Author: bangladiganta

  • সোনারগাঁয়ে টিস্যু কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট

    সোনারগাঁয়ে টিস্যু কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঝাউচর এলাকায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড পেপার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সোমবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে কারখানার গোডাউনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১৪টি ইউনিট। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

    নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন  জানান, সকাল সোয়া ৫টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে ৫টার মধ্যে তারা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রথমে সোনারগাঁও, গজারিয়া ও গজারিয়া বিসিক ফায়ার স্টেশনের ৬টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে বন্দর, কাঁচপুর ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে।

    তিনি বলেন,আগুন বড় হওয়ায় আরও একাধিক ইউনিট নিয়ন্ত্রণে যোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।

    তবে তাৎক্ষণিক হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষতির পরিমাণও জানা যায়নি।

  • বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ করলো সৌদি

    বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ করলো সৌদি

    বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জাতীয় ও গোষ্ঠী প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধের কথা জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খবর সৌদি গ্যাজেট ও গালফ নিউজের। 

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সৌদির বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজেদ আল-কাসাবি জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রতীক ও লোগোতে ধর্মীয় ও গোষ্ঠী প্রতীকের অপব্যবহার বা ভুল ব্যবহার বন্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এসব প্রতীক ও লোগো ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী নিজ নিজ প্রতীক ও লোগো পরিবর্তনের জন্য সরকারি গেজেট প্রকাশ থেকে ৯০ দিন সময় পাবে।

    সৌদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আগে থেকেই বাণিজ্যিক বিষয়াবলীতে সৌদির পতাকা ব্যবহার নিষিদ্ধ আছে। এই পতাকায় কালেমা খচিত আছে। এতে আরও আছে একটি পাম গাছ এবং দুটি তরবারির চিহ্ন।
     
    নতুন নির্দেশনায় সৌদি আরবের পতাকা, কোনো নেতার ছবি বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুদ্রিত কোনো বস্তু, পণ্য, মিডিয়া-বুলেটিন বা বিশেষ উপহারেও ধর্মীয় ও গোষ্ঠী প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

  • ঘুস নিয়ে কমিটি গঠন, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    ঘুস নিয়ে কমিটি গঠন, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়েই চলেছে। জেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। রোববার দুপুরে আয়োজিত এই ঝাড়ু মিছিলে জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকারের বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্য এবং নিজের অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অভিযোগ তোলা হয়। এসময় তারা সমর্থকদের পোস্টার ব্যানার পুড়িয়ে জুতাপেটা করে।

    জানা যায়, ১৪ নভেম্বর জেলা বিএনপি ২১ সদস্য বিশিষ্ট ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিটির অধিকাংশ সদস্য মাসুদ খন্দকারের ঘনিষ্ঠ এবং অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই উপজেলা বিএনপি বিভক্ত হয়ে পড়ে। কারণ হিসেবে জানা যায় তারা দলের ত্যাগী জেল জুলুমের শিকার নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি করেছেন। যার কারণে তারা রোববার দুপুরে মাসুদ খন্দকারের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা বিএনপি পার্টি অফিসের সামনে এসে মাসুদ খন্দকারের ছবিতে ঝাড়ু ও জুতাপেটা করে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার ছবিতে প্রস্রাব করে প্রতিবাদ জানান এবং কমিটি বাতিলের দাবি তোলেন।

    উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবনেতা আবু সায়েম সরকার অভিযোগ করেন, ‘মাসুদ খন্দকার টাকা নিয়ে নিজের লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। এটি বাতিল হওয়া উচিত।’

    অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, বিক্ষোভকারীরা বিএনপির নয় তারা আওয়ামী লীগের দোসর। আর কমিটি করায় কোন অনিয়ম দুর্নীতি করা হয় নাই।

  • সালমান শাহর নায়িকার অ্যাকাউন্ট যে কারণে ফ্রিজ হলো

    সালমান শাহর নায়িকার অ্যাকাউন্ট যে কারণে ফ্রিজ হলো

    ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী। নব্বই দশকের মাঝামাঝি বিনোদন জগতে আবির্ভাব হয় তার। প্রায় ৩৫ সিনেমায় অভিনয় করা শিল্পী একসময় বড়পর্দা থেকে দূরে সরে যান, আত্মনিয়োগ করেন উপস্থাপনায়। টিভি নাটকেও উপস্থিতি ছিল তার। তবে এবার হঠাৎ একেবারেই ভিন্ন এক কারণে তার নাম আলোচনায়।

    শিল্পীর স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল। সম্প্রতি ইকবালসহ তাদের পরিবারের আরও তিন সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৩০ দিন জব্দ করা হিসাবে সব লেনদেন বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্যও জমা দিতে হবে।

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকার পাশাপাশি ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) একসময়ের সদস্য ইকবাল গত এক যুগে অনেক কোম্পানির মালিক হয়েছেন। তিনি সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

    আর ইকবালের পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণেই অ্যাকাউন্ট জব্দ হয়েছে চিত্রনায়িকা শিল্পীর। স্ত্রীর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোনো অবৈধ লেনদেন করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে বিএফআইইউ।

  • ‘নারী ফুটবলের মাস্টারমাইন্ড কাজী সালাউদ্দিন’

    ‘নারী ফুটবলের মাস্টারমাইন্ড কাজী সালাউদ্দিন’

    কাজী সালাউদ্দিনের অবদানের কথা মনে করিয়ে তাকে নারী ফুটবলের ‘মাস্টারমাইন্ড’ আখ্যা দেন বাফুফের বর্তমান কমিটির নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। বাফুফের সাবেক সভাপতিকে দেশের সেরা ফুটবল বোদ্ধাও মনে করেন তিনি।

    টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ নারী দল অনেক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকেই সংবর্ধনা পাচ্ছে। আর্থিক পুরস্কার প্রাপ্তি হয়েছে বেশ। ইতোমধ্যে প্রায় কোটি টাকা পুরস্কাার পেয়েছেন সাবিনা-কৃষ্ণারা। নানা আয়োজনে দারুণ সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে নারী ফুটবল দলকে। বাংলাদেশ  ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সভাপতি হয়ে যাওয়ায় এসব আয়োজনের কোথাও নেই কাজী সালাউদ্দিন।

    দীর্ঘদিন দখলে রাখা তার চেয়ারটি এখন তাবিথ আউয়ালের দখলে। গত ২৬ অক্টোবরের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন সাবেক এই ফুটবলার। পুরুষ দলের ম্যাচ, মেয়েদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান; সবখানে বর্তমান সভাপতির উপস্থিতিই দেখা গেছে। তবে এসব আয়োজনের মাঝে সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিনকে মনে করলেন বাফুফের বর্তমান কমিটির নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। কেবল মনে করাই নয়, নারী ফুটবলের উত্থানের কৃতিত্ব সালাউদ্দিনকে দিয়েছেন তিনি।

    আজ বাফুফেতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারী ফুটবল দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে ফ্রিজ উপহার দিয়েছে ইলেকট্রনিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এই অনুষ্ঠানে নারী ফুটবলের সুদিন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কাজী সালাউদ্দিনকে প্রশংসায় ভাসান মাহফুজা আক্তার। সাবেক সভাপতির অবদানের কথা মনে করিয়ে তাকে নারী ফুটবলের ‘মাস্টারমাইন্ড’ আখ্যা দেন তিনি।

    নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান বলেন, ‘আরেকজনকে আমার ধন্যবাদ না জানালেই নয়, যিনি না থাকলে আজকে নারী ফুটবল এই অবস্থায় আসতো না। আজ আমরা মেয়েদের সংবর্ধনা দিতে পারতাম না, আজকের এই দিনটিও আমরা বাংলাদেশের মানুষ দেখতাম না। তিনি আর কেউ নন, বাফুফের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিন। যার ডেডিকেশন, পরিশ্রম, দূরদর্শিতার কারণে আমরা এখানে আসতে পেরেছি।’

