Author: bangladiganta

  • মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় কমলো সাত হাজার কোটি টাকা

    মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় কমলো সাত হাজার কোটি টাকা

    মেট্রোরেলের ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পের ব্যয় ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়নের পর ৬ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়েছে। ফলে শেখ হাসিনা সরকারের নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশে এ পর্যালোচনা করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পটি  সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আরও খরচ হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক মো. আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, ঋণের সুদ পরিশোধের সময় কমিয়ে আনা, মূলধন ব্যয় হ্রাস এবং অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কালনে কম অর্থ ধরে খরচ সাশ্রয় করা হয়েছে।

    চালু হচ্ছে মেট্রোরেল অ্যাপ :এদিকে খুব শিগগিরই চালু হচ্ছে মেট্রোরেল অ্যাপসেবা। এতে যাত্রীরা ঘরে বসেই ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি পাস-কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন। পাশাপাশি জানা যাবে মেট্রোরেলের অবস্থানসহ যাবতীয় তথ্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, অ্যাপে কার্ডহোল্ডার যাত্রীরা সহজেই ঘরে বসে নিজ নিজ কার্ড রিচার্জ করার সুবিধা পাবেন। দ্রুতই চুক্তি হবে, বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এগিয়ে চলছে বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটের কাজ :দেশে প্রথম বারের মতো বিমানবন্দর-কমলাপুর রুটে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৮ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ইউটিলিটি পরিষেবাগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রসঙ্গত, প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ৭০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবেন।

    ৩৫০ নয়, দেড় কোটি টাকায় চালু হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দুই স্টেশন : প্রায় ৮৮ দিন বন্ধ থাকার পর মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন‌টিতে থাম‌ছে‌ ট্রেন এবং যাত্রীরা ওঠানামা কর‌ছেন। প্রায় ১ কো‌টি ২৫ লাখ টাকায় মেরামত ‌করে সচল করা হয়েছে এই স্টেশন। ত‌বে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্র দুই মাস পরেই চালু করা সম্ভব হয়েছে কাজীপাড়া স্টেশন। এই স্টেশন চালু করতে খরচ হয় মাত্র ২২ লাখ টাকা।

    গত ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মিরপুরের-১০ নম্বর এবং কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়। এ‌তে ব্যাপক ক্ষ‌তি হয়ে‌ছে দাবি করে গত ২৭ জুলাই তখনকার সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কা‌দের বলেন, স্টেশন দু‌টি সচল করতে ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। চালু কর‌তে এক বছরেরও বেশি লাগ‌তে পারে।

    ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটি চালু করতে কোনো সরঞ্জাম আমদানি না করে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকা তিনটি স্টেশন থে‌কে কিছু যন্ত্রাংশ খুলে লাগা‌নো হ‌য়ে‌ছে মি‌রপুর ১০ নম্বর স্টেশ‌নে। বা‌কি যন্ত্রাংশ আমদা‌নি কর‌তে হ‌বে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ করতে মাস তিনেক সময় লাগবে। এই স্টেশন ঠিক করতে কোনো ঠিকাদার বা বিদেশি কাউকে লাগেনি। ডিএমটিসিএল নিজেই এটা করেছে বলে তিনি জানান।

  • দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন

    সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ইশারায় নিয়োগ পান প্রায় তিন হাজার ১৮৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীপু মনি সিন্ডিকেটের বলয়ে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাকরি পান। এর জন্য উচ্চ মহলের সুপারিশসহ তাদের দিতে হয়েছে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নিয়োগের জন্য যাচ্ছেতাইভাবে পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জন্য। দীপু মনির আমলে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এখনো চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন ৬১০ জন।

    মাউশি’র এই নিয়োগ পুরোটা সামলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির খাতা কলমে বৈধতা দেয়ার কাজ করে গেছেন মাউশি’র কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী, প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে দু’দফায় (আগস্ট ও নভেম্বরে) যোগদান করেন।

    মাউশি’র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপু মনি শিক্ষার দায়িত্ব হাতে পাবার পরই গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। মাউশিতে নিয়ে আসেন পছন্দের লোকদের। জনপ্রশাসন থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র এনে তার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন। এই চক্র এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ প্রশ্ন করার সাহস পর্যন্ত ছিল না। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলেই নেয়া হয়নি। এমনকি ভাইবার আগেই এসব প্রার্থীদের দেয়া হয়েছিল চাকরির নিশ্চয়তা।

