Author: bangladiganta

  • তারেক রহমানের একান্ত সচিব হলেন আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

    তারেক রহমানের একান্ত সচিব হলেন আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বর্তমান নেতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দপ্তর নতুন নেতৃত্বে ঝলমলে উঠছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুজন পদে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আজ শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক সরকারি সার্ভিসের কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি তারেক রহমানের সকল ব্যক্তিগত ও দপ্তরীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন।

    অন্যদিকে, জনপ্রিয় সাংবাদিক ও সাবেক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) কে দলের প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

    দুটি নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ থেকেই এই দুই কর্মকর্তার দায়িত্বভার গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি তারেক রহমানের দপ্তর আরও দক্ষ ও গতিশীল হবে বলেই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে দলের নেতারা।

  • প্রতারণার অভিযোগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেত্রী

    প্রতারণার অভিযোগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন আরেক নেত্রী

    জুলাই মাসে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার নেতৃত্বের মধ্যে পদত্যাগের নেমে এসেছে ব্যাপক গতি। এই তালিকায় এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছেন নেত্রী নীলিমা দোলা, যিনি দলের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসাবে প্রতারণার অভিযোগ তুলে নিজের পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি সমস্ত দায়িত্ব ও পদ থেকে অবসরে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনৈতিক ধারাকে এখন আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। এতদিন আমি দলের সঙ্গে ছিলাম কারণ ভাবতাম, দলটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কার চালু করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর আমি অনুভব করেছি, দলটি ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঝুঁকছে এবং সেই নীতির পৃষ্ঠপোষকতায় এগোচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচনী জোট, তা কৌশলগত নয়। যদি হতো, তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করত না। এই জোটটি মূলত দলবদলের মাধ্যমে ভোটের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে, যা অনেকটাই প্রতারণাপূর্ণ।

    নীলিমা লিখেছেন, পদত্যাগের পর অনেকেই বলছেন, আমরা ক্ষমতা এবং গুরুত্ব পাওয়ার পরেও দল থেকে গেলাম কেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার কাছে দলের কোনো ক্ষমতা ছিল না। বরং তাঁর প্রগতিশীল মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারই দলের জন্য শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

    তিনি আরও বলেছেন, যারা পদত্যাগ করছেন তাঁদের বামপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা একটি গেমপ্ল্যানের অংশ। এতে করে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি সহজ হয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি এত দিনে যারা দল ছেড়ে গেছে, তারা সবাই ডানপন্থী? নাকি একটি কেন্দ্রীয় আদর্শ ভিত্তিক দলই আছেন?

    নীলিমা বলেন, আমি এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজ করেছি। এবং এই দলের সঙ্গে থাকাকালীনও করেছি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে এই বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে দলের কিছু নেত্রী নিজেকে পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে ছিলেন ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাভীন ও সামান্তা শারমিন।

    প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের পর থেকে কয়েকদিনের মধ্যে রাজনৈতিক জোটের অনেক নেতাই দলের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নাহিদ, সারজিস, হাসনাতরা ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহসহ আরও কয়েকজন নেতা।

  • খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির সম্মান অসাধারণ, আমরা কখনোই ভুলবো না

    খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির সম্মান অসাধারণ, আমরা কখনোই ভুলবো না

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হয়েছে। এই শোকের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষীরাও গভীর ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া প্রকাশ করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন।

    তিনি লিখেছেন, এই তিন দিনে আমরা আরও বুঝতে পেরেছি, আমার মা বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন; কখনো কখনো তার উপস্থিতি ছিল এতই প্রভাবশালী যে আমরা স্বচক্ষে সবটাই বুঝতে পারিনি। তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক, সাহসের সঙ্গে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়ানো এক অনুপ্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সেটি আমাদের সকলের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থাপন করেছে। বড় একটা বিষয় হলো, তিনি পরিচয়, আদর্শ বা অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের অনুপ্রেরণা হয়েছেন।

    তিনি আরও জানান, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাদের উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণে এ বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

    তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের আত্মীয় ও বন্ধু রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। দেশের বাইরে থেকে আসা সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ, বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সহমর্মিতা, সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত অনুভূতি—এসবই ছিল এক অপূর্ব অনুভূতির প্রকাশ।

    তিনি বলেন, আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে তাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এই শোকের মুহূর্তগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মান সহকারে শেষ হয়, এ জন্য যারা উদ্যোগ নিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার এবং শেষ সালাম মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। এতে জাতীয় সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে এবং শেষ সময়েও তার জীবনের মূল্যায়ন হয়েছে।

