Author: bangladiganta

  • ইরান-আমেরিকা আলোচনায় চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল তেহরান

    ইরান-আমেরিকা আলোচনায় চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল তেহরান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার বলেছেন, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সপ্তাহান্তের বৈঠকে তেহরান একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল। এক্সে পোস্ট দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪৭ বছর ও সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের তৎপরতায় ইরান আন্তরিকতা সহকারে যুদ্ধ শেষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিল। তবে, ইসলামাবাদে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়ই আমরা পাবলিক শর্তাবলি পরিবর্তন ও অবরোধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য বাধাগ্রস্ত হয়েছি। তার ভাষায়, অধিকাংশ শর্তই অগ্রহণযোগ্য বা কাঙ্খিত ছিল না।

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল একত্রিত হয়েছিলেন। এই মূল আলোচনা চলত সাড়ে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ সময় ধরে, তবে দুপক্ষই চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ফলে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

    বলা যেতে পারে, এই আলোচনা ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে মার্কিন ও ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম সরাসরি বৈঠক। এটি ছিল ইরানের বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার একটি।

  • যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদান: নাগরিকতা পাওয়ার সুযোগ বন্ধের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদান: নাগরিকতা পাওয়ার সুযোগ বন্ধের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

    প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যা গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনকালে মিথ্যা তথ্য দানে সহায়তা করে এমন চক্রের বিরুদ্ধে। এইসব নারীর মূল লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সন্তানকে দ্রুত মার্কিন নাগরিকত্ব প্রদান করা। ট্রাম্প প্রশাসন এই ইস্যুটিকে সামনে এনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান আইনি সুবিধা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

  • ফুলতলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    ফুলতলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    ফুলতলা বাজারে একটি বাড়িতে দায়িত্বপালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে পড়ে ইসমাইল হোসেন (৩৩) নামে একজন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটে। ইসমাইল যশোর সদর থানার মোঃ ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে ও পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আলামিনের ছোট ভাই। তার একটি ৬ বছর বয়সী সন্তান রয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল রোববার সকালে ফুলতলা বাজারের মিছরী দেওয়ান শাহ রোডে অবস্থিত এক যুবদল নেতার বোনের বাড়িতে থাইগ্লাস লাগানোর জন্য যান। কাজ চলাকালে, অন্য একজন কর্মচারী তাকে রেখে নিচে নাস্তা করতে যান। কিছুক্ষণ পরে, কাজ শেষ না হওয়ায় ইসমাইল দোতলার বারান্দায় উঁকি মারছিলেন, তখন পাশের পাশে টানা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ওই 순간 তিনি নিচে পড়ে যান। আঘাতে তার কপালের ডান পাশে গভীর ক্ষত হয়ে যায় এবং তিনি প্রচুর রক্তক্ষরণ করেন। ঘটনাটির শব্দ শুনে অন্য শ্রমিকেরা দ্রুত উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। নিহতের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ ঘটনায় ফুলতলা থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ইসমাইলের মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও বিস্ময়কর।

  • বেনাপোলে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বাড়ছে ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা

    বেনাপোলে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বাড়ছে ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা

    দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহে অসুবিধা ও সংকটের প্রভাব এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে, বেনাপোলে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যহত হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটছে। মূলত গন্তব্য অনুযায়ী ট্রাক ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ট্রাক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের সতর্কতার সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

    সম্প্রতি বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এলাকার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগে যেখানে ট্রাক ভাড়া ছিল ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম রুটে, যেখানে আগে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাগত ১৫ টন পণ্য পরিবহনের জন্য, সেখানে এখন গুণতে হচ্ছে ৪০-৪২ হাজার টাকা। এই অপ্রত্যাশিত ভাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাঁদের মনে হচ্ছে, এর প্রভাব পণ্য ও খাবারের দামেও পড়বে।

    বেনাপোলের স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদ আলী বলেছেন, পূর্বের মতো পণ্য খালাসের জন্য দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক চলাচল করত, কেউ কেউ এতে তেল সংকটের অজুহাতে গত ২ এপ্রিল থেকে ট্রাক ভাড়া তিন থেকে চার হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক শ্রমিক কাজ হারানোর সম্মুখীন হচ্ছেন এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    ট্রাক চালক আরিফ বিল্লাহ বলেন, সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, কিন্তু বর্তমানে পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও তা দূরপাল্লার মালামাল পরিবহনের জন্য যথেষ্ট নয়। গত এক সপ্তাহে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, আমাদের ট্রাক দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়াই কঠিন হবে। অন্য আরেক চালক, আব্দুল মতিন, বলেছেন, তিনি পাবনা যাচ্ছেন কেমিক্যাল পরিবহনের জন্য এবং আগের চেয়ে চার হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি পণ্যদ্রব্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে ডিপোজিটে তেলের সমস্যা নেই, তবুও ট্রাক মালিকেরা ভাড়া বাড়াচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই অসুবিধাজনক।

    বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি বলেছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের কোন বড় সমস্যা না থাকলেও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। পাম্পে চাহিদার অর্ধেকেরও কম ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

    বেনাপোলের দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হিসেবে, এখানে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বর্তমানে তেলের সংকটের কারণে এই পণ্য পরিবহন জটিল হয়ে পড়েছে এবং ট্রাক ভাড়া বিগত এক সপ্তাহে ৭-৮ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা অবলোকাচ্ছেন যে, তাদের পণ্যদ্রব্যের দামও বাড়বে, যা সাধারণ ভোক্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম-সম্পাদক ও আমদানি ব্যবসায়ী এজাজ উদ্দিন টিপু বলছেন, বাজারে তেলের কোন সংকট নেই; কিছু অসাধু ব্যাক্তি তেলের মজুদ করে রাখার কারণে পাম্পগুলোতে সরবরাহ কম হচ্ছে। এই সুযোগে মালিকরা ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভোক্তার উপর চাপ বাড়ছে।

    বেনাপোলে শাহজালাল ফিলিং স্টেশনের পরিচালক ইয়ান আলী জানান, চাহিদামতো তেল তারা পাচ্ছেন না। তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় যতটুকু তেল পান, তা সঠিকভাবে বিতরণ করছেন। এই পরিস্থিতিতে, তেলের অভাবে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং দরকার হলে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

  • মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর অভিযোগ পিটিয়ে হত্যা

    মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের মৃত্যু, স্ত্রীর অভিযোগ পিটিয়ে হত্যা

    মাগুরায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আকুব্বার মোল্লা (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    নিহত আকুব্বার মোল্লা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মাজেদ মোল্লার ছেলে। জানানো হয়, রোববার সকাল ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের একটি দল মহম্মদপুরের চরপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় তাদের তল্লাশি করে বাড়িতে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং আকুব্বার মোল্লাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়।

    অভিযান চলাকালে আকুব্বার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পাশে থাকা কর্মকর্তারা বাড়ির বাইরে অবস্থান নেওয়ার পরে, দ্রুত তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। এতে এলাকার মানুষ উৎসুক এবং উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকতাদের ওপর আক্রমণ করেন। এই হামলায় তিনজন কর্মকর্তা আহত হন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে নিহতের লাশ মাগুরা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে পেটানোর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযানে নামি। তিনি আরও বলেন, তল্লাশি চলাকালীন আকুব্বার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে বাইরে রাখা হয় এবং তার উপর কোনও নির্দয় বা মারধর করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার কারণে তিনি মারা যান। এই সময় স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের তিন সদস্য আহত হন।

    মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ব্যক্তির বাড়ি থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে, ওই ব্যক্তি মারা যান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। নিহতের মরদেহ মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে রেখেছে পুলিশ।

  • নতুন বাজার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে: কেসিসি প্রশাসক

    নতুন বাজার নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রবিবার সকাল থেকেই দৌলতপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নগরীর বিভিন্ন খাল, ড্রেন ও জলাবদ্ধতা এড়ানোর জন্য তৈরি করা পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্যে এই এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হল বর্ষা মৌসুমের আগে নগরীর জলাবদ্ধতা ও জল সংগ্রহের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য এক সুখময় ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার জন্য বর্ষা মৌসুমের আগে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ ও স্যানিটেশন সিস্টেম শক্তিশালী করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাজারের সংস্কার এবং নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু দৌলতপুর বাজার, কাছাকাছি নদী, পাইকারী কাঁচা বাজার, পাবলা কারিকর পাড়া ড্রেন, বিজিবি অফিস সংলগ্ন ড্রেন ও ক্ষুদ্র খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপথ দখলমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, শেখ মোসারেফ হোসেন, দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নান্নু মোড়ল ও অন্যান্য।

  • খালিশপুরে লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন হুইপ বকুল, উন্নয়নের আশ্বাস

    খালিশপুরে লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন হুইপ বকুল, উন্নয়নের আশ্বাস

    খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল রোববার দুপুরে খুলনার খালিশপুর এলাকায় অবস্থিত লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি উভয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি দেখে নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

    পরিদর্শনকালে হুইপ বকুল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, অবকাঠামো, জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এছাড়া তিনি স্কাউট মাঠের বর্তমান অবস্থা, ব্যবহারের উপযোগিতা ও ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মিনহাজুল আলম, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মিরাজুর রহমান, খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

    পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হুইপ বকুল বলেন, খালিশপুর লাল হাসপাতাল ও স্কাউট মাঠ আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে আধুনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও কার্যকর সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, লাল হাসপাতালকে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

    স্কাউট মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, এই মাঠকে শুধু খেলাধুলার জন্য নয়, বরং যুবসম্প্রদায় ও শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে এটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    হুইপ বকুল আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি সকল স্তরের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। জনসেবা ও কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে খুলনা-৩ আসনসহ সমগ্র খুলনা অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন।

  • সোনার দাম বড়সড় বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল সাড়ে ৬ হাজার টাকা

    সোনার দাম বড়সড় বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড, ভরিতে বাড়ল সাড়ে ৬ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে সোনার দামের বড় পরিবর্তন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বেড়ে গেছে সোনার দাম। এই নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকাতে।

    বাজুসের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দাম প্রত্যেকের জন্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য প্রতি ভরি ২,৫২,৪০৯ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ২,৪০,৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য এটি ২,৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    সোনা যেনো মাত্রা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে রুপারও দাম। এবার প্রতি ভরি রুপার দাম বাড়ল ৩৫০ টাকা, এবং এখন ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

    এমন মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্রাহকরা এখন নতুন দামে সোনা এবং রূপা কিনতে পারেন, যা স্বর্ণালংকার শিল্প ও বাজারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

  • যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

    যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে দেশের মুদ্রার মান কমে যাবে এবং জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দুটি বড় চাপের ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি, বাড়তি আমদানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়বে।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি যদি এ রকম হয়, তাহলে দেশের রিজার্ভ ৩১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং আমদানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসতে পারে এবং দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পাবে।

    এছাড়া, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ধরনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি গত প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের দাম ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং পরে আরও ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে। আবার, যদি ডলার বিপরীতে টাকার মান একাধিক পর্যায়ে প্রায় ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১১.৬৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সময়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার থেকে কমে ২ হাজার ৬০৬ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে।

    প্রতিবেদনগুলো বলছে, এসব হিসাবের পেছনে বিভিন্ন অনুমানে ভর করে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। যদি বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের বড় রকমের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, তবে আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং সেটা রিজার্ভে চাপ তৈরি করবে। অপরদিকে, যদি সরকার অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি করে বা জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতির চাপ মন্থর হবে।

    অন্যদিকে, যদি বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি হয় এবং এর জন্য ডলার বিপরীতে টাকার মান অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে অর্থনীতির জন্য আরও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। টাকার অবমূল্যায়নের ফলে মুদ্রাবাজার অস্থির হয়ে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যার ফলে রিজার্ভ কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

    সর্বশেষ, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং ডলারের দাম কিছুটা বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু নমনীয়তা অবলম্বন করতে হতে পারে। পাশাপাশি, সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জ্বালানি তেলের দাম সামঞ্জস্য করার প্রয়োজন পড়ে।

    সার্বিকভাবে দেখা যায়, তেলের মূল্য বৃদ্ধি আর ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন দ্রুত মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর মূল কারণ, যা সরাসরি ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সমন্বিত নীতিতে পরিবর্তন জরুরি, যাতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি কম হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

  • আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই সময়ের মধ্যে রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক বেশি হয়েছে, এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বেশির ভাগ পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগে গত অর্থবছরের আট মাসে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৭১ কোটি ডলার।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজান ঈদ মৌসুমে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির হার বৃদ্ধি পায়। একই সময় রপ্তানি আয় অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ে। খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে হলে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতির জন্য সংকট তৈরি হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছেন মোট ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার, অর্থাৎ ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এই সময়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরে এই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। এই আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধানের কারণেই চলতি বছর প্রথম আট মাসে পণ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের পণ্যে রপ্তানি কমে যাওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য মালামের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে। তবে, দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্টের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো, অর্থাৎ নিয়মিত লেনদেনে দেশকে বিশেষ কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। তারপরও সাময়িক ঘাটতি থাকায় সরকারকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে এখনকার পরিস্থিতিতে, যেখানে চলতি হিসাবের ঘাটতি মোট ১০০ কোটি ডলার, আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ কোটি ডলার, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য মোটামুটি সুখকর।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে। প্রথম আট মাসে দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

    বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল ১০৬ কোটি ডলার, তবে চলতি বছর তা খানিক কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৮ কোটি ডলার কমে গেছে। এর আগে, গত অর্থবছরে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ৮ কোটি ডলার।