Author: bangladiganta

  • নারীবিশ্বকাপেও ভারতের সঙ্গে হাত না মিলালেন পাকিস্তানের অধিনায়ক

    নারীবিশ্বকাপেও ভারতের সঙ্গে হাত না মিলালেন পাকিস্তানের অধিনায়ক

    ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের ঐতিহাসিক দ্বৈরথে রাজনৈতিক উত্তাপের প্রভাব আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ছেলেদের এশিয়া কাপের ম্যাচে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে ভারতের খেলোয়াড়রা যে আচরণ দেখিয়েছিল, সেই ঘটনা এখন নারী বিশ্বকাপেও ফিরে এসেছে। আজ কলম্বোয় নারী বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে টসের সময়ও দেখা গেল না ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও পাকিস্তানি অধিনায়ক ফাতিমা সানা হাত মেলাতে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচের জন্য উভয় অধিনায়ক মাঠে নামলেও, চিরাচরিত সৌজন্যমূলক হাত মেলানো দেখা যায়নি। তারা একে অপরের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে টস জিতেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান। ভারতের প্রথম ম্যাচে তারা শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তান হেরেছে বাংলাদেশের কাছে। শক্তির বিচারে এই ম্যাচে ভারতই ছিল অন্যতম প্রধান фавারিট। নারী ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দুই দলের ১১টি সাক্ষাতের সবকটিতেই জয়ী হয়েছে ভারত। মাঠের লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য থাকলেও, হাতে হাত না দেওয়ার এই ঘটনা প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে অনেক কিছুই। এটি শুধুই একটি ফুটেজের ঘটনা নয়, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশের ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো।

  • বাংলাদেশের কারণে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের কারণে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

    প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে ইতিমধ্যেই সিরিজের জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ছিল ‘ডেড রাবার’ ম্যাচ, যেখানে নাটকীয়তা ও উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানকে শূন্য করে হোয়াইটওয়াশ করতে সক্ষম হলো বাংলাদেশ। এর পেছনে মূল কৃতিত্ব তাদের দুর্দান্ত বলিং আক্রমণ, যার মধ্যে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন ক্রিকেটারের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে আফগান ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি রান সংগ্রহের সুযোগ পাননি, যেনো দেড়শর বেশি রানের লক্ষ্যও বেশ কঠিন হয়ে যায় তাদের জন্য। মাঝের কিছু সময়ে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে গেলেও, সাইফউদ্দিনের অবদান তাদের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে ব্যাটিং করেন বাংলাদেশি ওপেনাররা। সফরকারীদের পক্ষে দারুণ শুরু করেন পারভেজ হোসেন ইমন, তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাই তাঁকে আউট করে দেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান ক্রমাগত আক্রমণে থাকেন। আফগান বোলারদের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত চার ও ছক্কার মারেনে রান তুলতে থাকেন। এর মধ্যে, তানজিদ হোসেন পঞ্চাশ ছুঁইয়ে জীবন পান। বিপদে পড়লেও দ্রুত ফেরত আসেন, তবে তার পরে ফের চমক দেখায় সাইফ হাসান; তিনি একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে অপরাজিত ৬৪ রান করেন। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই জয়ে বাংলাদেশ হাসিল করে ইতিহাস, তারা প্রথমবারের মতো তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে। বাংলাদেশি অধিনায়ক জাকির আলী অনিকের নেতৃত্বে দলে ছিলো উজ্জ্বল মনোভাব। শুরুতেই বাংলাদেশের স্পিনার মুজিব উর রহমানের মারকুটে ওভার দিয়ে ম্যাচের অপার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম ওভারে আফগানরা কিছুই করতে পারেনি, যা পুরো ম্যাচের ধারা পরিবর্তন করে দেয়। অনুরূপ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ওপেনাররা চালিয়ে যান। তবে মাঝপথে, যখন কিছু উইকেট পড়ে, বাংলাদেশ বেশ বিপদে পড়ে। কিন্তু সাইফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং কখনো দলকে ভালই দিন আনে। তার ৭ ছক্কায় ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস দেখিয়েছে দলের জয়ের জোরদার সম্ভাবনা। তানজিদও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যদিও তাকে জীবন পান। তিনি ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে ফেরার আগে ৩৩ রান করেন। এরপর সাবলীলভাবে ব্যাটিং চালিয়ে যান সাইফ হাসান, এবং তাঁর ছক্কায় স্টেডিয়ামের বাইরে বল পাঠিয়ে দেন। তবে, এক ওভারেই ঘটে অপ্রত্যাশিত বিপদ; জাকের পাটোয়ারির বলে সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেট হন। তারপরের কিছু সময় বাংলাদেশিরা বেশ সংকটের মুখে পড়লেও, মাঠে দলের স্পিরিট ও মনোভাব বদলায়নি। সাইফের সর্বশেষ ইনিংসে, তিনি ৯২ মিটার দূরে ছক্কা হাঁকিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তার সঙ্গে এশিয়া কাপের পর এই তৃতীয় পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস। শেষ পর্যন্ত, ৩৮ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন সাইফ হাসান। তার সতীর্থ নুরুল হাসান সোহান ১০ রানে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে দুটি উইকেট নেন মুজিব উর রহমান। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের অঙ্গনে নতুন ইতিহাস লেখা হলো, যেখানে তারা প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ ফাইনাল পরিসংখ্যান পেরিয়ে হোয়াইটওয়াশের জয়লাভ করে।

