Author: bangladiganta

  • ভারী বৃষ্টির কারণে ৩ বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা

    ভারী বৃষ্টির কারণে ৩ বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বড় ধরনের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের তিন বিভাগে কোথাও মনে হতে পারে অতি ভারী বর্ষণ। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সংস্থাটির আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    আবহাওয়া অফিস জানায়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে এসব অঞ্চলে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, আবার কিছু কিছু স্থানে ১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকায়, পাশাপাশি ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    অতিরিক্তভাবে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কিছুটা কমতে পারে।

    সূত্র: ঢাকা পোস্ট

  • স্কুল-কলেজে ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    স্কুল-কলেজে ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে দেশের মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজগুলিতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নির্ধারিত। এই ছুটি ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এবং আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। এর পরে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে আবারও শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কিন্তু তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির মাঝে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনও পরীক্ষা নেওয়া যাবে না বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির ভুল ব্যাখ্যা করে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী জানান, মূল নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মান্য হবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবারও ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ স্বাভাবিকভাবে চালু হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষার búইন না হওয়া দুই দিন নিশ্চিত করা, ছুটি বাড়ানো নয়। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছেন, তারা ভুল করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা স্পষ্ট; যদি কেউ বিভ্রান্ত হন, তবে সরাসরি মাউশিতে যোগাযোগ করে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে পারবেন।

  • বিজয়নগরে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, আহত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

    বিজয়নগরে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, আহত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে অ্যালকোহল সেবনের পরপরই ঘটেছে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় সৌরভ (২৩) ও শ্রীনিবাস (৭৪) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অজিত, সুমন ও পিন্টু নামে আরও তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    নিহত সৌরভ স্থানীয় বাসিন্দা সুদানাথের ছেলে এবং শ্রীনিবাস মৃত উকিল মালাকাতের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গভীর রাতে একের পর এক কয়েকজন সদস্য মদ্যপানে মত্ত হন। হঠাৎ করে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই শ্রীনিবাস মারা যান, এবং সৌরভকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে। তবে মৃত্যুর 정확 কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালে অন্যরা চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

  • চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন

    চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন

    নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত করেছেন তার ছেলে ও নিসচা’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। কানাডার দূরবর্তী থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি জানান, তার বাবা এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি আরো বলেন, চলতি বছর শুরুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যার মধ্যে কথা বলতে গিয়ে অসুবিধা ও মনে রাখতে গিয়ে সমস্যা ছিল। এর পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার মাথায় টিউমার রয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, তার মাথায় অপারেশন করতে হবে, যা অত্যন্ত সংকটজনক কারণ টিউমারটি ব্রেনের গভীরে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভের সঙ্গে সংযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে পরিবার লন্ডনে যোগাযোগ করে দ্রুত চিকিৎসার প্রস্তুতি নেয়। প্রথমে ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় এবং পরে তার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ২৬ এপ্রিলে তিনি ঢাকায় থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকে নেদারল্যান্ডসের হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে সাই repousier নেয়া হয় এবং তিন মাস ব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, ৫ আগস্ট উইলিংটন হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ডাক্তাররা সতর্ক করেছেন যে পুরো টিউমারটিকে অপসারণ সম্ভব নয় এবং অপারেশনের ফলে তার জীবনঝুঁকি এবং চলনশক্তি, কথা বলার সক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আংশিক অস্ত্রোপচার করে টিউমারটির কিছু অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ রেডিয়েশ ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই চিকিৎসা চলাকালীন প্রত্যাশা করা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ৩০ দিন ধরে চলে এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ছয় সপ্তাহ চিকিৎসা চলবে। এর পরে চার সপ্তাহ তিনি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আশা করা হচ্ছে, তখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন। পরিবার ও চিকিৎসকদের এই কঠিন সময়ে সবাইকে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।

  • কাশ্মীরের বরেণ্য অভিনেত্রী কমলাশ্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন

    কাশ্মীরের বরেণ্য অভিনেত্রী কমলাশ্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন

    বছরের শেষের দিকে এক দুঃখজনক খবর শোনালেন কন্নড় বিনোদন জগতের জন্য। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কমলাশ্রী প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘গাট্টিমেলা’ শো-এর দাদী চরিত্রের জন্য, যা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিয়েছে।

    কমলাশ্রী জীবনের দীর্ঘ আট দশক ধরে অভিনয় করেছেন—চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক, নাটক—all অঙ্গনেই তার অসামান্য উপস্থিতি। তিনি মঞ্চ নাটকের পরিচালক হিসেবেও প্রশংসিত। জীবনের শেষ দিকে তিনি স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, ক্যানসার 치료ে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বয়সজনিত কারণে ডাক্তাররা কেমোথেরাপি দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, ফলে তিনি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ব্যয়বহুল ওষুধের ওপর।

    অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও কখনোই তিনি শিল্পের কারো কাছে সহায়তা চাননি। মৃত্যুর কাছাকাছি থাকাকালীন এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অন্যদের কষ্ট দিতে চাই না।’ তবে তার কঠিন সময়ে তাঁকে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার কাছের বন্ধুরা, যেমন উমাশ্রী ও গিরিজা লোকেশ।

    বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কমলাশ্রী ছিলেন একাধারে থিয়েটার, সিনেমা ও টেলিভিশনের অভূতপূর্ব শিল্পী। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কাবেরী কন্নড় মিডিয়াম’ এবং ‘পাত্তেহদারি প্রতিভা’র মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর অভিনয় জীবনের এই অসাধারণ গুণাবলি এবং ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

    বরেণ্য এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে কন্নড় ইন্ডাস্ট্রি গভীর শোক প্রকাশ করছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী ও অনুরাগীরা। তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

  • প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র

    প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র

    উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের এক কিংবদন্তি শিল্পী, বিশিষ্ট গণমাধ্যমশিল্পী ও সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র, ৯১ বছর বয়সে আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পরপারে পাড়ি জমালেন। তাঁর আকস্মিক এই প্রয়াণে ভারতের সংগীতাঙ্গনসহ বিশ্বব্যাপী সংগীতপ্রেমীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন, বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। ১১ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মির্জাপুর মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের একটি বিশেষ চিকিৎসক দল তার চিকিত্সা চলান।

    ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সংগীতজীবন শুরু হয় তিনি তার পিতা, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই গভীর আগ্রহে সংগীতের প্রতি বিমুগ্ধ হয়ে তিনি বাবার নির্দেশনায় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুশীলন শুরু করেন। দীর্ঘ জীবনকাল ধরে তার সংগ্রামী দক্ষতায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সমুজ্জ্বল করেছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত রাগ ও ভজনের উন্নতধারা দেশের নানা প্রান্তে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছে। ভারতের সংগীতবিশ্ব তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে সম্মান করে থাকেন।

    শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে ছান্নুলাল মিশ্রের অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ দান করেছেন, পাশাপাশি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের সংগীতকে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অক্লান্ত অবদানে সংগীতপ্রেমীদের মনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বিদ্যমান।

  • বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের ৫৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি রকস্টার, যিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাসাহিত্যে এবং সংগীত জগতে অবিস্মরণীয় স্থান করে নিয়েছেন। তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে হলেও, আজ তিনি ভক্তদের কাছে ‘নগর বাউল’ নামে পরিচিত। প্রতিভার অপার বিকাশের মধ্য দিয়ে তিনি আজ ৬২ বছর পেরিয়ে ৬৩ বছরে প্রবেশ করেছেন।

    জেমসের জীবনকাহিনী একদিকে চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা, অন্যদিকে তার সফলতার গল্প অনুপ্রেরণাময়। সংগীতের প্রতি তাঁর প্রেম এবং প্রতিভা তাঁকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। তার গানে মনোহরা আবেগ, দৃঢ়তা ও স্বকীয়তা প্রতিটি শ্রোতার মনে দাগ কাটে। ভক্তদের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন শিল্পী নন, বরং গুরুরূপ।

    বয়সের সাথে সাথে এই রক লিজেন্ডের চিরতরুণত্বের রহস্য হলো তার অসীম আগ্রহ ও ভালোবাসা গানের প্রতি। আজকের এই দিনেও ঝাকড়া চুলে, গিটার হাতে তিনি অন كالীন রূপে এক নতুন জাদু সৃষ্টি করেন। তার বয়স তার কাছে কেবলমাত্র একটা সংখ্যা; আজও গানে গানে তিনি ভক্তদের মাতোয়ারা করে থাকেন।

    জেমসের জীবনযাত্রার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর এবং অনুপ্রেরণামূলক। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি দুর্বার আগ্রহ জন্মায় তার মধ্যে, কিন্তু পরিবারের পছন্দ ও প্রত্যাশা আলাদা থাকায় তিনি সংগীতের পথে চলে যান। বাবার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে গিয়ে তার সংগীতের পথচলা শুরু হয়।

    ১৯৮০ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন, যেখানে তিনি নিজে গিটার ও ভোকাল দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম আলবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়, তবে এই অ্যালবাম তখন দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার ‘অনন্যা’ অ্যালবাম, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তাকে সংগীত অঙ্গনে নতুন উচ্চতা প্রদান করে।

    এরপর তার বিকাশ অব্যাহত থাকে—১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘কলেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো ব্যাপক স্বীকৃতি পায়। এছাড়াও তার অন্যান্য অ্যালবামগুলির মধ্যে রয়েছে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, ও ‘কাল যমুনা’।

    অ্যালবাম গানে ছাড়িয়ে তিনি চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন, যেখানে তিনি ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি সিনেমায় কিছু জনপ্রিয় গান গেয়ে তিলমাত্র ভক্তে-শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো) ও ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানগুলি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। দেশের চলচ্চিত্র ‘সত্তা’তেও গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনটি জে়মসের জন্য শুধু জন্মদিন নয়, বরং তার অজস্র গীতিনাট্য ও সুরের উৎসব। তার জীবন সংগ্রাম, সংগ্রহ ও অসীম ভালোবাসা সংগীতের মাধ্যমে আমাদের প্রেরণা দিতে থাকে। তিনি অবিরত অগণিত মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ প্রেম ও শ্রদ্ধার স্থান করে রাখতে থাকবেন।