    তারেক রহমান আরও জানান, অনেক মানুষ আছেন, যাদের নাম বা ভূমিকা সবসময় উল্লেখ সম্ভব নয়, কিন্তু তারা নির্বিঘ্নে, কথায় কথায় এই প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন। তাঁদের জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতায় আমাদের পরিবার ও জাতি মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করতে পেরেছে।

    তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে উপস্থিত লাখো মানুষের সমবেত উপস্থিতি দেশনেত্রীর প্রতি গভীর অনুভূতি ও সহমর্মিতা বোঝায়। এই শক্তিশালী ঐক্য এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের অনুভূতির প্রতিফলন। পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে যারা এই শোক ও স্মরণে আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকেই আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা দেখিয়েছেন যে ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের নির্লিপ্ত ও দৃঢ় রাখে, এবং এর মাধ্যমেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

  • আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ

    আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাংলাদেশে সম্প্রচারে বন্ধে প্রস্তাবনার আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। এই বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তারা এই প্রক্রিয়াটি যাচাই-বাছাই করছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এর সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, আইপিএল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য একদিকে দুঃখজনক ও অন্যদিকে ভাবনা-চিন্তার বিষয়। অভিযোগ ওঠে, আইপিএল দেখানো বা না দেখানোর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। কিন্তু বিএনপি বা ভারতসহ কিছু দেশে এই সম্পর্কের উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, এর পেছনে কি রাজনীতি কাজ করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে দেশের জনগণের মধ্যে আঘাত লেগেছে এবং তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন আমাদেরই উচিত এই পরিস্থিতিতে সচেতন ও সজাগ থাকা এবং আইনী ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। রিজওয়ানা হাসান আরও জানিয়েছেন, মোস্তাফিজকে কেন এবং কোন কারণে বাতিল করা হয়েছে, সেই যুক্তি সম্পর্কে তারা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, যেসকল যুক্তি দিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমাদের গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কারণ তারা জানেন, এই পরিস্থিতি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং এই পরিস্থিতির অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে।

  • খাদ্যের মজুদ বেশি, চালের দাম বাড়বে না: খাদ্য উপদেষ্টা

    খাদ্যের মজুদ বেশি, চালের দাম বাড়বে না: খাদ্য উপদেষ্টা

    ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে বাইরে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, যেখানে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়, সেখান থেকেই সরকার জরুরিভিত্তিতে আমদানি করে থাকেন। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলী ইমাম মজুমদার আরও জানান, গত বছরে সরকারের গঠন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে এ বছর দেশের খাদ্যশস্যের মজুদ অপ্রত্যাশিতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

    খাদ্য উপদেষ্টা আমাদের জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি গুদামে মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া, সরকার আরও ২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বোরো মৌসুমেও বড় পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে সরকার। চলতি আমন মৌসুমের ধান সংগ্রহের হারও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

    তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

    ভারত থেকে চাল আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত নেই। আমরা আমদানির ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সমস্যা অনুভব করছি না।

  • 2025 সালে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, ঝরেছে প্রায় ১০ হাজার প্রাণ

    2025 সালে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, ঝরেছে প্রায় ১০ হাজার প্রাণ

    উৎসবমুখর বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। গত বছর এই পথে মোট ৯ হাজার ৭৫৪ জনের জীবন হারিয়েছে এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মোট সংখ্যা হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৯টি। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৬৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ছয় দশমিক নয় চার শতাংশের বৃদ্ধি। আহতের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮১২।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে সড়ক পথে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন ও আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে ৪৮৫ জন মারা গেছেন ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথেও ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জনের মৃত্যুসহ আরও ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    সড়ক দুর্ঘটনার প্রবণতা বিশ্লেষণে তিনি বলেন, দেশের মোট দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ ঘটে জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়াও, ঢাকা মহানগরীতে ঘটেছে ৪.২২ শতাংশ দুর্ঘটনা, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯০ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০.৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহন খাতের যথাযথ সংস্কার না করা পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা, সড়কের নিরাপত্তা এবং ভাড়ার অরাজকতা এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৪ জন, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৬.৯৪ শতাংশ, ৫.৭৯ শতাংশ ও ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

    এছাড়াও রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন ও নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন মৃত্যুর পাশাপাশি ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি, যেখানে ২ হাজার ৪৯৩টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত ও ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনের ৩৭.০৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ ও আহতের ১৪.৯৮ শতাংশ।

