Author: bangladiganta

  • বাগেরহাটে সাংবাদিক হত্যার মামলা দ‍ুই দিনের মধ্যে

    বাগেরহাটে সাংবাদিক হত্যার মামলা দ‍ুই দিনের মধ্যে

    বাগেরহাটে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা হায়াত উদ্দিন হত্যার ঘটনায় দেরিতে হলেও অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় হায়াত উদ্দিনের মা হাসিনা বেগম এই মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মোঃ ইসরাইল মোল্লাসহ আরও ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    অতীতের ঘটনা হলো, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের হাড়িখালি এলাকায় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ৪০ বছর বয়সী এস এম হায়াত উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে একদম নির্মমভাবে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলাকারীরা ছিলেন একই এলাকার মোঃ ইসরাইল মোল্লা ও তার সহযোগীরা। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নেয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শনিবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়, এরপর এলাকায় উপস্থিত জনতার স্বস্তির জন্য তাকে দাফন করা হয়। জানাজা শেষে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

    প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ইসরাইল মোল্লা হাড়িখালি এলাকার মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লার ছেলে। তিনি বিএনপি’র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির বাগেরহাট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

    বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ-উল-হাসান বলেন, হায়াত উদ্দিনের মা হাসিনা বেগম মামলা দায়ের করেছেন এবং তদন্ত চালিয়ে আসামীদের বিচারের জন্য চেষ্টা চলছে।

  • আগামী বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য ৩১ দফার রূপরেখা

    আগামী বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য ৩১ দফার রূপরেখা

    বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, জনগণের উচিত দেশের উন্নয়নের জন্য এখনই এগিয়ে আসা এবং ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। তিনি একথা বলেন রোববার নগরীর দৌলতপুরের পূর্বপাড়া ৪নং ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর সঙ্গে উঠান বৈঠককালে। বকুল উল্লেখ করেন, বিএনপি শুরুর দিন থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করে দিয়ে আখেরে দেশের সুশিক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চেয়েছিল। তখন বেগম খালেদা জিয়া বুঝেছিলেন, একজন সুশিক্ষিত মা সমাজকে বদলে দিতে পারে। এই ধারণা থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনা বেতনে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। তিনি বলেন, তখন ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে পথশিশুদের জন্য ‘পড়ালেখার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যেখানে সরকার তাদের শিক্ষার মাধ্যমে অর্থ ও খাওয়ার ব্যবস্থা করত। দুর্ভাগ্যবশত, গত ১৫ বছর ধরে এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, দেশনেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা প্রমাণ করে, তিনি দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কতটা দূরদর্শী। তিনি আরও জানান, এই দফাগুলোর প্রস্তাব ৫ আগস্টের বহু আগে তৈরি হয়েছিল, কারণ তিনি জানতেন যে এক সময় শেখ হাসিনাকে ছেড়ে যাবে, এবং তখনই দেশের পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। বকুল বলেন, ৩১ দফা একা তৈরি হয়নি; এটি বিভিন্ন সেক্টরের পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক মতামত নিয়ে গড়ে উঠেছে। যারা আজ সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথায় থাকেন, তাদের পরিকল্পনার ৯০ শতাংশই তাদের সঙ্গে মিল রয়েছে। আমরা দেশের মঙ্গল ও জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি—এটাই ৩১ দফার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এই আলোচনা সভার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা, দলের দুর্বলতা বা ভবিষ্যতে প্রত্যাশা লিপিবদ্ধ করা। সরকারের কাছে পৌঁছে, এই বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দেহের নেত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব সমস্যা স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম বাচ্চু। উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুরশিদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুল, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সরদার লিয়াকত হোসেন লাবলু, সাধারণ সম্পাদক শেখ আরমান হোসেন এবং বিভিন্ন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, যেমন রুবায়েত হোসেন বাবু, শেখ রফিকুল ইসলাম, এরশাদ হোসেন ডাবলু, কচি, কবীর, মফিজুল, মিজা, শেখ নাহিদ, খসরু, পলাশ, ডিকলার, আলমগীর কবীর প্রমুখ। এরপর বকুল খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি নিজে। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানার সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মামুন শেখ এবং ইউনিয়নের সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেন। দিনের শেষ কর্মসূচিতে তিনি খুলনা আড়ংঘাটা থানাধীন খানাবাড়ি শাহী জামে মসজিদ ও নূরে মদিনা মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

