Author: bangladiganta

  • বিএনপি বললো, ফ্যাসিস্ট শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ক্ষমতায় আনবে

    বিএনপি বললো, ফ্যাসিস্ট শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ক্ষমতায় আনবে

    ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা চলাকালে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে, বিএনপি সেই সব প্রতিষ্ঠানকে আবার শক্তিশালী করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই উদ্দেশ্যে বিএনপিকে শক্তিশালী করে তুলতেই হবে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। গণতন্ত্রের ধ্বংস, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ক্ষতি, পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার লুটেরূপে ধ্বংস হয়েছে। এই সময়টিতে বিএনপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলগুলো ব্যাপক সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে গেছে। তাদের নেতাকর্মীদের অনেককে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে এবং চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ২৪শে জুলাই কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্র, তরুণ, শিশু, নারীসহ সর্বস্তরের জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর জুড়ে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়েও গত ১৫ বছরে আমদানিন্তরে প্রায় ১২ জন শহীদ হয়েছেন। জুলাই মাসে চারজন শহীদ হয়েছেন। এই অঞ্চলসহ সমগ্র দেশে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টরা শতাধিক মামলা করে হাজারো গণতান্ত্রিক কর্মীকে হয়রানি ও নির্যাতনের পালা চালিয়েছে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি ঐতিহাসিক দল। আজ আমরা একটি মুক্ত পরিবেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির সম্মেলন করতে যাচ্ছি, এই উপলক্ষে আমরা আমাদের ১২ জন শহীদ সহকর্মীকে স্মরণ করছি। তিনি স্মরণ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতंत्रের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতीयতাবাদী দল গঠিত হয়, যা দীর্ঘ ৪৭ বছর আন্দোলন করে আসছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, প্রাণ দিয়েছে এবং কখনোই গণতন্ত্রের লড়াই থেকে সরে আসেনি।

    তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াও দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরে এনেছেন। তিনি কোনদিন মাথা নত করেননি। সেই মহান নেত্রী এখনো দেশের নেতৃত্বে আছেন এবং তার জন্য আমরা গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তিনি আশাবাদী যে, দেশের তরুণ ও এমন সব নেতৃবৃন্দের প্রতি সকলের নজর রয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনগুলোতে জাতি আবারও গণতন্ত্রের পথ শক্তিশালী করবে। তিনি বুঝানোর মাধ্যমে জানান, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনে দেশ ভেঙে গেছে, সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী করার জন্য বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমি নিজেও এই সংগ্রাম ঘরানার একজন।

    ২০১৭ সালে সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর নানা জটিলতার কারণে আর সম্মেলন হয়নি। তবে এখন সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। সম্মেলনের জন্য সুবিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

    নেতৃবৃন্দের ধারণা, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গম আলী, ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শরিফুল ইসলাম শরীফ। এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম গত রোববার রাতে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এই নির্বাচনে মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকারে নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

    জেলা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল হান্নান হান্নু জানান, সম্মেলনে পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর,সংগঠনের আরও ৪ হাজার নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি ও সমাজকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মরদেহ নিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান মরদেহের গুলির চিহ্ন বা মৃত্যুর কারণ সুরতহালে যথাযথভাবে উল্লেখ না করতে পুলিশের একটি অংশের চাপ দিয়েছিলেন। এই তথ্য আশ্চর্যজনক এবং উদ্বেগজনক, কারণ এতে স্পষ্ট হয় যে, গোয়েন্দা ও তদন্তের স্বচ্ছতা রক্ষায় বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশের একটি অংশ এই ঘটনা ধামাচাপা রাখার চেষ্টা করছিল।

    আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৬ জুলাই বিকেলে তিনি তাজহাট থানায় দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মরদেহ রয়েছে। প্রথমে আন্দোলনের ভিড় থাকায় তিনি তা দেখতে যাননি। পরে উর্ধতন কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে আবার হাসপাতালে গিয়ে আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান, যেখানে তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল এবং মাথার পেছনের অংশ থেঁতলানো ছিল।

    এসআই তরিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, তিনি যখন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান তাকে স্পষ্টভাবে বলেন যে, রিপোর্টে লেখা যাবে না যে ওই ব্যক্তিকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। যখন তিনি অভিযোগ করেন যে তিনি সত্য লিখতে চান, তখন তাকে না করার জন্য রেগে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক হুমকি দেন। তিনি তাকে চাকরি খোয়ানোর কথাও বলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, 당시 পুলিশের একটি অংশ বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল।

    উল্লেখ্য, এই মামলার পক্ষে বিভিন্ন সময়ের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মামলার তদন্ত ৬২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এখনও ২৪ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নির্দেশিত হয়েছেন। মামলার আর্জি ও অভিযোগ নিয়ে আদালতে শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান।

  • সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে, এই দলের সঙ্গে তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

    ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব।

    অপরদিকে, এর আগে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকেও একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • ডাকসু নির্বাচনে পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি

    ডাকসু নির্বাচনে পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সময় কার্জন হলে এক ভোট কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা এক নতুন ঘটনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের সময় এমন একটি পরিস্থিতির জন্য এক পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যখন একজন শিক্ষার্থীকে দুইটি ব্যালট দিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কার্জন হলে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অমর একুশে হলের ভোটকেন্দ্রে এক ভোটার ভুল করে একের বেশি ব্যালট পেয়েছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, জিয়াউর রহমান, তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল এবং অভিযোগকারী ভোটারও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে সমাধান করা হয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, নির্বাচন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলার জন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দুর্ঘটনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

  • গোয়ালন্দে মাজারে হামলার ঘটনায় ইমামসহ ১৮ জন গ্রেপ্তার

    গোয়ালন্দে মাজারে হামলার ঘটনায় ইমামসহ ১৮ জন গ্রেপ্তার

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরু পাগলার মাজারে হামলা, পুলিশ বাহনের ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্যতম হলো স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতিফ হুজুর, যিনি ঘটনার সময় পলাতক ছিলেন। আজ ভোরে তাকে মানিকগঞ্জের চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, গোয়ালন্দে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজার ভাঙা, মারামারিতে আহত, নিহতের ঘটনা, সম্পদ লুট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলার দরবারে অগভীর অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় জনতার এক দল। এই ঘটনার সময়, নুরাল পাগলার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলস্বরূপ একজন নিহত ও দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পাশাপাশি, হামলাকারীরা নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেয়।

    নুরাল পাগলার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. আজাদ মোল্লা (৫৫) সোমবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে।

  • মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই

    মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই

    সেনার সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, কোনো আন্দোলন বা কোনো চক্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখার বা ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ নেই। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য ব্যক্ত করেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল স্টাফ কর্নেল মোঃ শফিকুল ইসলাম।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বাসায় দুর্বৃত্তের সৃষ্টি করা মব বা হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে এবং এই গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যারা এ ধরণের অবাঞ্চিত কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনোই আমাদের সম্মান পায় না, বরং তাদের কঠোর দৃষ্টিতে দেখা হয়।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে যখন এক মব সৃষ্টি হয়েছিল, তখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সেনা কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও জানান, মবের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবে। যেখানে যেখানে মব সৃষ্টি হয়, সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কখনও কখনও কিছু বিলম্ব হয়, যা মূলত তথ্য সংগ্রহের জন্য। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে মোতায়েন করে, এরপর সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিলতা দেখা দিতে পারে, তবে সেনাবাহিনী কখনোই লুকোচুরি করে না, বরং সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

    বিশ্লেষণে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নৃশংসভাবে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা মব সৃষ্টি করে আইন হাতে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তবে, আইনশঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী একা দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে, কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, একই ঘটনা যখন ঘটে, তখনই সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেখানে যায়। কখনও কখনও বিলম্ব হয়, কারণ পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে একটু দেরি হয়। ফলে, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

    অবশেষে, রাজবাড়ীতে নুরুল হক বা ‘নুরাল পাগলারের’ মরদেহ পোড়ানোর ঘটনাসহ অন্য কয়েকটি ঘটনার ব্যাপারে তিনি জানান, পুলিশ যখন ঘটনাস্থল জানতে পারে, তখনই সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করছে।

  • আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহি আটক

    আবাসিক হোটেল থেকে টিকটকার মাহিয়া মাহি আটক

    বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে পরিচিত টিকটকার মাহিয়া মাহিকে পুলিশ হাতে নিল। কোতয়ালী মডেল থানার কর্মকর্তারা বুধবার (২৭ আগস্ট) অন্ধকার ঘণ্টায় পোর্ট রোডের হোটেল রোস্টেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। পুলিশ সূত্র জানায়, নিয়মিত করিডোরে অভিযান চলাকালে হোটেল রোস্টেলায় এক কক্ষে মাহিয়া মাহির সাথে তার স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাদের আরও একজন তরুণীও তার সঙ্গে ছিল। আটকের সময় মাহিয়া মাহি প্রাথমিকভাবে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি, তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘হোটেল রোস্টেলায় থাকা দুই তরুণী ও একজন পুরুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে আরও তদন্ত চলছে।’

  • জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নারী অপহরণের অভিযোগ

    জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নারী অপহরণের অভিযোগ

    সম্প্রতি ভারতের কেইচের এনার্কুলাম এলাকায় একটি স্থানীয় বারে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নারীর অপহরণ এবং লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন থানায়। অভিযুক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মালয়ালম সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী লক্ষ্মী মেনন, যিনি এই মামলার প্রথম আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তার তিন বন্ধু এই মামলার অভিযুক্ত হয়েছেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, বারে হাতাহাতির প্রতিশোধ হিসেবে অজ্ঞানপূর্বক ওই নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে নির্জন একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। বর্তমানে এই মামলার মূল আসামী লক্ষ্মী মেনন আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

