Author: bangladiganta

  • ১৫ বছর পর সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

    ১৫ বছর পর সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

    এবারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে যোগ দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে সবশেষ ২০০৯ সালে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

    সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

    ওইদিন রাতে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএসএম কামরুল আহসান এই আমন্ত্রণপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে পৌঁছে দেন।

  • বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

    বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

    গ্যাসের পাইপলাইনের কাজের জন্য বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইসলামবাগ, লালবাগসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না। 

    বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি প্রতিস্থাপন কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) লালবাগ ডিপিডিসি সাব-স্টেশন এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা ইসলামবাগ, রহমতগঞ্জ, লালবাগ ডিপিডিসি সাব-স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, লাকসাম বাজার, চান্দিরঘাট এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ওই সময়ে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।

    গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ঢাকা সফর করবে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) পরবর্তী রাউন্ডে যোগ দিতে তাদের এই সফর।

    এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটি প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত।’

    বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা (ঢাকা-দিল্লি) স্বাভাবিক (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং এফওসি হবে সেদিকে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ।’

    এই সফরে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

    বাংলাদেশ ও ভারত–দুই দেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে তৌহিদ বলেন, ‘কিছু সমস্যা থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। যখন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়, তখন কিছু সমস্যা দেখা দেয়। উভয়পক্ষের সুবিধার জন্য এই সমস্যাগুলো অতিক্রম করে একটি ভালো কর্ম সম্পর্ক তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।’

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের কারণে দুদেশের মধ্যে ‘সম্পর্কের উন্নতির জটিলতা’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, তিনি প্রতিবেশী দেশে না থাকলে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হতো।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এফওসিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। দলটিতে ঐতিহ্যগতভাবে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ও খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    সফরকালে বিক্রম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে বার্ষিক এফওসি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

  • হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন করায় আপত্তি নেই: দ্য হিন্দুকে ইউনূস

    হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন করায় আপত্তি নেই: দ্য হিন্দুকে ইউনূস

    ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দেশের পরিস্থিতি, সরকার, সংখ্যালঘু, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল, সংস্কার, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো।


    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে বাংলাদেশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, তার এতে কোনো আপত্তি নেই।

    ঢাকায় তার বাসভবনে দ্য হিন্দু-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং তার সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি তার সরকারের ১০০ দিনের শাসনের অর্জনগুলোর পক্ষে কথা বলেন এবং মৌলবাদ ও দেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    প্রশ্ন: আপনি ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১০০ দিন সম্পন্ন করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনি আপনার সরকারকে কেমন মূল্যায়ন করবেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পথে রয়েছে, তবে আমি এটিকে এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক বলতে পারব না। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমি আমাদের কাজকে এ-প্লাস দেব। কারণ আমরা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি, তখন দেশ প্রায় একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল—খারাপ ঋণ, প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণখেলাপি। আমরা সে পরিস্থিতি থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখনও উন্নতির প্রয়োজন আছে, তবে অগ্রগতি হচ্ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে বাড়ছে এবং আমরা বেশ কিছু ঋণ পরিশোধ করতে পেরেছি, যা আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমরা বৈশ্বিক সহায়তা পাচ্ছি—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণকালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা ওয়ান-স্টপ পরিষেবা চালু করেছি, যেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। তাই বলতে পারি, দেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রশ্ন: আপনি নিশ্চয়ই একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে কি চিন্তিত? যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে কী ভাবছেন? তার একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশের সমালোচনা রয়েছে। নতুন এ মার্কিন প্রশাসনের পর আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী যে, আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার মনে হয় না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন।

    প্রশ্ন: তিনি করেছেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: বটে। এটা সরাসরি বাংলাদেশ নিয়ে নয়, বরং সংখ্যালঘুদের নিয়ে—তিনি মনে হয় না পুরো বিষয়টা ভালোভাবে জানেন। এটি একটি প্রোপাগান্ডা যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু যখন তিনি বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা আলাদা। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ফলে [দেশটির] পররাষ্ট্রনীতি ও দেশভিত্তিক সম্পর্ক খুব বেশি বদলায় না। যদি ট্রাম্প ২.০-এর সময়ে কিছু পরিবর্তন হয়ও, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এখন এটি একটি নতুন বাংলাদেশ—বাংলাদেশ ২.০। আমরা আশা করছি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হতে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ অটুট থাকবে। তারা এবং আমরা উভয়ে একে অপরের সবচেয়ে বড় সরকারি ক্রেতা। আমার দীর্ঘ কয়েক বছরে দারুণ সম্পর্ক তৈরি করেছি, তাই আশা করছি সম্পর্ক দৃঢ়তর হবে।

    প্রশ্ন: আপনি মি. ট্রাম্প যা বলেছেন সেটাকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু শুধু তিনি নন, ভারত সরকারও একাধিক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশের হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিছুক্ষেত্রে খুনের ঘটনা ঘটছে, এমনকি ধর্ষণের সন্দেহও করা হচ্ছে। আপনি কী বলবেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার প্রথম ফোনকলে [১৬ আগস্ট] তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম, এটি একটি প্রোপাগান্ডা। এখানে অনেক সাংবাদিক এসেছিলন, কিছু ঘটনা নিয়ে সংবাদ হয়েছে। তবে সেগুলো ততটা না যতটা গণমাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: এর পেছনে তাহলে কারা থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি সঠিকভাবে জানি না, তবে এ প্রোপাগান্ডার সঙ্গে বাস্তবতার তেমন কোনো মিল নেই। এ সবগুলো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখেছেন একদল লোক, প্রতিটা ঘটনা ঘেঁটে দেখেছেন…

    প্রশ্ন: আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আদতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ভাবছেন তারা লক্ষ্যবস্তুর শিকার। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ মুসলিমরাষ্ট্র হবে। শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে অনেকে মনে করছেন, আপনার সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশে এমন একটি উগ্র ইসলামিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, যা গত ১৬ বছরে দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে আশ্বস্ত করতে আপনার সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: এ[চিত্র]টি কি আমার সঙ্গে মানায়? আমার উপদেষ্টা পরিষদের প্রত্যেক সদস্যই হয় একজন মানবাধিকারকর্মী যিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী হয়েছেন, অথবা পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিত, কিংবা জেন্ডার সমতা বা অন্যান্য সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। আপনি যদি তাদের কাছে গিয়ে উল্লিখিত অভিযোগ করেন, তারা তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করবেন।

    প্রশ্ন: তাহলে আপনি বলছেন, আপনার উপদেষ্টা পরিষদের কেউ উগ্র ইসলামিক এজেন্ডাকে সমর্থন করবেন না?

    মুহাম্মদ ইউনূস: উপদেষ্টাদের কাজ ও জীবন পর্যালোচনা করুন। তারা সবসময় মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন; এখানে নারীরাও নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তারা কখনোই আপনি যা বলছেন সেসবের পক্ষে অবস্থান নেবেন না।

    প্রশ্ন: আরও কিছু বিষয়ে উদ্বেগ আছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ জানিয়েছে, কেবল সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৪১ জন আহত এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে আটজন নিহত হয়েছেন। কিছু সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হয়েছে। কেউ কেউ বলবেন, আপনার সরকার পূর্ববর্তী সরকারের ধারাই অনুসরণ করছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: জনগণই বিচার করবে যে এ সরকার কী করছে এবং পূর্ববর্তী সরকার কী করেছিল। আমি [এ বিষয়ে] তর্কে যেতে চাই না। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাক্রিডিটেশন আইন আমরা তৈরি করিনি, আমরা কেবল এটির প্রয়োগ করছি। তবে আপনি বলতে পারেন, এটা সঠিক প্রয়োগ কি না। আমি আইনটি পরিবর্তন করতে চাই। এটি অন্য ধরনের শাসনব্যবস্থার তৈরি করা আইন।

    প্রশ্ন: রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতার কারণে আগের সরকারের নেতা-কর্মীরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এমনটা ঘটবে না তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা কি আপনার কাছে আছে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি বলব, আইনের শাসন বজায় থাকুক। দ্যাটস ইট।

    প্রশ্ন: আপনি সংস্কারের জন্য কয়েকটি কমিশন গঠন করেছেন—কিন্তু সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো কমিশন নয় কেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের কিন্তু একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে—সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে কেন? আমি [সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে] বলেছি, আপনারা এ দেশের নাগরিক, সংবিধান আপনাদের সব অধিকার দিয়েছে। আমরা সবাই চাই মানবাধিকার এবং সংবিধানে উল্লেখ থাকা সব অধিকার নিশ্চিত করতে। সংবিধান কমিশনের দিকে তাকান, দেখুন এর প্রধান কে [আলী রিয়াজ]—তারপর আপনারা কী বলছেন সে মতপার্থক্য দূর করুন… না হলে এটা পুরোটাই প্রোপাগান্ডা।

    প্রশ্ন: যদি প্রতিবেশী ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রে এমন ধারণা বিশ্বাস করা হয়, তাহলে কি আপনার সরকার জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে যে এটি প্রোপাগান্ডা?

    মুহাম্মদ ইউনূস: হয়তো বিশ্বকে অন্যভাবে বোঝানোর টাকা বা ক্ষমতা আমাদের নেই।

    প্রশ্ন: আপনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এখনও সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি, যদিও ফোনে কথা হয়েছে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: হ্যাঁ, এখনো আমাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। আমি যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করি, মিস্টার মোদি ততক্ষণে চলে গিয়েছিলেন। আমি বাকুতে কপ-এ অংশ নিই, কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। বিমসটেক সম্মেলন [থাইল্যান্ডে] বাতিল হয়েছিল। আর কমনওয়েলথ সিএইচওজিএম বৈঠকে আমাদের দুজনের কেউই অংশ নিইনি। তবে তার মানে এ নয় যে, আমরা কখনো দেখা করব না। আমরা কেবল প্রতিবেশী নই, ইতিহাস ও ভূগোল আমাদের একত্র করেছে। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও আমাদের সংযুক্ত করেছে। আমি প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছি। এটা কেন এভাবে পড়ে থাকবে? এমনকি আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সার্ক নেতারা নিউইয়র্কে স্রেফ পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও যেন বৈঠক করেন যাতে একটা বার্তা পাঠানো যায় যে, সার্ক এখনো আছে।

    প্রশ্ন: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৫ আগস্টের ঘটনাগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলছে? এটি কি একটি ধাক্কা ছিল?

    মুহাম্মদ ইউনূস: কেন এমনটা হবে? বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারতের উদযাপন করা উচিত যে, বাংলাদেশ এমন একটি শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে যেখানে মানুষ চরম কষ্টে ছিল, অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, অনেকে গুম হয়েছিলেন এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমাদের তরুণ প্রজন্মের উদযাপনে সঙ্গে ভারতেরও অংশ নেওয়া উচিত এবং একসঙ্গে উদযাপন করা উচিত, যেমনটা অনেক রাষ্ট্র করছে।

    প্রশ্ন: আপনি বলেছিলেন, ৫ আগস্ট থেকে শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি সম্পর্কের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: [প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার] আপাতত ভারতে বসবাস করাটা সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে তার যোগাযোগ। তিনি বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন, এবং সেটা রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটিই সমস্যা।

    প্রশ্ন: সেটা কীভাবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: তিনি বাংলাদেশিদেরকে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে উৎসাহিত করছেন। তার এসব বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। তিনি [সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট] ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে বলছেন—যেন পুলিশ বাধা দেয়, যাতে তারা বলতে পারে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এটি আরেকটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

    প্রশ্ন: আপনার সরকার ইন্টারপোলের কাছে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছে—কেন সরাসরি ভারতকে অনুরোধ করছে না? প্রয়োগ করার মতো দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া তো এক্ষেত্রে রয়েছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করব।

    প্রশ্ন: তারপরও আপনার সরকার এখনো প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেনি। দুই দেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার মনে হয় আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি, তবে সে পর্যায়ে এখনো পৌঁছাইনি।

    প্রশ্ন: রাজনৈতিক মামলা বিষয়ক ধারার কথা উল্লেখ করে যদি ভারত বাংলাদেশের অনুরোধ গ্রহণ না করে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আপনি কি বলছেন ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, এ ধরনের ধারা রয়েছে, তবে যদি ভারত সরকার সেগুলো কার্যকর করে এবং [শেখ হাসিনাকে] দেশে রাখে, তাহলে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো থাকবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার খুবই স্বল্পস্থায়ী, তাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সব দিক এখনই মীমাংসা করা সম্ভব নয়। তবে পরবর্তী কোনো সরকারও এটি সহজে মেনে নেবে না।

    প্রশ্ন: আপনি কি অন্য ক্ষেত্রগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মসৃণভাবে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন? সম্প্রতি আমরা জ্বালানি ও বাণিজ্য সংযোগ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ দেখেছি।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের স্বপ্ন একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ধাঁচের সম্পর্ক তৈরি করা [মুক্ত চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতাসহ]। আমরা সে দিকেই এগোতে চাই। আপনার উল্লেখ করা উদ্যোগগুলো ইতিবাচক লক্ষণ এবং আমরা সে লক্ষ্যের দিকেই এগোতে চাই। তবে সেগুলো আমাদের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনো অনেক দূরে। আমাদের লক্ষ্য খুবই নিবিড় সম্পর্কের একটি ইউনিয়ন গঠন। আমাদের জন্মই হয়েছে পাশাপাশি থাকার জন্য, আমরা যমজ।

    প্রশ্ন: আপনার সরকার কতটা ‘স্বল্পমেয়াদি’? নির্বাচন কখন হবে বলে মনে করেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের সরকার গঠন করার সময় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, আমরা স্রেফ একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়ে থাকব না—যারা আসবে, নির্বাচন দেবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ২.০-এর জন্য সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা। আমরা দীর্ঘমেয়াদি সরকার হতে চাইনি, তাই এ কাঠামো তৈরি করেছি। প্রথম দিন থেকেই স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া হিসেবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে সংস্কার কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

    প্রথমত, আমরা নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে, কারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা গঠন করবেন। তবে, অন্য কিছু সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবেন না। যেমন, আমাদের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হবে কি না, বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না, মেয়াদ ও মেয়াদের সীমা সংক্রান্ত বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আমি বলব, নির্বাচনের ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে এ ট্রেন কোন পথে চলবে সেট আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। আর সে পথ নির্ধারণ করতে আমাদেরকে সংস্কার কমিশনের কাছে ফিরে যেতে হবে।

    প্রশ্ন: এতে কি কয়েক বছর লেগে যেতে পারে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার কোনো ধারণা নেই। জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি।

    প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: এটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি, এবং বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বলেছে, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সুতরাং তারা ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামত অগ্রাহ্য করতে পারি না।

    প্রশ্ন: তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপনার কোনো আপত্তি নেই?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি রাজনীতিবিদ নই যে এ দল বা অন্য দল বেছে নেব। আমি রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছি।

    প্রশ্ন: আপনি কয়েক বছর আগে (২০০৭ সালে) নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন যদিও…

    মুহাম্মদ ইউনূস: সেটা মাত্র ১০ সপ্তাহের জন্য ছিল। তারপর আমি একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেটা বন্ধ ঘোষণা করেছিলাম। অনেকে আমাকে চাপ দিয়েছিলেন, বলেছিলেন জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা দলের নাম পর্যন্ত ঠিক করেছিলাম, কিন্তু সেখানেই শেষ। তারপরও সারাজীবন রাজনৈতিক দল তৈরি করতে চাওয়ার অভিযোগ শুনতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: আপনি কি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি নিজেকে কখনোই রাজনীতিবিদ মনে করি না।


    [ঈষৎ সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত অনুবাদ: সুজন সেন গুপ্ত]

  • ঢাকা-ইসলামাবাদ সমুদ্র যোগাযোগ: ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

    ঢাকা-ইসলামাবাদ সমুদ্র যোগাযোগ: ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

    ১৯৭১ সালে নয় মাস ব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে বাংলাদেশ। তখন ঢাকার পাশে ছিল নয়াদিল্লি। এরপর থেকে গত পাঁচ দশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবেই আখ্যায়িত হয়েছে ভারত। আর বৈরিতা ছিল ইসলামাবাদের সঙ্গে। তবে স্বাধীনতার তেপ্পান্ন বছর পর এসে এবার যেন সেই চিত্র পুরোপুরি পালটে গেল।

    শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের বৈরিতা বেড়েছে। আর এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন লেনাদেনা শুরু করেছে ঢাকা। সম্প্রতি দেশটির একটি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। করাচি থেকে আসা জাহাজটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে সফলভাবে কন্টেইনার খালাস করেছে।

    বহু বছর পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক সংযোগ ভারতের ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে বৈকি।

    সরাসরি করাচি থেকে চট্টগ্রামে জাহাজ

    পানামার পতাকাবাহী ১৮২ মিটার (৫৯৭ ফুট) লম্বা কন্টেইনার জাহাজ ইউয়ান শিয়াং ফা ঝান পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। চট্টগ্রামের শীর্ষ কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, গত ১১ নভেম্বর জাহাজটি বাংলাদেশে পণ্য খালাস করে বন্দর ছেড়ে যায়।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশের প্রধান পোশাক শিল্পের কাঁচামাল এবং মৌলিক খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য নিয়ে এসেছে।

    পাকিস্তানি পণ্য আগে সরাসরি এভাবে বাংলাদেশে আসতো না। সাধারণত ফিডার জাহাজে করে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশে আসতো। তবে সেপ্টেম্বরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ পাকিস্তানি পণ্যের উপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

    সরাসরি সমুদ্র সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এ নিয়ে ফেসবুকে এক পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহমেদ মারুফ লিখেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরাসরি জাহাজ চলাচল রুট একটি ‘বড় পদক্ষেপ’।

    হাসিনা ও পাকিস্তান

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিভক্ত হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ বাঙালি নিহত হয়েছে। হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় মানসে এসব গভীরভাবে দাগ কেটে আছে।

    এসব স্মৃতির কথা স্মরণ রেখে পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান পাকিস্তান একাধিকবার ক্ষমাও চাইতে বলেছিল শেখ হাসিনা সরকার। তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো তা করেনি।

    মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষত ঢাকায় শেখ হাসিনার শাসনামলে তা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। যার কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল নৃশংস যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি তা করেছেনও।

    হাসিনা ও ভারত 

    শেখ হাসিনা যখনই ক্ষমতায় ছিলেন বাংলাদেশকে ভারতের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নয়াদিল্লির সহায়তার সৌজন্যে বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে নেহরু-গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়।

    যখন তার শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে তার সম্পর্ক তাকে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। আর স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের পতনের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

    ভারতের ‘পুতুল’ হাসিনা

    বছরের পর বছর হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিকিয়ে রাজনীতি করেছেন। এই বিপ্লবে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। জুলাই মাসে শেখ হাসিনা যখন বিক্ষোভকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তখন তা উল্টো ফল বয়ে আনে তার জন্য।

    এ ছাড়া নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ থাকায় হাসিনাকে অনেক বাংলাদেশি ভারতের পুতুল মনে করেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতের প্রতি অসন্তোষ জন্ম নিয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনেকে মনে করেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত খুব বেশি হস্তক্ষেপ করেছে।

    বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাব প্রকাশ পায় যখন আগস্ট মাসে একটি জনতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজধানীতে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্রবিন্দু ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করে।

    পাকিস্তান-বাংলাদেশ লেনাদেনা

    শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকে ঝুঁকেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ড. ইউনূস চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

    বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস সম্প্রতি বলেন, আমাদের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সমুদ্রসীমা সংযোগ অপরিহার্য।

    বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এই প্রস্তাবের ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি একটি ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকতে পারে।

    হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বিপাকে ভারত

    ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণও চাইছে বাংলাদেশ। ঢাকা এরই মধ্যে ৭৭ বছর বয়সি এই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং ‘গণহত্যা, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে তাকে ঢাকায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছে।

    জনাব ইউনূস বলেন, তার প্রশাসন হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলন দমন করার জন্য দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দিকে মনোনিবেশ করছে।

    শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ৮৪ বছর বয়সি ইউনূসকে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের লৌহ-মুষ্টিবদ্ধ শাসনের অবসানের কয়েকদিন পর ৯ আগস্ট সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

    শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ইউনূস বলেন, আমরা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসককে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চাইব।

    এ মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার শাসনামলের পলাতক নেতাদের জন্য ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ অ্যালার্ট জারির অনুরোধ করবে তারা।

    নিরাপত্তাহীনতায় নয়াদিল্লি

    পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    বছরের পর বছর ধরে, ভারত চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের উপর নজর রাখার জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে চলেছে। এখন শেখ হাসিনা নেই। তাই শঙ্কিত ভারত। আইএসআইয়ের উৎপাত এ অঞ্চরে বেড়ে যেতে পারে শঙ্কা ভারতের।

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সহিংস বিক্ষোভে হিন্দুসহ ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

    লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
    অনুবাদ: সজীব হোসেন

  • বগুড়ায় প্রতি কেজি আলু ৪০০ টাকা

    বগুড়ায় প্রতি কেজি আলু ৪০০ টাকা

    বগুড়ায় নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে বাজারে নতুন আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজি উঠেছে। তবে সবকিছুর মূল্যই আকাশচুম্বী। প্রতি কেজি ভালো মানের পাগরি আলু ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোমবার শহরের রাজাবাজার, ফতেহআলী বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মূল্য বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

    নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ার কৃষকরা আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজির আগাম চাষাবাদ করেন। তবে সবকিছুর মূল্য অনেক বেশি। নতুন পাগরি জাতের আলু প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাতা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। নবান্ন উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের কাছে নতুন আলুর চাহিদা বেশি। তাই তারা বাজারে আনা ছোট ও মাঝারি আকারের আলু বেশি কিনছেন। মূল্য বেশি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেন, সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি তাই দাম একটু বেশি। তবে বিকালের দিকে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় নেমে আসে।

    রাজাবাজারে নতুন আলু কিনতে আসা শহরের শিববাটি এলাকার বিপুল চন্দ্র সাহা জানান, নবান্ন আমাদের প্রিয় উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবার নতুন চাল আর আলু দিয়ে পিঠাপুলি বানিয়ে উৎসব করা হবে। তবে এ বছর আলুর দাম বিগত দিনের চেয়ে অনেক বেশি। একই ধরনের মন্তব্য করেন শহরের ডালপট্টির সীমা মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ১ অগ্রহায়ণ নবান্ন উৎসবে নতুন কাঁচা শাকসবজির দাম চড়া থাকে। তবে এ বছর আলুর দাম অনেক বেশি। এক কেজি আলু প্রয়োজন ছিল, তাই আধা কেজি কিনেছি।’ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, বাজারে কারও নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের গলা কাটছেন।

    রাজাবাজারের ব্যবসায়ী মিজান বলেন, মহাস্থান হাটে এক পাইকারের কাছে ২০ কেজি নতুন আলু কিনেছি। দাম বেশি হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

    শহরের ফতেহআলী বাজারের খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন জানান, আলু বড় সাইজের না হলেও উৎসবের কারণে দাম বেশি। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    বগুড়ার রাজাবাজার আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, প্রতি বছরই নবান্ন উৎসবের সময় বাজারে নতুন আলু আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নয়; সবাই তরকারি রান্না ও ভর্তাছানা খাওয়ার জন্য নতুন আলু কিনে থাকেন। এ সময় আলুর দাম চড়াই থাকে।

  • জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা, শিক্ষককে মারপিট ও মোবাইল ভাঙচুর

    জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা, শিক্ষককে মারপিট ও মোবাইল ভাঙচুর

    খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ হুমায়ুন বিশ্বাস নামে এক শিক্ষককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মারপিট করেছে স্থানীয় জামায়াতের নেতা কর্মীরা। ফেসবুকে জামায়াত আমীরের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করায় তাকে রোববার রাত ৯টার দিকে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এরপর থানার ওসি এবং ইউএনও কে দিয়ে ডাকিয়ে শাসিয়েছন জামায়াত নেতারা। বিষয়টি নিয়ে খুলনায় নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

    জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান লন্ডন সফরকালে আওয়ামীলীগকে নিয়ে মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের জের ধরে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন বিশ্বাস তার ফেসবুক জামায়াত আমিরের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেন।

    তার সমালোচনার বিষয়টি স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হয়। শিক্ষক হুমায়ুন বিশ্বাসের পোস্টের নিচে অনেকেইে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। এরপর ওই শিক্ষক পোস্টটি ডিলিট করে দেন। একই সাথে এই ধরনের পোষ্টের জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি।

    রোববার রাতে স্থানীয় কয়েকজন জামায়াতের নেতাকর্মী তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেদকাশীর কাছারী বাড়িতে নিয়ে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রেখে ব্যাপক মারপিট করে।  এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইলটি ভাংচুর করে। একই সাথে তাকে এ বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে হুমকি দেয়।

    স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই শিক্ষকের পরিবারের একাধিক সদস্য জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। যারা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদেরও বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

    ভুক্তভোগী শিক্ষক হুমায়ুন বিশ্বাস বলেন, গতকাল রাত ৮টার দিকে আমাকে ফোন করে ইউনিয়ন কার্যালয়ে ডাক দেয় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সুজাউদ্দিন। তবে ব্যস্ততা থাকায় আমি যেতে পারিনি।  এরপর আমাকে জামায়াত নেতা ইউনিয়নের সেক্রেটারি এনামুল, যুব নেতা আরিফুল, জামিল, সোহাগ মটর সাইকেলে এসে বাড়ির সামনে থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের সাথে যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করে এবং আমার ফোনটি ভেঙে ফেলে।

