জেএফএ কাপ অধীননের অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে থাকায় খুলনা জেলা মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই মিলনমেলা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই জয়ের জন্য তারা সত্যিই গৌরবের পাত্র। খেলাধুলা মন ও শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে, তাই এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে কঠোর পরিশ্রমে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাফল্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা খুলনার মান মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তুলবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আলিমুজ্জামান, খুলনা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, কোষাধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম খান কালু, কার্যনির্বাহী সদস্য এম এ জলিল, মনিরুজ্জামান মহসীন ও এজাজ আহমেদ। উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে খুলনা জেলা মহিলা দল ৩-১ গোলে মাগুরা জেলা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খুলনা দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী খেলোয়াড়রা হলেন: লাকি, ইসরাম খান, বিপাশা আক্তার তিশা, জৈতি রায় মুন্নী, আলো খাতুন, রিমা সরকার, দিয়া মন্ডল, তানিশা আক্তার তন্নী, ঐশ্বর্য্য বাছাড়, খাদিজা খাতুন, সুমী খাতুন, সানজিদা সুলতানা ও দৃষ্টি মন্ডল।
Author: bangladiganta
-

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে সম্প্রতি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার জন্য দায়ী মূলত বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় যখন প্রধানমন্ত্র নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানী ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দলের যোগ্য কর্মীরা দলের পতাকার ডান্ডা হাতে একে অপরকে মারধর করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতি করে তোলে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে। কংগ্রেস ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে, দরভাঙ্গায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে, পাটনায় বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়, সেখানে কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
বিহার রাজ্যের পরিস্থিতিও গুরুতর। বিহারের পাটনায় বিজেপি নেতারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে, যেখানে কংগ্রেসের কর্মীরা পাল্টা আন্দোলনে অংশ নেয়। পাটনায় সংঘর্ষে অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কলকাতা শহরেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের বিধান ভবনের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশে বিজেপি সমর্থকররা কংগ্রেস দপ্তরে ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযোগের সুরে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতি দেউলিয়া না হলে এই ধরনের কাজ কেউ করে না। মোদি-প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়ার জেরেই এই হামলা হয়েছে, এবং এটি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন আমরা। দোষীদের দৃষ্টিতে আনা ও সাজা দেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ জানান, প্রত্যক্ষতভাবে এই ঘটনার পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে এবং তিনি নীতীশ কুমারের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জবাব দেব।’ অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মায়ের অপমানের বদলার জন্য বাংলার প্রতিটি ছেলে কংগ্রেসকে দেবে। আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি এত নিচে নেমে গেছে যে, তারা দেশের উন্নয়নের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ভাষা লজ্জার ও গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্কজনক।’
বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও বলেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা অতিক্রম করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ও তার প্রয়াত মায়ের সম্মাননির্বাচন অশোভন ও অবমাননাকর। আমি এর নিন্দা জানাই।’
-

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দণ্ডবিধির অবৈধ ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর দেশটির সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই ফোনকলটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়। ফোনালাপে তিনি তার দেশের সেনাদের সমালোচনা করেন এবং বলেন, তাদের কারণেই কম্বোডিয়ার একটি সেনা নিহত হয়েছে। এই রেকর্ডটি ভাইরাল হলে দেশের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাস পরই থান্ডার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্ত হয়।
প্রথমে জানা যায়, ১৫ জুনের ওই ফোনালাপে পেতোংতার্ন আবারও বলেন, “যেকোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাতে পারেন। আমি বিষয়টি দেখব।” এই বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সীমান্তে তখন উত্তেজনা চরমে থাকায় জাতীয়তাবাদে গা গাঢ় হয়ে উঠে সাধারণ মানুষের মনোভাব। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, তিনি গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এর পর তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, তিনি কেবল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য এ কথাগুলো বলেছেন।
রায় ঘোষণার পর, সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পান্তোংতার্ন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বলেছেন, তার লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। এ সময় তিনি যোগ করেন, তিনি দেশের নাগরিক ও সেনাদের সুরক্ষায় কাজ করেছেন। তবে, ১ জুলাই দেশটির সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় থাকেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম থাইল্যান্ডে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা হারিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রমাণ।
-

ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একটি হামলা চালায়। এই হামলায় দখলদার বাহিনী সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে, যেখানে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনি সংবাদ মাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কয়েকজন সঙ্গীও প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, এডেন আল-ঘাদ বলা হয়েছে, এই হামলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কিছু বিদ্রোহী নেতা মারা গেছেন। ইসরায়েলি হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলা চালানোর সময় হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চোরেকভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। বেসামরিক সূত্রের মতে, এই অত্মঘাতী হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা, যারা ইরান সমর্থিত। এরপর থেকে তারা নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন, যার মুখপাত্র ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাহাভি। এই পরিস্থিতিতে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি এখনো অস্থির, এবং দেশটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। অপরদিকে, ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বরতা চালিয়েই চলেছেন, যেখানে তারা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। তবে, এই বিষয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরই নিশানা করা। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
-

ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ
নৌবাহিনীর একটি জাহাজে তুলে নিজ অভিবাসনের স্বপ্ন ছুঁড়ে ফেলে বাংলাদেশ, তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলো রোহিঙ্গাদের দাবি করেছেন ৪০ জন শরণার্থী। তারা বলছেন, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে তাদের ধরে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা জীবনের ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। এই ঘটনা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে ঘটেছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য ভবিষ্যৎ রয়েছে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের মতে, ভারতে থাকা এই রোহিঙ্গাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে। ব্রিটিশ ব্রেকিং সংবাদমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের পর বহু রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও বাংলাদেশে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। বর্তমানে, ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেলেও, রীতিমতো চাপের মধ্যে থাকেন তারা। গত মে মাসের ৬ তারিখে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় পুলিশ ডেকে আনা হয়। বলানো হয়, তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের জন্য। এরপর তাদের হিন্দুস্তানইন্দিরা বিমানবন্দর থেকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে, বাসে চলন্ত তারা জানায়, তাদের গায়ে বাঁধা হয়েছিল প্লাস্টিকের রশি এবং মুখোশ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, তাদের একটি নৌবাহিনীর বড় জাহাজে তোলা হয় যেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলেন। এই সময়ে তাদের সাথে মারধর, অবমাননা ও হয়রানি করা হয়। সাক্ষাৎকারে-ফলে জানা গেছে, তাদের অনেকের হাতে আঘাতের দাগ, বেধড়ক মারধর এবং অবমাননাকর আচরণ সহ—তাদের প্রশ্ন করা হয় কীভাবে তারা অবৈধভাবে ভারতে এসেছেন। এটি বিশেষ করে আশ্চর্যজনক যে, সাতজনের মধ্যে চারজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গাকেও জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম ছেড়িয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। এমনকি, একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায়, ছোট ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামাতে বাধ্য করা হয় তাদের, যেখানে হাত বাঁধা ও লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে—কিন্তু আসলে তারা মিয়ানমারে ছিল। পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়, এবং তাদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়, যেখানে তারা স্বজনদের খবর দেয়। এরপর থেকেই মিয়ানমারের বাহটু আর্মি তাদের সহায়তা দেয়, কিন্তু ভারতে থাকা পরিবারগুলো এখন বড় আতঙ্কে। জাতিসংঘের দাবি, ভারতের এচর্য্য এই রোহিঙ্গাদের জীবন ‘চরম ঝুঁকিতে’ ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদে, মে মাসের শেষে, নুরুল আমিন ও তার আত্মীয়রা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় এবং এই নির্বাসন বন্ধ হয়। তবে ভারতের একটি আদালত এই অভিযোগকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে আখ্যায়িত করে, এবং মামলাটি সেপ্টেম্বরে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে, ভারতের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ গা ঢাকা দিয়েছে, কেউ বাসায় থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার কাছে শুধু ভয় কাজ করছে, কখনও ভারতের সরকার আমাদেরও সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। আমি এখন ঘর থেকেও বের হতে ভয় পাচ্ছি।” জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি, তারা রক্ষা পেতে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমারের ভয়ংকর সহিংসতা থেকে।” এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত এখন চলমান, এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে এই ঘটনায়।
-

গাজা শহরকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা দখলদার ইসরায়েলের, নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার
গাজা উপত্যকায় এক বড় যুদ্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যখন দখলদার ইসরায়েল গাজা শহরকে সম্পূর্ণরূপে ঘোষণা করেছে যে এটি এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচালিত হবে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আফিসিয়ালভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে গাজা শহরে কোনও ত্রাণ সহায়তার জন্য বিরতি দেওয়া হবে না।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা শহরে হামলার প্রাথমিক পর্যায় শুরু করেছি এবং এখন স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃহৎ শক্তি নিয়ে অপারেশন চালাচ্ছি।’ এর আগে মে মাসের শেষের দিকে গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিল করে ইসরায়েল। তখন তারা জানিয়েছিল, আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি চলবে না এবং এটি এখন একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে।
অতীতে, ইসরায়েল গাজায় কৌশলগত বিরতি ঘোষণা করে তখন বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহযোগিতায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হামলা বন্ধ রাখত। কিন্তু এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই গাজায় সক্রিয় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। আগস্টের শুরু থেকেই গাজা শহরের বিভিন্ন অংশে তারা বোমাবর্ষণ ও ট্যাংক অবস্থান করে রেখেছে।
এটির কারণে দিন দিন বেশির ভাগ নিরীহ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক রাতে কমপক্ষে ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ২৪৪ জন আহত হন। নিহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩৫২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, গাজার হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারে অনাহার ও অপুষ্টি পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই সময়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মোট প্রাণহানি ৩২২ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য নিতে গিয়ে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সহায়তার জন্য চলমান সংঘর্ষে ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০২০৩ জন নিহত এবং ১৬,২২৮ জন আহত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ২৭ মে থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পর থেকে প্রতিদিনই এই ত্রাণ কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রাণহানির ঘটনাগুলি ঘটছে। এসব শনাক্তের পর অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
-

খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
খুলনা জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বদলি হওয়ায় খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এক অপূর্ব বিদায়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আয়ব্যক্ত এনামুল হক এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নূরুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য শেখ দিদারুল আলম, কৌশিক দে, পাশাপাশি ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা যেমন মোঃ এরশাদ আলী, মোঃ রাশিদুল ইসলাম, এইচ এম আলাউদ্দিন, মোস্তফা জামাল পপলু, এহতেশামুল হক শাওন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আব্দুর রাজ্জাক রানা ও মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সদস্য, যেমন আহমদ মুসা রঞ্জু, কাজী শামীম আহমেদ, এস এম ইয়াসীন আরাফাত রুমী, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ কামরুল হোসেন মনি ও অভিজিৎ পাল।
অনুষ্ঠানের शुरुआत হয় মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে, এবং শেষে তার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এই প্রিয় নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ও সহানুভূতি তাঁকে বিদায়ের সময় আরও স্পেশাল করে তোলে।
-

রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল ও ইট তৈরির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
খুলনার আঠারোবেঁকী নদীর তীরে অবস্থিত রূপসার নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভূপৃষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও চৌকি দোকানদার ও নির্মাণ ব্যবসায়ীরা জোরপূর্বক দখল করে ইট ভাটার জন্য মাটি দিয়ে পট (ইট তৈরির আংটি) বানিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা দখল করে ব্যবসা বিলীন করার জন্য এলাকাবাসী বিভিন্ন বার চেষ্টা করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি এই রাস্তা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দখলমুক্ত করা জরুরি। তারা হুঁশিয়ার করেছেন, অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা দখল করে ইট তৈরির জন্য পট বানিয়ে ব্যবসা করায় এলাকাটির জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করত এক সময় সৎকারের জন্য শ্রমজীবী মানুষজনও, কিন্তু এখন দখলদাররা এ রাস্তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে ক্রীড়া সংগঠক সাধন দে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী রাস্তা। অনেক বছর আগেও এই রাস্তা দিয়ে নেহালপুরের শ্মশানে মরদেহ আনা হত, কিন্তু এখন দখল ও ব্যবসার কারণে এই সড়ক অচিরেই বিলীন হওয়ার পথে।
আরেক বাসিন্দা মোঃ রাকিব শেখ বলেন, এটি ছিল পুরাতন ঐতিহ্যবাহী রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে এমএনএস ব্রিকসের মালিক মিঠু এবং এর আগের মালিক সাত্তার এই রাস্তা দখল করে ইট তৈরির জন্য ব্যবহার করছেন। এর ফলে রাস্তার দখল ও ধ্বংসের কারণে এলাকাবাসির দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।
এমএনএস ব্রিক্সের ম্যানেজার মিজানুর রহমান দাবি করেন, মালিক মিঠু এই ইটভাটার জন্য পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন এবং সরকারি রাস্তা দখলের বিষয়টি তার জানা নেই বা কোনো আপত্তি করেননি। তিনি বলেন, সরকার চাইলে রাস্তা ফিরিয়ে দিতে পারে, এতে কোনো সমস্যা হবে না।
অপরদিকে, স্থানীয় সার্ভেয়ার মোঃ খবিরুদ্দিন জানিয়েছেন, এটি একটি জেলা পরিষদের রাস্তা। মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য এই রাস্তা গুরুত্বぽূর্ন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তিনি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু এখনও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা যুবদলের সদস্য ও নৈহাটী কালিবাড়ি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির বিলাহ বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তা দখল করে দুই বছর ধরে ইট তৈরির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মালিকরা, যা দ্রুত বন্ধ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাবেক সিবিআই ব্রিকসের মালিক আঃ সাত্তার সাহেব জলজ্যান্ত সময়ের বিভিন্ন সময়ে সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে রাস্তা মুক্ত করার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। দুই বছর আগেও সিবিআই ব্রিকসের মালিকের কাছ থেকে মোঃ মিঠু এই রাস্তা লিজ নিয়ে একইভাবে দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা আক্তার রিক্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারও সক্রিয় হতে শুরু করেছে: তুহিন
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষে নির্বাচনী মনোনয়নপ্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার মাধ্যমে তারা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারা সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভিন্ন পথে নিতে চায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা আসন্ন নির্বাচনের নামে দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার জন্য নীলনকশা করছে। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই গণতন্ত্র বা মানুষের অধিকারকে সমর্থন করেনি। তাদের সব ষড়যন্ত্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে ধ্বংস হবে। ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আকতার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হাসনাত আবির, সৌমেন সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
-

জামায়াত সরকার গঠন করলে ব্যবসায়ীদের জন্য থাকবে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দেশের উন্নতি এবং অগ্রগতি মূলত তার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির উপর নির্ভর করে। তাই নির্বাচিত সরকারগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নির্বিঘ্নে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করতে সহযোগিতা করে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারলে তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তবে দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে এর বিপরীত দৃশ্য দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারি করে জিনিসপত্রের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন, ফলে মূল্যবৃদ্ধি হয়। তবে সৎ, নৈতিকতা সম্পন্ন বিবেকবান মানুষ এমন কিছু করতে পারে না। জামায়াতে ইসলাম চায়, এই দেশের সৎ, নৈতিক ও বিবেকবান মানুষই ব্যবসায় যুক্ত থাকুক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরাও অনেকবার অযৌক্তিক চাপে পড়েন। নির্দয় চাঁদাবাজি, অবৈধ টাকা আদায়ের জন্য চোরাপথে চাঁদা দাবি, এমনকি চাঁদা না পাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পাথর ছুঁড়ে হত্যার মতো ঘৃণ্য ঘটনা প্রতিদিনের সংগ্রামের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বর্বরতা আমাদের সমাজের অশুভ দিকগুলোকে উসকে দিচ্ছে। আমরা এমন নৃশংস সমাজ চাই না। এক কথায়, আল্লাহর রহমত ও আপনাদের ভালোবাসায়, যদি জামায়াত সরকার গঠন করতে পারে, তবে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা চালাতে পারবেন। আর কেউ চাঁদাবাজি বা হত্যা সূচক পরিস্থিতিতে পড়তে থাকবেনা। সকলের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
