Author: bangladiganta

  • আইজিপির বাসভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    আইজিপির বাসভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    বদলি-পদোন্নতির তদবিরের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বাসায় পুলিশ সদস্যদের যাতায়াতের সুযোগ আর থাকছে না। বর্তমান আইজিপি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বদলি বা পদোন্নতির তদবিরের জন্য তার বাসভবনে অনুমতি ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার বাসভবনে যাওয়ার আগে অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। 

    পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আইজিপির বাসায় প্রায়ই পুলিশ সদস্যদের ভিড় থাকতো। তারা বিভিন্ন দাবি কিংবা তদবির নিয়ে যেতেন আইজিপির বাসায়। এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতো। বর্তমানে সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া এখন আইজিপির বাসভবনে কোনও পুলিশ সদস্য যেতে পারবেন না।

    শনিবার (২৩ নভেম্বর) পুলিশ সদর দফতর  অতিরিক্ত ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    আদেশে বলা হয়, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সাক্ষাতের জন্য বাসভবনে যেতে হলে পূর্বানুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    আদেশের কপিটি পাঠানো হয়েছে, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন), র‍্যাব মহাপরিচালক, সিআইডি প্রধান, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান, আর্মড পুলিশের প্রধান, সারদা পুলিশ একাডেমি, নৌ পুলিশের প্রধান, ডিএমপি কমিশনার, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান, এসবি প্রধান, শিল্পাঞ্চল পুলিশ প্রধান, পিবিআই প্রধান, এটিইউ প্রধান এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল।

    এছাড়াও সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপারদের আদেশের কপিটি পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান বাহারুল আলম।

  • নির্বাচিত সরকারই দেশকে পুনর্গঠন করতে পারে: তারেক রহমান

    নির্বাচিত সরকারই দেশকে পুনর্গঠন করতে পারে: তারেক রহমান

    জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বেছে নেয়া নির্বাচিত সরকারই দেশকে পুনর্গঠন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

    রোববার এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বেছে নেয়া একটি নির্বাচিত সরকারই দেশকে পুনর্গঠন শুরু করতে পারে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সম্মান করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও জনগণের সেবা করতে হবে। উভয় পক্ষকেই সরকারে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে, যাতে সবার জন্য সমতা, অংশগ্রহণমূলক ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে বাংলাদেশ।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, আওয়ামী লীগ যে ভঙ্গুর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গেছে নিজেদের আখের গোছানোর জন্য, তা ততই তীব্র হবে। সমাজে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা, কৃষক যে সমস্যার মুখোমুখি, ব্যবসায় যে চ্যালেঞ্জের মুখে, বিচার বিভাগে এবং সরকারি কর্মক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বিদ্যমান, তাতে আমরা একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে এগুতে পারবো না।

  • তারেক রহমানের নামে মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ফারুকের

    তারেক রহমানের নামে মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ফারুকের

    বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, তিন মাস অতিবাহিত হলো। এখনো কেন তারেক রহমান দেশে আসতে পারেনি? এখনো কেন তার নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হলো না? সরকারের কাছে প্রত্যাশা তারেক রহমানসহ যাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, সব মামলা প্রত্যাহার করুন।

    রোববার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নবীন দল আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকারের কাছে সবাই দাবি জানায়। তবে এমন কোনো দাবি করা উচিত নয় যাতে জনগণের মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। জনগণের জন্য যেসব দাবি, সেসব দাবি নিয়ে কথা বলার অধিকার ৫ আগস্টের পরে এ সরকার দিয়েছে। দুই হাজারের ওপরে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে আমাদের কথা বলার অধিকার দিয়েছে। তাই এ সরকারের বিরুদ্ধে এখনই কথা বলার সময় নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে। তারা তাদের ভোট দিতে পারবে। তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারবে। তাই আর দেরি নয়। দেরি করলেই ষড়যন্ত্র শুরু হবে। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) সংস্কার করুন। তবে এমন সংস্কার করবেন না যাতে নির্বাচন দেরি হয়ে যায়।

    নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, গণতান্ত্রিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু, নবীন দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ।

  • নির্বাচন কবে, সেই ঘোষণা হবে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে, বাকিদের কথা ব্যক্তিগত: প্রেস উইং

    নির্বাচন কবে, সেই ঘোষণা হবে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে, বাকিদের কথা ব্যক্তিগত: প্রেস উইং

    আগামী নির্বাচন কবে হবে, তা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে। এ নিয়ে বাকিরা যাঁরা কথা বলছেন, সেগুলো তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত। এ কথা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

    আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এখন মানুষের জানার আগ্রহ, কবে নির্বাচন হতে পারে। এর মধ্যে একজন উপদেষ্টা লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচন হতে পারে, যা গণমাধ্যমে এসেছে। আসলে নির্বাচন কবে হতে পারে?

    এই প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা বা তাঁর দপ্তর থেকে নির্বাচনের কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের তারিখ তিনিই ঘোষণা দেবেন এবং তাঁর পক্ষ থেকেই দেওয়া হবে। বাকি যাঁরা বলেছেন, তা নিজেদের মতামত।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার আরেক উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, প্রত্যেকে তাঁর মতামত দিতে পারেন। কিন্তু সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে সম্পূর্ণ আইন মেনে।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বলেন, গুম কমিশন সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি বা জমা দেয়নি। কিছুদিন আগে প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা মিলে গুম কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তাঁরা একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেবেন। তার ভিত্তিতে সরকার যদি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন মনে করে, তাহলে ব্যবস্থা নেবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান চায় জানিয়ে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

    এ বিষয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে আজাদ মজুমদার বলেন, বিষয়টি যেহেতু এখন আদালতে আছে, আইনি প্রক্রিয়াতেই সরকার এর সমাধান চায়।

    ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরসহ সাংবাদিকদের হয়রানি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। নিউ এজ সম্পাদকের ঘটনার বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, অন্য কোনো বিষয়েও যদি সরকারের নজরে আনা হয়, তাহলে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নজরে আনা না হলেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনে কাজ করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত তালিকা সংশোধন করার জন্য ‘ম্যানুয়ালি’ (হাতে-কলমে) কাজ করা হচ্ছে। তাঁরা আশা করছেন, এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

    এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এখানে ভিন্নমতের ব্যক্তি বা সাংবাদিকদের নাম থাকবে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বলে ওনাকে বিদেশে গমনে বিরত রাখতে হবে বা আদালতের আদেশ থাকে। এই পুরো বিষয়গুলো যাতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে থাকে। তিনি বলেন, ‘একটি স্বচ্ছ নীতিমালা, যেটা আপনিও জানতে পারবেন, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকও এই বিষয়টি জানতে পারবেন।’

  • এ আর রাহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন সায়রা

    এ আর রাহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন সায়রা

    গত কয়েক দিনে নেটপাড়া উত্তাল অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান ও সায়রা বানুর বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা নিয়ে। স্ত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে তাঁর ২৯ বছরের দাম্পত্যজীবন শেষ হচ্ছে—এমন ঘোষণায় অবাক ভক্ত-অনুসারীরা। বিচ্ছেদ নিয়ে তুমুল চর্চার মধ্যে মুখ খুললেন সায়রা।
    রাহমান নিজেও ভেবেছিলেন একসঙ্গে ৩০তম বর্ষে পদার্পণ করবেন। কিন্তু তা আর হলো কই। এর মাঝে নয়া গুঞ্জন রাহমানের দলের বেসিস্ট মোহিনীকে ঘিরে। কারণ, রাহমানের বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার ঘণ্টাখানেকের মাথায় তিনিও নিজের স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে ঘোষণা করেন, তাঁরা আলাদা হচ্ছেন। এর পর থেকে মোহিনী ও রাহমানের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন অনেকে। ইতিমধ্যেই চেন্নাই ছেড়েছেন সায়রা বানু। মুম্বাইয়ে রয়েছেন তিনি।

