Author: bangladiganta

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে জনগণের কথা ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে জনগণের কথা ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে — ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সকল গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ অবিস্মরণীয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানোদের মধ্যেও অধিকাংশই ছিলেন শ্রমিক।

    তিনি অভিযোগ করেন যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের উপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে,’’ বলেন নাহিদ।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করে বাস্তবায়নের ও সংস্কারের যে ওয়াদা ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। কর্মসূচি ও গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    নাহিদ আরো বলেন, ‘‘আমরা এখন এক নতুন জাতীয় ঐক্যের অংশ; যেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শ্রমিকদের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করা—সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্য ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়া আমাদের দায়িত্ব।’’

    আরামতর নয়, রাজপথেও প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন নাহিদ। তিনি বলছেন এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়, রাজপথে নামার প্রস্তুতিও নিতে হবে। ‘‘রাজপথের প্রস্তুতির মাধ্যমে, গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের প্রতিটি অধিকার নিশ্চিত হয়,’’ যোগ করেন তিনি।

  • বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার)। এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেইন খান।

    ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবহৃত হিসাব পদ্ধতি BPM-6 অনুযায়ী একই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯,৯৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার।

    তুলনায় বললে, আগে ৯ এপ্রিল গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪,৬৪৫.০৪ মিলিয়ন ডলার এবং BPM-6 অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯,৯৫২.৬৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রস রিজার্ভে প্রায় ১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলারের এবং BPM-6 অনুযায়ী রিজার্ভে প্রায় ২৫.২৩ মিলিয়ন ডলারের উন্নতি হয়েছে।

    উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের BPM-6 পরিমাপ অনুসারে। সাধারণত মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী দায় বাদ দিলে যে পরিমাণ থাকে, সেটিই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না হলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না হলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে জানিয়েছে, নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনজীবনে নগদ লেনদেন স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তফসিলি ব্যাংকের সব শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করে তার বিপরীতে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। আগে থেকেই এই নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এ ধরনের নোটের প্রচলন এখনো বেশি থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিমত জানিয়েছে।

    ব্যাংকগুলোকে ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বা পরিষ্কার নোট নীতি বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষভাবে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ এবং নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গ্রাহক যাতে ব্যবহারযোগ্য নোট পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো শাখা যদি এসব সেবা দিতে অনীহা দেখায় বা গাফিলতি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্দেশনাটি ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় সি চিনপিংয়ের চার প্রস্তাব

    মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় সি চিনপিংয়ের চার প্রস্তাব

    মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা অস্থিতিশীলতার কারণে শান্তি ফেরাতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং চারটি মূল প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযান ও উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রস্তাব এসেছে, যাতে আঞ্চলিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

    চীন প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি নিয়ে এক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং অফিসিয়ালি যাচাই করা এক্স-handle থেকে এই চার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সি চিনপিং যেসব মূল নীতির ওপর জোর দিয়েছেন, সেগুলো হলো—

    ১) শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা: মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোকে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দেখে চীন বলেছে, তারা বিচ্ছিন্নভাবে চলতে পারবে না। পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রো-অ্যাকটিভ উদ্যোগ এবং একটি সর্বাত্মক, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়া জরুরি।

    ২) জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখা: সার্বভৌমত্বকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে মানতে হবে এবং তা লঙ্ঘন করা যাবেনা। উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং তাদের জনবল ও অবকাঠামো রক্ষায় সম্মান দেখানো প্রয়োজন।

    ৩) আন্তর্জাতিক আইনের শাসন মেনে চলা: জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আইনের ওপর ভিত্তি করে আর্থ-রাজনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা উচিত। জাতিসংঘ সনদের আদর্শ ও লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনের প্রতি অটল থাকা জরুরি।

    ৪) উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করা: নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরস্পরের পরিপূরক। উপসাগরীয় দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং সব পক্ষকে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে। চীন এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং নিজস্ব আধুনিকায়নের সুযোগ ভাগ করে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবগুলোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাও নজর কাড়ছে — মার্কিন নৌ-অবরোধের কিছুক্ষণ পর হরমুজ প্রণালী পার করে বাহিরে বেরিয়ে এসেছে চীনের একটি ট্যাংকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ওই চীনা তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে উপসাগরীয় জলসীমা ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্স সূত্রে জানানো হয়েছে, এই তথ্য এসেছে LSEG, MarineTraffic ও Kpler-এর ডেটা থেকে।

