Author: bangladiganta

  • কানাডার নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

    কানাডার নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

    কানাডার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় লিপিবদ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা ডলি বেগম। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি একপ্রকার বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন, যা দেশটির বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই উপনির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই ফলাফল লিবারেল পার্টির পার্লামেন্টে আসন সংখ্যা বাড়াতে এবং দলকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়ক বলে বলা হচ্ছে।

    ডলি বেগম ফেডারেল পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে তিনি অন্টারিও প্রদেশীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বারবার সরব কণ্ঠ হয়ে তিনি পরিচিত।

    বিজয় ভাষণে ডলি বেগম বলেন, ‘‘এই জয় শুধু আমার নয়—এটি বহুসাংস্কৃতিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কানাডার মূল্যবোধের জয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন যে, পার্লামেন্টে তিনি স্থানীয় মানুষের জীবনমান, অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা ও সমঅধিকারের জন্য তীব্রভাবে কাজ করবেন।

    বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলো তাঁর এই ফলাফলকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে গ্রহণ করেছে। অনেকে বলছেন, ডলি বেগমের সফলতা নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি ও নেতৃত্বে আগানোর জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, উপনির্বাচনে এমন প্রভাবশালী জয় লিবারেলদের জন্য মানসিক ও সাংগঠনিক উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ডলি বেগমের নেতৃত্বে আগামিকালে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কোন ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেটাই এখন নজর কাড়ছে।

  • একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) ‘‘পরিবর্তনে অঙ্গিকারবদ্ধ’’ স্লোগানকে সামনে রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্য দিয়ে ২৭ বছরে পদার্পণ করেছে। চ্যানেলটির জন্মদিনটি পহেলা বৈশাখে খুলনায় বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হয়।

    পহেলা বৈশাখের সকালে আট ঘণ্টার পরিবর্তে সকাল ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা, কেক কাটা, র‌্যালি এবং বৈশাখী আপ্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল।

    একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা খুলনা প্রতিনিধিসহ আশরাফুল ইসলাম নূর পাঠ করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এবং খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস.এম. মনিরুল হাসান বাপ্পী।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাব সদস্য-সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল এবং প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্যরা। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা ও কোষাধ্যক্ষসহ খুলনা টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম মতি ও অন্যান্যেরাও বিচার্য উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জন্মভূমি’র যুগ্ম-সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, সিপিবি নেতা কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, জনতা ব্যাংক অফিসার এসোসিয়েশনের মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া খুলনা মহানগর ও বিভিন্ন থানা বিএনপির পদাধিকারিরা—যেমন শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, কেএম হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, মো. নাসির উদ্দিন, জাকির ইকবাল বাপ্পি প্রমুখ—ও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা জাফরী নেওয়াজ চন্দন, ইকরামুল কবীর মিল্টন, জিএম হারুন অর রশীদ, মো. আমিন আহমেদ, মেশকাত আলী, নারীনেত্রী হোসনেয়ারা চাঁদনী ও সুজানা জলি, উন্নয়ন কর্মী মো. আব্দুল হালিমসহ অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল জন্মদিন উদযাপনই নয়—বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীলতা নিয়ে একুশে টিভির গতানুগতিক অবস্থান ও ভবিষ্যত অঙ্গীকারকে সামনে এনে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে খোলামেলা আলোচনা ও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আমেজের মিলন ঘটল।

  • চিতলমারীতে উৎসবমুখরভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    চিতলমারীতে উৎসবমুখরভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে। সকাল ৯টায় বকুলতলা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার ও সরকারি মহিলা কলেজ রোড অতিক্রম করে পুনরায় বকুলতলায় এসে সমাপ্তি ঘটে। রঙিন সাজ, দলবাঁধা পদযাত্রা এবং উৎসবমুখর ওয়াসুদার মধ্যে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় ও উচ্ছ্বাস।

    র‍্যালী শেষে অফিসার্স ক্লাবের সামনে দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল ১০টায় বকুলতলায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে লোকজ সাংস্কৃতিক কণ্ঠ ও নাচ-গান পরিবেশনার মাধ্যমে গ্রামের ঐতিহ্য আর বাংলার সরেজমিনের রূপ ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত আল মারুফ, চিকিৎসক এম আর ফরাজী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল অদুদ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঠান্ডু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. ফজলুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ এবং উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

    বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজন করা অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্থানীয় হাসপাতাল ও এতিমখানায় ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন এবং গ্রাম বাংলার লাঠি খেলার প্রদর্শনী। এসব আয়োজনে লোকজনের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বড় করে তুলেছে অনুষ্ঠানের উৎসবমুখর পরিবেশ।

  • পিএসএল ছাড়ায় ব্লেইজ মুজারাবানিকে দুই বছর নিষিদ্ধ

    পিএসএল ছাড়ায় ব্লেইজ মুজারাবানিকে দুই বছর নিষিদ্ধ

    পাকিস্তান সুপার লিগ(পিএসএল) ছেড়ে আইপিএলে খেলতে যাওয়ার কারণে জিম্বাবুয়ের ফাস্ট বোলার ব্লেইজ মুজারাবানিকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পিএসএল কর্তৃপক্ষ। লিগের প্রসঙ্গে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার কঠোর ভঙ্গ হিসেবে পিএসএল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    পিএসএল এক বিবৃতিতে বলেছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোতে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় যদি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকতে অবস্থায় মাঝপথে অন্য লিগে চলে যান, তাহলে তা পেশাদারি আচরণের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে। পিএসএল দাবি করেছে, মুজারাবানির এই সিদ্ধান্ত ও আচরণবিধি ভাঙা ছিল, তাই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    ২০২৬ সালের নিলাম পর্বে মুজারাবানি শুরুতে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন না। পরে তিনি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে শামার জোসেফের পরিবর্তে দলে সুযোগ পান। তবে এরপরই আইপিএলে সুযোগ পেয়ে পিএসএল ছেড়ে চলে যান। সূত্র বলছে, কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকে আর) তাকে নিয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের বিকল্প হিসেবে; জানুয়ারিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং মুজারাবানিকে কেকেআর নেয়।

    আইপিএলে মুজারাবানি এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচ খেলেছেন। তার ইকোনমি ১০.৭১ এবং মোট চার উইকেট আছে—যা সবই এক ম্যাচে এসেছে। ২ এপ্রিল ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তিনি ৪ ওভারে ৪১ রান খেয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। তবু দল হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্স টুর্নামেন্টে নীচে রয়েছে; চার ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মুকাবেলায় তারা চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে জয়ের খোঁজে নামবে; ম্যাচটি চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

    এই ঘটনায় পিএসএল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নতুন নয়। এর আগেও দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশকে এক বছর দেওয়া হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। গত বছর পেশোয়ার জালমি তাকে নিয়েছিল, কিন্তু পরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস লিজাড উইলিয়ামসের বিকল্প হিসেবে বশকে নেওয়ায় তাকে পিএসএল থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

    মুজারাবানির পাশাপাশি এবারে স্পেনসার জনসন ও দাসুন শানাকাও পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে যোগ দিয়েছেন। তবে শানাকা ও জনসনের বিরুদ্ধে পিএসএলের সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    পিএসএল কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোর সম্মান বজায় রাখতে এ ধরনের আচরণ প্রতিরোধে তারা কঠোর রূপরেখা অনুসরণ করবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্র সংক্রান্তিতে বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৈত্র সংক্রান্তিতে বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব

    বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, চৈত্র সংক্রান্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুড়ি উৎসব একটি বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ এ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসব শুধুমাত্র বিনোদন নয়; এগুলো আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন মজবুত করে। শিক্ষা ও গবেষণার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজন জ্ঞানচর্চার পরিবেশকেও সমৃদ্ধ করে।

    উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডীন প্রফেসর ড. রুমানা হক, কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালকরা এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।

    ঘুড়ি ওড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আকাশজুড়ে নানা রঙ ও আকৃতির ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়—প্রজাপতি, সাপ, চিল, ঈগল ও মাছ আকৃতির ঘুড়িগুলো বিশেষভাবে মনোযোগ কাড়ে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মিলিত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটি চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাংলা বছরের আগমনও উৎসবমুখরভাবে ঘোষণা করে।