  • খুলনায় মুজিব লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কেডিএ চেয়ারম্যান

    খুলনায় মুজিব লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন কেডিএ চেয়ারম্যান

    খুলনার শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুজিব দিবসের লোগো সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। বহু দর্শক ও উপস্থিত অতিথি এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একদিকে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতির বোঝাপড়া না থাকায় বিষয়টি না জানার ভান করছেন, আবার অন্যরা ক্ষমা চাচ্ছেন সেই ভুলের জন্য।

    আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে খুলনার শিল্পকলা একাডেমিতে বসতি দিবসের বিভিন্ন আর্দ্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। র‌্যালি, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা সহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়। তবে এরই মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে পড়ে। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মুজিব লোগো সম্বলিত এই লিফলেট। এটি ছাপানো হয়েছিলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, যা বর্তমানে যোগ্যতার সাথে লড়াই করে চলা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও দেখা গেছে।

    পূর্ববর্তী এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে 이에 বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, খোভজনক এই কার্যক্রম জাতির গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি অসম্মান।

    জানানো হয়, লিফলেটে পরিলপ্ত নামের একটি শাখার নাম রয়েছে। তবে এই ব্যাপারে পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ বলেন, তিনি এই লিফলেটে জড়িত নন এবং কোনো ভুল স্বীকার করেননি। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এই লিফলেট তৈরি বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত নই, এজন্য এর দায় আমার নয়।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কারা দায়ী তার জন্য জিজ্ঞেস করুন যারা এর সঙ্গে যুক্ত।’

    অপরদিকে, এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসাইন। তিনি বলেছেন, ‘ভুলবশত এই লিফলেটগুলো চলে এসেছে। আমরা সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’ এর পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়ে দেন, দায়িত্বে অবহেলা বা এই ঘটনা ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

  • জামায়াত ক্ষমতায় এলে মুসলমান হয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে, বললেন বিএনপি নেতা

    জামায়াত ক্ষমতায় এলে মুসলমান হয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে, বললেন বিএনপি নেতা

    বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, যদি কখনও জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসে, তবে তাদের কাছে থেকে মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ইতিমধ্যে বিদেশি শক্তিকে খুশি করতে দলীয় লোগো পর্যন্ত পরিবর্তন করেছে। এই ধরণের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে একদিন তারা হাফপ্যান্টও পরবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। গতকাল রোববার বিকেলে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা যুবদল আয়োজিত এক যুবসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

  • আশঙ্কাজনক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস: ২০২৫ সালে ৪%, ২০২৬ সালে ৫% হতে পারে

    আশঙ্কাজনক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস: ২০২৫ সালে ৪%, ২০২৬ সালে ৫% হতে পারে

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪ ভাগে পৌঁছাবে। এরপর ২০২৬ সালের অর্থবছর শেষে এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশে দাঁড়াবে। এবারে দেশের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও আসন্ন বছরগুলোতে উন্নতির সামান্য প্রত্যাশা বহন করছে।

    এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, বন্যা, শিল্প শ্রমিকের বিরোধিতা এবং ক্রমাগত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের অর্থনীতির গতিকে কিছুটা ঠেকিয়ে রেখেছে। তবে, পোশাক রপ্তানি এখনো স্থিতিশীল থাকলেও প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতি চলমান।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তারা জানায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি স্থায়ী করতে হলে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে।

    এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও বাস্তবে দেখা যায়নি, তবে ব্যাংকিং খাতে কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। উচ্চমানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

    আরও জানানো হয়, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, বাজার তথ্যের অপ্রতুলতা, সরবরাহ শৃঙ্খলার সমস্যা এবং টাকা মুদ্রার দুর্বলতা থেকে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ অর্থবছরে এই হার ৯.৭৭ শতাংশ ছিল, যা ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়ে হতে পারে ১০ শতাংশ।

    অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সামান্য জিডিপি উদ্বৃত্তের আশা করা হলেও, এই প্রবণতা কিছুটা অস্থির। ২০২৫ সালে, সামান্য ০.০৩ শতাংশের অর্থবাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত বছরের ১.৫ শতাংশের ঘাটতির তুলনায় কিছুটা উন্নত। এতে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসছে এবং শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এর জন্য ধন্যবাদ।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের বাইরে পাচার হওয়া এর বড় অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে তার কাছ থেকে কতোটা অর্থ ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নিশ্চিত তথ্য দেননি। আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি অপরাধসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে, পাচার করা অর্থ কি ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব—তা কি কি পর্যায়ে এসেছে, এই প্রশ্নের উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অর্থ পাচারকারীরা এগুলোর জন্য খুবই চমৎকার পরিকল্পনা করে। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সময় লেগে যায়, তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশা করি ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিছু অংশ নদী হয়ে আসতে পারে। বাকিটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, আমরা প্রস্তুত থাকছি। তিনি বললেন, এ বিষয়টি কোনো সরকারের পক্ষে এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, টাকা যদি সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে দিতে বলা হয়, সেটার জন্য লিগ্যাল রুট অনুসরণ করতে হবে, এটাই স্বাভাবিক।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি, ১১ থেকে ১২টি ক্ষেত্রে খুবই উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। এর বাইরে অন্য শতাধিক ক্ষেত্রে যাদের মানি লন্ডারিং বা পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়েও নজরদারি চলছে।

    নতুন সরকার কি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা তারা বাধ্য হয়ে করবে। কারণ আমরা যদি বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু রাখি, তাহলে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া এগোবে। না করলে বা প্রক্রিয়াগুলো পালন না করলে, অর্থ ফেরত আসবেনা। এটি আন্তর্জাতিক নিয়ম ও প্র্যাকটিসের অংশ, অন্যথায় কিভাবে সম্ভব?

    অর্থ পরিমাণ নিয়ে প্রশ্নে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কত টাকা ফেরত আসবে, সেটা তিনি বলতে পারবেন না। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকেই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতে হবে।

    এদিকে, এখনো কিছু পাচার কার্যক্রম রয়ে গেছে—তা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সাময়িকভাবে আমরা দেখছি, বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু রিপোর্ট আসছে। আমরা অনুভব করছি, কিছু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অ্যাসেট ফ্রিজ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। ওখানে টাকা আছে, অ্যাকাউন্ট আছে, পাসপোর্টের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো সম্পন্ন হওয়া সময়ের ব্যাপার।

    আরো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রজেক্টের বরাদ্দ ও কাজের ধারা অনেক পুরানো। এই সমস্ত উদ্যোগ চালু থাকলে, এগুলো স্থির থাকলে অর্থ ফেরত আনার সুযোগ বাড়বে।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটিরই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও পুষ্টিহীনতায় ভোগার পরিস্থিতি রয়েছে। এর উত্তরে তিনি জানান, কিছুটা পুষ্টি ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও মা-বাবাদের মধ্যে। তিনি বলেন, এর সমাধানে আমরা সব রকম চেষ্টা করছি, ভিজিএফ, স্পেশাল ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধের সময় ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    তিনি যোগ করেন, আমাদের খাদ্যপণ্য মূলত চালের উপর বেশি নির্ভরশীল,অন্য খাবারও গুরুত্বপূর্ণ। তবে, ক্রয়ক্ষমতা কম থাকায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আমিষের চাহিদা পুরণের জন্য ডিমের মতো সরবরাহ প্রয়োজন। অনেকেই তা ক্রয় করতে সক্ষম হবেন বলে আশা করছি।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ জনের চাকরি হারালেন কর্মী

    ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ জনের চাকরি হারালেন কর্মী

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। চাকরির নীতিমালা লঙ্ঘন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসঙ্গে আরও ২০০ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে ব্যাংকের পরিচালনাকারীদের পক্ষ থেকে। এই ছাঁটাই বিভিন্ন দফায় চলছিল, যার ফলে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় ২০০ জনসহ মোট ৪০০ জনের চাকরি হারালেন ব্যাংকের কর্মীরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা এই বিক্ষিপ্ত ছাঁটাইকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি মূলত কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪১৪ জন কর্মী, যাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকিদের জন্য আবার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তাদেরকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত) করা হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

    ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা শুধু অযোগ্যতার জন্য নয় বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার, সহকর্মীদের অংশগ্রহণে বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও বৈধতা নিশ্চিত করা। এর পেছনে মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ও কার্যক্রমের মান উন্নত করা, যাতে ব্যাংকের ভবিষ্যত আরও সুসংহত ও স্থিতিশীল হয়।

  • সোনার ভরির দাম দুই লাখের কাছাকাছি, সব রেকর্ড ভেঙে গেছে

    সোনার ভরির দাম দুই লাখের কাছাকাছি, সব রেকর্ড ভেঙে গেছে

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ১৯২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকায়। এটি এখন পর্যন্ত সব থেকে বেশি দাম, যা আগের রেকর্ড অর্থাৎ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায় চলে এসেছিল।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে। এই দাম বৃদ্ধি মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনা বিক্রির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নেওয়া হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা।

    এর আগে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা।

    সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ২২৫ টাকা।

  • টানা দুই মাস রপ্তানি কমে যাচ্ছে

    টানা দুই মাস রপ্তানি কমে যাচ্ছে

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসেই পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হেরফের দেখা গেছে। এ সময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি করেছিল প্রায় ৩ শতাংশের মতো, তবে তৃতীয় মাসেও একই ধারা বজায় থাকছে। এবার সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ আরও কিছুটা কমেছে, যার ফলে রপ্তানি এখন প্রায় ৫ শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৭ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩৬৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের সমান সময়ে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার থেকে বেশি।

  • জুলাই সনদ: নির্বাচনের আগে ভোটের দাবি জামায়াতে ইসলামী

    জুলাই সনদ: নির্বাচনের আগে ভোটের দাবি জামায়াতে ইসলামী

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরা জুলাই সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি গণভোটের প্রস্তাব তুলে ধরছেন, যা নির্বাচন আগে সম্পন্ন করতে চায়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আইনি ভিত্তির জন্য এই গণভোট জরুরি এবং সব রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি—এ বিষয়ে একমত। তবে জামায়াত মনে করে, নির্বাচন আগে হলে সমস্যা থাকা দূর হবে।

    রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠকটি ছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পরিচালিত, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ক সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই চলছিল।

    এসময় একটি প্রশ্নে তিনি বলেন, গণভোট কবে হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মনে করে, নভেম্বর বা ডিসেম্বরে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে তফসিলের পূর্বেও এই ভোট সম্পন্ন সম্ভব। গণভোট হলে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব বলে তারা মনে করেন, এতে করে জনগণও কোন ঝামেলার মধ্যে পড়বে না এবং সবকিছু সহজে এগোবে।

    আযাদ আরো জানান, যদি গণভোট থেকে ফলাফল তাঁদের বিপক্ষে যায়, তাঁরা সেটি মান্য করবেন এবং কোনো আপত্তি করবে না। তিনি বলেন, গণভোটের আগে কিংবা পরে এর আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সবাই এই প্রস্তাবের পক্ষে, এবং নির্বাচনী কমিশন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে এই ভোট আয়োজন করা সম্ভব হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও দলের আইনজীবী শিশির মনির।