    জাহাজটির নাম রিচ স্ট্যারি এবং এর মালিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বলা হয়েছে সাংহাই শুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেডকে। জাহাজটি আগে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল। সংবাদের মতে, জাহাজটি সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে নোঙর করে পণ্য তোলা ছিল।

    রয়টার্স আরও জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় থাকা আরেকটি জাহাজ মুরলিকিশান বর্তমানে প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং এটি ১৬ এপ্রিল ইরাকে অপরিশোধিত তেল তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পূর্বে এমকেএ নামে পরিচিত এই জাহাজটি রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহন করেছে।

    চীনের ইরানি তেল ক্রয়ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির সূচক ছিল। শত্রুতা শুরুর আগেও ইরানের রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ চীনই ক্রেতা ছিল। শিপিং ডেটা ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান Kpler-এর তথ্যমতে, গত বছর চীন দিনে গড়ে প্রায় ১৩.৮০ লক্ষ ব্যারেল (প্রতি দিন 1.38 মিলিয়ন ব্যারেল) ইরানি তেল আমদানি করেছিল। একই সময়ে চীন সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের প্রায় ১৩.৪ শতাংশই ইরান থেকেই আসে।

    এই সব ঘটনা দৃশ্যমানভাবে দেখাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক নীতি— উভয় ক্ষেত্রেই কড়া প্রতিযোগিতা চলমান। সি চিনপিংয়ের প্রস্তাবগুলি আঞ্চলিক সংলাপ ও কূটনৈতিক পথ পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, আর তেল শিপিংয়ে চলমান গতিবিধি তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভবিষ্যৎ শক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

  • কানাডার ইতিহাস: ফেডারেল পার্লামেন্টে প্রথম বার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি ডলি বেগম

    কানাডার ইতিহাস: ফেডারেল পার্লামেন্টে প্রথম বার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি ডলি বেগম

    কানাডার রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় লিখলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা ডলি বেগম। সোমবার (১৪ এপ্রিল) টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির নৌকা থেকে অংশ নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ফেডারেল পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে জায়গা করে নিলেন।

    প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পান এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। এই জয় বাংলাদেশের অভিবাসী সমাজ ও কানাডার বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে গর্বের বিষয় হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।

    এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়; ফেডারেল পর্যায়ে বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত কণ্ঠ হিসেবে তার উপস্থিতি বহু মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বিশেষ করে নারী নেতৃত্ব ও কমিউনিটি প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

    ডলি বেগমের রাজনীতি নতুন নয়। তিনি অন্টারিও প্রাদেশিক পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট থেকে এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সমতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে তিনি সরব কণ্ঠ ছিলেন—যেই অবস্থানই তাকে সংগ্রামের পরে আজকের এই সফলতায় পৌঁছে দিয়েছে।

    বিজয়ী ভাষণে ডলি বেগম বলেন, এই জয় কেবল তার নিজের নয়, এটি বহুসাংস্কৃতিক কানাডার অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার জয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য থাকবে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়নের ত্বরান্বিতকরণ, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা।

    বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায় ও প্রবাসীরা বলছেন, ডলি বেগমের এই অর্জন আগামী প্রজন্মকে রাজনীতি ও নেতৃত্বে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে। পাশাপাশি এই আসনের জয় লিবারেল পার্টির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ; এটি পার্লামেন্টে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে বা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

    আগামী সপ্তাহগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে। যেখানে তিনি জোট সরকারে বা সংসদীয় কার্যক্রমে কিভাবে অংশ নেবেন, সেটাই এখন সবার নজরের বিষয়।

  • খুলনায় উৎসবমুখর আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন

    খুলনায় উৎসবমুখর আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে আজ (মঙ্গলবার) খুলনায় বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে উদযাপনের মধ্যে ছিলো বর্ষবরণ, বৈশাখি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, লোকজ মেলা ও নানান সাংস্কৃতিক কর্মসূচি।

