Author: bangladiganta

  • ইরান প্রস্তুত স্থায়ী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার জন্য

    ইরান একপেশে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, তারা দেশের বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের পর সীমাহীন ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করবে না। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই চলমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ব্যবহারে করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করতে পারে, যা দেশের নাগরিকদের জন্য এক প্রকার প্রযুক্তিগত একান্ততা সৃষ্টি করবে।

    ইন্টারনেট স্বাধীনতা সংস্থা ফিল্টারওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাধারণ সেন্সরশিপ ব্যবস্থা ছাড়াও একটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতীয় সিল করা ইনট্রানেট চালু করতে চাইছে। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদন বা সুরক্ষা যাচাই প্রাপ্ত ব্যক্তিরাই এই স্বল্প পর্যায়ের নেটওয়ার্কে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বসাধারণের জন্য থাকবে শুধুমাত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, বাইরের দুনীর সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এক ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক, যেখানে নাগরিকরা সীমিত কার্যকলাপ করতে পারবেন।

    সম্প্রতি মাসব্যাপী দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন করতে ইরান দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন, ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন, যারা তিনি বলছেন সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবাদকারীদের সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রতিবাদকদের সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

    মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা মূলত বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমের আড়ালে প্রকৃত সত্যটিকে গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকাধীচ্ছে। মার্কিন ভিত্তিক সংস্থা এইচআরএনএর তথ্যে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন, মূলত প্রতিবাদকারীরাই। তবে দেশ ত্যাগ করা ইরানিরা বলছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

  • ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা প্রত্যাহার সম্পন্ন

    ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সম্পূর্ণভাবে সরে গেছে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনার পাশাপাশি অন্য বেশ কয়েকটি দেশের সেনাও ছিল। তবে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পরে এই ঘাঁটির পুরো নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে ইরাকের সেনাবাহিনীর কাছে।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রায় তিন বছর আগে, ২০২০ সালে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের চৌকস ইউনিট কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর প্রতিশোধে ইরান এই ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে ঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

    অবশেষে ২০২৪ সালের মধ্যে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর অংশ হিসেবে, তারা ধীরে ধীরে সরে যায়। ইরাকি সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি জানিয়েছেন যে এখানকার পরিস্থিতি অনুসারে কিছু অল্প সংখ্যক সেনা এখনো অবস্থান করছে। তারা মূলত লজিস্টিক কাজের জন্য রয়েছেন এবং কাজ শেষ হলে তাঁরা भी চলে যাবেন। তিনি নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    প্রত্যাহারের 정확 সময় নিশ্চিত না হলেও শোনা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সেনারা পুরোপুরি ফিরে যাবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ঘাঁটি খালি করে দেওয়া হবে।

    এই ঘটনার মাধ্যমে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে দেশের হাতে আসে।

  • সাতক্ষীরা-৩ আসনে মনোনীত প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণ ও নির্বাচনী পরিস্থিতি

    সাতক্ষীরা-৩ আসনে মনোনীত প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণ ও নির্বাচনী পরিস্থিতি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামনের দিকে এগিয়ে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার এবং বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ মো. শহিদুল আলম। নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তারা নিজেদের হলফনামা জমা দেন, যেখানে তাদের অর্থ-সম্পদ ও আয়ের বিশদ বর্ণনা রয়েছে।

    বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ মাত্র ৩ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা জমা রয়েছে। তিনি ১০ তোলা স্বর্ণের মালিক হলেও কোনও স্থাবর সম্পদ নেই। তার মাসিক আয় ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী মিসেস ফাতিমা বেগমের নামে ব্যাংকে ২ লাখ টাকা, ১০ তোলা ওজনের স্বর্ণালংকার ও এক লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান তার তিন ছেলের নামেও রয়েছে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ, যার মধ্যে রয়েছে চারটি ফ্ল্যাট, দুইটি কৃষি জমি ও বিভিন্ন অপ্রতিভ ভূখণ্ডের মালিক।

    অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশারের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১ হাজার ৫১২ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৮৬ হাজার ৪শ’, ব্যাংকের লভ্যাংশ ৫১ হাজার ৬২৬ টাকা এবং মাদ্রাসায় চাকরির বেতনের মাধ্যমে তিনি মোট আয় করেন ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৬ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদি অর্থ আছে ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৩০ টাকা, ব্যাংক জমা ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৩ টাকা এবং একটিমাত্র গড়ি রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার কাছে রয়েছে ৩ একর কৃষি জমি ও ২০ বিঘার অংশে যৌথ মালিকানাধীন জমি। বিগত সরকারের সময় তার নামে বেশ কিছু মামলা দায়ের হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি মামলা বর্তমানে চলমান আছে।

