Author: bangladiganta

  • টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলসংখ্যা ও সূচির পরিবর্তন আসছে

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলসংখ্যা ও সূচির পরিবর্তন আসছে

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিন্তা করছে। এক সদ্যপ্রস্তাবিত পরিকল্পনায় আগামী চক্রে একক ম্যাচের টেস্ট (ওয়ান-অফ টেস্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এর পাশাপাশি, দলসংখ্যা বাড়িয়ে ১২টি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    আইসিসির একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টউস, এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষ কিংবা মে মাসের শুরুতে এই সুপারিশগুলো বোর্ডের সভায় উপস্থাপন হবে।

    বর্তমানে, সূচি বিভ্রান্তি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় রয়েছে আইসিসি। এর সমাধানে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে, দুই-স্তরের (টু-ডিভিশন) ডব্লিউটিসি মডেল প্রস্তাব করা হলেও বিভিন্ন পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিতে তা বাতিল হয়ে যায়।

    নতুন পরিকল্পনায় জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মত দেশগুলো এই চক্রের অংশ হতে পারে। ২০১৯ সালে ডব্লিউটিসি চালুর সময় পূর্ণ সদস্য হিসেবে থাকা সত্ত্বেও এই তিনটি দলকে এইমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যার ফলে, তারা নিয়মিত টেস্ট খেললেও বড় দলের বিপক্ষে সুযো​গগুলো খুবই সীমিত।

    বর্তমানে, ডব্লিউটিসির প্রতিটি সিরিজে অন্তত দুই টেস্ট থাকতেই হয়। কিন্তু অনেক বড় বোর্ডের জন্য এই ধরনের সিরিজ আয়োজন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। তাই, ছোট দলগুলোর সঙ্গে এক ম্যাচের টেস্টের ব্যবস্থাপনাকে পয়েন্ট কাঠামোর মধ্যে আনার প্রস্তাব তোলে হয়েছে, যা এই সমস্যা সমাধানের দিকে একটি পদক্ষেপ।

    এই পরিবর্তনের ফলে, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলো সহজেই সূচিতে জায়গা পাবে। যেমন, কোনও দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি টেস্ট খেলতে পারে, বা ইংল্যান্ডের মতো দেশ তাদের গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ত সূচির মধ্যে একটি ওয়ান-অফ টেস্ট আয়োজন করতে পারবে।

    কিন্তু এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে দুটি বড় বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, ওয়ান-অফ টেস্টকে ডব্লিউটিসির অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কি সম্ভব, এবং দ্বিতীয়ত, এই তিন দলের জন্য দুই বছর ধরে বাড়তি টেস্ট খেলা আর্থিকভাবে টেকসই হবে কি না।

    এছাড়া, আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভার আয়োজনও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সংকটের কারণে পূর্বের বৈঠকটি স্থগিত হয়, এবং নতুন বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সময় ও ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

  • এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে পারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)

    এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে পারে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আলোচনায় নতুন দিকনির্দেশনায় ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে জানা গেছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ডিপিএল শুরু হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে ১৩ এপ্রিল, যেখানে চূড়ান্ত অনুমোদন সম্ভব। অচলাবস্থার মাঝখানে, যেখানে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের কারণে মে মাসে খেলতে চায় ক্লাবগণ, সেখানে বিসিবি ২২ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে লিগ শুরুর পরিকল্পনা করেছে। তবে ক্লাবগুলো চাইছে, মে মাসের 5 তারিখের আগে ডিপিএল শুরু করা।

    গত কয়েক মাসে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের অধীন সব ধরণের ক্রিকেট বর্জন করে আন্দোলনের মুখে ছিল ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা। বোর্ডের অবস্থা অস্থির থাকায় মাঠে গড়ায়নি সূচনাশীন এর ব্যাপারটি। পূর্বে, নির্বাচনের সময় অবৈধ অনিয়ম ও দুর্বলতার কারণে এনএসসি তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে বোর্ড ভেঙে দেয়। এখন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি এই দায়িত্ব নিয়েছে। কমিটির প্রথম দিনই, বিসিবি কর্তৃপক্ষ ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনা চালিয়ে যায়।

    উপস্থিত ছিলেন আবাহনী ও মোহামেডানের প্রতিনিধিরা, তবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এরপরেও, বেশ কয়েকটি ক্লাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সফল হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ডিপিএল ২২ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শুরু হবে, তবে ক্লাব পর্যায়ে এর পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন তারা, যেখানে তারা চাচ্ছে টুর্নামেন্টটি 5 মে থেকে শুরু হোক।

    নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর চলাকালীন, এই মাসের মধ্যে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড। সিরিজ শেষ হবে 2 মে, ফলে লিগের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসছে। জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এবারের ডিপিএল দুই লেগে নয়, বরং সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সময়ের অপচয় রোধে, বিসিবি সুপার লিগ ছেড়ে দিয়েছে। প্রতিটি ক্লাব একটি করে ম্যাচ খেলবে, মোট ১১ রাউন্ড। সেই শেষে, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান থাকা দলটি চ্যাম্পিয়ন হবে।

    হান্নান সরকার বলেন, ‘এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত, যে আমরা একমত হয়েছি। সাধারণত ডিপিএলের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য সুপার লিগ হয়, কিন্তু এবার তা পরিবর্তন করে সিঙ্গেল লিগে নিয়ে আসা হয়েছে, যাতে মৌসুমের প্রবাহ ঠিক থাকে।’

    এছাড়া, এই মৌসুমে ভেন্যুর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরগুলোতে ঢাকা স্টেডিয়াম ও বিকেএসপিতে খেলা হয়েছে। এই বছর, ছয়টি ভেন্যুতে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নতুন ভেন্যু হিসেবে পিকেএসপি, বসুন্ধরা, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও সিলিকন ভ্যালি যুক্ত হতে পারে। তবে, কোন ভেন্যুতে খেলা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    ধানমন্ডি ক্লাবের প্রতিনিধি আর মল্লিক রনি বললেন, ‘আমরা চাই, সবাই একসাথে ছয়টি মাঠে খেলো, যাতে একসাথে ম্যাচ হয় এবং রিজার্ভ ডে থাকে। ফলে, ম্যাচের ব্যস্ততার পরেও কোয়ালিটি ম্যাচ দেখা যাবে।’

    বৃষ্টির মৌসুমে রিজার্ভ ডে রাখার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। গরমের কারণে মাঠে আইসিইউ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সংস্থান রাখা হবে। এছাড়া, বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এ বছর অনিশ্চিত, কারণ ডলার সংকট ও ক্লাবের চাওয়া অনুযায়ী, গত মৌসুমে দেখা যায়নি বিদেশি ক্রিকেটারদের। এই বিষয়েও আপাতত কিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি।

  • নাটকীয় প্রবেশ: জাতীয় ক্রিকেটাররা হজ্জ এজেন্সিতে যুক্ত

    নাটকীয় প্রবেশ: জাতীয় ক্রিকেটাররা হজ্জ এজেন্সিতে যুক্ত

    হজ্জের জন্য যাতায়াতের জন্য এজেন্সি ব্যবসায় অনেক আগে থেকেই নাম লিখিয়েছেন অনেকেই। তবে এবার এটি বৃহৎ পরিসরে উদ্যোগের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোরের আরএন রোডে ‘ফ্লাই রিহলার’ নামে নতুন হজ্জ এজেন্সির প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই খ্যাতনামা ফাস্ট বোলার – তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। এর পাশাপাশি যোগ দেন আরও একজন খ্যাতনামা ফাস্ট বোলার, এবাদাত হোসেন। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন যশোরের দারুল আরকাম মাদরাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল মান্নান কাসেমী।

    ‘ফ্লাই রিহলার’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিব বলেন, হজ্জ ও ওমরা শুধু সফরের জন্য নয়; এটা মানুষের অন্তর্দৃষ্টির এক গভীর আকাক্সক্ষা। আল্লাহর ঘরে যাওয়ার বাসনা সকল মুসলিমের স্বপ্ন। একজন ক্রিকেটার হয়েও আমি বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত থাকতে পারতাম, কিন্তু মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য এই ব্যবসায় প্রবেশ করেছি। এটি কেবল ব্যবসা নয়, বরং দাওয়াতের এক দিক। আমি মনে করি, আমাদের মাধ্যমে মানুষ তার স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছাতে পারবে—এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

    অন্য একজন ফাস্ট বোলার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী জানান, হজ্জ এজেন্সিগুলোর দীর্ঘদিনের অনিয়ম, প্রতারণা, বাড়ি ভাড়া সমস্যা ও ভিসা জটিলতার কারণে হাজার হাজার হজযাত্রী বছরব্যাপী দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার শিকার হন। তাই ‘ফ্লাই রিহলার’ শুরু হয়েছে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার জন্য। ইতোমধ্যে ঢাকা, যশোর ও ঝিনাইদহে শাখা চালু করা হয়েছে। শীঘ্রই সিলেটসহ বাংলাদেশের সব জেলায় এই সেবা পৌঁছে দেয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল মুদেররেসীন সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, যশোর মহিলা আলিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন, ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখার ম্যানেজার জামিনুর রহমান, আল ফিকহ ও আকিদা বিভাগের লেকচারার, আসসুন্নাহ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালিদ আব্দুল্লাহ মাদানি-সহ অন্যান্য অতিথি।

