Author: bangladiganta

  • শেখ হাসিনার ভুয়া দাবি: গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি

    শেখ হাসিনার ভুয়া দাবি: গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার (২৩ নভেম্বর) একটি অডিও রেকর্ড প্রচার করা হয়। সেই রেকর্ডে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে মূলত দাবি করা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

    ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। রিউমার স্ক্যানার রোববার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

    রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিওতে শেখ হাসিনা বলেন:

    ‘আবু সাঈদ গুলি খাওয়ার পর তার সঙ্গী–সাথিরা যে তাঁকে টেনে নিয়ে গেল, কোথায় নিয়ে গেল? যার গুলি লাগবে, তাকে তো সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা। হাসপাতালে নিলে, অপারেশন করবে, বুলেট বের করবে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে। আবু সাঈদকে কিন্তু  হাসপাতালে নেয় নাই। নিয়েছিল চার-পাঁচ ঘণ্টা পরে। চার-পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার পর, ডাক্তাররা যখন চিকিৎসা করে, তখন সে মৃত্যুবরণ করে।’

    শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে মূলত দাবি করা হয়েছে যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

    ফ্যাক্ট চেক

    রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং বেলা ২টা ১৮ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিস্তেজ হয়ে রাস্তায় ঢলে পড়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়। তিনটার দিকেই রিকশা করে তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছানো হয়।

    রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই দ্য ডেইলি স্টার-এ বিকেল ৪টা ১ মিনিট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেদিন বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আবু সাঈদ নিহত হন। ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন বেলা ২টার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আহত হন আবু সাঈদ। পরে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশিকুল আরেফিন।

    পরে রিউমার স্ক্যানার টিম অনুসন্ধানে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় ঢলে পড়ার মুহূর্তের সময় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঘটনার দিন বেলা ২টা ১৬ মিনিটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ফেসবুক পেজের একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই লাইভ ভিডিওটির ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হতে, ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তাঁকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে এবং ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে কয়েকজন ব্যক্তিকে তাঁকে (সাঈদ) তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। লাইভ ভিডিওর টাইমলাইন অনুযায়ী, আবু সাঈদ বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নিস্তেজ অবস্থায় রাস্তায় ঢলে পড়েন।

    আরও অনুসন্ধানে ‘Fahmed Riad’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সেদিন ১৬ জুলাইয়ের পোস্টে রিকশায় আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ের একটি ছবি পাওয়া যায়, যার টাইমফ্রেমে ছবিটি ২টা ২৭ মিনিটে তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    অপর দিকে বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এক প্রতিবেদনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রমাণপত্রের ছবি পাওয়া যায়। প্রমাণপত্র অনুযায়ী, আবু সাঈদকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে ঢাকা পোস্টের একটি প্রতিবেদনেও মৃত্যুর প্রমাণপত্রের অন্য একটি ছবি পাওয়া যায়।

    দৈনিক ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে ৪টা ১৩ মিনিটে আবু সাঈদের মৃত্যুর ব্যাপারে হাসপাতালের মৃত্যুর প্রমাণপত্রের তথ্যের বরাতে লেখা হয়, আবু সাঈদকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়।

    রিউমার স্ক্যানারের সৌজন্যে

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক পেজ BRUR Campus এ ‘সরাসরি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে’ শিরোনামে বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটের একটি লাইভে শিক্ষার্থীদের আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রতিবাদে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করতে করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে মূল সড়কে আসতে দেখা যায়।

    উপরিউক্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৪-৫ ঘণ্টা পর নয়, বরং সেদিন গুলিতে নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং বেলা ৩টার দিকে রিকশা করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আবু সাঈদের মৃত্যু

    আবু সাঈদের মৃত্যুর ২ মাস ৮ দিন পর প্রকাশিত আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঈদের মুখ থেকে ঊরু পর্যন্ত ছিল ছররা গুলির চিহ্ন। ছররা গুলি ঢুকে তাঁর শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি করেছিল। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মাথার বাঁ দিকেও আঘাতের কারণে রক্ত জমাট ছিল।

    ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবু সাঈদের খাদ্যনালি ও ঊরুর রক্তনালি জখমের কারণে রক্ত জমাট বাঁধে। এই রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদ শকে চলে যান ও মৃত্যু ঘটে।

    ময়নাতদন্তের বিষয়ে চিকিৎসক রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘অসংখ্য ছররা গুলির আঘাতে আবু সাঈদের শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয় এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আপনারা দেখেছেন যে সাঈদ ডান পায়ে হাত দিয়ে পড়ে গিয়েছিল। তাঁর ডান ঊরুতেও ছররা গুলি লেগেছিল। সেখানে ফিমোরাল আর্টারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। তলপেটেও গুলির আঘাত ও রক্তক্ষরণ পেয়েছি। এসব আঘাতের কারণে শক ও রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।’

    আবু সাঈদের মাথায় আঘাতের বিষয়ে রাজিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর মাথার বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেটি তিনি পড়ে গিয়ে বা পারিপার্শ্বিক অন্য কারণে হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর কারণ নয়। তাঁকে গুলি করা না হলে তাঁর মৃত্যু হতো না।

    উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বরে ভিন্ন এক শিক্ষার্থীর ছবিকে আবু সাঈদের দাবি করে তাঁর মৃত্যু নিয়ে অপতথ্য প্রচার হলে সে বিষয়ে একটি ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমার স্ক্যানার টিম। সে সময় ওই পোস্টগুলোতেও আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করা হয়েছিল, যা ওই ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে অসত্য হিসেবে শনাক্ত করে রিউমার স্ক্যানার।

    সবশেষে রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুতরাং গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি মিথ্যা।

  • এজলাস থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যারিস্টার সুমন

    এজলাস থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যারিস্টার সুমন

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতে তোলার সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক কামরুল হাসানের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এ সময় এজলাস থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

    এর আগে ব্যারিস্টার সুমনকে আদালতে তোলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দুপুর ১টার দিকে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনে প্রবেশের সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার শাস্তি চেয়ে নানা স্লোগান দেন। এ সময় শত-শত মানুষের ভিড় থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

    পুলিশের দাবি জানায়, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার ঢল নামে। সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের নির্দেশে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন। এ ঘটনার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার চন্দনা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে ব্যারিস্টার সুমনসহ ১৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিটন রায় জানান, ১৬ জুলাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর চুনারুঘাট থানায় করা মামলায় ব্যারিস্টার মনকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে আবেদন করলে বিচারক মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    হবিগঞ্জ আদালতের এপিপি নূরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

  • রুশ হামলার আশঙ্কায় কিয়েভে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    রুশ হামলার আশঙ্কায় কিয়েভে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইউক্রেনের কিয়েভে থাকা মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    মার্কিন দূতাবাস বুধবার এক জরুরি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, রাশিয়া ‘একটি উল্লেখযোগ্য বিমান হামলার’ পরিকল্পনা করছে। তাই দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিমান হামলার সতর্কতা ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবনের একটি দৈনন্দিন সত্য। রাজধানী কিয়েভ ঘন ঘন রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। তবে দূতাবাস খুব কমই এই ধরনের সতর্কতা জারি করে।

    এর একদিন আগেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালায়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (অ্যাটাকমস) দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে হামলা চালায় ইউক্রেন।

    অন্যদিকে, এ হামলার পর ক্রেমলিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এ ধরনের যেকোনো হামলার জন্য তারা ‘উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব’ দেবে

    মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ‘আমরা এটিকে পশ্চিমাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছি এবং আমরা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাব।’