    বিপরীতে, বিএনপি থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের মোট সম্পদ রয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৫০ লাখ, এবং স্থাবর সম্পদ প্রস্তুত প্রায় এক কোটি টাকা। তার নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৫ হাজার ১১৮ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৭ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪ টাকার, এবং একটি ২৬ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি। স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১৩৪.৫২ শতক কৃষি জমি, বসত বাড়িসহ আরও কিছু অপ্রতিবর্তনীয় সম্পদ রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩১ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খামার থেকে আয় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার কেনা-বেচা থেকে ৪ লাখ ৪ হাজার quadrিশ ষসে, চিকিৎসা পেশা থেকে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৭ টাকা, জমি ক্রয় বিক্রয় থেকে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩ টাকা এবং ব্যাংকের সুদ থেকে ২০ হাজার ৭৫ টাকা আয় করেন। তাঁর স্ত্রীর নামে আছে আরও বিশাল সম্পদের হিসাব—১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ টাকার আয়ের পাশাপাশি তার পৈত্রিক সূত্র, দানপত্র, নানা অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে totaling প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা-৩ আসনে বর্তমানে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা চারজনের মনোনয়ন বাতিল করেন এবং কিছু প্রার্থী আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফেরত পান। এই আসনে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি থেকে কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াত থেকে হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার, জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ আলিফ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রুবেল হোসেন, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোঃ শহিদুল আলম।

  • বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন রোল মডেল

    বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন রোল মডেল

    সাহসী নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের জন্য বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘ কারাবাস এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কখনো তিনি প্রতিহিংসামূলক মনোভাব প্রকাশ করেননি। বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, নীতিনিষ্ঠা, রুচিশীল নেতৃত্ব ও উদারদৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি দেশের রাজনীতিতে অনুকরণীয় নেত্রী। তাঁর অসামান্য অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
    গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ভুক্তভোগী ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ‘খুলনাবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর দুপুর ১২টায় বড় বাজারে কাঁচা ও পাকা মাল আড়ৎ সমিতির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন হয়, যেখানে প্রধান অতিথির ভাষণে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালেদা জিয়া একজন সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দারুণ অবদান রেখেছেন। এই অবদানগুলো দেশের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
    উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা নার্গিস আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, কাজী মোঃ রাশেদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, শেখ আব্দুর রশিদ, মহিবুজ্জামান কচি, আনোয়ার হোসেন, শের আলম সান্তু, ইউসুফ হারুন মজনু, একরামুল হক হেলাল, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মজিবর রহমান ফয়েজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলামের জামিল, শমসের আলী মিন্টু, ইশহাক তালুকদার, আব্দুল মতিন, মেশকাত আলী, মহিউদ্দিন টারজান, জি এম রফিকুল হাসান, এডভোকেট হালিমা খাতুন, আফসার উদ্দিন মাস্টার, মাজেদা খাতুন, আমিন উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, শহীদ খান, শামীম খান ও অন্যান্য স্বনামধন্য নেতৃবৃন্দ।
    নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আদর্শ নেতা, যিনি মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, দৃঢ় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা-প্রেমের জন্য তিনি দেশের মানুষের কাছে গভীর শ্রদ্ধা এবং ভক্তি পেয়েছেন। মানুষ তাঁর জানাজায় স্বাভাবিকভাবে চোখের জল ঝরিয়েছেন, কারণ তিনি ছিলেন দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের নেত্রী।
    প্রয়াত এই নেত্রীর স্মরণে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন হয়, যেখানে বিভিন্ন অতিথি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই একমত প্রকাশ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ আমাদের জন্য বিশাল উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।

  • খুলনায় আধুনিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা: ইপিজেডের আদলে উন্নয়ন

    খুলনায় আধুনিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা: ইপিজেডের আদলে উন্নয়ন

    খুলনার শিল্প অঞ্চল খ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার প্রাচীন গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধান শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এক ব্যাপক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করতে, বেকারত্ব কমাতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে তিনি একটি আধুনিক শিল্প নগরী গড়ার পরিকল্পনা করছেন, যা মূলত ইপিজেডের মতোই হবে। এটি খুলনার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

    শনিবার বিকেলে দৌলতপুরের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যডাঙ্গাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপারসন, প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, খুলনার মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই অঞ্চলের বিশাল ব্যবসায়িক ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই শিল্পকলকারখানাগুলো।

    রকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, এই অচলাবস্থা পরির্বতনের জন্য বন্ধ কলকারখানাগুলো—বিশেষ করে জুট মিলসহ অন্যান্য কারখানা—পুনরায় চালু করতে হবে। প্রযুক্তির আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে এগুলোর লাভজনক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব। তিনি বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনায় আগ্রহী হয়ে উঠবেন, যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে।

    বকুলের উদ্দেশ্য হলো, ছোট-বড় সব শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং স্থানীয় যুব সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে খুলনার সম্পদসমৃদ্ধ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন আলো ও আশার সঞ্চার এই পরিকল্পনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

    দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ শেখ আকরাম হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, দৌলতপুর থানা ও ওয়ার্ড বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এছাড়াও শনিবার দুপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দৌলতপুরের ১ ও ৩নং ওয়ার্ডের মাঝখানে গোলকধামের মোড়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। শেষমেষ এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে খুলনার সাকিবের শান্তি আলোচনা

    জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে খুলনার সাকিবের শান্তি আলোচনা

    নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপ, যার শিরোনাম ছিল “The UN Charter at 80: Reimagining Conflict Prevention and Resolution”। এই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ সংগঠক ও আপস যুব সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেন সাকিব। বিশ্বব্যাপী কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও শান্তি বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে এই সভায় সংঘাত প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের তরুণ সমাজের হয়ে সাকিব তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব আরোপ করেন বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি স্থাপনে তরুণদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর। তিনি বলেন, আপস যুব সংগঠন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, সহনশীলতা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়ে, তরুণ নেতৃত্বই ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম। এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং তরুণ নেতৃত্বের ক্ষমতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

  • খুলনায় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপে খুলনার নানা সমস্যা উঠে আসে

    খুলনায় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে নাগরিক সংলাপে খুলনার নানা সমস্যা উঠে আসে

    খুলনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে খুলনার বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদা স্পষ্টতরভাবে উঠে এসেছে। নির্বাচনী উৎসবের মধ্যে কিছু প্রার্থী নিজের ভোটারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরখ করেছেন এবং খুলনার উন্নয়নের জন্য তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এই সংলাপের মূল লক্ষ্য ছিল, শহরের নাগরিকদের নানা সমস্যার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চিত্র তুলে ধরা এবং সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশে এগিয়ে আসা।

    সংলাপে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা যেমন বলছেন খুলনা শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। বিশেষ করে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, মালামাল লুটপাটের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তবাহিনী, এবং बढ़তে থাকা হত্যাকাণ্ডের সংখ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিগত কয়েক মাসে খুলনায় অন্তত অর্ধশত খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের জন্য বক্তারা জোর দিয়ে বলেন।

    খুলনা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনা এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন নগরী। মাদক ও হত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।’ তিনি আরও জানান, বিএনপি শিগগিরই খুলনাবাসীর জন্য উন্নয়নমূলক নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, খুলনা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খাঁন বলেন, ‘খুলনাকে শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্রশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ ও ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।’

    জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক এড. জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, ‘খুলনা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সব ধরনের উদ্যোগ।’ অন্যদিকে, খুলনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের সাথে সমন্বয় চান। তাঁর বক্তব্য, খুলনা অঞ্চলের সাবেক শিল্পগুন্জে—খালিশপুরের অবস্থা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কলকারখানাগুলোর মালামাল লুটপাটের জন্য বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা এখন গুরুতর সমস্যার মুখে। হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই মাদকের কারণে।’

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা ও সাংবাদিকগণ। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুলনাকে আবারো তার পুরনো গৌরবময় অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও দৃষ্টি থেকেই উঠে আসে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে। আসন্ন নির্বাচনে এইসব দাবি ও চিন্তাভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন অংশগ্রহণকারীরা।

