Author: bangladiganta

  • স্থবির ১৩৫২ উন্নয়ন প্রকল্প

    স্থবির ১৩৫২ উন্নয়ন প্রকল্প

    চলমান ১৩৫২ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরাজ করছে এক রকম স্থবিরতা। আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতিসহ নানা কারণে সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিকভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে। ফলে কর্মসংস্থান, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, অর্থপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি এবং প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোতে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বলতে গেলে এডিপিভুক্ত সব প্রকল্পেই স্থবিরতা আছে। এর মূল কারণ হলো-চাহিদামতো অর্থছাড় না হওয়া। এখন কোন প্রকল্প প্রয়োজনীয় বা কোন প্রকল্প রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হয়েছিল সেগুলোর যাচাই-বাছাই না করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সরকার এখন সার্বিক অর্থনীতির দিকটি নিয়ে ভাবছে। কেননা ব্যাংক খাতসহ অতীতে অর্থনীতির অনেক খাতই ফাঁকা হয়ে গেছে। সেসব ঠিক করাটাও জরুরি। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটে যে বিশাল বরাদ্দ দেওয়া আছে সেদিকেও নজর দিতে হবে। আমি এ বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলব। এরপরই আপনাদের বিস্তারিত বলতে পারব।

    সূত্র জানায়, সর্বশেষ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর স্থবির অবস্থা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় এ নিয়ে কিছু আলোচনাও হয়। বলা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেবে দেখছে। দ্রুত একটা সমাধান আসবে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ফলে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজই এগোচ্ছে না। এছাড়া চলতি অর্থবছরে অনুমোদন পাওয়া নতুন প্রকল্পগুলোতেও বরাদ্দ মিলছে না। পাশাপাশি চলমান অন্যান্য প্রকল্পেও আছে ধীরগতি। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে খাতভিত্তিক দেখা যায়, সাধারণ সরকারি সেবা খাতে মোট ৩৫টি প্রকল্পটি রয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষায় ১২টি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ২৭টি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৬৮টি, কৃষিতে ১৩৫টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৯৪, পরিবহণ ও যোগাযোগে ২২৮টি এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১০২টি প্রকল্প রয়েছে। আরও আছে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ খাতে ১৩৯টি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলিতে ২৬৬, স্বাস্থ্যে ৬৩, ধর্ম-সংস্কৃতি ও বিনোদনে ৫৭, শিক্ষায় ১১৯, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫৪টি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৫৫টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি সমীক্ষা, কারিগরি সহায়তা এবং স্ব-অর্থায়নের প্রকল্পও রয়েছে। এডিপিতে এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া আছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা।

    আইএমইডি সূত্র জানায়, এডিপিতে এই বিশাল অঙ্কের বিপরীতে খরচের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ১৩ হাজার ২১৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ ছিল ২০ হাজার ৬১০ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের তিন মাসে খরচ হয়েছিল ২১ হাজার ৮৯৬ কোটি বা ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয় ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি বা ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এমনকি করোনা মহামারির সময় ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছিল ১৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যা যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। আইএমইডির অগ্রগতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ১ শতাংশের নিচে খরচ হয়েছে ২০০টি প্রকল্পের বরাদ্দ। এছাড়া ১-এর ওপরে কিন্তু ৩ শতাংশের মধ্যে খরচ হয়েছে ২১৯টি প্রকল্পের বরাদ্দ এবং ৩-এর ওপরে ৫ শতাংশের মধ্যে খরচ হয়েছে ২৪৩টি প্রকল্পের বরাদ্দ।

    সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশিদ যুগান্তরকে বলেন, প্রথম তিন মাসে যে অবস্থা বিরাজ করছে এর প্রভাব আগামীতে আরও অবস্থা খারাপ হবে। কেননা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে গিয়ে বেশ ঝামেলার সৃষ্টি হবে। শেষ পর্যন্ত মেয়াদ ও সঙ্গত কারণেই ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি হবে। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীরা অনেকেই নীতিগতভাবে অর্থছাড় করছে না। তারা পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের অনুকূল পরিবেশ না পেলে এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। ফলে এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ডলারের জোগানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমি যেটুকু জানি সড়কের অনেক প্রকল্পে আগে টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু পরে সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে এখন রিটেন্ডার করতে হচ্ছে। এতেও বেশ সময় চলে যাচ্ছে। তবে একটি প্রকল্পের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। কর্মসংস্থান, বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালস ইত্যাদি। সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন এই সরকারের উচিত দ্রুত প্রকল্পগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়া। এতে নেতিবাচক পরিস্থিতির কিছুটা অবসান ঘটবে।

    এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলছে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের অর্থছাড়ে করুণ চিত্র বিরাজ করছে। গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৮৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এর মথ্যে ঋণ থেকে ৬৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং অনুদান থেকে ছাড় করেছে ১৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরের তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছিল ১২৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ১২৩ কোটি ১২ লাখ এবং অনুদান থেকে ছাড় করে ৫ কোটি ৫ লাখ ডলার। সেই সঙ্গে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিতেও বিরাজ করছে দুরবস্থা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নতুন ঋণ অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ২৮৮ কোটি ৫ লাখ ডলার। প্রতিশ্রুতির অর্থ হলো যখন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হয় তখনই সেটি প্রতিশ্রুতি হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।

  • রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন

    রাজনৈতিক সমঝোতা চায় বৃটেন

    বাংলাদেশের ‘ভঙ্গুর রাজনৈতিক ব্যবস্থা’র সংস্কারে সহায়তার হাত প্রসারিত করতে চায় বৃটেন। সেই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সমঝোতা দেখতে চায়। এ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা সফর করেন ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট। সফর বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েক মাসের অশান্ত অবস্থার পর বাংলাদেশের জনগণের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ ও জবাবদিহির জন্য একটি পথ পাওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে বৃটেন কীভাবে সর্বোত্তম সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতে আমি এখানে এসেছি। কূটনৈতিক সূত্র  বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফরের অংশ হিসেবে ক্যাথরিন এই প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। দু’দিনের সফরের সমাপনী দিনে রোববার তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। তাছাড়া সফরকালে সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করেন। সর্বত্রই তিনি ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’র বার্তা স্পষ্ট করেছেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহায়তা দেবে বৃটেন: এদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় তার সরকার ঢাকাকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা’য় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। 
    ড. ইউনূস তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, অলিগার্ক ও আমলাদের পাচার করা অর্থ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সামপ্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। বৈঠকে অধ্যাপক ড. ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে তার সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলে চর্চা করা ব্যাপক ভোট কারচুপি থেকে বিরত থাকা এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে উল্লেখ করে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, বৃটেন নির্বাচনী, বিচার বিভাগীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোতে প্রাণবন্ত বিতর্ক দেখতে চায়। বৃটিশ মন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা প্রদানের জন্য আরও ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদানের ঘোষণা দেন। ড. ইউনূস মিয়ানমারের সহিংসতা-জর্জরিত রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠায় তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে না হয় এবং দাতব্য সংস্থা এবং সাহায্য গোষ্ঠীগুলো নির্বিঘ্নে বাস্তুচ্যুত মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্য ও সহায়তা দিতে পারে। বৈঠকে তারা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সামপ্রতিক ৪০ মেগাওয়াট জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, তার সরকার জলবিদ্যুৎ সমৃদ্ধ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরিকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, হিমালয়ের পাদদেশের দুই দেশ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে পারলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈঠকে ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি মেডিকেল টিম চলতি মাসে দেশে এসেছে। তিনি বলেন, ‘তারা দিনে তিনটি অস্ত্রোপচার করছেন।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা 
    ওদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তারা আমাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তারা জানতে চেয়েছেন যে কীভাবে আমাদের সহায়তা করতে পারেন। আমিও তাদের খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, আমাদের এখানে কারও কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। আমরা আসলেও একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে সরে যেতে চাই। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের আগ্রহ আছে বলেও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে মন্ত্রণালয়। এখন সেখানে যাওয়াটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে পাচার করা অর্থ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই এই সংকটের একমাত্র সমাধান রয়েছে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা করবে বৃটেন: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আবারো পূর্ণ সহায়তার কথা জানিয়েছে বৃটেন। দেশটির ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, তার সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের ব্যাপক ভোট কারচুপির যে চর্চা সেটি দূর করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলো এসব সংস্কারকে সমর্থন করে জানিয়ে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মূল দিকগুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা দেখতে চায় বৃটেন।

