Author: bangladiganta

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর

    সরকার মাধ্যম্যকালীন সময়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারগুলো নিশ্চিত করে দিয়েছে। রোববার এই বিষয়টি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার আগামী ছয় মাসের জন্যও একই থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। তবে, এই সিদ্ধান্ত বেশ কয়েকজনের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যারা তাদের জীবনযাত্রার জন্য এই বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল।

    খবর অনুসারে, রোববার অফিস খোলার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয় এবং পূর্বের হারে মুনাফা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর, প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে আবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

    বর্তমানে রাষ্ট্রের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে বিভিন্ন মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে সুদ দেওয়া হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কিছুটা কমে যায়। একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ পান। সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর সময়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা কম পাওয়া যায়। যেখানে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সে ক্ষেত্রে মূলধন এবং নির্দিষ্ট হারে মুনাফা সমন্বয় করা হয়।

    পরিবার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ। এই হার আগে কমে ১০.৪৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে এই হার পূর্বের মতো রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে ১০.৪১ শতাংশে নামানো হয়েছিল, কিন্তু এখন সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের জন্য একই হার পুনঃনির্ধারিত হয়েছে।

    গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ৬ মাসের বাজার নিলামের ভিত্তিতে ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার অনুযায়ী এই নিয়ম চালু হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয় এবং এ জন্য গত বৃহস্পতিবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

    সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোই মূল গ্রাহক যারা নানা পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে প্রয়োজনের খরচ চালান বা মাসিক জীবিকার জন্য আয়ের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করেন। মূল্যস্ফীতির কারণে গত দুই বছরে মোটা দাগে দাম বেড়ে গেছে, যদিও সাম্প্রতিক মাসে সামান্য কমলেও এখনও তা ৮ থেকে ৯ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সরকারের সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার কমানো উচিত নয়, বরং তাদের জন্য এই সুবিধা রক্ষা করা জরুরি, যাতে তারা জীবনযাত্রায় সহজ সুবিধা পান।

  • একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দাম বড় লাফ

    একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দাম বড় লাফ

    বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি, বাজুস। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে। প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ ২৯১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার ফলে উচ্চমানের সোনার দাম পৌঁছেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকায়।

    বাজুসের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪৪৪৫ ডলার পৌঁছেছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বিভিন্ন ক্যারেটের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্যদিকে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান শনিবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গ্যাসের (এলপিজি) এর অপ্রত্যাশিত দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একত্রে একটি কারসাজির মাধ্যমে এই দাম বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর প্রত্যাশা ছিল যে এলপিজির দাম আরও বাড়বে, কারণ বিইআরসির মূল্য ৫৩ টাকা বা তার কাছাকাছি বেড়েছে। এ সুযোগ নিয়েই তারা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রতিটি জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দামের এই অস্বাভাবিকতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি একটি অপ্রকাশ্য কারসাজির ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা সরকারের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ঠেকানো হবে। তিনি মন্তব্য করেন, গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের মাধ্যমে। উপদেষ্টা বলেন, এই কারসাজির পেছনে মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা হাত মিলিয়ে এই অপ্রত্যাশিত দাম বাড়িয়েছেন।

  • পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা চলছে, রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ

    পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা চলছে, রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ

    আপাতদৃষ্টিতে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার ও প্রশাসনের কিছু পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে। নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ দলের প্রতি সরকারী কর্মকর্তাদের অশোভন অংশগ্রহণ এবং এক দলের নেতাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য বেশ চিন্তার বিষয়। তিনি আরও জানান, যদি কোনো পুরানো সেটেলমেন্টের পথে হাঁটা হয়, তবে তা কঠোরভাবে রুখে দিতে প্রস্তুত থাকবেন তারা। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না দলটি। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, একবারের জন্য নয়, মাঝে মধ্যে জাতীয় সুরক্ষা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে কিছু নির্বাচনী প্রচারমূলক কার্যকলাপের জন্য দলটি সমালোচিত হয়েছে। ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলে না পাঠানো পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এনসিপি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কিত। তিনি বলেন, মনোনয়নের ফাইলে নিরপেক্ষতা রক্ষা হয়নি; বড় দলের পক্ষে রিটার্নিং অফিসার কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। আপিলের ক্ষেত্রে ইসির পক্ষপাতিত্ব থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি, আসিফ মাহমুদ এও সতর্ক করে দেন, যেন জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচন থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা না হয়। তিনি বলেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) বাইরে রাখার জন্য নির্বাচনী কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। দলটি বলেছে, বিগত শাসনতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর সঙ্গে ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে অংশ নাক, এ বিষয়ে আমরা স্পষ্টভাবে ইসিকে জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য তারা যেন নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার হয় বা পুনর্বাসিত না হয়।’ এই দাবির প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিশন আমাদের কথা শুনেছে ও জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, দলটির ২৪৪ প্রার্থী মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৭।

  • একাত্তর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্মাআত্মের ভিত্তি: তারেক রহমান

    একাত্তর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্মাআত্মের ভিত্তি: তারেক রহমান

    বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধই হলো মূল বাস্তবতা ও ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর দেশেই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা যথাযথ ব্যবহার করে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করতে হবে।

    আজ সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব কথন ব্যক্ত করেন। সভায় উপস্থিত নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন, পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধই আমাদের মূল ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে আমরা অস্তিত্ব রাখতে পারব না।” তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।

    এদিকে, বাম দলগুলোর নেতারা বলন, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন আর কখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতায় বসতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানান।

    পরিশেষে, বিএনপির এই নেতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব দলসহ সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

  • উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান, নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য চিঠি

    উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলায় যাচ্ছেন তারেক রহমান, নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য চিঠি