  • খুলনা বিভাগীয় তায়কোয়ানডো ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ 2025 অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিভাগীয় তায়কোয়ানডো ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ 2025 অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিভাগের বৃহৎ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা, ‘খুলনা বিভাগীয় তায়কোয়ানডো ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫’, সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার যশোর জেলায় অবস্থিত ক্রীড়া জিমনেশিয়ামে this আসর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের পদচারণায় উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের উদ্যোগে এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা খুলনা ও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করে আটটি জেলার মোট ১৩০ জন ক্রীড়াবিদ, যার মধ্যে ৮৫ জন পুরুষ ও ৪৫ জন নারী। শিশু, যুবক ও যুবতীদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এই আসরে মোট ২৪ স্বর্ণ, ১৯ রৌপ্য ও ১৩ তাম্র পদক লাভ করে, যা তাদের চূড়ান্ত বিজয়াধিকার নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা, যাদের কোলাকুলা স্বর্ণ সহ মোট ১৪ স্বর্ণ, ৮ রৌপ্য, ও ৭ তাম্র পদক অর্জন করে। নড়াইল জেলা সংস্থা যথাক্রমে ৪ স্বর্ণ, ৫ রৌপ্য ও ৩ তাম্র পদক নিয়ে দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মোঃ হাবিব উল্লাহ, যিনি দেশের খ্যাতনামা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। বিশেষ অতিথির মধ্যে ছিলেন যশোর তায়কোয়ানডো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস কে মোঃ ওয়ালিউর রহমান ও যশোর জেলা প্রশাসক মোঃ আজাহারুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা, যারা উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই আয়োজন। আসরের রেফারী ও পরিচালকদের প্রশংসায় ভরে উঠেছিল সার্বিক কার্যক্রম।

  • বিসিবি নির্বাচনে নাটকের শেষ হলো: ভোটাধিকার ফিরে পেল ১৫ ক্লাব

    বিসিবি নির্বাচনে নাটকের শেষ হলো: ভোটাধিকার ফিরে পেল ১৫ ক্লাব

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের জটিল পরিস্থিতি এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। পূর্বে যা ছিল অস্পষ্টতা ও জটিলতা, তার মধ্যে যুক্ত হয়েছে নাটকীয়তা এবং রায় পরিবর্তনের ঘটনা। সর্বশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটাধিকার হারানো ১৫টি ক্লাব আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার পেয়ে গেল। এই পরিবর্তনের নায়ক হিসাবে উঠে এসেছে বিসিবির বর্তমান কাউন্সিলর লোকমান হোসেন ভূঁইয়া।

    এই পুরো ব্যাপারটির শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। তখন সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে অভিযোগ করেন, এই ১৫টি ক্লাব নির্বাচন শুরু করার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তাদের নেই। হাইকোর্ট সেই রিটের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেয়, যেখানে ওই ১৫ ক্লাবকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়া হয়। এর ফলে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী তালিকা থেকে এই ক্লাবগুলোর কাউন্সিলররা অপ্রাপ্তিহীন হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ছিলেন নাখালপাড়া ক্রিকেটার্সের প্রতিষ্ঠিত মানুষ ও বিসিবির বর্তমান কাউন্সিলর লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। তিনি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

    এরই প্রেক্ষাপটে ঘটে নাটকীয় পরিবর্তন। সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের সেই নির্দেশনা স্থগিত করে দেয়, ফলে বাদ পড়া ১৫ ক্লাবের ভোটাধিকার আবারও ফিরে আসে। এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আবারও নবায়ন হয় এবং ক্লাবগুলো আবারও ভোটদানে সক্ষম হয়।

    তবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আলোচনায় আসে ইফতেখার রহমান মিঠু এর নাম। তিনি এই ১৫টি ক্লাবের মধ্যে একমাত্র এই প্রতিযোগিতায় বিসিবি পরিচালক পদে প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের রুলের পরে তার নাম প্রার্থীদের তালিকা থেকে কেটে যায়। এখন আবার মনে করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরে মিঠু আবারও নির্বাচনী মাঠে ফিরতে পারেন, যদিও এই বিষয়ে এখনও বিসিবি বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

    সব মিলিয়ে, বিসিবির নির্বাচনী নাটকের শেষ কোথায়, তা এখনো পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রার্থীরা এখনও মাঠে নামলেও তালিকা বদলের সম্ভাবনা থাকায় আয়োজকদের আশা, নির্বাচনের রূপ আরও পরিবর্তিত হতে পারে যে কোনো মুহূর্তে।

  • নেপালে ভারী বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৪৭, সেতু ধসের কারণে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

    নেপালে ভারী বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৪৭, সেতু ধসের কারণে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

    নেপালে ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কিছু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক সেতুও ভেঙে পড়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসন সোমবার ও মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে জরুরি সেবা এবং উদ্ধার কর্মীরা ছুটির বাইরে থেকে কাজ করবেন বলে জানানো হয়েছে। সরকারি মুখপাত্র রমেশ্বর ডাঙ্গাল বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দেশটির পুলিশ প্রধান কলিদাস ধাউবোজি জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন ইলাম জেলায় পৃথক ভূমিধসে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এখনও নির্ধারিত না হলেও পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই বন্যায় এখনো ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং বজ্রপাতে মারা গেছেন আরও ৩ জন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, বলে জানিয়েছেন জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র শান্তি মহাত।

    নেপালের আবহাওয়া বিভাগ দেশের এক ডজনের বেশি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বিভাগীয় প্রধান কামল রাম জোশী জনগণকে নদী ও ঝর্ণার কাছ থেকে তাড়াতাড়ি সরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    খবর অনুসারে, রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বাগমতি, গান্ডাকি, লুম্বিনি ও মধেশ প্রদেশের কিছু জেলার ওপরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের ফলে কাঠমান্ডুর প্রধান সকল সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত আরণিকো মহাসড়ক বেশ কয়েকটি স্থানে ধসে পড়েছে এবং পূর্বাঞ্চলের বিপি মহাসড়ক ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়েছে।

    প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলি স্বল্পআকারে চালু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, জানিয়েছেন কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিনজি শেরপা।

    অতি সম্প্রতি নেপালের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দশাইন শেষ হওয়ার পর এই দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিলতর হয়ে উঠেছে। কারণ, উৎসবের পর লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজ নিজ গ্রাম থেকে শহরে ফিরছেন। যেখানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোসি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে বইছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত কোসি ব্যারেজের ১০ থেকে ১২টি স্লুইস গেট খোলা থাকলেও বর্তমানে সব ৫৬টি গেটই খোলা হয়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলও সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রতি বছর বর্ষাকালে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং অকাল বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশজুড়ে বর্ষা মৌসুম থাকে, যা এই দুর্যোগের অন্যতম বড় কারণ।

