Author: bangladiganta

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানা অপ্রাসঙ্গিক দাবি উত্থাপন করছে। তিনি এ দাবিগুলোর মাধ্যমে উদ্দেশ্যার্থ করে রাষ্ট্রের শান্তি ও গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন।

    আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অতি দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশের পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। তিনি বলেন, যখনই সুযোগ পান অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলি ক্ষমতা লাভ করে, তখন তারাই দেশের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে। এজন্য তিনি সকলকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

    স্মরণ করে তিনি বলেন, কাজী জাফর আহমেদ ষাট ও সত্তরের দশকে ছিলেন একজন কিংবদন্তি ছাত্রনেতা। তার বক্তৃতা শুনে তরুণরা অনুপ্রাণিত হতো। তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বললেন, যখন তিনি স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে যোগ দেন, তখন বিএনপি ও দেশের অনেকেই কষ্ট পায়। তবে অন্তর থেকে তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রপ্রিয় ব্যক্তি, যা তার বিপ্লবী আদর্শের প্রমাণ।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করতে নানা দাবি তুলছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মতো বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্পষ্ট নয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর ফলে ভোটের সত্যিকার ফলাফল বোঝা ও গ্রহণ অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে।

    বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দ্রুত নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের সাত-আট দিন পর আমি ঘোষণা করেছিলাম, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিন। কারণ, পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহণ করে অগণতান্ত্রিক শক্তিরা ক্ষমতা আঁকড়ে যায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

    ২০০৭ সালে এক-এগারো আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তখন দেরিতে নির্বাচন হওয়ায় ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতা হাতে নেয়, যা দেশের ১৬ বছরের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ক্ষতি হয়।

    মির্জা ফখরুল সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সংকটের সময় উঠে দাঁড়াতে জানে। তার মতে, বাংলাদেশ বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে।

    অবশেষে তিনি মরহুম মাওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যারা দেশের জন্য আপ্রাণ সংগ্রাম করেছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। দেশকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা সকলের দায়িত্ব।

  • ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

    ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। এই বার মোট ৪৭১ জন প্রার্থী ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যার মধ্যে ৬২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। কার্যক্রমের তৎপরতায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট চৌধুরী ভবনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে ২৮ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়াও, নির্বাচন অযোগ্য হয়ে যাওয়া ১০ জন প্রার্থী আপিল না করায় তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে হয়েছে। এরপর, চূড়ান্তভাবে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পদভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যা অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক ১৯ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ২৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ১৭ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ১১ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ১২ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা ৯ জন, ক্রীড়া ১৩ জন, ছাত্র পরিবহন ১২ জন, সমাজসেবা ১৭ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ১৫ জন, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক ১১ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ১৫ জন এবং সদস্য পদে মোট ২১৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থী মোট ৬২ জন, যাদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে একজন, এজিএস ৪ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ২ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া ৯ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ৩ জন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ২ জন, সমাজসেবা ১ জন, ক্রীড়া ১ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা ৩ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ২ জন, মানবাধিকার ও আইন ৩ জন এবং সদস্য পদে ২৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছাত্রকদের মধ্যে আস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরাও বেশ উৎসাহিত। প্রার্থীরা উৎসাহ দেখিয়েছেন এবং ভোটারাদের মধ্যেও অপ্রতিরোধ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদি এই উৎসাহ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকে, তবে নিখুঁত ও নিঃস্পৃহ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ভোটের দিন ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত হয়েছে এবং নির্বাচনি কেন্দ্রে সব ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও ভাবা যেতে পারে, তবে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশের প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

    সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

    দেশের সব থেকে উচ্চ আদালত আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদার মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে করা আপিলের বিচার আবারও শুনানি হবে। একই সঙ্গে অ্যাপিলের নম্বর এবং তার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হলো ৪ নভেম্বর। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেয়।

    ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার করে দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নির্ধারণ করে। ওই রায় প্রকাশ পায় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। এই রায়ে বলা হয়, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন, তাই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে তাদের উচ্চতা নির্ধারণ করা উচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সরকারি সচিব, জেলা জজ ও সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান।

    রায় অনুযায়ী, জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৬ নম্বর থেকে ২৪ নম্বরের মধ্যে থাকবেন এবং তারা সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা জজ। সরকারের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সচিবরা রয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা জজ ও অন্যান্য বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, অর্থাৎ ১৭ নম্বর পদের কাছাকাছি।

    আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সময়ই ব্যবহার করা উচিত। এটি নীতিনির্ধারণ বা অন্য কোনও কার্যক্রমে প্রয়োগ করা যাবে না।

