Author: bangladiganta

  • অপরিকল্পিত স্থাপনায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

    অপরিকল্পিত স্থাপনায় ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

    জনবল-সংকটে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জনের মতো কাজ করলেও জনবল-ঘাটতি আছে ৬০০ জনের মতো। সীমিত লোকবলের কারণে অতিরিক্ত কাজের চাপে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না বর্তমানে কর্মরতরা। 

    জানা গেছে, গত দুই দশকে সিডিএ থেকে অনেক স্থপতি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ অবসর গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সিডিএতে আর্কিটেক্ট আছে মাত্র এক জন। দুটি অথরাইজড কমিটির একটিতেও আর্কিটেক্ট নেই। আর্কিটেক্ট ছাড়া অথরাইজড কমিটি কীভাবে প্ল্যান অনুমোদন দেয়—এমন প্রশ্ন উঠেছে। ভবনের নকশা অনুমোদনে অনেক সময় বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ভবন পরিদর্শক আছে মাত্র তিন জন। ফলে ভবন নির্মাণে নকশার ব্যত্যয় হচ্ছে কি না—তা তদারকি করা যাচ্ছে না। ফলে মহানগরী চট্টগ্রাম ইতিমধ্যেই এক অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। একসময়ের নান্দনিক শহর ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

    জানা গেছে, অতীতে প্রতিষ্ঠানটির নিচের দিকে প্রচুর লোকবল নিয়োগ দেওয়া হলেও উপরের দিকে নিয়োগ প্রায় বন্ধই ছিল। অতীতে যারা সিডিএর দায়িত্বে ছিলেন লোকবল নিয়োগের চেয়ে প্রকল্প নেওয়ার দিকেই তাদের বেশি ঝোঁক ছিল। ফলে নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠানটি। গত ২২ বছরে সিডিএ থেকে ১২ জন স্থাপত্য প্রকৌশলী অবসর নিয়েছেন। কিন্তু এক জনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এক জনকে অনেকগুলো প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প তৈরির জন্য কমপক্ষে তিন বছর স্টাডি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাত্র সাত দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীকে প্রকল্পে যুক্ত করায় প্রকল্পটি আংশিক সাফল্যের মুখ দেখলেও পুরোপুরি সুফল এখনো জনগণ পায়নি। সিডিএর প্ল্যানিং ইউনিটে চিফ টাউন প্ল্যানারের জায়গায় পরিকল্পনাবিদের পরিবর্তে কাজ করছেন প্রকৌশলী। প্ল্যানারের কাজ কখনো আর্কিটেক্ট বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার করতে পারেন না। টাউন প্ল্যানারের ১১টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র সাত জন। কর্মরত জনশক্তি প্রায় ৩০০ জন। সিডিএতে কর্মরত কোয়ালিফাইড আর্কিটেক্ট আছে এক জন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও কাজ করানো হয়। প্ল্যান অনুমোদনের বিষয়টি শুধু আর্কিটেক্টের ওপর ন্যস্ত নয়। ঐ বিষয়ে কাজ করেন ইমারত নির্মাণ কমিটি।

    সিডিএকে আরও বেশি জনবান্ধব করতে দক্ষ জনবলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম। তিনি জানান, সিডিএতে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া অচিরেই শুরু হবে। এ ব্যাপারে আজ (রবিবার) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছি। আমরা শতভাগ আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করব, যাতে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

  • মানুষ চাহিদা মতো কেনাকাটা করতে পারে না: সারজিস

    মানুষ চাহিদা মতো কেনাকাটা করতে পারে না: সারজিস

    বাজারে গেলে সাধারণ মানুষ চাহিদা মতো কেনাকাটা করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।

    রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, বাজারে গেলে সাধারণ মানুষ চাহিদা মতো কেনাকাটা করতে পারে না। বাজার সিন্ডিকেটগুলোর হাত বদল হয়েছে।

    আগামী নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, দুই হাজার মানুষ পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা না করে জীবন দিয়েছে শুধু মাত্র একটি নির্বাচনের জন্য নয়। তাহলে বিগত ১৬ বছরে সব মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমে যেত। এই মানুষগুলো একসঙ্গে নেমেছে যখন হাসিনার করাপটেড প্রত্যেকটি সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। মানুষকে প্রত্যেকটি জায়গায় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল, মানুষ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ছিল, তখন এই সামগ্রিক সিস্টেমগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে।

    সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ১০০ দিনে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করলে এই সরকারের অবস্থান আরও ভালো হতো। সব রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্বর্তী সরকারকে এই মুহূর্তে সহযোগিতা করা উচিত।

