Author: bangladiganta

  • ১৭ বছর পর ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যালটের মাধ্যমে

    ১৭ বছর পর ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যালটের মাধ্যমে

    খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদকের কার্যালয় থেকে আজিজুল বারী হেলাল জানিয়েছেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পবিত্র ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। সরকারের নানা অপকর্মের কারণে হাজারো মানুষের জীবনহানি, গুম এবং হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিযোগিতা অবিচ্ছিন্নভাবে চলবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে বিজয়কে চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে সকল আস্ফালন ন্যায্য এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার দুপুরে রূপসার উত্তর খাজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টিএসবি নাগরিক সমাজের আয়োজনে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী ব্যারেস্তা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও সাধারণ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজুল বারী হেলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত মাস্টার আঃ আজিজ মোড়ল এবং পরিচালনা করেন মোঃ কামরুজ্জামান। বিকেলে তিনি তালতলা মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনায় অংশ নেন। তবে রাতের অংশে সেনের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা তারেক মাহমুদ, জিএম আসাদুজ্জামান, সরদার সিরাজুল ইসলাম, আরশাদ আলী, আঃ আজিজ শেখ, পরিতোষ কুমার দত্ত, টিএসবি ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার নন্দী, পাথরঘাটা দীপক কুমার রায়, শেখ জালাল উদ্দীন, সুধীর দাস, এসকে হারুনার রশিদ, আঃ মান্নান মাস্টার, দেবপ্রসাদ পাল, সৈয়দ আহম্মদ আলী, মাস্টার শেখ শাহাজাহান আলী, গৌতম ভদ্র ও আরও অনেক সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্ত হিসেবে জানা যায়, উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান সাইফ, জেলা বিএনপির সদস্য আছাফুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

    এছাড়াও, সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শেষপর্যায়ে, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘ জীবন ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষভাবে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

  • সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ মামলার মূল হোতাসহ দুই ডেজারুকে আটক করলো কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ মামলার মূল হোতাসহ দুই ডেজারুকে আটক করলো কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা দস্যু বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) সহ আরও দুইজন দস্যুকে আটক করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। এই সময় দস্যুদের হাতে ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি এবং অপহরণকারীদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের দিকে সুন্দরবনের ধনখালী এলাকায় তাদের আটক করা হয়।

    প্রথমে জানা যায়, ঢাকা থেকে কয়েকজন পর্যটক ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্টে ওঠেন। ওইদিন বিকালে এই পর্যটকরা বন দিয়ে নদীতে ভ্রমণে বের হন। এ সময় তারা বনের কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দস্যুদের একটি বাইসাইকেলে থাকা ডাকাত মাসুম বাহিনী তাদের অপহরণ করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুই নারী পর্যটকসহ চার জনকে ফেরত পাঠানো হয়, কিন্তু বাকিদের – এদল থেকে দুই পর্যটক ও রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে রাখে এবং মোটা টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এঘটনা জানার পর কোস্ট গার্ড, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়। ৪৮ ঘণ্টার চেষ্টায় অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং দস্যুদের গ্রেফতার সম্ভব হয়। এ সময় দস্যুদের সাথে সংশ্লিষ্ট এক নারীর পাশাপাশি মোট ছয়জন দস্যুকে আটক করা হয়।

    অপরাধীদের মূল নেতৃত্বদানকারী দস্যু বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়। ৭ জানুয়ারি রাতে বাহিনীর প্রধানসহ দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি তিনটি ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা গুলি, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ এবং মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামসহ নানা মালামাল উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।

    এছাড়াও, জিম্মি থাকা পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটককৃত দস্যু ও জব্দ হওয়া সামগ্রী সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত আইনের আওতায় আনয়নের জন্য পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড পশ্চিমক জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান।

    তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখার জন্য আসা পর্যটকসহ তিনজনের অপহরণের খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড দ্রুত অভিযানে নামে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও পর্যটকদের উদ্ধার সম্ভব হয়। গোটা সুন্দরবনের দস্যু দমন ও সম্পদ রক্ষা করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • গণতন্ত্র ও ভোটের মর্যাদা রক্ষা: খুলনা-২ আসনে বিএনপির অঙ্গীকার