    ভুক্তভোগী আলিয়ার শাহ সলিমের বরাতের ভিত্তিতে জানা গেছে, এনার্কুলাম এলাকার একটি বারে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এটি ঝগড়া রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে, ওই নারী ও তার বন্ধুরা পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন অভিযুক্তরা তাদের গাড়ির পেছনে চেপে ধাওয়া করে।

    রাতের সাড়ে ১১টায় এনার্কুলাম এলাকার উত্তর রেলওয়ে ওভারব্রিজের কাছে তার গাড়ি থামানো হয়, এবং জোরপূর্বক তাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। এরপর তাকে মুখ বাঁধা ও মারধর করা হয়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রত্যক্ষদর্শীরা অপহরণের সময় ব্যবহৃত গাড়ি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

    উল্লেখ্য, লক্ষ্মী মেনন ২০১১ সালে পরিচালক বিনয়নের ‘রাঘাবন্তে স্বত্তম রাজিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে মালয়ালাম সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন। তাকে ‘সুন্দরপান্ডিয়ান’, ‘কুট্টি পুলি’, ‘জিগারথান্ডা’, ‘মিরুথান’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মালয়ালাম ও তামিল চলচ্চিত্রে দেখা গেছে।

  • শাহরুখ ও দীপিকা বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

    শাহরুখ ও দীপিকা বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

    বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান, অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এবং হুন্দাই কোম্পানির ছয় কর্মকর্তা বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা কীর্তি সিং এই অভিযোগটি থানায় দায়ের করেছেন। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই খবর উঠে এসেছে।

    অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন মাসে কীর্তি সিং একটি হুন্দাই আলকাজার গাড়ি কিনেছিলেন। 그러나 তিনি অভিযোগ করেছেন, গাড়িটি ইচ্ছা করেই ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলছেন, রাজস্থানের এক হুন্দাই শোরুমের কাছ থেকে এই গাড়ি কিনে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে গাড়িতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি বলেন, যে গাড়িটি তার কাছে বিক্রি হয়েছিল, সেটি জালিয়াতির মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় বিক্রি করা হয়েছে।

    প্রথমে তিনি এই জালিয়াতির বিষয়টি আদালতে অভিযোগ করেন, পরে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর নির্দেশে মথুরা গেট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

    ভারতীয় গণমাধ্যমে কীর্তি সিং জানিয়েছেন, ‘আমি ২০২২ সালে হুন্দাই আলকাজার গাড়ি কিনেছিলাম। গাড়িটি কেনার সময় আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতে গাড়িতে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। বহু বার অভিযোগ করেও কোনও সমাধান হয়নি, এটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’

    আসলে, কেন শাহরুখ ও দীপিকা এই অভিযোগের আওতায় এসেছেন? এর ব্যাখ্যায় কীর্তি বলছেন, ‘শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোন হুন্দাই গাড়ি কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তারা কোম্পানির খারাপ গাড়ির মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং করেছেন, তাই তাঁদের এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

    উল্লেখ্য, শাহরুখ খান ১৯৯৮ সাল থেকে হুন্দাইয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন, আর দীপিকা পাড়ুকোন ২০২৩ সালে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কীর্তি সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, যা আগামী দিনগুলোতে একটি বৃহৎ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

  • জনপ্রিয় টিকটকারের দুঃখজনক মৃত্যু

    জনপ্রিয় টিকটকারের দুঃখজনক মৃত্যু

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিকটকার মালিক টেইলর এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছে তার দেশের নর্থ ক্যারোলিনা অবস্থিত কনকর্ড শহর কর্তৃপক্ষ। তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর, যখন এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

    কনকর্ড পুলিশ বিভাগ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, ঘটনার দিন ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ল্যापিস লেন এনডাব্লিউ-তে একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুতই পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, গাড়িটি উল্টো হয়ে রাস্তার পাশে প্রায় ২০ ফুট গভীর এক খাদে পড়ে রয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই গাড়িতে একাই মালিক টেইলর ছিলেন। দেশটির ফরেনসিক বিভাগ ও কনকর্ড পুলিশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে, তিনি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত মদ্যপানে তার এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    টেইলর মারা যাওয়ার পরে তার দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যাঁরাই তাঁকে চিনতেন, সবাই জানেন তিনি আশেপাশের সবাইকে হাসি ও আনন্দে ভরিয়ে তুলতেন। তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো ব্যক্তিত্ব।’

    শোকবার্তায় দল আরও জানিয়েছে, ‘তুমি আমাদের মাঝে খুব অল্প সময় ছিলে, কিন্তু তোমার স্মৃতি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবে। আমরা সব সময় তোমাকে মিস করব। তোমার আত্মা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছি।’

    তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যুর এই ঘটনায় তারা গভীর অক্ষমতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কারণ সবাই তার জন্য প্রার্থনা করেছে। পরিবারের সদস্যরা সবাই তাকে পারিবারিক ও সামাজিক শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এবং তাঁর জন্য দোয়া কামনা করছেন।