    সংগঠনটি সরকারে জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহন খাতের সংস্কার, সড়ক নিরাপত্তা, উন্নত গণপরিবহন ও যাত্রী অধিকার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের জন্য এই বিষয়গুলো অর্ন্তভুক্ত করা জরুরি। এছাড়াও, সড়ক নিরাপত্তার জন্য বাজেট বৃদ্ধি, সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের ত্বরিত অর্থপ্রদান, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য উন্নতমানের প্রশিক্ষণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    এছাড়াও, দেশের মূল শহরগুলোতে আধুনিক ইলেকট্রিক বাসের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, ট্রাফিকের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আলাদা লেন ব্যবস্থা চালু এবং যানবাহনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নীত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • বগুড়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ঢাকায় টিকে গেলেন মান্না

    বগুড়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ঢাকায় টিকে গেলেন মান্না

    ঢাকা-১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছেন। অন্যদিকে, বগুড়া-২ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র গতকালই বাতিল করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। বগুড়া-২ আসনের প্রার্থিতা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা যায়, মনোনয়নপত্রে নানা অসংগতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ফৌজদারি মামলার কোনও তথ্য না দেওয়া, যে এফিডেভিট তিনি দাখিল করেছিলেন, তার স্বাক্ষর সম্পাদনের একদিন পর করেন এবং সম্পদ বিবরণীর ফরমও দাখিল করেননি। তবে, শনিবার বিকেলে ঢাকায় মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার পর মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তিনি আরো বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত, যা যথাযথ নয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের এই কাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে জানান। নাগরিক ঐক্য, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে, বিএনপির সমর্থন নিয়ে বগুড়া-২ আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও, তিনি ঢাকায় আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এই আসনে ভোট করার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও তিনি জানান। এদিকে, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মান্না একের পর এক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দলের সমর্থন ও জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে তার এই উদ্বেগ রাজনৈতিক পরিস্থিতির অন্যতম কাঠামো দিচ্ছে।

  • কারওয়ান বাজারে পুলিশ ও মোবাইল বিক্রেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ

    কারওয়ান বাজারে পুলিশ ও মোবাইল বিক্রেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ

    রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পুলিশ ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে এলাকাটি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এনইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন দাবি তুলে অর্ধদিবসের কর্মসূচি পালন করছিলেন ব্যবসায়ীরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাঁদের সরানোর জন্য এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। পরে আন্দোলনকারীরা বাংলামোটর মোড়ের দিকে ফিরে যান এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জোড়ালি করে।

    প্রতিবেদনটি লিখার সময় (দুপুর ২টা ১০ মিনিট) পরিস্থিতি এখনো থেমে থেমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, কারওয়ান বাজার মোড়ে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে থাকলে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় এবং লাঠিপেটা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, রায়টকারী ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

    জানা গেছে, এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো এনইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তি ও অন্যান্য দাবি। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) সংগঠন এই কর্মসূচির ডাক দেয় এবং সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

    অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, যেখানে ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। দিনভর বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠে, পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে, লাঠিপেটা করে এবং অসংখ্য ব্যবসায়ীকে আটক করে। কিছু ব্যবসায়ী শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

    উল্লেখ্য, নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে সর্বস্তরের মোবাইল ফোন ব্যবহারে অনাধিকার হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে এনইআইআর চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইমিইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। তবে, এই নতুন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা, যারা মনে করছেন এর ফলে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হবে এবং অনেক অনাধিকার হ্যান্ডসেট বাজারে আনা বন্ধ হয়ে যাবে।

  • ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া

    ফরিদপুরে কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া

    ফরিদপুরের জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি এবং পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রত্যাশা ছিল আনন্দের, কিন্তু তা পরিবর্তিত হয়ে হয়ে যায় দুঃখজনক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের গানের আসরে অংশ নিতে আসা হাজারো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী অপেক্ষমাণ অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই হঠাৎ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে, যা পুরো অনুষ্ঠানের প্রবল বাধা সৃষ্টি করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনার দুর্বলতাকেই দায়ী করছে উপস্থিতরা।

    অন্তত এই বিশৃঙ্খলার জন্য নগরবাউল বলিষ্ঠভাবে জেমসের ভক্ত ও আয়োজকদের অভিযুক্ত করেছেন। সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলে তারা জানান, জেমস ও তাঁর দল অনুষ্ঠানের জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফরিদপুর পৌঁছান। গেস্ট হাউসে থাকার সময় সেখানে বিশৃঙ্খলার খবরে তারা অবগত হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি এতই অবনতিশীল হয়ে ওঠে যে, আয়োজকদের তা বাতিলের ঘোষণা দিতে হয়, এবং জেমসসহ তাদের দল ঢাকায় ফিরে যান।