    এখানেই থামেনি তার সালাউদ্দিন স্তুতি, সাবেক সভাপতিকে দেশের সেরা ফুটবল বোদ্ধার আসনে বসিয়ে ফাহফুজা আক্তার আরও বলেন, ‘কাজী সালাউদ্দিনের মতো প্রেসিডেন্ট যদি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে না থাকতো, আজ নারী ফুটবলের এই দিনটি আমরা দেখতাম না। উনি হচ্ছেন মাস্টারমাইন্ড। বাংলাদেশে অনেক ফুটবল বোদ্ধা আছে, কিন্তু কাজী সালাউদ্দিন হচ্ছেন সেরা। আমরা সৌভাগ্যবান যে তার মতো একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছিলাম।’

    ২০০৮ সাল থেকে টানা চার মেয়াদে বাফুফে সভাপতির পদে থাকা সালাউদ্দিনকে প্রশংসায় ভাসানো মাহফুজা আক্তার ভরসা রাখছেন নতুন সভাপতি তাবিথের ওপরও। তার বিশ্বাস, নতুন সভাপতির তত্ত্বাবধানেও এগিয়ে যাবে নারী ফুটবল। তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই বর্তমান প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়ালকে। তারও মেয়েদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও ডেডিকেশন আছে, আমার বিশ্বাস তাবিথ আউয়ালও শতভাগ ডেডিকেশন নিয়ে মেয়েদের পাশে থাকবেন। আগামী দিনগুলোতে আমরা একইভাবে এগিয়ে যাব।’

  • সংবর্ধনা ও পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছে সাফজয়ী নারী দল

    সংবর্ধনা ও পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছে সাফজয়ী নারী দল

    টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দেশকে আনন্দে ভাসানো নারী ফুটবল ভাসছে পুরস্কারের জোয়ারে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাচ্ছে সংবর্ধনা। দেশে ফিরে ছাদখোলা বাসে বাফুফে ভবনে নেওয়া হয় ফুটবলারদের। সেখানে দলকে স্বাগত জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দলকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    সেদিনই নারী দলকে ২০ লাখ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একদিন পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাফজয়ী দলটিকে সংবর্ধনা দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যৌথ উদ্যোগে শনিবার সাবিনা-কৃষ্ণাদের এক কোটি টাকা আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

    এর বাইরেও বিভিন্ন তরফ থেকে আর্থিক পুরস্কার নিশ্চিত হয়েছে নারী ফুটবলারদের। আবার কর্পোরেট হাউজ থেকেও তারা পাচ্ছেন সংবর্ধনা ও উপহার। আজও সংবর্ধনা পেয়েছেন তহুরা-মনিকারা। বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারী ফুটবল দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে ফ্রিজ উপহার দিয়েছে ইলেকট্রনিক সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

    সংবর্ধনা ও উপহার পেয়ে সভাবতই উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ওয়ালটনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবর্ধনা পেতে সবারই ভালো লাগে, আমাদের সবারই ভালো লাগছে। তবে পৃষ্ঠপোষকরা যদি নারী দলের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা উপকৃত হই, দেশের ফুটবলও উপকৃত হয়।’

    এই অনুষ্ঠান থেকে মন ভালো হওয়ার মতো আরও বড় খবর শুনেছেন নারী ফুটবলাররা। মেয়েদের ফুটবল লিগ ও আগেই দিয়ে রাখা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করার কথা জানিয়েছেন বাফুফের নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর যেন মেয়েদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজিত হতে পারে, আমরা সেটা নিয়ে ভাবছি। মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগ যেন আরও জমজমাট হতে পারে, আশা করব সে জন্য দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো এবার এগিয়ে আসবে।’

