Author: bangladiganta

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথাগুলো বলেন।

    আবদুল্লাহ তাহের মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো তারা দেশের উন্নয়নে সংস্কার করবেন। দেশের সাধারণ মানুষও এই সংস্কার চেতনায় ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, যা বোঝায় যে কিছু দল এই সংস্কার চাইছেন না। তিনি প্রশ্ন করেন, এই পরিস্থিতিতে কি আসলে সংস্কারই চায় না তারা? তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্রহণ করি এবং আশাবাদী যে, এই প্রক্রিয়ায় সংস্কার শেষে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।

    আবদুল্লাহ তাহের আরো বলেন, ইতোমধ্যেই একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কিভাবে হবে, এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতেই হবে। তিনি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষপাতি বলে মন্তব্য করে বলেন, কখনোই তিনি আওয়ামী জাহেলিয়াতের পথে ফিরতে চান না। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা সম্ভবত কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে।

    তাঁর ভাষায়, যারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য আলোচনা করতে চান, তাদের সাথে আলোচনা করা উচিত। দেশের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে, তিনি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান যে, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি স্পষ্ট ও কার্যকরী নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।

    অবশেষে, তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, এটা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। তবে আগে চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন ও সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই, নির্বাচনের তারিখ যেন ঘোষিত হয় তার আগেই সব সমস্যার সমাধান করা হয়, যাতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা: আইএসপিআর၏ বিবৃতি

    কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা: আইএসপিআর၏ বিবৃতি

    রাজধানীর কাকরাইলে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সার্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) মঙ্গলবার এক বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি issued করেছে।

    বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাতে প্রায় সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ এগিয়ে আসেন পরিস্থিতি শান্ত করতে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছু সময় পরে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, এতে কিছু পুলিশ সদস্য আহত হন।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু বারবার আর্থ-সন্ধান উপেক্ষা করে কিছু নেতাকর্মী মেব ভায়োলেন্সের আশ্রয় নেন। তারা বেশ কিছু সময় ধরে আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ জিইয়ে রাখে। সংঘর্ষের সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন স্থাপনা আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঢেউয়ে বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়, জনদুর্ভোগ নেমে আসে। শান্তিপূর্ণ সমাধানে অগ্রসর হওয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে, তারা নিরীহ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়।

    নিহত হয় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।

    সেনাবাহিনী জানায়, বাংলাদেশ সরকার সকল ধরণের মেব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তারা আরও জানিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে

    ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাই মাসে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান দেশটিতে নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ প্রশস্ত করেছে। এই আন্দোলন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচিত ঘটনার অভ্যুত্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশ একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের দর্শনীয় মোড় সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি উন্নত করেছে।

    শুক্রবার ঢাকা নগরীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন, যিনি উল্লেখ করেন, আমরা আগের পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরে যেতে চাই না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম এই ব্যাপারে রাজনৈতিক সচেতনতা বজায় রাখবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

    অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনি যোগ করেন, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপ চালানো একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কারগুলো কেবল বাংলাদেশের জন্যই না, বরং অন্যান্য দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান বলেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নতুন করে ভাবছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্য বিদেশি শুল্ক ইস্যুতে যা কিছু করা সম্ভব হয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে বড় এক ধাপ। সরকারি এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পথে এগুচ্ছে।

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি রাখা না মানা যাবে: গণসংহতি আন্দোলন

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি রাখা না মানা যাবে: গণসংহতি আন্দোলন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয় এখন বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় স্বার্থ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সাকি বলেন, আমাদের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন করা জরুরি যাতে আমরা সংস্কারগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে পারি। একইসঙ্গে বিচারকে এগিয়ে নিতে হলে নির্বাচন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, এটি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করা აუცილ। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংস্কার অগ্রগামী হয়েছে, সেই চেতনা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য যেন একটি জাতীয় সনদ তৈরির মাধ্যমে এই সংস্কারসমূহের আইনি নিশ্চিতকরণ হয়, যার জন্য দ্রুত ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

    সাকি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি নির্বাচনী পরিবেশে কোন রকম বিঘ্ন ঘটলে তা প্রতিহত করবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের মূল ভিত্তি। এই পথে এগিয়ে গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিভ্রান্তি, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সকল শত্রুতা নির্মূল হবে।

    তিনি আরও জানান, আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পরও পুরো শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলানো যায়নি। শাসন কাঠামো ও সাংবিধানিক ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া বাস্তব পরিবর্তন আসবে না—এ সামঞ্জস্য তিনি বারবার দাবি করে এসেছেন।

    সাকি বলেন, ১৯৭২ সালে প্রস্তুত করা সংবিধানও ১৯৭১ সালের আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। এই সংবিধান স্বৈরতান্ত্রিক ছিল, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ হয়েছিল এক ব্যক্তির হাতে। সেই সাংবিধানিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে একের পর এক স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এখন সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের অপেক্ষা বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

