Author: bangladiganta

  • কার্গো টার্মিনালের অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    কার্গো টার্মিনালের অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বারো হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) রপ্তানি ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইএবি’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ীদেরই নয়, সরকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং বাজার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই দ্রুত সরকারের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ হোক এবং প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক। শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—এমন অঘটন আর দেখতে চাই না।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি নেতারা উল্লেখ করেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং জোন দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। সেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য ওঠানামা করে। এমন সংবেদনশীল স্থানে অগ্নিকাণ্ডটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার অস্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন তাঁরা।

    নেতারা প্রশ্ন তোলেন—এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কি কোনো অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন বা প্রোটেকশন সিস্টেম ছিল? আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং টিম কোথায় ছিল? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে পৌঁছাতে এত সময় লাগলো কেন?

    অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এই তিন পক্ষই যদি কার্গো টার্মিনালের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক তদ্বারা দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে। বেশ কয়েকটি অর্ডার বাতিল হয়েছে, আর বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত বিমা দাবি মঞ্জুরের উদ্যোগ, যেসব পণ্যে বীমা না থাকলেও ক্ষতি হয়েছে, সেসবের জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন, বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানি পণ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার ও প্রযুক্তি ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন এবং অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানানো হয়।

    অতিরিক্ত, তাঁরা দুর্ঘটনার মূল কারণ শনাক্তকরণে সরকারের সঙ্গে সমন্বিত তদন্ত কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যেন সাম্প্রতিক ঘটনার সত্যতা ও দায়দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নিরূপণ করা যায়।

  • বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণার জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণার জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছে 최근 বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট) বিশাল সংখ্যক মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। এই কারণে ৫০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত। তবে সম্প্রতি এই বিষয়ে বেশি নজর দিতে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক জমকালো সভায় বিএফআইইউর একজন প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স), এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স), এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার), সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট), মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সেখানে বক্তারা জানিয়েছেন, সরকারের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হচ্ছে যাতে এমএফএস অ্যাকাউন্টগুলো থেকে জুয়া ও প্রতারণামূলক লেনদেন প্রতিহত করা যায়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে আরো কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হবে। স্থগিত অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়ছে, তা বিশ্লেষণ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।

    আরও জানা গেছে, অনলাইন জুয়া ও অ্যাটাকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের জন্য বেনামি সিমের ব্যাপারও বাড়ছে। সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া সিম বিক্রি করছে, মানুষের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করছে এবং বিকাশের নকল এপ্প তৈরি করছে। এর ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হচ্ছে, যা বিভিন্ন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

    অতীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য সময় দিচ্ছিল। তবে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল এখনো অবৈধ ও অনিরাপদ কনটেন্ট প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে। এসব পোর্টালে জুয়া বিজ্ঞাপন এবং অননুমোদিত কনটেন্ট প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যদি অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ না হয়।

    ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, সরকারের একজন বিশেষ উপদেষ্টার, বলেছে যে, বর্তমানে সরকারের কাছে মোট ৪ হাজার ৮২০টি এমএফএস নম্বর এবং ১ হাজার ৩৩১টি ওয়েব পোর্টালের লিঙ্ক ধরা পড়েছে। কিন্তু চক্রের সদস্যরা প্রতিবারই নতুন করে আইপি ঠিকানা, ওয়েবসাইটের নাম বদলে আবারও চালু করছে। নতুন অ্যাপ তৈরি করে এবং পুরোনো অ্যাপের অপ্রস্তুতিও থাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তারা জানিয়েছেন, এই লেনদেন বন্ধের জন্য উচ্চতর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • বিমানবন্দরে আগুন: হাসিনার নাশকতার অংশবাদী আমান

    বিমানবন্দরে আগুন: হাসিনার নাশকতার অংশবাদী আমান

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ মন্তব্য করেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার একজন নাশকতার অংশ। তিনি মনে করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নানা অপতৎপরতা দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অমান বলেন, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৯০-এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায়। এটি আয়োজন করে সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির স্মৃতি সংসদ।

    তিনি আরও বলেন, হাসিনা বিদেশে থাকলেও তার প্রেতাত্মা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয়। এ কারণে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিমানবন্দরে অগ্নিকা-সহ অন্যান্য সকল ঘটনাবিষয়ক সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার।