    এ সময় মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক সানু, সময়ন্বয়ক মো. মাহিম সরকার, টাঙ্গাইলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আল আমিন, মো. কামরুল ইসলাম, আল আমিন সিয়াম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করবেন ফারুকী

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করবেন ফারুকী

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

    রোববার সন্ধ্যায় (১৭ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এমন তথ্য জানান।

    এর আগে, দিনভর সামাজিকমাধ্যমে ফারুকীর উপদেষ্টা পদ ছাড়ার গুঞ্জন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

    উপদেষ্টা ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে একটি সেলফি শেয়ার করে শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে বলেন, আমাদের সংস্কৃতি বিষয়ক নতুন উপদেষ্টা ফারুকী। আগামীকাল সোমবার তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে তার নতুন ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন।

    আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতিতে কীভাবে গতি আনা যায়, সেই পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন ফারুকী বলে পোস্টে জানান প্রেস সচিব।

    গত ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এরপর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যেমে তাকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে

    জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ আসামিকে। 

    আজ সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এদিকে গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা। সংস্থার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম আজ এ আবেদন জানাবেন। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের সভাপতিত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের উপর শুনানি হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে যাদেরকে হাজির করা হচ্ছে এরা হলেন: আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, সালমান এফ রহমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামাল আহমেদ মজুমদার, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, জুনাইদ আহমেদ পলক, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম), সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গণহত্যার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃতদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ অভিযুক্তকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদেশ রয়েছে। ঐ আদেশ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাজির করবে। তিনি বলেন, গণহত্যার মামলা তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু সময় বৃদ্ধির আবেদন দেওয়া হবে। কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের লক্ষ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় গত ১৭ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ অক্টোবর পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২০ জনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনকে আজ এবং ছয় পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ঢাকা জেলার এডিসি (এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছিলেন) আব্দুল্লাহ হিল কাফী, সাবেক এডিসি আরাফাতুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলামকে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে ২৭ অক্টোবর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক ডিজি হারুন-অর রশিদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির সাবেক প্রধান হারুনুর রশিদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক এডিসি ইকবাল হোসেনসহ আরো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

    তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে উঠে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ছয় জন মারা যান। ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে একসময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেয়। কমপ্লিট শাটডাউন, অসহযোগ আন্দোলন দমাতে জারি করা হয় কারফিউ। কিন্তু তাতে দমে যায়নি ছাত্র-জনতা। এই ছাত্র-জনতাকে সমূলে বা আংশিক নির্মূলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় নির্বিচারে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডার বাহিনী যোগ দেয়। এতে দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। আহত হয় ২৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও জনতা। আহত অনেকে চিরতরে পঙ্গু ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন।

    এর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। তারা ৫ আগস্ট গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পদত্যাগ করে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরেও পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ১৪ দলীয় জোটের ক্যাডাররা। এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায়।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগস্ট মাস থেকে কারাগারে আছেন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা। অক্টোবর মাসে সরকার পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর।

  • খালেদা জিয়াকে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    খালেদা জিয়াকে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যুক্তরাজ্য গমনে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

    রোববার (১৭ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি যে কোনো সময় যুক্তরাজ্য যেতে পারেন। তবে কবে যাবেন সে বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

    এর আগে ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন ওনারা ইচ্ছা করলে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে পারেন।

    পাচার হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ বা সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এটি একটি খুব কনফিডেনশিয়াল ইস্যু। এটা নিয়ে খুব বেশি কথা বলার আপাতত কিছু নেই।

    ক্যাথরিন ওয়েস্টের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের যেসব কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে লিগ্যাল মাইগ্রেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বলছেন, সঠিক কাগজপত্র দিয়ে তারা জনবল নেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে অপতৎপরতা ঠেকাতে তারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরাও এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।

    নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে তারা আমাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ আমরা বলতে পারছি না। তবে আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব শেষ করতে। আমাদের কয়েকটি কমিশন কাজ করছে। কমিশনগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে নির্বাচনের পরিবেশ ও তারিখ হতে পারে। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, এখানে কেউ রাজনৈতিক কোনো ফায়দা লুটতে আসেনি।

  • মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় কমলো সাত হাজার কোটি টাকা

    মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় কমলো সাত হাজার কোটি টাকা

    মেট্রোরেলের ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পের ব্যয় ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়নের পর ৬ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়েছে। ফলে শেখ হাসিনা সরকারের নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশে এ পর্যালোচনা করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পটি  সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আরও খরচ হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক মো. আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, ঋণের সুদ পরিশোধের সময় কমিয়ে আনা, মূলধন ব্যয় হ্রাস এবং অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কালনে কম অর্থ ধরে খরচ সাশ্রয় করা হয়েছে।

    চালু হচ্ছে মেট্রোরেল অ্যাপ :এদিকে খুব শিগগিরই চালু হচ্ছে মেট্রোরেল অ্যাপসেবা। এতে যাত্রীরা ঘরে বসেই ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি পাস-কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন। পাশাপাশি জানা যাবে মেট্রোরেলের অবস্থানসহ যাবতীয় তথ্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, অ্যাপে কার্ডহোল্ডার যাত্রীরা সহজেই ঘরে বসে নিজ নিজ কার্ড রিচার্জ করার সুবিধা পাবেন। দ্রুতই চুক্তি হবে, বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এগিয়ে চলছে বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটের কাজ :দেশে প্রথম বারের মতো বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ইউটিলিটি পরিষেবাগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রসঙ্গত, প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ৭০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবেন।

    ৩৫০ নয়, দেড় কোটি টাকায় চালু হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দুই স্টেশন : প্রায় ৮৮ দিন বন্ধ থাকার পর মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন‌টিতে থাম‌ছে‌ ট্রেন এবং যাত্রীরা ওঠানামা কর‌ছেন। প্রায় ১ কো‌টি ২৫ লাখ টাকায় মেরামত ‌করে সচল করা হয়েছে এই স্টেশন। ত‌বে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্র দুই মাস পরেই চালু করা সম্ভব হয়েছে কাজীপাড়া স্টেশন। এই স্টেশন চালু করতে খরচ হয় মাত্র ২২ লাখ টাকা।

    গত ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মিরপুরের-১০ নম্বর এবং কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়। এ‌তে ব্যাপক ক্ষ‌তি হয়ে‌ছে দাবি করে গত ২৭ জুলাই তখনকার সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কা‌দের বলেন, স্টেশন দু‌টি সচল করতে ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। চালু কর‌তে এক বছরেরও বেশি লাগ‌তে পারে।

    ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটি চালু করতে কোনো সরঞ্জাম আমদানি না করে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকা তিনটি স্টেশন থে‌কে কিছু যন্ত্রাংশ খুলে লাগা‌নো হ‌য়ে‌ছে মি‌রপুর ১০ নম্বর স্টেশ‌নে। বা‌কি যন্ত্রাংশ আমদা‌নি কর‌তে হ‌বে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ করতে মাস তিনেক সময় লাগবে। এই স্টেশন ঠিক করতে কোনো ঠিকাদার বা বিদেশি কাউকে লাগেনি। ডিএমটিসিএল নিজেই এটা করেছে বলে তিনি জানান।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একটি বিষয়ে’ আটকে রাখা যায় না

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একটি বিষয়ে’ আটকে রাখা যায় না

    বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতা বহুমাত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শুধু ‘একটি বিষয়’ কিংবা ‘একটি অ্যাজেন্ডায়’ এ সম্পর্ককে আটকে রাখা যায় না। দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আছে, কিন্তু তা সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সম্পর্কের পথ আগলে দিতে পারে না।

    আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতায় প্রণয় ভার্মা এ মন্তব্য করেন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে (বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপ) রাষ্ট্রদূতের জন্য নির্ধারিত বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি।

    বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও জ্বালানির সংযুক্তি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যুক্ততা অব্যাহতভাবে ইতিবাচক পথে এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। যেখানে মূল অংশীজন হবে দুই দেশের জনগণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এবং বিশ্বাস করে যে দুই দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

    প্রণয় ভার্মা বহুমাত্রিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বাণিজ্য, পরিবহন ও জ্বালানি সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের সম্পৃক্ততার ক্রমাগত অগ্রগতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তন যা–ই ঘটুক না কেন, পরস্পরের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতা এবং নিজেদের কল্যাণের স্বার্থেই এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।’
    প্রণয় ভার্মা চলতি মাসে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সূচনা ও পেট্রাপোল-বেনাপোল সমন্বিত চেকপোস্টের অবকাঠামোর পরিবর্ধনকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে অব্যাহত অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে তিনি আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের মতো কাঠামোর অধীন আঞ্চলিক একত্রীকরণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষা পূরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি অংশীদারত্বের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সাধারণ জনগণের উপকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করুন: ভারতকে রিজভী

    হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করুন: ভারতকে রিজভী

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার পালানোয় যদি ভারতের এতই মায়া, এতই দুঃখ হয়। তাহলে হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করে দিন।

    রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতিদিন ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। একটা স্বাধীন দেশ নিয়ে তারা কীভাবে এত অপ্রচার করে। আমরা হিন্দু মুসলিম যুগ যুগ ধরে একত্রে শান্তিতে বসবাস করছি। সেই সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচার চালাবেন না। আপনারা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছেন। এটা করবেন না। বন্ধ করুন ষড়যন্ত্র।

    রিজভী আরও বলেন, জিয়া করেননি উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প দেখিয়ে ডলার পাচার। আওয়ামী নেতারা মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পের নাম করে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে পাচার করেছেন। একজন এমপির কত আয়? আওয়ামী লীগের একজন এমপির ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থের অসংখ্য বাড়ি লন্ডনে। এরা অবৈধভাবে বিনা ভোটে ক্ষমতায় থেকেছেন সাড়ে ১৫ বছর। পাচার করেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা।

    শেখ হাসিনার ভোট ও ক্ষমতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আমাকে তুমি ক্ষমতায় রাখ আর তোমরা যা ইচ্ছে করো’—এটা হাসিনা বলতেন। পুলিশের একজন আইজির বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ। আমাদের কাছে ঋণ আসে ১৮ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর সেই ঋণের ১৭ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে আওয়ামী লীগ। এটা শেখ হাসিনার অবদান।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপতথ্য দিয়ে কুৎসা রটিয়েছেন। জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। কই আপনি তো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ভুলেও একটা বের করতে পারেননি। বরং আপনি পালিয়ে গেছেন, খালেদা জিয়া তো পালাননি। দুর্বিষহ দুঃশাসনকে তিনি বরণ করেছেন। ভাঙা ভাঙা একটা বিল্ডিংয়ে দুই বছর তাকে (খালেদা জিয়া) আটকিয়ে রেখেছেন। তিনি তো পালাননি। আওয়ামী লীগ দুর্বৃত্তের দল। এটাই বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য।

    এ সময় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক একেএম মমিনুল হকসহ রংপুর বিভাগের বিএনপির ১০টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। লালমনিরহাট জেলা বিএনপি আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে রংপুর বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক জেলা বিএনপি অংশ নিচ্ছেন। এ টুর্নামেন্টের প্রতিটি আসরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকছেন।

  • ওয়ানডের র‌্যাঙ্কিং থেকে কাটা পড়লো সাকিবের নাম

    ওয়ানডের র‌্যাঙ্কিং থেকে কাটা পড়লো সাকিবের নাম

    সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, একই সময়ে তিন ফরম্যাটেরই শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়া প্রথম ক্রিকেটারও তিনি। সেই সাকিব আল হাসানের নামই বাদ পড়ে গেল আইসিসির ওয়ানডের র‌্যাঙ্কিং থেকে। আইসিসির করা সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদে নাম নেই বাংলাদেশের তারকা এই ক্রিকেটারের।

    অবাক শোনালেও ব্যাপারটা স্বাভাবিকই। আর এটা হয়েছে সাকিবের কারণেই। এই ফরম্যাটে দীর্ঘদিন খেলেন না বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার, যা ছাড়িয়ে এক বছরের সীমা। আর আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো ক্রিকেটার এক বছর কোনো ফরম্যাটে না খেললে সেই ফরম্যাটের র‌্যাঙ্কিং থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। সাকিবের নাম এ কারণেই কাটা পড়েছে।

    আট মাস পর প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডে খেলতে নামে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে তারা। এই সিরিজে খেলেননি সাকিব। বাঁহাতি এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন গত বছরের ৬ নভেম্বর। ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর এই ফরম্যাটে আর খেলেননি তিনি। মাঝে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।

    এই এক বছরে বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন সাকিব। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বাইরে থেকেই খেলতে হয়েছে তাকে। প্রায় ছয় মাস ধরে দেশের বাইরে থেকে খেলছেন তিনি। গত জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফিরে দুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক, খেলেন মেজর লিগে (এমএলসি)।

    পরে কানাডাতে বাংলা টাইগার্স মিসিসাগার অধিনায়ক হিসেবে খেলেন গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি। এরপর পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেন সাকিব। এই সিরিজের পর ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলে ভারতে যোগ দেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে। টেস্ট সিরিজ খেলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন তিনি। মিরপুরে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে চাইলেও নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের।