Author: bangladiganta

  • ধর্ম অবমাননাসহ অভিযোগে জামিনে মুক্তি পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার

    ধর্ম অবমাননাসহ অভিযোগে জামিনে মুক্তি পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার

    গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জনপ্রিয় বাউলশিল্পী আবুল সরকার। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তিনি রিকশায় চড়ে কারাগার থেকে বের হন। এরপর সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যান। His পরিবারের সদস্যরা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি।

    গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন নিশ্চিত করেছেন যে, জামিনের কাগজপত্র যখন কারাগারে পৌঁছায়, তখন তা যাচাই-বাছাই শেষে কোনও অন্য মামলা না থাকায় আজ বেলা ১১টায় তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়।

    আবুল সরকারের আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল জানান, গত বছরের ২০ নভেম্বর ধর্ম অবমাননা ও কটুক্তির অভিযোগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। জামিনের জন্য আবেদন করেন, যা হাই কোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৬ মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে গত ৫ এপ্রিল।

    উল্লেখ্য, এর আগে ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি পালাগান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় আবুল সরকার ধর্ম অবমাননা ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনাপ্রবাহের ফলে তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

  • সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

    সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

    রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইন্দিরা রোড খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের প্রথম জানাজার নামাজ। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই জানজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।

    অপরদিকে, দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্টে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর, বিকাল ৫টায় আজিমপুর কবরস্থানে তার জীবনৰ সঙ্গী মাহফুজা খানমের পাশে দাফন সম্পন্ন হবে।

    শফিক আহমেদ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

  • পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকবে না

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকবে না

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে রাখা হবে না। তিনি রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ইরান আশ্বস্ত করেছে যদি কোনো বাংলাদেশি জাহাজ আটকে পড়ে তাহলে তা দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করায় পাকিস্তানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। শামা ওবায়েদ সতর্ক করে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পরে সব দেশকেই মুখোমুখি হতে হবে।

    সরকার যুদ্ধাবস্থায় জ্বালানি সংকট এড়াতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরামর্শ ও পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে দেশ ন্যূনতম ঝুঁকিতে থাকে।

    একই সময় তিনি জানান, যেসব বাংলাদেশি নাগরিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননে বাংলাদেশের মিশনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামে একটি বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই জাহাজটি ইরানি কর্তৃপক্ষ আটক করার অভিযোগ ওঠে, যা নতুন করে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে উদ্বেগ উত্থাপন করেছিল।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং প্রণালিতে প্রবেশ বা বাহিরের চেষ্টা করা যে কোনো জাহাজকে আটকে রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। ফলে ইরান যদি বাধা না দেয় তবুও বর্তমানে হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজগুলো নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

  • প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী

    প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী

    কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলা ও ১১টি উপজেলায় মোট ২২,০৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেয়া হবে। তিনি জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

    রোববার সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। লক্ষ হলো আধুনিক, জলবায়ু-সহনশীল ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি কৃষি ব্যবস্থার দিকে যাওয়া যেখানে উৎপাদন ও বিপণন তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হবে। কৃষককে ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা বানিয়ে কৃষিকাজকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    কৃষক কার্ড প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—কৃষকদের মর্যাদা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত কার্যপ্রণালী গঠন করা। কার্ডধারীরা সরাসরি সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা পেতে পারবে।

    কার্ড বিতরণে কৃষককে জমির মালিকানার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে: ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক ও বড় কৃষক। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচিটি ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে—প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও শেষ পর্যায়ে দেশব্যাপী কার্যক্রম।

    পাইলট পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলায় ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লকের ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ছাড়াও মৎস্যচাষী, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

    প্রাক-পাইলট পর্যায়ের জন্য বাছাইকৃত জেলা ও ব্লকগুলোর নাম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন—পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর নেসারাবাদ উপজেলায় রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ী গোয়ালনন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় গোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক এবং জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক। এই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষীদের কাছে কার্ড বিতরণ করা হবে।

    কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড হল একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখাগুলোতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা হবে। ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২,০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯,৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮৯৬ জন, মাঝারি কৃষক ১,৩০৩ জন ও বড় কৃষক ৫১ জন।

    মন্ত্রী আরও জানান, বাছাইকৃত কৃষকদের শ্রেণিভিত্তিক ধরন অনুযায়ী—ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২,১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫ জন এবং লবণচাষী ৩ জন। মোট বাছাইকৃত ২২,০৬৫ জনের মধ্যে প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৩১ জন, যা মোট কৃষকের ৯৩.৭ শতাংশের সমান।

    পাইলট পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বার্ষিক সরাসরি নগদ প্রণোদনা হিসাবে প্রতিজনকে ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। কার্ডধারীরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে পিওএস বা মুদ্রণযোগ্য সেল মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের খাদ্যসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।

