শ্রম সংকটের কারণে বিদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে থাইল্যান্ডে। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথমে ১০ হাজার শ্রমিক আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকেও শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্যশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকরা এই খাতের মূল শক্তি। দেশের শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত কম্বোডিয়ার শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৬০৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুমান করছে, আরও প্রায় ৫ লাখ নিবন্ধনবিহীন কম্বোডিয়ার শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজ করছে। কিন্তু ২৪ জুলাই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর অনেক শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় কয়েক লাখ শ্রমিক শ্রমবাজার ত্যাগ করেছেন। ফলে শিল্পখাতে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী পংকাভিন জুয়াংরুয়াংকিত বলেছেন, শ্রীলঙ্কা এখনই ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি শ্রীলঙ্কান শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাশাপাশি ক্যাবিনেট বৈঠকের সারে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করছেন। ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশের কারণে তারা বেশ জনপ্রিয়, তবে এখনও থাইল্যান্ড বাংলাদেশীদের জন্য খুব বেশি গন্তব্য হয়নি। তবে বর্তমান সংকট নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ৮.১ শতাংশ। এর অর্থ, স্থানীয় শ্রমিকের অভাব বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। থাইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্সের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আনুসর্ন তামাজাই বলেছেন, ‘থাইল্যান্ডের শ্রমনির্ভর শিল্প বিদেশি শ্রমিক বWithout more context or information about the specific news article, it’s challenging to add further elaboration. If you’d like, I can help expand or clarify specific parts or provide a more detailed version based on additional details.
Author: bangladiganta
-

অভিষেক নির্বাচনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে
সাবেক সংসদ সদস্য, বিসিবির সাবেক সভাপতি এবং খুলনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেছেন, সাতাশ বছর ধরে একটানা আন্দোলন সংগ্রামে নারীরা শুধু সাহস দেখিয়েছেনই না, বরং জাতির মুক্তির জন্য রক্তক্ষরণ করেছেন। তিনি বলেন, Juli বাঙালির মহান বিপ্লবের সময় নারীরা রাজপথে থেকে সাহসিকতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিস্ট এবং স্বৈরশাসক সরকার পতন হয়েছে। আগামী নির্বাচনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য Prepare করা প্রয়োজন।
তিনি রোববার বিকেলে উপজেলা বিএনপি’র নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ফুলতলা উপজেলা মহিলাদলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলতলা উপজেলা মহিলাদলের সভাপতি মিতা পারভীন। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন খুলনা জেলা মহিলা দলের সভাপতি তছলিমা খাতুন ছন্দা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক শেখ আবুল বাশার, জেলা মহিলাদের সাধারণ সম্পাদক এড. সেতারা বেগম। এছাড়া, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন ভূঁইয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিদা বেগম সভায় বক্তব্য দেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। -

খালিশপুর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিখা গ্রেপ্তার
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খালিশপুর এলাকার একটি অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খালিশপুর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শারমিন রহমান শিখাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে বিভিন্ন যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
প্রথমে এটি জানা যায় যে, বিগত সরকার আমলে বিএনপি ছাত্রধরনের নেতাদের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় শিখার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সন্দেহ দেখা দেয়। পুলিশের হাতে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ এসে পৌঁছালে এ বিষয়টি আরও নিশ্চিত হয়। পলাতক অবস্থায় থাকলেও পুলিশ তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে। শেষ পর্যন্ত, রোববার সন্ধ্যায় শিখাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা ও আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান রয়েছে।
-

বাগেরহাটের চার আসন পুনঃবহালের দাবিতে হরতাল চলছে; নির্বাচন অফিসে তালা
মোংলা ও রামপালসহ বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনঃবহালের দাবিতে সংঘটিত হচ্ছে ব্যাপক হরতাল। প্রথম দিনের এই অবরোধের কারণে মোংলার সব পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পরিবর্তে থেমে গেছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই হরতাল চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, যেখানে নদী পারাপার, ইপিজেড, মোংলা বন্দরসহ সব ধরনের শিল্প ও সরকারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন ও নৌপরিবহন বন্ধ রেখেছেন হরতালকারীরা। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতৃবৃন্দের নির্দেশে এ কর্মসূচি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চালানো হবে। এই প্রথম দিন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন এবং মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌকানাল দিয়ে সব নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। নদীর দুই পাশে ইপিজেডের গার্মেন্টস শ্রমিকসহ শত শত মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। দুরপাল্লার বাসগুলোও শহর থেকে ছেড়ে যায়নি, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনমান বিঘ্নিত হয়েছে। সকাল থেকে মোংলা শহরজুড়ে সড়ক-মহাসড়কে টায়ার জ্বালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন মোড়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে হরতাল কার্যক্রমে সহায়তা করছে। এছাড়াও তারা নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং মোংলা উপজেলা নির্বাচন অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন স্বাধীনতার পর থেকে থাকছে। তবে ৩০ জুলাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচ কমিশন একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে এই চারটি আসন একটিকে তিনটিতে পরিবর্তন করার প্রস্তাবনা থাকছে। এর বিরুদ্ধে মোংলা ও বাগেরহাটবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। আসন্ন সিদ্ধান্তে যদি নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে তারা আরো কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
-

চিতলমারীতে অর্থের সংকটে বর্জ্য অপসারণে বিঘ্ন
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সদর বাজারের বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ অর্থ সংকটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সময়মত যেখানে বর্জ্য না সরালে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। পরিবেশের এসব দূষণজনিত কারণে দূর-দূরান্ত থেকে বাজারে আসা মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বসবাসকারী কিছু হাজার মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। যদি দ্রুত বর্জ্য অপসারণের গাড়ি মেরামত বা নতুন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা না হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এই ব্যাপারে আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গোপনীয় সহকারী মোঃ আনোয়ার হোসেন পারভেজ জানান, এ জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদে মোট ১৭টি দপ্তর ও ১৮টি পরিবার বসবাস করে। সদর বাজারে প্রায় এক হাজার দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে অনেক মানুষ কাজ করে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করছেন এই এলাকায়। এখানে রয়েছে একটি হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিদিন বাজার ও বিভিন্ন সরকারি কাজে আসা লাখো মানুষ এই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে ব্যবহৃত কাচামাল, আবর্জনা জমা করে রাখে। এই আবর্জনা জমাট বাঁধে গভীর গন্ধ সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যায়। মূলত এই বর্জ্য স্থানীয় উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতালের চত্বরে, সদর বাজারের অলিগলিতে ফেলা হয়, যেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাফেরা করে। এই আবর্জনা নদী ও খালে গিয়ে জমা হয়, যার ফলে নদী ও জলাধার মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। প্রতিদিন চিত্রা নদীতে ১০ থেকে ১২ টন আবর্জনা নিক্ষিপ্ত হয়।
২০২১ সালের জুলাই থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় বর্জ্য অপসারণের কাজ চালু হয়। তবে এখন পর্যন্ত এই কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরিবহন বা গাড়ির অভাবে। উপজেলা পরিষদের জন্য এই বর্জ্য অপসারণের জন্য একটি গাড়ি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচে তৈরি করা হয়। এই গাড়ির মাধ্যমে চারজনের একটি টিম কাজ করে থাকে, যাতে রয়েছে মোঃ হাবিবুর রহমান, ড্রাইভার মোঃ ওয়াবায়দুল শেখ এবং পরিছন্নতাকর্মী রফিকুল ইসলাম ও হোসেন তালুকদার। এই দলে প্রত্যেকের বেতন মাসে ২৯ হাজার টাকা। তার সঙ্গে ড্রাইভারের জন্য মাসিক ৯,৫০০ টাকা ডিজেল ও মবিলের খরচ যোগ হয়। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও খরচ হয়। প্রতিমাসে এই গাড়ি থেকে ৩৬ হাজার টাকা আদায় হয়, যা বিভিন্ন দপ্তর ও জনগণ থেকে সংগ্রহ করা হয়। তবে বর্তমানে ড্রাইভার ও কর্মীদের তিন মাসের বেতন বেশ কিছু বকেয়া রয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা সচেতন হলেও সরকারি সহায়তা না থাকলে এই পরিষেবা সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিতলমারী বাজারের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা সেতু কর্মকার, ননী গোপাল কর্মকার, গৌর সুন্দর ঘোষ, মোঃ নজরুল মীর ও মোঃ মাসুদ গাজী জানান, আগে তার পরিবারজনের আবর্জনা নিয়ে বড় দুর্ভোগে পড়তে হতো। তবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তারা বলেন, এখন যদি এটি অব্যাহত থাকে, আমরা খুবই উপকৃত হবো।
স্কুল শিক্ষক মোঃ সাফায়েত হোসেন বলেন, বর্জ্য হচ্ছে কঠিন, তরল, গ্যাসীয়, বিষাক্ত ও বিষহীন ধরনের। জীববৈচিত্র্য রক্ষা, রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। তাই এই কার্যক্রম চালু থাকা খুবই জরুরি এবং এ ব্যাপারে সবদিক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
-

বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবি নিয়ে হরতাল and প্রতিবাদে জেলা জুড়ে ধর্মঘট
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে একটিকে কমিয়ে জেলাকে তিনটি সংসদীয় আসনে বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এলাকাজুড়ে বিশাল আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করে। ৩০ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাটের চারটি আসনকে তিনটিতে সংক্ষেপিত করা হবে। এরপর থেকেই বাগেরহাটের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, চারটি সংসদীয় আসন বহাল থাকুক এবং জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বের স্বার্থে কোনও পরিবর্তন আনতে না। তবে ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে, যেখানে চারটি আসন পরিবর্তন করে তিনটি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বাগেরহাটবাসীর মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা তাদের আন্দোলনের সূচনা করে। সোমবার সকালে শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে গাজীপুর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে ব্যাপক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি। মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট, মোংলা ও পিরোজপুর মহাসড়কসহ জেলার অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাড়ি, গাছের গুড়ি ও বেঞ্চ রেখে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। হরতালের সময় বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসকের ভবনের সামনে অবস্থান নেন, যাবতীয় কার্যক্রমে অংশ নেয়। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াত, বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। নেতৃত্বরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি উঠে আসলেও কর্তৃপক্ষ এর গুরুত্ব দেয়নি। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রতিবাদের দাবি রাখে এবং এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষের গণআস্থা নষ্ট হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের আন্দোলন জোরদার করতে সবাই যাত্রা চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।
-

নগদ হবে না ডাক বিভাগের অধীনে, আসছে নতুন বিজ্ঞাপন শীঘ্রই
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য সরকার নগদ বা নগদ অ্যাপকে বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমএফএস খাতের কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে চাই, তাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের আনছি। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি এবং মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করব। গভর্নর পাশাপাশি জানান, এখন থেকে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদকে আলাদা করা হবে, কারণ বর্তমানে ডাক বিভাগের এতে সামর্থ্য নেই। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানি আনা জরুরি।’ গভর্নর আশা প্রকাশ করেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা নগদকে নতুন করে গড়ে তুলতে সফল হবেন, যাতে এটি এমএফএস খাতে একটি যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে উঠে দাঁড়াতে পারে। উল্লেখ্য, সূত্র: শীর্ষনিউজ।
-

আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যে অস্বস্তি রয়েছে
গত আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের তুলনায় কিছুটা কমলেও, খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে অস্বস্তি এখনও রয়ে গেছে। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধির দিকে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে জুলাইয়ের তুলনায় এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা জুলাইয়ের ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশের থেকে বেড়েছে।
বিবিএসের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে কমে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমেছে। এর অর্থ এই যে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার দামে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে।
গ্রামাঞ্চলে দেখাচ্ছে শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে সার্বিক মূল্যস্ফীতি। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।
শহরগুলোতেও মূল্যস্ফীতিতে কমতি এসেছে, যেখানে সার্বিক হার কমে গেছে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ, দাঁড়িয়ে এখন ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য কাজ চলছে, তবে এটি একদিনে হয় না, সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, চালের দাম বাড়ায় আগস্টে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে কিছুতেই এটি ৫ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে আমাদের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির হারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
-

স্বর্ণের দাম রেকর্ড শীর্ষে, অতীতের সব ধারনাকে ছাপিয়ে গেছে
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরো বৃদ্ধি পেলো। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) নতুন করে নির্ধারণ করা হলো ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা, যেখানে আগে দাম ছিল সেটির চেয়ে দুই হাজার ৭১৮ টাকা বেশি। এই বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বর্ণের দামে এত বেশি বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে, যা অতীতের সব রেকর্ডকে ভেঙে ফেলেছে এবং ধাতুটিকে এখন ‘মহামূল্যবান’ অবস্থানে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেয়। নতুন দাম আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৩০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৪১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৩ টাকা। তবে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দাম মোটেই পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের রূপার এক ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য দুই হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য দুই হাজার ২৯৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম নির্ধারিত হয়েছে এক হাজার ৭২৬ টাকা।
-

দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৫৯৩ ডলার
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আপডেট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার سطحে পৌঁছেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই রিপোর্টটি বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এশিয়ার গরীব দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জর্ডান, যার মাথাপিছু আয় প্রায় ৪ হাজার ৬১৮ ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এই তালিকায় ১২তম স্থানে রয়েছে, যেখানে তার মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। উল্লেখ্য, কিছু সময় আগে সরকারি তথ্যে দেখা গিয়েছিল, করোনাকালীন সময়ে জনমুখী প্রচারনার মাধ্যমে ভুয়া তথ্য দিয়ে দেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ডলার দেখানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থার এই প্রতিবেদন মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের থেকে মাত্র ১০০ ডলার বেশি, যেখানে শ্রীলঙ্কার আয় প্রায় ২ হাজার ডলার বেশি। অন্যদিকে, তালিকার অষ্টম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় এক হাজার ডলার কম। পাশাপাশি, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয়ের দেশ হলো আফগানিস্তান, যেখানে এই সংখ্যা শুধুমাত্র ৪১৩ ডলার। এই তথ্যগুলো দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
