Author: bangladiganta

  • প্রিয় কমেডিয়ান রেজিনাল্ড ক্যারলকে গুলি করে হত্যা

    প্রিয় কমেডিয়ান রেজিনাল্ড ক্যারলকে গুলি করে হত্যা

    মার্কিন কমেডিয়ান রেজিনাল্ড ক্যারলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে ২০ আগস্ট রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি রাজ্যের সাউথহ্যাভেনে। নিহত শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    সাউথহ্যাভেন পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বার্টন লেনে গুলির ঘটনাটি জানার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা রেজিনাল্ড ক্যারলের জীবন রক্ষার জন্য অপারেশন চালান, কিন্তু তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

    একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। পুলিশ ওই কমেডিয়ানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

    প্রিয় কমেডিয়ানের মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও অনুরাগীরা গভীর শোকপ্রকাশ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা বিভিন্ন পোস্টে তার প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের জন্য প্রশংসা এবং श्रद्धাঞ্জলি জানিয়েছেন। রেজিনাল্ড ক্যারলের ভাই জোনাথন ক্যারল এসব দুঃখজনক সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করে আর্শীবাদ জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের জন্য এই সময়ে তিনি সাহস ও শক্তি পান।

  • সর্বকালের সেরা একাদশে ধোনি, কোহলি ও সাকিব

    সর্বকালের সেরা একাদশে ধোনি, কোহলি ও সাকিব

    এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আসরটি খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। খেলা মাঠে গড়াবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এইবারের টুর্নামেন্টের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বাংলাদেশ থেকে আজ সকালেই বাংলাদেশ দলের সদস্যরা দুটো দল হয়ে আমিরাতের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, মহাদেশীয় শিরোপা জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বেশ কিছু আনন্দের খবর, যেখানে ইএসপিএন ক্রিকইনফো প্রকাশ করেছে সর্বকালের সেরা একাদশের তালিকা।

    এশিয়া কাপের আগেই ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো বিশ্লেষণ করে এশিয়ার সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ। এই দলে রয়েছে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচাইতে প্রভাবশালী ও কিংবদন্তি কিছু ক্রিকেটার, যার মাঝে বাংলাদেশের প্রবীণ অফ স্পিনার সাকিব আল হাসানের নামটি অবশ্যই জায়গা পেয়েছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়ার সেরা এই একাদশে ওপেনার হিসেবে শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়াসুরিয়া ও মাহেলা জয়াবর্ধনের নাম রয়েছে, যারা দীর্ঘ দিন ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের কৃতিত্ব দেখিয়ে আসছেন। এরপর তিন নম্বরে মনোযোগ দেয়ার মতো ব্যাটসম্যান হিসেবে থেকে গেছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

    অপরদিকে, টি-টোয়েন্টির মারকুটে ব্যাটসম্যান সূর্যকুমার যাদব, যিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনও নিজের সামর্থ্য প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাঁকে রাখা হয়েছে চার নম্বর পজিশনে। সঙ্গে থাকছেন ভারতের ক্যাপ্টেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, যিনি এই একাদশের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সাকিব আল হাসক এই তালিকায় ছয় নম্বর পজিশনে অবস্থান করছেন, এবং তিনি একাদশের তিনজন অলরাউন্ডারদের মধ্যে একজন। আরো দুইজন অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি ও আফগানিস্তানের রশিদ খান।

    পেসার বিভাগে সুযোগ পেয়েছেন উমর গুল (পাকিস্তান), জশপ্রীত বুমরা (ভারত) ও লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)। এই বিশ্লেষণ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা দেখতে পাবেন ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় কিছু নাম একত্রিত হয়েছে।

  • আর্জেন্টিনার মাঠে শেষ ম্যাচে মেসি কাঁদলেন, সবাইকে কাঁদালেনও

    আর্জেন্টিনার মাঠে শেষ ম্যাচে মেসি কাঁদলেন, সবাইকে কাঁদালেনও

    আজেন্টিনা-ভেনেজুয়েলা ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ‘মেসিময়’। কারণ, আর্জেন্টিনার প্রাণভোমড়া লিওনেল মেসি আজ দেশের মাঠে দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন। ম্যাচে তিনি কীভাবে খেলছেন, তা জনপ্রিয়তা আর আবেগের বাঁধ মানাতে পারেননি। কিছু সময় পরপর তাঁর চোখে অশ্রু ঝরছিল।

    বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মাস মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আর্জেন্টিনা-ভেনেজুয়েলা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। এই ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন ছেলে। জাতীয় সংগীতের সময় মেসির সঙ্গে ছিলেন তাঁর তিন ছেলে। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার লেখা বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড। এমনকি জাতীয় সংগীতের সময় মেসি ও তাঁর তিন ছেলের সঙ্গে ছবি তুলেছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও রদ্রিগো দি পলরা।

    আগেই জানা ছিল যে, আর্জেন্টিনার মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে মেসি খেলতে নামবেন। ২৮ আগস্ট লিগস কাপের সেমিফাইনাল শেষে তাঁর ভাষণ এবং তার কয়েক ঘণ্টা পরই ঘোষণা হয় দলের, যেখানে লেখা ছিল ‘মেসির লাস্ট ড্যান্স’—অর্থাৎ এটি তাঁর শেষ ম্যাচ। অন্যান্য সময় মেসি যখন খেলতেন, তখন বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম উৎসবের মুখর থাকত। কিন্তু আজ উৎসবের বদলে, দেশের মাঠে তাঁর পথে থাকার দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করেছে তাঁর বিদায়বরণের অনুভূতি। গ্যালারিতে বড় করে টাঙানো ছিল মেসির বিশ্বকাপ ট্রফির ছবি। সেই ট্রফির ছবি দেখে সবাই বুঝতে পেরেছে, ২০২২ সালে তিনি সেই স্বপ্নের বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছেন।

    মেসি দেশের মাঠে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ছিলেন পুরো ৯০ মিনিট। তাঁর পায়ে বল গেলে, দর্শকদের গলা ফেটে ওঠে ‘ওলে, ওলে, ওলে…মেসি, মেসি, মেসি’ গান ভাষায়। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী রোকুজ্জো কয়েকবার দেখতে লাগলেন। ম্যাচের শেষের দিকে তাঁর মুখ ম্লান হয়ে যায়, কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, এটি তাঁর আর্জেন্টিনা জার্সিতে শেষ ম্যাচ।

    ঘরের মাঠে এই ম্যাচে মেসি দুটি গোল করেন—৩৯ ও ৮০ মিনিটে। এর মধ্যে ৭৬ মিনিটে গোল করেন লিওঁ মার্তিনেজ। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও ছিল, তবে ৮৯ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের অ্যাসিস্টে মেসি গোল করেন, কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) নিয়মে অসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

    অবশ্য, এই ম্যাচ শেষ হলেও, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপের আগে জুনে সম্ভবত নতুন এক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে পারে। তবে, এই ম্যাচই হয়ে উঠতে পারে মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ।

    আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ হবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে। এটি অনুষ্ঠিত হবে ১০ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টায়, মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে। বর্তমানে ১৭ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা বাছাইপর্বের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা।

  • জাতীয় দলে খেলতে হলে প্রথমে দেশে ফিরতে হবে, মামলা লড়তে হবে

    জাতীয় দলে খেলতে হলে প্রথমে দেশে ফিরতে হবে, মামলা লড়তে হবে

    তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান—দেশের ক্রিকেটের দুটি বড় নাম। একসময় তাদের বন্ধুত্বের গল্প শোনা গেলেও এখন তারা দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের খবরও আমাদের কাছে প্রখ্যাত। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাকিব এক বছর ধরে দেশের বাইরে থাকছেন, অন্যদিকে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত তামিম ইকবাল।

    দেশান্তরিত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকছেন সাকিব। সম্প্রতি, সেই অবস্থাকে কি পরিবর্তন করবেন, এ প্রশ্ন উঠে এসেছে। বেশ কিছু সময় আগে থেকেই জানা যায়, তামিম বোর্ড সভাপতি হলে আবারও সাকিব জাতীয় দলে ফিরতে পারেন কি না—এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা আছে।