    এবারের নববর্ষের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। সকালে রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখি শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় শহিদ হাদিস পার্কে। শোভাযাত্রায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

    শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির এক অম্লান ঐতিহ্য ও সর্বজনীন উৎসব; বাংলা নববর্ষ বাঙালি লোকসংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুল-ত্রুটি ও কষ্ট ভুলে নতুন বছরে আমরা নতুন উদ্দীপনায় শুরু করতে চাই; সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় রয়েছে। সংহত এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমরা একটি উন্নত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগোবো—এটাই আমাদের সকলের আকাঙ্খা।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    নববর্ষ পালনে জেলা কারাগার, হাসপাতাল ও সরকারি শিশু পরিবার ও এতিমখানাসমূহে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশন করা হয় এবং শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কারাগারে বন্দীদের তৈরী পণ্যের প্রদর্শনী, বন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন ও নাট্যপ্রদর্শনও অনুষ্ঠিত হয়। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় উৎসব মুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। দিনব্যাপী শহিদ হাদিস পার্কে লোকজ মেলা চলেছে।

    উপজেলাগুলোতেও একইভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

  • চিতলমারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    চিতলমারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা মােৎসবে ভরে উঠেছিল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল)। সকালে সকাল ৯টায় বকুলতলা থেকে আমডােলা শুরু হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রাটি শহীদ মেনার ও সরকারি মহিলা কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বকুলতলায় এসে সমাপ্ত হয়। রঙিন পোশাক, লোকসঙ্গীত ও উল্লাসে ভিড় জমে; স্থানীয় মানুষ ও পরিবার-পরিজন উৎসবটির আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

    র‌্যালীর শেষে অফিসার্স ক্লাবের সামনে দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল ১০টায় বকুলতলায় শুরু হওয়া লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য, গান ও স্থানীয় কুশল প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত আল মারুফ, চিকিৎসক এম আর ফরাজী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল অদুদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঠান্ডু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ ও উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শেখ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

    বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়; হাসপাতালে ও এতিমখানায়ও আনন্দ ভাগাভাগি করে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। গ্রাম বাংলার সক্রিয় ঐতিহ্য লাঠি খেলাও উৎসবের আরও একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আনন্দময় পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

  • খুবিতে চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রাণোজ্জ্বল ঘুড়ি উৎসব

    খুবিতে চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রাণোজ্জ্বল ঘুড়ি উৎসব

    বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব। সোমবার বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম উৎসবের উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, চৈত্র সংক্রান্তিতে খুবির ঘুড়ি উৎসব একটি ধারাবাহিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম; যা পারস্পরিক স¤প্রতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার לצד সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করে—এমনও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালকবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

    ঘুড়ি উড়ানোর সময়ে মাঠটি ছিল উৎসবমুখর। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দৃশ্যত উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো; আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছিল নানা রঙ ও আকৃতির ঘুড়ি—প্রজাপতি, সাপ, চিল, ঈগল ও মাছ আকৃতির ঘুড়িগুলো বিশেষভাবে চোখে পরার মতো ছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজনটি কেবল চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্যকে ধরে রাখেনি, নতুন বাংলা বছরের আগমনও আনন্দঘনভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা

    নারী ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা—আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষণা করেছে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বাড়তি বিনিয়োগ এবং দর্শক আগ্রহ বৃদ্ধির দিক নির্দেশ করছে।

    আইসিসি জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। ২০২৪ সালের আসরের প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলারের তুলনায় এ বছর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    প্রাইজবিতরণের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবে ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা)। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া প্রতিটি দলই পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা)। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচে জয়ী দলের জন্য নির্ধারিত পুরস্কার রয়েছে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা)। টাইমটেবিল অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী ১২টি দল প্রত্যেকে ন্যূনতম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবেন।

    এ টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় পরিবর্তন হলো দলসংখ্যা বৃদ্ধি—প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নিচ্ছে। দলের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে রাজনীতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হবে এবং বড় পরিসরে প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগের আসরগুলোর তুলনায় এই সিদ্ধান্ত খেলাটিকে আরও জমজমাট ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুততর হচ্ছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধি ও রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন, বিনিয়োগের এই বৃদ্ধিই নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ ও প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে এবং দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব।

    টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আইসিসি ইতোমধ্যে ট্রফি ট্যুর শুরু করেছে। লর্ডসে (লন্ডন) ট্রফি প্রদর্শন করে এই যাত্রার সূচনা হয়েছে। এরপর ট্রফিটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে। মে মাসে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর—লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনে ভক্তদের জন্য ট্রফি প্রদর্শন ও অন্যান্য ইভেন্টের আয়োজন করা হবে, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াবে।

    ২০২৬ সালের ১২ জুন এই বিশ্বকাপ শুরু হবে এবং উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরে ক্রিকেটের ট্র্যাজেক্টরি, নারীদের উপস্থিতি ও দর্শক আগ্রহ—সবকিছুই নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    সংক্ষেপে, বড় প্রাইজমানি ও দলসংখ্যা বৃদ্ধির সংযোজন নারী ক্রিকেটকে শুধুমাত্র ক্রীড়া হিসেবে নয়, বাণিজ্যিকভাবে ও সামাজিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। আগামী বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ এবং ভক্তদের জন্য উত্তেজনার উৎস হয়ে উঠবে।

  • চোখের জলে চিরবিদায়: পঞ্চভূতে বিলীন আশা ভোঁসলে

    চোখের জলে চিরবিদায়: পঞ্চভূতে বিলীন আশা ভোঁসলে

    ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে তাঁর মুখাগ্নি দেন ছেলে আনন্দ ভোঁসলে—এই মুহূর্তে নিভে গেল সুরের এক দীর্ঘ আলোর পথ। খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলেতে আশা ভোঁসলের বসতঘর যেন শ্রদ্ধার মিছিল। সেখানে উপস্থিত সবাই উৎসব নয়, বরং গভীর শোকের আবেগে ডুবে ছিলেন। বোন লতা মঙ্গেশকরের কন্যা মীনা খাড়িকরসহ বহু পরিচিত মুখ—অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার, সুরকার এ.আর. রহমান, জাভেদ আলী, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফসহ বিনোদন, রাজনীতি ও ক্রীড়াজগতের নেতারা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

    বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর মরদেহ শববাহী গাড়িতে করে শিবাজি পার্কে নেওয়া হয়। তার প্রিয় সাদা-হলদে রঙের ফুলে শববাহী গাড়িটি সাজানো ছিল। রাস্তার দু’ধারে ভক্ত-অনুরাগীদের সমাগমে নির্বিবাদ ভাবে চোখের জলেই শেষ বিদায় হাতে নেন তারা। শ্মশানেও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তিত্বরা, যারা গান ও ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    আশা ভোঁসলেকে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রবিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন; বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    সংগীতে প্রবেশ করেন ১৯৪৩ সালে—তার কর্মজীবন ছড়িয়ে পড়েছিল আট দশকেরও বেশি সময়ে। শুধু হিন্দি নয়, তিনি ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষা এবং কয়েকটি বিদেশি ভাষায় গান রেকর্ড করেছিলেন। চলচ্চিত্রে মোট ৯২৫টিরও বেশি সিনেমায় গাইবার রেকর্ড আছে; মোট গান সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার—এই ব্যাপারে তাকে সর্বাধিক প্রযোজ্য রান হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাকে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে এবং ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোঁসলের প্রথম বিবাহ ছিলেন গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে; তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৬ এবং গণপতরাওর বয়স ৩১ ছিল। সেই দাম্পত্য ১৯৬০ সালে বিচ্ছেদে শেষ হয়। পরে ১৯৮০ সালে তিনি গায়ক আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে বিয়ে করেন; ১৯৯৪ সালে আর.ডি. বর্মনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্কও শেষ হয়।

    আশা ভোঁসলের কণ্ঠ ছিল বহু প্রজন্মের সংগীতস্মৃতির অমোচনীয় অংশ—তার লেগেগে থাকা আকাশমাঝি সুর, বহুবিধ ধাঁচের গান ও অসংখ্য সহশিল্পীর সঙ্গে সৃজনীশীল সহযোগিতা আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।