    গণতন্ত্র ও ভোটের মর্যাদা রক্ষা: খুলনা-২ আসনে বিএনপির অঙ্গীকার

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন সভা ও নির্বাচনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় দলটির নেতারা ধানের শীষের পক্ষে জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটি মূলত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা ও ভোটের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একজন গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    বুধবার সকাল ১১টা থেকে নগরীর ওয়েস্টার্ন ইন হোটেলে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে, যেখানে সবাই মনে করছে এটি সহজ হবে; কিন্তু বাস্তবে তা একদমই সহজ নয়। তাই দল যেকোনো পরিস্থিতিতে ধানের শীষের পতাকা হাতে রাখতে হবে। এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ছাড়া অন্য কিছু যেন মাথায় না আসে। জনগণের মতামতকে অটুট রেখে ব্যালটের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করতে হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, প্রয়োজনে সমন্বয়ও করা হতে পারে; কিন্তু ধানের শীষ এবং দলের মূল আদর্শ কখনো বদলানো যাবেনা। এই আদর্শের জন্য মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা যা নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    সভায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, ‘‘একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি’র বিরোধী নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির পরিকল্পনাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।’’

    মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলীয় কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আসন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

    বক্তারা বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিএনপির প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আনতে এবং ভোটের অধিকার প্রত্যর্পণ করতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, খুলনা-২ আসনের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন বিএনপির পক্ষে রয়েছে। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সভা ও নির্বাচনী সমন্বয় সভার মাধ্যমে এই এলাকায় বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম আরও সুসংগত ও বেগবান হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশটিতে মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর অর্থ বাংলাদেশের হিসেবে প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে গণনা করা হয়)। এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সময়কালে, আগের অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায়, এই পরিমাণ বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা প্রায় ৩১ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার। এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা দেওয়া এবং ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের বিবরণ এভাবে রয়েছে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরতে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয়ের রেকর্ড উঠে এসেছে।

    অর্থাৎ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ রেকর্ডমূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স পৌঁছায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • বছরের প্রথম দিনে সোনার ভরি দাম কমে ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা

    বছরের প্রথম দিনে সোনার ভরি দাম কমে ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশের জুয়েলারি বাজারে আবারও সোনার দাম কমানো হয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মূল্যবান ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হ্রাস পেয়েছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকায়। ফলে, এখন এই মানের সোনার নতুন মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, শুক্রবার ২ জানুয়ারি থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে। গত ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এ সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ ক্যারেটের ভরি দামে পড়বে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, বিক্রয়মূল্যতে যুক্ত হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা থাকতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাজুস দেশের সোনার দামের সেত nuwe সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য মানের সোনার দামও সংশোধিত হয়েছিল, যার মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    সেই সময় এটি কার্যকর হয়েছিল ১ জানুয়ারি থেকে।

    এছাড়াও, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৬৪ বার, আর কমানো হয়েছে ২৯ বার।

    সোনার দামের সঙ্গে এবার রুপার দামেও পরিবর্তন এসেছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে দেশের বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্য মানের রুপার দাম হলো ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    এটি চলতি বছরে দেশের বাজারে প্রথম রুপার দামের সমন্বয়। উল্লেখ্য, গত বছরে দেশের বাজারে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল ৩ বার।

  • একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় বৃদ্ধির ঘোষণা

    একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় বৃদ্ধির ঘোষণা

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স শিল্পের অন্যতম সংগঠন, বাংলাদেশ গয়না ও জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস), আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে উচ্চ মানের সোনার দাম একদিকে যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্যও এটি নতুন একচেটিয়া বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ভালো মানের সোনার দাম পৌঁছে গেছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকার ওপরে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়, আর নতুন দাম কার্যকর হবে আগামী ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার থেকে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি নামক এক বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৫ ডলার। এই নতুন দাম অনুযায়ী, জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি মূল্য এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত ভরির দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি মূল্য এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। এ ছাড়াও, স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামেও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার মূল্য হলো, ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণের বাজারে নতুন এক বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

    সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা বাতিল করেছে এবং আগের মুনাফার হারই বহাল রেখেছে। রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত মুনাফার হার, যা জানানো হয়েছিল, তা চলতি ছয় মাসেও একই রকম থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা দেয়, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল কারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ হারটির উপর অধিকাংশ আর্থিক ভিত্তি বানিয়ে থাকেন। পরে, রোববার অফিসের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর, প্রধান উপদেষ্টা থেকে সম্মতি নিয়ে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে সরকারি সঞ্চয়পত্রের চার ধরনের স্কিম রয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য আলাদা মুনাফা নির্ধারিত। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কিছুটা কমানো হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। মেয়াদ শেষের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা কমে যায়। মূল টাকা থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ কেটে নেওয়া হয়। পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ, যা আগে কমিয়ে ১০.৪৪ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে নতুন প্রজ্ঞাপন আবার আগের হারই ফিরিয়ে এনেছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে পরিবর্তিত না করে আগের মতোই রাখা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে, ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের হার নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় সরকার গত বৃহস্পতিবার আবারও এই হার কমানোর ঘোষণা দেয়, যা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মূলত, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয়পত্রের প্রধান গ্রাহক। সংগঠিত সময়ের মধ্যে তারা সঞ্চয় ভেঙে অর্থপ্রয়োজন মেটান বা মাসিক খরচ চালানোর জন্য এই উপার্জন উপর নির্ভর করেন। মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যদিও কয়েক মাস ধরেই মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, সেটি এখনও ৮-৯ শতাংশের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা উঠছে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, এই হার কমানো অপ্রয়োজনীয় এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মুনাফার হার যেন অপরিবর্তিত থাকে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বিনিয়োগ করে অর্থ সুরক্ষিত রাখতে পারে।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে এলপিজির দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, কেউ কেউ আশাকরছিলেন এলপিজির দাম আরও বাড়বে, যা বর্তমানে বিইআরসি দ্বারা নির্ধারিত ৫৩ টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু ব্যবসায়ী এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই জন্য আমরা কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছি যেন প্রতিটি জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হয় এবং এ বিষয়টি মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি, গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যের বৃদ্ধি প্রকৃতির নয়, বরং এটি একটি কারসাজির মাধ্যমে করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ-কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত, জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, মূলত খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা মিলেই এ চক্রান্ত করেছেন।

  • পাতানো নির্বাচন হলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহেরের সতর্কতা

    পাতানো নির্বাচন হলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহেরের সতর্কতা

    সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি অতীতে처럼 কোনো পাতানো নির্বাচন হয়, এর ফল খুবই ঘোরrə হবে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আলোচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অংশ নেন। তাঁরা জানান, দেশের আগের সমস্ত রাজনৈতিক সংকটের পেছনে ছিল নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার কারণ। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি চোখে দেখা হয় কোনো পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমেই যদি ক্ষমতা নেওয়া হয়, তাহলে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়ে যাবে। পাশপাশি, তাহের বলেন, কয়েকদিন ধরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিপূর্ণ আচরণের ফল। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। আলোচনা চলাকালীন, জামায়াতের নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সরকারের ও রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেছেন। সার্বিকভাবে, এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে, এমন আভাস দিয়েছেন দলের নেতারা।

  • জামায়াতের অভিযোগ: ডিসি-এসপি পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেন নায়েবে আমির

    জামায়াতের অভিযোগ: ডিসি-এসপি পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেন নায়েবে আমির

    জামায়াতে ইসলামীনের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পক্ষপাতদুষ্টভাবে নির্বাচনকাজে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন এবং এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলায় পার্থক্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এই অফিসাররা দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা বলছেন, এই বিষয়গুলো তারা নীতিগতভাবে দেখবেন।

    তাহের অভিযোগ করেন, একটি দলের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা আচরণবিধির ব্যতিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলীয় ডিসি নিয়োগ দিয়ে এই অংশটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায্যতা নেই বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে মত দিয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে। তবে, যদি নির্বাচন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়, তাহলে দেশের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন, এমন অবস্থায় দেশের স্বার্থে সবাইকে দৃঢ় থাকতে হবে।

    তাহের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মাঠে প্রমাণ করতে হবে তাদের নির্ধারিত অযোগ্যতা বা পক্ষপাতের বিষয়গুলো। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তালিকা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

    দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, আবার কোথাও ভুলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন আমলে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর নিজের দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানান।

    উল্লেখ্য, এই বক্তব্য ও অভিযোগের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা পর্যায়ে পক্ষপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।