    সাকি বলেন, এখনও দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা করছে, নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিচার—সংস্কার ও নির্বাচন প্রতিষ্ঠার যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী পুরোনো ফ্যাসিস্ট কায়দায় নিজেদের মত চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে এবং মব রাজত্ব কায়েমের সহায়তা করছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ও দক্ষিণপন্থি উত্থানের সব অপপ্রয়াসই জনগণের প্রবল প্রজ্ঞা ও অধিকারবোধের বিপরীতে।

    তিনি বলেন, জনগণ চায় একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়। তিনি আর অভিযোগ বা অস্বীকৃতিকে প্রশ্রয় দেননি। সবাইকে একত্রে এই ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে, সেটাও অবশ্যই আইনি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করে। অন্যথায় আমাদের নিজেরাও ফ্যাসিবাদে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আশাবাদী, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এবং কোনও অপশক্তি এই উন্নয়নকে থামাতে সক্ষম হবে না।

    উল্লেখ্য, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠন সমন্বয়ে প্রথম প্রকাশ পায়, যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বার্থে গণতান্ত্রিক শক্তি গড়ে তোলা। নানা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৫ সালে正式ভাবে এটি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা ও মালাকাল অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-১০) এর ১৯৯ জন সদস্যকে সম্প্রতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক প্রদান করা হয়েছে। এই গৌরবময় অর্জনের উৎসব হিসেবে গত বুধবার জুবায় একটি বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম, যিনি এই প্রশংসনীয় কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও দেশের আরও বেশ কিছু কর্মকর্তাকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মেডেল প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশের নৌবাহিনী দলের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, নীল নদের প্রতিকূল পরিবেশে এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনানীরা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের সাহসিকতা, দক্ষতা এবং নিষ্ঠার ফলে জাতিসংঘের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে তারা অসামান্য কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নদী পথে নিয়মিত টহল, উদ্ধার অভিযান, ডাইভিং এবং অন্যান্য অপারেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রাণপণ কাজ করে চলেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বাংলাদেশের এই সাহসী কার্যক্রমের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। এই কন্টিনজেন্টই একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে কাজ করছে নীল নদের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তারা মহান দায়িত্বে ১৩১১ কিলোমিটার দীর্ঘ নীল নদে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে পরিচালনা করেছে। মোতায়েনের পর থেকেই তারা স্থানীয় সরকার ও জনসাধারণের উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    এছাড়াও, উত্তর মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা মাক্টুরে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম সগৌরবে দেশের পতাকা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচারে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

  • এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ: নূর খান

    এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ: নূর খান

    গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের জন্য গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন। এখন পর্যন্ত এই কমিশনের হাতে মোট এক হাজার ৮০০’র বেশি গুমের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত গুম দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘রিপ্রেশন টু রেভলুশন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এই তথ্য তুলে ধরেন গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই কমিশন একটি তদন্তকারী সংস্থা নয়। অর্থাৎ, তারা কোনো রিমান্ড বা গ্রেপ্তারি এর জন্য কার্যক্রম চালায় না, তারা মূলত তথ্য অনুসন্ধান ও সংগ্রহে নিযুক্ত। নূর খান জানান, ভুক্তভোগী, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই কমিশন কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, যারা এই গুমের ঘটনার সাথে জড়িত ছিল এবং নির্দেশনা দিয়েছিল, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, যা কাজ চালিয়ে যেতে কঠিন করে তোলে। তিনি অতিরিক্ত বলেন, প্রায় ৩০০ জন গুমের শিকার ব্যক্তিকে কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে। তবে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছিল এবং তাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল কারা, এ বিষয়ে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশন তাদের তদন্তের একটি অংশের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রদান করতে পারবে। তবে, এক হাজার ৮০০ অভিযোগের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন একসঙ্গে দেয়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারনীতি ব্যতিরেকে আসছে উগ্রবাদ

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারনীতি ব্যতিরেকে আসছে উগ্রবাদ

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মূলোৎপাটনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত সভায়। গ্রন্থের লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম এবং এটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ষড়যন্ত্র কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো মধ্যপন্থী, উদার দৃষ্টিভঙ্গির রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে অবাধ ও একান্তই উগ্রবাদী রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। এ জন্য আমাদের উদারপন্থী গণতন্ত্রকে রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না হলে দেশের ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে। রাজনীতিতে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা গভীর বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে জনগণকে। মানুষ প্রশ্ন করে, কীভাবে নির্বাচন হবে? তার মানে রয়েছে শঙ্কা, আশঙ্কা এবং হতাশার ছায়া।

