Author: bangladiganta

  • আইসিসি ঘোষণা করল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি

    আইসিসি ঘোষণা করল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ড প্রাইজমানি

    নারী ক্রিকেট দ্রুতগতিতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে যেখানে ক্রীড়া, ব্যবসা ও জনপ্রিয়তা—এগুলো প্রত্যেকটিই একই সঙ্গে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ বাড়ার এবং খেলার গুরুত্ব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    টুর্নামেন্টে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। গত আসরে যেখানে ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলার, সেখানে এবার প্রাইজমানি প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে — যা নারীদের খেলায় আর্থিক সুযোগসুবিধা ও পেশাদার মান আরও উন্নত করবে।

    প্রাইজমানির বিস্তারিত ভাঙা হয়েছে এমনভাবে—চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবেন ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা), এবং চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে হার মানা দুই দলই প্রত্যেকে পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা)। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো প্রত্যেকে পাবে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা)। অংশগ্রহণকারী সব ১২টি দলই ন্যূনতম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে। এই আর্থিক সুরক্ষা ও পুরস্কার থেকে ক্রীড়াবিদদের পেশাদার উন্নয়ন ও দলের স্থায়িত্বে বড় সাহায্য হবে।

    এবারের আয়োজনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো দলসংখ্যা বাড়ানো—প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নেবে। দলসংখ্যা বাড়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে এবং আরও বেশি দেশের নারী খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবে। আগের আসরগুলোর তুলনায় এ সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুততর হচ্ছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধি ও রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন যে বিনিয়োগ বাড়ায় নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিতি ও প্রভাব বেড়েছে এবং এই বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়তে সক্ষম হবে।

    টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াতে আইসিসি ইতোমধ্যে ট্রফি ট্যুর শুরু করেছে। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর ট্রফিটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে এবং মে মাস জুড়ে ইংল্যান্ডের লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে ভক্তরা ট্রফি দেখার সুযোগ পাবে। এই আয়োজনগুলো টুর্নামেন্টের আলোচ্যসূচি ও আগ্রহকে আরও তীব্র করবে।

    টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১২ জুন ২০২৬—উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ফাইনালসহ মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসির এই উদ্যোগ নারী ক্রিকেটকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • নাসুমের বকেয়া দাবিকে ব্যাখ্যা করল সিলেট টাইটান্স

    নাসুমের বকেয়া দাবিকে ব্যাখ্যা করল সিলেট টাইটান্স

    বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন পেসার নাসুম আহমেদ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাসুম দাবি করেছেন যে টাইটান্সের কাছে তার ৩৫ লাখ টাকা বকেয়া আছে। এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আজ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তারা ঘটনার সব দিক তুলে ধরে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

    টাইটান্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

    ১) চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ সম্পন্ন

    বিসিবি কার্যালয়ে বীমা, চুক্তি ও প্রাপ্যতা নিয়ে গত মাসে হওয়া সমাধান অনুযায়ী বিপিএল ২০২৫-২০২৬ মৌসুমের খেলোয়াড়দের পাওনা সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ক্লাব জানায়, নাসুম আহমেদের (বি-ক্যাটাগরি) মোট চুক্তিভিত্তিক পাওনা ৩৫ লক্ষ টাকা, যা তারা ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। প্রতিষ্ঠানের নিকট বর্তমানে নাসুমের কোনো বকেয়া অদাইয়ের খবর তারা সরলভাবে খণ্ডন করেছে।

    ২) মৌখিক বোনাসের শর্তাবলী

    বিবৃতিতে উল্লেখ আছে যে নিলামের পূর্বে পারিশ্রমিক ও অতিরিক্ত বোনাস নিয়ে কিছু মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনায় বোনাসটি দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শর্তে প্রদানের কথা বলা হয়েছিল। দল কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি বলে ক্লাবের দৃষ্টিতে ওই মৌখিক বোনাসের কোনো আইনি বা চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা নেই। তাই স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রেই আর্থিক লেনদেনের ভিত্তি ধরা হয়েছে বলেই ক্লাব জানায়।

