দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোট চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই কর্মসূচির কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, দুঃখজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য নষ্ট করছে। মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একদলীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে, যেখানে জনদুর্ভোগ নিয়ে বিরোধীরা কথা বললেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ১১ দল এই নব্য ফ্যাসিবাদ রুখে দাঁড়াবে এবং গণভোটের রায় যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে শুরু হবে একটি সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি, যেখানে জনগণের মাঝে এই দাবির পক্ষসভা প্রচার করা হবে। এছাড়া ১১ এপ্রিল উপজেলা এবং থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীদলগুলোকে রাজপথে আন্দোলনে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মকাণ্ডে দেশ হতবাক, বিস্মিত এবং তাদের গণভোটের নোট অব ডিসেন্টও এখন স্থগিত হয়ে গেছে। সংসদে একমাত্র একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকটে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলের কথা বলতেও দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, তাদেরকেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে রাজাকার বলে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আহ্বান জানান, বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়ার জন্য।
Author: bangladiganta
-

বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত আমিরের মন্তব্য
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে একে একে দলীয়করণ করে দিচ্ছে, যা কার্যত আরেকটি ফ্যাসিবাদ এবং ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার অনুরূপ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরশাসনের পতনের পরেও বর্তমান সরকার পূর্বের মতো দমনমূলক নীতিগুলো জারি রেখেছে, এবং তারা আবারও নতুন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে রুখে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জামায়াতের এই নেতা এসব কথা বলেন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদে অধিবেশন শেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর আগে, গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত কিছু বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল আনা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে জনগণের অধিকার হরণ করে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সদস্যরা বক্তব্য বলার সুযোগ পায়নি; কিছুক্ষণ বিরতিতে থাকলেও কিছু মন্ত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংসদে ভাষণ দেন, যা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী এবং বিরোধী কণ্ঠরোধের এক অপপ্রয়াস।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়েও এই নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার এমন কিছু বিল পাস করছে, যা বিচারকদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে। অতীতের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের পরিবর্তে এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ভবিষ্যতেও দলীয় বিচারপতিদের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, হাইনাসহ অন্যান্য নেতাদের মতো বর্তমান সরকারও বিচার বিভাগে দলীয় আঁচড় কেটে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকারের বিলগুলোরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্য, বিএনপি প্রথমে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে দলের পক্ষ থেকে বলানো হয়েছিল, সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগে অমুক অমুক শর্ত মানা হবে। কিন্তু সরকার অযৌক্তিক কারণ ছাড়াই সব স্তরে দলীয়করণ চালু করেছে, যা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করছে।
এছাড়াও, শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ১৯৯৪ সালে মাগুরায় যে কলঙ্কজনক নির্বাচন হয়েছিল, আজ আবারও একই ধরনের ‘স্টাইল’ দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এটাই আবার প্রমাণিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে এক কর্মী নিহতের পর আবার অন্য একজনের মৃত্যু, এর জন্য দায়ী খুনিদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি। সংসদে যাবো এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলবো। তবে, যদি কোনো জনগণবিরোধী আইন পাস হয়, তবে আমাদের কণ্ঠ আবারো উচ্চারিত হবে। তিনি আরো বলেন, জনগণ আগেও ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ নতুনভাবে এ ধারাক্রম চালাতে চায়, তাহলে জনগণের সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের শীর্ষ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
-

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রথম দিন, শুক্রবার (১০ এপ্রিল), সকাল ১১টায় রাজধানীর সেখানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা, আর জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। এই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, আর্জিা সুলতানা রুমা ও অন্যান্য নেতা-কর্মী। রিজভী আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য বিএনপি মূলত স্বামী নারীবাদী নেত্রীদের মূল্যায়ন করবে, যারা নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই জন্য, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। বিএনপির মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে নারী নেত্রীদের অনেক সমস্যা—ক্যারাবরণ ও অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাই, দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সব দিক বিবেচনা করে তাদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেবে, এটাই প্রত্যাশিত। তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় প্রার্থীদের বিভিন্ন বিবেচনা করা হবে, যেমন—জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংসদে বক্তৃতার সক্ষমতা।
-

শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও অনিয়মের অভিযোগ
শেরপুর ও বগুড়ায় উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোটাধিকার লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলছেন, কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রহস্যজনক হামলা ও জাল ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচনগুলোর সাথে অপ্রত্যাশিত অনিয়ম ঘটেছে। এই ঘটনা এতটাই গুরুতর যে, তা বিএনপির জন্যও শোরগোল সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা, বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন। এই সমাবেশের আয়োজক ছিল ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী, যা শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ নম্বর আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রকাশ্যে বলেছিল, তারা গণভোটে জিতলে তা মানবে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা সেই গণভোটের ফলাফলই বাতিল করছে, যা সম্পূর্ণভাবে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও নির্বাচন কমিশন নানা তত্ত্ব দিয়ে বলছে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে, যা একান্তই কপটতা এবং জাতির সাথে তামাশা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতায় থাকা কোনো দিনই সম্ভব নয়। জনগণের সুবিচার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএনপিকে এখনই রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্য নেতারা।
এর আগে, জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়, যা শেষ হয় পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায়। এই মিছিলে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে বক্তৃতা ও শ্লোগান দেওয়া হয়।
-

মির্জা ফখরুলের আশঙ্কা, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে
সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা আমাদের কঠোরভাবে রুখে দিতে হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সকলকে এই বিভাজনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। আমাদের মূল পথচলা হবে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য—এটাই হবে আমাদের শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলার ইতিহাসে দেখা যায়, এই দেশ সব ধর্মের মানুষকে গ্রহণ করে এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও সমান সম্মানে বসবাস করে আসছেন। এই ধরণীর এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে জীবনযাপন একটি প্রাচীন ঐতিহ্য।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এক সময়ে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই বিভাজন কায়েম রাখা কখনোই যেন আমাদের স্বপ্ন না হয়।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন আমাদের অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। ভবিষ্যতে আমরা যেন একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় সরকার গঠন করতে পারি, তার জন্য আপনাদের পাশে থাকতে চাই। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে, যার জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”
-

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হন ৫৩২ জন এবং আহত হন ২ হাজার ২২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। এছাড়াও এই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ (শনিবার) সকালে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং তাদের নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
নিহতদের বা আহতদের তালিকায় যানবাহনের ভিত্তিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসে যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনের (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, স্থানীয় যানবাহন (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়াও, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে—যেমন: ১৭১টি সংঘটিত হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী বলতে হয়, মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৬৬টি, নিয়ন্ত্রণ হারানো ২৩১টি, পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা মারা ৮৬টি, যানবাহনের পেছনে আঘাত ৮২টি এবং অন্যান্য কারণে ১১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মোট সংখ্যা ছিল ১,৮০০টির বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ২৪৪টি মোটরসাইকেল আরোহী, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, কাভার্ড ভ্যান ৩৭টি, পিকআপ ৪১টি, ট্রাক্টর ১৬টি, ট্রলি ৬টি, লরি ৭টি, ড্রাম ট্রাক ১৬টি, হ্যান্ড ট্রলি ৩টি, পর্যটন জিপ ২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, অ্যাম্বুলেন্স ২টি, পাজেরো জিপ ৮টি, সড়কের মোট অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি এবং কাঠামোগত অজানা যানবাহন ৩২টি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে ১৩৭ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনা নেমে এসেছে যেখানে ২৬ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকা শহরেও গত মার্চে ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হন ৬৯ জন।
এটি লক্ষ্য করা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক গড়ে ১৫.৪২ জনের প্রাণহানি ঘটলেও মার্চে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি দিন গড়ে ১৭.১৬ জন। অর্থাৎ, এই দুমাসের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কোথায় কোথায় বেড়েছে। মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বেশি গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব। বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হলো—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ সড়ক পরিস্থিতি, বেপরোয়া গতি, চালকদের মানসিক বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। এসব কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এবং এর মোকাবেলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
-

শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ দিলেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সমস্যায়
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করছে যে, তাদের ক্লাস নিয়মিত হয় না এবং হাতে-কলমে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও রসদ নেই। ল্যাবের যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞানগত দক্ষ শিক্ষকও পাওয়া যায় না। এসব সমস্যা শুনে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা আসছে, যদি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা না করতে পারে, তবে ফলাফল তেমন সুইসFbNa হবে না।তবে, পরীক্ষায় না পারলে তুমিও ফেল করবে আর ছয় মাস পরে আমিও ফেল করব। তারা যেন বোঝে, কাউকেই এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা যাবে না। নিজের মুক্ত আলোচনায় এই মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো ভালোভাবেই শুনে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য নির্দেশ দেন।কিছু শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস হয় না, প্র্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায় এবং বোঝার সুবিধা হয় না। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, ‘আমাদের কোনও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি বা আধুনিক সুবিধা নেই। ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করা হয়, ফলে আধুনিক মানের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্র্যাকটিক্যাল কাজ ও প্রশিক্ষণ ঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না।’ অন্য এক শিক্ষার্থী আবু জার গিফারি অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা থাকলেও সেটি হয় না বা ঢাকার ভালো প্রতিষ্ঠানেও তার শিক্ষার্থীরা নেওয়া হয় না। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে রাজশাহী পলিটেকনিকের প্রিন্সিপালের কাছে জানতে চান। প্রিন্সিপাল জানান, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন শিক্ষার্থীদের নিতে চায় না। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির চুক্তি রয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রতিষ্ঠানে নেওয়া উচিত। মেশিনারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কেনো এটা হচ্ছে না, তার কারণ খুঁজে বের করতে বলেন।তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে এবং আমরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি সমস্যা শুনে নিশ্চিত করছি, যেখানে যেখানে সমস্যা আছে, সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করব। এর জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করব।’ শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও সংকটের ব্যাপারে সচেতন হতে পারে এটাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।একজন শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, তাদের এই হার কমানোর জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে উত্কলন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ১৯ জন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সাত বছর চাকরি করে তাদের এখনও বেতনের টাকা পাননি। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগের কমিশনার বজলুর রশীদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সমগ্র অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
-

সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হবে
দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাচ্ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। হঠাৎ করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরই দ্রুত তার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুরের রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার। তিনি জানান, শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি অনুভব করেন। পরে দ্রুত তাকে সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।
গফুর সরকার আরও বলেন, নেতাকর্মীদের পরামর্শে তাকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নেন, তাকে সরাসরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হবে। এয়ামুহূর্তে সৈয়দপুরে অবস্থানরত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার জন্য রওনা দিয়েছে, যেখানে তাকে সুচিকিৎসার্থে পৌঁছে দেওয়া হবে।
-

বাজার থেকে সিন্ডিকেট শব্দটি সরিয়ে দিচ্ছে সরকার
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে কোনও সিন্ডিকেটের ব্যাপার থাকবে না। তিনি বলছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে চিরতরে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে, বাজার পরিচালনার জন্য আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দেশের প্রথম সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমদানির ওপর নির্ভরশীল পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেইনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে বাজারের তদারকি আরও সহজ হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
এর পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার প্রতিবছর টিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩২ থেকে ৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির চাপ কমানোর জন্য এবং সেবার উন্নত মান বজায় রাখতে টিসিবির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিলেটের টিলাগড়ে নির্ধারিত স্থানে এই ‘কৃষকের হাট’ প্রতিদিন সকালে পরিচালিত হবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা ছাড়াই সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে এক পণ্য কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে বেশ কয়েকবার হাতবদল হয়, যার ফলে দাম বাড়লেও কৃষক ন্যায্য মূল্য পান না। ‘কৃষকের হাট’ এই চিত্রটি পরিবর্তন করে কৃষক এবং ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী এক घोषणा করেন, দেশের সব জেলাতেই কৃষকরা অন্তত এক দিন সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। এই জন্য প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে বিষমুক্ত, সতেজ সবজি পাবেন এবং কৃষকরাও তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পান।
সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী এবং ব্যতিক্রমী।
-

লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেনের পদত্যাগ
লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আকবর হোসেন। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। আকবর হোসেন জানান, তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে লন্ডনে তার পক্ষে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই।
২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে অন্তর্বর্তীকার্যক্রমে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই নিয়োগ দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক। নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য পেশা, ব্যবসা বা কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে, সেটা শর্ত।
আকবর হোসেন এর আগে বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।