    কিয়েভে মার্কিন দূতাবাস সম্ভাব্য আক্রমণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি, তবে শহরটিতে মার্কিনিদের বিমান হামলার সতর্কতার ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ সকাল ৮টার কিছু আগে রাজধানীতে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    নগর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধে এক হাজার দিনের মধ্যে কিয়েভে প্রায় ১ হাজার ৩৭০টি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা মোট ১,৫৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে।

    শহরের সামরিক প্রশাসনের সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা গেছে, এ সময়কালে কিয়েভ লক্ষ্য করে আড়াই হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে অর্ধেক হামলার ঘটনা ঘটেছে এ বছরই।

     

  • যুক্তরাষ্ট্র তহবিল না দিলে যুদ্ধে হারবে ইউক্রেন, স্বীকারোক্তি জেলেনস্কির

    যুক্তরাষ্ট্র তহবিল না দিলে যুদ্ধে হারবে ইউক্রেন, স্বীকারোক্তি জেলেনস্কির

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটনের অর্থ সমর্থন না পেলে যুদ্ধে পরাজিত হবে ইউক্রেন। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। খবর বিবিসির

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। তবে ২০২৪- এর নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ডেমোক্রেট দলের। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, তার আগেই এমন শঙ্কার কথা জানালেন জেলেনস্কি।

    ফক্স নিউজকে ইউক্রেনের নেতা বলেন, ‘ইউরোপে যদি আমরা ঐক্য হারাই, তা হবে খুবই বিপজ্জনক, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে– যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের একতা।’

    ফক্স নিউজ ট্রাম্পকে সমর্থনকারী একটি ডানপন্থী গণমাধ্যম। ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে ওয়াদা করেন যে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইউক্রেনের পেছনে ব্যয় করা বন্ধ করবেন তিনি। যুদ্ধের পেছনে অর্থশ্রাদ্ধ না করে– তা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জীবনমান আরও উন্নত করা হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

    এই প্রেক্ষাপটে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্বীকার করেন যে, ‘অর্থ সাহায্য বন্ধ করা হলে, মনে হয় আমরা হেরে যাব। যেকোনোভাবেই হোক আমরা অবশ্যই থাকব, যুদ্ধ করব, আমাদের নিজস্ব (সমরাস্ত্র) উৎপাদন ব্যবস্থাও আছে – তবে অবশ্যই সেটা জেতার জন্য যথেষ্ট নয়, এমনকী টিকে থাকার পক্ষেও পর্যাপ্ত না।’

    যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাজী করাতে পারবেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা ততোটা সহজ হবে না, তবে তিনি পারবেন, কারণ তিনি পুতিনের চেয়ে শক্তিশালী।’

    ব্যাখ্যা করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর কাছে অপরিমেয় শক্তি, কর্তৃত্ব ও অস্ত্রসজ্জা রয়েছে। তিনি চাইলে, যেকোনো জ্বালানি সম্পদের দামের পতন ঘটাতে পারবেন। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস হচ্ছে জ্বালানি খাত।

    এর আগে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাটাকমস মিসাইল ব্যবহারের অনুমতি দেয় বাইডেন প্রশাসন। অনুমতি পাওয়ার একদিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার তা ব্যবহারও করেছে ইউক্রেন।

    ইউক্রেনকে অ্যান্টি-পার্সোনাল ল্যান্ড মাইন-ও সরবরাহ করেছে বাইডেন প্রশাসন। যা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

    তবে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, রুশ সেনারা সম্মুখভাগের বিভিন্ন অবস্থানের দখল নিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক – ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)।

  • ৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা

    ৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা

    সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার গত ছয় বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

    আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সংস্থাগুলো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ব্যয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।

    উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে মুজিববর্ষ উদ্‌যাপনের জন্য সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তৎকালীন সরকার ২০২০–২১ বছরকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছিল। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এই বর্ষ উদ্‌যাপিত হয় (১৭ মার্চ ২০২১ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এক বছর বাড়ানো হয়েছিল)।

    শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।

    শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন করে।

    রাজনীতিক, আমলা, সেনা সদস্য, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ সদস্যের জাতীয় কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ‘মুজিব বর্ষ’-শুরু হয়। এ উপলক্ষে জাতীয় উদ্‌যাপন কমিটির উদ্যোগে সরকারের সকল দপ্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো আলাদা আলাদাভাবেও উদ্‌যাপন করে।

    কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক অনুষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শেখ মুজিবের ওপর ডিজিটাল ভিডিও ও ছবি সম্বলিত প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়। এর পাশাপাশি তাকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ, সংকলনগ্রন্থ, স্যুভেনিয়র প্রকাশ করা হয়।

    এছাড়াও, ‘মুক্তির মহানায়ক’- শীর্ষক উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠান এবং ‘মুজিব চিরন্তন’- নামের ১০ দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এছাড়া মুজিববর্ষের বিশেষ ওয়েবসাইট চালু, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ, ১০০ দিনব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ‘শতবর্ষ’ নামে বিশেষ মোবাইল প্যাকেজ সংযোগ বিনামূল্যে প্রদান এবং নামমাত্র মূল্যে বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ ঘোষণা এবং যোগাযোগ অ্যাপ ‘আলাপ’ চালু করা হয়। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করে।

    ২ দিনব্যাপী ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান এবং ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’-শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

    ২০২২ সালের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব বর্ষ সমাপ্ত হয়।

    প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মুজিববর্ষ’ ২০২০ সালের ১৭ই মার্চে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ই মার্চ পর্যন্ত পালন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে এর সময় ২০২১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পরে সরকার পুনরায় মুজিব বর্ষের সময়কাল ও ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি’ ও ‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করে।

    মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক সময় গণনা শুরু হয় ২০২০ সালের ১০ই জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে। মুজিববর্ষের লোগোর নকশা করেন সব্যসাচী হাজরা। ‘তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর আকাশে-বাতাসে বজ্রকণ্ঠ, তোমার কণ্ঠস্বর’-এই ছিল মুজিববর্ষের আবহ সঙ্গীত।

    এ বিষয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বুধবার রাতে টেলিফোনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে দেশের জন্য শেখ মুজিবের যে অবদান সেটাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার দল আওয়ামী লীগ ও তার মেয়ের কর্তৃত্ববাদী সরকার। মুজিব বর্ষের ব্যয় হয়েছে একক বা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। জবাবদিহিহীনভাবে রাষ্ট্রের সম্পদ পরিবার ও দলের স্বার্থে অপব্যবহার করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ও জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী সেটা রাজনীতিক, আমলা, মুজিব বর্ষের কাজের ঠিকাদার, ভেন্ডরদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার আর না হয়।’

  • আন্তর্জাতিক অপরাধ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়নি

    আন্তর্জাতিক অপরাধ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়নি

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। তবে এতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়নি।

    ট্রাইব্যুনালে দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রেখে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাবনা তোলা হলেও ওই বিধানটি যুক্ত হয়নি। তবে সরকার চাইলে প্রচলিত আইনে বিদ্যমান দল বা সংগঠন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

    আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অধ্যাদেশের বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠক শেষে এদিন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর খসড়া গৃহীত হয়েছে। তবে, আমরা আইনের যে সংশোধনী করেছিলাম, উপদেষ্টা পরিষদ মনে করেছে যে, এই অধ্যাদেশের আওতায় ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে সংগঠনকে শাস্তি দেওয়া দরকার, তাহলে তারা সুপারিশ করতে পারবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে।’

    তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদ বলেছে আমরা এই বিচারকে অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে চাই না। রাজনৈতিক দল বা কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা প্রশ্ন এলে, এই আইনকে অযথাই প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে। আমরা এই সুযোগ দিতে চাই না। এজন্য এ বিধান বাতিল করা হয়েছে।’

    ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার দাবি আসে বা প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের অন্যান্য আইন আছে। তাই ট্রাইব্যুনালে এ বিধান থাকছে না বলে রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকল না, এমন কিছু না, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্যান্য প্রচলিত আইনে পরে বিবেচনা করা যাবে,’ বলেন আইন উপদেষ্টা।

    গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের লক্ষে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন প্রণয়ন করা হয়।

    আইন ও বিচার বিভাগ পরে আন্তর্জাতিক অপরাধের সংজ্ঞা যুগোপযোগীকরণ, অপরাধের দায় নির্ধারণ, অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচার, বিদেশি কাউন্সেলের বিধান, বিচারকালে অভিযুক্তের অধিকার, অন্তবর্তীকালীন আপিল, সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত বিধান, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক তল্লাশি ও জব্দ করার বিধান, পর্যবেক্ষক, সাক্ষীর সুরক্ষা, ভিকটিমের অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার বিধান সংযোজন করে এর খসড়া তৈরি করে।

    বর্তমানে সংসদ না থাকায় এ অবস্থায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার করতে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

  • আইসিটি’র বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচারের অনুমতিসহ আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

    আইসিটি’র বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচারের অনুমতিসহ আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)  আইন, ১৯৭৩ সংশোধনের খসড়া অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    বুধবার (২০ নভেম্বর) সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের ১৩তম বৈঠকে অধ্যাদেশটির নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন করা হয়।

    ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আনা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রচলিত বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এ আইনের বিচারকাজ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সুপারিশের আলোকে আইসিটি আইনের আরও সংশোধন সমীচীন ও আবশ্যক,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

    আইন ও বিচার বিভাগ এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ প্রস্তাব করেছে।

    অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য

    নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধের সংজ্ঞা যুগোপযোগীকরণ, অপরাধের দায় নির্ধারণ, এবং অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচার সুযোগ তৈরি করা হবে।

    এছাড়া বিদেশি কাউন্সেল-এর বিধান, বিচারকালে অভিযুক্তের অধিকার, অন্তবর্তীকালীন আপিল, সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অধ্যাদেশে।

    অধ্যাদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক তল্লাশি ও জব্দ করার বিধান, পর্যবেক্ষক, সাক্ষীর সুরক্ষা, ভুক্তভোগীর অংশগ্রহণ ও সুরক্ষা বিষয়ক বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।

    আইন ও বিচার বিভাগ মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষাবিদ, অংশীজন, সরকারি বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অধ্যাদেশটির খসড়া প্রস্তুত করেছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগীকরণের বিষয়ে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে, সেহেতু’ এ অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • একাত্তরের ভুল প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব: জামায়াত আমির

    একাত্তরের ভুল প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব: জামায়াত আমির

    একাত্তরের ভুল যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, একাত্তরে আমরা কোনো ভুল করে থাকলে এবং তা যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইব। ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের নামে যে বিচার হয়েছে তার অবজারভেশনে এখানকার বিচারপতিরা সে রায়কে জেনোসাইড অব জাস্টিস বলেছে।

    গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিন। এ অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিল। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রত্যেকেই যার যার সাধ্য অনুযায়ী আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন।

    তিনি বলেন, জাতিগতভাবে অনৈক্য এবং দুর্নীতির কারণে আমরা জাতি হিসেবে আগাতে পারিনি। দুর্নীতি আমাদের জন্য একটি জাতীয় লজ্জার বিষয়। যুক্তরাজ্য নিজেদের দুর্নীতি থেকে অনেকটা মুক্ত রাখতে পারার কারণে সারা বিশ্বে নিজেদের একটা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু আমরা পারিনি। যারা সমাজ পরিচালনা করবেন তারা পরিচ্ছন্ন না হলে সমাজ পরিচ্ছন্ন হবে না।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। আবু সালেহ ইয়াহইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম উদ্দিন এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসাইন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার অর্ধশতকেরও বেশি সাংবাদিক এতে অংশ নেন।