    ৩) চেক ও পেমেন্ট প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা

    টাইটান্স জানায়, নাসুম বিশেষ অনুরোধে তার প্রাপ্য অর্থ নগদে নেওয়ার পছন্দ জানিয়েছিলেন, ফলে ক্লাব তারই অনুরোধ মেনে নগদ পরিশোধের ব্যবস্থা করে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন অগ্রিম হিসেবে প্রদত্ত কিছু চেক অন্যান্য খেলোয়াড়রা গ্রহণ করে ফেরত দিয়েছেন; কিন্তু নাসুম সেই চেকগুলো ফেরত দেননি। ক্লাব বলেছে, বিচারে তিনি বিসিবি কার্যালয়ে পাওনা নেওয়ার সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও চেক ফেরত না দেওয়া হয়েছে, যা অনানুষ্ঠানিক ও অনিচ্ছাকৃত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিবৃতির শেষ অংশে সিলেট টাইটান্স তিনি জানিয়েছেন যে তারা সব সময় খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে এই ব্যাখ্যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক এবং গণমাধ্যমের বিভ্রান্তি দূর করবে এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হবে।

  • আশা ভোঁসলেকে নিয়ে রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’

    আশা ভোঁসলেকে নিয়ে রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’

    ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লা। রুনা বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি পরপর চলে গেলেন — লতা মাঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”

    রুনা লায়লা বলেন, “তারা দুজনেই আমাকে মায়া করতেন, মা’র মতো স্নেহ দিয়েছিলেন। এই দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” তিনি স্মরণ করেন, শেষবার দেখা হয়েছিল তাঁর সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’–এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর সময়ে ফোনে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু সাময়িক ব্যস্ততায় বারবার ‘আজ করব, কাল করব’ ভাবতে ভাবতে কথাটা বলা রইল। রুনা আরও বলেন, “যদি তখনই ফোন করে দিতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে — সেটা বোঝানো কঠিন।”

    আশা ভোঁসলে রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর আসে শনিবার সন্ধ্যায়; বুকে ব্যথা নিয়ে তিনি ভর্তি ছিলেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণেই ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি।

    আশা ভোঁসলে ভারতীয় সংগীতে সাড়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করেছেন। হাজার হাজার গান এবং অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি বহু প্রজন্মের জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর প্রস্থানকে অনেকে একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান বলে মন্তব্য করেছেন।

    রুনা লায়লা ও অনেক সহকর্মী, অনুরাগী ও শিল্পী আশার পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন। রুনার ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আফসোস সংবাদমাধ্যমে তুলে আনে কেবল একজন শিল্পীর নয়, স্নেহশীল এক মানুষেরও ক্ষতি—যিনি অনেকের জীবনে মা-সদৃশ থাকতেন।

  • শেষযাত্রা আজ — রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় আশা ভোসলেকে

    শেষযাত্রা আজ — রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় আশা ভোসলেকে

    ভারতীয় সংগীতজগতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় শেষ হলো। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে এবং আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

    আসলে রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই আশা ভোসলের মৃত্যু হয়। তিনি আগের রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে সংক্রমণ ও বয়সসংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়াই মৃত্যুর কারণ।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এই একই শিবাজি পার্কে তৎকালীনভাবে বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্যও হয়েছিল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    গতকাল সন্ধ্যায় আশা ভোসলের মরদেহ তাঁাদের লোয়ার প্যারেলের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল থেকেই বিকেল পর্যন্ত ভক্ত-অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে মরদেহ রাখা হয়েছে। গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে বলেছেন, ‘যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরা বেলা ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে আসতে পারেন।’ পরিবারের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শেষদর্শন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।’

    আশা ভোসলের সংগীতজীবন সাত দশকেরও বেশি দীর্ঘ — প্রায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। হিন্দি ছাড়াও ২০টির বেশি ভাষায় তার কণ্ঠে গাওয়া গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে। গজল, শাস্ত্রীয় সংগীত ও আধুনিক ধারায় gleicher দক্ষতা ছিল তাঁর — প্রতিটি ঘরানাতেই তিনি সমান হাতে ছিলেন।

    জীবনে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ সম্মানগুলো: দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও কালজয়ী হিসেবে ঝাঁপিয়ে আসে মানুষের স্মৃতিতে।