    সংবর্ধনা ও পুরস্কারের জোয়ারে ভাসছে মেয়েরা, তবে এ সময়ে তাদেরকে মাটিতে পা রাখতে বলছেন কোচ পিটার বাটলার। তিনি বলেন, ‘ফর্ম অস্থায়ী, মান স্থায়ী; মেয়েদের কথাটা মনে রাখতে হবে। তাদের এ সাফল্যে অনেকেরই অবদান আছে। সাফ জিতে আসার পর আমাদের অনেকেই উপহার দিচ্ছেন, অভিনন্দিত করছেন। এটা খুব ভালো, এতে মেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে। তবে ওদের মাটিতে পা রাখতে হবে।’

    জীবনবোধের শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে ইংলিশ এই কোচ আরও বলেন, ‘আরও একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে, একটি ফ্রিজ বা অন্য উপহার বাজারে গিয়ে আপনি কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনি বাজার থেকে এক বাক্স সততা কিংবা নম্রতা বা শ্রদ্ধা কিনতে পারবেন না। এ ব্যাপারগুলো সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। সবাইকে মাটিতে পা রাখতে হবে।’

    সাফ চলাকালীন ফুটবলারদের সঙ্গে বাটলারের দূরত্ব তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। সিনিয়র ফুটবলারদের তিনি পছন্দ করেন না বা তাদের খেলাতে চান না, এমন অভিযোগ করেছিলেন দলের কেউ কেউ। যদিও এসব অন্তর্কলহ পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেনি, বাটলারের কোচিংয়েই শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

    সাফল্য কুড়ালেও প্রধান কোচের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বাফুফে। নারী ফুটবল উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার বলেছেন, ‘বাটলারের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি আছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখনও কিছু সময় বাকি, আমরা বিষয়টি নিয়ে পরে ভাববো।’

  • জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিসিবিঃ ক্রীড়া উপদেষ্টা

    জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিসিবিঃ ক্রীড়া উপদেষ্টা

    রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) কয়েকটি বড় বদল এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচিত করা হয় নতুন সভাপতি, পরিবর্তন আসে দুটি পরিচালক পদে। কয়েকজন সরে দাঁড়ানোর পর আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকজন হারান পরিচালক পদ। ২৫টির মধ্যে ১৫টি পরিচালকের পদ শূন্য হওয়ায় ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিসিবিতে বর্তমানে সর্বসাকূলে ১০ জন পরিচালক আছেন। একেকজনকে সামলাতে হচ্ছে কয়েকটি করে বিভাগ। সংস্কারের সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বর্তমান বোর্ড। অবস্থা বিবেচনায় এটাকে ‘জোড়াতালি’ বলা হচ্ছে, যা মেনে নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। বিসিবি জোড়াতালি দিয়ে চলছে; কদিন আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্রীড়া উপদেষ্টা এ বিষয়ে কথা বলেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে রোববার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। বুলবুলের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যখন দায়িত্ব নিই, তখন বিসিবির লোকজনকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। নতুন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা চলছে।’

    ‘এ ছাড়া প্রতিটি ফেডারেশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রতি বছর কার্যক্রমের রিপোর্ট ও অডিট রিপোর্ট দেওয়া হবে। কেউ যদি দুর্নীতি করে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে ফুটবলসহ বেশ কিছু ফেডারেশন স্বায়ত্তশাসিত। তাই সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এটা বাস্তব যে বিসিবি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। বিসিবিতে নতুন পরিচালক নিতে হবে।’ যোগ করেন তিনি।

    গত ৩০ অক্টোবর বিসিবির বোর্ড সভায় সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, তানভীর আহমেদ টিটো, শেখ সোহেল, আ জ ম নাছিরসহ ১১ জন পরিচালকের পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকায় পদ হারান  তারা। বিসিবি গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তাদের অপসারণ করা হয়। বিসিবিতে শূন্য হওয়া ১৫টি পরিচালক পদের মধ্যে ১১ জন পদ হারিয়েছেন, তিনজন পদত্যাগ করেছেন এবং একজন মারা গেছেন।