    জেমস নিজেও এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “এটি পুরোপুরি আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা।”

    অপরদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জেমসকে কড়া মেজাজে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে। তিনি উপস্থিত হয়রানির উত্তেজনায় দ্রুত গাড়িতে উঠে যান, সাথে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা তার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করছেন।

    আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র নিবন্ধিত দর্শকদের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে, জেমসের আসার খবর শোনা মাত্রই হাজারো অনিবন্ধিত দর্শক ভিড় করেন। গেটে প্রবেশ বাধা দেওয়ায় তারা গেটের সামনে ও রাস্তায় অবস্থান নেয় এবং দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে স্কুলের প্রাঙ্গণ ও মঞ্চে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এর ফলে আয়োজকদের মুখপাত্র ও দলের প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়।

  • সালমান খান ৬০ বছর বয়সে পা রাখলেন

    সালমান খান ৬০ বছর বয়সে পা রাখলেন

    বলিউডের অন্যতম তারকা এবং সিনেমাজগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সালমান খানের জন্মদিন আজ (২৭ ডিসেম্বর)। এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখছে তার ৬০তম জন্মবার্ষিকী। দীর্ঘদিন ধরে রীতিমতো এই দিনটি উদযাপন করে আসছেন তিনি, তবে এবার তিনি জন্মদিন পালন করছেন খুবই সহজ ও আন্তরিক পরিবেশে—নিজের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্বাচিত কিছু চলচ্চিত্র পরিচালকসহ কাছের মানুষদের নিয়ে, পানভেলের ফার্মহাউসে।

    বৃহৎ এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে সালমানের ৬০তম জন্মদিনের উদযাপন হচ্ছে একান্ত পারিবারিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে। অতিথির তালিকা সচেতনভাবে সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে কেবলমাত্র কাছের মানুষ এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নিতে পারেন। সূত্রের খবর, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়া, স্মৃতিচারণা করা এবং আন্তরিক সময় কাটানো—বড় ধরনের কোনও আয়োজন নয়।

    অভিনয়জীবনের এই বিশেষ উপলক্ষ্যে সালমানের জন্য একটি বিশেষ ট্রিবিউট ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তার তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন পরিচালক এবং প্রযোজকরা ব্যক্তি হিসেবে তাদের বার্তা দিয়েছেন। এই ভিডিওতে তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ঘটনা ও গল্প, যা সালমানের অভিনয়জীবনের বিবর্তন এবং ভারতের সিনেমায় তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।

    ভক্তরা তাকে ‘ভাইজান’ বলে ডাকে, যা শুধুমাত্র ডাকনাম নয়, বরং এক ধরনের অপরিহার্য সম্পর্কের প্রতীক। যেমন বড় ভাই পরিবারকে আগলে রাখে, তেমনই সালমান খান তার সহশিল্পী, নতুন অভিনেতা এবং চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের পাশে দন্ডায়মান থাকেন। অনেক নতুন মুখ সালমানের হাত ধরে বলিউডে নিজের জায়গা যাত্রা করেছেন। এই ‘ভাইজান’ হিসেবে তার পরিচিতি কখনো শুধুই জনপ্রিয়তা নয়, বরং দায়িত্ববোধের প্রকাশ। বয়স বাড়লেও তিনি একজন সময়ের চেয়েও প্রাসঙ্গিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

    এবারের জন্মদিনটি আরও বিশেষ, কারণ সালমান খান হলেন বলিউডের ‘খান’ ত্রয়ীর মধ্যে শেষ ব্যক্তি, যিনি এই বয়সে পা রাখলেন। এর আগে এই বছরই চলতি বছরে ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন আমির খান ও শাহরুখ খান। এই বিভিন্ন ঘটনাগুলো একদিকে বলিউডে দীর্ঘ দিনের আধিপত্যের চিহ্ন রেখে যায়, অন্যদিকে প্রমাণ করে যে, বয়স বাড়ার পাশাপাশি সালমানের প্রাসঙ্গিকতা এবং তার শিল্পের মান অটুট রয়েছে। এই বিশেষ দিনটি যেন এক দীর্ঘ এবং স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি, যেখানে ট্রেডিশন, শক্তি এবং নতুন সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক অনন্য গল্প লেখা হয়েছে।