Author: bangladiganta

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে দেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও এক দফা পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বললেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, এবং ইতোমধ্যে সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। মার্চ ১৮ তারিখে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস কাজের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার এ ট্রিগার ডিফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং সম্পর্কিত বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি অনুধাবন করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের পেছানোর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, আর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে, যদিও এ বিষয়টি একেবারেই বাধ্যতামূলক নয়।

    রপ্তানিSector-এর সাম্প্রতিক ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানির কাঠামো এখনও খুবই সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই নির্ভরশীল একেকটি পণ্যের উপর। এই স্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি পর্যায়ে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন জগৎজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খুবই সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে আছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, তাই ভুলের সম্ভাবনা এড়াতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। গত কিছু মাসের মন্থর গতি দ্রুততা পূরণের জন্য সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তবে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান মাস ও এর পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যਦੇয়া পর্যাপ্ত মজুদসহ পাইপলাইনে পণ্যও রয়েছে, ফলে আতঙ্কের কিছু নেই। শঙ্কা জাগাতে পারে বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান, কথা দিয়ে নয়। তিনি বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। সাধারণত এক মাসের জন্য বাজারে ভোগের চাহিদা বেশি হলে দাম ওঠে, তবে এ ধরণের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগ আসে না। উত্তম বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। দেশের বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে বিনিয়োগের মনোভাব দুর্বল হওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলা না করলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রমজান মাসের শুরুতে এই সময়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, বলে বলেন, সরকারের জন্য রমজান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বড় এক পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই একত্রে কাজ করতে হবে, এর জন্য সরকারকেও সফল হতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের স্বার্থে, সুতরাং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা চেয়ে, সবাই মিলে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।

  • খুলনা অঞ্চলের পাটকলে অস্বাভাবিক দামে কাঁচা পাটের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের পাটকলে অস্বাভাবিক দামে কাঁচা পাটের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোর মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দামের বাইরেও বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে হাজার হাজার শ্রমিকের কাজ হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি মিলগুলোও আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা দিন দিন মিলগুলোতে এসে বসে থাকলেও কার্যকর কোনো কাজ করতে পারছেন না, কারণ কাঁচা পাটের সংকট প্রকট। একইভাবে অন্যান্য মিলগুলোর শতাধিক কর্মসূচি থেমে গেছে বা খুবই সীমিত আকারে চলছে। শ্রমিকরা ভীত, যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে তাহলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দেড় মাস ধরে আমরা শ্রমিকরা বসে আছি, কাজ কিছুই হচ্ছে না। কাঁচা পাট না থাকায় মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন থাকে, তবে আমাদের চাকরি চলে যাবে, এবং নতুন কাজও কঠিন হয়ে পড়বে। অন্য একজন শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, আমাদের দিয়ে মালিকরা কাঁচা পাট থেকে এক টাকা আয় করলে আমাদের মাঝে সেটার এক пайызও দেওয়া হয় না। এই মিলটি গত তিন বছর ভালোই চলছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় কাঁচা পাটের সংকটের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আশায় আছি।’

    মিলের মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দ্বিগুণ দামে পাট কেনায় উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, তবে পণ্যMarket এর মূল্য ততটা বৃদ্ধি না পাওয়ায় উদ্যোক্তারা উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলেন, বাড়তি দামে পাট কিনতে গিয়ে এখন মিল চালানো খুবই কঠিন। আগে প্রতি মণ পাট ৩২০০ টাকায় কিনে আমরা প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়, কিন্তু এখন ৫২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা শ্রমিকের কথা চিন্তা করে মিল চালু রেখেছিলেন, কিন্তু এখন পাটের দাম এত বেড়ে গেছে যে, একটি বস্তা উৎপাদনে খরচ হয় ১২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রি মূল্য খুবই কম, ফলে মিল এখন বন্ধ।

    তিনি আরো জানান, কাঁচা পাটের এই সংকট কৃত্রিম বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এ বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের উৎপাদন কম হয়নি, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি তদারকি না করে, তাহলে মিল চালানো সম্ভব হবে না।’

    যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের উৎপাদন প্রায় একই স্তরে রয়েছে। কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টরে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। তবে মিল মালিকেরা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ীর মজুতের কারণে সিন্ডিকেট করে তারা দাম বাড়াচ্ছে।

    বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, সৌদি বাজারে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট অবৈধভাবে মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যার কারণে দাম বাড়ছে। ব্যাংকের থেকে ঋণ নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে, সরকার যেন এ বিষয়গুলোতে উদ্যোগ নেয়।

    এদিকে, পাট অধিদফতর বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। একজন আড়তদার বা ডিলার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণের বেশি পাট মজুত করতে পারবেন না, তা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে। দাম সহনীয় রাখার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করা যায় শিগগিরই পাটের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।’

    খুলনা অঞ্চলের মোট ২০টি ইজারাকৃত ও বেসরকারি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে মোট প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়। এর একটি বড় অংশ বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। তবে এখন যে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রফতানি দুই ক্ষেত্রেই বড় ক্ষতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দ্বিগুণ ডলার 측

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দ্বিগুণ ডলার 측

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের approaching কারণে দেশের বাইরে থেকে অর্থ পাঠানোর হার বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবারের খরচ মেটাতে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশের বাইরে থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের হার ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে মাসের শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নামাজের মৌসুমে প্রবাসীরা পরিবারে জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালের মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    প্রবাসী আয়ের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ২২.৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির অবধি দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ একটু কম, যা ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে পুনরায় গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে যাওয়ার পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা অনায়াসে বৈধ মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন। সেই সঙ্গে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্সের ধারাকে সচল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সোনার দাম ভরি প্রতি তিন হাজার ২৬৬ টাকা বেড়েছে

    সোনার দাম ভরি প্রতি তিন হাজার ২৬৬ টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ স্বর্ণ পরিবেশক সংস্থা বাজুস আজ জানিয়েছে, সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি ভরি (বড় মানের ২২ ক্যারেট) সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন একটি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য ঘোষণা করা হয়। নতুন দাম সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছ, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এর পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এখন ১৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশ্ববাজারের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ১০৬ ডলার। এর আগে আগের দিন এটি ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    অতীতে, ৩০ জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে গত মাসের শেষে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যার ফলে দেশের বাজারেও মারাত্মক মূল্যবৃদ্ধি হয়। ২৯ জানুয়ারির স্মরণীয় দিন, বাজুস ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বাড়িয়ে দিযেছে, ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম অনুযায়ী এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এই দামে দেশের ইতিহাসে কখনো এত বেশি দাম পরিশোধ হয়নি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এটি গত দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ছে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাজুস একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দামে বিক্রি শুরু হয়েছে সকাল ১০টা থেকে। সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম: ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনা ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফায় কমানো। গত বছর মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো ও ২৯ বার কমানো হয়।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২০ টাকা।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছরে মোট ১৩ দফায় দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ছিল এবং ৩ বার কমছিল।

  • জয়বাংলা স্লোগানে নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন

    জয়বাংলা স্লোগানে নিষিদ্ধ আ.লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়নের এক শহীদ স্মরণে ATV নেতাকর্মীরা বিশেষ আয়োজন করেছেন। তারা সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষিত অবস্থানের মধ্যেই ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া ও মাতৃভাষার মর্যাদার প্রতীক হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এই পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। এই অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে নেতাকর্মীরা মোনাজাত পরিচালনা করেন। পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ সহ কিছু নেতাকর্মী। মনে রাখা প্রয়োজন, এই নেতাকর্মীরা এতদিন সংগঠনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষে নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তবে পতাকা উত্তোলনের পরই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুত মুহূর্তে সেখানে থেকে সটকে পড়েন। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার ফলস্বরূপ বগসারচর ইউনিয়নে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও নানা স্লোগান দেন। এই ঘটনা চিরকাল স্বীকার করতে হবে যে, এখনো কিছু দুর্নীতিপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও নেতারা বিচার থেকে অব্যাহতি পেয়ে চলেছেন। পুলিশ অনেক বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম নিচ্ছে না। তিনি আগামীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধী দোসরদের গ্রেফতার করার দাবি জানান, না হলে ছাত্রজনতা তা সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। স্থানীয়সহ বিভিন্ন মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, কিন্তু ওই সময় কথা বলা নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেলিমা রহমান, যার মধ্যে বেশ কয়েকবার কারাবরণও রয়েছে।

  • আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলের কার্যালয় খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নিয়ে নানা আলোচনা উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া এই কার্যালয় খোলার বিষয়টি তাদের অনুমোদন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ দেখবে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য দেন। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলীয় কার্যালয় ঘুরে দেখলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি দলের প্রিয় নেতা ও সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি সরকার দেয়নি। কারণ, আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম এই সময়ে সাময়িক নিষিদ্ধ। তাই আমরা সেটি চাইনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তার নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল ও সরকার একসঙ্গে কাজ করে সফলতা অর্জন করবে।

    সাংবাদিকদের কাছে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূমিকা অমর হয়ে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু প্রথাগত নিয়ম রয়েছে— সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। দলের নারীদের মনোনয়নও দেওয়া হবে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ আরও কিছু নেতা।

  • সারজিস আলম পেলেন নতুন দায়িত্ব

    সারজিস আলম পেলেন নতুন দায়িত্ব

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং বর্তমান সদস্যসচিব সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এনসিপির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও সংগঠন শক্তিশালী করতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ তৈরি করা হয়েছে।

    কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ এর সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়াও, সদস্য হিসেবে থাকবেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগের সংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও হিসেবে কমিটিতে থাকবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটির কার্যক্রমে সবসময় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।

    সারজিস আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি—সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রার্থীদের জন্য। যারা প্রার্থী হতে চান, আপনারাও প্রস্তুত হয়ে যান। আমরা সবাই আপনাদের খুঁজে বের করব।’

    আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য এই দ্রুত কৌশলগত কার্যক্রম এবং প্রার্থী সন্ধানী উদ্যোগগুলো দলের প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

  • আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এনসিপির প্রস্তুতি: এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা, জোটের দরজা খোলা রাখছে দল

    আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এনসিপির প্রস্তুতি: এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা, জোটের দরজা খোলা রাখছে দল

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কয়েকটি নগর ও সদর উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দলটির নেতাদের ইঙ্গিত, প্রয়োজন পড়লে দেশের স্বার্থে এবং জোটের অংশ হিসেবে শেষ মুহূর্তে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা প্রকাশ করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি ট্রাইবাল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদ পরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছে। তবে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, দেশের বৃহৎ স্বার্থে ১১ দলের জোট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একত্রিত হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করব। এখনো সিদ্ধান্ত হলো যে, আমরা এককভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিব। তবে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, সবকিছু স্বার্থে নির্ভর করে। আমাদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিকভাবে কোনো সমস্যা হবে না।’

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইন অনুযায়ী দলীয় মার্কা বা মনোনয়ন থাকছে না, সব প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে লড়বেন। তবে দলের সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন। এসব নির্ধারণ করবে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।’

    সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন পেশার স্বেচ্ছাসেবী ও আগ্রহী ব্যক্তিদেরও যোগাযোগের জন্য বলা হয়।

    সারজিস আলম উল্লেখ করেন, মাসগুলো আগেই নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগে থেকে কর্মসূচি শুরু করেছে এনসিপি।

    অতিরিক্ত, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষে গেছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময় যাওয়ার উপযুক্ত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সেই জন্য তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান।

    পাশাপাশি, সম্প্রতি পুলিশের অভিযান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটি নিন্দা জানিয়েছে। দলের নেতারা বলেন, যৌক্তিক কারণে আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়, এটি যদি হ্রাস পায় বা দমন করা হয়, তাহলে তা সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ডেকে আনবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও যোগ দেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক, এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।