    গত সেপ্টেম্বরে এক সঙ্গে ৪২টি ফেডারেশনের সভাপতিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফেডারেশনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ আছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে স্থবিরতা আছে, সেখানে নতুন কমিটি করে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা ফেডারেশনগুলোকে প্রতি বছরের হিসাব দিতে বলেছি। আপনারা (সাংবাদিকরা) ফেডারেশনগুলোকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’

    তিন টেস্ট ভেন্যু মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নের ব্যাপারে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্টেডিয়ামগুলো সরকারের অধীনে। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দেনাপাওনার বিষয় থাকলে সেটি আমরা আলাদাভাবে দেখব।’

  • নিশ্চয়তা দিচ্ছি আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

    নিশ্চয়তা দিচ্ছি আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব: প্রধান উপদেষ্টা

    সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আপনাদের একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাব; এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একইসাথে ভবিষ্যতে চলার পথকে সহজগম্য করা ও নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

    ড. ইউনূস বলেন, “পতিত সরকার আমাদের জন্য যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গিয়েছে তাতে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। এর মধ্যেও জুলাইয়ের নেতিবাচক অবস্থা থেকে অক্টোবর নাগাদ রাজস্ব আদায়ে পৌনে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। যে কারণে এবার শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে স্বৈরাচার পতনের পরবর্তী তিন মাসে পৌনে ৯ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পরও লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ শতাংশের বেশি ঘাটতি থেকে যায়। রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে আমি এখন অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করছি।”

    “আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইউএনডিপি ইত্যাদির প্রধানদের সঙ্গেও আমার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তারাও বাংলাদেশকে নতুনভাবে এবং সর্বাত্মকভাবে সাহায্যের জন্য তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন”, যোগ করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১০০ দিন আগে আর্থিক দিক থেকে আমরা যে লন্ডভন্ড অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম- সেটা এখন অতীত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ১০০ দিনে অর্থনীতি সবল অবস্থানে চলে এসেছে। এটা সম্পূর্ণ নিজস্ব নীতিমালা দিয়ে হয়েছে। বলা বাহুল্য এখনো আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে যে সাহায্যের আয়োজন হয়েছে তা আসা শুরু করেনি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলো শুধু যে আমাদের বড় বড় অঙ্কের সাহায্য নিয়ে আসছে তাই নয়, তারা এই সাহায্য দ্রুততম সময়ে আসা শুরু করবে এই প্রতিশ্রুতিও আমাকে দিয়েছে। এই সাহায্য আসা শুরু করলে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত এবং আকর্ষণীয় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নানা রকম বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসবে।”

    ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা জেনেছেন, পতিত সরকার ও তার দোসররা প্রতিবছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সম্প্রতি এই তথ্য দিয়েছে। পাচার হয়ে যাওয়া এই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভব সকল ধরনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ কাজে সফল হতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও গতি পাবে। এ কাজে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি।”

  • আগামী বছর ব্যাংক বন্ধ থাকবে ২৭ দিন

    আগামী বছর ব্যাংক বন্ধ থাকবে ২৭ দিন

    ২০২৫ সালে বিভিন্ন সরকারি ছুটি উপলক্ষে দেশের ব্যাংকগুলো মোট ২৭ দিন বন্ধ থাকবে। তবে এই ২৭ দিনের মধ্যে আট দিন শুক্র ও শনিবার।

    সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর জন্য আগামী বছরের ছুটির এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ (রোববার) এ ছুটির তালিকা সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর ব্যাংকে ছুটি ছিল মোট ২৪ দিন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর প্রথম সরকারি ছুটির দিনটি হবে শবে বরাতে। এ উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার এক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ওই মাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এরপর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ বুধবার, জুমাতুল বিদা ও শবে কদর উপলক্ষে ২৮ মার্চ শুক্রবার ছুটি থাকবে।