    প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই প্রথমবারের মতো তিনি ঢাকা বাইরে সফরে যাচ্ছেন। তার প্রথম সফরটি হবে উত্তরাঞ্চলের চারটি জেলায়, যা ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিএনপি সরকারের কাছে বিস্তারিত চিঠি দিয়েছে।

    বৈঠক, দোয়া ও কর্মসূচির মধ্যে এই সফরটি নির্ধারিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সফরটির মূল লক্ষ্য হলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাদের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করা। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও সুন্দর দোয়া করা হবে।

    সফরের সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্বাচনি আদর্শ ও আচরণবিধি পুরোপুরি মেনে চলবেন এবং কোনভাবেই এই নিয়ম লঙ্ঘন করবেন না বলে জানানো হয়।

    প্রথম দিন, অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি, ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে তিনি গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি বগুড়া পৌঁছাবেন।

    ১২ জানুয়ারি, ওই দিন থেকেই সফর শুরু হয়ে রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। একই দিন দুপুরে রংপুরে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করার কর্মসূচিও রয়েছে।

    ১৩ জানুয়ারি তিনি পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময়ে অংশ নেবেন।

    সফরের শেষ দিন, অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি, তিনি রংপুর ও বগুড়ায় কিছু আরও কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন।

    সফরকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন, যেমন—মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ এবং তৈয়বা মজুমদার। এছাড়া নিহত অন্য নেতাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

  • পাতানো নির্বাচনে ফলাফল ভালো হবে না, হুঁশিয়ারি তাহেরের

    পাতানো নির্বাচনে ফলাফল ভালো হবে না, হুঁশিয়ারি তাহেরের

    সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে যে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে গভীর শংকা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি ভবিষ্যতেও পাতানো বা নকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে এর ফলাফল সুস্থ ও গ্রহণযোগ্য হবে না। উল্টো দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে।

    বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সাথে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে berlangsung এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশের ভবিষ্যত নির্বাচন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বেলা ১০:৩০ মিনিটের পর দলীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন। সেখানে তাহের বলেন, দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ভবিষ্যতে আবারও পাতানো বা লুকানোভাবে নির্বাচন হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে এবং দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    তাহের অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সহকারী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশের মূল গণতান্ত্রিক আদর্শে আঘাত হেনেছে। এর ফলে জনমনে নানা শঙ্কা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই শঙ্কা যদি কাটানো না যায়, তবে দেশের জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।

    অতএব, ভবিষ্যত নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা। এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য মতবিনিময় চলমান রয়েছে।

  • ঢাবি শিবিরের নতুন সভাপতি মহিউদ্দিন, আশিক সেক্রেটারি

    ঢাবি শিবিরের নতুন সভাপতি মহিউদ্দিন, আশিক সেক্রেটারি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২০২৬ সেশনের জন্য নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মুহা. মহিউদ্দিন। তাদের সাথে সার্বিক নেতৃত্বে অংশ নেওয়ার জন্য আশিকুর রহমানকে সেক্রেটারি ও মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই নির্বাচন কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মাহবুবুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এই সমাবেশে নতুন নেতৃত্বের জন্য ব্যালট পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনার পর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত মুহা. মহিউদ্দিন খানকে শিবিরের নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    নির্বাচিত সভাপতি নির্বাচনের পর সদস্যদের পরামর্শ নিয়ে তাকে শাখার সেক্রেটারি হিসেবে আশিকুর রহমান (কাজী আশিক) এবং সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনকে মনোনীত করা হয়। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সভা সম্পন্ন হয়।

  • দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার জিয়াউল আহসান, কারাগারে পাঠানো হলো

    দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার জিয়াউল আহসান, কারাগারে পাঠানো হলো

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক এবং সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত তার গ্রেপ্তার দাবি গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালত জানায়, দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম আদালতে এই আবেদন করেন। পরে, আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জানুয়ারি, দুদকের পক্ষ থেকে মামলার এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণে জানানো হয়, সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর জিয়াউল আহসান নিজ নামে অস্বাভাবিক ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকা সম্পদ অর্জন করেছেন। এই সম্পদ তার বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ফোরেন এক্সচেঞ্জ ট্রাঞ্জেকশন (এফইপিডি) সার্কুলার-২০১৮ ও ২০২০ সালের আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তিনি ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে, স্ত্রীর সহযোগিতা ও যোগসাজশে অন্য ব্যক্তির নামে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন। শুধু নিজ নামে, মোট ৮টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের পরিমাণ পাওয়া গেছে।

    উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধ করেছেন। এই ঘটনায় তাকে আদালত দ্বারা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট, হাইকোর্টের শুনতে অনীহার সিদ্ধান্ত

    একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট, হাইকোর্টের শুনতে অনীহার সিদ্ধান্ত

    আজ ৭ জানুয়ারি বুধবার, দেশের ঐতিহাসিক এক ঘটনা ঘটেছে যখন একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। তবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়েছিল। এতদিন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিতর্ক চলছিল, কিন্তু আজ হাইকোর্টের বেঞ্চের পক্ষ থেকে আশ্চর্যজনক ঘোষণা আসে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অংশ নেন। তবে তারা আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই সিদ্ধান্তের পর, রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের কারণে তারা এখন বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন অন্য এক বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের অন্য এক আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিটটি হাইকোর্টে দাখিল করেছিলেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বিজ্ঞপ্তি স্থগিতের জন্য আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি, রিটে সুপারিশ করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত। এই আবেদনটির বিবাদী হিসেবে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা। ইউনুছ আলী আকন্দের যুক্তি ছিল, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ক কোনও বিধান নেই। তিনি বলেন, শুধু তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে, কোনও সরকারের অধীনে নয়। এই মামলার নীতিগত বিষয়গুলো এখনো ধীরেধীরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই ঘটনার ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন এক দিকপ্রাপ্ত হয়ে উঠেছে।