Author: bangladiganta

  • পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে মবের শিকার বলিউডের দুই শিল্পী

    পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে মবের শিকার বলিউডের দুই শিল্পী

    বর্ষবরণের রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হলেন বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুটি সাচেত ট্যান্ডন ও পরম্পরা ঠাকুর। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে ওই ঘটনার মধ্যে পড়ে যান তারা। এই ঘটনা শুধু তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং ভারতের শিল্পী এবং দর্শকদের মধ্যে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বালুরঘাটে একটি জমকালো কনসার্টে অংশ নেওয়ার পর, নতুন বছর উদযাপনের জন্য তারা যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের গাড়িকে শত শত জনতা ঘেরাও করে রেখেছে। জনতার উত্তেজনা এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে যে, তারা চলন্ত গাড়ির ওপর কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। মুহূর্তে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায় এবং ভেতর থেকে সাচেত ‘ওহ শিট’ বলে চিৎকার করেন। পাশের একজন শিল্পী, পরম্পরা, আতঙ্কিত হয়ে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, বলে: “গাইজ রিল্যাক্স, শান্ত থাকো।” তবে জনতা তাদের গাড়ি থেকে পালাতে পারেনি।

    অ্যাকসিডেন্টের পরে শিল্পীরা এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিবৃতি দেননি। তবে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও শেয়ার করে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে এই ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

    এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। কেউ বলছেন, ভারতের অন্যতম অর্থপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসবের পরে এমন ঘটনা খুবই ভয়ঙ্কর। অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রদেশে বলিউডের তারকাদের ওপর এমন হামলা দেশের আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষার জন্য একটি বড় সংকেত। বিশেষ করে, সম্প্রতি কৈলাস খেরের কনসার্টেও একই ধরনের উন্মত্ত জনতার তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মাঝপথেই মঞ্চ থেকে উঠে যান শিল্পী।

    অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিবেশে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এই এক ধরনের ‘মব কালচার’ বা উন্মত্ত জনতার আক্রমণ চোখে পড়ছে, যা অবশ্যই দ্রুত সমাধান করতে হবে।

  • ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে!

    ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে!

    নতুন বছর উপলক্ষে বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা করণ জোহর আবারও দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় ঘোষণা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি একে একে একটি পারিবারিক ছবি বানানোর পরিকল্পনা করছেন, যা পুরোপুরি একটিহু বোঝাবে আবেগে ভরা পরিবারের গল্প। তবে কেউ মনে করেননি যে, এই সিনেমার মধ্যে থাকবে তার অসাধারণ হিট সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল।

    পিঙ্কভিলা সূত্রের খবর অনুযায়ী, করণ জোহর তার এর আগে ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ এর মতো রোমান্টিক কমেডি তৈরি করার পর এখন একটি পারিবারিক ড্রামা নিয়ে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করছেন। এটি নির্মিত হবে ধর্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে। প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এবং এই বছরের শেষের দিকে শুটিংও সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

    প্রথম আলোর মতে, ছবিতে দুটি মূল নায়ক ও নায়িকা থাকবেন এবং casting এর কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ছবির নাম হতে পারে ‘কাভি খুশি কভি গাম ২’, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। করণ জোহর বা ধর্ম প্রোডাকশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি।

    ২০২৬ সালে ২৫ বছর পূরণ হতে চলেছে, তখনকার সময়ে মুক্তি পায় করণের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’। এখন আবার এর সিক্যুয়েল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

    করণ জোহরের ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘কাভি আলবিদা না কেহনা’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’, ‘বোম্বে টকিজ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’ এবং সর্বশেষ ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’। এই সব সিনেমা বলিউডে তার অসাধারণ স্থান করে নিয়েছে।

  • ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা কেন আলাদা, হেমা মালিনী জানান

    ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা কেন আলাদা, হেমা মালিনী জানান

    প্রয়াত বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্মরণে দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী পৃথক একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, দেওল পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে। মূল সামাজিক অনুষ্ঠানে যেখানে ধর্মেন্দ্রর দুই ছেলে সানি ও ববি দেওল উপস্থিত ছিলেন, সেখানে হেমা ও তার কন্যারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। একইভাবে হেমার আয়োজনেও দেখাও যায়নি সানি-ববি। তবে এই দূরত্ব এবং পারিবারিক বিভেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি নিজেই।

    ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী স্পষ্ট করেছেন, এই পারিবারিক বিভেদের বিষয়টি তারা ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, এটি একান্তই তাদের পরিবারের বিষয়, যা তারা ব্যক্তিগতভাবেই মোকাবেলা করে আসছেন। তাঁর কাছে মনে হয়, আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় আমার জন্য আলাদা এক আয়োজনের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি আরও জানান, তিনি দিল্লিতে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের জন্য একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছেন, আর তার নির্বাচনী এলাকা মথুরার মানুষের আবেগকে মাথায় রেখে সেখানে আলাদা আয়োজনের প্রয়োজন হয়েছিল।

    হেমা মালিনী আরও তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, পরিবারে কোনো ভাঙন আসেনি। সবাই মর্যাদা ও শ্রদ্ধাসহ ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করছেন।

    প্রসঙ্গত, বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে তার পরিবারের সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। এরপর, ৩ ডিসেম্বর, সানি ও ববি দেওল হরিদ্বারে তার অস্থিসংস্থান সম্পন্ন করেন। তবে শেষকৃত্য ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে দেখা যায়নি, যার ফলে বলিপাড়ায় নানা রকম গুঞ্জন শোনা যায়।

    তবে সেইসব গুঞ্জনকে অস্বীকার করে হেমা মালিনী জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্রর স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের পরিবার একযোগে কাজ করছে। তিনি জানান, সানি দেওয়েল বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন সে কারণে তিনি নিজেদের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। মুম্বাইয়ের লোনাভেলায় অবস্থিত ধর্মেন্দ্রর ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত ফার্মহাউসটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপান্তর করার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। হেমা মালিনী বলেন, এই উদ্যোগ ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীদের জন্য এক বিশেষ উপহার হবে।

  • বিনা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছে বিসিসিআই

    বিনা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছে বিসিসিআই

    তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই বিষয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে। দেশি- ও বিদেশি ক্রিকেটাররা একদিকে বিসিসিআইয়ের এই অজানা সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ খুঁজতে পারেননি, অন্যদিকে বোর্ডের একজন নাম প্রকাশ না করতে চাওয়া কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনওভাবে আলোচনা হয়নি। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বিসিসিআইয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    মোস্তাফিজুর রহমান খেলে থাকেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস এবং চেন্নাই সুপার কিংস—এই পাঁচ দলের হয়ে। ভারতের এই জনপ্রিয় আইপিএল টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি ৬০ ম্যাচে খেলেছেন এবং ৮.১৩ ইকোনমিতে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন। ২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংস তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছে। গতবার জেক ফ্রেজার ম্যাগার্ক না খেলায়, মোস্তাফিজকে মাঝপথে দলে নেওয়া হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের পক্ষ থেকে। তবে এবারে রাজনৈতিক বিবাদের কারণে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দূরত্বের কারণেও তিনি আইপিএলে খেলতে পারছেন না।

    ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে (প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা) কেনে। এইতো বাংলাদেশের ক্রিকেটারের মধ্যে আইপিএলে সর্বোচ্চ দাম পান মোস্তাফিজ। তবে সম্প্রতি বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া এএনআইকে বলেন, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য। এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতি নানা মন্তব্য করছে, পোস্টে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি, আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অনুষ্ঠিত হলে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশের আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি তুলেছে। এর ফলে পরিস্থিতির আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

  • বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে সবার আগে নিরাপত্তা: রমিজ রাজা

    বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে সবার আগে নিরাপত্তা: রমিজ রাজা

    বাংলাদেশের ক্রিকেট ও রাজনীতির মধ্যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা চলছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এই ক্রিকেটারকে ৯.২ কোটি রুপিতে দখল করেছিল, তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়তে হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এর পেছনে রয়েছে ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’, যা মূলত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