  • খুলনা, বগুড়া ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর উদ্যোগ

    খুলনা, বগুড়া ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর উদ্যোগ

    গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলো ঢাকায়, চট্টগ্রামে এবং সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন সেই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পথে, কারণ ব্যাটে-বলের দেশি-বিদেশি সব দলের ম্যাচ ফেরানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নবনিযুক্ত এডহক কমিটি এই তিনটি stadিয়ামে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    বগুড়ায় ২০১৬ সালে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই টেস্টের পর একবারই নারী ক্রিকেটের একটি ম্যাচ খেলা হয়েছিল সেখান। এরপর দীর্ঘ সময় এই মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দেখা মেলেনি। খুলনার মাঠে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০১৬ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ফতুল্লার মাঠে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের ওয়ানডে ম্যাচ ছিল।

    শুক্রবার গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিতুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এই তিনটি মাঠের সংস্কার ও উন্নয়ন করে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অতীতে এই মাঠগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খেলা না হওয়ায় এই স্বীকৃতি হারিয়ে গেছে। এখন আমাদের প্রয়োজন আবারও মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে আনতে।’

    বিসিবি এই পরিকল্পনায় শুধু সংস্কারই নয়, বরং আধুনিক অবকাঠামো তৈরি, উইকেট উন্নত করা, এবং উন্নত সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের মাঠগুলো আবারও বিদেশি দলের জন্য আকর্ষণীয় ও উপযোগী হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী ক্রিকেট পারীক্ষারা। এই উদ্যোগ দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, চমকের কিছু নেই

    নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, চমকের কিছু নেই

    নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কোনো নতুন বা আশ্চর্যজনক পরিবর্তন দেখা যায়নি। এই সিরিজটি সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। আজ, শনিবার (১১ এপ্রিল), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক প্যানেল এই স্কোয়াড ঘোষণা করে। বিস্ময়কর কিছু অন্তর্ভুক্ত হয়নি, কারণ পুরোপুরি একই দলে রাখা হয়েছে শেষের পাকিস্তান সিরিজের खिलाड़ियोंকেই। যদিও পাকিস্তান সিরিজে পার্ফরমেন্স ভালো ছিল না, তবুও আফিফ হোসেন, সাইফ হাসানসহ অন্যান্য মূল খেলোয়াড়রা এই নতুন সিরিজের জন্য একই স্কোয়াডে রয়েছেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন দাসও দলে থাকছেন। আগামী ১৩ এপ্রিল নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দল ঢাকায় পৌঁছাবে। ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো হবে ১৭, ২০ এবং ২৩ এপ্রিল, সেগুলো অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে ও চট্টগ্রামে। এরপর ২৭ এবং ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং ২ মে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো। এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের শুরু হবে ওয়ানডে দিয়ে। মূলত, প্রথমে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টায় খেলাগুলো হওয়ার কথা ছিল, তবে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সময় পরিবর্তন করে সকাল ১১টায় করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলোতেও সূচিতে পরিবর্তন এসে সন্ধ্যা ৬টায় হওয়ার কথা থাকলেও এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। প্রথম দুই ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোয়াডে রয়েছেন: অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তরুণ তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

  • মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং

    মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং

    মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং officially শপথ গ্রহণ করেছেন দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে। পাঁচ বছর ধরে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ও একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার পর তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।

    শুক্রবার রাজধানী নিপিদোতে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এই শপথ নেন। ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমার এখন ‘গণতন্ত্রের পথে’ ফিরে আসছে এবং একটি আরও উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমান সময়ের মতো অনেক চ্যালেঞ্জ এখনো মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    গত সপ্তাহে, জান্তাপন্থী পার্লামেন্টে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে নির্বাচিত হন ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল। এর মাধ্যমে দেশের শাসনে তার নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি মনোনীত তিন প্রার্থী মধ্যে অন্যতম ছিলেন, যেখানে অন্য দুজন উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২১ সালে, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে গ্রেফতার করেন মিন অং হ্লাইং। এই অভ্যুত্থানের ফলে মিয়ানমার আকস্মিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ে, বিভিন্ন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটি এক গভীর অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যায়।

  • ইরানের সঙ্গে আলোচনা বাťে ট্রাম্পের কণ্ঠে ‘সতর্ক আশাবাদ’