  • নরওয়ের জেলেদের জালে আটকা পড়লো মার্কিন সাবমেরিন

    নরওয়ের জেলেদের জালে আটকা পড়লো মার্কিন সাবমেরিন

    চলতি সপ্তাহে নরওয়ের জেলেদের একটি দল মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে এসেছিল। তখন ৭ হাজার ৮০০ টন মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক চালিত একটি সাবমেরিন তাদের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং কোস্টগার্ডের কাছে অ্যালার্ম কল পৌঁছে যায়। জেলেরা প্রথমে এটিকে বড় কোনও মাছ ভাবলেও সেটি যে সাবমেরিন হতে পারে তা কল্পনাতীত ছিল। এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার এই খবর জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রমসো উপকূলে মাছ ধরার সময় জেলেরা ভেবেছিল, তাদের জালে হালিবুট নামের এক ধরণের বড় সামুদ্রিক মাছ আটকা পড়েছে। তবে তাদের জালে ধরা পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭৭ ফুট দীর্ঘ ও ৭ হাজার ৮০০ টন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ইউএসএস ভার্জিনিয়া। একটি নরওয়েজিয়ান কোস্ট গার্ড জাহাজের সঙ্গে বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এটি। প্রায় দুই নটিক্যাল মাইল দূরত্ব পর্যন্ত সাবমেরিনটি তাদের জাল টেনে নিয়ে যায়।

    সম্প্রচারকারী এনআরকে নিউজ জানিয়েছে, হ্যারাল্ড এনগেন নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের একটি গ্রামে হালিবুট সরবরাহ করছিলেন। তখন তিনি একটি বার্তা পান, যেটিতে বলা হয়, একটি মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি যাত্রা করার সময় নৌকার জালে আটকে পড়েছে এবং সেটি নৌকাটিকে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

    এনগেন বলেছিলেন, ‘আমি মাছ ধরার জালের ওপর দিয়ে যাত্রা করা অন্যান্য জাহাজের কথা শুনেছি। তবে এই অঞ্চলে কেউ কখনও সাবমেরিনের কথা শুনেনি।’

    মার্কিন ৬ষ্ঠ নৌবহরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট পিয়ারসন হকিন্স ইনসাইডারকে বলেন, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে নৌবাহিনী।

    জেলেদের ধ্বংস হওয়া জালের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নরওয়ের কোস্ট গার্ড ও মার্কিন নৌবাহিনী উভয়ই।

    ১৯৯৯ সালে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেটি বেশ দুঃখজনক হয়ে ওঠে। একটি ব্রিটিশ মাছ ধরার নৌকার জালে রয়্যাল নেভি আটকে পড়ে এবং নৌকাটি ডুবে যায়। এতে চার ক্রু’র মৃত্যু হয়।

  • ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব, ভারত থেকে হাসিনাকে ফেরত চাইব: ড. ইউনূস

    ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব, ভারত থেকে হাসিনাকে ফেরত চাইব: ড. ইউনূস

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শুধু জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, গত ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করব। শেখ হাসিনাকে আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইব।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

    গুম ও গণহত্যায় জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতে হবে

    ড. ইউনূস বলেন, কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌঁসুলী করিম খানের সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, গুম কমিশনের সদস্যদের কাছে ভুক্তভোগীদের যে বিবরণ আমরা পেয়েছি, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহর বন্দরের দেয়ালে-দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও আগে যারা গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে-দেয়ালে তারা লিখে রেখেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। তাদের এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবোই। অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

    ড. ইউনূস বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কোনো সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে, এজন্য আমরা গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাতিসংঘ জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদের তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত কাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।

    নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনের রোডম্যাপও ঘোষণা হবে

    ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন আয়োজনে যে সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলসমূহ ও দেশের মানুষের মতামত অপরিহার্য, সে কমিশন হলো সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই সুপারিশমালার কোন অংশ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, তার ভিত্তিতে নির্বাচনী আইন সংশোধন করতে হবে। সমান্তরালভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।

    তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত নই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা কতটুকু পাবো। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করবো। ততদিন পর্যন্ত আমি আপনাদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করব। আমরা চাইব যেন এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারি যা যুগযুগ ধরে অনুসরণ করা হবে। এর ফলে সাংবাৎসরিক রাজনৈতিক সংকট থেকে আমাদের দেশ রক্ষা পাবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু আমি আপনাদের কাছে চেয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত আপনারা নির্বাচনের রোডম্যাপও পেয়ে যাবেন।