    আশার প্রয়াণে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের বহু নামি-দামী তারকা শোক জানিয়েছেন। শাহরুখ খান, কাজল, শ্রেয়া ঘোষাল, কারিনা কাপুর খান, ভিকি কৌশল, রাম গোপাল ভার্মা, আনু মালিক, কমল হাসান, জুনিয়র এনটিআর সহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী লিখেছেন, ‘আমরা অনেকেই আশা জির গান শুনেই বড় হয়েছি; তাঁর কণ্ঠ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’ দক্ষিণি তারকা রামচরণ বলেছেন, ‘ভারতীয় সংগীতের এটি অপূরণীয় ক্ষতি; তাঁর কণ্ঠ ছিল খাঁটি জাদু।’ মিলিন্দ সোমান তাঁকে ‘একজন কিংবদন্তি’ হিসেবে স্মরণ করেছেন এবং শ্রদ্ধা কাপুরসহ অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    গতকালের রাত থেকেই আশা ভোসলের বাসভবনে ভিড় করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—সেখানেই উপস্থিত ছিলেন জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এ আর রাহমান, বিদ্যা বালনসহ আরও অনেকে। আজ পুরো দেশে শ্রোতারা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তাঁকে শেষ বিদায়ে নিবেদিত করছেন।

    আশা ভোসলের কণ্ঠ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে—তার কালজয়ী গান, শিল্পী হিসেবে অর্জিত মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ

    বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ

    প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, মোবাইল গ্রাহকদের উপর আর্থিক চাপ কমাতে আগামী বাজেটে শুল্কহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) ব্রডব্যান্ড এক্সপো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন।

    উপদেষ্টা রেহান বলেন, বর্তমানে ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহকরা সেবার জন্য পাই মাত্র ৬২ টাকা; বাকি ৩৮ টাকা সরাসরি কর ও শুল্ক হিসেবে সরকারী কোষাগারে যায়। এই অতিরিক্ত অর্থ গ্রাহকদের উপর অপ্রয়োজনীয় বোঝা সৃষ্টি করছে বলেই শুল্ক হ্রাস করে স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে ১২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহককে স্বস্তি দিতে হবে। তথ্য ও টেলিকম খাতের সেবার মান বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে—এই প্রতিশ্রুতি দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানান, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের দাবি মেনে শিগগিরই নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের (active sharing) সুযোগ দেয়া হবে, যা খরচ কমিয়ে সেবা মূল্য হ্রাসে সহায়ক হবে।

    বর্তমান করবিন্যাস অনুযায়ী মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক ২৩%, কার্যকরী ভ্যাট ১৮% এবং সারচার্জ ১%—মোট মিলিয়ে ১০০ টাকার রিচার্জে কর বাবদ গ্রাহক দেন ৩৮ টাকা, ফলে হাতে আসে ৬২ টাকা। বিটিআরসির তথ্য মতে, দেশে চারটি অপারেটর সাড়ে ১৮ কোটি অপেক্ষা বেশি মোবাইল সংযোগধারীকে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে।

    রেহান আসিফ আসাদ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাজেটভিত্তিক এই শুল্কহ্রাস ও নীতিগত পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে গ্রাহকদের ভেতরের বোঝা লঘু হবে এবং টেলিকম খাতের দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে।

  • প্রণয় ভার্মা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে

    প্রণয় ভার্মা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে

    ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দিন দিন আরও স্বাভাবিক ও সুসংহত হচ্ছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পরে এ কথা বলেন।

    প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে যে আবেগিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আছে, সেটি বজায় রাখতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।’’ তিনি বলেন যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার ভিত্তি শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন যে এনার্জি, যোগাযোগ এবং সংস্কৃতি সহ নানা ক্ষেত্রে দুদেশের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, ‘‘একই সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা জনগণের মধ্যে রয়েছে। যেখানে কাজ করলে দুই দেশের মানুষই লাভবান হবে, সেখানে পারস্পরিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’’

    প্রণয় ভার্মা আরও জানান, দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রমের নিয়মিত আদান-প্রদান বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ ধরনের বদলাভদল অব্যাহত থাকবে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।