  • এডিপিতে পরিবর্তন: বরাদ্দ কমে দাঁড়ালো ২ লাখ কোটি টাকা

    এডিপিতে পরিবর্তন: বরাদ্দ কমে দাঁড়ালো ২ লাখ কোটি টাকা

    আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের ব্যাপক পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী, এডিপিতে মোট বরাদ্দ ৩০ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে, যার ফলে এখন মোট অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং, এবং এতে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়ারাহিদউদ্দিন মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের সময় মূল এডিপির চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কম করা হয়েছে। ফলে, সরকারি অর্থায়ন ও বিদেশি ঋণ ও অনুদান— উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাটাছেঁড়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থায়ন কমে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা, আর বিদেশি ঋণ ও অনুদান নেমে এসেছে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা।

    তিনি এও জানিয়েছেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা, যেমন প্রকল্প পরিচালকের অনুপস্থিতি, পরিচালকের নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন, এই সব কারণেই প্রকল্পের বরাদ্দ কম চাওয়া হয়েছে।

    সংশোধিত এডিপি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির এক পঞ্চমাংশেরও বেশি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। এছাড়াও বাসস্থান, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতেও এসেছে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ।

    অথচ, সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে স্বাস্থ্যখাতে, যেখানে বরাদ্দ প্রায় ৭৪ শতাংশ কমে গেছে। মূল এডিপিতে যেখানে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সংশোধিত এডিপিতে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায়। শিক্ষাও ব্যাপক কাটছাঁটের শিকার হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

    প্রধান খাত হিসেবে পরিবহন ও যোগাযোগের বরাদ্দ কমলেও, এই খাতের অংকেও প্রায় ৩৫ শতাংশ কাটা হয়েছে। একইভাবে, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যেখানে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, এখন তা মাত্র ৫৪৫ কোটি।

    অন্য খাতে যেমন বিদ্যুৎ বরাদ্দ প্রায় ১৯ শতাংশ কম হয়েছে, কৃষিতে সেটি ২১ শতাংশের বেশি। তবে আশার কথা হলো, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যদিও এটি মূল এডিপির তুলনায় কিছুটা কম। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ ও শিক্ষা বিভাগ। এছাড়াও, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, সংশোধিত এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা ১ হাজার ৩৩০টি, যার মধ্যে বেশিরভাগই বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৮৬টি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোটামুটি, এই সংশোধিত এডিপি অর্থনীতির বিভিন্ন খাত উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মানসিক ও বাস্তব সমস্যা এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেরিতে পরিপূর্ণতা পেতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

  • সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারে পৌঁছাল

    সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে ভরি ২ লাখ ৩২ হাজারে পৌঁছাল

    দেশের বাজারে সোনার দাম গতদিনের তুলনায় অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যাতে এটি ইতিহাসে жаңа রেকর্ড সৃষ্টি করল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ টাকা। এই দাম দেশের সকল জুয়েলার্স এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলিতে কার্যকর হবে ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে।

    এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতিকে। বিশ্ব বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে বলে গোল্ডপ্রাইস.অর্গি সূত্রে জানা গেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের একটি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকায় পৌঁছেছে।

    সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দামেও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, যেখানে ২১ ক্যারেটের রুপার মূল্য ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের সোনাসহ মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

  • বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৬%

    বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৬%

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৪.৬ শতাংশ হতে পারে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তবে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৬.১ শতাংশে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকার কার্যালয় থেকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ এর জানুয়ারি সংস্করণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের ভোগ্যব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসার ফলে দেশের অর্থনীতি আবার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দিকে যদি দেশের জাতীয় নির্বাচন হয়, তাহলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে বলে প্রত্যাশা। নতুন সরকার এর ফলে কিছু ঘাটতি দূর করতে পারবে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোগত সংস্কার করলে দেশের শিল্পখাতের শক্তি আরও বাড়বে। এই সব কারণেই বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে উন্নতি করেছে।

    তবে, এই প্রত্যাশার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যস্ফীতি এখন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রয়ে গেছে, যার কারণে মুদ্রানীতিকে কঠোর ঘোষণা করায় ঋণের প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কাড়া কিছুর কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও কিছু ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে, সরকারের খরচ বাড়ানো এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে (৭.৩%), যার পরে রয়েছে ভারত (৬.৫%), বাংলাদেশ (৪.৬%), মালদ্বীপ (৩.৯%), শ্রীলঙ্কা (৩.৫%) এবং নেপাল (২.১%)। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এখনও প্রকাশিত হয়নি।

    অপরদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সময়ে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ।

    বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ২.৬ শতাংশে এসে দাঁড়াবে এবং ২০২৭ সালে তা ২.৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। পাশাপাশি, এ সময়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি descending করবে। সংস্থাটি আরও বলেছে, আগামী এক দশকে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।