Author: bangladiganta

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে সোমবার মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো শক্তিশালী ডলার এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বেড়ে চলা উদ্বেগ। তেলের দাম বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হচ্ছে, যার ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়তে শুরু করেছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে গিয়েছিল, যা প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে, দিন শুরুতে এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন ৪,৬৪৩ ডলারে পৌঁছেছিল। জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার দাম ০.৮% কমে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে নামিয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডলার সূচক ০.৩% শক্তিশালী হয়েছে এবং তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রত্যুত্তর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা স্বর্ণের দাম কমার পেছনে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা যুদ্ধবিরতির আশা ধাক্কা খেয়েছে। এর ফলে ডলার এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    শুরু থেকেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরানের সংঘর্ষ শুরুর পর স্পট গোল্ডের দাম ১১% এর বেশি কমে গেছে। সাধারণত, মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক। শক্তিশালী ডলার অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনাকাটা আরও ব্যয়বহুল করে তোলে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা স্বর্ণের মূল্যকে দুর্বল করে।

    ব্যবসায়ীদের মতে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ উচ্চ জ্বালানি মূল্য সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়াতে পারে এবং গভীর শিথিলতার সুযোগকে কমিয়ে দেয়। ফলে মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত

    দেশজুড়ে ছেঁড়া, ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহারে वृद्धि হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংক ও শাখাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে, অন্যথায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার একটি অফিসিয়াল নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা এই নিয়ম মানতে বাধ্য। নির্দেশনায় বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত বা ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে এবং পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মানছে তবে বাজারে এখনো অপ্রচলিত বা ক্ষতিগ্রস্ত নোটের আধিক্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য লেনদেনে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ কার্যকর করে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে এবং গ্রাহকদের ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, যদি কোনো ব্যাংক শাখা এ সেবা দিতে গাফিলতি করে বা অনীহা দেখায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীনে জারি এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সঙ্গী শুধু সংসদই, দেশে নয়: জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সঙ্গী শুধু সংসদই, দেশে নয়: জামায়াতের আমির

    দেশে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকটের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এখন শুধু সংসদে তেলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের কোথাও তা পাওয়া যাচ্ছে না। এই মন্তব্য তিনি শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গণসংবাদ সম্মেলনে করেন। এটি আয়োজন করে এ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ, যার সভাপতিত্বে ছিলেন অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী।

    শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি কিনতে পারছেন না। অন্যদিকে, কালোবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির জন্য সিন্ডিকেটই দায়ী, যারা এই অবস্থা সৃষ্টি করেছে। মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও কার্যকর কোনও সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সংসদে যখন ইনকামবেন্ট মিনিস্টার বা সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কেউ কথা বলেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশ অনির্দিষ্টভাবে তেলের ওপর ভাসছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব কমেনি। এ পরিস্থিতিতে অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত করার সঙ্গে সঙ্গেই সিন্ডিকেট ভেঙে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের দিকে এগোতে হবে।

    জামায়াত আমির সরকারের উপর সিন্ডিকেট পোষণের অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো শুরু করলেও, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই খাতটি এখন ‘লুটেপুটে খাওয়ার’ জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, কৃষির অবনতিই দেশের বিপর্যয়, তাই কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাটা জরুরি। অন্যথায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি তিনি সংসদের কার্যপ্রণালীর সমালোচনা করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • শেষ দিনে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    শেষ দিনে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা ছিল না: সালাহউদ্দিন

    জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে শেষ কার্যদিবসে বিরোধীদলের ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি বিএনপি। এই মত প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

  • এডেন কলেজসহ গোপালগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত

    এডেন কলেজসহ গোপালগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল মেয়াদ শেষ হওয়ায় গোপালগঞ্জ জেলা, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সহ-সভাপতি পদমর্যাদার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরাসরি কর্মকােন্ত বাধ্য হয়ে তারা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, শিগগিরই এসব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ছাত্রসংগঠনের উপর এক ধরনের মনোযোগ এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনের পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে।

  • নাহিদ: আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি

    নাহিদ: আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এটি কোন দল বা জোটের বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য জুলাইয়ে শহীদদের রক্তের দাহ অবলীলায় বিপথগামী কিছু শক্তি যেন ভূলুণ্ঠিত না হয়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই উদ্যোগে কাজ করছি।’ রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় এ কথাগুলো বলেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে স্বস্তিপ্রদ হলেও অন্তর্বতী সরকার তখন যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেনি। তবুও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছি। বর্তমান সরকার দাবি করে যে তারা জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বিভিন্ন বড় উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আমরা দেখতে চাই তারা এই যোদ্ধাদের জন্য সত্যিই কি করছে।

    তাঁর মতে, ‘জুলাইয়ের শহীদ স্মৃতি ও যোদ্ধাদের জন্য গঠন করা হয়েছিল একটি বিশেষ অধিদফতর ও ফাউন্ডেশন, যা এখনও কিছুটা কার্যকর হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতা ও অনীহার কারণে অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে।’

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ আপনি যারা উপস্থিত, সবাই হয়তো সবকথা বলতে পারছেন না, কিন্তু সকলের মধ্যেই আমি দেখতে পাচ্ছি এক বিশাল স্পিরিট। প্রত্যেকের মনেই রয়েছে সেই আন্দোলন ও আগ্রহ। আমরা আবারো একসাথে, রাজপথে আন্দোলনে প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ, আপনি ও আমি সবাই প্রস্তুত আছি।’

    এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘যারা এই আন্দোলনে সন্তান হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ হাত হারিয়েছেন, তাদের দুঃখ-ব্যথা আমরা ভাগ করে নিই। এই মুহূর্তে যারা এই মঞ্চে উপস্থিত, তারা সামনে থাকবেন। আমরা সকলে বোঝাবো যে, পরিস্থিতি যখন কঠিন হবে, তখন আমরাই প্রথম বুকের ওপর গুলি নিতে প্রস্তুত। আপনারা শুধু আমাদের দোয়া ও সমর্থন করবেন। ইনশাআল্লাহ, একটি নতুন বাংলাদেশ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কোন বহিরাগত বা বৈদেশিক শক্তির বিরুদ্ধে আমরা যতই লড়াই করবো, আমাদের বিজয় আসবেই।’

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতার মদদে বিএনপি এখন জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা জনগণের অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াইকারী শ্রমিকদের কথা উপেক্ষা করছে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের ইতিহাস বলছে, শ্রমিকেরা রক্ত দিয়ে দেশের মুক্তি এনেছেন। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৭৪ ও ২৪ জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের বেশিরভাগই শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগের কারণে আমাদের এই স্বাধীনতা ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই পক্ষই জনগণের রক্তের ওপর ক্ষমতা দখল করেছে। বিশেষ করে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠিত হলেও তারা শ্রমিকদের রক্তের মূল্য বুঝতে পারেনি, বরং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে বেইমানি করেছে। গণভোটে ভোটপ্রদানকারীদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই তিনি বলন, এই সরকার গণবিরোধী, এবং বিএনপি ক্ষমতার লোভে জনগণের হূদয় ভুলে গেছে।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, অতীতের ধারাবাহিকতা অনুসারে, অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর ও সংস্কার হিসেবে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা তারা ভঙ্গ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংগ্রামী শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায়বিচার বাস্তবায়নে এখনই অবিলম্বে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

    নাহিদ বলেন, আমরা এক নতুন জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রসর হয়েছি, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সে ওয়াদার প্রতিশ্রুতি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, সকল স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতকরণ—অগোচরে থাকব না। এই লড়াইয়ে সবাইকে সততার সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই আমাদের পরিকল্পনা ও আন্দোলন সফল হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, যেন সবাই একযোগে এগিয়ে আসে। বলন, ‘আপনাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাজপথে নামতে হবে। রাজপথের প্রস্তুতি ও গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে যেন জুলাই সনদ, গণভোটের ফল এবং শ্রমিকের অধিকার—সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়।’

  • কিডনি চিকিৎসক ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ৭

    কিডনি চিকিৎসক ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ৭

    রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, তবে এর বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ হয়নি।

    র‌্যাবের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া থানার পুলিশ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে। এছাড়া অন্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. লিটন মিয়া, মো. সুমন, মো. শাওন, স্বপন কাজি, মো. ফালান এবং রুবেল।

    এর আগে, বিভিন্ন সময় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে, যেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে ডা. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে প্রায় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে প্রবেশ করে। সেখানে যুবদল নেতা বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

    এখন পর্যন্ত জানা গেছে, শুধু এ দিনই নয়, ৫ আগস্টের পর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে চাঁদা সংগ্রহের মতো অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। অভিযোগ রয়েছে, তারা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে রোগীর স্বজনদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছিলেন। বিশেষ করে, ডা. কামরুলকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালটির সামনে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করারও অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে হুমকি দেয়। এর জের ধরেই মাঝরাতের দিকে হাতের লোকজন নিয়ে হাসপাতালটি যান কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা। অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন নিজেকে শেরেবাংলা নগর থানার যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করলেও নেতারা জানান, তার সঙ্গে যুবদলের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ডা. কামরুলকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    বিশিষ্ট এই চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে দেশের একজন প্রশংসিত ব্যক্তি, যিনি মানবতার কাজের জন্য দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকও লাভ করেন। হাসপাতালটি প্রায় ২ হাজারের বেশি রোগীকে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় এক অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

  • আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু

    আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু

    দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ভারতীয় ভিসা অনেকটাই বন্ধ ছিল। তবে ধীরে ধীরে ভারত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে উদ্যোগী হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ভারত সরকার।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। মনোভাব পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পর্কের ইতিবাচক দিকটি সামনে আনতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আন্তরিকতা দেখানো হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ভারতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা কিছু সন্ত্রাসীর বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সেই বিষয়গুলো সমাধান করবে। শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ভারতীয় উচুঁ পর্যায়েও আস্থা ও সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির।

    উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের স্বার্থে কাজ করছে এবং জনগণের স্বার্থের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে সরকার। এরই মধ্যে, পাইপলাইনে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়েও ভারতকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তিনদিনের সফরে দিল্লি যান। এই সফরে তারা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করেন।

  • টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

    টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

    হাম এবং অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ এবং ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা আছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের আবশ্যকতা রয়েছে। especially in the procurement and distribution of vaccines and syringes, শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনিয়মের কথা তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের বিস্তার এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই আবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনসাধারণ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যার জন্য মূলত অতীত সরকারের টিকা সংগ্রহের নীতিমালা ও দুর্নীতি দায়ী। হামে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য বিভাগে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পেছনের সরকারের সমস্যা হিসেবে দেখছে। তবে, অপ্রতুল প্রস্তুতি এবং টিকা ক্রয়ে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে না পারা, দেশের স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও, সঠিকভাবে অর্থের ব্যবহার না হওয়া ও দুর্নীতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্যখাতে টিকা ও সিরিঞ্জের ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য বেশ স্পষ্ট।

    অতএব, এ মামলার মাধ্যমে তদন্তে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করে এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।