Author: bangladiganta

  • গোপালগঞ্জে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১ নিহত, ১৫ আহত

    গোপালগঞ্জে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১ নিহত, ১৫ আহত

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজন নিহত ও প্রায় পনেরো জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে উপজেলার কমলাপুর গ্রামে। নিহত ব্যক্তি হলেন নিলু মুন্সী (৫০), তিনি ওই গ্রামের আনোয়ার মুন্সীর ছেলে।

    মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বছরের পর বছর ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আনোয়ার মুন্সী ও নূর ইসলাম নামের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাকালীন এই সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    আহতদের প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত নিলু মুন্সী ও তার স্ত্রী রুপা বেগম, তার ভাই মিলন মুন্সী ও দুলাল মুন্সীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক নিলু মুন্সীকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। অন্য আহত রোগীদের মুকসুদপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    ওসি আরও বলেছেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনা এবং র‌্যাব সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন, যারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

  • সাতক্ষীরায় পোল্ট্রি ফার্মের বিরোধে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ১

    সাতক্ষীরায় পোল্ট্রি ফার্মের বিরোধে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ১

    সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একটি পোল্ট্রি ফার্মের চারপাশের পর্দা খোলা নিয়ে বিরোধের জেরে ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামে ফার্ম মালিকের ছুরিকাঘাতে মোঃ ইব্রাহিম হোসেন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হন। আহত অবস্থায় তার বড় ভাই মোঃ রুহুল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ঘাতক আরিফ হোসেনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

    নিহত ইব্রাহিম হোসেন কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামের সোলেমান সরদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, কলারোয়ার কেরালকাতা ইউনিয়নের এই গ্রামের আরিফুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নিজ বাড়ির চলার খামার চালাতেন। খামার থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের লোকজন ক্ষোভে ভুগলেও ভয় পেয়ে কেউ প্রকাশ্যে মামলা বা প্রতিবাদ করেননি। তবে শীতকালীন সময়ে খামার চারপাশে পর্দা দিয়ে সুরক্ষা করা হয়েছিল। গরমের কারণে সোমবার দুপুরে আরিফুল হোসেন ফার্মের পর্দা খুলতে শুরু করলে, সেখানে রমজান মাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় রুহুল আমিন তাকে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আরিফুল হোসেন ছুরি নিয়ে রুহুল আমিনের ওপর আঘাত করেন। ঘটনা দেখে তার ছোট ভাই ইব্রাহিম এগিয়ে গেলে, তাকেও উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

    উল্লেখ্য, গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরিফুল হোসেন, তার বাবা জামাল উদ্দিন, স্ত্রী সাথী ও মা শাহানারা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে।

    কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহিন হোসেন জানান, এই ঘটনাটি তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। নিহতের পরিবার মামলা প্রস্তুত করছে।

  • খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর যোগদান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর যোগদান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছেন খ্যাতনামা সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর যোগদানপত্র তুলে দেন। এ সময় দেশের অন্য ৫টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা এবং তারা همچنین যোগদানপত্র গ্রহণ করেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই যোগদান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বেশ কয়েক বছর পরে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সূচনা হয়েছে, যেখানে ফ্যাসিবাদমুক্ত এক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা অকার্যকর ছিল, যেখানে দলীয় রাজনীতি আর নির্বাচন প্রক্রিয়া লুকানো হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় নির্বাচনের জালিয়াতি ও দখল ব্যবস্থাও চালু ছিল।

    তিনি বললেন, জনগণের মূল সেবা ও অধিকার অক্ষত রাখতে এবং জনগণের কষ্ট কেটে দিতে এখন আরও সক্রিয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন সরকার আসার পর আমরা প্রথম থেকেই জনগণের দাবি ও ভোগান্তি কমানোর জন্য কাজ শুরু করেছি। যারা এই সেবা পায়নি বা উপকার পায়নি, তাদের মুখোমুখি হয়ে সমস্যা শোনার পাশাপাশি, সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত সমাধান করার প্রথম লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। যদি কিছু সমাধানে দেরী হয়, সেগুলো সরকারের সঙ্গে স্পষ্টভাবে তুলে ধরব ও কাজ করব।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার, পরিষ্কার-পরিছন্নতা, মশা নিধন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত এই নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর করার জন্য তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তাঁর এই নিয়োগে তিনি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ দুর্দশায় বিশ্বাস ও আস্থার হাত বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি সততার সঙ্গে খুলনাবাসীর উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাবেন, সকল সুখ-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন। খুলনাকে মাদকমুক্ত ও দখলমুক্ত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য, যাতে শহরটি আধুনিক, সুন্দর ও নিরাপদ হয়ে উঠে।

  • কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল থেকে বিষধর সাপ উদ্ধার

    কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল থেকে বিষধর সাপ উদ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি মোটরসাইকেলের সিটের ভেতর থেকে বিষধর এক সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর_blue ১২টার দিকে কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মনসুর প্লাজার সামনে। প্রথমে ঘটনাটি দেখে আশপাশের মানুষই উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু বন বিভাগের তৎক্ষণীন পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একজন ব্যক্তি ঈদের কিন্ডোয়াকার জন্য তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পার্কিং করে মার্কেটে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পরে আশপাশের পথচারীরা লক্ষ্য করেন, সিটের ভিতর থেকে একটি সাপ মাথা বের করছে। এটি দেখে সবাই আতঙ্কের মধ্যে পড়েন এবং অন্যদের সতর্ক করেন। এই খবর মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাপটি মোটরসাইকেলের সিটের ভিতর আশ্রয় নিয়েছিল এবং মাঝে মাঝে তার মাথা বের করছিল। এতে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ে। অবশেষে, মোটরসাইকেলের মালিক ঘটনাটির কথা জানালে তিনি দ্রুত বন বিভাগের সাহায্য চান।

    খবর পেয়ে বন বিভাগের ট্রেইনার আদনান মীম ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সিট খুলে সাপটি উদ্ধার করেন। প্রথম ধারণা অনুযায়ী, সাপটি বিষধর।

    আদনান মীম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং নিরাপদভাবে সাপটি উদ্ধার করি। তিনি জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যেন নিজেরা সাপ ধরার চেষ্টা না করেন, বরং দ্রুত বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের খবর দেন। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত সাপটি পরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    এলাকার ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলেন, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। বন বিভাগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও পেশাদারিত্বের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তারা এই সড়ক বিভাগের উদ্ধার ও তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।

    শেষমেশ, এই ঘটনায় সাময়িক আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি হলেও বন বিভাগের দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সবাই স্বস্তি পায়।

  • খুলনার বাইতুন নূর শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ড, ১০ দোকান পুড়ে গেছে

    খুলনার বাইতুন নূর শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ড, ১০ দোকান পুড়ে গেছে

    খুলনার নিউমার্কেটের পাশে অবস্থিত বাইতুন নূর শপিং সেন্টারে রোববার রাতে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেছে। ঘটনাটি ঘটে রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে, যখন মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে অগ্নিগর্ভের সূচনা হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় চাট্টখানি সময়ের মধ্যে পুরো মার্কেটে ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আশেপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ মূলত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। ঘটনার ফলে চালিয়াপড়া প্রায় ১০ থেকে ১২টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস শুরু করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আর জন্যে শ্রম দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কার্যপ্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

    ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকার করে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়ে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    রপ্তানির বর্তমান সময়ের ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়া এখনো সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একমাত্র কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই দুর্বলতা কাটাতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য সংযুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধান চালাতে হবে। এছাড়া, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে টিকে থাকছে। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই ক্ষুদ্র, যেখানে ভুলের সুযোগ কম। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতিচলন দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    রমজান উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। সরকার রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনে ব্যবহৃত পণ্য পর্যাপ্ত মজুত ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন, ফলে বাজারে কোনো আতঙ্কের সময় না।

    রমজান মাসে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য নয়, কাজের মাধ্যমে ফলাফল দেখাতে চান। এ জন্য তিনি বলেন, ‘আমি সাউন্ড বাইট দিচ্ছি না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।’

    বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে, ফলে ভোগের প্রয়োজন বাড়ে, এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে বলে থাকেন, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে। তিনি আরও জানান, দেশে বড় সংখ্যক জনশক্তি রয়েছে, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। পুরনো বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় দেশের জন্য বড় চাপে পড়েছে, এবং এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রমজান শুরু হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলছেন, রমজান কার্যক্রম সুসম্পন্ন করতে হলে সরকারকে সফল হতে হবে। দেশের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে সবাই একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। এই কাজে সকলের সহযোগিতা চান, যদি কোথাও ভুল হয় তখন তা ধার করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, মিলেঝুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের বেশ কিছু ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। শেষ কয়েক সপ্তাহে কাঁচা পাটের দাম হঠাৎ করে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে বেশিরভাগ মিলই এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, এবং এতে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। শ্রমিকেরা বলছেন, শ্রমিকেরা প্রতিদিন সামান্য সময় বসে থাকছেন, কারণ কাঁচা পাটের সংকটের কারণে মালিকরা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

    খুলনার দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিল গত দেড় মাস ধরে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকরা বলছেন, কাঁচা পাটের অভাবে মিলগুলোতে কাজ নেই, তাই তারা কাজ করতে আসছেন না। শ্রমিকদের একজন আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি গত দেড় মাস ধরে এখানে আসছি, কাজের জন্য হালকা আশায় থাকি, কিন্তু কোনো কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না, আর যদি যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট সমাধান না হয়, তবে কেবল কাজ হারানোর আশঙ্কাই বেড়েই চলবে।” অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের দিয়ে মালিকরা খুব কম টাকা আয় করেন, আর আমরা সেই টাকা নিতে পারি না। এই তিন বছর আমাদের জীবন ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বিনা কাজের মাঝে আছি। মালিকেরা যদি সরকারি নীতিনির্ধারণে সক্রিয় না হন, তবে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে।”