    সুপারিশের প্রেক্ষিতে চার হাজার ১০৯ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় ৬১০ জনের পদায়ন। তবে তাদের পদায়নের জন্য চলতি বছরের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। যার কারণে আটকে আছে তাদের নিয়োগ। নিয়ম অনুযায়ী দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড পর্যন্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদ, কিন্তু মাউশি’র নিয়োগবিধিতে এই পদগুলোকে তৃতীয় শ্রেণির দেখিয়ে শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদের মধ্যে প্রদর্শক পদে ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী (কলেজ) পদে ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী পদে ৬টি পদ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব পদের বিপরীতে পরীক্ষা ২০২১ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শক পদের ফল অনিবার্যকারণবশত স্থগিত করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এতে প্রায় আট হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। মে মাসে ভাইবা শেষে জুনে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে এই ৬১০ জনের নিয়োগ। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর ৯ জন, উচ্চমান সহকারী ৮৫ জন, ক্যাশিয়ার ১১৯ জন, স্টোরকিপার ৫০ জন, হিসাব সহকারী ১০৬ জন, অফিস সহকারী ৫১৩ জন, মেকানিক ৩৩ জন, গাড়িচালক ১১ জন, বুক সর্টার ৪৬ জন, অফিস সহায়ক ১৭০৪ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ২৪৭ জন, মালী ৯৭ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী ১৬৩ জন। অন্যদিকে তালিকায় নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রদর্শক পদে পদার্থবিদ্যায় ১০৯ জন, রসায়নে ১২০ জন, জীববিজ্ঞানে ৩১ জন, প্রাণিবিদ্যায় ১০৯ জন, উদ্ভিদবিদ্যায় ৯৬ জন, ভূগোলে ১৩ জন, মৃত্তিকায় ৫ জন, গণিতে ২২ জন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৮ জন, কৃষিতে একজন, গবেষণা সহকারী (কলেজ) ২১ জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক ৬৯ জন এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬ জন।

    এই নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম বলেন, তালিকা ধরে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়ে দায়িত্বেও ছিলাম না। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একটি বিষয়ে’ আটকে রাখা যায় না

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘একটি বিষয়ে’ আটকে রাখা যায় না

    বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতা বহুমাত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শুধু ‘একটি বিষয়’ কিংবা ‘একটি অ্যাজেন্ডায়’ এ সম্পর্ককে আটকে রাখা যায় না। দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আছে, কিন্তু তা সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সম্পর্কের পথ আগলে দিতে পারে না।

    আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতায় প্রণয় ভার্মা এ মন্তব্য করেন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে (বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপ) রাষ্ট্রদূতের জন্য নির্ধারিত বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি।

    বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও জ্বালানির সংযুক্তি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যুক্ততা অব্যাহতভাবে ইতিবাচক পথে এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত একটি স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। যেখানে মূল অংশীজন হবে দুই দেশের জনগণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এবং বিশ্বাস করে যে দুই দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

    প্রণয় ভার্মা বহুমাত্রিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বাণিজ্য, পরিবহন ও জ্বালানি সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের সম্পৃক্ততার ক্রমাগত অগ্রগতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তন যা–ই ঘটুক না কেন, পরস্পরের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতা এবং নিজেদের কল্যাণের স্বার্থেই এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।’
    প্রণয় ভার্মা চলতি মাসে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সূচনা ও পেট্রাপোল-বেনাপোল সমন্বিত চেকপোস্টের অবকাঠামোর পরিবর্ধনকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে অব্যাহত অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে তিনি আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের মতো কাঠামোর অধীন আঞ্চলিক একত্রীকরণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য দুই দেশের যৌথ আকাঙ্ক্ষা পূরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি অংশীদারত্বের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সাধারণ জনগণের উপকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করুন: ভারতকে রিজভী

    হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করুন: ভারতকে রিজভী

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার পালানোয় যদি ভারতের এতই মায়া, এতই দুঃখ হয়। তাহলে হাসিনার জন্য আরও একটি তাজমহল নির্মাণ করে দিন।

    রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতিদিন ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। একটা স্বাধীন দেশ নিয়ে তারা কীভাবে এত অপ্রচার করে। আমরা হিন্দু মুসলিম যুগ যুগ ধরে একত্রে শান্তিতে বসবাস করছি। সেই সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচার চালাবেন না। আপনারা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছেন। এটা করবেন না। বন্ধ করুন ষড়যন্ত্র।

    রিজভী আরও বলেন, জিয়া করেননি উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প দেখিয়ে ডলার পাচার। আওয়ামী নেতারা মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পের নাম করে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে পাচার করেছেন। একজন এমপির কত আয়? আওয়ামী লীগের একজন এমপির ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থের অসংখ্য বাড়ি লন্ডনে। এরা অবৈধভাবে বিনা ভোটে ক্ষমতায় থেকেছেন সাড়ে ১৫ বছর। পাচার করেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা।

    শেখ হাসিনার ভোট ও ক্ষমতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আমাকে তুমি ক্ষমতায় রাখ আর তোমরা যা ইচ্ছে করো’—এটা হাসিনা বলতেন। পুলিশের একজন আইজির বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ। আমাদের কাছে ঋণ আসে ১৮ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর সেই ঋণের ১৭ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে আওয়ামী লীগ। এটা শেখ হাসিনার অবদান।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপতথ্য দিয়ে কুৎসা রটিয়েছেন। জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। কই আপনি তো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ভুলেও একটা বের করতে পারেননি। বরং আপনি পালিয়ে গেছেন, খালেদা জিয়া তো পালাননি। দুর্বিষহ দুঃশাসনকে তিনি বরণ করেছেন। ভাঙা ভাঙা একটা বিল্ডিংয়ে দুই বছর তাকে (খালেদা জিয়া) আটকিয়ে রেখেছেন। তিনি তো পালাননি। আওয়ামী লীগ দুর্বৃত্তের দল। এটাই বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য।

    এ সময় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক একেএম মমিনুল হকসহ রংপুর বিভাগের বিএনপির ১০টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। লালমনিরহাট জেলা বিএনপি আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে রংপুর বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক জেলা বিএনপি অংশ নিচ্ছেন। এ টুর্নামেন্টের প্রতিটি আসরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকছেন।

  • ওয়ানডের র‌্যাঙ্কিং থেকে কাটা পড়লো সাকিবের নাম

    ওয়ানডের র‌্যাঙ্কিং থেকে কাটা পড়লো সাকিবের নাম

    সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, একই সময়ে তিন ফরম্যাটেরই শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়া প্রথম ক্রিকেটারও তিনি। সেই সাকিব আল হাসানের নামই বাদ পড়ে গেল আইসিসির ওয়ানডের র‌্যাঙ্কিং থেকে। আইসিসির করা সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদে নাম নেই বাংলাদেশের তারকা এই ক্রিকেটারের।

    অবাক শোনালেও ব্যাপারটা স্বাভাবিকই। আর এটা হয়েছে সাকিবের কারণেই। এই ফরম্যাটে দীর্ঘদিন খেলেন না বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার, যা ছাড়িয়ে এক বছরের সীমা। আর আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো ক্রিকেটার এক বছর কোনো ফরম্যাটে না খেললে সেই ফরম্যাটের র‌্যাঙ্কিং থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। সাকিবের নাম এ কারণেই কাটা পড়েছে।

    আট মাস পর প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডে খেলতে নামে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে তারা। এই সিরিজে খেলেননি সাকিব। বাঁহাতি এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন গত বছরের ৬ নভেম্বর। ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর এই ফরম্যাটে আর খেলেননি তিনি। মাঝে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।

    এই এক বছরে বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন সাকিব। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বাইরে থেকেই খেলতে হয়েছে তাকে। প্রায় ছয় মাস ধরে দেশের বাইরে থেকে খেলছেন তিনি। গত জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফিরে দুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক, খেলেন মেজর লিগে (এমএলসি)।

    পরে কানাডাতে বাংলা টাইগার্স মিসিসাগার অধিনায়ক হিসেবে খেলেন গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি। এরপর পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেন সাকিব। এই সিরিজের পর ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলে ভারতে যোগ দেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে। টেস্ট সিরিজ খেলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন তিনি। মিরপুরে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে চাইলেও নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের।

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!