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২ লাখের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহৃত, নিহত–নিখোঁজ ৭৬ হাজারের বেশি

    গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২ লাখের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহৃত, নিহত–নিখোঁজ ৭৬ হাজারের বেশি

    আগামীকাল ৭ অক্টোবর marks হবে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার স্মরণ। এই দুই বছরের সময়ে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৭,০০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং প্রায় ১০,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর পাশাপাশি, এই সময়ে গাজায় দুই লক্ষ টনের বেশি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল–মায়েদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজা সরকারের জনসংযোগ কার্যালয় এক নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে এই দুই বছরের সংঘর্ষের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে, গণহত্যা চলছে, লাখো মানুষ পালানোর জন্য বাধ্য হয়েছে, এবং হাজারো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ৭৬,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৭,১৩৯ জনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৯,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ, যাদের অনেকের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী, শিশু ও প্রবীণ মানুষ রয়েছেন। শিশু ২০,০০০ এর বেশি এবং নারীর সংখ্যা ১২,৫০০ এর বেশি। পুরো পরিবার একসাথে ধ্বংস হয়ে গেছে এমন ঘটনা ২,৭০০ এর বেশি। খুবই দুঃখজনকভাবে, এমন পরিস্থিতিতে হাজারো পরিবারে কেবল একজন সদস্যই জীবিত রয়েছেন।

    গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধের ফলে ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। গোটা এলাকা এখন মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনারা গাজার ৮০ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে। দু’বছরে, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা অনেকেই একাধিকবার জায়গা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল গাজায় ক্ষুধা ও জাতিগত দ্বন্দ্বের নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুই বছরে গাজায় ২ লাখ টনের বেশি বোমা ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত ‘নিরাপদ এলাকা’ আল–মাওয়াসিতে ১৩০ বার বেশি বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

    অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এই সংঘর্ষে ৩৮টি হাসপাতাল ও ৯৬টি ক্লিনিক ধ্বংস বা অচল হয়ে পড়েছে। ১৯৭টি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১,৬০০ এর বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া ২৫৪ জন সাংবাদিক, ১৪০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং ৫৪০ জন মানবিক সহায়তাকর্মী জীবন হারিয়েছেন।

    আহত হয়েছেন ১,৬৯,০০০ এর বেশি মানুষ। হাসপতালগুলো বর্তমানে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী অনেক রোগীকে গাজর বাইরে চিকিৎসা নিতে অনুমতি দেওয়া হলেও, এখনও আটকা পড়েছেন প্রায় ২২,০০০ রোগী। পাশাপাশি, ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু মারাত্মক খাদ্যসংকটের মধ্যে রয়েছেন। দুধ, ওষুধ আর খাবারের সংকটের কারণে জীবন বিপন্নের মুখে।

    জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার গাজায় সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করছে। জাতিসংঘের তথ্যে, গাজার ২৪ লাখ মানুষ প্রায় সবাই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, এবং তারা ‘অভূতপূর্ব বঞ্চনার’ শিকার।

    জনসংযোগ কার্যালয় জানিয়েছে, গাজার ৯৫ শতাংশ স্কুলে ক্ষতি হয়েছে। ১৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সংঘর্ষে ১৩,৫০০ শিক্ষার্থী, ৮৩০ শিক্ষকসহ অসংখ্য গবেষক ও শিক্ষাবিদ নিহত হয়েছেন। ধর্মীয় স্থানগুলোও ধ্বংসের মুখে। ৮৩৫টি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, এমনকি কিছু গির্জাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন কবরস্থান কবরবাহী বা বোমা মেরে ধ্বংস করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৭০ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে আবাসন খাতে ২৮ বিলিয়ন, স্বাস্থ্য খাতে ৫ বিলিয়ন ও শিক্ষা খাতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। চাষযোগ্য জমি ও মাছের খাত প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির কারণ।

