Author: bangladiganta

  • সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে: সালাউদ্দিন

    সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে: সালাউদ্দিন

    বিএনপির স্তম্ভিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সংগঠনগতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে দল। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকাল বেলা রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা দেন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, দলের মধ্যে অনেক প্রার্থী এমন পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে তারা মনোনয়নের জন্য প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু হয়তো স্বাভাবিক কারণেই তাদের মনোনয়ন হয়নি। এর ফলে কিছু প্রার্থী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের বোঝানোর জন্য নিয়মিত আলোচনা চলছে। তিনি আশা করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধান শিগগিরই হয়ে যাবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিতর্কের মধ্যেও সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। বৃহত্তর দলের স্বার্থে কিছু যোগ্য প্রার্থী চোখে পড়ে থাকতে পারেন, যা দল স্বাভাবিকভাবেই বিবেচনা করছে।

    তিনি আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরকালে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করার বিষয়টি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মর্যাদা আমরা অক্ষুণ্ণ রাখছি এবং আমাদের এই চেতনাকে আরও জোরদার করতে হবে। তারেক রহমান যদি শহীদদের কবর জিয়ারত করেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত করবে এবং এটি জাতির প্রত্যাশাও।

    সালাউদ্দিন আহমেদ সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান বা শহীদদের ত্যাগের ইতিহাসকে যেন ভুলে না যায়। তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে তুলতে দেশের সর্বস্তরে উৎসাহ ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের এই কার্যক্রম অভ্যুত্থানকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে জাতির আশা-আকাঙ্খা আরও প্রশংসিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

  • চীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত

    চীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত

    বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে আসা একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সোমবার ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা কার্যকর ও ফলপ্রদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, চীন এখনো নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য কীভাবে এগোতে হবে, তা নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটি রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান এ আলোচনাটি ছিল কীভাবে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, এবং অতিরিক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।

  • নেতা মীর আরশাদুল এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিলেন

    নেতা মীর আরশাদুল এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিলেন

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন মীর আরশাদুল হক। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।

    আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন জন্য, মীর আরশাদুল হক চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার আলোচনা চলাকালে, তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।

  • স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বীর হত্যার ঘটনায় মামলা, অজ্ঞাত আসামিরা আসামি

    স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বীর হত্যার ঘটনায় মামলা, অজ্ঞাত আসামিরা আসামি

    রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বীর। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈণ্যু মারমা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন, যেখানে অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিহত মুছাব্বীরের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে। আশা করা যাচ্ছে, আজই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

    এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের গলির মধ্যে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন — তিনি হচ্ছেন কারোয়ান বাজার ভ্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সুফিয়ান মাসুদ। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • সরকারের এলপিজি ভ্যাট কমানোর ঘোষণা

    সরকারের এলপিজি ভ্যাট কমানোর ঘোষণা

    সারাদেশে বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে সরকার ঘোষণা করেছে যে, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, এলপিজি আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে ভ্যাট কমানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আমদানিকৃত এলপিজির উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট হার ৭.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, এলপি গ্যাসের অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB) এর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম কমানো এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক পুনর্বিন্যাস দেশের সাধারণ জনসাধারণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যের চাপ একটু হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাঝে ব্যবসায়ীরা এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সারাদেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যার কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। অনেক খুচরা দোকানে এখন আর সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেলগুলো বিভিন্ন উপায়ে রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছে, তবে সাধারণ বাসাবাড়ির অনেক চুলা এখন চলছে না। ফলে ভোক্তাদের একপ্রকার জিম্মিতে পড়তে হয়েছে, রোজনামচা চালানোর জন্য তারা নানা চেষ্টায় ব্যস্ত।

  • বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি

    বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি

    রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। গত বছরের ২১ জুলাই ওই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। এর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের অঙ্গীকার ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আসছে।

    সেপ্টেম্বর ৮ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবিগুলো জানান। তারা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার জন্য মূলত পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল ভবনের নির্মাণে অনিয়ম দায়ী। তারা উল্লেখ করেন, তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা পাইলটের ওপরে দায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি, অবসরে থাকা বিমানবাহিনী প্রধানের তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: প্রথমত, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, প্রভাবিত পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ; তৃতীয়ত, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান; চতুর্থত, ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ ও শিশুদের কবরের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; পঞ্চমত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।

    সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিমানবাহিনীর বাজেটে দুর্নীতি না থাকলে অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সম্ভব হতো। তাদের দাবির পক্ষে, দুর্নীতির কারণেই ৩৬ জন জীবন হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছে। তারা বিমান নির্মাণের অনিয়মের কারণেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার জন্য দায়ী করেন। উপস্থিত পরিবারগুলো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান, দুর্ঘটনার দিন দুপুর ১:১২ মিনিটে বিমানটি‌ বাতাসে আছড়ে পড়লে শিশুরা, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দগ্ধ ও বিভক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ধরনের ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

    অভিযোগ করা হয় যে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসে ঘোষণা দিয়েও তাদের ক্ষতিপূরণ ছাড়া ন্যায্য বিচার পাননি পরিবারের সদস্যরা। তারা আরও জানান, বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনও ন্যায্য দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তারা দাবি করেন, সরকারের দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা যেন দ্রুত গ্রহণ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্যতা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ চাওয়া। তাদের এই দাবিগুলো মান্যতা পেলে অন্তত কিছু শান্তি ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • জিয়াউল আহসান হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারিত ১৪ জানুয়ারি