    নির্বাচনের প্রসঙ্গে আমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তারিখ ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত। তিনি এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ বিশ্বাসী। তবে কিছু শক্তি আবারো নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন। এর বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান করেন, কারণ তারা দীর্ঘদিন থেকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।

    আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আমান বলেন, এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠণ, যারা গুম, খুন ও হত্যার সঙ্গে জড়িত। সরকার যে কোয়ার্টার নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাদের কার্যক্রম অপ্রতিরোধ্য। ফ্যাসিস্টদের রাজনীতি এই দেশে চলতে দেওয়া হবে না। হাসিনার গুম ও খুনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তার বিচার হওয়া অপরিহার্য।

    স্মরণসভায় আমান বলেন, প্রয়াত সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ছিলেন গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্ব দেন। একজন আদর্শ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি সর্বজনের প্রিয় ছিলেন।

    স্মরণসভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান এবং ১২ দলে যোগদানকারী জোটের শীর্ষ নেতা মো. ফারুক রহমান, জাতীয়তাবাদী সমমন জোটের এনডিপির চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল, মহাসচিব জামিল আহমেদ, ডিএলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং সাবেক ছাত্রনেতা ইউনুস সোহাগ।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিন এবং সভার সমন্বয় করেন সদস্য সচিব খোকন চন্দ্র দাস।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি: অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় যেতে হবে

    মির্জা ফখরুলের দাবি: অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় যেতে হবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হোক, তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, এর জন্য প্রথমত প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করে তোলা জরুরি, যাতে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    বৈঠক উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল যমুনায় পৌঁছায়, নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল নিজে। তাদের সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো সরকারের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। যদি কোনও দলীয় ব্যক্তি বা কিছু সদস্য দলে থেকে থাকেন, তাদের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সচিবালয়ে বর্তমানে যাঁরা আছেন এবং যারা চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট বলে পরিচিত, তাঁদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তারা নিয়োগের জন্য বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিক্ষেত্রে বিশেষ করে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমাদের আহ্বান। বিচার বিভাগে নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগের বিষয়েও কথা বলা হয়েছে, যাতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিরপেক্ষ এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এ ব্যাপারেও তারা পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, তারা বলেছে, পুরোনো সরকারের কিছু স্বার্থানুকূল কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে আছেন, যাদের অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ ও প্রশাসনিক ক্যাডারে নিরপেক্ষ নিয়োগের জন্য তাদের আহবান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া, বিচার বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে অপ্রয়োজনীয় ফ্যাসিস্ট বা স্বার্থানুকূল দোসরদের সরিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টাকে এ বিষয়গুলো জানানো হয়েছে, যেহেতু তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত।

    অবশেষে, সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিল এবং আজ সময় পেয়েছেন। তাদের পরিকল্পনা রয়েছে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও দেশের সামগ্রিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে এই বৈঠকে।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কঠোর ঘোষণা: জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই নেই

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কঠোর ঘোষণা: জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই নেই

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্টভাবে বলেছেন, জামায়াতের রাজনীতি আর কখনোই দেশের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক দর্শন এবং অতীতের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জেহাদী ও অন্ধকার পথে চলা এই দলটি যতবারই ইতিহাসের পটভূমিতে ফিরে আসার চেষ্টা করেছে, ততবারই জনগণের শক্তিশালী মানসিকতা ও প্রতিবাদে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এই দেশকে আবারও অন্ধকারে ফেলে দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পাতায় এক পোস্টে এসব অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

    পাটওয়ারী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি একটি ন্যায়নিষ্ঠ, মানবিক এবং সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত বাংলাদেশের। এখানকার প্রত্যেক নাগরিকের সবচেয়ে বড় অধিকার হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। তবে এই স্বাধীনতা যেন ষড়যন্ত্রের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যেন বিভ্রান্তিকর ষড়যন্ত্র, বিভাজনের রাজনীতি বা ধর্মের নামে রাষ্ট্রের অধিকার হরণে কোনো চক্রান্তে জড়িয়ে না পড়ে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কওমি, সুন্নি, হিন্দু, তরুণ ও প্রগতিশীল সকল শ্রেণির মানুষ আজ এক সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধনে আবদ্ধ। এই মাটিকে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার পথে রাখার জন্য একযোগে কাজ করে চলছেন সবাই। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত এই বাংলায় কখনো বিভাজনের রাজনীতি স্থান পাবে না। আমাদের দায়িত্ব শুধু প্রতিরোধ নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, ইসলাম ও আলেম-উলামাদের মর্যাদা রক্ষা করা।