  • নতুন আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী

    নতুন আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাহারুল আলম। আর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেখ সাজ্জাদ আলী। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তাদের নিয়োগের কথা জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

    জানা গেছে, বর্তমান আইজিপি মো. ময়নুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বাহারুল আলম। তিনি ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানসহ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তি রক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে দায়িত্ব পালন করেন বাহারুল আলম।

    অন্যদিকে সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ১৯৮৪ সালে পুলিশে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একসময় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তাছাড়া সাজ্জাত আলী লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ গঠন হলে সেখানেও ডিআইজির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

    ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যে ডিএমপি কমিশনার করা হয়েছিল মো. মাইনুল হাসানকে।

  • ‘ফিলিস্তিনের পতন হলে ইরান, সৌদি ও তুরস্ক হবে পরবর্তী টার্গেট’

    ‘ফিলিস্তিনের পতন হলে ইরান, সৌদি ও তুরস্ক হবে পরবর্তী টার্গেট’

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসির সাবেক এক প্রধান কমান্ডার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননের দেশগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে পারলে ইসরায়েল সরকার ও তার মিত্ররা ওইসব দেশসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশকে টার্গেট করা শুরু করবে।

    ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে।

    গাজায় ইসরায়েলি সরকারের গণহত্যা ও লেবাননে হত্যাযজ্ঞে অন্তত ৪৩ হাজার ৯৭২ জন ফিলিস্তিনি এবং ৩ হাজার ৫৪৪ জন লেবাননের মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য এলো।

    ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি গণহত্যার পেছনে সরাসরি মদদদাতা’

    ইসরায়েল নৃশংস সামরিক আক্রমণে সবচেয়ে নিবেদিত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মোহসেন রেজায়ি।

    ইসরায়েলি ‘যুদ্ধ মনোভাবের’ কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রেজায়ি বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে শত্রুরা তথাকথিত বার্তা দিতে চায় যে, ‘পশ্চিম এশিয়া হয় তাদের জন্য একটি জায়গা অথবা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের।’

    যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলি গণহত্যার পেছনে সরাসরি মদদদাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে তারা সাম্রাজ্যবাদ ও তথাকথিত ‘পরাশক্তির মর্যাদা’ দীর্ঘায়িত করতে চায়।

    ইরান এসব ‘সহ্য করে না’

    তবে ইরান এসব ‘সহ্য করে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের রক্ষা করার বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির মধ্যে নেই।’ আঞ্চলিক প্রতিরোধ ফ্রন্টকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানান তিনি।

    ‘মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের’ সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে মন্তব্য করে এই কর্মকর্তা বলেন, এই দুই দেশের অপরাধ বিশ্বের চোখে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং সময়ের সাথে সাথে আরও প্রতিক্রিয়া আসবে।

    তিনি বলেন, তাই ইরানের অভ্যন্তরে বিপ্লবী শক্তিসমূহের উচিত গাজা ও লেবাননের জনগণকে সাহায্য করার প্রচেষ্টায় তাদের সকল সামর্থ্য উৎসর্গ করা।

    ‘ইসরায়েলের সন্ত্রাসী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের প্রযুক্তি’

    রেজায়ি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশ সামরিক আগ্রাসন পরিচালনার সময় তাদের (ইসরায়েলকে) সব ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেয়। ইহুদিবাদী সরকার ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের বিরুদ্ধে যেসব সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে, তা এক সপ্তাহ আগে আমেরিকান অস্ত্র কারখানায় তৈরি করা হয়েছে।

    এই কর্মকর্তা ইসরায়েলি আগ্রাসনকে একটি অভূতপূর্ব ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’ হিসাবে বিবেচনা করেন। রেজায়ি বলেন, বর্তমান যুদ্ধে আমরা যা সাক্ষ্য দিচ্ছি তা হলো হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা।