Author: bangladiganta

  • সাইফের র‍্যাঙ্কিংয়ে লম্বা লাফ, অভিষেকের বিরল বিশ্ব রেকর্ড

    সাইফের র‍্যাঙ্কিংয়ে লম্বা লাফ, অভিষেকের বিরল বিশ্ব রেকর্ড

    গত কয়েক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে আধিপত্য ছিল হার্দিক পাণ্ডিয়ার। তবে সম্প্রতি সেই আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন সাইম আইয়ুব। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি তিন ধাপ এগিয়ে শীর্ষে উঠেছেন। বিশেষ কিছু কথা হলো, তিনি চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েও র‌্যাঙ্কিংয়ে এতটা উন্নতি করেছেন।

    অন্যদিকে, হার্দিক এখন র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, তবে সায়মের থেকে তিনি আট ধাপ পিছিয়ে আছেন। ভারতের দুজন অলরাউন্ডারকে পেছনে ফেলে পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ চার ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বর স্থানে উঠে এসেছেন। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কাও তিন ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩০তম স্থানে রয়েছেন। এশিয়া কাপে তাদের পারফরম্যান্স এই র‍্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা। তিনি এক অসাধারণ রেকর্ড তৈরি করেছেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে ছিল স্থায়ী। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরির পর তার রেটিং ৯৩১ পয়েন্টে পৌঁছায়—টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের (৯১৯ পয়েন্ট, ২০২০ সালে)। এই আকাশচুম্বি অর্জনের ফলে, তিনি নিজের সতীর্থ সূর্যকুমার যাদব এবং বিরাট কোহলিকেও পেছনে ফেলেছেন। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই দ্রুত উঠে আসছেন বিশিষ্ট তারকায়।

    এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সে তিনি ৩১৪ রান করেছেন, গড় ৪৪.৮৫। এই পারফরম্যান্স তাকে টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার এনে দেয়। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের থেকে ৮২ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ভারতের তিলক ভার্মা তিনে, শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা পঞ্চমে ও কুশল পেরেরা নবম স্থানে রয়েছেন।

    টিটিইউইটি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান ৪৫ ধাপ এগিয়ে ৩৬তম অবস্থানে রয়েছেন। তার রেটিং পয়েন্ট এখন ৫৫৫, আর আগের সপ্তাহে তিনি ১৩৩ ধাপ এগিয়েছিলেন। বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে রিশাদ হোসেন এগিয়ে ২০ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান ১৩তম স্থানে পৌঁছেছেন, আর ভারতের সাঞ্জু স্যামসন ৩১তম। বোলিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে রয়েছেন, যিনি এশিয়া কাপের সাত উইকেট নিয়ে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৩ নম্বরে, কুলদীপ যাদব ৯ ধাপ উন্নতি করে ১২ নম্বরে আছেন।

  • বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হলেন আসিফ আকবর

    বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হলেন আসিফ আকবর

    আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। এর আগে, আজ বুধবার (১ অক্টোবর) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। সকাল ১২টা পর্যন্ত চলা এই সময়সীমার মধ্যে, বেশ কয়েকজন প্রার্থী, যার মধ্যে তামিম ইকবালসহ ১৬ জন, নির্বাচনী থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন।

    চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মীর হেলাল উদ্দিন এই প্রক্রিয়ায় সরে দাঁড়ানোর কারণে, সেখানে কেবল একজন প্রার্থী থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন। একইভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেন আহসান ইকবাল চৌধুরী।

    বিশেষ উল্লেখ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় ধাক্কা দেন তামিম ইকবাল। সাবেক এই অধিনায়কসহ বেশ কিছু বিএনপি-নেত্রীকামী ক্রীড়া সংগঠকদের নামও শেষ সময়ে প্রত্যাহার তালিকায় এসেছে। এতে আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলাম এবং রফিকুল ইসলাম বাবু — যারা এই নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ছিলেন।

    অন্যদিকে, কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও আসিফ আকবর পেশাদার ক্রিকেটের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলেছেন ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটে, এমনকি কুমিল্লা অঞ্চলের ক্রিকেট পাড়ায় বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ কনসার্টে পারফর্ম করে যাচ্ছেন আসিফ আকবর। দেশের ফিরতে এখনও কিছুদিন বাকি। এই মাসের শেষের দিকে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

  • বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন

    বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন

    বিসিবির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর বিশ্লেষণ reveals যে, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। গত শনিবার, যাচাই-বোছাই ও শুনানি শেষে ৫০ জনের তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তবে বুধবার অনেক প্রার্থী নিজ নিজ মানসিক ও ব্যক্তিগত কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে, আগামী ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে মোট ৩৩ প্রার্থী ২৫টি পরিচালক পদের জন্য তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে লড়াই করবেন।

    দেহে আদালতের নির্দেশনায় ও নীতিমালার কারণে কিছু ক্যাটাগরিতে নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীরা প্রত্যাহার করে নেন। বিশেষ করে ক্যাটাগরি-২, যেখানে ঢাকার ক্লাবগোষ্ঠীযুক্ত প্রার্থীরা বেশি, সেখানে ৩০ জনের মধ্যে ১৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। যদিও কিছু ক্লাবের প্রার্থী বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ পরিস্থিতিতে, এই ক্যাটাগরিতে ১৬ জন প্রার্থীRemaining, ১২ জনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির অধীন ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এখানে লক্ষ্য করা গেছে যে, ৭১ জন সম্ভাব্য ভোটার থাকলেও নরসিংদী জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কোন কাউন্সিলর মনোনীত না হওয়ায় ভোটার সংখ্যা কমে ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভোটাররা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার শাহাদত করতে আওয়ামীলীগ, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করছেন বলে জানা গেছে।

    বিশেষ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার। তার পাশাপাশি, বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, ফলে এবারের নির্বাচনী উত্তাপ কিছুটা কমে গেছে।

    চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, তিনটি বিভাগে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অন্য বিভাগে একক প্রার্থী থাকায় তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হয়ে যাবেন। কিছু বিভাগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংগঠক।

    নির্বাচনের প্রধান বিভাগগুলো হলো ক্যাটাগরি ১, ক্যাটাগরি ২ ও ক্যাটাগরি ৩। ক্যাটাগরি ১-এ ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জন্য আলাদা ভোট অনুষ্ঠিত হবে যেখানে বিভিন্ন প্রার্থী অংশ নেবেন। ক্যাটাগরি ২ ও ৩-এ কিছু প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাবেন, বিশেষ করে বরিশাল, সিলেট, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে।

    সর্বমোট, এই নির্বাচন অনেক চমকপ্রদ ও নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কিছু প্রার্থী নির্বাচনের বাইরে থাকা সত্ত্বেও, কিছু প্রকারান্তরে বিজয়ী হয়ে যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পরিবর্তনশীল রাজনীতি এবং স্পষ্টমত গ্রহন করার জন্য বিসিবির ভবিষ্যত দিক নির্ধারিত হবে।

  • জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ নিহত, বিজয় দলের জনসভা স্থগিত

    জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ নিহত, বিজয় দলের জনসভা স্থগিত

    তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম (টিভিকে) এর প্রধান থালাপতি বিজয় নিজের দলের এক জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি বিস্ময়কর ও দুঃখজনক। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় আয়োজিত টিভিকে দলের এক জনসভায়। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল বিজয়ের একনিষ্ঠ সমর্থক, যারা প্রাণ হারিয়েছে এই অনুষ্ঠানে।

    দলের পক্ষ থেকে এক এক্স (আগের টুইটার)-এ দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা ও শোকের কারণে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বিজয়ের সমস্ত জনসভা কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

    পুলিশের তথ্য মতে, জনসভাস্থলের ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১০ হাজার লোকের, কিন্তু সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। খাদ্য, পানি ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তার সামঞ্জস্যহীন ব্যবস্থাপনাই দুর্ঘটনার এক বড় কারণ।

    প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দুপুর থেকে শুরু হওয়া জনতারা সন্ধ্যা ৭টার পর বিজয়ের সভাস্থলে পৌঁছোতে শুরু করে, যার ফলে অসংলগ্ন ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিই পদদলনের কারণ হিসেবে ধরছে প্রশাসন।

    এই দুর্ঘটনার পর ৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের বিরুদ্ধে জনদুর্ভোগের প্রতি উদাসীনতা ও ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া, হামলার আশঙ্কায় বিজয়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে টিভিকে দলের নেতারা উল্লেখ করেছেন, তারা বহু বড় জনসভা আয়োজন করেছেন, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় ডিএমকে নেতাদের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

    অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ডিএমকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    থালাপতি বিজয় দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা। তিনি ২০২৫ সালের শুরুতে ‘তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম’ (টিভিকে) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু রাজ্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তার রাজনৈতিক উপস্থিতি শুরু থেকেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তার জনপ্রিয়তা দেশে-বিদেশে ব্যাপক শ্রদ্ধা ও সমর্থন পেয়েছে।

  • গাজার জলসীমায় পৌঁছেছে ফ্লোটিলার এক জাহাজ, পথে আরও ২৩টি

    গাজার জলসীমায় পৌঁছেছে ফ্লোটিলার এক জাহাজ, পথে আরও ২৩টি

    গাজার উপকূলের কাছাকাছি প্রবেশ করেছে আন্তর্জাতিক সাহায্যবাহী জাহাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এখনো অন্তত ২৬টি নৌযান এগিয়ে চলেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, সর্বশেষ ট্র্যাকার তথ্য অনুযায়ী—’মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় সফলভাবে প্রবেশ করেছে। তবে, এখনো পরিষ্কার নয়, ইসরায়েলি বাহিনী কি এই জাহাজকে আটক করেছে কি না।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনারা এই ঐতিহাসিক ফ্লোটিলারকে আটকানোর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। চলতি পরিস্থিতিতে, কার্যকর নৌযানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪-এ, এর মধ্যে কিছু জাহাজ গাজার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর আগে, গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর জন্য এই ফ্লোটিলাকে বাধা দেওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগরের উপকূলে আঞ্চলিক জলসীমায় পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি নৌবাহিনী কয়েকটি জাহাজকে আটক করে।

    ফ্লোটিলার মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনও যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গাজামুখী আন্তর্জাতিক সহায়তা বহর থেকে অন্তত ২০০ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শতাধিক কর্মী সহায়তা পাঠানোর জন্য ৪০টির বেশি নৌযান চলছে, যদিও ইসরায়েল বলছে, এই পরিকল্পনাও ব্যাহত করার জন্য তারা তৎপর। আল–জাজিরার প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নৌবাহিনী জলকামান দিয়ে পানি ছুড়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে এবং জাহাজে থাকা কর্মীদের আটক করেছে।

    সাইফ আবুকেশেক, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী মাঝসমুদ্রে ১৩টি নৌযান থামিয়ে দিয়েছে। এতে ৩৭ দেশের ২০১ জনের বেশি কর্মী ছিলেন, যেমন স্পেন থেকে ৩০, ইতালি থেকে ২২, তুরস্ক থেকে ২১, এবং মালয়েশিয়া থেকে ১২ জন। তিনি জানান, তাদের এই অভিযানে আটক হলেও ‘মিশন চলমান’।

    অন্য নৌযানগুলো এখনও ভূমধ্যসাগর পার করে গাজার অবরোধ ভাঙার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে, মাত্র ঘণ্টা দুখর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কিছু জাহাজ গাজা উপত্যকার কাছাকাছি অবস্থান করছে, মাত্র ৮৫ কিলোমিটার দূরে। আবুকেশেক আরও বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৩০টি জাহাজ এখনো দখলদার সেনাদের বাধা এড়িয়ে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত। তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অনুপ্রেরণায় ভরপুর। ভোরের মধ্যে এই অবরোধ ভেঙে একসঙ্গে গাজায় পৌঁছানোর জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নিহত ৬৫, যুদ্ধবিরতি অনির্দেশ্য

    গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নিহত ৬৫, যুদ্ধবিরতি অনির্দেশ্য

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক দিনে আরও অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই অবরুদ্ধ শহরটি মারাত্মক ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যেখানে স্কুল, ঘরবাড়ি এবং শরণার্থী শিবির সবই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর ফলে হাজারো মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু পালানোর পথে তারা নির্মম হামলার শিকার হচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কোনো লক্ষণ দর্শন করছে না। बुधवार ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত অন্তত ৬৫ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হামাসের পক্ষ থেকে আশা জাগানো কোনো বার্তা নেই যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি মানবে।

    বুধবার গাজার জায়তুন এলাকার আল-ফালাহ স্কুলে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই স্কুলটি এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। হামলার পরপরই ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও, আরও একটি হামলা তাদের আহত করে।

    আহতদের মধ্যে মুন্তাসির আল-দাহশান নামে একজন সিভিল ডিফেন্স কর্মী পরে মারা যান। আল-আহলি আরব হাসপাতালে জানানো হয়েছে, এতে কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়।

    একই দিনে দারাজ মহল্লায় একটি বাড়িতে হামলার ফলে সাতজনের মৃত্যু হয়। গাজার দক্ষিণ-পূর্বে অন্য এক হামলায় এক শিশুও মারা গেছে। এই সব ঘটনাসহ মোট ৬৫ জনের মধ্যে ৪৭ জনই গাজার মূল শহরটির বাসিন্দা।