    সবশেষে, আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, গাজা পুরোপুরি ধ্বংসের দেওয়ালritt রুখে দিতে। অবরোধ তুলে দিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। যদিও জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার যুদ্ধাপরাধের তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করলেও, নিরাপত্তা পরিষদের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই দাবি কার্যকর হয়নি।

    যখন গাজার যুদ্ধ তৃতীয় বছরেও প্রবেশ করছে, তখন পরিস্থিতি একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করছে—‘৭৩০ দিনের গণহত্যা ও জাতিগত নিধন’।

  • ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধসে নিহত ৫০, বিস্তারি উদ্ধার অভিযানে অভিযান শুরু

    ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধসে নিহত ৫০, বিস্তারি উদ্ধার অভিযানে অভিযান শুরু

    ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভায় একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের ভবন ধসে পড়ে মর্মান্তিক трагনায়ালয় সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও শতাধিকStudents। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরের পর, সিদোয়ার্জো শহরের আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে।

    প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, সেই সময় স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ভবনের উপরতলায় তখন নতুন একটি তলা নির্মাণের কাজ চলছিল, যা মূল কাঠামোর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি বা শক্তির সুবিধা না থাকায় ধসে পড়ে। ফলে সিঁড়ির কাছাকাছি অংশসহ পুরো ভবনের শিরদাঁড়া ঝুলে পড়ে, নিচের ক্লাসগুলো একেবারেই চাপা পড়ে যায় ধ্বংসস্তূপে।

    ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উদ্ধার সংস্থা ‘বাসারনাস’ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, জীবিত অবস্থায় আরও ১০৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, এবং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

    সংস্থাটির অপারেশন পরিচালক ইউধি ব্রামান্তিও বলছেন, ধসে পড়া ভবনের ৬০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে। তবে, ধ্বংসের ক্ষতি স্কুলের পাশের একটি ভবনকেও স্পর্শ করেছে, ফলে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বেশিরভাগই ওই পাশের ভবনের বাসিন্দা বলে মনে করা হচ্ছে।

    আরেকটি উদ্ধারকারী সংস্থা বিএনপিবির তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আবদুল মুহারি বলছেন, আহতদের মধ্যে ৮৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নদির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৫ জন।

    স্থানীয় শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্কুলের শ্রেণীকক্ষ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ছাদের ওপর একটি নতুন তলা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের আগে স্কুলের মূল কাঠামো বা ভিত্তির নিরাপত্তা যাচাই করা হয়নি, ফলে নির্মাণকাজের চাপে ভবনটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত এটি ধসে পড়ে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্কুলের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা এ ধরনের গাফিলতি মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • ইসরায়েল গ্রেটা থুনবার্গসহ ১৬৫ অভিযাত্রীকে গ্রীসের পথে পাঠাচ্ছে

    ইসরায়েল গ্রেটা থুনবার্গসহ ১৬৫ অভিযাত্রীকে গ্রীসের পথে পাঠাচ্ছে

    ইসরায়েল শনিবার (৪ অক্টোবর) তাদের পক্ষ থেকে জানিয়েছে যে, গ্রেটা থুনবার্গসহ গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ১৫৬ জন অভিযাত্রীকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আই ২৪ নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে গ্রীসের নাগরিকদের পাশাপাশি গ্রেটার মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে একটি বিশেষ বিমানে করে গ্রীসের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে। এই অভিযান শুরু হয় ৩১ আগস্ট, যখন স্পেনের বন্দরে থেকে গাজা উপকূলের দিকে বেশ কয়েকটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। সেগুলোর মধ্যে ছিল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা, যেখানে ছিল ৪৩টি নৌযান। এই ফ্লোটিলার মূল উদ্যোক্তা হল ফিলিস্তিন ভিত্তিক চারটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা—ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা।

    বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডোলা ম্যান্ডেলাস, এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবক। তাদের মধ্যে ছিল পার্লামেন্টারিয়ান, আইনজীবী, রাজনৈতিক আন্দোলনকারী এবং সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক।

    কিন্তু ইসরায়েল এই অভিযানে বাধা দেয়। প্রথমে বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে ১৩টি নৌযান তাদের নৌবাহিনীর দ্বারাই আটক হয়, এরপর আরও ৩০টি জাহাজ জব্দ করা হয়। এই জাহাজগুলো গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সবশেষে এসব জাহাজ এবং অভিযাত্রীদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে রাখা হয়েছে।

    আই ২৪ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কিছু অভিযাত্রীর বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

    অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়, আটক অবস্থায় গ্রেটাকে ইসরায়েলের সুইডিশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়। গ্রেটা বলেছেন, তাকে একটি পরিপূর্ণ চৌবাচ্চার মতো কারাদণ্ডে রাখা হয়েছে, যেখানে তাকে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও, তাকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকাকে চুমু দিতে এবং পতাকাটি ধরে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • সৌদিতে ১৮ হাজার ৬৫০ প্রবাসী গ্রেফতার, অধিকাংশই দুই দেশের নাগরিক

    সৌদিতে ১৮ হাজার ৬৫০ প্রবাসী গ্রেফতার, অধিকাংশই দুই দেশের নাগরিক

    সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে অসংখ্য প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রম ব্যবস্থা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত দেশের প্রবাসীসহ মোট ১৮ হাজার ৬৫০ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালানো হয়েছিল। সৌদি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশীরভাগই আবাসন আইন লঙ্ঘন, সীমান্ত নিরাপত্তা ভাঙা এবং শ্রম আইন অমান্য করেছিল। Specifically, ১০ হাজার ৬৭৩ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, ৩ হাজার ৮২২ জন সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টায়, এবং ৪ হাজার ১৭৮ জন শ্রম আইনের লঙ্ঘনে অভিযুক্ত। দেশে অবস্থান করা বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টায় ১ হাজার ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনি ৫৯ শতাংশ, ইথিওপিয়ান ৪০ শতাংশ, এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ১ শতাংশ। এছাড়া, অবৈধভাবে সৌদি ছাড়ার চেষ্টাকারী ৫২ জনও এই তালিকায় রয়েছে। তাছাড়া, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘন করে যারা বাসস্থান বা পরিবহন ব্যবস্থা করে দিচ্ছিল, তাদের মধ্যে ১৭ জনকেও গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের এই ধনী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ, যেখানে বিভিন্ন দেশের অনেক লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদিকে নিয়মিত ভাবে বিচারবিভাগের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয় এবং অবৈধ প্রবাসীদের আটক করা হচ্ছে—এমন খবর তারা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন।

  • অজ্ঞান করে টাকা-মোবাইল লুটের ঘটনায় যুবক হাসপাতালে

    অজ্ঞান করে টাকা-মোবাইল লুটের ঘটনায় যুবক হাসপাতালে

    নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকাগামী পথে অজ্ঞান পার্টির শিকার হন অয়াজেদুল (২৭) নামে এক যুবক। এই ঘটনাটি রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াপাড়া এলাকায় ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ডুমুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অয়াজেদুল ঢাকাস্থ এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, যার বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর বাজারে। তাঁর পিতা মোজাফফর হাওলাদার।

    জানাগেছে, অয়াজেদুল জিরো পয়েন্ট থেকে রাজিব পরিবহনে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। চলন্ত পথে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে সম্মোহিত করে ফেলেন। এর ফলে, তার কাছে থাকা স্যামসাং এবং রেডমি কোম্পানির দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহ মানিব্যাগে থাকা নগদ ৭০০ টাকা দ্রুত লুট করে নিয়ে যায় তারা।

    পরে, অয়াজেদুলের কাছ থেকে তার এনআইডি কার্ডের সূত্রধরে তার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে খুলনায় পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা থানায় রিপোর্ট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশও এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।