    ইরানের সঙ্গে আলোচনা বাťে ট্রাম্পের কণ্ঠে ‘সতর্ক আশাবাদ’

    কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাঝেই ওয়াশিংটন থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও, তারা জানায় যে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত নাজুক ও সংবেদনশীল। শুক্রবার সন্ধ্যার আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রতি আস্থার কথা ব্যক্ত করেন। তবে আলোচনা কী রকম ফলপ্রসূ হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত—এমন কোনও আভাস তিনি দেননি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “শেষ পর্যন্ত কী হয় দেখা যাক। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ ও জ্যারেড আছেন। আমাদের দক্ষ এক দল আছে এবং তারা কাল বৈঠকে বসবে। আমরা দেখব কী উন্নতি হয়।” তিনি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও শীর্ষ উপদেষ্টা দলের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প একই সঙ্গে এই আলোচনাকে কৌশলগত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত আলোচনা ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ প্রণালি) খুলে যাবে। আমরা যদি এটি ছাড়া দিই, তবে এটি নিজেদের মতোই খুলে যাবে। আমারা এই নৌপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়—অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসবে।” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বিকল্প পরিকল্পনা বা ব্যাকআপ প্ল্যানের বিষয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য করেননি, বরং বলেন, “এটি সহজ হবে না, তবে আমরা খুব দ্রুত পথ খুলে দিতে পারি।” তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি আলোচনার ফলাফল নিয়ে একদিকে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে অনিশ্চিত। তিনি এই প্রক্রিয়াটিকে প্রকৃতিতে সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত বলে মনে করেন। অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনাকে তিনি ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যেন আমাদের সঙ্গে ‘চতুরতা’ বা কারসাজি করতে না আসে। এই মন্তব্যে তাদের গভীর অবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেকে কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সহায়ক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশটি মূলত আলোচনা পরিচালনায় পরিবেশ তৈরির জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও তৎপরতার ফলেই আজকের এই ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রশংসা করেন পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকাকে। তিনি জানিয়ে দেন যে, এখন আলোচনাগুলোর চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়েছে, এবং এর মধ্যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। কূটনৈতিক এ অগ্রগতি মূলত অপ্রত্যাশিত নয়, বরং প্রাথমিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এই অবস্থায় এসেছে। তিনি আরও সর্তক করেন, আলোচনা শুরুর আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, সেগুলোর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখা জরুরি। এটি শুধু বাহ্যিক পরিবেশের জন্য নয়, বরং মূল বিষয়বস্তুর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় পক্ষের মনোভাব ও সহযোগিতার মানসিকতা পুরো বিষয়টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চূড়ান্ত পর্যায়কে তিনি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।

  • ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, আলোচনার প্রস্তুতি শুরু

    ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, আলোচনার প্রস্তুতি শুরু

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আগে কখনো এভাবে উচ্চস্তরের মার্কিন প্রতিনিধি এই অঞ্চলে আসেননি। মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে, যেন শেষ মুহূর্তের চুক্তি সম্পন্ন করার দায়িত্ব তার কাঁধে দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর পরিস্থিতির গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ, যারা মূল আলোচক। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন দ্রুত এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।

    অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। দেশের এক-তৃতীয়াংশের কম মানুষ এ ব্যবস্থার পক্ষে। এর ফলে, দক্ষিণপন্থী এই উদ্যোগ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প। এছাড়া, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই তার দল রিপাবলিকান পার্টির শক্তি কমিয়ে দিতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্প ভ্যান্সাকে পাঠিয়েছেন চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করতে। মূল লক্ষ্য রয়েছে—হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা, সেটি সচল রাখা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হল এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করা। এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা।

    এর আগে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃস্থানীয় সদস্য জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। রয়টার্সের খবর, এমন এক বিমানে করে তারা পাকিস্তানের রাজধানীতে এসেছেন, যা বিশেষভাবে এই আলোচনার জন্য কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ আলোচনাকে ‘মেক অর ব্রেক’ অর্থাৎ চূড়ান্ত মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানটিকে এডব্লিউএসিএস সতর্কতা বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য যুদ্ধে সামরিক বাহিনী দ্বারা ঘিরে রাখা হয়। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরে ইরানি প্রতিনিধিদলকে উদ্দেশ্যে জানান সরকারের প্রতিরক্ষা বাহিনী, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ব্লু এরিয়ায় এত তীব্র গাড়ি ও জনজট তৈরি হয়েছে যে পুরো রাস্তা কার্যত থমকে গেছে। সরকার এই দুই দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা এবং নিরাপত্তায় মোতায়েন করেছে প্রায় ১০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তা কর্মী।

    বিমানবন্দর থেকে ইরানি প্রতিনিধিদল যখন শহরের দিকে রওনা দেন, তখন তাদের নিরাপত্তা দেয় স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। ইসলামাবাদ সময় সকাল ১০টার একটু পরে, মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে প্রস্তুত দেশের এই বহুল প্রত্যাশিত আলোচনা শুরু হওয়ার জন্য।

    মধ্যরাতের পর ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়, নেতৃত্বে ছিলেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাৎক্ষণিকভাবে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আলোচনা কখন শুরু হবে বা কত দিন চলবে—এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তৎপরতা জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা অন্তত একটি পুরো দিন পর্যন্ত চলতে পারে, যদি ভ্যান্স এখনো পৌঁছান।

    এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্তের পরে এ আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা যেতে পারে। এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্কের কিছু অংগমুক্তির চেষ্টা চলবে, যা সম্ভবত এই দুই দেশের বৃহৎ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে।

  • চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)-এর নভোযান আরেটেমিস ২-এর চার নারী ও পুরুষ নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। দশ দিনের এই ঐতিহাসিক চন্দ্র অভিযানে তারা বিশ্ববাসীর কাছে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলেন।

    গত ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবতরণ করে NASA-র ওরিয়ন ক্যাপসুল। এরপর, উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতা নিয়ে দুতলার ক্যাপসুল খুলে বের হন চারজন নভোচারী।

    এর আগে, ১ এপ্রিল, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এই বিশেষ অর্বহ রোভার। এবং তা সফলভাবে আজ পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। নভোযানে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক এবং একজন কানাডার নাগরিক।

    নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে আরেটেমিস ২ মহাকাশযান পৃথিবীর দুই অক্ষাংশে মোট ১১ লাখ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। চন্দ্রের কাছাকাছি গিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ ফ্লাইবাই সম্পন্ন করে, অর্থাৎ মহাকাশে স্বধীনভাবে মহাকর্ষের টানে মহাকাশযানটি খুব কম দূরত্ব দিয়ে যায়, কিন্তু কোনোক্রমে মহাকর্ষ টানে কক্ষপথে আবদ্ধ হন না।

    পৃথিবীতে ফেরার সময় ক্যাপসুলটি বেশ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বাইরের তাপমাত্রা ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়, যা এক বিশাল আগ্নিগোলক সৃষ্টি করে। এই তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে বড্ড দেরি না করে, উদ্ধারকারী দল ক্যাপসুল থেকে নভোচরীদের নামাতে সক্ষম হন।

    বিশ্বের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ এই দৃশ্যের ভিডিও দেখেছেন, যেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন মহাকাশচালকরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসছেন। নভোচরীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও নাসার যৌথ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুক্রবার রাতে তারা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন, এবং শনিবার হিউস্টোনে ফিরে এসে অতীতের অভিজ্ঞতাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

    প্রথম চন্দ্র অভিযানের ওপর ভিত্তি করে ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রাখেন নাসার নভোচারীরা। অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং, অলড্রিন এবং কলিন্স প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রাখেন। এরপর ১৯৭০ সালে শেষ অ্যাপোলো অভিযানে, অ্যাপোলো ১৩, পৃথিবীর মহাকাশ ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছিল, যেখানে তারা ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে।

    নাসা এখন নতুন লক্ষ্যে এগাচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে আবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে। এই প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছর অনুষ্ঠিত হয় আরেটেমিস ২ মিশন, যা ছিল প্রস্তুতিমূলক এবং ইতিহাসে এক নতুন দিক।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো একজন নারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে কানাডার জেরেমি হ্যানসেন মহাকাশে গিয়েছেন, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

    আবৃত্তির শেষ পর্যায়ে, মিশনের প্রধান নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা চন্দ্রের অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি, যা গতবারের চেয়ে কিছুটা ছোট মনে হচ্ছে। আমাদের ফিরে যেতে হবে।” এই মন্তব্যে এই অভিযানের গুরুত্ব এবং তার অসাধারণ তারিখের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফায় এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের ৬৫ শতাংশই মুসলিম

    পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফায় এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের ৬৫ শতাংশই মুসলিম

    পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফায় ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে যেন এক রোগী দেখছে ডাক্তারের নিদান। এর আগে, বাংলার বিজেপির নেতারা বলেছিলেন, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ‘বেনোজল’ ভোটার বের করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিতে সক্ষম হবে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের শরণার্থী ও ঘুষপেটিয়া ব্যক্তিদেরও বাদ দেওয়া হবে এই তালিকা থেকে।