Author: bangladiganta

  • অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি পরিদর্শন

    অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি পরিদর্শন

    খুলনা নগরীর বায়তুন নূর শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শন করেছেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা। মঙ্গলবার সকালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন ও দ্রুতই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।

    প্রসঙ্গত, ঘটনার দিকে লক্ষ্য করে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টার দিকে শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোবাইলের দোকানসহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

    পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা এস কেই তাছাদুজ্জামান, মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক বদরুল আনাম খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। শফিকুল আলম মনা এ ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

  • কালীগঞ্জে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের বরাদ্দের টাকা অবশেষে উদ্ধার

    কালীগঞ্জে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের বরাদ্দের টাকা অবশেষে উদ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকার র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের খোঁজ finally পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে এই অর্থের কোন খোঁজ না পাওয়ায় এবং ভ্যাকসিনের ব্যাপক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এ অবস্থায় স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশিত হলে পরিস্থিতিতে নজরে আসে প্রশাসন। এরপর দ্রুততম সময়ে জরুরী ভিত্তিতে ৫০ ভায়াল র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ক্রয় করা হয়।

    জানা যায়, গত তিন থেকে চার মাস ধরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের প্রবল সংকট চলছিল। এর ফলে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী এই ভ্যাকসিন না পেয়ে বিপদে পড়েন। অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে ঝিনাইদহ সদর, যশোরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে গিয়ে উচ্চ মূল্য দিয়ে ভ্যাকসিন কেনার অপশন নিতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই বেড়ে যায়।

    প্রায় দুই মাস আগে উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেওয়া দুই লাখ টাকার মধ্যে এই ভ্যাকসিন কেনা হবে বলে ঘোষণা দেয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি কেনা হয়নি। বরং এই অর্থ নিয়ে গড়িমসি ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠতে থাকে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে, গত সোমবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি তোলার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জরুরী ভিত্তিতে ভ্যাকসিন কেনার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরই, পরের দিন মঙ্গলবার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওই বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে জরুরী ভিত্তিতে ৫০ ভায়াল র‌্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে নেয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের সামনে এই ভ্যাকসিনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাইনুর রহমান, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্যান্য উপজেলা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    স্থানীয় সচেতন মহল ভ্যাকসিনের সরবরাহ দ্রুত শুরু করার দাবী জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের অবহেলা ও গাফিলতি পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগের জবাবদিহিতা ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

  • উপকূলীয় উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে ‘টিমওয়ার্ক’ অপরিহার্য, বলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ

    উপকূলীয় উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে ‘টিমওয়ার্ক’ অপরিহার্য, বলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ

    উপকূলীয় জনপদ কয়রা ও পাইকগাছার টেকসই উন্নয়ন ও জনসেবাকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারী কর্মকর্তাদের একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা-৬ সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কয়রা উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি চাই এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করতে। সরকারের প্রতিটি দপ্তর যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছায়, এই লক্ষ্যে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ফাইল যেন অহেতুক আটকে না থাকে এবং সেবাগ্রহীতারা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। আলোচনায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান সমস্যা উঠে আসে জরাজীর্ণ ভেড়িবাঁধের কারণে সৃষ্টি হওয়া দুর্যোগ ও পানির সংকট। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ রেজাউল করিম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার এম শুভনিয়াম, ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ শুভ বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি অফিসার তিলোক কুমার ঘোষ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুহতারাম বিল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) ইশতিয়াক আহম্মেদ, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মোঃ জামাল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহ, কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি শেখ সায়ফুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজাউদ্দীন আহমেদ, কয়রা সদর ইউনিয়নের আমীর মিজানুর রহমানসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় দপ্তরপ্রধানরা নিজ নিজ প্রকল্পের চলমান অগ্রগতি ও সামনের চ্যালেঞ্জগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক আলোচনা করেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারী দপ্তর একসঙ্গে কাজ করে উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যা মোকাবিলায় আরও দক্ষতা অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

  • সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ

    সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ

    সাতক্ষীরায় এবার মুকুল আকাশে ভরে গেছে প্রতিটি আম গাছে। গাছে গাছে এখন মুকুলের ঝলক দেখা যাচ্ছে, আর এর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ফুলের মহি ঘ্রাণ। এই বছর জেলায় মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। কৃষি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরকার ও চাষিরা আশাবাদী, এই মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও বেশি পরিমাণ আম রপ্তানি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগেও।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর এক হাজার ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর এবং বোম্বাই ৫০ হেক্টর। এ ছাড়াও আরও স্থানীয় অনেক জাতের আমের আবাদ চলমান রয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক আবাদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর, কলারোয়া ৬৫৮, তালা ৭১৫, দেবহাটা ৩৭০, কালিগঞ্জ ৮৩৯, আশাশুনি ১৪৫, এবং শ্যামনগর ১৬০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।

