Author: bangladiganta

  • আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলছেন। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি। এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে এসব কার্যালয় খোলার অনুমতি নেই। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এটি ছিল মির্জা ফখরুলের প্রথমবারের মতো দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া।

    তিনি দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, এই কার্যালয়ে তিনি অনেক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন এবং তার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

    ফখরুল বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে, আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমতি নেই। যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম বর্তমানে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ, তাই আমরা এটা চাইনি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের আসল চাহিদা, যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বপ্ন দেখছেন, তারা এই স্বপ্নের সঙ্গে অটুট থাকবেন। দেশের মানুষ তার নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করছে। আমি আশাবাদী, আমাদের দল এবং সরকার একসঙ্গে কাজ করে সুসংগঠিত ও সফল হবে।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।

    অপরদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় কিছু প্রথা অনুসরণ করছে, সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, দলের নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অনেকে।

  • সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি

    সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মূল সংগঠক, সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি দ্রুত নীতিনির্ধারিত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এনসিপির দপ্তর সেল থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির গঠন ও দায়িত্বভার গ্রহণের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

    নতুন কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে থাকছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও হিসেবে কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশেষজ্ঞ নেতারা কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ে এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও এ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, “সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে যারা প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আপনারা এখনই প্রস্তুত হন। আমরা আসছি, আপনার খোঁজে।” এই ধরনের উদ্যোগ এবং দ্রুত প্রার্থী সন্ধানের পরিকল্পনা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে জোরদার করবে বলে দলটির সূত্র জানিয়েছে।

  • এনসিপির প্রস্তুতি: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার পরিকল্পনা, জোটের দরজা খোলা থাকবে

    এনসিপির প্রস্তুতি: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার পরিকল্পনা, জোটের দরজা খোলা থাকবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করছে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী ঘোষণা করার জন্য। তবে দলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে এবং দেশের স্বার্থে জোটগতভাবে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন দলের নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা এবং পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী নির্বাচন ও ঘোষণা কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। ঈদের পরপরই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন সাংগঠনিক অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করবে। বর্তমান পরিকল্পনায় দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দেশের বৃহৎ স্বার্থে যদি ১১-দলীয় জোট রূপান্তরিত হয়ে একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নায়, তখন শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্তে আসা হতে পারে।

    সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি যে, আমরা প্রত্যেকটি জায়গায় নির্দিষ্টভাবে প্রার্থী ঘোষণা করব। এখনো পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আমরা এককভাবে নির্বাচনে যাব। তবে শেষ সময়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সকলের সঙ্গে বসে বৃহৎ স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্প্রীতি ও বোঝাপড়ায় কোনো সমস্যা হবে না।’

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন বা মার্কা থাকবে না। এ কারণে সবাই ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয় করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে সহযোগিতা করবে। নির্বাচনের জন্য তালিকা ও মনোনয়ন এই কমিটি নির্ধারণ করবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নানা পেশার আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়।

    সারজিস আলম অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বলেন, ‘গতবারের জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রার্থী বাছাই ও জোটগত সিদ্ধান্তে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এখন আগেভাগে প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’

    এছাড়া, ছয়টি সিটি করপোরশনে প্রশাসক নিয়োগের ওপর সমালোচনাও করে দলের নেতারা। তারা বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তাড়াতাড়ি একটি বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি।

    এনসিপি পুলিশি অভিযান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলে, আন্দোলন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা গেলে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি হবে।

    উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, যেমন- দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সচিব এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে প্রস্তুত শফিকুর রহমান

    ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে প্রস্তুত শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি যুব সমাজ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও, নির্বাচনের ফলাফল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে তিনি প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতায় থাকবেন। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তিনি মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তিনি সংসদে গিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলবেন এবং তাদের অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি আল্লাহর রহমতে ঢাকায় ১৫ নম্বর আসনকে একটি মডেল আসনে রূপান্তর করতে চান। বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, জামায়াতে ইসলামী কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানার উদ্যোগে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশিরা ৫৪ বছর ধরে অনেক আদর্শ দেখেছে, কিন্তু ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারের প্রতি চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এভাবে চাঁদাবাজি চলতে থাকলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ না করে দেশের প্রবাসীদের মরদেহ মর্যাদার সঙ্গে দেশে আনার ব্যাপারে সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এই অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য এক মিলিত অঙ্গীকারের সুন্দর প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য উন্মোচনের দাবি জাতির স্বার্থে: গোলাম পরওয়ার

    পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য উন্মোচনের দাবি জাতির স্বার্থে: গোলাম পরওয়ার

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনাগুলোর প্রকৃতি স্পষ্ট করতে হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা ও সত্য অনুপস্থিত রক্ষার কোন সুযোগ নেই—এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত নৃশংস হামলার পেছনে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের বিষয়টি স্পষ্ট, যা যেন দ্রুত উন্মোচিত হয়। বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এ আলোচনা সভা মূলত সেই দুঃস্মৃতি ঘটনাটির বিচারের জন্য আজও অপেক্ষা করছে—ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে দেশের স্বাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের পেছনে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল। এই ঘটনা যদি আজই প্রকৃতভাবে উন্মোচিত না হয়, তাহলে আবারও কারো কল্পিত শঙ্কা ও ষড়যন্ত্রের পথ খুলে যাবে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আসল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা। তিনি আরও জানান, শহীদদের পরিবারের অশ্রúd ও আহাজারি জাতির জন্য একটি অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে; সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘায়িত হওয়া আর সম্ভব নয়, দ্রুত সময়ে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি, অপ্রামাণিক ও নাটকীয় বিচারের নামে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের দণ্ডিত করে মুক্তি ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, তখনকার সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা এই হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রিয় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনা ও রাষ্ট্রের দুর্বলতা তৈরি করা, যাতে তারা দেশপ্রেমিক সেনাদের নির্মূল করে বাংলাদেশকে তাদের স্বার্থের গরিষ্ঠতা বহনকারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের বেশিরভাগ দিক তারা সফলও হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।

  • দেশে ফের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ালো

    দেশে ফের ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ালো

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবারও অনুভূত হয়েছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ঘটনা ঘটে মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়, এবং এতে কোনও জানা ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।

    ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ঝুঁকি কেন্দ্র (ইএমএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের আঘাত ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৭। এর মূল কেন্দ্র ছিল ভারতের সিকিম অঞ্চল, যেখানে ভূমিকম্পটির পক্ষে অবস্থান ছিল ২৭.২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার, যা সাধারণত কম গভীরতার ভূমিকম্প হিসাবে গণ্য হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে দেশজুড়ে বিভিন্নস্থানে অনুভূত হয় আরও এক ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.১। এর উৎপত্তি ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলে, যেখানে অবস্থান ছিল ২৩.০৪১১ ডিগ্রি উত্তর ও ৯৪.৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার। এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রের অবস্থান ছিল মিয়ানমারের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এই বিভিন্ন ভূমিকম্পের কারণে মানুষ এর বিশাল প্রভাব অনুভব করেছে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

  • টিউলিপ সিদ্দিকের গ্রেপ্তার ও রেড নোটিশের নির্দেশ

    টিউলিপ সিদ্দিকের গ্রেপ্তার ও রেড নোটিশের নির্দেশ

    ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগে শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দেশীয় আদালতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশের সাহায্য চান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন, যেখানে তিনি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকে আরও জোরদার করা হলো।

    আদালত সূত্র জানিয়েছে, গুলশান-২ এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং মামলার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়ে। সেই জন্যই, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয়া হয়।

    ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।

    এর আগে, ১৮ ফেব্রুয়ারি একই ঘটনায় টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সারদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ ওই মুহূর্তে দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আদালত ৮ মার্চ পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

    মামলার নথি অনুসারে, দুর্নীতি দমন কমিশন ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, মোশাররফ হোসেন ও শাহ মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট দখল করেন এবং সেটি তাদের নিজের নামে নিবন্ধন করেন, যেটির জন্য তারা বিলম্বে বা কোনও অর্থ পরিশোধ করেনি।