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতিকে নীতির কাঠামোয় আনার জন্য, এবং রাজনীতির জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টির নিবিড় আকাঙ্ক্ষা থেকে। নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটা আর থামবে না। কিন্তু যেতে যেতে আমাদের অনেকগুলো কাজ সেরে ফেলতে হবে। এই ট্রেন শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে, সেটা নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আমরা তার জন্য রেললাইনগুলো বসিয়ে দিতে পারি। আর তা হবে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যমত্যের মাধ্যমে।

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। গত ১৫ নভেম্বর এই সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে।

  • রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

    রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক মাস ধরে এটিএসিএমএস নামক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, যাতে কিয়েভ তার নিজ সীমান্তের বাইরে হামলা করতে পারে।

    রোববার এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় ঘোষণা দিয়ে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেরাই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে।’

    এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এটি ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক জোট ন্যাটোর ‘সরাসরি অংশগ্রহণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    তবে রোববার পর্যন্ত পুতিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও ক্রেমলিনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা একে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আগস্টে কিয়েভ ওই অঞ্চলে ঝটিকা আক্রমণ করে।

    বাইডেন প্রশাসন কার্যত ইউক্রেনকে জানিয়ে দিল যে, তারা বর্তমানে রাশিয়ার যে ছোট অংশ দখল করে রেখেছে, তা ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেবে। দখলকৃত এ অঞ্চল ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

    কিয়েভভিত্তিক ইউক্রেনীয় সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান সের্হি কুজান বিবিসিকে বলেন, বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

    ‘যুদ্ধের গতিপথ বদলাবে না, তবে এ সিদ্ধান্ত আমাদের বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে,’ বলেন তিনি।

    এটিএসিএমএস মিসাইল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব পারি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ইউক্রেনে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন এটিএসিএমএস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • দল নিষিদ্ধের বিধান আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে

    দল নিষিদ্ধের বিধান আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে

    রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খুন, গুম, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো দল বা সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলে সেই দল বা সংগঠনের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন সংশোধনী প্রস্তাবগুলো আরও যাচাই–বাছাই করছে বলে জানা গেছে।

    তবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আইনজীবীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, দেশে ভিন্ন একটি আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। এরপরও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে এ ব্যাপারে বিধান যুক্ত করা হলে, তা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

    ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় ৫ আগস্ট। তাদের শাসনের পতনের আন্দোলনে সরকারি হিসাবে ৮৭৪ জন নিহত হন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ ওঠে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যা ও আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে বিচার কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আইনটি সংশোধনের।

    খুন, গুম, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো দল বা সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলে সেই দল বা সংগঠনের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন সংশোধনী প্রস্তাবগুলো আরও যাচাই–বাছাই করছে বলে জানা গেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংশোধনী প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করে অল্প সময়ের মধ্যে তা অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করা হবে। যেহেতু দেশে এখন সংসদ নেই। এই অধ্যাদেশের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৪’।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের শাসনের সময় ১৯৭৩ সালের আইনের আওতায় ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার করে তা কার্যকর করা হয়। একই অপরাধের অভিযোগে সংগঠন বা দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে এই আইনের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা তা করেনি।

    আওয়ামী লীগ তাদের শাসনের শেষ সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে সেই নিষিদ্ধাদেশ প্রত্যাহার করে। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের কেউ কেউ। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান আইনেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, তা উল্লেখ করে একটি স্বতন্ত্র আইন ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’ রয়েছে।

    বিতর্ক কেন?