  • ক্ষমতার স্বাদে জনগণকে ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদে জনগণকে ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভোলা শুরু করেছে। তিনি এই অভিযোগ করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরে হওয়া গণ-অভ্যুত্থানগুলোর মরনশীল কোর হিসেবে ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর বসে ক্ষমতায় আসা বিএনপি মাত্র এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা শ্রমিকদের কষ্ট ও উৎসর্গকে উপেক্ষা করে নতুন বাংলাদেশের সাথে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে অবহেলা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী সরকার।’’

    নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল সেগুলোকে আইন করে বদলে দেওয়ার ও সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘ওয়াদা ভঙ্গের ফল দেশীয় রাজনীতিতে ভালো হবে না। প্রয়োজনে গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’’

    নাহিদ উল্লেখ করেন, তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের পথে এগোচ্ছে—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে। ‘‘রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করব—এই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার,’’ তিনি বলেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের অংশ। নাহিদ শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী (তারােক রহমান)-কে জবাবদিহির আওতায় আনতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন।’’

    রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও ডাক দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু সংসদ নয়, রাজপথেও আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে ‘জুলাই সনদ’, গণভোট ও শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

    সম্মেলনে আলোচনা ও একাধিক বক্তৃতার মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার, সামাজিক ন্যায় ও রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়নের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

  • আন্দোলন শুরু — এখন সফল করে তুলতে হবে: জামায়াত আমির

    আন্দোলন শুরু — এখন সফল করে তুলতে হবে: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এখন একে সুচারুরূপে সফল করে দিতে হবে। তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালেই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে এসব কথা বলেন।

    বক্তৃতার শুরুতেই ডা. শফিকুর একটি সংক্ষিপ্ত গল্প বলেন—একজন বিচারক একই মামলায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন; পরে জানা যায় পিছন থেকে কেউ দড়ি টানছে। এই রূপক কাহিনিতে তিনি ইঙ্গিত করেন যে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য কোনও শক্তি কাজ করছে। যে লোকজন সংসদে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করেন—কারা দড়িটা টানে, কোথা থেকে টানা হয়? জনগণ জানে।

    সরকারের দ্বৈত নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি বলেন, একই বিষয়ে এক সময়ে ‘‘হল অনৈতিক’’ বলা হয়, আর পরে সেটাই আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। কথামতো বিষয় বদলানো ও নীতিহীনতার বিরুদ্ধে তিনি কড়া আপত্তি জানান। তিনি জানান, সংসদে তারা এইসব বিষয়ে বারবার মত দিয়েছেন, কিন্তু কণ্ঠ দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবুও সুযোগ না পেলেও তারা তাদের কণ্ঠ বন্ধ করেনি, কারণ জনগণ তাদেরকে নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে পাঠিয়েছে।

    সংসদের বর্তমান অবস্থাকে তিনি ‘‘জুলাই প্রোডাক্ট’’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘‘জুলাই আছে, আমরা আছি; জুলাই আছে, সরকার আছে; কিন্তু আদতে কিছুই নেই।’’ তিনি মনে করেন, এভাবে থাকা সম্ভব নয় এবং জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ঠেকানো যাবে না। গণভোটের রায়ের ওপর নির্ভর করে এই দাবি কার্যকর হবে—এবং প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে বলেও তিনি জানান।

    সংসদে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, তারা পার্লামেন্টে সুবিধা নেওয়ার জন্য যায়নি; অনেক সুবিধা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করা হবে। ‘‘যে সুযোগ না নিয়ে পারবো না, সেটা নেব, বাধ্য হবো যেটাতে’’—তিনি যোগ করেন। পাশাপাশি অবৈধ কোনো কাজে হাত বা চোখ নয় বলেও আশ্বাস দেন এবং নীতিতে অটল থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