    মির্জা ফখরুল এও বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হবে এবং সময়মতো ঘোষণা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর কোনো বিকল্প নেই। যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা হয়নি, তবে দেশের ক্ষতি অপ্রকাশ্য থাকবে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ বাড়বে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মহল আবার ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, বিদেশেও এ বিষয়ে কাজ চলছে। তাই দ্রুত নির্বাচন দরকার। তিনি বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারব।

  • ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে খুশি বিএনপি

    ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে খুশি বিএনপি

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার খবর পেয়ে বিএনপি বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথ ছিলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। এই ঘোষণা আমাদের আশাবাদী করেছে যে, নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই খুব ভালো খবর। আমরা খুব খুশি, এই খবর আমাদের উৎফুল্ল করেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনগণের জন্য এটি একটি সুসংবাদ হিসেবে দেখতে পারি।’ বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে তাদের সন্তুষ্টির গভীরতা প্রকাশ পায়।

    অন্যদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ এর ঘোষণা দেশের জন্য এক বাস্তবিক সুসংবাদ। সবাই এখন অপেক্ষা করছে যে, দেশের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এর মাধ্যমে একটি নীতিনিষ্ঠ সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠা হবে, যা জাতির জন্য উপকারী হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হলে অর্থনীতি পুনরায় গতি পাবে এবং গুণগত প্রকল্প ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হবে।’

    আরেকজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপের ঘোষণা পুরো জাতির প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’ তিনি জানান, রোডম্যাপ যথাযথ সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করা হয়েছে। তাঁর মতে, আশা করা হচ্ছে, এই রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হবে।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সুষ্ঠু ও অপক্ষু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের সংস্কার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনাদের কি সত্যিই সংস্কার চাচ্ছিলেন না? তিনি আরও বলেন, এই সময়ে নানা বিভ্রান্তি ও অসংগতি হচ্ছে। আমাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেওয়া উচিত, যাতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব হয়।

    আমাদের কাছে ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, তবে এখনো পরিষ্কার করে বলা হয় নি, নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে। আমরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেকর্ড) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের অপরাধে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে এবং ভোট জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।

    প্রধান বক্তা আরও বলেন, যারা এই পদ্ধতিটি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতভেদ নিরাপদ নয়; এটা দেশের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে।

    তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আগে সরকারের দেওয়া তারিখে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি শেষবারের মত এই বললেন, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে, আগে যেসব বাধা রয়েছে তা মোকাবিলা করে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    দ্বৈত রাজনৈতিক দলের একজন বা একাধিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কারো কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন, আলোচনা করি। কোনোরকম বিভাজন বা বিভ্রান্তি না ঘটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আলোচনা ও আলোচনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। রাজনীতি ক্ষেত্রে এসব বিভ্রান্তি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, সেটা গুম-খুনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেও এগিয়ে চলছি। এক জন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়, তবে গুম রহিত করতে, অপরাধ নির্মূল করতে আমরা কোন রকম প্রয়াস নিতে পিছুপা হবো না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না। ২৯ আগস্ট, শুক্রবার, আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মা’য়ের ডাকের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার ভাগ্য ভাল আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি; আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি। অবিবেচকভাবে অতীত সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অনুশোচনার অভাব থাকার পাশাপাশি তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু জনগণ তাদের রাজনীতিতে যেমন আকৃষ্ট হবে না, তেমনি ক্ষমা করবে না। তিনি আরও বলেন, দু-একটি দল ধর্মের ভঙ্গিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে, যেখানে কোনো সংশয় থাকলে আলোচনা হওয়া উচিত। ঐক্য ভাঙার অপচেষ্টা বন্ধ করে বাস্তব আলোচনা প্রয়োজন। পরে আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গুমের শিকার হওয়া কয়েকজনকে জীবিত ফিরে পেয়েছি। তবে আরও অনেকের দাবি রয়ে গেছে, যারা এখনও ফিরতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়, যারা গুম হয়েছে তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে সব আশ্বাস অপূর্ণই রয়ে গেছে। গুম হওয়া শায়রুল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হই। ঐ সময় আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, আমরা পাঁচজন গুম ছিলাম। তার মধ্যে আমি ও একজন নিরাপদে ফিরে আসি, অন্যরা এখনও অনিশ্চয়তার মুখে। আমি তখন একটি অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে জেল খেটেছি, যার কারণে আমি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার দাবী, এই মামলার থেকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি, আমি বলবো, যারা গুমের শিকার তারা এখনো ফিরেনি, যারা করেছিল তারা এখনো দায়িত্বহীন। এছাড়া, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ, পরে হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবা চায়ের দোকান থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে অনেক নির্যাতনের শিকার হন। এতটাই মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে বাবা মারা যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাবাকে আটকের সময় থেকে শুরু করে নির্যাতনের বিভীষিকা সহ্য করতে হয়েছে। এই সব দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন সজল ও তার পরিবারের সদস্যরা।