    এই বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব উৎসবমুখর আনন্দে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে ছেয়ে দেয় এবং চৈত্র সংক্রান্তির প্রাণবন্ত রূপ সবাইকে উপলব্ধি করিয়ে দেয়।

  • রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’ — আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোক

    রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’ — আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোক

    ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    উপমহাদেশের আরেক কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মুঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”

    নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্মরণ করে রুনা লায়লা আরও বলেন, “তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব—আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।”

    রুনা লায়লা শেষ মর্মে বলেন, “যদি তখনই দিদিকে ফোন করে আলাপ করতাম, হয়তো এই আফসোসটা এত গভীর হত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।”

    আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান ছিল। হাজার হাজার গান ও অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার প্রয়াণের সঙ্গে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

    আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা অনুভব করেছিলেন। তখনই তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসতে পারেননি।

  • চোখের জলেই চিরবিদায়: পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোঁসলে

    চোখের জলেই চিরবিদায়: পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোঁসলে

    ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে তার দাহকার্য সম্পন্ন হয়; শেষকৃত্যে মুখাগ্নি দেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। এক যুগান্তকারী কণ্ঠের আলোকরশ্মি এইভাবে নিভে গেল—ভক্তদের চোখের জলে, শ্রদ্ধা আর অভিভূতদের শ্রবণশক্তির হারানি নিয়ে। (খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)

    গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলেতে আশা ভোঁসলের বাসভবনটি শোকগ্রস্ত ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাড়ির সামনে সমবেত মানুষ, ফুল আর স্মরণীয় নীরবতা—কেউ গান গাইছেন, কেউ কেবল নিঃশব্দে সম্মান জানাচ্ছিলেন। তবে সেখানে উৎসবের কোন ছাপ ছিল না; সর্বত্র বিরূপ শোকার ছায়া ছিল।

    শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ও বলিউডের বহু নামী-দামী মুখ। লতা মঙ্গেশকরের মেয়ে মীনা খাড়িকরসহ উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেট আইকন শচীন টেন্ডুলকার, সংগীতজ্ঞ এ. আর. রহমান, শিল্পী জাভেদ আলী, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফ প্রমুখ। রাজনীতিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

    বাসভবন থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শিবাজি পার্ক শ্মশানে; শববাহী গাড়িটি সাজানো ছিল আশা ভোঁসলের প্রিয় সাদা-হলুদ রঙের ফুলে। রাস্তার দু’পাশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী তাদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার চোখের জলে চিরবিদায় জানায়। শ্মশানে ছিলেন বিনোদন, রাজনীতি ও ক্রীড়া অঙ্গনের সসংখ্য দর্শনীয় চরিত্ররা।

    আশা ভোঁসলকে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন; বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    ঐতিহ্যবাহী সুরের এক অমল ধারা ছিল আশা ভোঁসলের কণ্ঠজগত। ১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। শুধু হিন্দিতে নয়, তিনি অন্যান্য ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষা এবং কিছু বিদেশি ভাষায় গান রেকর্ড করেছেন। চলচ্চিত্রে মোট ৯২৫টিরও বেশি সিনেমার গান গেয়েছেন বলে ধারণা করা হয়; মোট রেকর্ডকৃত গানের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারেরও ওপরে। তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাকে পদ্মভূষণ উপাধিতে সম্মানিত করে এবং ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করে।

    ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোঁসলের প্রথম স্বামী ছিলেন গণপতরাও ভোঁসলে, যিনি তখন লতা মঙ্গেশকর পরিবারের সেক্রেটারি ছিলেন। সেই সময় আশার বয়স ছিল ১৬, আর গণপতরাওয়ের বয়স ছিল ৩১; দাম্পত্য জীবন ১৯৬০ সালে স্রোতছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে তিনি গায়ক ও সুরকার আর. ডি. বর্মনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; ১৯৯৪ সালে আর. ডি. বর্মনের মৃত্যু হয়।

    একুশ শতকের সংগীতপ্রেমীরা আশা ভোঁসলে-কে মনে রাখবেন অসামান্য গীতিময়তা, বহুভাষিক পারদর্শিতা এবং অনবদ্য আত্মত্যাগের ভূমিকায়। আজ সেই কণ্ঠ নীরব, কিন্তু তার গাওয়া সুর আজীবন বয়ে যাবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।

  • ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে নিবন্ধন করবেন

    ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে নিবন্ধন করবেন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (মঙ্গলবার, পহেলা বৈশাখ) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ল্যাপটপের সুইচ চাপা দিয়ে দেশের বিস্তীর্ণ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ বলেই ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হন এবং একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগে আরও ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে।

    কার্ডটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

    সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই ‘কৃষক কার্ড’ শুধু পরিচয়পত্র নয় — এটি কৃষকদের জন্য একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক সেবা ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষির অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে সরাসরি সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কার্ডটির আওতায় শুধু শস্যচাষী নয়, মৎস্যজীবী, গবাদিপশু ও দুগ্ধখামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

    বাস্তবায়নের ধাপ ও বাজেট

    কর্মসূচিটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

    ১) প্রাক-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) — আজ থেকে শুরু, প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ।

    ২) পাইলটিং — আগস্টের মধ্যে দেশের ১৫টি উপজেলার মধ্যে কার্যক্রম চালানো হবে।

    ৩) দেশব্যাপী কার্যক্রম — পাইলটিংয়ের ফলাফল অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে সমগ্র দেশে কার্ড বিতরণ ও তথ্যভান্ডার তৈরি সম্পন্ন করার লক্ষ্য।

    প্রাক-পাইলটিংয়ের বিস্তার ও পরিসংখ্যান

    প্রাক-পাইলটিংয়ে ১০টি জেলা, ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ছাড়াও মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুধখামারি ও লবণচাষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট 22,065 জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; এর মধ্যে ভূমিহীন 2,246 জন, প্রান্তিক 9,458 জন, ক্ষুদ্র 8,967 জন, মাঝারি 1,303 জন এবং বড় 91 জন। মোট নিবন্ধিত 20,671 জন কৃষক বার্ষিকভাবে সরাসরি 2,500 টাকা নগদ বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন।

    কেন্দ্রীভূত ব্যাংকিং ব্যবস্থা

    এই কার্ডটি একটি ব্যাংক-ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ড সেই হিসাবের সাথে যুক্ত থাকবে। কার্ডধারীরা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারি টাকা পেতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট ডিলারের কাছে POS ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার-ভর্তুকিকৃত সার, বীজ ও প্রাণিক খাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

    কার্ডধারীদের প্রধান সুবিধা

    এই স্মার্ট কার্ডধারীরা নিম্নোক্ত প্রধান সুবিধাগুলো পাবেন:

    ১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ এবং সরঞ্জাম।

    ২. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা।

    ৩. সহজ শর্তে কৃষি ঋণ ও অগ্রাধিকারাধীন সেবা।

    ৪. স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি।

    ৫. সরকারি ভর্তুকি ও অনুদান সরাসরি প্রাপ্তি।

    ৬. মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য।

    ৭. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা।

    ৮. ফসলের রোগ-বালাই শনাক্তকরণ ও প্রতিকার পরামর্শ।

    ৯. কৃষি বিমা সুবিধা — প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্থিক সুরক্ষা।

    ১০. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা।

    নিবন্ধন ও কার্ড গ্রহণের প্রক্রিয়া

    সরকার জানিয়েছে, স্মার্ট কৃষক কার্ড পেতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র দরকার হবে: ১) এনআইডির কপি, ২) এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ৩) নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, ৪) জমির দলিল বা ভাগে চাষিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রমাণপত্র, এবং ৫) ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

    কর্মপ্রবাহটি হলো:

    ১) স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (SAAO) সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক তালিকায় নাম যুক্ত করা।

    ২) সরকার যখন আপনার এলাকায় পাইলট বা মূল প্রকল্প চালু করবে, তখন একটি রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হবে; অনেক ক্ষেত্রেই এটি অনলাইনেও করা যাবে।

    ৩) জমা দেওয়া তথ্যগুলি উপজেলা কৃষি অফিস দ্বারা সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

    ৪) যাচাই-প্রক্রিয়ার পরে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর ভিত্তিক একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে।

    ৫) উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে উপজেলা পর্যায়ে কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