    গত মৌসুমে মোট ৭০ হাজার ৮৮০ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। এই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ টন, অর্থাৎ উৎপাদন যে লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাবে, তা বলাই যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরও বেশি ফলনের আশাও করছেন কৃষকরা। বর্তমানে জেলায় মোট ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান রয়েছে এবং চাষির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৭৪৫ জনের মতো। এর মধ্যে নিবন্ধিত চাষি আছেন ৩৫১ জন।

    চাষিরা বলছেন, মুকুল আসার পর থেকেই বাগানের যত্ন আরও জোরদার করা হয়েছে। রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। তারা আশাবাদী, যদি আবহাওয়া সুন্দর থাকে, তাহলে ফলন আরও ভালো হবে।

    সাতক্ষীরার কৃষি বিভাগ বলছে, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য একদম উপযুক্ত। এই বছর তারা আশা করছে যে, উৎপাদনে যেন কোনও বিঘ্ন না আসে। উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন জাতের আমের জন্য স্থানীয় চাষিরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। এ বছর নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন আম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাতক্ষীরা থেকে ১৮০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। এরপর ২০২৩-২৪ সালে রপ্তানি হয় ৬০ টন এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৭২ টন আম রপ্তানি হয়েছে। চলতি মৌসুমে তারা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অন্তত ১০০ টন আম রপ্তানির। এটি অর্জন করতে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

  • নড়াইলে চারজনের হত্যাকাণ্ডে এখনো মামলা হয়নি, আটক ৭ জন

    নড়াইলে চারজনের হত্যাকাণ্ডে এখনো মামলা হয়নি, আটক ৭ জন

    নড়াইলের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো ভুক্তভোগী পরিবার কোনো মামলা করেনি। তবে পুলিশ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃত ব্যক্তিরা হলো: সদর উপজেলার সিংগা গ্রামের ইউপি সদস্য মুশফিকুর রহমান ওরফে মোফাজ্জেল (৫৫), তারপুর গ্রামের মৃত রুফল মোল্যার ছেলে সদর মোল্য-সহ (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩৬), একই গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে রনি শিকদার (২৯), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০) এবং কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তোজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংগা উপজেলার সিংগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়েরুজ্জামান মোল্যা খয়ের ও খলিল শেখদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে অনেকবার পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির পর খয়ের উদ্দিনের লোকজন বড়কুলা এলাকায় খলিল শেখের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। গুলি চালিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এই হামলায় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ ও চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়।

    এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তারেরা আহতরা মারা গেছে বলে ঘোষণা করেন।

    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ এবং চাচাতো ভাই ফেরদৌসের মরদেহ সিংগা উপজেলা বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। একই দিন বিকেলে খয়রূদ্দিনের সহযোদ্ধা ও ইউপি সদস্য মোফাজ্জেলকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিংগা এলাকা থেকে আটক করে।

    পুলিশ বলছে, এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ১৫৪ ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস শুরু করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের প্রতি সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল বা চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকলেও, আজ থেকেই এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে তারা।

    রপ্তানির সাম্প্রতিক ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একেকটি পণ্য নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে রপ্তানি পণ্য বিচিত্র করতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়াও সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে আছেন। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরো খুবই কম, ভুল হওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতি দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও এর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের কাছে রয়েছে, আবার পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় পণ্যও রয়েছে। এ কারণে বাজারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানান তিনি।

    রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রশ্নে, তিনি জানান, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজে দেখাতে চান। বলেন, আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।