    মিলের মালিকেরা জানাচ্ছেন, মৌসুমের শুরুতে তাঁরা যদি পাটের দাম প্রতি মণ ৩২০০ টাকা কিনে থাকেন, এখন দেড় মাস পরে দাম বেড়ে ৫২০০ টাকায় উঠেছে। দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, আবার বাজারে পণ্য বিক্রি দরও বেড়েছে না। ফলে উৎপাদনে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মোল্লা জানান, “অতিরিক্ত দামে পাট কিনে এখন সামর্থ্য থাকছে না, আগে যেখানে প্রতি মণে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকা দরে চাদর বিক্রি করতাম, এখন ৪০০০ টাকা দরেও কিনে মিল চালানোর কথা ভাবা যায়। তবে এখন খরচ এত বেশি যে বিক্রির মূল্য তার চেয়ে কম। ফলে বাধ্য হয়ে দেড় মাস থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাটের এই সংকট তৈরি হয়েছে ভুয়া সংকট দেখানোর জন্য। আসলে, গত দুই বছরে এই অঞ্চলের উৎপাদন মাত্রই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বৃদ্ধি করেছে। সরকার যদি তদারকি না করে, তাহলে এই মিলগুলো চালানো সম্ভব নয়।”

    অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত দুই বছর ধরে এই অঞ্চলের কাঁচা পাটের উৎপাদন স্থিতিশীল ছিল, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৪,৬৬৬ মে. টন এবং ২০২৫-২৬ সালে ৯১,১৩৫ মে. টন উৎপাদন হয়েছিল। কৃষি অধিদফতরের গড় হিসেবেও দেখা যায়, এই দুই বছর জেলাগুলোর উৎপাদন খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

    বাজারের অস্থিতিশীলতা ও উর্ধ্বমুখী দামের জন্য কিছু সিন্ডিকেট মূলত পাট মজুত করে রাখছে এবং দাম artificially বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, “নতুন সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি আর তদারকি আরও বাড়ানো দরকার। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা পাট মজুত করে চকচকে করে দিচ্ছে, যার ফলে বাজারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সংকটও রয়েছে, যা এই খাতে বড় সমস্যা। তাই সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বললেন, “আমরা আহ্বান জানিয়েছি, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন, এই নিয়মের যথাযথ প্রয়োগের জন্য নজরদারি চালাচ্ছি। দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে এবং বাজার স্বাভাবিক হবে।”

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এখানে প্রায় প্রতি মাসে ২৫,০০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে বর্তমানে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌঁছাল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌঁছাল দুই বিলিয়ন ডলার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন pবিত্র রমজান মাসের প্রভাবের কারণে দেশের মানুষের মধ্যে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অতীতের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশের বৈধ পথে প্রবাসীরা মোট ২ বিলিয়ন ডলাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার আশার কথা বলা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও রমজান মাসের জন্য পরিবারের খরচ বাড়ার কারণে প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ প্রেরণ করছেন। এই রেমিটেন্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার বা অর্থাৎ ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাসের রেকর্ড। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স ছিলো ৩২২ কোটি ডলার, যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের রেকর্ড অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চ মাসে, তখন ঈদের কারণে ৩২৯ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের অর্থোব্দে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরতে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, октябрে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার প্রেরিত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এখনো পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর মানদণ্ডে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ হচ্ছে ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের গতি ফিরে আসতে শুরু করে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার গত কিছু মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ মতো অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়ে গেছে

    সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়ে গেছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার মূল্য বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতিটি ভরির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি বর্তমানে দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা পূর্ববর্তী দিনে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে এই নতুন দামের কার্যকারিতা শুরু হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে সোনার দামও আপডেট হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, নতুন দামের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ডেলিভারির জন্য প্রতি ভরি দামের ঘোষণা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য একই ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    এছাড়া, সোনার সঙ্গে রুপার দরেও বৃদ্ধি আনা হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও ক্রমশ বৃদ্ধির পথে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা এর আগের দিনে ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে, জানুয়ারি মাসের শেষদিকেও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারিতে তা উঠে যায় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশের বাজারেও বিপুল পরিমাণ দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালেই বাজুস ডেবলভারের জন্য ১৬ হাজার ২১৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দেয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধি আর কোনো সময় এতটা বেড়ে যায়নি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার মূল্য

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার মূল্য

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই মূল্য সম্প্রতি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সকাল ১০টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্যে সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়। তবে, এই দামের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

    চলতি বছরের প্রথম দিকে, যেকোনো সময়ের তুলনায়, এখন পর্যন্ত ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে, আর ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ৬৪ দফায় দাম বৃদ্ধি পায় এবং ২৯ দফায় কমে।

    অপরদিকে, সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্যান্য ক্যাটাগরির রুপার মূল্য হলো ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে, এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে ও ৩ বার কমেছে।