    পাটওয়ারী শেষ করেন বলেন, আমরা বিভ্রান্ত না হয়ে ঘৃণার পরিবর্তে মানবতার রাজনীতি চালাতে চাই। যারা বিভ্রান্তির পথে এগিয়ে গেছে, তাদের জন্য আমরা দরজা খোলা রেখেছি, যেন তারা ফিরে আসে গণতান্ত্রিক, ন্যায্য ও মুক্তচিন্তার বাংলাকে। এই দেশের শত্রুতা কেউ নয়, এতে রয়েছে সম্মেলন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আগামী দিনের স্বপ্ন। अब এই ম্যাচই ঠিক করবে বাংলাদেশ কি ঘরের মাঠে সিরিজ জিতবে, না ক্যারিবীয়রা আবারও আমাদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।

  • এনসিপির বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার কড়া মন্তব্য ও কঠোর প্রতিক্রিয়া

    এনসিপির বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার কড়া মন্তব্য ও কঠোর প্রতিক্রিয়া

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের নেতারা বলছেন, পরওয়ারের বক্তব্য ছিলো অশোভন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ, যা তাদের কাছে স্বচ্ছন্দে গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি সাতক্ষীরায় এক সমাবেশে পরওয়ার এনসিপির নাম না নিয়েই মন্তব্য করেন, ‘একটা দল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছে আমরা সংস্কার, অংশীদারিত্বের রাজনীতি, দেশ গঠন, অভ্যুত্থানে কোনো ভূমিকা রাখিনি। ওরা নতুন ছাত্রদের দল—রাজনীতিতে জামায়াতের সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে আরও অনেক দূর যেতে হবে। জন্মের সময়ে বাবা-মার সঙ্গে পাল্লা দিও না।’ উল্লেখ্য, পরওয়ার ছাত্রদের দল উল্লেখ করে যখন বলেন, তথাপি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি মূলত জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপিকে টার্গেট করে কথা বলছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমেই জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে বিরোধ নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে। জামায়াত নেতাদের এমন মন্তব্যের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এνάসিপির মধ্যে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক সামান্তা শারমিন গণমাধ্যমে বলেন, ‘রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনাগুলো একপক্ষের পক্ষ থেকে অন্যপক্ষকে ব্যঙ্গ বা উপমা করে থাকে। তবে পরওয়ারের এমন অসৌজন्यमূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য আমরা মানতেই পারছি না। ওনারা সিনিয়র রাজনীতিবিদ, বয়সে আমাদের বাবা-দাদাদের মতো, ওনাদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করি না।’ অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবও পরওয়ারের বক্তৃতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘রাজনীতিতে কারো বাবা হইতে চাওয়া এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা। গণঅভ্যুত্থানই আসলে সকলের জন্ম। এনসিপির জন্মও এই প্রেক্ষাপটে। বর্তমানে সব রাজনৈতিক দলের জন্মই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। যখন বিপদ আসে, তখন সবাই নেতৃত্বের অধীনে আন্দোলন করে। তবে বিপদ কেটে গেলে নিজেকে নেতৃত্ব দাবি করা অসদাচরণ।’ এদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জানান, পরওয়ারের বক্তব্য ছিলো ‘স্নেহের অবস্থান’ থেকে। তিনি বলেন, ‘আসলে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি। দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্নেহপূর্ণ অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করেছেন। আমাদের মধ্যে একতা ও সহযোগিতা রয়েছে, আর কিছু নয়।’ এই ঘটনার পর উভয় পক্ষই তাদের বক্তব্য পঞ্চমুখ। তবে প্রতিক্রিয়া ও বিরোধ এখনও বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হলেন হুমায়ুন কবির

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হলেন হুমায়ুন কবির

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সংগঠনগত পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে এবার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগে দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “হুমায়ুন কবিরকে বিএনপির যুগ্ম মহসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো হলো।” হুমায়ুন কবির দীর্ঘ সময় ধরে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার এই পদোন্নতি দলের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের একাধিক সূত্রের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদোন্নতি বিএনপির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সিইসির সতর্কবার্তা: চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়, আইনের প্রতি অটল থাকতে হবে

    সিইসির সতর্কবার্তা: চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়, আইনের প্রতি অটল থাকতে হবে

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাশির উদ্দিন জোর দিচ্ছেন, কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব বা নির্দেশের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না। তিনি বলেছেন, সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। চাপের কাছে মাথা নত না করে, আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনারস’ (ToT) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিইসি এই নির্দেশনা দেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউএনওদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করতে দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে তারা মাঠ পর্যায়ে অন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, এবং উপস্থিত ছিলেন অন্য চার কমিশনার।

  • অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের জন্য জেলে ডিভিশন, সাব-জেলে নয়

    অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের জন্য জেলে ডিভিশন, সাব-জেলে নয়

    গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায্য ও বৈষম্যhoffীন বিচার পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অভিযুক্ত সেনা অফিসাররা আইন অনুযায়ী জেলে বিশেষ ডিভিশন পেতে পারেন, তবে সাব-জেল বা কোনও ধরনের বৈষম্য করা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরার পর, আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে তারা এই দাবি তুলেছেন।

    এ সময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ হিল আমান আল আযমী ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যরা।

    আয়না ঘরে দীর্ঘ আট বছর গুমের শিকার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের পুত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ হিল আমান আল আযমী বলেন, অভিযুক্ত এই সেনা কর্মকর্তারা বাহিনীর বাইরে গিয়ে, বিশেষত র‍্যাবে এসে অপরাধে জড়িয়েছেন। তাদের সংখ্যা পুরো সেনাবাহিনীর এক শতাংশেরও কম। তাই তাদের জন্য পুরো সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সকলের জন্য কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

    আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান অভিযুক্তদের প্রতি বৈষম্যের বিরোধিতা করে বলেন, এটি একেবারেই ঠিক নয় যে, তাদের সঙ্গে অন্য আসামিদের মতো বৈষম্য করা হবে। তাদেরও সাধারণ জেলে রাখা উচিত, যেমনটি করা হয়েছে গ্রেফতারকৃত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের ক্ষেত্রে। প্রয়োজনে তাদের জন্য আইনানুগভাবে বিশেষ ডিভিশন বা ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

    উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী, ২৫ সেনা কর্মকর্তা অভিযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনানিবাসের সাব-জেলে পাঠানো হয়েছে।

  • 15 সেনা কর্মকর্তাকে সাবজেলে রাখবে বাংলাদেশ সরকার, জানালেন ব্যারিস্টার সারোয়ার

    15 সেনা কর্মকর্তাকে সাবজেলে রাখবে বাংলাদেশ সরকার, জানালেন ব্যারিস্টার সারোয়ার

    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার শাসনকালীন সময়ে সংঘটিত গুম, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসে নির্মিত বিশেষ সাবজেলে রাখা হবে। এটি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, যিনি এই কর্মকর্তাদের পক্ষের আইনজীবী।

    তিনি বলেন, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তারা তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল নাগাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়ার পর এই আয়োজনে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ব্যারিস্টার সারোয়ার জানান, ৮ অক্টোবর তিনটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল তিনটি আলাদা আদেশ জারি করে, যার ফলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা issued হয়। এর পরে সেনা কর্তৃপক্ষ সেনা সদর দপ্তরে তাদের হেফাজত নেয়। আজ তারা যথাযথ আইনের পথে নিজ উদ্যোগে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আদালত তাদের ওকালতনামা স্বাক্ষর এবং তিনটি আবেদন দাখিলের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জামিনের আবেদন, একটি প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন ও আরেকটি সাবজেলে রাখার অনুরোধ।

    সাবজেল প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সারোয়ার উল্লেখ করেন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ সিদ্ধান্ত নিবে। পলাতক আসামিদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২০ নভেম্বর। আপাতত তাদের সেনানিবাসের নির্ধারিত সাবজেলেই রাখা হবে।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি গ্রেপ্তার নয়, বরং নিজস্ব ইচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হওয়ার শর্তে আত্মসমর্পণ। সকালেই তারা আদালতে হাজির হয়েছেন, পুলিশের কোনও পক্ষ থেকে কোনও গ্রেপ্তারি নির্দেশ দেয়া হয়নি। নিরাপত্তার জন্য একসাথে একটি গাড়িতে আনা হয়। এটি সম্পূর্ণ আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ।

    শনিবার সকাল ৮টার পর এই তিন মামলার শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর আদালত ১৫ কর্মকর্তা ওকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকছেন র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে. এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন)।

    তাছাড়া, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মো. সারওয়ার বিন কাশেম, মো. রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলমও কারাগারে পাঠানো হয়।

    অতিরিক্তভাবে, ট্রাইব্যুনাল ডিজিএফআই’র সাবেক তিন পরিচালক, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকেও জামিন অথবা জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।