    প্রথমে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। মানুষ মাসের শুরুতেই বেশ বড় পরিমাণে বাজার করে নেয়, এটি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, এ প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের ওপর মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগের শর্ত পূরণ হয় না। তিনি আরও জানান, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরোনো না গেলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রমজানের শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, রমজান আগে থেকেই একটা বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে, এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এটি ব্যক্তি বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের প্রশ্ন। এ জন্য সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। ভুল হলে তা ধরিয়ে দিতে সবাইকে অনুরোধ করেন, বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। সম্প্রতি কাঁচা পাটের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে অনেক মিল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলো আর্থিক লোকসানে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন প্রায় দেড় মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কাঁচা পাটের সংকটের কারণে তারা কাজে যোগ দিতে পারছেন না। একই পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য মিলগুলোতেও। কিছু কিছু মিল সীমিত আকারে কাজ চালিয়ে গেলেও বেশিরভাগই কার্যক্রম বন্ধ বা স্থবির। শ্রমিকরা মনে করছেন, এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, পঁচিশ দিন ধরে তিনি মিলের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। কাঁচা পাটের অভাবে মিল চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যদি এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে যায়, তাহলে তিনি হয়তো নতুন কোনো কাজ খুঁজে পাবেন না। অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, আগে মিলের কাজে প্রতিদিন শ্রমিকরা ২ টাকা আয় করতেন, এ বছরের প্রথম দিকে মিল চালু ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেড় মাস ধরে তারা কাজ করছেন না, আর মালিক যদি নিজেদের বেঁচে থাকেন, তবে শ্রমিকদের বাঁচানোর আশা কতটা! তিনি বলেন, কাঁচা পাটের এই সংকট দূর করতে দ্রুত সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

    মিল মালিকদের মতে, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের মূল্য মণপ্রতি প্রায় ৩২০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা দরে পৌঁছেছে ৫২০০ টাকা, অর্থাৎ দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। এতে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মোল্লা জানান, বেশি দামে পাট কিনে মিল চালানো এখন অসম্ভব। আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতেন ৮০ টাকায়, সেখানে এখন পাটের দাম ৫২০০ টাকা, এবং উৎপাদন খরচ এক বস্তার জন্য ১২০ টাকারও বেশি। তবে বিক্রির মূল্য মানছেন না, ফলে মিলে কার্যক্রম বন্ধ।

    শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বছরের কাঁচা পাটের উৎপাদন গত বছরের মতোই ছিল, কিন্তু দাম বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট রচনায় সক্রিয় হয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে মোট পাটের উৎপাদন প্রায় সমান। তবে ব্যবসায়ীরা মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলায় দাম বাড়ছে।

    বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, সরকার যেন বাজারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, ভর্তুকি বাড়িয়ে এবং তদারকি জোরদার করে এই সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা পাট মজুত করে রেখেছে, ফলে বাজার অস্থিতিশীল এবং মূল্য বাড়ছে। ব্যাংক ঋণের জন্য যেখানে সুবিধা কম, সেখানে সরকারের উদ্যোগ বাধ্যতামূলক বলে মনে করছেন তারা।

    পাট অধিদফতর থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, একজন আড়তদার বা ডিলার মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, এবং বেশি মজুত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, যার ফলে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগই বিদেশে রফতানি হয়। কিন্তু বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রফতানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আপশোস প্রকাশ করেছেন।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের রাজনৈতিক নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য আরও বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি ডলার)। আশা করা যাচ্ছে, এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে মাসশেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে বাড়তি খরচ ও পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতির কারণে প্রবাসীরা পরিবারের খরচ চালানোর জন্য বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার এসেছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল মার্চ মাসে যেখানে ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, মূলত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে।

    সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক আয় বিশ্লেষণে দেখা যায়– জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সমান সময়ে তুলনায় ২২% বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতির হিসেব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বাড়তে শুরু করে। ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে গেছে। এছাড়া, ব্যাংকিং চ্যানেল দিয়ে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আরও বেশি করে বৈধ পথে অর্থ পাঠাচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা দিয়েছে যে তারা দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছেন। এখন থেকে প্রতি ভরি সোনা বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এর ফলে, উন্নত মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন বেড়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম সেই সময় থেকেই কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্যগত বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এর দাম সমন্বয় করে বাড়ানো হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি মূল্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    একইসাথে, সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের একটি ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    বিশ্ব বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দামের ঊর্ধ্বমুখী тенденা চলছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ডলার মূল্য ছিল ৫ হাজার ২০০ এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ করে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে। ২৯ জানুয়ারির সকালে এক ভরি স্বর্ণের মূল্য ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ মূল্য। এর ফলশ্রুতিতে, আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে উচ্চতর দামে পৌঁছেছে দেশের স্বর্ণের দাম।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, যা আগে ছিল অনেক কম। এটি দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার সোনার দাম বৃদ্ধি পেল।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য এখন থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের দাবি, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিপ্রেক্ষিতে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দরে, ২২ ক্যারেটের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। তবে এই মূল্যগুলোর সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মান ভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে এবং ১২ দফায় কমেছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।

    অপরদিকে, সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রয়মূল্য ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বাড়ে এবং ৭ বার কমে গেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমে যায়।