    সম্প্রতি ডেইলি ক্রিকেটের এক পডকাস্টে তামিম স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘উনি একজন সক্রিয় ক্রিকেটার। ক্রিকেটার হিসেবে উনি এখনও বাংলাদেশের হয়ে খেলার যোগ্য। যদি তিনি এই সময়টায় ফিট থাকেন, অনুশীলনে থাকেন এবং সেটা নির্বাচকমণ্ডলী মনে করেন, তাহলে অবশ্যই তিনি দলে ফিরে আসতে পারবেন। তবে তাকে দেশের বাইরে ফেরার বিষয়টা আমার হাতে নেই। এগুলো আইনি বিষয়, যেখানে আমার কিছু করার নেই।’

    আরও উল্লেখ করেছেন, সাকিব আগে একটি এমপি পদে থাকতেন নির্দলীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা দাখিল হয়, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, তামিম বলেন, ‘আমি দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। যদি সাকিব এসব মামলার মুখোমুখি হতে পারেন এবং দীর্ঘ সময়ের খেলাধুলার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে তার জন্যই দরজা খোলা। তিনি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার, পর্তুগিজ বা আমেরিকান নন।’

    তামিম আরও যোগ করেছেন, ‘জাতীয় দলে খেলতে হলে সাকিবকে আগে দেশে ফিরতে হবে। দেশের জন্য খেলা, অনুশীলন—allই তার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আমি এটা বলতে পারি না যে, তিনি কি করবেন। তবে এটুকুই বলতে পারি, এসব তারই সিদ্ধান্ত। কারণ, তার ক্যারিয়ার, তার দেশ—এ সবই তার নিজস্ব বিষয়।’

  • জাতীয় ক্রিকেট লিগ ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু

    জাতীয় ক্রিকেট লিগ ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে দেশের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আসরের সময়সূচি। এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর শেখ রাসেল স্টেডিয়াম থেকে, যেখানে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে খুলনা ও চট্টগ্রাম। এটি প্রায় তিন সপ্তাহ ব্যাপী চলবে এবং বিভিন্ন ভেন্যুতে বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দুটি রাউন্ডের ম্যাচগুলো হবে রাজশাহীর পাশাপাশি বগুড়ার এসসি এস স্টেডিয়ামেও, এরপর বাকি ম্যাচগুলো স্থান পাবে সিলেটের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। মোট ১৩টি রাউন্ডের এই টুর্নামেন্টে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে দুটি করে ম্যাচ। মূল ভেন্যুগুলি হলো রাজশাহীর এসকেএস স্টেডিয়াম, বগুড়ার এসসিএস স্টেডিয়াম এবং সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ চার দল এখান থেকে উঠে আসবে নকআউট পর্বে, যা শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটে। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৩ ও ৩১ অক্টোবর। এই আসরটি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের মঞ্চে প্রমাণ করার বড় সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তারা নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা দেখাতে পারবে।

  • ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে খুলনা জেলা দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা

    ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে খুলনা জেলা দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা

    উৎসবের মরসুম উপলক্ষে, আগামী জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ এর জন্য খুলনা জেলা ফুটবল দল ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)। এই স্কোয়াডে মোট ২৩ জন খেলোয়াড় স্থান পেয়েছেন। রোববার ডিএফএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    খুলনা জেলা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো: ফর্টিস ক্লাব, ঢাকা থেকে শান্ত কুমার রায়; শেখ জামাল অনূর্ধ্ব-১৮ থেকে মোঃ সাব্বির খা; ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ঢাকা থেকে খান মোঃ তারা; শেখ কেমাল থেকে মাহফুজুর রহমান বাবু; উল্কা ক্লাবের মোঃ মুরসালিন; ডুমুরিয়া তরুণ সংঘ থেকে তপু তরফদার; খুলনা আবাহনী থেকে সোহেল রানা, সাইফুল ইসলাম এবং রাজু সানা; উইনার্স ক্লাবের সোহাগ গাজী ও মোঃ হৃদয় হাওলাদার; অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন নাজমুল শেখ, ফয়জুল করিম, মোঃ রবিউল ইসলাম, সাব্বির হোসাইন, সানজিদ জামান পিয়াস, মোঃ সাব্বির (বসুন্ধরা কিংস অনূর্ধ্ব-১৮), সুজন শেখ এবং মোঃ আব্দুর রাজ্জাক হিরু।

