মন্টু আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে পারে না, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে গ্রহণ করেনি। এরপরও কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আড়ালে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ জন্য সকলের সচেতন হওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি’র নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়াও, আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। সভায় অন্যান্য বক্তারা include করেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মো: খায়রুল ইসলাম, তৈয়েবুর রহমান, এস এম শামীম কবীর, গাজী তফসীর আহমেদ ও জিএম কামরুজ্জামান টুকু। জেলা বিএনপি’র সদস্যরা ছিলেন মলিক আব্দুস সালাম, সুলতান মাহামুদ, জিএম রফিকুল হাসান, আশরাফুল ইসলাম নূর ও মো: রিয়াজুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

  • খুলনায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিনোদন ও উন্নয়ন

    খুলনায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিনোদন ও উন্নয়ন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেছেন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিনোদনের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশ রক্ষা করে একটি স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত নগরী গড়ে তুললে মানে শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে না, পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্রলার চালকদের আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তিনি এ কথা বলেন মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ৭নং ঘাট এলাকায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) যৌথভাবে, ‘সাসটেইন্যাবল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং টু রিডিউস ইরিভার্সিবল পলুশন’ (এসসিআইপি) প্রকল্পের আওতায়। পুলিশি উদ্যোগে এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কেসিসি প্রশাসক উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ট্রলার চালকদের পরিবেশের জন্য সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত বিদ্যুতের অপচয়, প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবহার এবং সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলা। যদি এলাকাবাসী এই বিষয়গুলোয় সচেতন হন, তাহলে নগরীর পরিবেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার,সহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সচেতন সংগঠনের সদস্যরা। এড. মাসুম বিল্লাহ, শেখ ইনজামামুল হকসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিন সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিদিন একটি ভ্যানের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে এবং যদি বিনের যথাযথ ব্যবহার না হয় বা অব্যবহৃত থাকে, তাহলে তার বিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তিনি বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যকলাপের खिलाफ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সবাইকে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

  • দুর্গাপূজার জন্য প্রথম চালানে ৩৭ টন ইলিশ ভারতে রফতানি

    দুর্গাপূজার জন্য প্রথম চালানে ৩৭ টন ইলিশ ভারতে রফতানি

    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এই প্রথম চালানে ইলিশের ট্রাকগুলো পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বন্দর সূত্রে জানা যায়, কলকাতার পাঁচটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই প্রথম ইলিশ আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ন্যশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল এবং আর জে ইন্টারন্যাশনাল। ইলিশের এই চালানটি ভারতীয় বাজারে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ছয়টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এই প্রথম ইলিশের রপ্তানি করে ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ ভারতের কাছে তুলে দিয়েছে। এ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ, ও লাকী ট্রেডিং।

    উল্লেখ্য, আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের সরকার ভারতের জন্য মোট ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমতিপত্রের অধীনে ৩৭টি প্রতিষ্ঠান ইলিশ রপ্তানি করতে পারবে। এর মধ্যে একটিকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে ৭৫০ টন, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে ৩৬০ টন এবং দুইটি প্রতিষ্ঠানে ২০টন করে মোট ৪০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বেনাপোল মৎস্য কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজীব সাহা জানিয়েছেন, এই বছর দুর্গাপূজার জন্য সরকার ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই ইলিশ রপ্তানি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি ইলিশের ওজন আনুমানিক ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজির মধ্যে। ইলিশের প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫০০ টাকা।

  • ঝিনাইদহে ক্ষতিগ্রস্তদের জমির ন্যায্য মূল্য দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

    ঝিনাইদহে ক্ষতিগ্রস্তদের জমির ন্যায্য মূল্য দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

    বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এক মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের ন্যায্য মূল্য দাবি করেন। এই কর্মসূচি ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ৬ লেনে উন্নীতকরণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে অংশ গ্রহন করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে মৌজা মূল্য নির্ধারণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সাথে আলোচনা হয়নি। বর্তমানে যে দাম ধার্য করা হচ্ছে, তার সাথে জমির প্রকৃত মূল্য মারাত্মকভাবে অসংলগ্ন। যেমন, কোনও জমির মূল্য প্রতি শতাংশের জন্য ধার্য করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা, অথচ দিতে হচ্ছে মাত্র ২ লাখ টাকা। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণও শুধু আংশিক দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ফলে জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের ন্যায্য পাওনা না পাওয়ার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তারা ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন, যার কারণে ঝিনাইদহ থেকে যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাগামী সকল যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। তারা বৃহৎ কর্মসূচির ঘোষণা করে জোরালোভাবে দাবি জানান, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হয়।

  • খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের বাড়ির সামনে বিস্ফোরণে নিন্দা ও প্রতিবাদ

    খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের বাড়ির সামনে বিস্ফোরণে নিন্দা ও প্রতিবাদ

    খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবুর বাড়ির সামনে ঘটেছে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যা এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপসার আইচগাতী এলাকায় নিজ বাড়ীর সামনে দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে এতটাই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে glücklicherweise কেউ গুরুতর আহত হননি।

    ঘটনাটি দেখে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তারা দ্রুত এই ঘটনা ঘটানোর জন্য সংযত ও জোড়ালো অভিযান চালানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, জেলা আhaবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য।

    প্রসঙ্গত, শেখ আবু হোসেন বাবু সম্প্রতি স্টোকজনিত কারণে দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিস্ফোরণের সময় তিনি স্বপরিবারে বাড়িতেই ছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হননি, তবে এই ঘটনা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিএনপি নেতারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত স্পষ্ট তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।