    এর জবাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)কে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার অবস্থা বিবেচনায় তারা আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে খেলা চলবে না। বাংলাদেশের সব গ্রুপ ম্যাচের জন্য নির্ধারিত ছিল কলকাতা ও মুম্বাইয়ে, তবে তারা চাইছে ওই ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উল্লেখ করেছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবার আগে।

    এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে দেশটির দর্শকদের জন্য। বলা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য আঘাতের মতো। আইসিসি নতুন শিডিউল প্রস্তুত করা শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যদি খেলাগুলো সরানো হয়, তবে বিসিসিআইয়ের অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়ঙ্কর হবে।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার রমিজ রাজা, যিনি বর্তমানে বিপিএলে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন, এই ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার মতে, বাংলাদেশ তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ প্লেয়ারদের নিরাপত্তা সবার আগে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের আচরণের উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, এশিয়া কাপের সময় ভারত নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তান সফরে যায়নি এবং তাদের ম্যাচগুলো অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। আজকের এই ঘটনা যা ঘটছে, তা খুবই দুঃখজনক।’

    বাংলাদেশ যদি আইপিএলে অংশ না নেয়, তবে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিসিআই। জানা গেছে, এই পরিস্থিতি এড়াতে ভারত এখন বাংলাদেশ দলের জন্য ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সাধারণত সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত হয়।

  • বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠক বাদ

    বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠক বাদ

    চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অনুষ্ঠানে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পরিস্থিতির বিবেচনায়, উপস্থাপনা দল থেকে ভারতের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠককে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এবারের বিপিএলে ভিন্ন ধরন ও নানা রঙের উপস্থাপনা ও ধারাভাষ্য আনার লক্ষ্য নিয়ে বিসিবি উদ্যোগ নিয়েছিল। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ভারতীয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠক, যা ছিল নতুনত্বের একটি অংশ। এছাড়া, ধারাভাষ্য দলের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক পিসিবি প্রধান রমিজ রাজা এবং ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ড্যারেন গফ।

    তবে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটায়। এর ফলে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি বিপিএলের উপস্থাপনা ও ধারাভাষ্য দলের পরিবর্তনের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • আইসিসির কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা, ভারতের মাটিতে খেলার দাবি ভিত্তিহীন

    আইসিসির কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা, ভারতের মাটিতে খেলার দাবি ভিত্তিহীন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশিত শঙ্কার কথা উল্লেখ করে, বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে বিসিবি।

    আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বিসিবির পক্ষ থেকে একটি رسمی বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশ দলের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণের ব্যাপারে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে, টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনার ধারাবাহিক অঙ্গ হিসেবে বাংলাদেশের উদ্বেগ-উদ্দেশ্যগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সমাধানে কাজ চালিয়ে যাবে। বিসিবি আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল আইসিসি দেশের প্রতি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা বা আলটিমেটাম দিয়েছে। তবে এসব সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং আইসিসির সঙ্গে বিসিবির যোগাযোগের প্রকৃতি বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে কোনওই মিল নেই।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিসিবি আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক, সহযোগিতামূলক ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এ লক্ষ্য হলো একটি বাস্তবসম্মত, সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যাতে বাংলাদেশের দলের অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন ও সফল হয়।

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সার্বিক কল্যাণকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গতকাল (মঙ্গলবার) বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক নিয়ে একজন ভারতীয় ক্রিকেট খবরের ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে না খেলার জন্য বাংলাদেশ বোর্ডকে জানিয়েছে। তাদের কথায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভারতে না গেলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে বিসিবি এই খবরকে সম্পূর্ণ মান deny করে, বলেছে, তাদের ও আইসিসির মধ্যে আলোচনা সুসম্পর্কের ভিত্তিতে চলছে এবং এসব দায়ের কোনও ভিত্তি নেই।

  • আইপিএলে বাদ, পাকিস্তান থেকে সুখবর পেলেন মুস্তাফিজ

    আইপিএলে বাদ, পাকিস্তান থেকে সুখবর পেলেন মুস্তাফিজ

    এবারের আইপিএলে খেলা হচ্ছে না বাংলার তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের। ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাকে এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিসিসিআই ভারতের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিলে, কেকেআরও সেই নির্দেশ মান্য করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যখন ক্রিকেটপ্রেমীরা মুস্তাফিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে 궁দ্ধ হচ্ছেন, তখন তিনি পاتے পারেন এক সুখবর।