    তিনি বলেন, একপর্যায়ে আমাকে চ্যাংদোলা করে বাইকে উঠিয়ে নিয়ে কাছারীবাড়ি ইউনিয়ন কার্যালয়ে নিয়ে কয়েকঘণ্টা বসিয়ে রাখে।  এসময় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল্লাহ, ইউনিয়ন আমীর মাস্টার নুর কামাল মামলার হুমকি এবং পুলিশের হাতে উঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানায়।

    তিনি আরো বলেন, আমি লেখাটি লেখার পর বুঝতে পারি যে এটা ঠিক হয়নি। যেকারণে ওই পোস্টটি ডিলিট করে দেই এবং অন্য পোস্টের মাধ্যমে সকলের কাছে ক্ষমা চাই। এরপরও সকলের সামনে দিয়ে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে মারপিট করে। আমাকে যখন মারা হয় তখন সেখানে আমার অনেক ছাত্রও ছিলো। আমি লজ্জায় কুঁকড়ে মরে যাচ্ছিলাম।  এরপর ওই ঘটনা যাতে কাউকে না বলি সেজন্য আমাকে অব্যহতভাবে মুঠোফোনে চাপ দিতে থাকে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকালে ওই শিক্ষককে থানারও ওসি এবং ইউএনও ডেকে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে। সেখানে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, থানার ওসি এমদাদুল হক, ইউএনও রুলি বিশ্বাস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপর কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের বিষয়ে ওসি ইমদাদুল হক বলেন, ওই শিক্ষকের পোস্টকে ঘিরে জামায়াত নেতারা ক্ষুব্ধ ছিলো। সেজন্য শিক্ষককে ডেকে এনে পোস্ট ডিলিটসহ এ ধরনের কর্মকান্ড না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল্লাহ মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাকে মারপিট করা হয়নি।  তাকে ডেকে এনে পোস্টের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিলো।  তিনি রাজি না হওয়ায় বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

  • সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেঘনা পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেড ফ্যাক্টরির ৬ তলা একটি ভবনে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে টিস্যু তৈরির মেশিনারিজ সামগ্রী, কাঁচামাল, গোডাউনে মজুদ রাখা মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুনে তাদের ছয় তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকলবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো ভবনে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ টিস্যু পেপার ফ্যাক্টরির গোডাউনে সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা একে একে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সোনারগাঁ, গজারিয়া, গজারিয়া বিসিক ফায়ার স্টেশন, বন্দর, কাঁচপুর ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।

    এছাড়া মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ৬ তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জিএম (কোম্পানি এ্যাফেয়ার্স) খন্দকার শফিকুল আলম জানান, আগুনে টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ফ্লোরের সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, আগুনে তাদের ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ সামগ্রী ও মালামাল পুড়ে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন জানান, সকাল সোয়া ৫ টার দিকে ফ্রেশ টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে ৫ টার মধ্যে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।

  • মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে: এ্যানি

    মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে: এ্যানি

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংস্কারের জন্য তিন মাসের বেশি সময় দরকার হওয়ার কথা না। জনগণ দ্রুত নির্বাচন চায়। তাই আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে নির্বাচন দিতে হবে।

    সোমবার বিকেলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গুম-খুন ও গণহত্যার দায়ে বিচার দাবিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি গণসমাবেশের আয়োজন করে।

    জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নু, নির্বাহী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ জমাদ্দার ও সদস্য সচিব নাছির হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক শাহিন তালুকদার প্রমুখ।

    এ্যানি আরও বলেন, জনগণের জন্য আমরা আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াই করেছি। জনগণের জন্য দেশটা গড়তে চাই। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে কথায় ও কাজে মিল রাখা।

  • বিডিআরের নির্দোষ সদস্যদের চাকরি পুর্নবহালের দাবি

    বিডিআরের নির্দোষ সদস্যদের চাকরি পুর্নবহালের দাবি

    ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় জামালপুরের ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তরে কোনো বিশৃঙ্খলা বা বিদ্রোহের ঘটনা না হলেও ৫২ জন সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। চাকরির চিত্র বিডিআর এর সদস্যদেরকে চাকরিতে পুনর্বাহালের দাবি জানানো হয়েছে।

    সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যূত সাবেক বিডিআর সদস্যরা।

    চাকরিচ্যূত সদস্যদের পক্ষে হাবিলদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম লিখিত বক্তৃতায় জানান, ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সৈনিকরা অধিনায়কের নির্দেশ মোতাবেক অস্ত্রসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ডিউটিতে নিয়োজিত হয় এবং অধিনায়কের আদেশক্রমেই ডিউটি শেষে অস্ত্রাগারে অস্ত্র জমা করে।

    জামালপুর ব্যাটালিয়ন সদরে কোনো প্রকার ফায়ারিং বা অনাকাঙ্খিত ঘটনা সংঘটিত হয়নি, যা তৎকালিন জামালপুর জেলার ডিসি ও এসপি মহোদয় পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষ করেছেন।

    পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সেনা সদরে হাজির হওয়ার নির্দেশ আসলে অধিনায়ক ও উপঅধিনায়কের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সৈনিকদের মাঝে অধিনায়ক ও উপ-অধিনায়কসহ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালিন জামালপুর জেলার ডিসি আব্দুল মাবুদ এবং জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বক্তব্য দেন।

    এছাড়া জামালপুর ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের যাতে কোনো প্রকার হয়রানি না হতে হয় সে জন্য অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিজানুর রহমান মহোদয় ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়ন জামালপুরের কোনো প্রকার বিদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন, যা সবার মধ্যে বিতরণের জন্য নির্দেশ দেন। ওই ভিডিও সিডি এবং প্রত্যয়নপত্রের ফটোকপি আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ১৭ মে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক আ. মতিন জামালপুর সদর থানায় একটি মিথ্যা সি.আর মামলা করেন। ১৮ মে এ মামলায় জামালপুর ব্যাটালিয়ন সদর হতে ইউনিফরম পরা অবস্থায় ৪৪জন বিডিআর সদস্যকে গ্রেফতার করে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠান। মামলাটি পরবর্তীতে সরকারি আদেশে প্রত্যাহার করে নতুন করে স্পেশাল কোর্টের আদেশনামা স্পেশাল কোর্টের মামলা নং ০৫/২০১০।

    ২২ মাস পরে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ  স্পেশাল কোর্ট ৫২ বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ও জরিমানা করেন। কিন্তু বিগত ২২ মাসের হাজতবাস কারাদণ্ডের সহিত অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি বিধায় এতকিছু প্রমাণাদি থাকা সত্বেও নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করা অসম্ভব ছিল, অথচ রাইফেলস অর্ডার ১৯৭২ মোতাবেক বিচারের পূর্বে কোনো বিডিআর সদস্যকে জেলহাজতে পাঠানোর কোনো বিধান নেই।

    তিনি বলেন, বিশেষ আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও আদালত চলাকালিন কোনো কথা বলার অনুমতি ছিল না বিধায় প্রহসনের বিচারে নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করা অসম্ভব ছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদেরকে বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাজা সম্পূর্ন ভোগ করে মুক্ত হতে হয়েছে। আমাদের পরিবারগুলো অত্যন্ত গরিব যাহা সবারই জানা। চাকরির উপর নির্ভর করে আমাদের সংসার চালাতে হতো। চাকরি হারা হয়ে বর্তমানে আমাদের পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন জামালপুরের চাকরিচ্যুত নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যরা নিম্নবর্ণিত দাবিগুলো উপস্থাপন করছি।

    বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় নির্বাহী আদেশে বাতিল, চাকরিচ্যুত ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সব সৈনিকদের বেতনভাতা ও পূর্ণ সুযোগ সুবিধাসহ চাকরিতে পূর্ণবহাল, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ঢাকায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পূনরায় তদন্তপূর্বক দোষীদের বিচার যারা নির্দোষ তাদের মুক্তি দিয়ে চাকরিতে পূর্নর্বহাল, পিলখানার হত্যাকাণ্ডটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বিধায় তথাকথিত বিডিআর বিদ্রোহ কথাটি বাতিল করা ও বিশেষ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগকারী বিডিআর সদস্যরা যারা বিস্ফোরক মামলায় ১৬ বছর ধরে কারা অন্তরীন আছে, তাদেরকে অনতি বিলম্বে মামলা হতে অব্যাহতি পূর্বক মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তারা।