Author: bangladiganta

  • ক্ষমতার লিপ্সা বিএনপি জনগণের দুর্বলতা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার লিপ্সা বিএনপি জনগণের দুর্বলতা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, মন্তব্য করেছেন যে ক্ষমতার ঘূর্ণিতে মোহবিষ্ট হয়ে বিএনপি দেশের জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এ কথা বলেছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, শ্রমিকেরা রক্ত দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদির সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান রয়েছে। এই শ্রমিকরাই দেশের মূল শক্তি এবং যারা এই দেশের নাগরিকত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি দলটি জাতির রক্তের ওপর দিন দিন ক্ষমতায় আসছে। একজন নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই তারা শ্রমিকদের রক্তের মূল্যকে অস্বীকার করে বেইমানি করেছে। গণভোটের রায় ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে জুলুমের মাধ্যমে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলে যান, এই সরকার গণবিরোধী এবং ক্ষমতার মোহে দেশ ও দেশের শ্রমিকদের স্বার্থ মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।

    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, অবাধ ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নকে সামনে রেখে বিএনপি ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। গণসংহতি ও আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবিগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি, যেখানে ১৯৭১ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা শুন্য হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকব না। আমরা চাই এক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে, সব ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে, শ্রমিকের হিস্যার জন্য নতুন বন্দোবস্ত তৈরি করতে। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

    নাহিদ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে, গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে যেন জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকের সমস্ত দাবিগুলো পূরণ হয়।’

    শেষে তিনি রাজপথের প্রস্তুতিও নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শুধু সংসদ নয়, এখন থেকে রাজপথেও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারের নীতিকে পরিবর্তন করতে পারব এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে পারব। এই আন্দোলন দেশের মূল ধারাকে শক্তিশালী করবে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে।’

  • দেশে প্রথমবার ‘নুসুক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ, হজ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত

    দেশে প্রথমবার ‘নুসুক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ, হজ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত

    বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের জন্য প্রি-অ্যারাইভাল ‘নুসুক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে, যা হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও আরও কার্যকর করে তুলতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে হজযাত্রীরা এর আগে ভিসা ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াগুলিতে যে জটিলতা ও অপ্রাপ্তিযোগ ছিল, তা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। অনুষ্ঠানটি সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ সরকার, হজ এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘নুসুক কার্ড’ চালুর ফলে হজের জন্য নির্বিঘ্ন, দ্রুত ও নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিলা হজ এজেন্সিগুলোর সতর্কতা দেন, যদি কোনও ধরনের অবহেলা বা অদক্ষতা দেখা দেয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা তাদের সফর আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যেতে পারবেন, এবং আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসার প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।

  • শিক্ষা ক্যাডারে বড় রদবদল, ওএসডি হলেন মাউশি মহাপরিচালক

    শিক্ষা ক্যাডারে বড় রদবদল, ওএসডি হলেন মাউশি মহাপরিচালক

    সরকার বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে বড় ধরনের রদবদল ঘোষণা করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের বিভিন্ন কলেজ, শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের বদলি এবং নতুন পদায়ন চালানো হয়েছে। এসব প্রজ্ঞাপনে একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপ-সচিব তানিয়া ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন, যিনি আগে ওএসডি হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন (ইনসিটিউট কুমিল্লা ভিকার্তন্রী সরকারি কলেজ), তাঁকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আবু মুসা মো. তারেককে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে বিদ্যালয় পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামকে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে ওএসডি করা হয়েছে এবং তাঁকে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একইসঙ্গে বর্তমানে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত বি এম আব্দুল হান্নানকে ওএসডি ঘোষণা করে তাঁকে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফরিদপুরের মধুখালী সরকারি আইনউদ্দিন কলেজের অধ্যাপক মোঃ নাজমুল হককে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এছাড়া, এনটিআরসিএতে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক দীনা পারভিনকেও ওএসডি করে মাউশি অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই রদবদলগুলো দেশের শিক্ষা বিভাগে ব্যাপক পরিবর্তনের মুখ দেখাচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ।

  • বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগগ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি

    বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগগ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি

    দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ রেজাউল হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিচারপতি মোঃ রেজাউল হাসান বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ー ধারা ৯৬ এর অনুচ্ছেদ ৮-এর অধীনে, নিজস্ব স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে তার পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

    গত ৩০ মার্চ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর এই বিচারপতি পদত্যাগের জন্য অনুরোধ জানিয়ে একটি পত্র জমা দেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিচারপতি মোঃ রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালে দুটি কোম্পানি মামলার কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব করেছেন। অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও, রায়ে তার নামে যুক্তিতর্ক তুলে ধরা হয়, যা পরে আপিল বিভাগ বাতিল করে। অন্য এক মামলায়, আবেদনকারীর স্ত্রীর পক্ষ না নিয়ে, তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা ন্যায়বিচারের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে এই বিষয়ে সংবিধানের আওতায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

  • মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য উপস্থাপনা

    মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে ভুল তথ্য উপস্থাপনা

    সদ্য বিদায় নেওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাঁচজন কমিশনার এক যৌথ ‘খোলা চিঠি’ প্রকাশ করে সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্যের সঠিকতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তারা জানান, এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া চরম অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং সরকারের ভুল বোঝাবুঝি শুধরে নেওয়ার জন্য তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। খোলা চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর ও ভুল ছিল, যা বিচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

    চিঠিতে তারা তিনটি বিষয় সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেন: সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের সঠিক জবাব, সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রকৃত আপত্তির বিষয়বস্তু এবং ভবিষ্যতের আইনের মানোন্নয়নের জন্য প্রস্তাবনা। কমিশনাররা মনে করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি একটি ‘প্রিন্সিপাল আইন’, যার ভিত্তিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো গঠন করা হয়েছে।

    বিদায়ি কমিশনারগণ দুটি মূল পয়েন্টে কিছু বিষয় স্পষ্ট করেন। প্রথমত, গুমের শাস্তি নিয়ে সংসদে বলা হয়েছিল যে সাজা মাত্র ১০ বছর, যা ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায্য নয়। বাস্তবতা হলো, গুমের জন্য সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কখনো কখনো জরিমানা (ধারা ৪(১)-(২)) ধার্য্য করা হয়।

    দ্বিতীয়ত, তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা সংক্রান্ত বিষয়। সংসদে বলা হয়েছিল, এই অধ্যাদেশে তদন্তের কোনো সময়সীমা ও জরিমানা নির্ধারণের পদ্ধতি নেই। তবে, বাস্তবে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে তদন্তের সময়সীমা (ধারা ১৬(১) (ঙ)-(চ)) এবং জরিমানা নির্ধারণ, আদায় প্রক্রিয়া (ধারা ২৩) উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, সময়মতো তদন্ত রিপোর্ট না দাখিল করলে শাস্তির ব্যবস্থা (ধারা ৮(৫)) কার্যকর।

    চিঠিতে তারা প্রকাশ করেন, সংসদ কর্তৃক পুনঃপ্রণীত ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনে এ সব বিষয়ের উল্লেখ নেই। এই বক্তব্যগুলো তারা প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ভুক্তভোগীদের বিপদ-আপদ ও আইনি জটিলতা দূর করার উদ্দেশ্যে জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন। এই মহৎ প্রয়াসে কমিশনাররা সততার সঙ্গে সত্য তুলে ধরার জন্য তাঁদের সক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছেন।

  • ঢাকাসের দিল্লিকে সতর্কতা: শেখ হাসিনার বিষয়টি নজরে রাখার আহ্বান

    ঢাকাসের দিল্লিকে সতর্কতা: শেখ হাসিনার বিষয়টি নজরে রাখার আহ্বান

    ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক নেতা শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট না করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ঢাকাকে দিল্লিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য ও সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে বলেছি।” এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ সমাধানে আলোচনা ও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্যও আশা প্রকাশ করেন তিনি। হুমায়ун কবির আরও জানান, ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে বা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিচার বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পহেলা বৈশাখ: সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক—প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ: সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক—প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখকে জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লিখিত করেছেন। তিনি বলেন, শতবর্ষের পর শতবর্ষ ধরে এই দিনটি বারবার নতুনত্বের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে এবং পুরোনো ক্লেশ ও গ্লানি পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জাগায়।

    আগামীকাল (১২ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাংলা ১৪৩২ বিদায় করে নববর্ষ ১৪৩৩ স্বাগত জানিয়েছেন।

    বাণীতে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তথ্যপ্রযুক্তির সেবায় থাকা সত্ত্বেও আমাদের কৃষকরা প্রকৃতির ছন্দ মেনে ফসলের সময় নির্ধারণ করেন, যা বাংলার জীবনধারা ও অর্থনীতির মূল অংশ। হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও মূল্যবোধ পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।

    প্রধানমন্ত্রী বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতা-সহ ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য ও ঐক্যবোধের প্রদর্শনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলছেন, বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে; প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশাবাদের মিলনেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

    বাণীতে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি তথ্য দিয়েছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং সেই থেকে দেশবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ শুরু হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার মোতাবেক ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের धर्मগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিকে সশক্ত করতে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

    তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির প্রচলন গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করবে। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে সুসংহত করা সময়োপযোগী ও জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

    শেষে প্রধানমন্ত্রী সকলকে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ওপরে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। নতুন বছরের প্রভাতে অতীতের হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

  • বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

    বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, মোবাইল গ্রাহকদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাতে আগামী বাজেটে শুল্কহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা সোমবার (১৩ এপ্রিল) ব্রডব্যান্ড এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহকগতভাবে মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকিরা প্রায় ৩৮ টাকা শুল্ক ও করের নামে চলে যাচ্ছে। এ অতিরিক্ত চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাজেটে শুল্কহার পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বস্তি দেয়ার পরিকল্পনা চলছে।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ইন্টারনেটের দাম আরও কমানো হলে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন—তাই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, টেলিকম খাতের উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সরকারী নীতিনির্ধারকরা ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদায়কদের দাবিকর্ম বিবেচনায় নিয়ে শিগগিরই একটিভ শেয়ারিংয়ের সুযোগ দেয়ারও কথা জানান।

    বর্তমান কর কাঠামো নিয়ে বলা হয়েছে, মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক ২৩ শতাংশ, কার্যকরী ভ্যাট প্রায় ১৮ শতাংশ এবং সারচার্জ ১ শতাংশ। এসব মিলিয়ে গ্রাহকদের রিচার্জের একটি বড় অংশ কর হিসেবে যাচ্ছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাড়ে ১৮ কোটি ছাড়িয়ে মোবাইল সংযোগধারীকে চার টি অপারেটর ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।

    সরকারি এই পরিকল্পনা হলে রিচার্জ ও ইন্টারনেট খরচে গ্রাহকদের ওপরের বোঝা কমবে—এটি সুবিধা পাবে সাধারণ ব্যবহারকারীরা তথা ডিজিটাল সংযুক্ততা আরো সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ।

    তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তে ক্ষমতায় বসেছে; কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে,’’ বলেন নাহিদ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করার ও সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ উত্থাপন করেন। নাহিদ দাবি করেন, ‘‘এ দেশের রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফল ভালো হবে না। আমরা গণআন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করবো।’’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা শ্রমিকদের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ব; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করব—সেই লড়াইয়েই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদনও জানান নাহিদ। ‘‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যেতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে,’’ বলেন তিনি।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘এবার শুধু সংসদ নয়, আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিক অধিকার—প্রতিটি দাবি নিশ্চিত হয়।’’

  • সংস্কার পরিষদ না করলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ

    সংস্কার পরিষদ না করলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ

    বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, যদি সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হয় তাহলে তার পরিণতি বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য ‘‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করে।

    সেমিনারে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশে দুইটি বড় প্রশ্ন উত্থিত হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী দাবিতে ফ্যাসিবাদের বিলোপ চেয়েছিল, বিএনপি তখন নির্বাচনের পক্ষে ছিল, আর আমরা গণপরিষদ (রিসোর্ট) করে বাস্তব সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কার আলোচনায় অংশগ্রহণ করলে আমরা গণপরিষদের বদলে ‘সংস্কার পরিষদ’ এর মাধ্যমে সমাধান মেনে নিয়েছি।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বর্তমানে কৃত্রিম বিরোধ সৃষ্টি করছে এবং ‘‘জুলাই সনদ’’ ও ‘‘জুলাই আদেশ’’ আলাদা করার চেষ্টা করছে। বিএনপি জুলাই সনদকে নিজের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে; এজন্যই গণভোটের প্রশ্ন উঠে এসেছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের মূল কাঠামো ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে বদলানো সম্ভব নয়—এই কারণে গাঠনিক ক্ষমতা সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এসব বিষয়ে বিএনপি সম্মতি দিয়েছে, কিন্তু পরে তারা কথার ব্যতিক্রম করেছে এবং গণভোটের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছে।

    গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করলে তার পুণরাবৃত্তি সরকারের জন্য কঠিন পরিণতি বয়ে আনবে জানান চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এখন আমাদের যুদ্ধ পরিস্থতির মতো পরিস্থিতি নিয়েও ভাবতে হবে—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করা হবে, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে কীভাবে এবং জ্বালানি সংকটের সমাধান কীভাবে করা হবে—এসব বিষয়ে আন্তরিক আলোচনা দরকার। নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে যে সংস্কারের কথা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আলোচনাও দীর্ঘায়িত হয়েছে, তবুও বাস্তবায়ন হয়নি; ফলে জাতিকে এই দুর্যোগে ফেলে দিয়েছে বিএনপি, এবং বিএনপিকেই এর দায়ভার ও পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে বলেন, দ্রুত সংবিধানভিত্তিক সংস্কার পরিষদ গড়ে তোলা প্রয়োজন যাতে এই সংকট নিরসন করা যায় এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা যায়। নাহিদ সতর্ক করে বলেন, না হলে এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল ওলি আহমদ, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।