    সতর্কবার্তা

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষককে তার ঘামের ন্যায্যমূল্য দেওয়া।’ সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে এবং কার্ড পানোর জন্য কোনো অর্থ লেনদেনে জড়াবেন না—কোনো ধরণের কমিশন বা ফি দাবি করা হলে সেটি প্রতিহত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    শেষ কথা

    এই কার্ড বাস্তবায়নে সরকারি লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকের আয় ও নিরাপত্তা বাড়ানো, বাজার-প্রবেশে স্বচ্ছতা আনা এবং সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। আগামি কয়েক মাসে পাইলট পর্যায়ে সংগ্রহকৃত অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের বাকি এলাকায় দ্রুত এর বিস্তার করা হবে।

  • মাদক নির্মূলের জন্য শিগগিরই বিশেষ অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মাদক নির্মূলের জন্য শিগগিরই বিশেষ অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং খুব শিগগিরই এ উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফে এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সবস্তরে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তারকে এখনকার একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই সমস্যা ঠিকভাবে চিহ্নিত করে গবেষণার ওপর ভিত্তি করে কার্যকর অফলাইন-অনলাইন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যেই সমস্যার বিস্তৃতি ও প্রতিকার নিয়ে গবেষণা করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

    মানবপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কিছু এলাকায়—বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার এলাকায়—মানবপাচার একটি উদ্বেগজনক সমস্যা রূপ নিচ্ছে। এই অপরাধ রোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পয়েন্টে কঠোর নজরদারি ও সুসংগঠিত অভিযানের মাধ্যমে মানবপাচার দমন করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে এই কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে। কোথায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে—এমন তথ্য ভাগ করে নিলে অভিযান বেশি ফলপ্রসূ হবে।

    এর আগে, ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের পর টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠে ১,৬৯৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিলো তাৎপর্যপূর্ণ—অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান সহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা, সমন্বিত প্রচেষ্টা, জনসচেতনতা ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ মিলে দ্রুত সমস্যাগুলো দমন করা সম্ভব হবে এবং এলাকার মানুষ সুরক্ষিত ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

  • সংস্কার পরিষদ নিলে সংকট এড়ানো যেত, না করলে বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে: নাহিদ

    সংস্কার পরিষদ নিলে সংকট এড়ানো যেত, না করলে বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে: নাহিদ

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঠিক সমাধান না করলে তার পরিণতি বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশে দুইটি বড় প্রশ্ন উঠে—একদিকে ছাত্র আন্দোলন বলেছিল ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাতে হবে, অন্যদিকে বিএনপি চেয়েছিল দ্রুত নির্বাচন। আমরা তখন গণপরিষদের দাবি তুলেছিলাম সংস্কারের জন্য। পরবর্তীতে বিএনপি সংস্কারআলোচনায় অংশ নেয়; আমরা গণপরিষদের বদলে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব মেনে নিই।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন কৃত্রিমভাবে বিরোধ সৃষ্টি করছে। তারা ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই আদেশ’কে আলাদা করার চেষ্টা করছে কারণ জুলাই সনদকে তারা নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছেন। এর ফলে গণভোটের প্রশ্ন উঠে এসেছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের দায়রা-ভিত্তিতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বদলানো যায় না, তাই গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদের কথা উঠেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা কথাবাগল দিয়েছে এবং গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে।

    গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করলে তার প্রতিদান করতে সরকারকে বাধ্য হতে হবে—এমন সতর্কবাণীও দেন তিনি। তিনি বলেন, এখন আমাদের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো ভাবনা-চিন্তা করতে হবে: জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা যাবে, প্রবল দুর্যোগ মোকাবেলা করা যাবে কীভাবে। জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ সমস্যা নিয়ে সেমিনার করা উচিত ছিল।

    নাহিদ আরও বলেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা উঠেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে সংস্কার আলোচনা ছিল, সে সব এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এ অবস্থা জাতিকে দুর্যোগে টেনে এনেছে এবং এর দায়ভার সহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বিএনপিকেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, তার পরিণতি সহজ হবে না।

    সংকট সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকার দ্রুত সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার পরিষদ গঠন করে এই সংকটহার সুরাহা করুন এবং জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখুন, না হলে পরিণতি আপনাদেরই ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।