    আগামী বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। ঈদুল ফিতরের আগের দুই দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দুই দিন ব্যাংক বন্ধ রাখা হবে। এরপর নববর্ষ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল সোমবার, মে দিবস উপলক্ষে ১ মে বৃহস্পতিবার ও বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে ১১ মে রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    বছরের ৫ থেকে ১০ জুন এ ছয় দিন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে।

    এ ছাড়া ১ জুলাই মঙ্গলবার ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে এক দিন, আশুরা উপলক্ষে ৬ জুলাই রোববার, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ১৬ আগস্ট শনিবার, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১ ও ২ অক্টোবর (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুই দিন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার, বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ও ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    গত বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস উপলক্ষে ১৭ মার্চ ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট ছুটি ছিল। এসব ছুটি সরকারের নির্বাহী আদেশে সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শবে বরাত, শবে কদর, ঈদুল ফিতর, বুদ্ধপূর্ণিমা, ঈদুল আজহা, আশুরা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর ছুটি নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।

  • পাকিস্তানে কী রপ্তানি করে বাংলাদেশ, হঠাৎ বাণিজ্য আলোচনায় কেন

    পাকিস্তানে কী রপ্তানি করে বাংলাদেশ, হঠাৎ বাণিজ্য আলোচনায় কেন

    সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচি থেকে কন্টেইনার বহনকারী একটি জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এমন সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হলো, যা বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

    এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।  দূরত্বের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    গবেষক ও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, সরাসরি জাহাজ ও বিমান চলাচল চালুর পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সার্টিফিকেট গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং পারস্পারিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। তারা বিশ্বাস করেন, এর ফলে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হতে পারে।

    অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন।  তিনি জানান, বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ কারিগরি দল গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে।

    বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত পাকিস্তান সফরের ঘোষণা দিয়েছে, যা বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। তার মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ এনে দিয়েছে।

    কী ধরনের পণ্যের বাণিজ্য হচ্ছে

    করাচি থেকে বাংলাদেশে সরাসরি আসা যে জাহাজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেই জাহাজে বাংলাদেশে এসেছে ‘ফেব্রিকস, চুনাপাথর, সোডা অ্যাশ, পেঁয়াজ, ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট ও ডলোমাইট’, যার বেশিরভাগই টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল।

    পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সুতা-কাপড় ও প্রস্তুত চামড়া ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ।

    বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার মূল্য ছিল ৬ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। মূলত কাঁচা পাট, ওষুধ, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, চা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিলো বাংলাদেশ।

    এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ৭৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করলেও পাকিস্তান থেকে আমদানি করেছে ৮৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য পাকিস্তানের রপ্তানি হয়, তার দশগুণ বেশি পাকিস্তান বাংলাদেশে রপ্তানি করে।

    পাকিস্তান থেকে গত বছর সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে তুলা। এছাড়া আরও যেসব পণ্য আসে বাংলাদেশে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আসে সিমেন্টের কাঁচামাল।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয় এমন যেসব পণ্যের নাম দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে-পাট ও অন্য টেক্সটাইল ফেব্রিকস, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, পেপার ও পেপারবোর্ড লেবেল, ছেলেদের শার্ট, মেডিকেল সার্জিক্যাল ও ডেন্টাল ইকুইপমেন্টসহ আরও কয়েকটি পণ্য।

    ড. আইনুল ইসলাম বলছেন, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, গার্মেন্ট, মেডিসিন, লেদার – এসব ক্ষেত্রে পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে পাকিস্তানের সিলিং ফ্যান, ফ্রুটস, জুস, মেয়েদের ড্রেস বাংলাদেশে জনপ্রিয়।

    ‘কস্ট বেনিফিট পর্যালোচনা করে আমদানি-রপ্তানির পণ্য ঠিক হলে উভয় দেশই তাতে লাভবান হবে,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

    খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, উভয় দেশের মধ্যে কোন ধরনের পণ্যের কেমন চাহিদা, সেগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে।

    ‘পাকিস্তান থেকে কটন বা টেক্সটাইল কাঁচামাল সম্ভাব্য পণ্য হতে পারে যা মূলত ভারত ও চীন থেকেই বেশি আসে। আবার পাকিস্তানের লাইট ইনজিনিয়ারিং পণ্যের ভালো সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশে।’

    তার মতে বিনিয়োগকারীরা উভয় দেশে চাহিদার ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগ করতে পারে। ‘বাংলাদেশে ওষুধ ও গার্মেন্টস কারখানা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে করতে পারে। এর ফলে পাকিস্তান ছাড়াও ইরানসহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর বাজারে প্রবেশ সহজ হতে পারে,’ বলছিলেন তিনি।

    শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আরিফ আহমেদ বলছেন, এক সময় বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত দ্রব্যের প্রচুর চাহিদা ছিল পাকিস্তানে।

    ‘সেটি এখন তেমন না থাকলেও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আসছে। আমাদেরও গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন পণ্য অল্প হলেও যাচ্ছে,’ বলছিলেন তিনি।

    হঠাৎ বাণিজ্য আলোচনায় কেন

    বাংলাদেশে গত পাঁচই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর থেকেই ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনার আহমদ মারুফ নতুন সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, এফবিসিসিআই এর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সাক্ষাত করে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

    এসব সাক্ষাতে তিনি পারস্পারিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতে তিনি গত পনের বছরে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কে যে শুষ্কতা এসেছে তা দূর করতে পারস্পারিক সম্পর্ক জোরদারের আহবান জানান।

    এর মধ্যে এফবিসিসিআই এর প্রশাসক হাফিজুর রহমানের সাথেও বৈঠক করেন তিনি।

    যেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, যৌথ বিজনেস কাউন্সিল, উভয় দেশের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সার্টিফিকেট গ্রহণ, হালাল খাদ্য আমদানি-রপ্তানি, এসএমই, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছিলো।

    তবে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যের বিষয়টি বড় ধরনের আলোচনায় আসে করাচি থেকে সরাসরি বাংলাদেশে জাহাজ আসার খবর।

    পাকিস্তান হাইকমিশন গত ১৩ নভেম্বর তাদের ভেরিফায়েড এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে এটিকে ‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে।

    ওই টুইটে তারা বলেছে, এই ‘নতুন রুট সরবরাহ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মাঝে আনবে, ট্রানজিট সময় কমিয়ে দেবে এবং উভয় দেশের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ খুলে দিবে’।

    গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, ভৌগলিক দূরত্ব ও সরাসরি জাহাজ চলাচল না থাকায় দুই দেশের বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি হয়নি।

    ‘এখন বাংলাদেশের পণ্য পাকিস্তানে যেতে হলে দুবাই বা শ্রীলংকা হয়ে করাচি যায়। আবার কখনো করাচি থেকে দুবাই কলম্বো হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারে। এর ফলে বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি পায় ও সময় বেশি লাগে। স্বাভাবিক বাণিজ্য এতে বাধাগ্রস্ত হয়।’

    এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে পাকিস্তান থেকে আসা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর শতভাগ কায়িক পরীক্ষা শেষে অনুমোদন পেলেই কেবল ছাড় দেওয়া হতো। বাংলাদেশের রাজস্ব বোর্ড গত ২৯ সেপ্টেম্বর সেই বিধান তুলে নিয়েছে।

    এতে পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি দ্রুত হবে এবং জটিলতাও কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলছেন, ব্যবসায়ীদের দাবি হলো সরাসরি জাহাজ চলাচল এবং এটি হলে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও অনেক বাড়বে।

    ‘তখন বাংলাদেশও তার পণ্য রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারবে,’ বলছিলেন তিনি।