    অতিরিক্তভাবে, স্ট্যান্ডবাই হিসেবে আছেন অরবিট রায় (লিটিল ফেন্ডার্স ক্লাব, ঢাকা), হীরক মন্ডল (আরআরএফ পুলিশ ক্লাব) এবং হৃদয় বেরাগী (নতুন)।

    নির্বাচিত খেলোয়াড়দের জন্য আগামী বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ৭টার সময় খুলনা স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুশীলনে অংশগ্রহণের জন্য খেলোয়াড়দের ডিএফএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলীর নিকট রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনে রুশ হামলা

    ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনে রুশ হামলা

    রোববার সকালের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে দেখা গেছে, রাশিয়া ব্যাপকভাবে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষ্যে। এই হামলার বিশেষ দিক হলো, প্রথমবারের মতো রুশ সেনারা ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিডেনকো এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এFirstTime ইউক্রেনের সরকারি ভবনে এমন হামলা ঘটলো। হামলায় ভবনটির ছাদ ও উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চালাচ্ছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, গত দিনটি ছিল রাশিয়ার দিক থেকে ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহারে সর্বোচ্চ, যেখানে আটশর বেশি ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিসাইল ও ৫৬টি ড্রোন বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আলাদা করে জানানো হয়, এই হামলায় আটটি আলাদা জায়গায় ড্রোন ও মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। বিবিসির সাংবাদিক সারাহ রেইনসফোর্ড বলেছেন, সকালে তিনি দেখেছেন ইউক্রেনের স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে, এবং কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার দুটি ক্রুস মিসাইল দ্রুতগতিতে উড়ে আসতে দেখে তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত ইউক্রেনের মহানগরাঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী হামলা খুবই বিরল, কারণ সেখানে সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে রোববার সকালে রাশিয়া এত ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে যে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তার পুরো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এই হামলায় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করলেন

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করলেন

    জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা আজ পদত্যাগ করেছেন। এ ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন মূলত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বিপর্যয়ের পর। নির্বাচন শেষে জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, যা দলের মধ্যে ব্যাপক চাপ তৈরি করে। অনেক নেতাই তখনই ইশিবাকে পদত্যাগের জন্য প্রাথমিক দাবি জানায়, যদিও তিনি প্রথমে সেটিকে মানতে চাননি। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্ক চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ও পার্লামেন্টে জোটের পতনের কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় অবশেষে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত তাঁর নেতৃত্বে জাপানের বিভিন্ন নির্বাচনে দল বারবার হেরেছে। এর ফলে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই তাঁর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভেঙে পড়ে এবং নিম্নকক্ষের ভোটে দল ও জোট সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অধিক উদ্বেগের ফলে জনমত ক্ষোভে রূপ নেয়, যা তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক দল ও ডানপন্থী নেতাদের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়তে থাকে। শনিবার রাতে, ইশিবার সঙ্গে তার দলীয় নেতারা বৈঠক করে তাকে পদত্যাগে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। যদিও, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে ইশিবার ঘোষণা আসার কথা রয়েছে চলমান পরিস্থিতিতে। আগামী দিনগুলোয় নতুন নেতা হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে রক্ষণশীল নেতা সানায়ে তাকাইচি, যিনি গত বছর দলের শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন, এবং বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জাপানের রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইশিবার পদত্যাগ অনিবার্য ছিল। তাদের মধ্যে কোইজুমি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবেন না বলেই প্রত্যাশা হলেও, তাকাইচির দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাপানি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা জুলাইয়ের চুক্তির অংশ। তবে, টোকিওর শুল্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই বাণিজ্য চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টরসের ওপর শুল্ক সংক্রান্ত কয়েকটি আদেশ এখনো জারি করেনি। এই পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তির কার্যকারিতা এবং তার প্রভাব এখনো ঝুঁকি বহন করছে।

  • মোগল সিনাই পর্বতের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি আর উন্নয়ন ঝুঁকিতে

    মোগল সিনাই পর্বতের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি আর উন্নয়ন ঝুঁকিতে

    পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থান সিনাই পর্বত, যা বিশ্বের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত, বর্তমানে বহুমাত্রিক পরিবর্তনের মুখোমুখি। এই পাহাড়ের ওপর অবস্থান করে রয়েছে সেই প্রাচীন স্থান যেখানে নাবী মুসা (আঃ) আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই বিশেষ স্থানটি হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত থাকলেও এখন মিসর সরকার এর উন্নয়ন কাজের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সিনাই পর্বতটি শুধুমাত্র ইসলাম בלבד নয়, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্যও অত্যন্ত পবিত্র স্থান। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই মহান নবী মুসা (আঃ) ঐশ্বরিক বাণী পেতেন। স্থানীয়রা এই পর্বতটিকে ‘জাবালে মুসা’ বা মুসার পর্বত নামে ডেকে থাকেন। বাংলায় অনেকের কাছে এটি তুর পাহাড় নামে পরিচিত হলেও প্রকৃত নাম সিনাই পর্বত, আর আরবিতে এন্টি বলা হয় ‘তুরে সিনাই’। এই অঞ্চলের ধর্মীয় গুরুত্ব অন্যরকম, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা বছরভর ইখতিয়ারে এই স্থানে গিয়ে তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে থাকেন। এখন মিসর সরকার এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে জেবেলিয়া নামে এক বেদুইন সম্প্রদায়ের বাসবাস রয়েছে, যাদের বহু বছর ধরে এ জায়গায় বসবাস। তবে সম্প্রতি এই বসতি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের অনেকের মরদেহও সমাধিস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ লেখক বেন হফলার জানিয়েছেন, এই প্রকল্পকে দেশের উন্নয়ন ও টেকসই বিকাশের একটি অংশ হিসেবে দেখানো হলেও, স্থানীয়দের স্বার্থ উপেক্ষা করে বহিরাগতদের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সিনাইয়ে প্রায় ৪ হাজার জেবেলিয়া বেদুইনের বাস রয়েছে, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার হয়েছে গ্রিস, যেখানে সেন্ট ক্যাথরিন মঠের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। চলতি বছর মে মাসে এক মিসরের আদালত ঘোষণা দেয়, এই প্রাচীন খ্রিস্টান মঠটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর ফলে গ্রিসের সঙ্গে মিসরের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। গ্রিসের আধিপত্যবাদী ধর্মীয় নেতা আর্চবিশপ দ্বিতীয় ইয়েরোনিমোস এই রায়কে অপ্রীতিকর বলে সমালোচনা করেন। দীর্ঘদিনের আর্চবিশপ দামিয়ানোস এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ আঘাত বলে মনে করেন, যা দলীয় বিভাজন তৈরি করে। অন্যদিকে, জেরুজালেমের গ্রিক প্যাট্রিয়ার্ক বলেছেন, এই স্থান তাঁদের ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইজেন্টাইন যুগ থেকে এ স্থান মুসলমানদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়। এলাকাটি এখনো আদালতের রায় বহাল থাকলেও, কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। গ্রিস ও মিশর যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে, এই স্থানটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে শুরু হয় ‘গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন’ প্রকল্প, যার মধ্যে রয়েছে নতুন হোটেল, ইকো-লজ, পর্যটন কেন্দ্র, ছোট বিমানবন্দর এবং ক্যাবল কার। তবে, এই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবী করে পরিবেশবাদীরা। ইউনেসকো পর্যটন অনুরূপ এ অঞ্চলের সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে আহবান জানায়। ২০২৩ সালে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য নির্দেশ দেয়। গত বছর, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ সতর্ক করে দেয় যে, সিনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, ব্রিটেনের রাজা চার্লসের পক্ষ থেকেও আবেদন জানানো হয় এই প্রাচীন স্থাপনার সংরক্ষণে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অজুহাতে বহু ঐতিহাসিক স্থানসহ সিনাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক জমিই ngày দিন ճিে ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা আবারো পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্রমশ, দেশের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে তিন কোটি পর্যটক আকৃষ্টের। স্থানীয় বেদুইনরা দীর্ঘদিনই মৌখিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বলছেন, তাঁদের মতামত ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে। ১৯৬৭ সালের ইসরায়েল সংগ্রাম ও অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষে সেনা দখলদারিত্বের পরেও পরিস্থিতি আরও জটিল। জনসংখ্যা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এক রহস্যময় সত্য। সেন্ট ক্যাথেরিন মঠ হাজার বছরেরও বেশী সময় ধরে টিকে আছে, যেখানে অনেকে দেখতে আসেন নবী মুসা (আঃ) এর ঐতিহাসিক আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের স্মারক, বা প্রাচীন কোডেক্সগুলো। এই সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য এ যেনো এক অনন্য নিদর্শন, যা আতিথেয়তা ও সংরক্ষণ জরুরি।

  • গাজা শহরে আরও এক বহুতল ভবন ধ্বংস, নিহতের সংখ্যা ৬৫ ছাড়ালো

    গাজা শহরে আরও এক বহুতল ভবন ধ্বংস, নিহতের সংখ্যা ৬৫ ছাড়ালো

    ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিতে ইসরায়েল আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলার ফলে এই অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৬৫ জনে, তাদের মধ্যে আশ্রয়হীন বহু পরিবার এখন মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়।

    ফিলিস্তিনী সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে হাজারো পরিবার তাদের বসবাসের স্থান হারিয়েছেন। গাজা শহরের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েলের এই আক্রমণ। বিশেষ করে, তারা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে এই অঞ্চলের দখলকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

    দখলদার বাহিনী আরও জানিয়েছে, আল-রুয়া টাওয়ারসহ আরও বেশ কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। রোববারে, এই ভবনগুলোর ওপর আঘাত হানে ইসরায়েলি সেনারা। এর ফলে, গাজার সবচেয়ে বড় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে।

    অপরদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চলে রোববার আরও অন্তত ৬৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আশ্রয়শিবিরে থাকাকালীন নিহত হয়েছেন। বলাও হয়, ইসরায়েলি সেনারা ভবনটিতে হামলা চালানোর আগে বাসিন্দাদের সরতে বলেছিল। ফলে, আশ্রয় নেওয়া বহু পরিবার আহত অথবা পালিয়ে গেছেন।

    ফিলিস্তিনি বিভিন্ন এনজিও ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে এখন এক মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে। আমজাদ শাওয়া নামের একজন ফিলিস্তিনি এনজিও নেতা বলেন, “অবস্থা ভয়ঙ্কর, চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার আশ্রয় হারিয়েছেন। ইসরায়েল এখন মানুষকে দক্ষিণে সরিয়ে নিতে চাইছে, কিন্তু সেখানে নিশ্চয়তামূলক নিরাপদ স্থান এখনও পাওয়া যায়নি।”

    প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে, তাদের সেনারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও উচ্চ ভবন’ ধ্বংস করছেন। তবে, আল-রুয়া টাওয়ার ছিল একটি পাঁচতলা ভবন, যেখানে ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান, একটি ক্লিনিক ও জিম ছিল। এর আগেও আল-জাজিরা ক্লাব এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    গত শনিবার সউসি টাওয়ার এবং গত শুক্রবার মুশতাহা টাওয়ার ধ্বংসের ফলে আশ্রয়হীন পরিবার কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক পরিবার জানায়, “আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিছু আনতে পারিনি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।”

    আগস্ট মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে ইতোমধ্যেই কমপক্ষে এক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে তারা বলছেন, ইসরায়েল যেখানে বলুক না কেন, গাজায় কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। গাজা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের ‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’ সংক্রান্ত দাবি মিথ্যা। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

    আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ সংবাদ দেন, “প্রতি পাঁচ থেকে দশ মিনিটে গাজা সিটির চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চলছে। ইসরায়েল দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও বোমা রোবট ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। ধ্বংসের ভয়ে বহু মানুষ এখন আশ্রয়ে রয়েছেন। শনিবার আল-ফারাবি স্কুল কেন্দ্র করে হামলার সময় কমপক্ষে আটজন নিহত হন, তাদের মধ্যে শিশু ও অসংখ্য নারী রয়েছেন।”