    আইপিএলে অবশেষে খেলা থেকে বাদ পড়লেও, তিনি সুযোগটি হাতছাড়া করেননি। পাকিস্তানের প্রিমিয়ার সার্কুলার লিগ পিএসএলে তিনি নাম লেখিয়েছেন। পাকিস্তানের এই জনপ্রিয় লীগে অংশ নেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

    সেখানে পোস্ট করা হয়েছে, ‘ব্যাটসম্যানদের সাবধানে খেলতে হবে… মোস্তাফিজুর রহমান যোগ দিয়েছেন পিএসএল ১১-এ।’ উল্লেখ্য, পাকিস্তানের এই লীগ আগামী বছর ২৬ মার্চ শুরু হবে এবং ৩ মে এর মধ্যেই শেষ হবে।

    মুস্তাফিজ এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবার পিএসএল খেলেছিলেন। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে তিনি ৫ ম্যাচে মোট ৪ উইকেট তুলেছিলেন। দীর্ঘ সাত বছর পর এবার তিনি আবার এই লিগে খেলতে যাচ্ছেন।

    তবে এখনো নিশ্চিত নয়, পিএসএল কোন দলের হয়ে খেলবেন মওস্তাফিজ। প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে তাকে কোন দল পাবে, সেটাই পরিষ্কার হয়নি। এইবার পিএসএলে প্রথমবারের মত থাকছে আটটি দল, এবং এটি হবে টুর্নামেন্টের ১১তম ও সবচেয়ে বড় আসর।

  • ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে ইরান ও কিউবা: পাঁচ দেশের রাজনীতি ও চ্যালেঞ্জ

    ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে ইরান ও কিউবা: পাঁচ দেশের রাজনীতি ও চ্যালেঞ্জ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য তার পররাষ্ট্রনীতির নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এক নাটকীয় রাতের অভিযানে কারাকাসের শক্তিশালী ও সুরক্ষিত প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro ও তাঁর স্ত্রীর गिरफ्तारी ঘটিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়েছেন। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ট্রাম্প ১৮২৩ সালে মার্কিন প্রশাসনের মনরো ডকট্রিনের আভাস তুলে ধরেছেন, যা লাজুকভাবে পূর্বে বিদেশি শক্তিগুলোর ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপের নীতিকে নির্দেশ করে। ট্রাম্প এই নীতিটিকে তিনি নতুন করে নাম দিয়েছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’, যা দক্ষিণ আমেরিকার নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে নজরদারির নির্দেশ দেয়।

    গত কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী দিকনির্দেশনা অন্যান্য দেশেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন, ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পিটুফিক স্পেস বেস, যা ট্রাম্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলছেন, পুরো দ্বীপটি তাঁরা দখল করতে চান, কারণ তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই অঞ্চলটি ‘রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন।

    ডেনমার্কের এই আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চীন এই খনিজ উৎপাদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের বহুস্তরীয় ভূখণ্ড উত্তর আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান দখল করে আছে এবং আর্কটিক সার্কেলে প্রবেশের দ্বার খুলছে। তবে ডেনমার्कের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এই প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, আলোচনায় তারা উন্মুক্ত, তবে আন্তর্জাতিক আইনের সম্মান রাখতে হবে। ফ্রেডরিকসেন আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য কেউ ন্যাটো দেশকে আক্রমণ করে, তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।

    অপরদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়া বিশাল তেল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সেখানে ট্রাম্পের নির্দেশে চলমান আরও কঠোর মনোভাব ও আলোচনায় থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং কোকেনের কার্টেলগুলোর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই কলম্বিয়াকে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ দেহাবরণ করেছে।