    রাহমান ও মোহিনীকে নিয়ে ক্রমাগত যে ধরনের তথ্য প্রকাশ্যে আসছে, তাতে বিরক্ত পরিবার। ইতিমধ্যেই বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন ছেলেমেয়েরা। রাহমান নিজেও এ ধরনের তথ্য মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নয়তো মানহানির মামলা করবেন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সায়রা বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরেই আমি অসুস্থ। সেই কারণে চেন্নাই ছেড়ে মুম্বাইয়ে এসেছি। আমি সবকিছু থেকে বিরতি নিতে চেয়েছিলাম আসলে। সব ইউটিউবার ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অনুরোধ করছি রাহমানের নামে কোনো খারাপ কথা বলবেন না। তাঁর কোনো দোষ নেই। তাঁর মতো মানুষ হয় না। আমার দেখা সেরা মানুষ।’

    শেষে সায়রার সংযোজন, তিনি কেবলই শারীরিক অসুস্থতার জন্য চেন্নাই ছেড়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি জানতাম, আমি চেন্নাইতে না থাকলেই লোকজন ভাববে, সায়রা কোথা গেল? আসলে আমার চিকিৎসা চলছে। চেন্নাইতে রাহমানের এত ব্যস্ততা থাকে যে ওখানে থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমি রাহমান কিংবা ছেলেমেয়েদের বিরক্ত করতে চাইনি।’

    এই বিচ্ছেদ নিয়ে এ আর রাহমানের স্ত্রীর আইনজীবী বন্দনা শাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিক্ততা এই বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ। উভয় পক্ষই আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন মিটিয়ে নিতে। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়।

    ফলে দীর্ঘ দাম্পত্যের পর এই সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট কষ্ট হয়েছে তাঁর। কিন্তু সায়রা অপারগ। তাঁদের বিচ্ছেদের পর বিপুল অঙ্কের খোরপোশ পাবেন সায়রা, এই নিয়ে ইতিমধ্যে নানা কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

  • ইসরায়েলে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল হিজবুল্লাহ

    ইসরায়েলে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল হিজবুল্লাহ

    ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রায় আড়াই শ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। রোববার রাতে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, এদিন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও তেল আবিব লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।

    এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, প্রথমবারের মতো তারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে আশদ নৌঘাঁটিতে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। পরে সংগঠনটি আবার জানায়, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে তেল আবিবের একটি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া তেল আবিবের উপকণ্ঠে গ্লিলট সেনাবাহিনী গোয়েন্দা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা।

    হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে প্রথমে এ সম্পর্কে এএফপির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এর আগে তারা জানায়, তেল আবিবের উপকণ্ঠসহ উত্তর-পূ্র্ব ও মধ্য ইসরায়েলের একাধিক জায়গায় সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশপথে হামলা হলে এমন সাইরেন বাজানো হয়।

    পরে এএফপির সঙ্গে কথা হয় ইসরায়েলি বাহিনীর। তখন তারা জানায়, হিজবুল্লাহর ছোড়া প্রায় আড়াই শ ক্ষেপণাস্ত্র লেবানন থেকে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। এর আগে রোববারই ১৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছিল তারা। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এর মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকতেই ধ্বংস করা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অন্তত চারটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে মোহাম্মদ আফিফ নামে হিজবুল্লাহর একজন মুখপাত্র নিহত হন। এরপর গত বুধবার এক বক্তৃতায় হিজবুল্লাহপ্রধান নাইম কাসেম বলেন, বৈরুতে ওই হামলার জবাব তেল আবিবে হামলার চালানো মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।

    চিকিৎসা সেবা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, রোববারের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর। আর ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীরের তুলকারেম শরণার্থীর শিবিরের কয়েকটি বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়)। এতে ১৩ জন আহত হন।