    আন্দোলনকে কেবল ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের কর্মসূচি হিসেবে দেখায় নয়, এটি সমাজের বিস্তৃত অংশের প্রতিফলন—এমন ব্যাখ্যা দেন তিনি। তিনি বলেন, প্রায় ১,৪০০ শহীদের মধ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১,২০০ শহীদ পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন এবং সেখানে দেখা সত্যই বেদনাদায়ক; তার অভিমত মতে ওই শহীদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ। এসব মানুষ কেবল কৌটার বৈষম্যের প্রতিবাদেই নামেনি; তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, বদলের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। রাজনীতির হিসাবকিতাব নয়—জীবন দিতে তারা রাস্তায় নামেননি।

    সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মজলিস আল্লামা মামিনুল হক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল ওলি আহমদ বীর বিক্রম, ‘‘আমার দেশ’’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াত কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।

    ডা. শফিকুর আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এ আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী লড়াই নয়; এটি ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো, শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সংগ্রাম।’’ তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান—কেবল পাশে থাকুন; এই আন্দোলন সবার জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।

    তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের কারো দাস বানাতে চাই না এবং কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বা ফ্যাসিজম দেশে চলতে দেব না। রাজনীতির সেই দুষ্টচক্র ভেঙে দিতে হবে; সংসদে সময় ও শক্তি মানুষের সমস্যার সমাধানে ব্যয় হওয়া উচিত—প্রশংসা বা বেবিচারী কর্মকাণ্ডে নয়।

    সরকারের আচরণ ও সংসদের পরিবেশ নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া আমরা এখন সংসদেই দেখতে পাচ্ছি।’’ সরকারি দলের কিছু সদস্য যে ভঙ্গিতে আচরণ করছেন, সেটাকে তিনি নিন্দনীয় বলেছেন এবং সবার নিস্তেজ ভাষা ত্যাগ করে সংযত আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    সেমিনারের আলোচনায় অংশ নেন অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল গণভোট-সংক্রান্ত বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মতামত বিনিময়ের মঞ্চ, যেখানে আন্দোলনকে কীভাবে সংগঠিত ও সফল করতে হবে—এমন নানা দিক উঠে আসে।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল বাধ্যতামক, না মানলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল বাধ্যতামক, না মানলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ময়লা ও ত্রুটিগ্রস্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামক করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করে তা বদল করে দিতে বাধ্য থাকবে। বদলের সময় গ্রাহকদের নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য ব্যবহারযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পূর্বে এই নিয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এসব নোটের আধিক্য এখনো দেখা যায় এবং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সমস্যার সমাধানে ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোর আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা।

    বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের নোট—৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট—নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে বদল করে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রাহক এসব নোট জমা দিলেই ব্যবসায়িক শাখাকে ব্যবহারযোগ্য নোট প্রদান করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, কোনো শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে বা গাফিলতি দেখায়, তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘটনাগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনস্বার্থে এই নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ব্যর্থতার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কোথাও এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে মূল্যবান ধাতুটি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন শক্তিশালী ডলার এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধিই এই পতনের প্রধান কারণ। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির ভাবনা জোরালো হচ্ছে, ফলে চলতি বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায় — আর সেটা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে প্রতি আউন্সে ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন ৪,৬৪৩ ডলারে নেমে গিয়েছিল। জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০.৮% কমে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে বন্দোবস্ত হয়।

    ডলার সূচক ০.৩% শক্তিশালী হয়ে ওঠার পাশাপাশি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে দৃঢ় হয়েছে। এতে আমদানিকারী দেশগুলোর মুদ্রায় ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়েছে, যা চাহিদা ও দামের ওপর নেতিবাচক চাপ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে জয় করে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এটিও তেলের মূল্য এবং বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়ানোর আর একটা কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘‘শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধবিরতির আশা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে ডলার এবং তেলের দাম বেড়েছে, যা স্বর্ণের ওপরে চাপ সৃষ্টি করেছে।’’

    রয়টার্স উল্লেখ করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে স্পট গোল্ডের দাম ১১%—এর বেশি কমেছে। সাধারণত ভূরাজনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ স্বর্ণের প্রতি চাহিদা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হার এবং শক্তিশালী ডলার স্বর্ণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

    বাজার অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে সুদের হার বাড়ানোর পথ খুলে দিতে পারে, ফলে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে—এটিই মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চলমান চাপের মূল কারণ।