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে যেসব সংশোধনী আনা হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান। এ বিষয়ে খসড়া সংশোধন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে যা–ই থাকুক না কেন, যদি কোনো সংগঠন এই আইনে খুন, গুম, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করে, তাতে সাহায্য করে বা প্ররোচিত করে, তাহলে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংগঠনের নিবন্ধন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বা বাতিল করা যাবে। তবে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলের সময় সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল চাইলে সংগঠনটিকে অন্য কোনো যথাযথ শাস্তিও দিতে পারবেন। সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের আপিল আবেদন করার বিধানও রাখা হচ্ছে এই সংশোধনীতে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের কেউ কেউ। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান আইনেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, তা উল্লেখ করে একটি স্বতন্ত্র আইন ‘দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮’ রয়েছে।

    এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, পলিটিক্যাল পার্টিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮–তে পরিষ্কার বলা আছে, কখন কীভাবে সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে বাতিল করতে পারে বা নিষিদ্ধ করতে পারে। আইনটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই আইনজীবী উল্লেখ করেন, একটি দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য অপরাধের অভিযোগ বা কারণ জানিয়ে সরকার হাইকোর্টের কাছে রেফারেন্স পাঠাতে পারে। হাইকোর্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি করে তারপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাতিল বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া মনে করেন, সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আইনে বিষয়টিকে যুক্ত করা হলে, তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

    অপরাধের সংজ্ঞায় বাড়ছে পরিধি

    সংশোধনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে খুন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, দাসত্ব, নির্মূল (কোনো একটি গোষ্ঠীকে), অবরুদ্ধ, নির্বাসিত, কারারুদ্ধ বা অন্য কোনো অমানবিক কাজকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখন গুম, যৌনদাসী বানানো, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, জোরপূর্বক বন্ধ্যত্বকরণের মতো বিষয়গুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব আনা হচ্ছে।

    আইনে উল্লেখ করা অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে কোনো কমান্ডার অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্দেশ বা অনুমোদন দিলে এবং ঘটনায় সরাসরি অংশ নিলে তাঁদের বিচার করার কথা বলা আছে। এখন কমান্ডার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকেও বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    তবে গুম, যৌনদাসী বানানো, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ করানোর মতো বিভিন্ন বিষয়ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে সেই সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের আওতায় বিচার করার জন্যই এর সংশোধন করা হচ্ছে। এটি মানতে রাজি নন সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা ছিল। যেসব সংশোধনীর প্রস্তাব করা হচ্ছে, তাতে সেই অস্পষ্টতা দূর হবে।

    বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেই অপরাধের বিচারের কথা বলা আছে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে।

    সীমানা বাড়ছে

    বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেই অপরাধের বিচারের কথা বলা আছে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে। সেখানে অপরাধের সীমানা হিসেবে বাংলাদেশের জলসীমাকেও যুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি অন্য দেশে কোনো বাংলাদেশি মানবতাবিরোধী অপরাধ করলে তাকেও এই আইনের আওতায় এনে বিচার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও জলসীমায় অন্য কোনো দেশের নাগরিক মানববতাবিরোধী অপরাধ করলে তাঁরও বিচার এই আইনে করার বিধান রাখা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, যেহেতু এই আইনের আওতায় বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধকেও যুক্ত করা হচ্ছে, ফলে তা দেশি বা বিদেশি নাগরিক—যেই করুক দেশ আইনে তার বিচার করা যাবে। বিষয়টি পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও আছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (প্রধান কৌঁসুলি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু বিষয়ে আইনে অস্পষ্টতা ছিল, সেসব স্পষ্ট করা হচ্ছে। সেটি বিচারকাজকে গতিশীল করবে বলে তিনি মনে করেন।

    গণ্য হবে অডিও–ভিডিও

    মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের শুনানিতে ঘটনা সম্পর্কে অডিও–ভিডিও তথ্যকে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে যেকোনো স্থানে তল্লাশি করে নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি অনুমতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি, তদন্তসহ অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ভুক্তভোগী বা তাঁর প্রতিনিধি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সাক্ষীর সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ও যুক্ত করা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর (প্রধান কৌঁসুলি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু বিষয়ে আইনে অস্পষ্টতা ছিল, সেসব স্পষ্ট করা হচ্ছে। সেটি বিচারকাজকে গতিশীল করবে বলে তিনি মনে করেন।

  • ছাত্রলীগের আবরণে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন

    ছাত্রলীগের আবরণে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন

    গাজীপুর মহনগরের টঙ্গী এলাকার সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ মুক্তির ডাক ৭১’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে ছাত্রলীগের আবরণে এ সংগঠন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    সংগঠনের মূল লক্ষ্য হিসাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সুরক্ষিত এবং মুজিববাদ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানকে সমুন্নত রাখা।