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে হামলা জোরদার করে ইসরায়েল। প্রথমে আকাশ পথে হামলা হলেও, পরে দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করেন ইসরায়েলের সেনারা। ইসরায়েলি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে হিজবুল্লাহ একদিনে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন ইসরায়েলে ৩৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

    ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। ২০০৬ সালে একবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে তারা। গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে দুই পক্ষ। প্রথমে তা সীমিত পর্যায়ে থাকলেও গত সেপ্টেম্বর থেকে তীব্র আকার ধারণ করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৬৭০ জন নিহত হয়েছেন।

  • তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বুটেক্স ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

    তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বুটেক্স ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিটাক মোড়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরা। রোববার রাত ১০টায় এ সংঘর্ষ শুরু হয় বলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী শামীমুর রহমান জানান।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির জেরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়। রাত ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। একপর্যায়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে বিটাক মোড়ে অবস্থান নিয়ে উত্তর দিকে বুটেক্স এবং দক্ষিণ দিকে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন।

    রাত পৌনে একটার সময়ও সেখানে উত্তেজনা চলছিল।

  • ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ শ্রম অধিকারের ১১ দফার বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ শ্রম অধিকারের ১১ দফার বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশে শ্রম অধিকার–সংক্রান্ত ১১ দফার দ্রুত বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র। এসব দফা বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধাও (জিএসপি) পাওয়া যাবে।

    আজ রোববার ঢাকায় সচিবালয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সফররত কেলি এম ফে রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমন আশাবাদের কথা শোনান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় বাণিজ্যসচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কত দ্রুত শ্রম অধিকারের এই ১১ দফা বাস্তবায়ন করতে পারি, সেটা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। এগুলো করতে পারলে আমরা অবশ্যই জিএসপি সুবিধা পাব।’

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি আলোচনায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের বিষয়ে জোর দেয়। এসব অধিকার এখনো আছে, তবে বিপরীতে রয়েছে নানা শর্ত। যুক্তরাষ্ট্র চায় শর্তগুলো শিথিল করা হোক। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব দফা বাস্তবায়নে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের একটি দল বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে যায়। ওই কর্মপরিকল্পনায় মোটাদাগে ১১টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রথমটিই হচ্ছে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, শ্রমিক ও শ্রম অধিকারকর্মীদের যাঁরা নিপীড়ন করেন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান, তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরপরই রয়েছে শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কাজ করে, এমন কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ ছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলো যে মানের অধিকার ভোগ করে, সে অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বিদ্যমান শ্রমবিধি সংশোধন।

    আরও যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর (ইপিজেড) শ্রমিকেরা যাতে পুরোদমে ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আইনের ৩৪ নম্বর ধারা সংশোধন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় (এসইজেড) সেটির প্রয়োগ এবং সেখানকার শ্রমিকেরা যাতে সংগঠিত হতে পারেন ও সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষিতে সক্ষম হন, তা নিশ্চিত করা; ট্রেড ইউনিয়ন করার আবেদনের প্রক্রিয়া ৫৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা; শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার বিদ্যমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে অপেক্ষমাণ থাকা সব আবেদনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ; বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও এ জন্য তহবিল বরাদ্দ দেওয়া; আরও শ্রম পরিদর্শকের পদ অনুমোদন এবং নিবন্ধন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার অভ্যাস বন্ধ করা ইত্যাদি।

    বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এসব বিষয়ে প্রধানত কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রমিকের জীবনযাপন, মানোন্নয়ন ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। আমরা সবাই এক লাইনেই কাজ করছি। আমরা আমাদের দিক থেকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে তাগিদ দিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা আমাদের শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যূনতম মজুরিসহ অন্যান্য বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন।’

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হয়, এ বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘কথা বলেছি। জিএসপি সুবিধা থাকলে এটা দিতে হতো না। বলেছি, জিএসপি সুবিধায় আমরা থাকতে চাই। শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্য রপ্তানির যে সুবিধা আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পাচ্ছি, সেটা আমরা সব জায়গায় চাচ্ছি। তাঁদেরও বলেছি। কিন্তু তাঁরা সেই লাইনে কোনো কথা বলেননি।’

  • নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করল জাতীয় নাগরিক কমিটি

    নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করল জাতীয় নাগরিক কমিটি

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত আইনের অধীনে গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে অন্তর্বর্তী সরকার ইসি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এটি গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের আগে ইসি গঠনের প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ওই বক্তব্য তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

    এদিকে আজই শপথ নিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অনুসন্ধান কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি গত বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে তৈরি আইনে এই নিয়োগ ও শপথের বিষয়েই বিরোধিতা জাতীয় নাগরিক কমিটির।

    সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে তৎকালীন অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের একটি আইন প্রণয়ন করেছিল, যা “প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন-২০২২” হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের ওই আইন তখন বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ওই আইনের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠনের সার্চ কমিটি গঠন করে। অথচ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই আইন বাতিল করাটাই যুক্তিযুক্ত হতো।’

    লিখিত বক্তব্যে এ–ও বলা হয়, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে সার্বিক প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা তাদের কাজ। বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন কাজ শুরু করেছে দুই মাসও হয়নি। তাদের প্রথম কাজই হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পদ্ধতি ঠিক করা। তারা কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগেই ইতিমধ্যে সরকার ইসি গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করে।

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও আইনটি বদলানোর পক্ষে বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, ইতিমধ্যে সংস্কার কমিশন একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছে, যা সরকারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সার্চ কমিটি গঠন করে ফেলায় এ কাজ আর এগোবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ইসি গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের আগে সংস্কার কমিশনের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তবে সার্চ কমিটি গঠিত হয়ে যাওয়ার পর এই দফায় কমিশন গঠনের জন্য নিয়োগের আইনটির সংস্কার অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

    সরকারের ইসি গঠনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় জাতীয় নাগরিক কমিটি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সরকার গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী জনগণের অভিপ্রায়কে পুরোপুরি ধারণ করতে পারছে না। আজও ফ্যাসিবাদী সরকারের রাষ্ট্রপতি বহাল রয়েছেন, যিনি গণহত্যাকারী হাসিনার হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর অধীনে কোনো ধরনের নিয়োগ বৈধ হতে পারে না। জাতীয় নাগরিক কমিটি অবৈধ রাষ্ট্রপতির অধীনে ফ্যাসিস্ট আইনি কাঠামোয় গঠিত নির্বাচন কমিশন প্রত্যাখ্যান করছে এবং অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনসহ আইনটি বাতিল করে নতুন আইনের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কালাকানুনের অধীনে ইসি গঠন করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করেছে।

    নির্বাচন কমিশন সংস্কারের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়েছে বলে জাতীয় নাগরিক কমিটির লিখিত বক্তব্যে মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, এ কাজ গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র ও জনগণ অভ্যুত্থানের শরিক। কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। জাতীয় নাগরিক কমিটি বলেছে, তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্য উপদেষ্টাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। ড. ইউনূস দৃঢ়তার সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবেন বলে শিক্ষার্থী, তরুণসমাজ ও অভ্যুত্থানের শরিকেরা প্রত্যাশা করেন।

    তিন মাসের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে এই সরকার ইতিমধ্যে কাজের ক্ষেত্র ও সীমা অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সরকার গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত। কাজেই সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ধারণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি করা যাবে না। এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্পন্ন না করে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিলে এই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ তিন মাসের বেশি সময়ে নিষ্পন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হবে, যা সরকারের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    নাগরিক কমিটি আরও বলেছে, ‘ড. ইউনূসকে মনে রাখতে হবে, তিনি ছাত্র-জনতার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। তরুণ শিক্ষার্থী সমাজসহ আপামর জনগণের কাছেই তিনি দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে সংস্কার হবে না, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনতে চাই না। জনগণ গণ–অভ্যুত্থানের স্পিরিটবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।’

    লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘এখনো সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এই সরকার জনগণের অভিপ্রায়কে প্রতিনিধিত্ব করবে তথা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করার দিকে অগ্রসর হবে না, এটাই আমাদের দাবি। ড. ইউনূস ও তাঁর সরকারকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ সংবিধানের আইনি কাঠামোয় নির্বাচন দিতে এত শহীদ প্রাণ দেননি। তা ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের দাবি কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপের লক্ষ্যে সব ধরনের সংস্কার-পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে অভ্যুত্থানের লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল।’

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সদস্য সারোয়ার তুষার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব।’

    আজ রোববার শপথ গ্রহণ শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় মূল ভবনের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। এ সময় নির্বাচন কমিশনাররা সঙ্গে ছিলেন।

    নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ফার্স্ট অব অল শপথ নিয়েছি। শপথের সম্মানটা রাখতে চাই। শপথ সমুন্নত রাখতে চাই। আমি এটাকে নিজের জীবনের বড় অপরচুনিটি হিসেবে দেখছি, এই দায়িত্বটাকে। অপরচুনিটি টু সার্ভ দ্য নেশন। দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচনের জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে। অনেক আন্দোলন করেছে বিগত বছরগুলোয় এবং অনেকে রক্ত দিয়েছে। আমি তাদের একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য সর্বোচ্চটুকু করব।’

    সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই মিলে, আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়েই কিন্তু (নির্বাচন) করতে হবে। আমরা একা পারব না। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। দেশবাসীর সহযোগিতা লাগবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা লাগবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেব।’

    ভোটার তালিকা করতে হবে

    এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একটা নির্বাচন করতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার তো লাগবেই। উদাহরণ—এখন নানা রকম কথা হচ্ছে। কেউ প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন, আবার কেউ বলে আগের সিস্টেমে ইলেকশন। সংবিধানে যদি এটা ফয়সালা না হয়, আমরা নির্বাচনটা করব কীভাবে? নির্বাচন করতে গেলে নতুন প্রজন্ম, যারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বছরের পর বছর, তাদের তো ভোটার তালিকায় আনতে হবে। ভোটার তালিকা করতে হবে।…কোথায় কোথায় সংস্কার দরকার হবে, ইন্টারভেনশন দরকার হবে, সেটি পাব, যেহেতু নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটা কমিশন কাজ করছে। পরামর্শ আসুক, আমরা দেখি কোনটা কোনটা গ্রহণযোগ্য হয়। যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের।’

    সংবিধান ঠিক না হলে যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে

    সংবিধান সংস্কার কমিশন কাজ করছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘তাঁরাও সংবিধানের বিষয়ে সাজেশন দেবেন। …আমি ও আমার টিম সংবিধানের প্রোডাক্ট। সংবিধান যদি ঠিক না হয়, তাহলে আমাদের যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে। সুতরাং এ কার্যক্রমও শেষ হোক। সব সুপারিশ আসুক। বেশিদিন তো নেই। উনারা তো বলছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। অতি অল্প সময়, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন।’

    এবারের মতো সুযোগ আগে ছিল না বলে উল্লেখ করেন নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমরা নই, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করবে। তারা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে বলে আসছে তারা ভোটের অধিকার চায়, অবাধে ভোট দিতে চায়। সুতরাং তাদের সঙ্গে পাব। তাদের ডিমান্ডটা বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করব। সুতরাং আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তারাও জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ।’

    কবে নির্বাচন দেবেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘দিনক্ষণ দিয়ে তো এখন বলা যাবে না। কিছু সংস্কার, যেগুলো দরকার আছে, সেগুলো করে…আগে আমি দায়িত্বটা নিই, একটু বুঝে নিই, কাজকর্মটা বুঝে নিই। আমাকে একটু বুঝতে তো দেবেন, ভাই।’