    ইরান বর্তমানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সম্মুখীন, যেখানে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, আরও যেন বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেছেন, আমরা খুবই নজরদারি করে রয়েছি, আর যদি তারা অতীতের মতো মানুষ হত্যা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোরভাবে আঘাত করবে। এই পরিস্থিতি ‘ডনরো ডকট্রিনের’ বাইরে নয়, তবে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পরে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এই হামলা হয় ইসরায়েলে চালানো এক বৃহৎ অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা ধ্বংস।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার-এ-লাগোতে বসে ইরানের জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ইরানকে ভবিষ্যতের হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অবশেষে, মেক্সিকো সম্পর্কেও ট্রাম্পের মনোভাব সুস্পষ্ট। ২০১৬ সালে তার মূল স্লোগান ছিল-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ। তার দখলে থাকাকালীন সময়ে তিনি এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মেক্সিকো থেকে মাদক ও অবৈধ আমদানি ঠেকানোর জন্য খুবই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এই বিষয়ে তারা খুব শক্তিশালী কার্টেল দ্বারা পরিচালিত, যা মোকাবেলা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম ব্যাপক বিরোধিতা জানিয়েছেন।

    সবশেষে, কিউবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, এবং এখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি যদি পতনের মুখে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়বে না। তিনি বলছেন, কিউবা এখন পতনের দোরগোড়ায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে চলেছে, যা এখন বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ঢের দিন ধরে আশা প্রকাশ করেছেন যে, শাসন পরিবর্তন হয়ে কিউবায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা এই অঞ্চলের জন্য শুভ হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে

    যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে

    সংযুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে, বাংলাদেশি প্রার্থীরা যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে চান, তাদের অতিরিক্তভাবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।

    ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই তালিকা হালনাগাদ করেছে, যেখানে মোট ৩৮ টি দেশের নাম উল্লিখিত রয়েছে। বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। এই নীতি যত দ্রুত কার্যকর হবে, তা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিক যারা ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের কাছ থেকে ভিসা পেতে হলে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হবে। এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন ভিসা অফিসের কনস্যুলার কর্মকর্তারা, আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং ইন্টারভিউ ভিত্তি করে।

    ভিসা বন্ডের অর্থের ব্যবহার মার্কিন সরকারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ এর মাধ্যমে হয়। তবে, কেউ অগোচরে বা অনির্ধারিতভাবে অর্থ জমা দিতে পারবেন না, কারণ কনস্যুলার অফিসার পূর্বেই এই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ‘ভিসা বন্ড পাইলট’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থাকেন বা ওভারস্টে করেন, তাদের নিরুৎসাহিত করা। এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকেরা সাধারণত বেশি হারে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন না, সেই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামানতের টাকা একদমই কেটেই রাখা হয় না, বরং এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। যদি ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান, বা ভিসা বাতিল হয়ে যায়, বা তাদের অনুত্তীর্ণ সময়ের জন্য অপরাধপ্রবণ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য অনুমতি নিয়ে থাকেন, তবেই এই অর্থ ফেরত পাবেন।

    তবে, যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা এই দেশীয় নীতির ব্যতিক্রম করেন, তবে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

    অন্তত তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— বোস্টন লোগান, জ্যুই এফ কেনেডি ও ওয়াশিংটন ডুলস— যেখান থেকে বাংলাদেশি মারফত বা এই জামানত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্য কোথাও প্রবেশ বা বহির্ঘটন যদি ঘটে, তাহলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

    এছাড়াও, তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, এবং নেপাল। এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হবে নির্দিষ্ট তারিখ থেকে, দেশের ভিত্তিতে আলাদা।

    প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিতে, ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা কিছু দেশ মুক্তিযুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জন্য আবশ্যক করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, এই ব্যবস্থা ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া অবৈধ অবস্থান প্রতিরোধে এবং ভিসা নিয়ম মোতাবেক চলার জন্য উদ্দশ্যপ্রসূত।

    অতীতে বিভিন্ন দেশ এই ধরনের ব্যবস্থা চালু করলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি বা বাতিল হয়ে গেছে। যেমন, নিউজিল্যান্ড একসময় এই পদ্ধতি চালু করেছিল, তবে তা পরে বিকল্প হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু দেশের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করলেও পরে তা স্থগিত করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্যও বেশ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল করে তুলবে।