    শনিবার ঢাকার উত্তরার ডিয়াবাড়ি পিঁপড়া কিচেন রেস্টুরেন্ট নামে একটি হোটেলে কঠিন গোপনীয়তার মাঝে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ নতুন সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।

    সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন আল রিয়াদ-আদনান অন্তর, মহাসচিব খলিলুল্লাহ গাজী এবং মুখপাত্র হিসাবে কাজ করবেন হুমায়ুন কবির। সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ১৫-২০ জন উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।

    ‘মুক্তির ডাক ৭১’-এর চেয়ারম্যান আল-রিয়াদ-আদনান অন্তর জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়া শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রম নয় বরং সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক কাজের মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে সংগঠনটি। শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে দলীয় লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ সংগঠনের চেয়ারম্যান আল রিয়াদ-আদনান অন্তর টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগরের ১নং ব্লকের ভাণ্ডারী গলির বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগ টঙ্গীর ৪৯নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন।

    সম্প্রতি তিনি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের স্বঘোষিত আহ্বায়ক হিসাবেও কোথাও কোথাও পরিচয় দিতেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ সালে ইয়াবাসহ টঙ্গীর কলেজ গেট থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। এ বিষয়ে র‌্যাব-১০ এর ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি মো. আজিজুর রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। এরপর ছাত্রলীগ থেকে তিনি বহিষ্কার হন। বহিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান সরকার বাবুর অনুসারী তথা উভয়ে সাবেক এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের অনুসারী ছিলেন। বহিষ্কারের পর থেকে আল রিয়াদ-আদনান অন্তর গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম গ্রুপের হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতেন বলে জানা গেছে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নতুন দল গঠনের বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কাজ চলছে।

  • বিপ্লবের পর আপাতত স্থিতিশীল বাংলাদেশ

    বিপ্লবের পর আপাতত স্থিতিশীল বাংলাদেশ

    বিপ্লবের পরিসমাপ্তি খুব খারাপভাবে ঘটে। আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ক্ষমতা থেকে বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা উৎখাত হয়েছেন। এরপর দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বদানকারী ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক ও শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়া শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্মস্থল ছেড়ে গিয়েছিলেন। সেই পুলিশের বেশির ভাগ সদস্যই আবার তাদের দায়িত্বে ফিরেছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আর পতনের মুখে নেই। জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ৫ ভাগই আসে রেমিট্যান্স থেকে। সেই রেমিট্যান্স এখন স্থিতিশীল। এরপরও সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ কীভাবে মোকাবিলা করবে সেই প্রভাব কেবল দেশের ১৭ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠী নয়, এর প্রতিবেশীর ওপরও পড়বে। ভারত, চীন এবং পশ্চিমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপরও এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, নির্বাচন ইত্যাদি ইস্যুতে ‘আফটার দ্য রেভ্যুলেশন, বাংলাদেশ ইজ স্ট্যাবল. ফর দ্য মোমেন্ট’ শিরোনামে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এভাবেই লিখেছে লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী নাজুক হলেও ড. ইউনূস এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুমোদন করে এমন একটি সাংবিধানিক ধারাকে ২০১১ সালে শেখ হাসিনা বাতিল করে দিয়েছেন। সুতরাং ড. ইউনূসের বৈধতা নির্ভর করছে তার নৈতিক কর্তৃত্ব ও জনপ্রিয়তার ওপর। কোনো ভোটের মাধ্যমে এর সমর্থন আদায় করা হয়নি বলে এর ভিত্তি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জনগণের সদিচ্ছা ‘প্রশমিত’ হতে পারে। অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও অক্টোবরে গত বছরের তুলনায় খাদ্যে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে শতকরা প্রায় ১৩ ভাগ। বাংলাদেশে বিদ্যুতের শতকরা প্রায় ১০ ভাগ সরবরাহকারী ভারতের আদানি গ্রুপ বকেয়া পরিশোধের কথা জানিয়ে সরবরাহ কমানো শুরু করেছে। বন্যার কারণে ধানের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।

    প্রশাসনিক বিবেচনায় ড. ইউনূস বেশ দুর্বল। সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার নেই। দুই পক্ষের চাপে তিনি চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছেন। যেসব আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তাকে ক্ষমতায় আসার পালে হাওয়া দিয়েছে তারাই এখন একের পর এক চরম সব দাবি তুলে ধরছেন। এসব দাবির মধ্যে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে ভারতের কাছ থেকে শেখ হাসিনাকে তারা প্রত্যর্পণ চাইছে। বাংলাদেশে আরেক শক্তি হলো আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারা ড. ইউনূসের কাছে জুনের মধ্যেই দ্রুত নির্বাচন দাবি করছে। তিনি নির্বাচন না দেওয়া পর্যন্ত তারা গণবিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারে।

    উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতি ড. ইউনূসের সহনশীলতা দেখে হতাশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথ বেছে নিতে পারে। এ সময় সহিংসতার হুমকিও রয়েছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস থাকা বাংলাদেশের জন্য এমন পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ উদ্বেগের। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৮ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের অনেকে আওয়ামী লীগ সমর্থকও রয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের ওপর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো-ক্ষয়ে যাওয়া বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য যে সময় প্রয়োজন তার আগেই বিএনপির দাবির কাছে ড. ইউনূসের আত্মসমর্পণ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। বিএনপি যদি ত্রুটিপূর্ণ, অপরিণত নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করে, তাহলে এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সেই পেশিশক্তি আর গোষ্ঠী শাসনের পুরোনো ধারার ক্ষমতার পালাবদলের প্যাটার্ন ফিরতে পারে।

    ইকোনমিস্ট প্রতিবেদনে বলছে, এ পরিস্থিতিতে কী করা যেতে পারে? বিশ্ব যখন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন খুব কম সরকারের কাছেই বাংলাদেশ প্রথম অগ্রাধিকারে থাকবে। এরপরও একটি রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে আর্থিক সংকট এড়ানো নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১.২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ এবং আইএমএফ’র কাছ থেকে বেইল-আউট হিসেবে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে আরও অনেক বেশি। শেখ হাসিনার অধীনে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের কিছু অংশ উদ্ধারে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বাংলাদেশকে বাঁচাতে পশ্চিমা ঋণদাতা ও ভারত যদি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা তাদের বদলে চীনের কাছে ঋণের মুখাপেক্ষী হয়ে উঠতে পারে। এরই মধ্যে তারা প্রতিশ্রুত অনুদান ও ঋণের আরও ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, তিন মাস ক্ষমতায় থাকার পর ড. ইউনূসের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নির্বাচনের জন্য একটি ‘টাইমটেবিল’ ঘোষণা করা। সেটা হতে পারে এক বছর বা এর কাছাকাছি সময়ের মধ্যে। আইনি এবং নির্বাচনি সংস্কারের জন্য কেন এ বিলম্বের প্রয়োজন তা ব্যাখ্যার জন্য তাকে আরও কিছু কাজ করতে হবে।

    এই সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করবে। ড. ইউনূস দেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হওয়ায় বহু মানুষ উল্লাস করেছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি দেশ শাসন করবেন এবং কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তার একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে তিনি বেশি দেরি করলে বাংলাদেশের বিপ্লব অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে।

  • খেলাপি ঋণ পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা

    খেলাপি ঋণ পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা

    দেশের ব্যাংকগুলোতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ৩ মাসেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

    তবে ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণের অঙ্ক আরও বেশি। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হিসাবে অবলোপন করা ও আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এছাড়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফশিল করা আছে। সেগুলোও এই হিসাবে নেই। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আগামী দিনে আরও বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি ঋণের এই তথ্য ভুয়া। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নিজেই বলেছেন খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা। এছাড়া একটা গণমাধ্যমেও বলা হয়েছে প্রকৃত খেলাপি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। মূলত কৌশলগত কারণে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৭ লাখ কোটি টাকার কম হবে না। কারণ এখানে ঋণ অবলোপন, অর্থঋণ আদালতে মামলা, আদালতে স্থগিতাদেশ ও ঋণ পুনঃতফসিল করা বিপুল অঙ্কের টাকার হিসাব নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। তখন দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল খেলাপি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের অঙ্ক বেড়েই চলছে। অর্থনীতিবিদরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছেন, তৎকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে, যার একটা বড় অংশই পাচার হয়েছে বিদেশি।

    এ প্রসঙ্গে এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নুরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণের যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে এটা এখন পর্যন্ত প্রকৃত তথ্য। আগের মতো তথ্য গোপন, লুকোচুরি, কারচুপির সুযোগ নেই। আশঙ্কা হচ্ছে, ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যাবে। যা আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ যে কয়েকটি ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে এবং যারা লুটপাট করেছে তারা এখন নানাভাবে পলাতক বা গা-ঢাকা দিয়েছে। তাদের ব্যবসা আর ভালোভাবে চলবে না। ফলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। এটা হলো দুশ্চিন্তার বিষয়। যা ব্যাংক খাতের জন্য অশনি সংকেত।

    জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এই দ্বিতীয়বার খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে, ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করেছে। সাবেক সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেওয়া হয়েছিল একের পর এক নীতি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বাড়াতে সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এই সময়ে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

    বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যাংকগুলো ঋণের প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করেছে। এদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, থার্মেক্সসহ আরও কিছু বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এতেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

    এদিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১১১ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৪০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের অঙ্ক ৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো ভুয়া দলিল ও অনিয়মের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। সরকার পতনের পর এই ঋণের একটি অংশ এখন খেলাপিতে পরিণত হবে।

    তারা বলেন, শুধু এস আলম ও তার সহযোগীরা একাই ছয়টি ব্যাংক থেকে ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। ইতোমধ্যে এসব মন্দ ঋণে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থাকে কারণ হিসাবে দেখিয়ে অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে চান না। তাদের এই প্রবণতা মন্দ ঋণের বোঝা আরও বাড়াতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা অধিকাংশ ঋণ অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ঋণ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

  • খেলাপি ঋণ পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা

    খেলাপি ঋণ পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা

    দেশের ব্যাংকগুলোতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ৩ মাসেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

    তবে ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণের অঙ্ক আরও বেশি। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হিসাবে অবলোপন করা ও আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এছাড়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফশিল করা আছে। সেগুলোও এই হিসাবে নেই। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আগামী দিনে আরও বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি ঋণের এই তথ্য ভুয়া। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নিজেই বলেছেন খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা। এছাড়া একটা গণমাধ্যমেও বলা হয়েছে প্রকৃত খেলাপি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। মূলত কৌশলগত কারণে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৭ লাখ কোটি টাকার কম হবে না। কারণ এখানে ঋণ অবলোপন, অর্থঋণ আদালতে মামলা, আদালতে স্থগিতাদেশ ও ঋণ পুনঃতফসিল করা বিপুল অঙ্কের টাকার হিসাব নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। তখন দেশের ব্যাংকগুলো থেকে বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল খেলাপি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের অঙ্ক বেড়েই চলছে। অর্থনীতিবিদরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছেন, তৎকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে, যার একটা বড় অংশই পাচার হয়েছে বিদেশি।

    এ প্রসঙ্গে এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নুরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণের যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে এটা এখন পর্যন্ত প্রকৃত তথ্য। আগের মতো তথ্য গোপন, লুকোচুরি, কারচুপির সুযোগ নেই। আশঙ্কা হচ্ছে, ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যাবে। যা আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ যে কয়েকটি ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে এবং যারা লুটপাট করেছে তারা এখন নানাভাবে পলাতক বা গা-ঢাকা দিয়েছে। তাদের ব্যবসা আর ভালোভাবে চলবে না। ফলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। এটা হলো দুশ্চিন্তার বিষয়। যা ব্যাংক খাতের জন্য অশনি সংকেত।

    জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এই দ্বিতীয়বার খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে, ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করেছে। সাবেক সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেওয়া হয়েছিল একের পর এক নীতি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বাড়াতে সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এই সময়ে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

    বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যাংকগুলো ঋণের প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করেছে। এদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, থার্মেক্সসহ আরও কিছু বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এতেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

    এদিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১১১ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৪০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের অঙ্ক ৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো ভুয়া দলিল ও অনিয়মের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। সরকার পতনের পর এই ঋণের একটি অংশ এখন খেলাপিতে পরিণত হবে।

    তারা বলেন, শুধু এস আলম ও তার সহযোগীরা একাই ছয়টি ব্যাংক থেকে ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। ইতোমধ্যে এসব মন্দ ঋণে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থাকে কারণ হিসাবে দেখিয়ে অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে চান না। তাদের এই প্রবণতা মন্দ ঋণের বোঝা আরও বাড়াতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা অধিকাংশ ঋণ অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ঋণ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।