  • সালমান-ঐশ্বরিয়ার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

    সালমান-ঐশ্বরিয়ার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

    অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, ওই ধরনের রেডিও, ইউটিউব বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক আরও বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্য প্রকার প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ যাতে হয়, তার জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা জরুরি। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগত মানহানি রোধই হয় না, বরং ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা ও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। এর মাধ্যমে বলিউডের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

  • সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    গত কিছু বছর ধরে বাংলার তরুণ ক্রিকেটার সাইফ হাসানের নাম টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও সম্প্রতি তিনি এই আধিপত্য আরও শক্ত করে নিয়েছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি তিন ধাপ উন্নতি করে অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছেন। তবে এর আগে চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, যা তার ক্রিকেটীয় অভিযাত্রায় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হয়।

    অন্যদিকে, হার্দিক পাণ্ডিয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। দুই নম্বরে থাকা হার্দিক বর্তমানে চার ধাপ নিচে অবস্থান করছেন, তার চেয়ে শীর্ষে থাকা সাইম আইয়ুবের থেকে আট ধাপ পিছিয়ে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ আরও চার ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কা তিন ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সের কারণে এসব ক্রিকেটার তাঁদের র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন।

    ব্যাটিং ক্ষেত্রে ভারতের অভিষেক শর্মা রীতিমতো নজর কেড়েছেন। তিনি এক অসাধারণ রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হাফ-সেঞ্চুরি করে তাঁর রেটিং পৌঁছে গেছে ৯৩১ পয়েন্টে—যা টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড আগে ছিল ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের (৯১৯ পয়েন্ট, ২০২০ সালে)। এই বিশাল অর্জনটি তাঁর সতীর্থ সূর্যকুমার যাদব ও বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে গেছে। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করলে এত দ্রুত তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকা হিসেবে উঠছেন।

    এশিয়া কাপের দর্শনীয় পারফরম্যান্সে তিনি ৩১৪ রান করে গড়ে ৪৪.৮৫’র কাছাকাছি। এর জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের থেকে ৮২ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে থাকছেন। অন্যদিকে, ভারতের তিলক ভার্মা তৃতীয়, শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা পঞ্চম, এবং কুশল পেরেরা নবম স্থানে অবস্থান করছেন।

    ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের সাইফ হাসানও বড় উত্থান করেছেন। তিনি ৪৫ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬তম স্থানে আছেন, তাঁর রেটিং ৫৫৫ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে তিনি এই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৩ ধাপ এগিয়েছিলেন।

    বোলারদের ক্ষেত্রে রিশাদ হোসেন ৬ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান ১৩তম স্থানে উন্নীত হয়েছেন। ভারতের সঞ্জু স্যামসন ৩১তম স্থানে অবস্থান করছেন। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সাত উইকেট নেওয়ার পরেও সেই পজিশন ধরে রেখেছেন। ভারতের কুলদীপ যাদব নয় ধাপ এগিয়ে ১২তম, পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৩তম স্থানে আছেন।

    এরকম এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে; ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখলেন একজন তরুণ ক্রিকেটারের এক সুপারউৎকর্ষের গল্প ও কিছু রেকর্ডের নতুন ইতিহাস।

  • বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত আসিফ আকবর

    বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত আসিফ আকবর

    আগামী ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের নির্ধারিত দিন। এর আগে, আজ বুধবার (০১ অক্টোবর), প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এই দিন পর্যন্ত, বিকেল ১২টায়, বেশ কিছু প্রার্থী নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তামিম ইকবালসহ মোট ১৬ জন।

    চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মীর হেলাল উদ্দিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে, সেখানে কেউ অন্য কোন প্রার্থী থাকেননি। ফলে, সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গায়ক ও ক্রিকেট প্রেমী আসিফ আকবর পরিচালক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অধীনে। সেখানে একইভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন আহসান ইকবাল চৌধুরী।

    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় চমক ছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি এক সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন সফল অধিনায়ক। আরও বেশ কয়েকজন বিএনপিপন্থী ক্রীড়া সংগঠকের পাশাপাশি, বড় বড় প্রার্থিরা নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে সাঈদ ইব্রাহিম, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বাবু যেমন উল্লেখযোগ্য।

    আসিফ আকবর যেমন কণ্ঠশিল্পী, তেমনি তার ক্রিকেটের সাথে যোগ রয়েছে পুরনো। তিনি অতীতে ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট খেলেছেন। শিল্পী হওয়ার আগে তিনি কুমিল্লার ক্রিকেট পাড়ায় এক পরিচিত মুখ ছিলেন।

    বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ কনসার্টে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। সফর শেষে, এ মাসের শেষদিকে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার বিজয়টি শিল্পীর জনপ্রিয়তা ও ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিফলন।