Author: bangladiganta

  • খুলনা আসনে মনোনয়ন বৈধ ৩৫জনের, বাতিল ১১জন

    খুলনা আসনে মনোনয়ন বৈধ ৩৫জনের, বাতিল ১১জন

    খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই পর্যায়ে বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না করায় ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই চার দিনের প্রক্রিয়ায় बुधवार (৩১ ডিসেম্বর) থেকে রোববার (৪ জানুয়ারি) খুলনা জেলা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, খুলনা–১ আসনে ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন সেটি দাখিল করেন। যাচাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। তবে, কিছু প্রার্থী বৈধ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, বিএনপির আমির এজাজ খান, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় এবং জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।

    খুলনা–২ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে, সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনের প্রার্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম। এখানে কোনো মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

    খুলনা–৩ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে, তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল, বিএনপির রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীয়ের মো. মাহফুজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের জনার্দন দত্ত, খেলাফত মজলিসের এফ. এম. হারুন অর রশিদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেখ আরমান হোসেন ও জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল রউফ মোল্লা, মো. আবুল হাসনাত সিদ্দিক ও এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু।

    খুলনা–৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে, চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বিএনপির এস. কে. আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস. এম. সাখাওয়াত হোসাইন ও জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়।

    খুলনা–৫ আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই শেষে চারজনের মনোনয়ন বৈধ হয়। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদার, জামায়াতে ইসলামীয়ের মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার ও খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইয়ুম। এই আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমীন) ও ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    খুলনা–৬ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে তারা হলেন বিএনপির এস. এম. মনিরুল হাসান (বাপ্পী), জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। বাতিল হয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাস।

  • শৈলকুপায় মধ্যরাতে সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক নদীতে, নিহত ২

    শৈলকুপায় মধ্যরাতে সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক নদীতে, নিহত ২

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে কুমার নদীতে পড়ে গেলে নিহত হন চালকসহ দুই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দাহ পুরাতন ব্রিজে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে যশোর থেকে একটি ডালবোঝাই ট্রাক পাবনা যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, যখন ট্রাকটি বড়দাহ ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোরে মুবারক হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, এরপর সকাল ৮টার দিকে চালকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। তাঁরা দুজনের বাড়ি পবা উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামে।

    ওসি হুমায়ন কবির বলেন, রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটার খবর পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়। ট্রাকের হেল্পার মুবারক হোসেনের মরদেহ ভোরের দিকে উদ্ধার হয়, এবং চালকের লাশ সকালে উদ্ধার করে দ্রুত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

  • যশোরে জুলাই যোদ্ধা এনামকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা

    যশোরে জুলাই যোদ্ধা এনামকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা

    যশোরে Juliya Joddha এনাম সিদ্দিকীকে উপর হামলা করে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে ইয়শোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে ঘটে। কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আহত এনাম সিদ্দিকী এনায়েতপুর এলাকার মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

    স্বজনরা জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে 8টার দিকে প্রতিদিনের মতো হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে বের করেন। এ সময় এনায়েতপুরের পীরবাড়ির সামনে অজানা দুজন ব্যক্তি তার পথ রোধ করে। তখন দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এরপর ডান বুকে, বাম হাতের ডানায় এবং কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ফলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন এবং আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে, তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

    এদিকে, এই ঘটনা শোনার পর বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসে এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    এ ঘটনায় পুরো এলাকা এখন চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে আক্রান্ত। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

    কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • টানা ৮ দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমলো

    টানা ৮ দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমলো

    বিশ্ব বাজারের প্রভাব এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সোনার দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বলেছে, টানা আট দফা মূল্য বৃদ্ধির পরে এবার তারা সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    মাননীয় বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে এ পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়, এবং আগামী মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত চাহিদা কিছুটা স্বাভাবিকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। খবরসূত্র জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে, যা বিশ্বের পরিস্থিতির প্রতিফলন।

    নতুন দামে দেশের বাজারে ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হবে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির বা পুরানো ধরনের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোনার বিক্রয়ের সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা এবং মান অনুযায়ী এই মজুরিতে তারতম্য হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২৮ ডিসেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা করে ছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। এছাড়াও, তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

    এখন পর্যন্ত চলতি বছরে মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২ বার; দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

    অপরদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম স্থির রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ধরা হয় ৫ হাজার ৮৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির টাকা ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ বার কমানো। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ বার।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    চলতি বছর বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোতে বেশ কিছু পরিমাণ ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফেরাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডলার কিনতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে রোববার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলার বিক্রির রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বর মাসে তারা মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন।
    আরেকদিকে, ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রবাসী আয় প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    অর্থাৎ, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চলতি অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১,৫২১ কোটি ডলার যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৩১২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়ছে।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
    অন্যদিকে, গত নভেম্বর মাসে দেশত্যাগী প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার রাখা হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, এ হার আবারও কমানো হয়েছে গত জুলাই মাসেও।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার বেশি থাকছে, অর্থাৎ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বা তার কম বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার বেশি হবে। আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে।

    বিশেষ করে, এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে। এই সঞ্চয়পত্রে, পূর্বে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মেয়াদকাল শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। আবার, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন থেকে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে পরিবর্তিত হয়েছে।

    পাঁচ বছরের মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হারে পরিবর্তন এসেছে। এখানে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ; আগে ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর, বেশি বিনিয়োগের জন্য, মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন সেটা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

    আরো জানিয়ে গেলে, তিন মাসের ভেতরে মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে, মুনাফার হার কমে এসেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে, মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আগে ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এখন তা পড়ে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে।

    আগামী ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ক্ষেত্রে, সেই সময়ে নির্ধারিত মুনাফার হারই কার্যকর থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন তারিখের মুনাফার হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে আবারো মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

  • বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে আবারও সোনার মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। এই প্রথম দিনের ঘটনায়, বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের সর্বোচ্চ মানের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে এই ধরনের সোনার নতুন মূল্যে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দামের পরিবর্তনের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম কার্যকর হবে শুক্রবার, ২ জানুয়ারি থেকে।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এর পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার মূল্যও নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আসতে হবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত 6 শতাংশ মূল্য সংযোজন। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন, ভরিতে ২৭৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের প্রকারের মূল্য ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বাড়ানোর সংখ্যা ছিল ৬৪ বার এবং কমানোর ছিল ২৯ বার।

    এছাড়া, রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের জন্য দাম যথাক্রমে, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    এটি ছিল দেশের বাজারে প্রথম রুপার দাম সমন্বয়। গত বছর, রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই অঙ্কে দেশের মুদ্রায় পরিণত করলে হয় প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকাসহ)। এটি এখন পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এটি ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার এই হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ পৌঁছেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা মোট ৩১ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার, আর এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা কর্মসূচি ও ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতিতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আরও স্থিতিশীল হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রেরণা ছিল যথাক্রমে: জুলাইতে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

    গোটা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে। ওই অর্থবছরের শেষে দেশে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • জামায়াতের মহাসমাবেশ স্থগিত করে ইসলামী আন্দোলন

    জামায়াতের মহাসমাবেশ স্থগিত করে ইসলামী আন্দোলন

    নির্বাচনের আগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৃহৎ মহাসমাবেশের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার নিয়োগ পরীক্ষা ও নির্বাচনী পরিবেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা এই কর্মসূচি স্থগিত করেছে। শুক্রবার দুপুরে দলের আমির ও চরমোনাই পীর মোফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এর আগে, গত ২৫ ডিসেম্বর দলের এক মিটিংয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, শহীদ ওসমান হাদীর হন্তারকের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে তারা ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। তবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষার কারণে, সংশ্লিষ্ট মহাসমাবেশটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হয়, যা বিএনপির শক্তিশালী উপস্থিতির পরিচয় দেয়। নির্বাচনের আগে দলটির এই শোডাউন ছিল প্রচার ও শক্তি প্রদর্শনের একটি কৌশল।

    এর পরে, জামায়াত ঘোষণা দেয় তারা ৩ জানুয়ারি রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। শুধু তাই নয়, জামায়াতের এই কর্মসূচিরও স্থগিত ঘোষণা আসলে, এরপর ইসলামী আন্দোলনও একই সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। জামায়াত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কারণে মহাসমাবেশ স্থগিত করে, আর ইসলামি আন্দোলনও এই কর্মসূচি স্থগিত করল।

  • মুহাম্মদ মুরসালীন ও মুশফিক উস সালেহীন এনসিপি থেকে পদত্যাগ

    মুহাম্মদ মুরসালীন ও মুশফিক উস সালেহীন এনসিপি থেকে পদত্যাগ

    দুই ঘণ্টার ব্যবধানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আরও দুই কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। বুধবার বিকেলে দলের যুগ্ম-সদস্য সচিব and মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন অনলাইনে নিজের পদত্যাগপত্র দলের আহ্বায়কের কাছে পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে একদিনে দলের দুইজন নেতা পদত্যাগ করলেন। একই দিনে, দুপুরের দিকে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের ভিডিও বার্তায় এনসিপির যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীনও দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের কিছু নেতার সঙ্গে পুরোনো উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার অংশীদারিত্বের মতো আপসের চেষ্টা চলছে, যা দলের ভেতরে বিভেদ তৈরি করছে। এই আট দিনে মোট আটজন নেতা দলত্যাগ করেন।

    জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জোটের খবর প্রকাশের পর থেকেই এনসিপির কিছু অংশ এই জোটের বিরোধিতা শুরু করে। দলের ৩০ কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর জোটের বিরোধী একটি স্মারকলিপি দেন, যেখানে স্বাক্ষর করেন মুশফিক ও মুরসালীন। এছাড়াও, ২৫ ডিসেম্বর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাড়িতে ছয় নেত্রী বৈঠক করেন, যেখানে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটের আসন তালিকা নিয়ে আপত্তি জানান।

    এই পদত্যাগের ধারা শুরু হয় তখন, যার মধ্যে তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাকে সমর্থন জানিয়ে সেই দিনই পদত্যাগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক। এরপর দুদিনের মধ্যে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তাসনিম জারা ও আসেন। স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেন আরও একজন, তাজনূভা জাবীন। ৩০ ডিসেম্বর আরও দুই নেতা – কেন্দ্রীয় সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী – দল থেকে পদত্যাগ করেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে, এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের পদত্যাগ জমা দিয়ে, যুগ্ম-আহবায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ নিজেকে দলত্যাগের ঘোষণা দেন।