    প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি হয়, যা পরে ২০০০ সালে সংশোধন করা হয়। মূলত, এই ওয়ারেন্টের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তখন এই ওয়ারেন্ট বাতিলের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন যাতে এই নথির ব্যবহার সীমিত হয়।

  • দেশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমতে পারে

    দেশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমতে পারে

    বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতেও পারে বলে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

  • নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ: সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতება

    নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ: সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতება

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্য নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, রোডম্যাপটি অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম ও ভোটগ্রহণের জন্য অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সময়মতো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরের পর নির্বাচন কমিশন এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে।

    সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক সংসদীয় এলাকার সঠিক ভৌগোলিক সীমান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এই গেজেটে দেশের ৩০০টি সংসদীয় এলাকার সীমানা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি জিআইএস (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা) ম্যাপও প্রকাশ করা হবে, যা ডিজিটাল ফরম্যাটে সেসব এলাকার সীমানা নির্ধারণে বলবৎ থাকবে। এর মাধ্যমে ভোঁগোলিক নির্দিষ্টতা, স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়াও পুরোপুরি চলমান। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিলে, তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো, কারাবন্দি ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ব্যক্তিদের কাছে বিলট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা ভোট দিতে পারেন। এই পদক্ষেপটি নাগরিকের ভোটাধিকার সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

    নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এই সংস্থাগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সচেতনভাবে উপস্থিত থেকে নির্বাচনকে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রাখার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    তাছাড়া, নির্বাচন বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের সাথে সভা আলোচনা অব্যাহত আছে। এই কার্যক্রম আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

    নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থেকেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা চলে ভোটের কয়েকদিন আগে পর্যন্ত। পাশাপাশি, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যালট বাক্সও চূড়ান্ত করা হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাজেট চূড়ান্ত করার কাজ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হয়। ভোটের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য নানা দিক বিবেচনা করে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ধাপ সময়মতো এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আওতাভুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক হবে। তারা বিশ্বাস করেন, এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করে তুলতে পারবেন।

  • ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

    ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

    জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। অভিযোগে জানা গেছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তির প্রলোভনে তিনি একটি সমন্বয়ক গ্রুপের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকার চেক এবং ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ গ্রহণ করেছেন। এই দুর্নীতির অভিযোগের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করার চেষ্টা করেছেন বলে সন্দেহ করছে দুদক।

    দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বিশেষ একটি দলের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারা ডা. মোস্তফার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে তার অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অঘোষিত সম্পদ এবং অসাধু প্রক্রিয়ায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

    অভিযোগে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডা. মোস্তফা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য চেষ্টার অংশ হিসেবে চেক এবং নগদ অর্থ সমন্বয়ক গ্রুপের কাছে দেন। এই লেনদেনের সময় একজন মধ্যস্থতাকারী আছেন, যার নাম আরিফুল ইসলাম। তিনি নিজের পরিচয় দেন সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই হিসেবে এবং ডা. মোস্তফার চেম্বার থেকে সরাসরি ওই চেক গুলো গ্রহণ করেন। যদিও আরেফিন নিজে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি ফোনে যোগাযোগ করেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এই চেকগুলোতে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো আসলে সিকিউরিটি চেক ছিল এবং চেক গ্রহণের সময় অফিসে প্রবেশকারী কিছু ব্যক্তি সম্ভবত অস্ত্র ধারণ করে ছিল, যা তাকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করে। তিনি আরও বলেন, এই সব ঘটনা অবৈধ এবং তার কাছ থেকে স্বেচ্ছায় এই চেকগুলো নেওয়া হয়নি।

  • সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা

    সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা

    দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচির ব্যাপক ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম, প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুয়েটসহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার থেকে এই শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার বুয়েটে তাদের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কিছুটা স্তব্ধ থাকে কর্মসূচির উদ্যোগ। বুয়েটের এক সরাসরি সংযুক্তiz শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, দুপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবরোধ করেনি বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়নি।

    প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে— ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দটি ব্যবহার করতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে পদোন্নতি না দেওয়া এবং স্নাতক প্রকৌশলীর জন্য দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা।

    অপরদিকে, গতকাল বুধবার বিকেলে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও পাঁচ দফা দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই দাবিগুলোর মধ্যে প্রধানগুলো হল—

    ১) প্রকৌশল আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে ক্ষমা চাইতে ও তার জবাবদিহি করতে হবে।

    ২) প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে গঠিত কমিটিকে অযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত নতুন এক কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক এবং মূল stakeholders অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই কমিটির মাধ্যমে তিন দফা দাবিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের এই নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

    ৩) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ডিসি মাসুদকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।

    ৪) হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় সরকারকে বহন করতে হবে এবং আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দ্বারা কোনো ধরনের additional হামলা সহ্য করা হবে না।

    ৫) রোকন ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন যে, দাবি না মানা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি মানা না হলে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২১ অক্টোবর

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২১ অক্টোবর

    আদালত আজ ঘোষণা করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) এই সিদ্ধান্ত নেন। শুনানির শুরুতে বিচারপতি শিশির মনির অভিযোগ করেন, যেসব বিচারপতি এই রায় দিয়েছিলেন তারা পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছে রিভিউতে নতুন করে আলোচনা হওয়া দরকার।

    আদালত সুস্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবছে এবং এমন একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে চায়, যাতে ভবিষ্যতেও নির্বাচনপ্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত না হয়।

    বিচারপতি শিশির মনির মো mouths গোপন করেন যে, ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ এই ব্যবস্থা মান্যতা দিয়েছিল। ওই সময় এই সংশোধনী সংবিধানসম্মত বলে রায় দেয়ার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। ২০০৪ সালে এই সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট, কিন্তু পরে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিলের আদেশ দেয়।

    অতীতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার—all এই রায় আবার দেখার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়, যা ২০০৪ সালে হাইকোর্ট বৈধ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে শেষ জাতীয় নির্বাচন হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ বেশি আসনে জয়লাভ করে। তবে, ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়, যা এখনও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

  • নির্বাচকালীন সরকার বিষয়ক সমাধানে আপিল বিভাগের জোর দাবি

    নির্বাচকালীন সরকার বিষয়ক সমাধানে আপিল বিভাগের জোর দাবি

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার প্রয়োজন নেই। তার মতে, আপিল বিভাগ এই বিষয়ে একটি কার্যকর এবং স্থায়ী সমাধান চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের সমাধান চিরস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বুধবার (২৭ আগস্ট) এর শুনানি চলাকালে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

    সেই দিন সকালে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা চারটি আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরু হয় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে, যেখানে নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সহ ৭ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। উভয় পক্ষই তাদের দাসত্বপ্রাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রথম দিন এই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছিল। এটি বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছয় ব্যক্তির করা চারটি আবেদনের জন্য ছিল।

    ইতিহাসের দিকে তাকালে বুঝা যায়, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বৈধ বলে ঘোষণা দেন।

    প্রথমে, অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এই ব্যবস্থা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০০৫ সালে তা আপিল বিভাগে আসে। এরপর, ২০১১ সালে আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।

    এই রায়ের পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলোপসহ অন্যান্য কিছু পরিবর্তনের জন্য ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। এরপর, ৫ আগস্ট সরকার বদলে যায়, এবং এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবারও অনেকে আবেদন করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সুজন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্য ব্যক্তিদের কয়েকটি আবেদন। প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরই বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও এই রায় পুনর্বিবেচনায় আবেদন করেছেন।

  • নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে প্রকাশ করবে ইসি জানালো

    নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে প্রকাশ করবে ইসি জানালো

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাঁধা খসড়া রোডম্যাপের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে। বুধবার (২৭ আগস্ট) ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সংলাপ চালানো হবে।

    একই সময়ে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চলমান শুনানিও চলছে ইসিতে। আজকের শুনানিতে জামায়াত মযদা সমর্থিতরা সাঁথিয়া নিয়ে দাবি জানায় এবং পাবনা-১ আসন গঠনের জন্য দাবি উপস্থাপন করেন। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর সন্তান নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বেড়া ও সুজানগর নিয়ে আরও একটি আসন তৈরি করার প্রস্তাব দেন। তবে, ইসির খসড়া সীমানা অনুযায়ী, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার কিছু অংশের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশনের জন্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানার ওপর শুরু হয়েছে শেষ দিনের শুনানি। সকাল ১০টায় এই শুনানি শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মকর্তারা।

    শুনানিতে সিরাজগঞ্জ-২ ও ৬ আসনের বাসিন্দারা ২০০১ সালের মতো সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের দাবিতে অংশ নেন। এ সময় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বাসিন্দারা ২০১৪ সাল অনুযায়ী, চিলমারী উপজেলার রানিগঞ্জ, থানাহাট, রমনা ও চিলমারী ইউনিয়নকে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জানান। ইসি এ সকল দাবির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও প্রকাশের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য খসড়া সংসদীয় সীমানার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।