    প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রি-পাইলট সফল হলে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং পাইলট অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী চার বছরে সারাদেশে কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেস তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

    মন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদপুর মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাক-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হবে। কুমিল্লা জেলার অরণ্যপুর ব্লক ব্যতিরেকে বাকি ৯টি ব্লকে একই দিনে কার্ড বিতরণ করা হবে; কুমিল্লার অরণ্যপুর ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে।

    উপসংহারে মন্ত্রী বলেন, কৃষি একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা এবং এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরো উজ্জ্বল করবে। কার্ডের মাধ্যমে সময়োপযোগী নানা সেবা যুক্ত হবে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেসের আওতায় এসে সার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে, চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন নিশ্চিত হবে এবং কৃষকের ক্ষতিপূরণ দ্রুতভাবে সরকারের নজরে আসবে।

    সূত্র: বাসস

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে যে সকল গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, বিশেষ করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমজীবীদের রক্তের ওপর থেকে ক্ষমতায় ওঠা বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন সরকারের আগমন শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে, কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করা ও সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য বাধ্য করব।’’

    নাহিদ আরও জানান, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের প্রত্যেকে ইনসাফ নিশ্চিত করা, নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশভাগ নিশ্চিত করা—সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের বাংলাদেশের দেখা স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    শিক্ষিত কর্মসূচি ছাড়াও রাজপথে গিয়ে গণ-আন্দোলন করার প্রস্তুতির তাগিদ দেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদের পথে নয়, রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথ ও গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও অন্যান্য দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

  • শেষ দিনে বিরোধীদের ওয়াকআউটকে যৌক্তিক মনে করলেন না সালাহউদ্দিন

    শেষ দিনে বিরোধীদের ওয়াকআউটকে যৌক্তিক মনে করলেন না সালাহউদ্দিন

    সামনের দিনে জাতীয় সংসদের শেষ কার্যদিবসে জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দলের (বিএনপি) ওয়াকআউটের কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ঈদসহ নানা ছুটির কারণে কাজের সময় সীমিত ছিল। বিধি অনুযায়ী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশ উত্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় সময়ের চাপ আরও বেড়ে যায়। সেই কারণেই এমন চাপের মধ্যে শুক্রবারও অধিবেশন চালাতে হয়েছে। স্বল্প সময়ে সব প্রস্তুতি শেষ করা সবসময় সহজ নয়; ফলে শেষ মুহূর্তে কিছু অধ্যাদেশ আগে টেবিলে আনা সম্ভব হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে, কিন্তু তাদের যে কোনো অভিযোগকে খতিয়ে দেখা গেলে অনেক তথ্য সঠিক নয়। গণমাধ্যমের সামনে তারা বক্তব্যই দিয়েছে, তবু শেষ কার্যদিবসে আনা অধ্যাদেশ নিয়ে তাদের ওয়াকআউটের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি ছিল না।

    আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সম্মেলনে অধ্যাদেশ ভিত্তিক কার্যধারার পরিমাণগত চিত্রও উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হয়েছে, ১৩টি সংশোধন করে পাস করা হয়েছে, সাতটি রহিত করা হয়েছে বা হেফাজত সম্পর্কিত বিলের মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়নি। মোট মিলিয়ে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি আইন প্রণীত হয়েছে।

    আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু বিল — যেমন মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন ও সুপ্রিম সচিবালয়–সংক্রান্ত বিল — উত্থাপন করার সময় প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও আরও যাচাই-বাছাই দরকার বলে উঠেছিল। এসব ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন এবং যারা ভিন্ন দাবি করছেন তাদের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য বলেও উল্লেখ করেছেন।

    গুম কমিশন সম্পর্কেও আইনমন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে, যদিও আইসিটি আইনে গুমের সংজ্ঞা আছে, গুম কমিশন সম্পর্কিত আইনে সেই সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে আলাদা করে করা হয়নি। ফলে মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে; এজন্য বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

    মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বিধিবদ্ধ করা হয়নি। কমিশন উভয় পক্ষকে ডেকে শুনতে পারবে, জরিমানা, ক্ষতিপূরণ বা আইনগত পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারবে এবং প্রয়োজনে নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে; তবে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের বিধান নেই।

    মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে (এক-এগারো সরকারের সময়ে) যে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি ছিল, তার মধ্যে ৫৪টি আইন হিসেবে রূপান্তর হয়েছিল। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১১৭টি অধ্যাদেশ আইন হিসেবে রূপান্তর করেছে।

  • নিট লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে

    নিট লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত গভীর অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। বছরের বেশি সময় ব্যাংকগুলোর মুনাফা সংকুচিত হওয়ায় ১৭টি ব্যাংক নিট লোকসানে চলে যায় এবং যেসব ব্যাংক মুনাফা করেছে, তাদের আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে আসে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি—ডিসেম্বর) দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।これは আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। গত এক দশকে সিএসআর খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়; পূর্বের নিম্নতম রেকর্ড ২০১৫ সালে ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে, যা খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা—এটি ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩ শতাংশ) কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে এটি ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ হলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের হিসাবও প্রকাশ পায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে; কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাবও এতে যুক্ত। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষায় একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়ার পথে।

    ব্যাংকাররা আরও বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার পিছনে রাজনৈতিক চাপও একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে ব্যয় করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ কমেছে, ফলে এখন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সতর্কভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনির্দিষ্ট চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকী ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে নির্দেশনা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে সরবরাহ করা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) খরচ করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটিও টাকা ব্যয় করেনি। ঐ তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এদের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা অর্জন না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যয়ের নাটকীয় এই হ্রাস ব্যাংকিং খাতের জটিল আর্থিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। অনুকূল আর্থিক ফলাফল ও শক্তিশালী হিসাব-নিরীক্ষা ছাড়া ভবিষ্যতে সিএসআর খাতের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে—এজন্য দফতরী নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ৮ মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার; আমদানি বাড়ায় চাপ

    ৮ মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার; আমদানি বাড়ায় চাপ

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলারে—যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

    রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন (৪,৬১৭ কোটি) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি। ওই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন (৩,০০৩ কোটি) ডলার—গত বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ২.৬ শতাংশ বাড়ল। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, বিভিন্ন ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে গোটা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সহমতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম উর্ধ্বগামী থাকায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে, ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি সীমিত থাকায় ঘাটতি বাড়ছে। তারা সতর্ক করেছেন—অস্থির আমদানির ধারা নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়াতে দ্রুত নীতিমূলক পদক্ষেপ না নিলে দেশের বৈদেশিক ব্যালান্স আরও চাপে পড়বে।

    চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টে পরিস্থিতি এখনও সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    সমগ্র লেনদেনের পরিপ্রেক্ষিতে (ওভারঅল ব্যালান্স) বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে—আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সঙ্কেত আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২,২৪৫ কোটি ডলার; আগের বছরে একই সময়ে ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার—প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়েছে।

    তবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে—গত বছর জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার; চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে পরটফোলিও বিনিয়োগও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নেট বিদেশি বিনিয়োগে নেমে এসেছে ৮ কোটি ডলার (ঋণাত্মক), যা আগের বছরটিও একই রকম ছিল।

    সংক্ষেপে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে উদ্বৃত্ত রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক ব্যালান্স ভালো হওয়ার পরও দ্রুত বাড়তি আমদানি ও তুলনামূলকভাবে ধীর রপ্তানি বৃদ্ধিই পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক ব্যালান্স স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রকৌশল উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত কর্মসূচি নেওয়া জরুরি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ: বাঘের ঘালিবাফ

    যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ: বাঘের ঘালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ব্যর্থতা নিয়ে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। রোববার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় মনোভাব ও সদিচ্ছা আছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে মার্কিনিদের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।”

    ঘালিবাফ আরও বলেছেন, “মার্কিনিরা এই পর্বের আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের ভাতৃপ্রতীম দেশ পাকিস্তানের ওপর আমরা কৃতজ্ঞ — এই আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য; আমি পাকিস্তানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত শনিবার সন্ধ্যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল আলোচনা করে। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি রয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া করেছে, যা তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়; ফলে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স; তিনি ও তার প্রতিনিধি দল বৈঠকের পর নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • এক দিনের মধ্যে ইরান ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

    এক দিনের মধ্যে ইরান ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এক দিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি’ এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব—যা ইরানের জন্য নতুন এক বড় ধাক্কা হবে।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করে অর্থ আয়ের চেষ্টা করে, তা তিনি মেনে নেন না। তিনি জানিয়েছেন, ‘হতে হবে সবাইকে সুযোগ দেয়া বা কারোই নয়—এটাই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

    ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সেখানে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না—এমন নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা ঠিক নয়; তার যুক্তি, হলে সবাই নিরাপদ যাতায়াত পাবে, নয়তো একটিও জাহাজ নিরাপদ থাকবে না।

    এর পাশাপাশি, নিজের মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে শেষ করে দেয়া হবে বলে জানিয়ে দেন।

    এই মন্তব্যগুলো আসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের প্রায় ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে—যে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা দুই পক্ষের মিশ্র সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।