    গাজার সবচেয়ে বড় শহরটি এখন ইসরায়েলের অবিরাম বিমান মানব হামলার শিকার, যার ফলে নগরীর অবস্থা দিন দিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, বাড়িগুলো ও স্কুলের ধ্বংসলীলা চলছে। মানুষ দ্রুত দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু পিছু ছুঁড়ে হামলার শিকার হচ্ছেন।

    আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রস জানিয়েছে, গাজায় তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হচ্ছে। কিছু দিন আগে ডক্টরস উইদআউট বার্ডার্সও (এমএসএফ) এই ঘোষণা দিয়েছিল। তবে রেড ক্রস বলছে, দির আল-বালাহ ও রাফাহর অফিস থেকে যতটা সম্ভব তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

    এছাড়াও, গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা আল-রাশিদ সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে এই রাস্তাটিকে ধরে পালাচ্ছে।

    গাজার পশ্চিমে আল-শিফা হাসপাতালের প্রাঙ্গণে অজ্ঞাত ১১ জনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এই হাসপাতালটি এখন টানা হামলার মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কিডনি রোগীদেরও জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

  • মরক্কোতে জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল, পুলিশ স্টেশনে আগুন, নিহত ২

    মরক্কোতে জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল, পুলিশ স্টেশনে আগুন, নিহত ২

    উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো এখন জেনে গেছে তরুণ প্রজন্মের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের ঝড়। গত বুধবার মরক্কোর উপকূলীয় শহর আগাদিরের লাকলিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এই বিক্ষোভের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হলো ‘জেনজি ২১২’ নামের এক অখ্যাত ও কম পরিচিত সংগঠন, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বুধবার লাকলিয়ায় একদল বিক্ষোভকারী পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্র লুট করানো। এই সংঘর্ষে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে গোলাগুলি ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হন এবং অন্যান্যরা আহত হন। বিক্ষোভকারীদের হাতে কিছু ছুরি থাকলেও তারা পুলিশ গুলির মুখোমুখি হওয়ার আগে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। তারা থানার সামনে ও পুলিশের গাড়িগুলোর উপর আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কিছু দোকান-বাস্তবস্থাক লুটপাট করে।

    প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে এই বিক্ষোভ সহিংসতা রূপ নেয়। এর মধ্যেই মরক্কোর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে মারাকেশের পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালানো অন্তর্ভুক্ত। শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, তারা এ যুদ্ধের ব্যাপারে সচেতন ও উদ্বিগ্ন।

    বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে তিনটি: ব্যাপক বেকারত্বের অবসান, দুর্নীতি দূর করা, ও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা। সংসদ সদস্য ও নাগরিকরা দাবিগুলো দ্রুত মান্য করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।

    বিক্ষোভের সূচনা হয় ২৮ সেপ্টেম্বর রাবাতে। তখন থেকেই তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ ফুটে উঠে। বিশেষ করে, জেনজি ২১২ নামে সংগঠনটি তরুণদের বিক্ষোভে নামার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে এসেছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে তরুণদের আহ্বান জানানো হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, আজকের মরক্কোতে যুবকদের মধ্যে বিষন্নতা, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিষাক্ত ছড়াছড়ি চলছে। তরুণদের মধ্যে ৩৫.৮ শতাংশ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাপিয়ে থাকা স্নাতকদের মধ্যে ১৯ শতাংশ বর্তমানে বেকার। গত চার দিনে এই আন্দোলন ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে, সংগঠনের সদস্য সংখ্যা আগে ছিল মাত্র ৩ হাজার, যা এখন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপের দিকে এগোচ্ছে, তবে কিছু শহরে – ক্যাসাব্লাঙ্কা, ওউজদা ও তাজায় – এখনও কোনও সহিংসতা ঘটেনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখান্নৌচের পদত্যাগের দাবি ধীরে ধীরে জোরদার হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অস্থির হয়ে উঠছে।

  • ইথিওপিয়ায় গির্জার অস্থায়ী নির্মাণকাঠামো ভেঙে নিহত ৩৬

    ইথিওপিয়ায় গির্জার অস্থায়ী নির্মাণকাঠামো ভেঙে নিহত ৩৬

    আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় এক ভয়াবহ ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটেছে যেখানে একটি গির্জার অস্থায়ী নির্মাণকাঠামো ভেঙে পড়ে কমপক্ষে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে মূলত ভার্জিন মেরি উৎসবের সময়, যখন হাজারো তীর্থযাত্রী গির্জায় একত্রিত হন। আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দেশটির আমহারা অঞ্চলের আরেরতি শহরে, যেখানে রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন মেনজার শেনকোরা নামে একটি গির্জায় হাজারো মানুষ ভার্জিন মেরি উৎসব বা আর্জেনতা পালন করছিলেন। তখনই হঠাৎ করে কাঠের নির্মাণকাঠামো ধসে পড়ে।

    আহমেদ গেবেয়েহু, স্থানীয় পুলিশ প্রধান, সংবাদমাধ্যম ফানা’কে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৬ জনে পৌঁছেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতের সংখ্যা আনুমানিক ২০০ জনের কাছাকাছি। বেশ কিছু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে জানানো হয়েছে।

    আতনাফু আবাতে, স্থানীয় একজন কর্মকর্তা, ইথিওপিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (ইবিসি) সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, উদ্ধারকাজ চালানোক্রমে চলছে, তবে তারা পুরোপুরি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে রাজধানীর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ইবিসির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবি অনুযায়ী, ভাঙা কাঠের স্তূপের মাঝে মানুষ জড়ো হয়ে আছেন। অন্যান্য ছবিতে দেখা যায়, গির্জার বাইরের ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো ধসে পড়ার দৃশ্য। এই দুর্ঘটনা দেশের শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

  • উৎসব মানুষের মনকে মিলনের অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ করে

    উৎসব মানুষের মনকে মিলনের অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ করে

    মধ্যযুগের কাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দুর্গাপূজা কখনো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও পালন হয়ে আসছে। এই পূজা মানুষের অন্তরকে মিলিয়ে দেয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। পাশাপাশি এটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মূল রীতিনীতি বজায় রেখেছে, যা ধর্মীয় বিভেদের জন্য এক অনন্য আমেজ সৃষ্টি করে। ধর্মীয় উৎসব কোনও ধর্মবিশ্বাসের গণ্ডি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে আবদ্ধ থাকেনা, বরং সব সম্প্রদায় ও মানুষকে এক করে সমাজে উদযাপনের রঙে রাঙ্গিয়ে তোলে। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের হৃদয়ে সৌহার্দ্য, প্রেম ও সহিষ্ণুতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি স্থাপন করে। দুর্গা পূজার এই আনন্দপূর্ণ সময়টিকে অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্য সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন অপশক্তির অত্যাচার কোনওভাবেই এই উল্লাসের পথে বাধা না সৃষ্টি করতে পারে। বুধবার সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা শহরে বিভিন্ন পবিত্র মন্দিরে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সোনাডাঙ্গা শ্রী শ্রী শিববাড়ি কালি মন্দির, পৈপাড়া সর্বজনীন মন্দির, বানরগাতি বটতলা মন্দির, কুন্ডুপাড়া মন্দির, বয়রা শ্মশানঘাট ও বয়রা পূজাখোলা মন্দিরে পূজা দর্শন, মিষ্টি ও ফুল দিয়ে মন্দির সমূহকে সাজানো হয়। এই সময় মন্দির পরিদর্শন করেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাংসদ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাথে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। মন্দির পরিদর্শনকালে নানা বয়সের সমাজের মানুষ অংশ নেন, যারা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকেন। এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সারসহ অসংখ্য ব্যক্তি এই আনন্দ ও ভক্তিসভায় উপস্থিত ছিলেন। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষ আরও বেশি করে একে অপরের কাছাকাছি আসতে পারে, সমাজের সুস্থিতি ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় হয়।

  • আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই

    আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, এই বাংলার মাটিতে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বাস করে এসেছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে অক্লান্তভাবে জীবনযাপন করেছেন, আর আমরাও তাদের মতো করে এই দেশের শান্তিপূর্ণ ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে চাই।

    বুধবার শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন। এ সময় তিনি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্তরিক মতবিনিময় করেন এবং তাদের সক্ৰিয় অংশগ্রহণ ও সংস্কৃতির সাথে একাত্মতা কামনা করেন।

    মনা আরও বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতির প্রকৃত পরিচয়। এখানে কোনো বিভাজনের স্থান নেই। আমরা সবাই মিলে এই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি করতে পারি। এ জন্য প্রয়োজন ঐক্য, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মান। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আমরা একসাথে থাকি, তাহলে আমাদের দেশ হবে সত্যিকারের শান্তি ও সম্প্রীতির আদর্শ স্থান। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক সজিব তালুকদার, মেশকাত আলী, হাবিবুর রহমান, কাজী শান্টু, মোহাম্মদ লিটন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গোলাম কিবরিয়া, রায়হান বিন কামাল, এজাজ আহমেদ, রবিউল ইসলাম, বাবুসহ ওয়ার্ড ও থানার নেতৃবৃন্দ।