    জিয়াউল আহসান হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারিত ১৪ জানুয়ারি

    শতাধিক গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত নেন।

    আদালত কক্ষে জিয়াউলের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রসিকিউশন দপ্তর উপস্থাপিত তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে অব্যাহতির আবেদন করেন। পাশাপাশি তারা দাবি করেন যে, তদন্ত কর্মকর্তা কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ সময় জবানবন্দি দেওয়া দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন এবং অভিযোগ গঠন করার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা চালিয়ে যেতে চান। এরপরই বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা ১৪ জানুয়ারির দিন নির্ধারণ করেন।

    ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে তৎকালীন সময়ে নানা অপরাধের জন্য তিনজনকে হত্যা করা হয়।

    আরেকটি অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খাল ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ঘেঁষা এলাকায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া একই সময়ে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে বনদস্যু দমন নামে আরও ৫০ জনের প্রাণ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ মঞ্জুর করে, একইসঙ্গে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

  • দিপু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ইয়াছিন ঢাকায় গ্রেফতার

    দিপু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ইয়াছিন ঢাকায় গ্রেফতার

    ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানা শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে এবং আগুন দিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে থাকতেন ইয়াছিন আরাফাত। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল, এবং অবশেষে পুলিশ তাকে রাজধানীর ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।

    গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলা পুলিশ একটি প্রেস বিবৃতিতে এর সত্যতা নিশ্চিত করে।

    ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় আত্মগোপন করেন। তদন্তে জানা গেছে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    ১৮ ডিসেম্বর তিনি পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির গেটের সামনে স্লোগান দিয়ে জনসমাগমের আয়োজন করেছিলেন। এই উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপুকে নির্মমভাবে মারধর ও তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। হত্যার পর, তার দেহটি রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে মরদেহ পোড়ানোর জন্য নেতৃত্ব দেন ইয়াছিন।

    পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, ইয়াছিন আরাফাত এখনও ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে,গত ১৮ মাস থেকে তিনি উপজেলার কাশর এলাকার শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পলাতক থাকা এই সময়ের মধ্যে ঢাকার ডেমরা অঞ্চলের বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান নেন এবং নিজেকে পরিচয় গোপন করতে ‘সুফফা মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে শিক্ষকতা শুরু করেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    অন্তর্জাতিক ওমরাহ হজ পালন করার জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জনপ্রিয় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি পরিচিত প্রিন্স মামুন নামে। তবে দেশের মাটিতে ফেরার অপেক্ষায় থাকা তার জন্য দুঃসংবাদ থাকলেন। লায়লা আখতার ফরহাদ নামে এক নারীর উপর বাসায় হামলা ও মারধরের অভিযোগে মামুনের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এই আদেশ দেন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত চিফ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সেফাতুল্লাহ, বৃহস্পতিবার।

    শুনানির দিন ছিল বৃহস্পতিবার যেখানে মামলা শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে, ওমরাহ পালনের কারণে মামুন আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পক্ষে আইনজীবী আশিকুল ইসলাম সময়ের আবেদন করলেও বাদী লায়লা আখতার ফরহাদ আদালতে হাজির হয়ে মামুনের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করেন। বাদীর আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল) জানান, প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে অন্য একটি আদালতে ধর্ষণ মামলাও বিচারাধীন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি প্রকাশ করেন, মামুনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—তাকে একটি মামলার জন্য প্রত্যাখ্যাত করে বাসায় গিয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করার, যা তদন্তে প্রমাণিত।

    অ্যাডালত সিদ্ধান্তে, মামুনের জামিন বাতিল করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এছাড়া, মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ মার্চ।

    প্রিন্স মামুনের সঙ্গে লায়লার পরিচয় মনোযোগ আকর্ষণ করে। পূর্বের ঝগড়া ও অভিযোগের সূত্রে, গত ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার সময় লায়লার ক্যান্টনমেন্ট ডিওএইচএস-এর বাসায় গেলে মামুন তাকে মারধর ও হুমকি দেয়। লায়লার অস্বীকৃতি জানানোয়ার পর, মামুন লাইভে এসে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এরপরই মারধর করেন, এমনকি ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে, লায়লা হাত দিয়ে রক্ষা করতে গেলে তিনি আহত হন। এ ঘটনায় ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন লায়লা। পুলিশের তদন্ত শেষে, ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান সৈকত মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

  • প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

    প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

    প্রখ্যাত নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু (৮৪) বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তিনি ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চলচ্চিত্র পরিচালক ও আশেপাশের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে তার সঙ্গে এক ফোন আলাপে কথা হয়েছিল। আজ দুপুরে খবর আসে, তিনি আর জীবিত নেই।

    কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু মাস আগে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াজনিত সমস্যায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন।

    আবদুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ক্যারিয়ারে তিনি মহান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে একজন; সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন ছেলের জনক, যাদের সবাই প্রবাসে থাকেন। তার অকাল মৃত্যুতে চলচ্চিত্র সংসার গভীর শোকাহত।