    দুদকের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় এবং তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই কারণেই, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়।

  • জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক এমপি বদির জামিন অনুমোদন

    জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক এমপি বদির জামিন অনুমোদন

    জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বেঞ্চ তার জন্য জামিনের আদেশ দেন। আদালত শুনানির শেষে নির্দিষ্ট শর্তে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন আবদুর রহমান বদি। তার বিরুদ্ধে জুলাই ও আগস্ট মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের হয়।

    ধর্মপ্রাণজনসহ বিভিন্ন মহলে এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে দেশজুড়ে একাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ অনেককে আসামি করা হয়। বিশেষ করে আবদুর রহমান বদিকে এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

    হাইকোর্টের এই জামিনের আদেশের ফলে বর্তমানে কারাগারে থাকা বদির মুক্তিতে আর কোন বাধা রইল না। তবে, মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, আবদুর রহমান বদি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের শুন্যপ্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে ছিলেন।

  • নির্দোষ মানুষ কখনো হয়রানির শিকার হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

    নির্দোষ মানুষ কখনো হয়রানির শিকার হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আমি কখনো আপস করতে শিখিনি। এজন্য আমি নিশ্চিত যে, আমার মাধ্যমে কোনও নির্দোষ মানুষ বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার হবে না। এটি আমাদের জন্য একেবারেই স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা।

    তিনি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এই আশ্বাস দেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিকিউটর দলের ওপর বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ আসছে, তবে আমি যতদিন এই দায়িত্বে থাকব, এসব অভিযোগের কোনও প্রভাব বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে না। আমি কখনো আপস করিনি, এবং আমার মাধ্যমে কোনও নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হবে না—এটাই আমাদের মূল বার্তা। বিপরীতে, যদি অপরাধী পার পেয়ে যায়, সেটাও আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    আमিনুল ইসলাম আরো বলেন, এখানে বিচারপ্রক্রিয়া থেমে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি আমাদের পারিবারিক পরিবেশের মতো, যেখানে অনেক কিছুই ঘটে। তবে এর মানে এই নয় যে সিদ্ধান্ত বা বিচার বন্ধ থাকবে। আমরা সবাই এখানকার সদস্য, এবং আমরা জানি এই পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের সামনের দিনগুলো নিশ্চয়ই সুস্থ ও স্বাভাবিক হবে।

  • শফিক রেহমানকে লাল গোলাপ উপহার দিলেন তারেক রহমান

    শফিক রেহমানকে লাল গোলাপ উপহার দিলেন তারেক রহমান

    একুশে পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রতি তারেক রহমানের হাতে একটি লাল গোলাপ তুলে দেন বিশেষ অতিথি ও সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান। এ বিশিষ্ট সাংবাদিকটি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, যেখানে তিনি সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য সন্মাননা পদক গ্রহণ করেছিলেন। পকেট থেকে একটি লাল গোলাপ বের করে তিনি তা প্রধানমন্ত্রীর হাতে উপহার দেন। অনুষ্ঠানে হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিকভাবে তা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শফিক রেহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও সমাজের জন্য কাজ করে যেতে উৎসাহ দেন তিনি। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চমৎকার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৯ জন গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেওয়া হয়। এদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন ফরিদা আক্তার ববিতা (চলচ্চিত্র), অধ্যাপক আবদুস সাত্তার (চারুকলা), মেরিনা তাবাশ্যুম (স্থাপত্য), আইয়ুব বাচ্চু (সংগীত, মরনোত্তর), ইসলাম উদ্দিন পালাকার (নাট্যকলায়), শফিক রেহমান (সাংবাদিকতা), অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার (শিক্ষা), তেজস হালদার (ভাস্কর্য), অর্থী আহমেদ (নৃত্য) এবং ব্যান্ড ওয়ারফেজ দল একুশে পদক পেয়েছেন সংগীত ক্ষেত্রে। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শফিক রেহমানের উপস্থাপনায় শুরু হয় জনপ্রিয় ও বিনোদনমূলক ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘লাল গোলাপ’, যা তখন ব্যাপক প্রশংসা ও জনপ্রিয়তা লাভ করে।